রাজনৈতিক বিষয়গুলো একমাত্রিক হয় না।
নেপালে এমন একটা প্রপোরেশনাল রিপ্রেজেন্টেশন সিস্টেম গড়ে উঠেছে যে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো যত আনুপাতিকে ভোট পাচ্ছিল তত আনুপাতিকেই তারা সাংসদ পাঠাতে পারছিল সংসদ ভবনে।
ফলে সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই কিছু না কিছু শক্তি থাকছিল। এবং এর ফলে কোনো একটা দলের পক্ষে নেপালের রাজনীতিকে ডমিনেট করা সম্ভব হচ্ছিল না তাই স্থায়ী সরকার আসছিল না।
রাজতন্ত্র যাওয়ার পরে যে নতুন সংবিধান আসে এর পরে কোন সরকারই দুই থেকে তিন'বছরের বেশি টিকে থাকতে পারেনি।
কংগ্রেসের দেউবা ৬ বার প্রধানবমত্রী হয়েছে, মার্ক্সবাদী লেনিনবাদী ওলি হয়েছে ৪ বার আর মাওবাদী প্রচণ্ড হয়েছে ৩ বার।
অরথাত ১৯ বছরে ১৩টা প্রধান্মন্ত্রী।
চীন এই সমস্যার কথা বুঝেই ওলি ও প্রচণ্ড-কে বলে মার্ক্সবাদী লেনিনবাদী দল ও মাওবাদী দল মিশে গিয়ে একটা কমিউনিস্ট দল বানাতে।
তাতে যুক্ত কমিউনিস্ট দলের পক্ষে স্থায়ী সরকার দেওয়া সম্ভব হত।
সেই চেষ্টা একবার হয় বটে এবং ব্যপক সংখ্যা নিয়ে যুক্ত কমিউনিস্ট দল নেপালের ক্ষমতায় আসে।
ওলি প্রধানমন্ত্রী হয় আর প্রচণ্ড হয় দলীয় প্রধান।
কিন্তু ২ বছরের মধ্যেই ওলি ও প্রচণ্ড ঝগড়া করে দল ভেঙ্গে দিয়ে আবার আলাদা আলাদা হয়ে যায়।
ফল হয় নেপালের মানুষ কোনদিনই আর স্থায়ী সরকার পায়নি।
ওলি প্রচণ্ড দেউবা মিউসিকাল চেয়ার খেলার মতো করে নেপালের ক্ষমতা নিয়ে খেলতে থাকে।
এই স্থায়িত্বের অভাবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই গর্জে উঠেছে।
এবার এই গর্জে উঠাকে কেন্দ্র করে অবশ্যই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাজনীতির খেলা চলতেই পারে।
কিন্তু সত্যিটা হলো সমস্যা ছিলই এবং স্থায়িত্ব না থাকা যে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক মডেলকে আঘাত করার পক্ষে যথেষ্ট সেটাও এর মারফত প্রমাণ হয়ে গেল।
৩৬ বছর বয়সী সুধান গুরুং "হামি নেপাল" এন জি ও-র সাহায্যে যুব সমাজকে (জেন জি) ঐক্যবদ্ধ করে। সুধান-এর নিজস্ব নাইট ক্লাব আছে এবং সে একজন ডিসকো জকি। "হামি নেপাল"-কে অর্থ দান করে আল জাজিরা, কোকা কোলা, ভাইবস-এর মতো বিদেশী সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র দলের মতো নতুন দল উঠে আসছে। তাদের নেতা বালেন্দ্র শাহ বা বালেন। বালেন আবার র্যাপার ছিল।
সুধান বা বালেন-কে কিনতে চীনের অবশ্যই বেশি সময় লাগবেনা।
চীন জানে যে নেপাল অথবা বাংলাদেশ অথবা শ্রীলংকা এই সমস্ত দেশে যে সরকারি আসুক না কেন সে চরম চীন বিরোধী আর হতে পারবে না।
এর কারণ চীন সবচেয়ে নিকটবর্তী বৃহৎ অর্থনীতি।
চীনকে অস্বীকার করে এই সমস্ত দেশের পক্ষে আর চলা সম্ভব নয়।
একটা কথা অনেকেই জানেনা আর তা হল বালেন কিন্তু "বৃহৎ নেপাল" (ভারতের উত্তরাখণ্ড, বিহারের মিথালঞ্চল ও পঃ বাংলার দার্জিলিং সহ নেপাল) তৈরির সমর্থক।
আর এবার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছে বালেন।
Author: Saikat Bhattacharya