১৯ লক্ষ নয়! এনআরসির পর ‘বিদেশি’ মাত্র ৩২ হাজার

29-November-2025 by east is rising 58

অসম বিধানসভাতেই হিমন্ত সরকারের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান ঘোষণা

কোটি কোটি টাকা খরচ, বছরের পর বছর আতঙ্ক—তবুও ‘বিদেশি’ শনাক্ত মাত্র ১.৬%

অসমে এনআরসি মানেই আতঙ্কের নাম। ২০১৯ সালে এনআরসির খসড়ায় ১৯,০৬,৬৫৭ জনকে “বাংলাদেশি বিদেশি” বলে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

লক্ষ লক্ষ মানুষ রাতারাতি নাগরিকত্ব সংকটে পড়েছিলেন।

কিন্তু ছ’ বছর তদন্ত–শুনানি, ১,৫২৮ কোটি টাকা ব্যয় এবং হাজারো ট্রাইবুনাল গঠনের পর—

অসম বিধানসভায় সরকারী রিপোর্ট জানাচ্ছে:

১। বিদেশি শনাক্ত—মাত্র ৩২,২০৭ জন

২। পুশব্যাক—মাত্র ১,৪১৬ জন!

এই তথ্য দিয়েছেন অসম চুক্তি বাস্তবায়নমন্ত্রী অতুল বোরা—কংগ্রেস বিধায়ক আবদুর রহিম আহমেদের প্রশ্নের উত্তরে।

কোন বছরে কতজন শনাক্ত?

হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর (২১–২৫)

২০২১: ৬,৩০৪

২০২২: ৮,৭৯০

২০২৩: ৬,৭০৩

২০২৪: ৬,১২০

২০২৫: ৪,২৯০

মোট: ৩২,২০৭

তাহলে ১৯ লক্ষ কোথায় গেল?

বিরোধীদের প্রশ্ন—

১। যাঁদের এনআরসিতে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা যদি বিদেশি না হন, তাহলে তাঁদের নাম কেন উঠল না?

২। এত বিশাল প্রশাসনিক অপচয়ের দায় নেবে কে?

৩। এনআরসিতে আর্থিক অস্বচ্ছতা

CA G (২০২২)-এর রিপোর্টেই বলা হয়েছিল:

১। এনআরসিতে বড় ফাঁকফোকর এবং অস্বচ্ছ ব্যয়

২। শুধুই ডিটেনশন ক্যাম্পে খরচ—৪৬ কোটি

৩। হাজার খানেক Foreigners Tribunal—বিপুল ব্যয়, অর্ধেক কাজহীন

হিমন্ত সরকারের দেওয়া সর্বশেষ সংখ্যাগুলি সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।

বিজেপির সাংসদও স্বীকারে বাধ্য

দারাং–উদালগুড়ির বিজেপি সাংসদ দিলীপ সইকিয়া বলেন—

“সরকারি সংখ্যা প্রামাণ্য। প্রতিদিনই পুশব্যাক হচ্ছে।”

কিন্তু সংখ্যা কত—তার জবাব তিনি দিতে পারেননি।

কংগ্রেসের অভিযোগ—

১।  ১,৪১৬ জন পুশব্যাক হলে এত বড় ঘটনায় কেন কোনও সরকারি প্রচার নেই?

২। বরং ধুবরির মনকাছাড় সীমান্তে খাইরুল ইসলামকে পুশব্যাক করে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এই ঘটনা তো প্রকাশ্যে।

৩। সীমান্তে ফেন্সিং এখনো অসম্পূর্ণ

মন্ত্রী বোরা জানিয়েছেন—

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত (অসম অংশ): ২৬৭.৫ কিমি

সম্পূর্ণ হয়েছে: ২২৮.৫৪ কিমি

বাকি: ৪.৩৫ কিমি (বিজিবি আপত্তির কারণে)

তাহলে প্রশ্ন—

১। এখনো কি অনুপ্রবেশ হচ্ছে?

২। ডাবল ইঞ্জিন সরকার কি দায় এড়াতে পারে?

উপসংহার

১৯ লক্ষ থেকে ‘বিদেশি’ মাত্র ৩২ হাজারে নেমে আসা মানে—

১। এনআরসি প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ ত্রুটি

২। কোটি কোটি টাকার অপচয়

৩। লক্ষ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার প্রশাসনিক ব্যর্থতা

অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনেই এখন প্রশ্ন—

“যে ১৯ লক্ষ মানুষকে সন্দেহভাজন বলা হয়েছিল, তাঁদের মানসিক ক্ষতি, সামাজিক ক্ষতি—সেটার দায় কে নেবে?”

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like



A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: touch(): Unable to create file ci_session/ci_session44cd40f36683ba28fed10686b93f3122806e4ccb because No such file or directory

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 252

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: ci_session)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: