USA vs China

চীন যে কৌশলে মার্কো রুবিওকে কৌশলে পরাস্ত করলো পানামাতে

14-April-2026 by east is rising 4

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে, রুবিও পানামায় উড়ে যান হংকং-ভিত্তিক সিকে হাচিসন পরিচালিত দুটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কন্টেইনার টার্মিনাল অধিগ্রহণ করার জন্য পানামা সরকারকে চাপ দিতে। ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, পানামার একটি আদালতের রায়ে টার্মিনাল পরিসেবা চুক্তিটিকে – যা মূলত ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বৈধ ছিল – বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করা হয়।

দুটি টার্মিনাল অবিলম্বে Maersk এবং MSC-র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত কিন্তু কৌশলী। চীন নিজস্ব আইনের অজুহাতে পানামার পতাকাবাহী প্রতিটি পণ্যবাহী জাহাজের কঠোর সমুদ্রযাত্রার উপযুক্ততা পরীক্ষা করার জন্য সমস্ত চীনা বন্দরকে নির্দেশ দেয়। চীন সরকারের এই নির্দেশ সমস্ত চীনা সমুদ্র বন্দর অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করে।

২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ, ৭০টিরও বেশি জাহাজ চীনা বন্দরগুলোতে আটকে ছিল – যা আগের বছরের সংখ্যার সাত গুণ।

প্রতিটি বিলম্বের দিনের জন্য জাহাজ মালিক, পরিচালক এবং আমদানিকারকদের জরিমানা দিতে হয়। পানামার পতাকাবাহী জাহাজগুলোর অন্তত ৩০% প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন, এবং তাদের বেশিরভাগ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। দৈনিক জরিমানার পরিমাণ ৫০,০০০ মার্কিন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এই খরচগুলো এখন কার্যত রুবিওর ঘাড়ে এসে পড়ছে।

দ্বিতীয় প্রভাবটি দ্রুতই দেখা দেয়: সমুদ্রগামী জাহাজগুলি আগে বন্দর সুবিধা পাওয়ার জন্য পানামার নামে রেজিস্ট্রেশন করত। চীনা সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখে জাহাজ মালিকরা ব্যাপক হারে পানামার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে শুরু করে।

উপরন্তু, চীন টার্মিনালের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সিস্টেমগুলো লক দেয় এবং সমস্ত খালি কন্টেইনার সরিয়ে ফেলে। এরপর থেকে টার্মিনাল দুটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে আনুমানিক বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রুবিও প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন যে চীন পানামাকে হেনস্থা করছে। কিন্তু তিনি আর কী-ই বা করতে পারেন? ঢিল ছুড়লে পাটকেলের প্রত্যাঘাত সহ্য করতেই হবে। ইতিমধ্যেই চীন বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে দিয়েছে।

 

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like