Unipolar vs Multi-polar

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় চাপ

28-July-2026 by east is rising 1

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতি ও বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোর্স — এবিসি নিউজ, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এবিসি নিউজ এবং কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্রের মোট মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল সংখ্যক উচ্চস্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে।

একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলায় বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৩৬০টি উচ্চস্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৯০ থেকে ২৯০টি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট মজুতের প্রায় ৫৩ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এই সংঘাতে ব্যয় হয়েছে। একইভাবে নৌবাহিনীর ব্যবহৃত আরেক ধরনের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের হ্রাস দেখা গেছে। যুদ্ধের আগে থাকা প্রায় ৪১০টির মধ্যে ১৩০ থেকে ২৫০টি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেকেরও বেশি। অপরদিকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হয়েছে। যুদ্ধের আগে থাকা আনুমানিক ২,৩৩০টির মধ্যে ১,০৬০ থেকে ১,৪৩০টি নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ প্রায় ৬১ শতাংশ।

শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, আক্রমণাত্মক অস্ত্রের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব পড়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১,০০০টির বেশি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,১০০টির বেশি দূরপাল্লার আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যায় থাকা আরেক ধরনের নির্ভুল হামলার ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রেও বড় অংশ ব্যয় হয়েছে। যুদ্ধের আগে থাকা প্রায় ৯০টির মধ্যে ৪০ থেকে ৭০টি ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় দ্রুত নতুন মজুত তৈরি করা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক কৌশলগত অঞ্চলে প্রস্তুতি বজায় রাখতে হচ্ছে। ফলে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন এখন দেশটির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং এগুলো সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত।

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like