বাংলায় মধ্যবর্তী জাতির উত্থান

পাল যুগ থেকে বর্তমান দিন পর্যন্ত

কৃষি ও মধ্যবর্তী জাতির সামাজিক-ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান নিয়ে একটি প্রবন্ধ

বাংলার মধ্যবর্তী জাতি—প্রায়শই “শুদ্ধ শূদ্র”, “সৎ শূদ্র” বা মধ্যবর্তী কৃষি/বাণিজ্যিক সম্প্রদায় হিসেবে পরিচিত—মাহিষ্য (পূর্বতন চাষী/হালিয়া কৈবর্ত), সদ্‌গোপ, অগুরি (উগ্র ক্ষত্রিয়), তিলি এবং সম্পর্কিত নবশাখ সম্প্রদায়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। উচ্চবর্ণ (ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য) এবং নিম্ন তফসিলি জাতি/দলিতদের মাঝখানে অবস্থিত এই গোষ্ঠীগুলি ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ কৃষক (জোতদার), ভূস্বামী, চাষি এবং ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করেছে। তাদের অভ্যুত্থান বিদ্রোহ, সংস্কৃতায়ন, জমির নিয়ন্ত্রণ, ঔপনিবেশিক জনগণনা এবং আধুনিক সামাজিক-অর্থনৈতিক গতিশীলতার গতিশীল সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।

পাল যুগ (৮ম–১২শ শতক): তরলতা ও প্রাথমিক দাবি

পাল সাম্রাজ্য (প্রায় ৭৫০–১১২০/১১৭০ খ্রি.) বাংলার শেষ বড় বৌদ্ধ সাম্রাজ্যিক শক্তি, মহাযান ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের অধীনে তুলনামূলকভাবে আরও সমতামূলক ধর্মীয় পরিবেশ গড়ে তুলেছিল, যা মতবাদগতভাবে কঠোর বর্ণ ব্যবস্থাকে হ্রাস করেছিল। তবে বাস্তবে পালরা ব্রাহ্মণদের জমি (অগ্রহার) দান করেছিল এবং হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে চলাচল করেছিল, যা স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কৈবর্ত (বরেন্দ্র) বিদ্রোহ (প্রায় ১০৭৫–১০৮২ খ্রি.) দুর্বল ও অত্যাচারী পাল রাজা মহীপাল দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে। মৎস্যজীবী, নৌকা চালনা ও চাষের সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবে যুক্ত সম্প্রদায়ের কৈবর্ত সমন্ত (সামন্ত প্রধান) দিব্য (দিব্যক)-এর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ সাময়িকভাবে সফল হয়। দিব্য, তারপর রুদোক ও ভীম, প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে বরেন্দ্র (উত্তরবঙ্গ) শাসন করেন। বিদ্রোহীরা ব্রাহ্মণিক জমি দান বাজেয়াপ্ত করে, যা অতিরিক্ত করভার, রাজবংশীয় অস্থিরতা এবং ঐতিহ্যগত জীবিকার উপর সীমাবদ্ধতা (যেমন বৌদ্ধ অহিংসা আদর্শের অধীনে মাছ ধরা) নিয়ে অভিযোগ প্রতিফলিত করে।

ইতিহাসবিদরা এটিকে ভারতের প্রথমদিকের নথিভুক্ত কৃষক/সামন্ত বিদ্রোহগুলির একটি এবং যা পরবর্তীকালে মধ্যবর্তী জাতির কৃষি গোষ্ঠীতে পরিণত হবে তাদের ক্ষমতার প্রাথমিক দাবি হিসেবে দেখেন। এটি পালদের ব্যাপকভাবে দুর্বল করে, নতুন শক্তির জন্য রাজনৈতিক স্থান তৈরি করে। কিছু কৈবর্ত ইতিমধ্যে পাল দরবারে প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করেছিল, যা পূর্ব-বিদ্যমান গতিশীলতা দেখায়।

কৈবর্ত বিদ্রোহ পালদের বিরুদ্ধে কেন ঘটেছিল যদিও তাদের জাতিবৈষম্যের ব্যাপারে উদার বলা হয়

পালদের “উদারতা” কিছু দিক থেকে সত্য ছিল কিন্তু করভার, জমি বিবাদ এবং পেশাগত সীমাবদ্ধতার মতো বাস্তব সমস্যার বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত ছিল—যা কৃষক/সামন্ত বিদ্রোহের ক্লাসিক ট্রিগার, কেবল অকৃতজ্ঞতা নয়। পালরা (৮ম–১২শ শতক) মহাযান ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যা মতবাদগতভাবে কঠোর জাতি-ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করত এবং জন্মের উপরে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিত। বৌদ্ধধর্ম ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন স্তরের জন্য ব্রাহ্মণিক রক্ষণশীলতার তুলনায় ভালো সামাজিক গতিশীলতা ও সম্মান প্রদান করত।

তবে বাস্তবে পালরা হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে কাজ করত। তারা শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণদের জমি দান (অগ্রহার) করত, ব্রাহ্মণিক প্রতিষ্ঠান সমর্থন করত এবং গ্রামীণ প্রশাসনে ক্রমবর্ধমান ব্রাহ্মণিক প্রভাবের মুখোমুখি হত। এটি স্থানীয় সামন্ত প্রভুদের (সমন্ত) এবং কৈবর্তদের মতো সম্প্রদায়ের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি করেছিল।

কৈবর্তরা (আধুনিক কৈবর্তদের পূর্বপুরুষ) ঐতিহ্যগতভাবে জেলে, নৌকাচালক ও চাষি ছিল। বৌদ্ধ অহিংসা আদর্শ মাছ ধরা/মাংসাহারকে নিরুৎসাহিত বা সীমিত করায় তাদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

মহীপাল দ্বিতীয়ের অত্যাচারী শাসন: তাকে দুর্বল, অত্যাচারী শাসক হিসেবে দেখা হত। তিনি তাঁর ভাইদের (সুরপাল দ্বিতীয় ও রামপাল) কারাবন্দি করেন, যা রাজবংশীয় অস্থিরতা নির্দেশ করে। এটি অধীনস্থদের বিচ্ছিন্ন করে এবং বিদ্রোহের সুযোগ তৈরি করে।

অতিরিক্ত করভার ও জমি সমস্যা: পালরা প্রশাসন ও সামরিক চাহিদা মেটাতে কর বাড়ায়, যা কৃষক ও ভূস্বামীদের বোঝা বাড়ায়। কৈবর্ত ও অন্যান্য গ্রামীণ গোষ্ঠী ব্রাহ্মণদের জমি দান এবং গ্রামীণ সমাজের উপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ির বিরোধিতা করে। বিদ্রোহীরা এই দানগুলি বাজেয়াপ্ত করে।

সামন্ত ও সমন্ত অসন্তোষ: দিব্য (দিব্যক), একজন কৈবর্ত প্রধান ও পাল কর্মকর্তা, অধীনস্থ শাসকদের (সমন্ত) একটি জোটের নেতৃত্ব দেন। এটি আংশিকভাবে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের পতনের বিরুদ্ধে উঠতি স্থানীয় অভিজাতদের ক্ষমতা সংগ্রাম ছিল। কৈবর্তরা উর্ধ্বগতি চেয়েছিল—জেলে (জালিয়া) থেকে চাষি (চাষী) অবস্থান এবং জমির নিয়ন্ত্রণের দিকে।

ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উত্তেজনা: বৌদ্ধধর্ম তত্ত্বগতভাবে আরও সমতামূলক হলেও, পালদের ব্রাহ্মণ পৃষ্ঠপোষকতা এবং কৈবর্তদের ঐতিহ্যগত পেশায় সীমাবদ্ধতা ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। কিছু ব্যাখ্যা বিদ্রোহীদের তান্ত্রিক/বজ্রযান সিদ্ধ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে, যাতে ব্রাহ্মণ-বিরোধী বা সমতামূলক উপাদান ছিল।

বিদ্রোহ সাময়িকভাবে সফল হয়: দিব্য মহীপাল দ্বিতীয়কে হত্যা করেন এবং কৈবর্তরা প্রায় ৫০ বছর (দিব্য, রুদোক ও ভীমের অধীনে) বরেন্দ্র শাসন করে, তারপর রামপাল পুনরায় জয় করে। এটি পালদের ব্যাপকভাবে দুর্বল করে এবং সেনদের উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

সেন যুগ (১১শ–১৩শ শতক): হিন্দু পুনরুজ্জীবন ও নবশাখ গঠন

সেন রাজবংশ (কর্ণাটক থেকে উদ্ভূত, ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয় মর্যাদা দাবি) পতনোন্মুখ পালদের স্থান দখল করে। বিজয়সেন এবং বিশেষ করে বল্লাল সেন (রাজত্ব প্রায় ১১৬০–১১৭৮)-এর অধীনে বাংলায় রক্ষণশীল ব্রাহ্মণিক হিন্দুধর্মের শক্তিশালী পুনরুজ্জীবন ঘটে। বল্লাল সেন কুলীনবাদ (ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ও বৈদ্য বর্ণের মধ্যে পারিবারিক শুদ্ধতার ভিত্তিতে র‍্যাঙ্কিং) প্রবর্তন এবং বিস্তৃত জাতি কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য কৃতিত্বপ্রাপ্ত।

এই প্রেক্ষাপটে নবশাখ (“নয় শাখা”) কাঠামো উদ্ভূত হয় বা আনুষ্ঠানিক হয়। এটি নয়টি (পরে ১৩–১৪টি) “শুদ্ধ” বা সম্মানিত শূদ্র/মধ্যবর্তী জাতিকে গোষ্ঠীভুক্ত করে—সদ্‌গোপ, তিলি, অগুরি, বরুই, কংসারি এবং নির্দিষ্ট মাহিষ্য অংশের পূর্বসূরি—যাদের থেকে ব্রাহ্মণরা ঐতিহ্যগতভাবে জল বা খাদ্য গ্রহণ করতে পারত। এটি তাদের “অশুদ্ধ” বা নিম্ন শূদ্র গোষ্ঠী থেকে আলাদা করে এবং পাল যুগের তরলতার পর ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করে।

সদ্‌গোপরা (বৃহত্তর গোপ/গোয়ালা পশুপালক সম্প্রদায়ের শাখা) গবাদি পশু পালন থেকে স্থায়ী কৃষি এবং স্থানীয় ক্ষমতায় রূপান্তরিত হয় এই যুগে বা তার ঠিক পরে, “সদ/সৎ” (শুদ্ধ/উত্তম) উপসর্গ যোগ করে উন্নত মর্যাদা নির্দেশ করে।

কৈবর্ত বিদ্রোহ ও নবশাখের সম্পর্ক

কৈবর্ত বিপ্লব (বরেন্দ্র বিদ্রোহ) এবং সেন রাজবংশের জাতি সংস্কার, নবশাখ (নয়টি শুদ্ধ/সম্মানিত শূদ্র শাখা) ব্যবস্থার সংহতি বা “উন্নয়ন”-এর মধ্যে পরোক্ষ কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। কৈবর্ত বিপ্লব (প্রায় ১০৭৫–১০৮২ খ্রি.) বরেন্দ্রে (উত্তরবঙ্গ) পাল রাজা মহীপাল দ্বিতীয়ের বিরুদ্ধে একটি বড় কৃষক/সামন্ত বিদ্রোহ ছিল।

দিব্য (দিব্যক)-এর নেতৃত্বে, যিনি কৈবর্ত প্রধান (ঐতিহ্যগতভাবে মৎস্যজীবী, নৌকাচালক ও কিছু চাষের সঙ্গে যুক্ত সম্প্রদায় — পরে জালিয়া অর্থাৎ জেলে নৌকাচালক এবং চাষী অর্থাৎ কৃষক কৈবর্তে বিভক্ত)।

এটি কৈবর্ত শাসকদের (দিব্য, রুদোক, ভীম) অধীনে বরেন্দ্রের সাময়িক স্বাধীনতা এবং মহীপাল দ্বিতীয়ের মৃত্যু ঘটায়। এটি অঞ্চলে রাজকীয় কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে নিম্ন/মধ্য স্তরের একটি প্রথমদিকের সফল বৃহৎ-স্কেল বিদ্রোহ ছিল।

প্রভাব: এটি পাল সাম্রাজ্যকে (যার বৌদ্ধ ঝোঁক এবং তুলনামূলকভাবে শিথিল জাতি অনুশীলন ছিল) ব্যাপকভাবে দুর্বল করে, রাজনৈতিক বিভাজন এবং নতুন শক্তির সুযোগ তৈরি করে।

সেন উত্থান ও জাতি সংস্কার

সেন রাজবংশ (কর্ণাটক থেকে উদ্ভূত, ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয় দাবি) পতনোন্মুখ পালদের অধীনস্থ হয়ে উঠে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের স্থান দখল করে, বিজয়সেন এবং বিশেষ করে বল্লাল সেন (প্রায় ১১৫৯–১১৭৯ খ্রি.)-এর অধীনে ক্ষমতা পুরোপুরি সংহত করে। সেনরা বৌদ্ধ-প্রভাবিত পাল যুগ এবং কৈবর্তের মতো বিদ্রোহের বিঘ্নের প্রতিক্রিয়ায় রক্ষণশীল ব্রাহ্মণিক হিন্দুধর্মের শক্তিশালী পুনরুজ্জীবন প্রচার করে।

বল্লাল সেন বাংলার জাতি-ব্যবস্থার মূল দিকগুলি আনুষ্ঠানিক করার জন্য কৃতিত্বপ্রাপ্ত:

উচ্চবর্ণের মধ্যে কুলীনবাদ প্রবর্তন।

“শুদ্ধ” (জলাচল/সৎ শূদ্র) এবং “অশুদ্ধ” গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য জোরদার করা। নবশাখ কাঠামো — নয়টি (পরে আরও) সম্মানিত মধ্য/শূদ্র জাতি (যেমন তিলি, সদ্‌গোপ, অগুরি, বরুই ইত্যাদি) যাদের উচ্চতর আচারিক মর্যাদা দেওয়া হয় (ব্রাহ্মণরা তাদের থেকে জল/খাদ্য গ্রহণ করতে পারত) — এই পুনর্গঠনের সঙ্গে খাপ খায়।

সংযোগ

কৈবর্ত বিদ্রোহ উচ্চবর্ণ-বহির্ভূত গোষ্ঠীগুলির (চাষি/মৎস্যজীবী সম্প্রদায়সহ) ক্ষমতা প্রদর্শন করে এবং পাল ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচিত করে। এটি সরাসরি সেনদের উত্থানের জন্য অনুমোদনকারী পতন ঘটায়।

ক্ষমতায় এসে সেনরা আরও অনমনীয়, রক্ষণশীল জাতি কাঠামো জোরদার করে। এতে নির্দিষ্ট “শুদ্ধ” শূদ্র/মধ্যবর্তী জাতি (নবশাখ)-দের উন্নীত করা হয় যখন কিছু কৈবর্তকে নিম্ন অবস্থানে রাখা হয়। এটি বিদ্রোহ যুগের অশান্তির পর স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা ছিল।

সংক্ষেপে: কৈবর্ত বিপ্লব সেন শাসনের শর্ত তৈরি করে এবং সেনরা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে নবশাখ কাঠামোর মধ্যে নির্বাচিত মধ্যবর্তী জাতির মর্যাদা ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন করে তাদের ব্রাহ্মণিক পুনরুজ্জীবনের অংশ হিসেবে। এই গতিশীলতা বাংলার জাতি-ল্যান্ডস্কেপকে শতাব্দী ধরে প্রভাবিত করে, পরবর্তী বিভাজন ও সংস্কৃতায়ন (যেমন কৈবর্ত → মাহিষ্য এবং গোপ → সদ্‌গোপ) সহ।

মধ্যযুগ (১৩শ–১৮শ শতক): জোতদার রাজ্য এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা

তুর্কি বিজয়ের (১২০৪ খ্রিস্টাব্দ, বখতিয়ার খিলজি) পর রাজনৈতিক বিভাজন স্থানীয় মধ্যবর্তী জাতির গোষ্ঠীগুলিকে সংহত হতে সুযোগ দেয়। রাঢ় অঞ্চলে (পশ্চিমবঙ্গ, অজয় ও দামোদর নদীর মাঝে—আধুনিক বীরভূম, বর্ধমান/বর্দ্ধমান এলাকা) সদ্‌গোপ শাসকদের অধীনে গোপভূম রাজ্য উত্থান করে। অমরগড় (আমরাগড়) এবং ধেকুর (গৌরাঙ্গপুরের কাছে) এর মতো স্থান কেন্দ্র করে সদ্‌গোপ রাজারা (যেমন ইছাই ঘোষ এবং পরবর্তী মহীন্দ্রনাথ এর সঙ্গে যুক্ত) যোদ্ধা-কৃষক ও জোতদার হিসেবে কাজ করেন। তারা ল্যাটেরাইট বনভূমি নিয়ন্ত্রণ করতেন, দুর্গ নির্মাণ করতেন এবং মন্দির পৃষ্ঠপোষকতা করতেন (যেমন ইছাই ঘোষের দেউল)।

গোপভূম প্রাথমিক খিলজি চাপ সহ্য করে কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী আক্রমণ এবং বর্ধমান রাজের মতো বড় জমিদারির উত্থানের কারণে হ্রাস পায় (চূড়ান্ত পতন প্রায় ১৭৪৪ সালে)। সদ্‌গোপরা মেদিনীপুর এবং অন্যত্র জমিদার ও চাষি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

অগুরিরা (উগ্র ক্ষত্রিয়), সমৃদ্ধ মালিক-চাষি যারা মিশ্র ক্ষত্রিয়-শূদ্র যোদ্ধা ঐতিহ্য দাবি করে, একই পশ্চিম জেলাগুলিতে প্রাধান্য লাভ করে, কখনও সদ্‌গোপ নেটওয়ার্ক বা অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে কৈবর্তদের কিছু অংশ (বিশেষ করে চাষী/হালিয়া চাষিরা) মুঘল আমলে দক্ষিণবঙ্গে (মেদিনীপুর ইত্যাদি) অনাবাদি জমি পুনরুদ্ধার করে, স্থানীয় জমিদার ও জোতদার হয়ে ওঠে। তাদের পরিচয় তরল ছিল—কখনও বংশাবলীতে মাহিষ্য, হালিক বা দাস হিসেবে চিহ্নিত—কিন্তু তারা জেলিয়া (মৎস্যজীবী) কৈবর্ত থেকে আলাদা উঠতি কৃষি মধ্য স্তর গঠন করে।

এই গোষ্ঠীগুলি বাংলার “মধ্য কৃষক” এর উদাহরণ, উচ্চবর্ণের শহুরে/পেশাগত আধিপত্যের বাইরে গ্রামীণ জমি নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় ক্ষমতা আধিপত্য করে।

ঔপনিবেশিক যুগ (১৮শ–১৯৪৭): সংস্কৃতায়ন, জনগণনা এবং জাতীয়তাবাদী ভূমিকা

ব্রিটিশ শাসন, স্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) এবং ঔপনিবেশিক জনগণনা পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। সমৃদ্ধ উপগোষ্ঠীগুলি সংস্কৃতায়নে জড়িত হয়—পুরাণিক গ্রন্থ ও আবেদনের মাধ্যমে উচ্চতর বর্ণ মর্যাদা দাবি করে।

সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিল মাহিষ্য আন্দোলন (ঊনবিংশ শতকের শেষ–বিংশ শতকের প্রথম দিক)। চাষী/হালিয়া কৈবর্তরা জাতি নির্ধারণী সমিতি (১৮৯৭) এবং মাহিষ্য সমাজ গঠন করে জেলিয়া কৈবর্ত থেকে আলাদা হতে এবং প্রাচীন “মাহিষ্য” পরিচয় দাবি করে (গ্রন্থে কৃষির সঙ্গে যুক্ত)। বিপিন বিহারী সসমল এবং বীরেন্দ্রনাথ সসমল এর মতো নেতারা জনগণনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান; ১৯০১ এবং ১৯২১ সালের জনগণনায় স্বীকৃতি আসে। ১৯৩১ সালের মধ্যে মাহিষ্যদের বেশিরভাগকে দমিত শ্রেণির তালিকা থেকে সরানো হয়। অনেকে শিক্ষা ও পেশার মাধ্যমে ভদ্রলোক গোলকের সঙ্গে যুক্ত হয়, কেউ কেউ ব্রাহ্ম সমাজে অংশ নেয়।

সদ্‌গোপ এবং অগুরিরা সমান্তরাল উর্ধ্ব দাবি অনুসরণ করে (ক্ষত্রিয়/যাদব মর্যাদা)। নবশাখ গোষ্ঠী নৃতত্ত্ববিদ্যায় আনুষ্ঠানিক হয় (যেমন এইচ.এইচ. রিসলি)। মধ্যবর্তী জাতিরা জোতদার হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয় কিন্তু জমি হারায় এবং প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়; তারা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনেও মূল ভূমিকা পালন করে—মাহিষ্যরা মেদিনীপুর ও তমলুকে অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ছিল।

স্বাধীনোত্তর যুগ থেকে বর্তমান দিন (১৯৪৭–বর্তমান): গতিশীলতা, সংরক্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব

১৯৪৭-এর পর বামফ্রন্টের ১৯৭৮ সালের অপারেশন বর্গা ভাগচাষি ও ছোট জমির মালিকদের (মধ্যবর্তী জাতি এবং নিম্ন জাতির পটভূমি থেকে) ক্ষমতায়িত করে। কিন্তু জোতদাররা মূলত মধ্যবর্তী জাতি থেকে ছিল এবং তারা যথেষ্ট প্রভাব হারায়। শিক্ষার বিস্তার এবং নগরায়ণ সরকারি চাকরি, ব্যবসা ও পেশায় বৈচিত্র্য আনে।

অনেক মধ্যবর্তী জাতি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) মর্যাদা পায় (যেমন সদ্‌গোপ ওবিসি-বি; কিছু মাহিষ্য অংশ এবং অগুরি ওবিসি তালিকায়), যখন বৃহত্তর মাহিষ্য সম্প্রদায় মূলত সাধারণ শ্রেণিতে থেকে যায় কিন্তু দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গে (মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি) বিশেষ করে শক্তিশালী গ্রামীণ প্রভাব ধরে রাখে। তারা বাংলার বৃহত্তম হিন্দু জাতিগুলির একটি গঠন করে।

রাজনৈতিকভাবে এই গোষ্ঠীগুলি কংগ্রেস, সিপিআই(এম) এবং তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছে। মাহিষ্যরা বিশেষ করে “মাটির সন্তান” কৃষি ব্লক হিসেবে উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী ওজন বহন করে। অভ্যন্তরীণ শ্রেণি বিভাজন অব্যাহত—বড় জমির মালিক বনাম ছোট চাষি ও শ্রমিক—কিন্তু সামগ্রিক গতিপথ মধ্যযুগীয় জোতদার শিকড় থেকে টেকসই উর্ধ্বগতি দেখায়।

উপসংহার

কৈবর্ত বিদ্রোহের পাল কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ থেকে, সেন যুগে নবশাখ সম্মানজনকতার সংহতিকরণ, মধ্যযুগীয় গোপভূম ও জোতদার সংহতি, ঔপনিবেশিক সংস্কৃতায়ন (মাহিষ্য আন্দোলন দ্বারা উদাহৃত), স্বাধীনোত্তর ভূমি সংস্কার ও রাজনৈতিক দাবির মধ্য দিয়ে বাংলার মধ্যবর্তী জাতিরা প্রতিরোধ, অভিযোজন, জমি নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত পরিচয় দাবির সমন্বয়ের মাধ্যমে উঠে এসেছে। ভারতের অন্যত্রের আরও অনমনীয় ব্যবস্থার বিপরীতে বাংলার মধ্যবর্তী জাতিরা ঐতিহাসিক তরলতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা শূন্যতা থেকে লাভবান হয়েছে। আজ, সমৃদ্ধ কৃষক-থেকে-শহুরে পেশাজীবী হিসেবে তারা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতি, স্থানীয় শাসন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় রয়ে গেছে—শতাব্দীর পর শতাব্দী নীরব কিন্তু অবিরাম সামাজিক অভ্যুত্থানের প্রতীক।

এই বিবর্তন তুলে ধরে যে বাংলায় জাতি আচারিক ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্থা এবং আঞ্চলিক দাবির বিষয়ও ছিল।

গ্রন্থপঞ্জি

মধ্যবর্তী জাতি, নবশাখ গঠন এবং বাংলায় সামাজিক-রাজনৈতিক গতিশীলতার অধ্যয়নের জন্য নির্বাচিত উৎস, পাল যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত।

প্রাথমিক / নৃতাত্ত্বিক উৎস (ঔপনিবেশিক যুগ)

Risley, Herbert Hope. The Tribes and Castes of Bengal: Ethnographic Glossary. Calcutta: Bengal Secretariat Press, 1891–92 (2 vols.). বাংলায় নবশাখ, সদ্‌গোপ, অগুরি, তিলি এবং জাতি র‍্যাঙ্কিংয়ের উপর মূল রেফারেন্স।

O’Malley, L.S.S. Bengal District Gazetteers: Midnapore. Calcutta: Bengal Secretariat Book Depot, 1911. দক্ষিণ জেলাগুলিতে মাহিষ্য/চাষী কৈবর্ত আধিপত্যের বিস্তারিত বিবরণ।

মধ্যযুগীয় ও প্রাথমিক ইতিহাস

Ray, Niharranjan. Bangalir Itihas (History of the Bengali People). Calcutta: D.M. Library, 1949 (reprinted editions available). পাল থেকে সেন যুগ পর্যন্ত সামাজিক কাঠামোর উপর মৌলিক কাজ, কৈবর্ত গতিশীলতা সহ।

Furui, Ryosuke. “Characteristics of the Kaivarta Rebellion Delineated from the Rāmacarita.” Proceedings of the Indian History Congress (various volumes). বরেন্দ্র/কৈবর্ত বিদ্রোহের বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

Majumdar, R.C. (ed.). The History of Bengal, Vol. 1: Hindu Period. Dacca: University of Dacca, 1943. পাল-সেন রূপান্তর এবং জাতি গতিশীলতা কভার করে।

Chakrabarti, Kunal. Religious Process: The Purāṇas and the Making of a Regional Tradition. Oxford University Press, 2001. সেনদের অধীনে ব্রাহ্মণিক পুনরুজ্জীবন এবং নবশাখ গঠনের উপর।

জাতি আন্দোলন ও আধুনিক যুগ

Bandyopadhyay, Sekhar. Caste, Protest and Identity in Colonial India: The Namasudras of Bengal, 1872–1947. Oxford University Press, 2011 (2nd ed.). মধ্যবর্তী জাতির দাবির পাশাপাশি অনুরূপ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।

Sanyal, Hitesranjan. Social Mobility in Bengal. Calcutta: Papyrus, 1981. মাহিষ্য, সদ্‌গোপ এবং অগুরিদের মধ্যে জোতদার উত্থান আলোচনা করে।

Jana, Atanu & Koley, Soumen. “Agriculturist Kaibartta (Mahishya) Community in Bengal: History, Identity, and Socioeconomic Dynamics.” International Journal of History, 2025.

Mondal, Krishna. “Emergence of Mahishya: A Forward Agrarian Caste of South Bengal.” Journal of Contemporary Research and Advancement in Multidisciplinary Studies, 2026.

সাধারণ ও আঞ্চলিক অধ্যয়ন

Binoy Ghosh. রাঢ় অঞ্চল এবং গোপভূম ঐতিহ্যের উপর নৃতাত্ত্বিক কাজ (বিভিন্ন প্রকাশনা)।

Brihaddharma Purana and Brahmavaivarta Purana (নবশাখ এবং বর্ণ দাবির জন্য উল্লেখিত মধ্যযুগীয় সংস্কৃত গ্রন্থ)।

Saha, K.B. (এবং সম্পর্কিত কাজ) বাংলায় জোতদারি ব্যবস্থা এবং মধ্য কৃষকতন্ত্রের উপর।

Corpus of Bengal Inscriptions (কৈবর্ত এবং জমি দান উল্লেখকারী প্রাথমিক এপিগ্রাফিক প্রমাণের জন্য)।

উৎস সম্পর্কে নোট

গোপভূম, অগুরি এবং সদ্‌গোপ সম্পর্কে অনেক বিবরণ স্থানীয় ইতিহাস, সম্প্রদায় ঐতিহ্য এবং রিসলির নৃতাত্ত্বিক জরিপ থেকে নেওয়া। পুরোনো গ্রন্থের সঠিক পৃষ্ঠা সংখ্যা সংস্করণ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। প্রাথমিক তাম্রশাসন ও শিলালিপি প্রমাণের জন্য Corpus of Bengal Inscriptions-এর মতো সংগ্রহ দেখুন। একাডেমিক লাইব্রেরি, JSTOR এবং Google Scholar বাংলায় জাতি গতিশীলতার সাম্প্রতিক পিয়ার-রিভিউ নিবন্ধগুলিতে অ্যাক্সেস প্রদান করে। এই গ্রন্থপঞ্জি নির্বাচিত এবং মৌলিক ও সহজলভ্য কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দেয়।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্রোণাচার 11-July-2026 by east is rising

THE RISE OF MIDDLE CASTES IN BENGAL

From the Pala Period to the Present Day

An Essay on the Socio-Historical Ascent of Agrarian and Intermediate Castes

Middle castes in Bengal—often termed “clean Shudras,” “Sat Shudras,” or intermediate agrarian/trading communities—include groups such as the Mahishyas (formerly Chasi/Haliya Kaibartas), Sadgops (Sadgope), Aguris (Ugra Kshatriyas), Tilis, and related Nabasakh communities. Positioned between the upper castes (Brahmin, Kayastha, Baidya) and lower Scheduled Castes/Dalits, they historically functioned as prosperous peasants (jotedars), landholders, cultivators, and traders. Their ascent reflects a dynamic interplay of rebellion, Sanskritization, land control, colonial enumeration, and modern socio-economic mobility.

Pala Period (8th–12th Centuries): Fluidity and Early Assertion

The Pala Empire (c. 750–1120/1170 CE), the last major Buddhist imperial power in Bengal, fostered a relatively more egalitarian religious environment under Mahayana and Vajrayana Buddhism, which doctrinally downplayed rigid varna hierarchies. In practice, however, Palas granted land (agrahara) to Brahmins and navigated a Hindu-majority society, creating tensions with local agrarian and fishing communities.

The pivotal event was the Kaivarta (Varendra) Rebellion (c. 1075–1082 CE) against the weak and tyrannical Pala king Mahipala II. Led by Divya (Dibyak), a Kaivarta samanta (feudal chieftain) from a community traditionally linked to fishing, boating, and cultivation, the revolt succeeded temporarily. Divya, followed by Rudok and Bhima, ruled Varendra (northern Bengal) for about half a century. Rebels confiscated Brahminical land grants, reflecting grievances over heavy taxation, dynastic instability, and restrictions on traditional livelihoods (e.g., fishing under Buddhist non-violence ideals).

Historians view this as one of India’s earliest recorded peasant/feudal uprisings and an early assertion of power by what would become middle-caste agrarian groups. It severely weakened the Palas, creating political space for new powers. Some Kaivartas had already held administrative roles in Pala courts, showing pre-existing mobility.

Why Kaivarta Rebellion took place against Palas even though they were said to be Liberal on Casteism

Pala “liberalism” was real in some ways but insufficient against real-world issues like taxation, land disputes, and occupational restrictions—classic triggers for peasant/feudal uprisings, not mere ingratitude. The Palas (8th–12th centuries) were patrons of Mahayana and Vajrayana Buddhism, which doctrinally rejected rigid caste hierarchies and emphasized merit over birth. Buddhism historically offered better social mobility and respect to lower strata compared to Brahmanical orthodoxy.

However, in practice, the Palas operated in a Hindu-majority society. They made land grants (agrahara) to Brahmins to legitimize rule, supported Brahmanical institutions, and faced growing Brahmanical influence in rural administration. This created tensions with local feudal lords (samantas) and communities like the Kaivartas.

Kaivartas (ancestors of modern Kaibartas) were traditionally fishermen, boatmen, and cultivators. Buddhist non-violence ideals led to discouragement or restrictions on fishing/meat-eating, which hurt their livelihood and caused resentment.

Oppressive Rule of Mahipala II: He was seen as a weak, tyrannical ruler. He imprisoned his brothers (Surapala II and Ramapala), signaling dynastic instability. This alienated vassals and created opportunities for revolt.

Heavy Taxation and Land Issues: The Palas raised taxes to fund administration and military needs, burdening peasants and landholders. Kaivartas and other rural groups resented land grants to Brahmins and attempts at tighter central control over rural society. Rebels confiscated such grants.

Feudal and Samanta Discontent: Divya (Dibyak), a Kaivarta chieftain and Pala official, led a confederacy of subordinate rulers (samantas). It was partly a power struggle by rising local elites against declining central authority. Kaivartas sought upward mobility—from fishermen (Jalia) toward cultivator (Chasi) status and land control.

Religious-Cultural Tensions: While Buddhism was more egalitarian in theory, Pala patronage of Brahmins and restrictions on traditional Kaivarta occupations created friction. Some interpretations link the rebels to Tantric/Vajrayana Siddha movements with anti-Brahminical or egalitarian elements.

The rebellion succeeded temporarily: Divya killed Mahipala II, and Kaivartas ruled Varendra for about 50 years (under Divya, Rudoka, and Bhima) before Ramapala reconquered it. It significantly weakened the Palas and paved the way for the Sena rise.

Sena Period (11th–13th Centuries): Hindu Revival and Nabasakh Formation

The Sena dynasty (originating from Karnataka, claiming Brahma-Kshatriya status) supplanted the declining Palas. Under Vijayasena and especially Ballal Sena (r. c. 1160–1178), Bengal saw a strong revival of orthodox Brahmanical Hinduism. Ballal Sena is credited with introducing Kulinism (ranking families within Brahmin, Kayastha, and Baidya castes by ritual purity) and reorganizing the broader caste structure.

In this context, the Nabasakh (“nine branches”) framework emerged or was formalized. It grouped nine (later expanded to 13–14) “clean” or respectable Shudra/middle castes—precursors to Sadgops, Tilis, Aguris, Baruis, Kansaris, and certain Mahishya sections—from whom Brahmins could traditionally accept water or food. This distinguished them from “unclean” or lower Shudra groups and stabilized the hierarchy after Pala-era fluidity.

Sadgops (an offshoot of the broader Gopa/Goala pastoral community) began transitioning from cattle-herding to settled agriculture and local power during or just after this period, adding the prefix “Sad/Sat” (pure/good) to signify elevated status.

Relation Between Kaivarta Rebellion & Nabasakh

There is an indirect but significant historical relation between the Kaivarta Revolution (Varendra Rebellion) and the Sena dynasty’s caste reforms, including the consolidation or “upgradation” of the Nabasakh (nine clean/respectable Shudra branches) system. The Kaivarta Revolution (c. 1075–1082 CE) was a major peasant/feudal revolt in Varendra (northern Bengal) against Pala king Mahipala II.

Led by Divya (Dibyak), a Kaivarta chieftain (from a community traditionally linked to fishing, boating, and some cultivation — later splitting into groups like Jalia i.e. fishermen boatmen and Chasi i.e. peasant Kaibartas).

It resulted in the temporary independence of Varendra under Kaivarta rulers (Divya, Rudok, Bhima) and the death of Mahipala II. It was one of the earliest successful large-scale rebellions by lower/middle strata against royal authority in the region.

Impact: It severely weakened the Pala Empire (which had Buddhist leanings and relatively lax caste practices), creating political fragmentation and opportunities for new powers.

Sena Rise and Caste Reforms

The Sena dynasty (originating from Karnataka, Brahma-Kshatriya claims) rose as feudatories and eventually supplanted the weakened Palas, fully consolidating power under Vijayasena and especially Ballal Sena (c. 1159–1179 CE). Senas promoted a strong revival of orthodox Brahmanical Hinduism in response to the Buddhist-influenced Pala era and the disruptions caused by revolts like the Kaivarta one.

Ballal Sena is credited with formalizing key aspects of Bengal’s caste hierarchy:

Introducing Kulinism (ranking within upper castes).

Strengthening distinctions between “clean” (Jal-achal / Sat Shudra) and “unclean” groups. The Nabasakh framework — grouping nine (later more) respectable middle/Shudra castes (e.g., Tili, Sadgop, Aguri, Barui, etc.) who were granted higher ritual status (Brahmins could accept water/food from them) — fits into this reorganization.

The Connection

The Kaivarta revolt demonstrated the power of non-upper-caste groups (including cultivating/fishing communities) and exposed vulnerabilities in the Pala system. It contributed directly to the decline that allowed the Senas to emerge.

Once in power, the Senas responded by reinforcing a more rigid, orthodox caste structure. This included elevating certain “clean” Shudra/middle castes (Nabasakh) while maintaining distinctions that kept groups like (some) Kaivartas in a lower position. It was partly a stabilization effort after the turbulence of the revolt era.

In short: The Kaivarta Revolution helped create the conditions for Sena rule, and the Senas used their power to systematize and upgrade the status of select middle castes within the Nabasakh framework as part of their Brahmanical revival. This dynamic influenced Bengal’s caste landscape for centuries, including the later separations and Sanskritization(e.g., Kaibarta → Mahishya and Gop → Sadgop).

Medieval Period (13th–18th Centuries): Jotedar Kingdoms and Regional Power

After the Turkish conquest (1204 CE, Bakhtiyar Khilji), political fragmentation allowed local middle-caste groups to consolidate. In the Rarh region (western Bengal, between the Ajay and Damodar rivers—modern Birbhum, Bardhaman/Burdwan areas), the Gopbhum kingdom rose under Sadgop rulers. Centered at places like Amrargar (Amragarh) and Dhekur (near Gourangapur), Sadgop kings (e.g., associated with Ichhai Ghosh and later Mahindranath) acted as warrior-agriculturists and jotedars. They controlled lateritic forest lands, built forts, and patronized temples (such as Ichhai Ghosher Deul).

Gopbhum survived initial Khilji pressures but declined over centuries due to invasions and the rising power of larger zamindaris like Burdwan Raj (final fall around 1744). Sadgops spread as zamindars and cultivators into Midnapore and elsewhere.

Aguris (Ugra Kshatriyas), prosperous owner-cultivators claiming mixed Kshatriya-Shudra martial heritage, gained prominence in the same western districts, sometimes linked to Sadgop networks or migrations.

Meanwhile, sections of Kaibartas (especially Chasi/Haliya cultivators) reclaimed wastelands in southern Bengal (Midnapore, etc.) during Mughal times, becoming local zamindars and jotedars. Their identity remained fluid—sometimes labeled Mahishya, Halik, or Das in genealogies—but they formed a rising agrarian middle stratum distinct from Jelia (fishing) Kaibartas.

These groups exemplified Bengal’s “middle peasantry,” dominating rural land control and local power outside upper-caste urban/professional dominance.

Colonial Period (18th–1947): Sanskritization, Census, and Nationalist Role

British rule, the Permanent Settlement (1793), and colonial censuses accelerated change. Prosperous subgroups engaged in Sanskritization—claiming higher varna status via Puranic texts and petitions.

The most prominent was the Mahishya movement (late 19th–early 20th century). Chasi/Haliya Kaibartas formed the Jati Nirdharani Samiti (1897) and Mahishya Samaj to separate from Jelia Kaibartas and claim the ancient “Mahishya” identity (linked to agriculture in texts). Leaders like Bipin Bihari Sasmal and Birendranath Sasmal petitioned census authorities; recognition came in the 1901 and 1921 censuses. By 1931, Mahishyas were largely removed from Depressed Classes lists. Many joined the Bhadralok sphere through education and professions, with some participating in the Brahmo Samaj.

Sadgops and Aguris pursued parallel upward claims (Kshatriya/Yadav status). The Nabasakh group was formalized in ethnographies (e.g., H.H. Risley). Middle castes benefited economically as jotedars but faced land loss and competition; they also played key roles in the nationalist movement—Mahishyas were central to Non-Cooperation and Civil Disobedience in Midnapore and Tamluk.

Post-Independence to Today (1947–Present): Mobility, Reservations, and Political Influence

After 1947, the Left Front’s Operation Barga in 1978 empowered sharecroppers and smallholders from middle-caste as well as lower caste backgrounds. But jotedars were mainly from middle castes and they lost considerable influence. Education expansion and urbanization enabled diversification into government jobs, business, and professions.

Many middle castes received Other Backward Class (OBC) status (e.g., Sadgops as OBC-B; some Mahishya sections and Aguris in OBC lists), while the broader Mahishya community largely remained in the General category yet retained strong rural influence, especially in southern West Bengal (Midnapore, Howrah, Hooghly). They form one of Bengal’s largest Hindu castes.

Politically, these groups have been courted by Congress, CPI(M), and Trinamool Congress. Mahishyas, in particular, wield significant electoral weight as a “sons of the soil” agrarian bloc. Internal class divisions persist—large landowners vs. small farmers and laborers—but the overall trajectory shows sustained upward mobility from medieval jotedar roots.

Conclusion

From the Kaivarta revolt’s challenge to Pala authority, through Sena-era codification of Nabasakh respectability, medieval Gopbhum and jotedar consolidation, colonial Sanskritization (exemplified by the Mahishya movement), to post-independence land reforms and political assertion, Bengal’s middle castes have risen through a combination of resistance, adaptation, land control, and strategic identity claims. Unlike the more rigid hierarchies elsewhere in India, Bengal’s middle castes benefited from historical fluidity and regional power vacuums. Today, as prosperous peasants-turned-urban professionals, they remain central to the state’s agrarian economy, local governance, and electoral politics—embodying centuries of quiet but persistent social ascent.

This evolution underscores how caste in Bengal has been as much about economic agency and regional assertion as about ritual hierarchy.

Bibliography

Selected sources for the study of middle castes, Nabasakh formation, and socio-political mobility in Bengal from the Pala period to the present.

Primary / Ethnographic Sources (Colonial Period)

Risley, Herbert Hope. The Tribes and Castes of Bengal: Ethnographic Glossary. Calcutta: Bengal Secretariat Press, 1891–92 (2 vols.). Key reference on Nabasakh, Sadgops, Aguris, Tilis, and caste rankings in Bengal.

O’Malley, L.S.S. Bengal District Gazetteers: Midnapore. Calcutta: Bengal Secretariat Book Depot, 1911. Details on Mahishya/Chasi Kaibarta dominance in southern districts.

Medieval & Early History

Ray, Niharranjan. Bangalir Itihas (History of the Bengali People). Calcutta: D.M. Library, 1949 (reprinted editions available). Foundational work on social structure from Pala to Sena periods, including Kaivarta mobility.

Furui, Ryosuke. “Characteristics of the Kaivarta Rebellion Delineated from the Rāmacarita.” Proceedings of the Indian History Congress (various volumes). Detailed analysis of the Varendra/Kaivarta revolt.

Majumdar, R.C. (ed.). The History of Bengal, Vol. 1: Hindu Period. Dacca: University of Dacca, 1943. Covers Pala-Sena transition and caste dynamics.

Chakrabarti, Kunal. Religious Process: The Purāṇas and the Making of a Regional Tradition. Oxford University Press, 2001. On Brahmanical revival under Senas and Nabasakh formation.

Caste Movements & Modern Period

Bandyopadhyay, Sekhar. Caste, Protest and Identity in Colonial India: The Namasudras of Bengal, 1872–1947. Oxford University Press, 2011 (2nd ed.). Contextualizes middle-caste assertions alongside similar movements.

Sanyal, Hitesranjan. Social Mobility in Bengal. Calcutta: Papyrus, 1981. Discusses jotedar rise among Mahishyas, Sadgops, and Aguris.

Jana, Atanu & Koley, Soumen. “Agriculturist Kaibartta (Mahishya) Community in Bengal: History, Identity, and Socioeconomic Dynamics.” International Journal of History, 2025.

Mondal, Krishna. “Emergence of Mahishya: A Forward Agrarian Caste of South Bengal.” Journal of Contemporary Research and Advancement in Multidisciplinary Studies, 2026.

General & Regional Studies

Binoy Ghosh. Ethnographic works on Rarh region and Gopbhum traditions (various publications).

Brihaddharma Purana and Brahmavaivarta Purana (medieval Sanskrit texts referenced for Nabasakh and varna claims).

Saha, K.B. (and related works) on the jotedari system and middle peasantry in Bengal.

Corpus of Bengal Inscriptions (for primary epigraphic evidence mentioning Kaivartas and land grants).

Notes on Sources

Many details on Gopbhum, Aguris, and Sadgops are drawn from local histories, community traditions, and Risley’s ethnographic surveys. Exact page numbers for older texts vary by edition. For primary copperplate and inscriptional evidence, refer to collections such as Corpus of Bengal Inscriptions. Academic libraries, JSTOR, and Google Scholar provide access to recent peer-reviewed articles on caste mobility in Bengal. This bibliography is selective and prioritizes foundational and accessible works.

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 11-July-2026 by east is rising

ব্রিটিশ চাটা শ্যামাপোকা

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করবেন,

শ্যামাপ্রসাদের নাম বন্দনা করবেন....

কম: ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও উমাপদ মজুমদারের পিঠের বেত্রাঘাতকে মনে রাখবেন।

কমরেড বললাম কারণ এই ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় আর উমাপদ মজুমদার ব্রিটিশ জ্যাক পতাকাকে সেলাম না জানানোই বেতের আঘাত মারেন সর্বসমক্ষে শ্যামাবাবু ,এবং পরবর্তীতে ক্ষমা চাওয়ার শর্তে ছাত্ররা "ক্ষমা চাইব না আবার সেলামও করব না" সিদ্ধান্তে অনড় থাকাতে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার,আর কলকাতার রাজপথে এই বহিষ্কারের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘটের "শ্লোগান কম: ধরিত্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও কম: ঊমাপদের বহিষ্কার রদ করো,ব্রিটিশের দালালি বন্ধ করো"

ঘটনার তথ্যঃ শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি

ধর্মঘটএর তথ্যঃ সেকালের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস -সুবীরেশ মজুমদার

ছবি: চ্যাট জিপিটি ইমাজিন করেছে।

 Pranoy Bikash Dhara

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu world order 21-June-2026 by east is rising

সেনাটি ভারতীয়: বাংলাদেশে দায়িত্বহীন এবং অসৎ সাংবাদিকতার একটি নমুনা

এই ছবিটিকে বাংলাদেশের মিডিয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ পাকিস্তানি সৈনিক হিসেবে চালিয়ে দেয়া হলেও তা ছিলো অসত্য। এ যাবৎ তারা বলছে , হিন্দু না মুসলমান এটা পাক আর্মির এই সৈনিক যাচাই করছে।

অথচ সৈনিকটি যে ইন্ডিয়ার তা পরবর্তীতে নিশ্চিতভাবে প্রমানিত হয়েছে।

ভারতের আলোকচিত্রী শিল্পী Kishor Parekh এর লিখিত Bangladesh: A Brutal Birth বইটিতে এই ছবি রয়েছে।

Kishor Parekh এই ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন--

“Indian troops grimly round up villagers suspected to be Pakistani spies. They peer into lungis in search of weapons…”

অর্থাৎ, ভারতীয় সৈন্যরা গ্রামবাসীদের পাকিস্তানি অনুচর সন্দেহ করে লুংগীর ভিতর অস্ত্র তল্লাশি করছে।

পরে ছবিটি ভিন্ন পরিচয়ে অর্থাৎ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ক্যাপশন বানিয়ে পাকিস্তানী সৈন্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। এটা তথাকথিত বাংগু প্রগতিশীল সাংবাদিকতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics Hindu world order 09-June-2026 by east is rising

সিপিএম আইএসইএফ জেইউপি: এরাও বিজেপির ফ্যাসিবাদী শাসনের অঙ্গ

আপনি আগে বুঝুন তৃণমূল সরকার আইন অস্বীকার করে গরিব মানুষকে হকারি করতে দিয়েছিল। সংবিধান বা আদালত রেল স্টেশন বা ফুটপাতে হকারীর অনুমতি দেয়না। ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের কথা আদালত বলেছে কিন্তু রেল স্টেশনের হকারদের জন্য তাও বলেনি। তাই সংবিধান বা আইন মেনে হকার বসানো যায়না। সৃজন সংবিধান নিয়ে ন্যাকামি বন্ধ করুক।

বিজেপি এদের হটিয়ে দিলো আইন মেনে আর সিপিএম ফুটেজ খাওয়ার জন্য অন্দোলন করলো এই বলে যে হকারদের চলে যাওয়ার জন্য যেন ২১শে জুন অবধি সময় দেওয়া হয়। অর্থাৎ সিপিএম হকার উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলন করেনি। জাস্ট সময় বাড়ানোর কথা বলে ফুটেজ খেতে চেয়েছে।

সিপিএম আইএসএফ্ জেইউপি: এদের কাজ কি?

আন্দোলন আন্দোলন দেখিয়ে ভোটে প্রাসঙ্গিক থাকা এবং ভোট হেরে বিজেপির মিথ্যে জয়কে এবং বিজেপি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া। অর্থাৎ ফ্যাসিবাদী শাসনের অঙ্গ বিজেপির সাথে সাথে এরাও। এই দলগুলো বিজেপির নগ্ন ফ্যাসিবাদী শাসনকে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক বিকিনি আর প্যানটি পরাবে মাত্র।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 09-June-2026 by east is rising

বাংলার সাম্প্রদায়িক ইতিহাস

(Saikat Bhattacharya's Note: বাঙালি হিন্দু বর্তমানে পঃ বঙ্গের ৫১% বাঙালি হিন্দু, মুসল্মান ৩২% (৩০% বাঙালি ও ২% উরদু), ১৩% হিন্দিভাষী হিন্দু (মাড়োয়াড়ি বিহারী ইউপি গুজারাতি সব ধরে) ও ৪% অন্যান্য (নেপালী, সাঁওতাল ইত্যাদি)। এত কম পপুলেশন শেয়ার নিয়ে মুসল্মান ও হিন্দিভাষি হিন্দুদের সাথে এক সাথে লড়াই করা অসম্ভব।)

Biswanath Lahiri লিখেছেনঃ 

দেশভাগের বাস্তব'কে পেটোয়া রাডনীতির স্বার্থে উপেক্ষা-অবহেলা-তাচ্ছিল্য করার মাধ্যমে বামপন্থা-সেকুলারবাদীতার নামে জেহাদী'দের প্রশ্রয় দেওয়ার খেলা বন্ধ করতে হবে । ভুল্লে চলবেনা তদানীন্তন অবিভক্ত বঙ্গের ডেমোগ্রাফীর দায়ে সুভাষবাবু চিত্তবাবুরা সমুসলিম লীগ রাজনীতি করে অবশিষ্ট ভারতের বিপক্ষে হেঁটে বাঙালীকে পিছনে ঠেলেছিলেন । ১৯৪৬ এর প্রথমে কোলকাতা‌ এবং পরে নোয়াখালীর‌‌ নরমেধ অবিভক্ত বাংলার বাস্তবতা নিয়ে করাল প্রশ্ন তুল্লে একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ উদ্যোগ করেন যাকে কারে পড়ে সমর্থন করে কংগ্রেস‌ ও কম্যুনিস্টরা (পাকিস্তানপন্থী'দের সমর্থক হয়েও নিজেদের পিঠ‌‌ বাঁচাতে) ।‌ কিন্তু দেশভাগের‌ পরবর্তীতে নিজেদের এজেন্ডার স্বার্থে শ্যামাবাবুকে কটুকাটব্য‌‌ করে নীরব করে দেন । তারপর তো তিনি অকালে কাশ্মীরে গিয়ে আগ বাড়িয়ে গলাই দিলেন । বস্তুত‌‌ সুভাষবাবুর উত্তু়ঙ্গ বিরোধিতায় শ্যামাবাবু হিন্দু মহাসভার কোনও সংগঠনই গড়ে তুলতে পারেননি । আর সুভাষবাবু অতো তোষণের কী‌ প্রতিদান পেয়েছিলেন সেটা পাওয়া যাবে মুজিবর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে যেখানে বিদেশের সাহায্য নিয়ে দেশ‌‌ স্বাধীন করার প্রশ্নে তিনি লিখেছেন, 'সুভাষ ফিরলে তো ভারত‌ স্বাধীন হবে‌ আর তাতে পাকিস্তানের কী লাভ‌ হবে'!!!! সুভাষবাবু যে মুসলিম মানস সম্পর্কে অনওয়াকিবহাল ছিলেন তা কিন্তু নয় । চিত্তরঞ্জনের বেঙ্গল প্যাক্ট, যার বিপিন পাল তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর কৃষ্ণনগরের ১৯২৯শের কংগ্রেস অধিবেশনে তিনি নিজেই বাতিল করেন । তখনই জনমত খাড়াখাড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছিলো । তারপর ১৯৩০ শে লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে কংগ্রেস মুসলিম লীগ ছাড়াই পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করতেই পূর্ববঙ্গে চোরাগোপ্তা হিন্দু উচ্ছেদ শুরু হয়ে গিয়েছিলো ।

বস্তুত সুভাষের অন্তর্ধান এবং শ্যামাপ্রসাদ ও ডক্টর মেঘনাদ সাহা'র অকাল‌ মৃত্যু কার্য্যত বাঙালীর রেজ়িস্ট্যান্স শেষ হয়ে যায় । সব হারিয়ে আসা ছিন্নমূলদের মুরুব্বি হয়ে ওঠেন বামপন্থীরা । তাঁরা তাঁদের বিহ্বল রেখে কাটা‌ ঘায়ে নুনের ছিটে(মরীচঝাঁপি)দিয়ে তাঁদের প্রাক‌ পার্টিশান প্রো মুসলিম রাজনীতিরই এজেন্ডা সাধতে থাকেন ভবিষ্যৎ ভোট রাজনীতির জন্য । যেটাকে তাঁদের সাড়ে তিন দশক তোষণ রাজনীতির পর ধরে বেশাতি করে গেছে গত‌ দেড় দশক এ়ই তৃণমূল কংগ্রেস । সেই পাপ থেকে আংশিক মুক্ত হয়েছি আমরা আট দশক পর এই গেলো ভোটে । কিন্তু ভুল্লে চলবেনা যে উত্তরভারতীয় হিন্দুত্ব এবং বাঙালীর উদার হিন্দুয়ানী এক নয় । আর সবকটি সর্বভারতীয় পার্টিই বাংলা ও বাঙালী বিদ্বেষী । এদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করলে এরা বাংলা ও বাঙালীর আরও সর্বনাশ সা়ধন করবে । কাজেই বাম সেক্যুলারদের আড়ে রেখে এবং হিন্দী বেল্টের বশ্যতা মুক্ত হয়ে নতুন বাঙালী পার্টি উঠে আসুক যারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সৃষ্টির ইতিহাসকে মর্য্যাদা‌‌ দিয়ে দিল্লীর কাছে অযথা বশ্যতা স্বীকার না করে রাজ্য শাসন করবে ।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 23-May-2026 by east is rising

হিন্দু দের দুর্বল হওয়া একটা slow but inevitable process

তথাকথিত হিন্দুত্ববাদ আসলে কোনো Long Term vision নিয়ে চলেনা। রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদ বাস্তবে গুজরাতি মাড়োয়ারি দের ব্যবসায়িক সাহায্য করা ছাড়া সাধারণ হিন্দুদের কোনো Ground Level Edge দিতে পারেনি। হিন্দুত্বকে যদি ইসলামকে প্রতিরোধ করতে হয়, তাহলে তাকে মুসলমানদের mass sterilization করতে হবে, হিন্দুদের মেয়েদেরকে চাকরি থেকে সরিয়ে ঘরে ঢোকাতে হবে, মেয়েদেরকে বাচ্চা নিতে বাধ্য (বা, অনুপ্রাণিত) করতে হবে -- এগুলো করতে তাদেরকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে যেতে হবে, ও আন্তর্জাতিক Woke আদর্শ যেমন Liberalism, নারীবাদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এগুলো করতে গেলে গুজরাতি মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী দের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এবং ভারতকে আগামী ৫০ বছর Internationally Seclusion এ বাঁচতে হবে, যা ভারতীয় Merchant Class মেনে নেবেনা। তাই, হিন্দু দের দুর্বল হওয়া একটা slow but inevitable process

হিমন্ত সেটা ভালোভাবেই জানেন।

Read More

Author: Animesh

Religion Hindu 14-May-2026 by east is rising

ভারতমাতার আসল রুপে।

গো-মাতা এবং গো-পিতা হত্যা বন্ধ হলো পশ্চিমবঙ্গ।

কিন্তু আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে এটা একা বিজেপি করেনি।

ভারতের পবিত্র সংবিধানের আর্টিকেল 48 -এ গোহত্যা নিষিদ্ধ আছে। এবং রাজ্যের এক্তিয়ার আছে প্রয়োজনমতো আইন প্রণয়ন করার। জাতির জনক গান্ধীজিও গোহত্যার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি গোহত্যাকে মাতৃহতত্যার সমতূল্য মনে করতেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন স্বরাজ পাওয়ার চেয়েও গোহত্যা বন্ধ বেশি জরুরী।

এবং পশ্চিমবঙ্গে এটা প্রথম নয়। এটা ১৯৫০ সালের কংগ্রেস সরকারের করা বিধিমালা। যা মুসলিমদের প্রিয়তমা হিন্দু কংগ্রেস প্রণয়ন করেছিল। এবং মুসলিমদের বন্ধু সিপিয়েম এবং তৃণমূল কখনও প্রত্যাহার করেনি।

মুসলিমদের বুঝতে হবে তারাই এতোদিন বেআইনিভাবে গোমাতা হত্যা করছিল। ভোট ব্যাঙ্কের বিনিময়ে ধূর্ত হিপোক্রিট ফেক সেক্যুলার দলগুলো ছাড় দিত মাত্র।

মুসলিমরা যদি চূড়ান্ত গন্ডমুর্খ, পাগল এবং শয়তান না হয় তাদের এটাও বোঝা উচিত যে গান্ধীর সফ্ট হিন্দু কংগ্রেস এরকমই হিন্দু ভারতবর্ষ তৈরি করতে চেষ্টা করেছিল। এই জন্যই মর্দে আজাদ হযরত আল্লমা ইকবাল,মি জিন্নাহ, হিজ হাইনেস তৃতীয় আগা খান পার্টিশনের মাধ্যমে এক তৃতীয়াংশ মুসলিমদের এ থেকে বের করে দেন। আলহামদুলিল্লাহ।

এবার আমাদের যাদের পুর্ব পুরুষ হিন্দু রাস্ট্র ভারতে থেকে গেছে, সে যে কারণেই হোক, আমাদের উচিত এদেশের আইন সংবিধান মেনে চলা।

কারণ আমাদের পূর্ব পুরুষরা এগুলো জেনেই এখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হিন্দু জাতি পৃথিবীর অন্যতম মহান একটা জাতি। তাদের নিজস্ব জীবনশৈলী এবং প্রথা ও আইন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেই অনুযায়ীই এদেশ চলবে। তারা আমাদের থাকতে দিয়েছে। আমাদের উচিত তাদের আইনকে সম্মান করা। একান্ত সমস্যা হলে দেশত্যাগের চেষ্টা করা। অন্যথায় আইনের প্রকোপে জান ও মালের দারুণ ক্ষতি হবে।আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত রাস্ট্রের বিরুদ্ধে যাওয়া অস্ত্রহীন মাইনরিটির উচিত নয়। এছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধেও অযথা রণমুর্তি হওয়ার কোনো কারণ নেই যেহেতু এগুলো মুসলিমদের প্রাণপ্রিয় "নবীতূল্য" গান্ধীর আইডিয়া। নেহেরু গান্ধীর সংবিধান এই আদর্শের উপর লিখিত। নেহাতই পাশ্চাত্যের চাপে ইন্দিরা গান্ধী "সেক্যুলার" শব্দটি যোগ করেছে পরে।

অবশ্য আইন অনুযায়ী গরু জবাই হউক, কিন্তু একটা গরুর ১৪ বছর বয়সের পর জবাই করার আইনটা কমিয়ে ৩ থেকে ৪ বছর করার আবেদন রইলো! পশ্চিম বঙ্গের Gen-Z ও Gen-Alfa তরফ থেকে!!

The West Bengal Animal Slaughter Control Act - 1950 // পশ্চিমবঙ্গে গরু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত।

পশ্চিমবঙ্গে সব ধরনের গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে আইন অনুযায়ী—

সুস্থ ও কর্মক্ষম গরু জবাই করা যায় না।

জবাই করতে হলে সরকারি অনুমোদিত ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট লাগবে।

সাধারণত তখনই অনুমতি মেলে যখন পশু:

১৪ বছরের বেশি বয়সী.

অথবা চাষ/দুধ/প্রজননের অযোগ্য.

অথবা স্থায়ীভাবে অসুস্থ বা অক্ষম।

Calcutta High Court ২০১৮ সালে নির্দেশ দেয়:

প্রকাশ্যে পশু জবাই বন্ধ করতে হবে,

রাজ্য সরকারকে West Bengal Animal Slaughter Control Act কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে ?

Supreme Court of India এক মামলায় বলেছিল—

বকরিদে “সুস্থ গরু” কোরবানি ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক নয়,

তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইনের বাইরে গিয়ে healthy cow জবাইয়ের বিশেষ ছাড় দিতে পারে না।

বিঃদ্রঃ - প্রত্যেক গরু ফার্ম হাউস কিংবা গরু বিক্রেতা দের অনুরোধ আপনারা প্রত্যেকে ব্যাবসার জন্য চালান বিল, লাইসেন্স সহ বিক্রি করবেন! যাতে ক্রেতার প্রশাসনিক হেনস্তা না হতে হয়!

Read More

Author: Anjum

Theoretical Hindu 14-May-2026 by east is rising

আর এস এস ও বিজেপি শ্রুতি বা স্মৃতি প্রতিষ্ঠা করতে নয়, পুঁজিকে প্রতিষ্ঠা করতে এসেছে

সাধারণ হিন্দুত্ববাদী সমার্থক তার ধর্মীয় সমাজ রক্ষায় রক্ষণশীলতা চাই অন্যদিকে ক্ষমতার ধারক ও বাহক হওয়া আসল রাজার ভৃত্য সেই রক্ষণশীলতা ভেঙে কর্পোরেটদের সুবিধা করে দিতে চাই ।

হাস্যকর সারা ভারতের হিন্দু একতার কথা যে জাতির হয়ে এরা ভাবছে ভারতের অন্য প্রদেশের লোকেরা এদেরকে আসল হিন্দু এবং ভারতীয়ই মনে করে না।

সারা ভারতে তার রিপ্রেজেন্টেশন মাত্র 5%, অন্যদিকে ভারতের আসল ভোটব্যাঙ্ক হিন্দি হিন্দুদের ভোটব্যাঙ্ক 45%।

সে 5% হয়ে 75% এর নেতৃত্ব দিতে পারে এই দিবাস্বপ্ন দেখছে,এই সপ্ন দেখার অধিকার একমাত্র 45% হিন্দি হিন্দুদের আছে কারণ ভারতের মোট হিন্দু জনসংখ্যার 60% তারাই,তারাই আসল রাজা।

আমি তার রাজত্বকে স্বীকার করি শুধুমাত্র সে সংখ্যায় বেশি একারণেই নয় আমি তার রাজত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করতে পারবো না এই চরম সত্য জেনেই এবং তারাই প্রকৃতপক্ষে আসল হিন্দু সমাজের রাজত্বের সময়ের দাবিদার ও তাদের যে হিন্দুত্ববাদ তা রক্ষণশীল এবং পৌরুষ পূজার হিন্দুত্ববাদ।

পশ্চিমবঙ্গে তাই নারী পূজারি হিন্দুত্ববাদকে তারা হারাতে পেরেছে।

ওরা জয় সিয়া রাম হতে জয় শ্রী রাম হয়েছে

তাই পশ্চিমবঙ্গে মা মাটি মানুষ হতে জয় মা কালীর নাম নিয়ে শ্রী রামের বিজয়ের মহাশাসন প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে।

সাধারণ এই ভেবেই খুশি যে হিন্দু শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে ওদিকে এই হিন্দু শাসনের দলকে যে অদৃশ্য পুঁজি শক্তি নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের এখন হিন্দু কোড বিল থাকার কারণে শ্রমিক পাওয়া সহজ হচ্ছে না কিন্তু তাদের তো শ্রমিক দরকার তাইতো তারা হিন্দু ধর্মের একাত্মতার নামে শংকর জাতের হিন্দু জন্ম দেওয়ার জন্য তাদের ভৃত্যদের দ্বারা বলাচ্ছে।

আর এটাই এখন হচ্ছে এখন বেশিরভাগই বর্ণহিন্দুত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে ।

পুঁজিই এখানে বিজয়ী।

আমি পুঁজিবাদের বিরোধী নই কিন্তু ধর্মের নামে এরা পুঁজিবাদের দালালি করে এটা দেখে হেসে মরে যায়।

Read More

Author: Prosenjit Dey

Theoretical Hindu 11-May-2026 by east is rising

“তৃণমূল গেলে বিরোধী হিসেবে বাম আসবে”— আদৌ না

অনেকেই এখন বলছে, তৃণমূল যদি ক্ষমতা থেকে যায় তাহলে দলটা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে আর বিরোধী হিসেবে বামেরা আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিশ্লেষণের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নই। আমার মনে হয়, পশ্চিমবঙ্গে বামেদের পুনর্জাগরণ অদূর ভবিষ্যতে এত সহজ নয়।

কারণটা একটু বড় পরিসরে দেখতে হবে। বাম রাজনীতি যেভাবে একসময় উঠেছিল, তার পিছনে শুধু রাজ্যের পরিস্থিতি নয়, আন্তর্জাতিক একটা হাওয়াও ছিল। তখন সারা বিশ্বেই শ্রেণীভিত্তিক রাজনীতি, শ্রমিক আন্দোলন—এসব খুব শক্তিশালী ছিল। এখন ছবিটা উল্টো। দেশ-বিদেশে ডানপন্থী বা জাতীয়তাবাদী রাজনীতি অনেক বেশি প্রভাবশালী। এই পরিস্থিতিতে বাম রাজনীতির পক্ষে মাটি তৈরি হওয়া কঠিন।

বাংলার ভিতরেও অনেক কিছু বদলে গেছে। আগে বামেদের মূল শক্তি ছিল সংগঠিত শ্রমিক আর কৃষক। এখন সেই সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি কার্যত নেই বললেই চলে। বড় শিল্প নেই, পাট শিল্প প্রায় শেষ। উপরন্তু অটোমেশন, এআই—এসব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় আকারে সংগঠিত ওয়ার্কিং ক্লাস তৈরি হওয়াও কঠিন হবে। গিগ ইকোনমির যুগে মানুষ আলাদা আলাদা, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে—একজোট হওয়াটাই চ্যালেঞ্জ।

কৃষিক্ষেত্রেও আগের মতো পরিস্থিতি নেই। যেসব জোতদার বা জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাম রাজনীতি গ্রামে দাঁড়িয়েছিল, সেই কাঠামো এখন আর নেই। ছোট ছোট জমির মালিকানা ছড়িয়ে গেছে। সমস্যা আছে—সেচ, ফসলের দাম—কিন্তু সেগুলো নিয়ে সেই ধরনের বড় আকারের বিদ্রোহ গড়ে ওঠা খুব স্বাভাবিক নয়।

আরেকটা বড় পরিবর্তন সামাজিক। আগে যৌথ পরিবার ছিল, একটা collective mindset ছিল। এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি—মানুষ অনেক বেশি নিজের দিকটা আগে দেখে। এটা খারাপ না, কিন্তু এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি আদর্শের জন্য বড় ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা কমে যায়—যেটা বাম রাজনীতির একটা বেসিক জিনিস ছিল।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি আগের মতো নেই। একসময় রুটি-কাপড়া-মাকান বড় ইস্যু ছিল। এখন নানা ওয়েলফেয়ার স্কিমের মাধ্যমে অন্তত বেসিক জিনিসগুলো অনেকটাই কাভার হচ্ছে। ফলে শুধু অর্থনৈতিক দাবিতে মানুষ একজোট হয়ে রাস্তায় নামবে—এই সম্ভাবনা আগের মতো নেই।

তার ওপর সোভিয়েত পতনের পর বাম রাজনীতির ফোকাসও অনেকটাই বদলেছে। ক্লাস পলিটিক্স থেকে সরে এসে আইডেন্টিটি পলিটিক্স—নারীবাদ, জাতপাত, এসব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে তাদের পুরনো বেসের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেই আমার মনে হয়।

এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে অন্য ধরনের রাজনীতি উঠে আসতে পারে—কিছু ক্ষেত্রে পরিচয়ভিত্তিক দল, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি সর্বভারতীয় দলগুলোর লড়াই। তৃণমূলের ভেতরের অনেকেই বামপন্থী রাজনীতির বিরোধিতা করেই উঠে এসেছে, তাই তাদের বড় অংশ সিপিএমে যাবে—এটা খুব বাস্তবসম্মত মনে হয় না। আবার সবাই বিজেপিতেও যাবে না। ফলে নতুন নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়াই বেশি স্বাভাবিক।

সব মিলিয়ে, শুধু “তৃণমূল গেলে বিরোধী হিসেবে বাম আসবে”—এই সরল সমীকরণটা বাস্তবে এতটা সহজ নয় বলেই আমার মনে হয়।

Read More

Author: Arkaprava Chakraborty

Theoretical Hindu 07-May-2026 by east is rising

বিজেপি নেতৃত্বাধীন পঃ বঙ্গের ভবিষ্যৎ

হিন্দুত্বের প্রতি সমর্পণ এবং বিধর্মী দের থেকে হিন্দু জীবন ধন রক্ষার দায়িত্ব আগেও নিয়েছিলাম, এখনও মাথায় থাকবে। এই সরকারের পতন ঘটার প্রয়োজন অবশ্যই ছিল। তবে, রামরাজ্য শুধুমাত্র মর্যাদাপুরুষোত্তম শ্রী রামচন্দ্র ই প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। তারপর আর কেউ পারেননি। তাই, পশ্চিমবঙ্গ রামরাজ্য হবে - এই আশা না করাই ভালো। হ্যাঁ, জামাতি শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার হিন্দুরা একটা বড় আশ্রয় পেলো। তবে, এগুলো সবই Micro level analysis

Macro level চিন্তাভাবনা না করতে পারা জাতি কোনোদিন ক্ষমতাশীল হয়না।

Macro কে বুঝতে প্রথমত বুঝতে হবে, South Asia এর Heart বা, Bengal Delta তে Active Players কারা।

A. গুজরাতি মাড়োয়ারি Merchant Class

B. বাংলাদেশি আশরাফ নিয়ন্ত্রিত জামাতি Lobby

আন্তর্জাতিকভাবে Active Lobby হলো ~

১. CIA (Anglo Saxon Hegemony) এবং IDF (ইহুদী শক্তি) lobby

২. Chinese শক্তি

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ~

A এই মুহূর্তে ১ এর strong ally,

B কিন্তু ২ এর ally নয়।

আন্তর্জাতিকভাবে ১ এই মুহূর্তে হারছে (ইরানে, Ukraine এ)

এবং, ২ উঠছে।

এবার Macro থেকে একটু নীচে নামা যাক এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় issue গুলো কোনদিকে যাচ্ছে দেখা যাক ~

১. বিজেপির একটি ঘোষিত নীতি হলো তিস্তার জল বাংলাদেশকে দেওয়া। এবং, এরা এটা দেবে।

যারা issue টা জানেনা তাদের জন্য brief করে বলি - "বাংলাদেশের কাছে তিস্তার জলের চুক্তি করার option দুটো দেশের সাথে আছে। একটি হল ভারত, অন্যটি হল চীন। হাসিনা নিজের পতনের ঠিক কয়েক মাস আগে এই চুক্তিটি ভারতকে দিয়েছিল, যা তার পতনের একটি major কারণ বলে মনে করেন অনেকে। বাংলাদেশের বড় অংশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভারতবিদ্বেষ আছে। জামাত এই চুক্তিটি Openly এবারের বাংলাদেশ ভোটে চীন কে দেওয়ার কথা বলেছে।

উল্লেখ্য, বাংলার বিগত CM মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব aggressively তিস্তা চুক্তির বিরুদ্ধে ছিল। অর্থাৎ, মমতা চাইছিল না যে, তিস্তা চুক্তি কোনোভাবে করা হোক ভারতের সাথে। এর কারণ - তিস্তা চুক্তি করার অর্থ হল, উত্তরবঙ্গের তিস্তার সমস্ত জল উত্তরবঙ্গের বদলে বাংলাদেশে চলে যাবে, এবং উত্তরবঙ্গ জলের অভাবে শুকিয়ে যাবে।"

বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এরা যদি তিস্তার জল বাংলাদেশকে দিয়ে দেয় (যা তারা দেবে সামরিক ইস্যু এর কথা বলে), তাহলে উত্তরবঙ্গে ব্যাপক খরা দেখা যাবে।

যখন উত্তরবঙ্গে ব্যাপক খরা দেখা যাবে, তখন উত্তরবঙ্গের বিজেপির লোকেরা (লোক না হলেও, অন্য source এর through কোনো Agent) ওখানের সাধারণ মানুষকে বোঝাবে যে, "তোমাদের এত কষ্টের কারণ, কলকাতার লোকেরা তোমাদের থেকে সব দখল করে রেখেছে"। এসব বলে উত্তরবঙ্গকে আলাদা করা হবে। এবং, Union Territory বানানো হবে।

Solution:

আমি শুভেন্দু অধিকারীকে খুব একটা মানসিক চাপ সহ্য করতে পারার মানুষ মনে করিনা। বিগত কিছুদিন ধরে আমি ক্রমাগত সুকান্ত মজুমদার এর নাম বলে আসছি CM face হিসেবে। এর কারণ হলো, সুকান্ত নিজে উত্তরবঙ্গের বাঙালি হওয়ায়, ও কখনোই উত্তরবঙ্গকে আলাদা হতে দেবেনা। এবং, তিস্তার deal কে পিছিয়ে দেওয়া বা, বাতিল করা বা, অন্য কোনো পথের কথা suggest করবে ও

কিন্তু, দক্ষিণবঙ্গের কেউ CM হলে, সে Direct তিস্তা deal sign করে আসবে।

২. এখন Union Territory বানানোর পর যেটা হবে সেটা হল - নেপালি এবং গোর্খা অসম্ভব scale এ ঢুকবে। এখন, বাঙালিদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নেপালি, গোর্খা দের হাতে দেওয়া হবে, এবং এই নেপালি গোর্খা দের দিয়েই মুলমানদের তাড়ানো হবে, নাকি বাঙালীদেরকে দিয়েই মুলমানদের তাড়ানো হবে -- সেটা নিয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হইনি এখনও।

তবে, এখানে আবার একবার Macro Analysis প্রয়োজন। নেপালের বর্তমান PM বালেন শাহ একজন উগ্র নেপালি Supremacist, যে নিজের সরকারি room এই Greater Nepal এর ম্যাপ লাগিয়ে রেখেছে। সেই greater nepal এর ম্যাপ এ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গও আসে। বালেন শাহ সামরিকভাবে উত্তরবঙ্গ দখল করতে পারবেন না অবশ্যই। কিন্তু, যদি উত্তরবঙ্গের জমি ভেড়ি নারী নেপালি গোর্খা রা দখল করতে পারে, তাহলে সেটাও একধরনের দখল করাই হবে। বালেন শাহ যদি সফলভাবে মোদী শাহ কে blackmail করতে পারে (চীন এর সাথে ally করার ভয় দেখিয়ে), সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গকে মোদী শাহ নিজে থেকে না চাইলেও, বাধ্য হয়েই নেপালি গোর্খা দের হাতে তুলে দিতে পারে।

আবার একবার বলছি, এই কারণেই উত্তরবঙ্গের CM প্রয়োজন। এবং, উত্তরবঙ্গের দাপুটে বাঙালি নেতা (যেমন উদয়ন গুহ) দের প্রয়োজন আছে ভবিষ্যতে।

৩. ছোটবেলায় (২০১০-১১ অব্দিও) অনেকের মুখে শুনতাম, অমুকের বাবা পোস্ট অফিস এ চাকরি করে বা, কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করে। In fact, পোস্ট অফিসে চাকরি করাকে একটা Okayish চাকরি ভাবা হতো একসময়। এখন কিন্তু খুব একটা কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করে -- এটা কিন্তু এখন শুনতে পাবেন না। আমাদের বাড়ির কাছের পোস্ট অফিসেই অনেক বিহারী রা এসেছে চাকরির জন্য। এটা শেষ ৩ বছরে specifically হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের হাতে এতদিন যেটা ছিল, সেটা হল রাজ্য সরকারের চাকরি (যার একটা অন্যতম স্কুল teacher) এবং রাজনৈতিক ব্যবসা (তোলাবাজি বা নানাধরনের tips নেওয়া)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ বিশ্বাস ছিল, রাজ্য সরকারের চাকরি গুলো যারা করে তারা সবাই CPM এবং, তারা সবাই তৃণ বিরোধী। তাই, এদেরকে নিয়ে উনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত ছিলেন না।

শেষ ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের চাকরিতে ঠিকভাবে recruit ই হয়নি কোনো।

বিজেপি রাজ্য সরকারের সরকারি স্কুল এ কোনো উন্নয়ন করবেনা। ওরা চাইবে, অধিক থেকে অধিক সংখ্যায় English Medium ICSE CBSE private school খুলতে।

মনে করুন, ২০১১ অব্দি কিন্তু অনেক মধ্যবিত্ত বাঙ্গালী Parents রাই নিজেদের বাচ্চাকে ভালো সরকারি স্কুলে ভর্তি করতে উৎসাহী থাকতেন। অনেকেই আমাদের সময় ছিলেন, যারা ICSE ছাড়িয়ে রামকৃষ্ণ মিশনের স্কুলে দিতেন ছেলেকে। এবং, এরা খুব ভালো results ও করেছে জীবনে।

এই কালচার টা কিন্তু গুজরাতি মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী শ্রেণী শেষ করবেই। রামকৃষ্ণ মিশনকে হয় CBSE হতে হবে, এবং হিন্দি add করতে হবে, নয় ওদের chain টাকে শেষ করা হবে। একবার রামকৃষ্ণ মিশনের স্কুলের chain শেষ হলে, West Bengal board বলে কিছু থাকবেই না।

এইভাবে রাজ্য সরকারি স্কুল উঠিয়ে দেওয়ার অর্থ হবে, সরকারি স্কুলের শিক্ষকতা -- যা বাঙালি মধ্যবিত্তের কাছে একটা safe N stable option ছিল, সেটার complete death

এছাড়াও , ICSE CBSE background এর অনেক parents রাই ছেলেকে বাংলা না পড়িয়ে হিন্দি পড়ায়। এটা ২০১১ পর, ভীষণ বেড়েছে। অর্থাৎ, হিন্দিকে সহজেই ছড়ানো যাবে।

অন্যান্য রাজ্য সরকারি চাকরিতে প্রচুর সংখ্যায় বিহারী UP ঢুকবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ব্যবসা আমার ধারণা পুরোটাই বিহারী UP এর লোকেরা গ্রাস করবে।

অথবা, যদি ground level এ নাও থাকে, বিষয়টা কিছুটা এরকম হবে -- তৃণ এর নেতা ১০০ টাকা তোলা তুললে, সেই ১০০ টাকার ৪০ টাকা নিজের কাছে রেখে বাকি ৬০ টাকা কলকাতাতে পাঠাতো তৃণ Leadership এর কাছে। বিজেপির আমলে Ground Level বিজেপির বাঙালি নেতা (যদি ওটুকু কিছুদিন বাঙালিদের হাতে থাকতে allow করে) ৬০ টাকা তোলা নেয়, সেই ৬০ টাকার ৫০ টাকা পাঠাতে হবে দিল্লীতে। অর্থাৎ, বাঙালিরা রাজনৈতিক ব্যবসায় খুব একটা লাভজনক জায়গায় থাকবেনা।

আর, যেখানে Ground Level তোলার জায়গাটাও UP বিহারী দের, সেখানে তো কিছুই নিজেরা পাবেনা।

বহু গ্রামের দিকের লোকজনও বিগত ১৫ বছরে ভালো ভালো বাড়ি বানিয়েছে। আপনি দেখবেন, এটা আর হচ্ছেনা খুব একটা এরপর।

৪. কিন্তু, মজার ব্যাপার হলো, Merchant Class এর আন্তর্জাতিক Ally যারা তারা কিন্তু spectacular speed এ দুর্বল হচ্ছে। মার্কিন hegemony ভাঙছে, চীন উঠছে। আবার অন্যদিকে, জামাত চীন কে তিস্তা দেওয়ার কথা বলছে। একইসাথে কিছুদিন আগে চীন এর পার্টির কোনো একজন ব্যক্তি জামাতের সংগঠনের প্রশংসা করেছেন। অর্থাৎ, চীন ভবিষ্যতে জামাতের সাথেই বৈঠকে বসবে। মনে করুন, একদিন এই চীন ই কিন্তু যৌনপুরের সুলতানের বিরুদ্ধে ১০০০০ এর নৌসেনা পাঠিয়েছিল বাংলায়। অর্থাৎ। ইতিহাসের track record বলে, চীন বাংলায় ইসলামিক শক্তিকে পূর্ণভাবে সমর্থন দেবে।

অর্থাৎ, ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে Merchant Class শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু, সেই Merchant Class কে backing দেওয়া Anglo Saxon রা দ্রুত দুর্বল হচ্ছে। কার graph কাকে আগে Cross করে -- এখন সেটাই দেখার।

এখনও অব্দি যা লিখলাম, সেটা সম্পূর্ণ এটা assume করে যে, বাঙালি হিন্দুরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর সবকিছু ছেড়ে relax হয়ে বসে থাকছে।

যদি বাঙালিরা ঠিকঠাক খেলতে পারে, অনেক কিছুই বদলাবে। হ্যাঁ, বাঙালি মধ্যবিত্ত দের কথা লিখলাম না। কারণ, এই জয় তাদেরই জয়। আমার বিশ্বাস, কর্পোরেট এবং Software Industry (IT) কিছুটা আসবে। মধ্যবিত্ত বাঙালিরা কিছুদিনের জন্য একটা comfortable জায়গায় যাবে। কিন্তু, তার পরের ধাক্কাটা নিতে পারবেনা যদি ঠিকভাবে না খেলে।

ঠিক খেলার একমাত্র নাম - হিন্দুত্ববাদী বাংলাবাদ

Read More

Author: Animesh

Theoretical Hindu 07-May-2026 by east is rising

বাঙালি হিন্দুরা জমিকে মা মনে করে, এবং জমির ওপর বেশি বিশ্বাস করে rather than নিজেদের clan বা জাতি (পুরুষ)

আমার দুটো Observation ~

১. সিপিএম করা বাঙালি একজন বিজেপি করা বাঙালিকে অনেক বেশি ঘৃণা করে একজন কেরলের সিপিএম সমর্থকের থেকে, এবং বিজেপি করা বাঙালি অনেক বেশি ঘৃণা করে একজন তৃণমূল/ সিপিএম করা বাঙালিকে rather than একজন বিজেপি করা খোট্টাকে।

২. বাংলার বাইরে থাকা বাঙালিরা চরম প্রকৃতির বাঙালি বিদ্বেষ promote করে। এবং, অবশ্যই এরা peak Cvckold হয়। ব্যাঙ্গালোরে এত লক্ষ বাঙালিদের দম হলোনা একটা Councillor কি বিধায়ক নিজেদের করা।

প্রথম Observation থেকে বোঝা যায়, বাঙালিরা আসলে একটা Herd এ থাকতে চায়। অর্থাৎ, বাঙালিরা সবাই একটাই রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে চায়। বিভিন্ন রাজনীতিক দলে নিজেদের লোক রেখে নিজেদের lobby বানানো -- এই মানসিকতা এদের নেই।

দ্বিতীয় observation আমাদের বলে, বাঙালিরা আদতে নিজেদের Homeland ছেড়ে বেরোতে চায়না। এরা নিজেদের জন্মস্থান এই থাকতে চায়। ব্রিটেন থেকে USA তে Migrate করা Anglo Saxon বা, German রা খুব শক্তভাবে নিজেদের identity ধরে রাখলেও, বাঙালিরা কখনোই নিজেদের জাতি সংস্কৃতি এইভাবে ধরে রাখতে চায়না। অর্থাৎ, এরা জমিকে মা মনে করে, এবং জমির ওপর বেশি বিশ্বাস করে rather than নিজেদের clan বা জাতি (পুরুষ)

উপরে উল্লিখিত পুরুষতান্ত্রিক জাতিগুলো কিন্তু নিজেদের জমির চেয়ে নিজেদের জাতির তত্ত্বে বেশি বিশ্বাস করে।

এই দুটো Observation আমাদের স্পষ্টভাবে বলে দেয়, সাধারণ বাঙালি সমাজ (ব্রাহ্মণ কায়স্থ বাদে) আসলে একটি Chalcolithic Civilisation

এরা আদতে Bronze যুগেরও আগে বাস করছে মানসিকভাবে এবং এরা are not supposed to rule themselves

ভারতে গণতন্ত্র যবে থেকে এসেছে, এই সাধারণ বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা এসেছে, এবং এরা ক্রমাগত নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনছে।

Read More

Author: Animesh

Theoretical Hindu 02-May-2026 by east is rising

কেন বাংলাদেশের শাসন জামাত ই ইসলামীর হাতে গেলে পশ্চিম বঙ্গের লাভ ও বিজেপির ক্ষতি?

বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামী এক মাত্র চীনপন্থী দল। জামাত খোলাখুলি চীনকে তিস্তা চুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। চীনকে তিস্তা দিয়ে দিলে বাংলাদেশকে পশ্চিম বঙ্গ থেকে জল চাইতে হতনা। বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিয়ে উত্তর পশ্চিম বঙ্গ-কে শুকিয়ে দিয়ে তারপর বঞ্চনার কথা বলে পশ্চিম বঙ্গ ভাগ করা বিজেপির (হিন্দি গুজরাটি সাম্রাজ্যের) উদ্যেশ্য। এটা আটকে দিতে পারত জামাত।

জামাত থাকলে চীন বাংলাদেশকে উন্নত সমরাস্ত্র দিয়ে ভরিয়ে দিত আর তখন হিন্দি গুজরাটি সাম্রাজ্য পশ্চিম বঙ্গ ও আসাম থেকে মুসলমান খেদিয়ে বাংলাদেশে ঢোকাবার কথা ভাবতে পারতোনা।

আগে চিন্তা করা শেখো পশ্চিম বাঙ্গুরা।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu 30-April-2026 by east is rising

Strategy of Iran

ON FEBRUARY 28, THE WAR STARTED IN TEHRAN.

TODAY, THE WAR IS EVERYWHERE EXCEPT TEHRAN.

That is not an accident.

That is the strategy.

When America and Israel bombed Tehran on February 28, the plan was simple.

Strike the leadership. Collapse the command structure. The regime falls. The war ends.

It did not end.

Instead, something calculated happened.

Iran moved the war.

Within days, the world stopped talking about Tehran.

- Suddenly everyone was talking about Hormuz.

- Then Bab al-Mandeb.

- Then Hezbollah firing rockets into Israel from Lebanon.

- Then Iraqi militias launching nearly 1,000 drones at Saudi Arabia, up to half of them from inside Iraq, targeting the Yanbu oil hub on the Red Sea.

The UAE absorbed 2,819 incoming drones and missiles. Kuwait's civilian airport was struck. US soldiers were killed at Camp Buehring.

Five simultaneous fronts. None of them Tehran.

America cannot bomb Iraq for what Iran ordered from Tehran.

It cannot bomb Yemen for what Iran funded from Qom.

It cannot bomb Lebanon for what Iran built in 1982.

Every time the pressure lands on one front, Iran opens another. The center of gravity keeps moving.

And every time it moves, Tehran breathes easier.

.

.

.

Iran did not invent this strategy. They perfected it.

The Soviet Union used the exact same playbook in Vietnam.

America was fighting North Vietnamese soldiers.

Behind them, the USSR was supplying weapons, advisers, and strategic direction without a single Soviet boot on the ground.

Washington could bomb Hanoi.

It could not bomb Moscow.

The Soviets bled America for a decade from thousands of miles away and never officially entered the war.

America then turned around and used the identical strategy in Afghanistan in the 1980s.

The CIA funded and armed the Afghan mujahideen through Pakistan.

Moscow was fighting Afghan guerrillas carrying American weapons.

The war bled the Soviet economy for ten years and contributed directly to the collapse of the USSR.

The weapon that destroyed a superpower was not American soldiers.

It was the strategy of forcing an enemy to fight everywhere except where you actually are.

Iran studied both wars carefully.

Here is what Iran built over 40 years.

In 1982, Iran sent 1,500 IRGC trainers into Lebanon.

They built Hezbollah — now the world's most heavily armed non-state military force.

In Iraq after 2003, they cultivated Kataib Hezbollah and Asaib Ahl al-Haq, militias that answer to Tehran, not Baghdad.

In Yemen, they armed the Houthis until they could fire ballistic missiles at Riyadh and close the Bab al-Mandeb.

Not an army. A network.

Distributed. Deniable. Dispersed across six countries.

You can kill the Supreme Leader. They did.

You can bomb Natanz, Fordow, and Isfahan. They did.

But you cannot bomb Kataib Hezbollah out of Iraq without starting a new war in Iraq.

You cannot destroy the Houthis without invading Yemen. You cannot disarm Hezbollah without another Lebanon war.

This is the architecture Iran spent four decades building — specifically so no single strike on any single location could destroy it.

---

The most dangerous opponent is never the one who fights you directly.

It is the one who forces you to fight everywhere simultaneously, draining your resources, dividing your attention, exhausting your strength — while they sit at the center and wait.

The Soviet Union learned this in Afghanistan.

America learned it in Vietnam.

The world is learning it again right now.

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu world order 26-April-2026 by east is rising

নেলি গণহত্যা

নেলি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত একটি ছোট শহর। ১৯৮৩ সাল ১৮ই ফেব্রুয়ারি শহরের কাছাকাছি ১৪টি গ্রামে বসবাসকারী বাঙালি মুসলমানদের উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ এবং গণহত্যা করা হয়। গণহত্যার তিন দিন আগে স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশন সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল “এক হাজার অসমীয়া গ্রামবাসী মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে”। এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। আক্রমণকারীরা মূলত লালুং উপজাতির ছিল, যাদের সাথে কিছু অসমীয়া ছিল। সরকারি হিসাব অনুসারে ১,৮১৯ জন পুরুষ, মহিলা এবং শিশু নিহত হয়েছিল, অনানুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যাটি ৩০০০ ছাড়িয়ে গেছে। তরবারি, বর্শা, চাপাতি, বন্দুক, লাঠির মতো আদিম অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। নিহতদের একটি বড় অংশ ছিল নারী এবং শিশু।

আজ পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছিল, যা পরে বাতিল করা হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে গঠিত তিওয়ারি তদন্ত কমিশন ১৯৮৪ সালে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তী কোনও রাজ্য সরকার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। গোপনীয়তা আজও টিকে আছে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 22-February-2026 by east is rising

হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে রবীন্দ্রনাথ কিন্তু বিরুদ্ধে ডক্টর মহঃ শহীদুল্লাহ

বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ৯০% লড়াই করেছে বাঙালি মুসলমান আর মাত্র ১০% লড়াই করেছে বাঙালি হিন্দু

১৯১২ সালে হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য গান্ধীর নিকট লিখিত দাবি উত্থাপন করে বাংলা ভাষায় নোবেল পাওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিন্তু এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ । ১৯১৮ সালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, "শুধু ভারত কেন সমগ্র এশিয়া মহাদেশেই বাংলার স্থান হবে সর্বোচ্চ।"

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলো,

“ভারতবর্ষে ভাষার ঐক্য সাধনের পক্ষে সর্বাপেক্ষা বাধা দিবে বাংলা ভাষা। অতএব বাংলা সাহিত্যের উন্নতি ভারতবর্ষের পক্ষে মঙ্গলকর নহে!”

(সূত্র: রবীন্দ্র বর্ষপঞ্জী, প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা, ১৯৬৮, পৃষ্ঠা ৭৪)

(সূত্র: রবীন্দ্র রচনাবলী সুলভ সংস্করণ (১৯১১-১২), খন্ড-৯, পৃঃ- ৬০৫)

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 22-February-2026 by east is rising

দিপু দাস শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সোচ্চার বলেই তার নামে মিথ্যে নবীকে অসম্মান করার অভিযোগ দিয়ে গণহত্যা করা হয়

গত বৃহস্পতিবার (ডিসেম্বর ১৮) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায় একজন যুবককে হ ত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে আ গুন লাগিয়ে দিচ্ছে কিছু অমা নুষ। আর এই নৃশংস কাজ দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে উৎসুক জনতা।

হত্যা করা যুবকের নাম দিপু চন্দ্র দাস (২৭) তিনি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দিপু কাজ করতেন ময়মনসিংহের জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায়৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই নৃশংস ভিডিওর ভাষ্য অনুযায়ী দিপু মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। কিন্তু কোথায় কিভাবে কটুক্তি করেছেন তার কোন কিছুই পাওয়া যায়নি।

সংবাদমাধ্যম দৈনিক আমার দেশের এক প্রতিবেদনে বলা হয় দিপুকে হত্যা করা হয় ব্যক্তিগত বিরোধ ও শ্রমিক অধিকার আন্দোলনকে ধর্মীয় উসকানির রূপ দিয়ে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী এটি হঠাৎ কোনো উত্তেজিত জনতার ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তৈরি করে দিপুকে হত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায় দিপু চন্দ্র দাস দীর্ঘদিন ধরে কারখানায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। উৎপাদন বাড়ানো, ওভারটাইম, কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতেন। এতে মালিকপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কারণেই তাকে দীর্ঘদিন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। একপর্যায়ে কারখানা থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপুকে জোরপূর্বক চাকরি ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ধর্ম অবমাননার ঘটনায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে ওই হুমকিই বাস্তবায়ন করা হয়।

জানা গেছে, ঘটনার দিন কারখানার ভেতরে দিপুকে হুমকি ও মারধর করা হয়। এরপর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র বাইরে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা লোকজনকে খবর দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কারখানার সামনে স্লোগান দিয়ে দিলুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, যাদের ‘বিক্ষুব্ধ মুসলিম জনতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাদের কেউই ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দা নন।

র‌্যাব-১৪-এর অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৮), ঝালকাঠির পোনাবালিয়া গ্রামের মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার তারেক হোসেন (১৯) ও এরশাদ আলী (৩৯), কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার লিমন সরকার (১৯) এবং সুনামগঞ্জের ধোয়ারা গ্রামের নিজুম উদ্দিন (২০)।

অপরদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আজমল হাসান সগীর (২৬) ও শাহিন মিয়া (১৯) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুলকে (২১)। গ্রেপ্তারের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্তদের বড় অংশই ময়মনসিংহের বাইরের জেলার।

র‌্যাব-১৪ এর পরিচালক নাইমুল হাসান জানান পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার আগে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার। এরপর তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

Pioneer Netwears-এর মালিক বাদশা মিয়া আওয়ামী আমলে বনভূমি দখল করে শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। আওয়ামী ঘনিষ্ট বাদশা মিয়া ইউনূস সরকারকে বিপাকে ফেলতে এমন করেছে কি না তা নিয়েও তদন্ত চলছে। 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics Hindu 21-December-2025 by east is rising

১৯ লক্ষ নয়! এনআরসির পর ‘বিদেশি’ মাত্র ৩২ হাজার

অসম বিধানসভাতেই হিমন্ত সরকারের চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান ঘোষণা

কোটি কোটি টাকা খরচ, বছরের পর বছর আতঙ্ক—তবুও ‘বিদেশি’ শনাক্ত মাত্র ১.৬%

অসমে এনআরসি মানেই আতঙ্কের নাম। ২০১৯ সালে এনআরসির খসড়ায় ১৯,০৬,৬৫৭ জনকে “বাংলাদেশি বিদেশি” বলে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

লক্ষ লক্ষ মানুষ রাতারাতি নাগরিকত্ব সংকটে পড়েছিলেন।

কিন্তু ছ’ বছর তদন্ত–শুনানি, ১,৫২৮ কোটি টাকা ব্যয় এবং হাজারো ট্রাইবুনাল গঠনের পর—

অসম বিধানসভায় সরকারী রিপোর্ট জানাচ্ছে:

১। বিদেশি শনাক্ত—মাত্র ৩২,২০৭ জন

২। পুশব্যাক—মাত্র ১,৪১৬ জন!

এই তথ্য দিয়েছেন অসম চুক্তি বাস্তবায়নমন্ত্রী অতুল বোরা—কংগ্রেস বিধায়ক আবদুর রহিম আহমেদের প্রশ্নের উত্তরে।

কোন বছরে কতজন শনাক্ত?

হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর (২১–২৫)

২০২১: ৬,৩০৪

২০২২: ৮,৭৯০

২০২৩: ৬,৭০৩

২০২৪: ৬,১২০

২০২৫: ৪,২৯০

মোট: ৩২,২০৭

তাহলে ১৯ লক্ষ কোথায় গেল?

বিরোধীদের প্রশ্ন—

১। যাঁদের এনআরসিতে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা যদি বিদেশি না হন, তাহলে তাঁদের নাম কেন উঠল না?

২। এত বিশাল প্রশাসনিক অপচয়ের দায় নেবে কে?

৩। এনআরসিতে আর্থিক অস্বচ্ছতা

CA G (২০২২)-এর রিপোর্টেই বলা হয়েছিল:

১। এনআরসিতে বড় ফাঁকফোকর এবং অস্বচ্ছ ব্যয়

২। শুধুই ডিটেনশন ক্যাম্পে খরচ—৪৬ কোটি

৩। হাজার খানেক Foreigners Tribunal—বিপুল ব্যয়, অর্ধেক কাজহীন

হিমন্ত সরকারের দেওয়া সর্বশেষ সংখ্যাগুলি সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।

বিজেপির সাংসদও স্বীকারে বাধ্য

দারাং–উদালগুড়ির বিজেপি সাংসদ দিলীপ সইকিয়া বলেন—

“সরকারি সংখ্যা প্রামাণ্য। প্রতিদিনই পুশব্যাক হচ্ছে।”

কিন্তু সংখ্যা কত—তার জবাব তিনি দিতে পারেননি।

কংগ্রেসের অভিযোগ—

১।  ১,৪১৬ জন পুশব্যাক হলে এত বড় ঘটনায় কেন কোনও সরকারি প্রচার নেই?

২। বরং ধুবরির মনকাছাড় সীমান্তে খাইরুল ইসলামকে পুশব্যাক করে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এই ঘটনা তো প্রকাশ্যে।

৩। সীমান্তে ফেন্সিং এখনো অসম্পূর্ণ

মন্ত্রী বোরা জানিয়েছেন—

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত (অসম অংশ): ২৬৭.৫ কিমি

সম্পূর্ণ হয়েছে: ২২৮.৫৪ কিমি

বাকি: ৪.৩৫ কিমি (বিজিবি আপত্তির কারণে)

তাহলে প্রশ্ন—

১। এখনো কি অনুপ্রবেশ হচ্ছে?

২। ডাবল ইঞ্জিন সরকার কি দায় এড়াতে পারে?

উপসংহার

১৯ লক্ষ থেকে ‘বিদেশি’ মাত্র ৩২ হাজারে নেমে আসা মানে—

১। এনআরসি প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ ত্রুটি

২। কোটি কোটি টাকার অপচয়

৩। লক্ষ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলার প্রশাসনিক ব্যর্থতা

অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনেই এখন প্রশ্ন—

“যে ১৯ লক্ষ মানুষকে সন্দেহভাজন বলা হয়েছিল, তাঁদের মানসিক ক্ষতি, সামাজিক ক্ষতি—সেটার দায় কে নেবে?”

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics Hindu 29-November-2025 by east is rising

নরেন্দ্র মোদীর "অপারেশন সিন্দুর"

Mohammad Salimullah
মার্কিন রিপোর্টে ভারতের বেইজ্জতি হয়েছে। গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের নিকট US-China Economic and Security Review Commission তাদের বার্ষিক রিপোর্ট দাখিল করেছে। রিপোর্টে মে মাসের পাক-ভারত সংঘর্ষে পাকিস্তানের স্পষ্ট সাফল্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

ঐ সংঘর্ষে চীনের HQ-9 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, PL-15 এয়ার টু এয়ার মিসাইল ও J-10 যুদ্ধবিমান ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। সংঘর্ষে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সামরিকভাবে সফল হয়েছে উল্লেখ এবং এতে চীনের ভূমিকা পর্যালোচনা করে এক বিরল স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, “চার দিনের সংঘর্ষে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক সাফল্যে চীনা অস্ত্রের প্রদর্শনী হয়েছে। চীনা অস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের ব্যবহৃত ফরাসি রাফাল ফাইটার জেট ভূপাতিত করার ফলে চীনা দূতাবাসগুলো দারুণ অস্ত্র বিক্রয়কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সংঘাতের সাফল্য কাজে লাগিয়ে কয়েক সপ্তাহ মধ্যে চীনা দূতাবাসগুলি অস্ত্র বিক্রয় জোরদার করার চেষ্টা করে”।

সারা দুনিয়ার পত্রিকা এখন এই খবর ফলাও করে লিখছে। খোদ ভারতের বিজেপি-পন্থী উগ্রবাদী পত্রিকাগুলো পর্যন্ত এটা লিখেছে। নরেন্দ্র মোদী এখন কী করবেন? কী আর করবেন, নতুন নাটক (জঙ্গি কার্ড) খেলবেন।

মার্কিন কংগ্রেসের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দেখুন এখানে- https://www.uscc.gov/.../2025_Annual_Report_to_Congress.pdf
 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics Hindu 22-November-2025 by east is rising

মুসলমানদের সাহায্য নিয়ে মুসলিম লীগের টিকিটে বাংলার যশোর খুলনা থেকে আম্বেদকর সংবিধান সভায় যাওয়ার সুযোগ পায়

Samsuddin Laskar

১৯৪৬ সালের ১৯শে জুলাই বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর অবিভক্ত বাংলার (undivided Bengal) যশোর-খুলনা সংরক্ষিত আসন থেকে মুসলিম লীগের সমর্থনে সংবিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রথমে তিনি বোম্বাই প্রদেশ থেকে নির্বাচিত হবার চেষ্টা করলেও সেখানে পরাজিত হন। পরে মুসলিম লীগ এবং বাংলার কিছু মুসলিম লীগের দলিত নেতার (যেমন যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল) সহায়তায় তিনি অবিভক্ত বাংলার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান সভায় প্রবেশ করেন।

সংবিধান রচনা করেন, SC রা প্রশাসনিক ও আইন বিভাগ সব জায়গাতে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়া শুরু করে, এস.সিরা সামাজিক সুরক্ষা পেতে শুরু করে। । আর যে মুসলমানদের সাহায্য নিয়ে মুসলিম লীগের টিকিটে বাংলার যশোর খুলনা থেকে আম্বেদকর সংবিধান সভায় যাওয়ার সুযোগ পায়... তার ফলে SC রা আজকের এই যা সরকারি সুযোগ সুবিধা বর্তমান... আর যে মুসলিমদের জন্য(যেহেতু মুসলিমরাই আম্বেদকর কে সংবিধানসভায় পাঠিয়েছিল) বাংলার SC সমাজ উচ্চ জাতির থেকে চর থাপ্পড়, অচ্ছুত হওয়া থেকে বেঁচে আছে...ঘোড়ার পিঠে উঠলে কেউ কিছু বলে না, শ্মশানে পড়ানোর সুবিধা পাচ্ছে, পুকুর ও কুয়াত, টিউবওয়েল জল খাওয়ার সুবিধা পাচ্ছে... সেই মুসলিমদেরকেই ওরা এখন ধর্মের চোখে দেখে... সাম্প্রদায়িকভাবে ঘৃণা ছড়াচ্ছে, যেটা আপনি আপনার পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

আর একটা কথা বলি, আম্বেদকর স্বাধীনতার পর শিডিউল কাস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া নামক দল করে সেই দলের ভোটে দাঁড়ায় SC রা কেউ তাকে ভোট দেয় নি... আম্বেদকর গো হারা হেরে যায়... যে এস.সি সমাজ আম্বেদকর কে মনে রাখেনি তারা মুসলিমদের অবদান কি মনে রাখবে !

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 08-October-2025 by east is rising

বাংলায় উচ্চ বর্ণ হিন্দু বনাম আশরাফ মুসলমান

৪৬ এ হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণের প্রধান মুখ কিন্তু কোনো মুসলমান কৃষক নেতা ছিলনা, যেমনটা প্রচার করা হয়। ছিল সোরাবার্ডি পরিবার, বা গোলাম সারওয়ার রা। এরা কিন্তু প্রত্যেকে খাঁটি আশরাফ! এবং, প্রায় কেউই হিন্দু কনভার্ট (হিন্দু নিম্নবর্ন কনভার্ট) নয়। এরা বেশিরভাগই অতীতে ইরান আদি অঞ্চল থেকে আগত।

সোহরাওয়ার্দী পরিবারের মুসলমান সমাজে status সেটাই যেটা হিন্দু সমাজে কুলীন বসু দের status

সোহরাওয়ার্দীদের প্রায় ১৩০০ বছরের সুবিস্তারিত বংশ কুলপঞ্জিকা লিপিবদ্ধ আছে। সোহরাওয়ার্দীদের বংশের নাম আসছে পুরোনো ইরানের Sohraverd নামের একটি শহর থেকে, এমনকি এই বংশ দাবি করে যে তারা আরবের প্রথম Caliph এর bloodline এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। সোহরাওয়ার্দীদের ভারতবর্ষে আগমন হয়, চিস্তি দেরও আগে, এবং এরা ছিল ভারতে আসা প্রথম সুফি পরিবার। সোহরাওয়ার্দী দের কিছু শাখা ইরানে ফেরত চলে যায়, এবং একটি শাখা বসতি স্থাপন করে বাংলার মেদিনীপুর এ। অনেকেই জানেনা কিন্তু, সিরাজদ্দৌলা এর বংশের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ছিল এই সোহরাওয়ার্দী পরিবার।

অর্থাৎ বলা যায়, সোহরাওয়ার্দী দের চোখের সামনেই বাংলায় রাজা নবকৃষ্ণ দেব দের হাতে নবাবী/ মুসল্মান শাসনের অবসান ঘটে, এবং তাদের চোখের সামনেই তারা দেখে, ব্রিটিশ আগমনের পরেই আশরাফ মুসলমান দের Completely Destroy করা হয় politically হিন্দু উচ্চবর্ণ বিশেষত, কায়স্থদের দ্বারা। এই destruction এতটাই intense ছিল যে, পরের ১৫০ বছরে কলকাতার সমাজে কোনো সমৃদ্ধ আশরাফ এর নাম দূরদুরান্তেও খুঁজে পাওয়া যেতনা। বাংলার ধনী মুসলমান সমাজটাকে completely Appropriate (জমি ভেড়ি নারীর লুণ্ঠন) করে শেষ করে দেওয়া হয় হিন্দু উচ্চবর্ণের (বিশেষত কায়স্থ) দ্বারা।

Even তিতুমীরকে represent করা হয়, কোনো কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে। কিন্তু, এই তিতুমীর কিন্তু ছিলেন খাঁটি বিশুদ্ধ সৈয়দ আশরাফ। সেই সৈয়দ তিতুমীর এর সাথে সংঘর্ষ বাঁধছে কার?

রাজা কৃষ্ণদেব রায় নামের এক উচ্চবর্ণের কায়স্থ জমিদারের, যাকে সঙ্গ (ammo, লেঠেল/manpower) প্রদান করছে আরও কিছু দত্তচৌধুরী, নাগচৌধুরী আদি কায়স্থ জমিদার।

আমরা সবাই সত্যজিৎ রায়কে Secular মানসিকতার ব্যক্তি বলে জানি। কিন্তু, এটা কতজন জানে, যে সত্যজিৎ এর প্রপিতামহ মানে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পিতা যুগলকিশোর রায়চৌধুরী, যারা ময়মনসিংহের কায়স্থ জমিদার ছিল নিজেরা, সেই তিনি ১৭৭১ সালে সিন্ধ্য পরগনার মুসলমান জমিদার মহম্মদ খান এর ওপরে প্রায় ৫০০০ লাঠি, শর্কি, বর্শা, তরবারি চালানোয় দক্ষ সৈনিক নিয়ে আক্রমণ চালান এবং, মহম্মদ খান কোনক্রমে প্রাণ হাতে নিয়ে পাটনা পালান। এই ঘটনা পরে ব্রিটিশ Court এ ওঠে, কিন্তু বৈষয়িক বুদ্ধির (Court এ Lobby) জোরে যুগলকিশোর বেরিয়ে যান।

অর্থাৎ, আশরাফদের মনে হিন্দু উচ্চবর্ণের প্রতি যে বিদ্বেষ তৈরি হয়েছিল প্রায় ১৫০ বছর ধরে, সেটাই ফেটে পড়ে ৪০ এর দশকে। হিন্দুরা বহু জায়গাতেই আশরাফ ধনাঢ্যদের eliminate করে দিয়েছিল, যার ফলে বেশিরভাগ জায়গাতেই মুসলমানরা politically significance হারায়। কিন্তু, হিন্দু ধর্মজ্ঞরা কৃষক মুসলমানদের হিন্দু ধর্মে ফেরত আনার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে যে মুহূর্তে ভারতবর্ষে Electoral Setup এলো অর্থাৎ,

১. "যার যত সংখ্যা, তার তত জোর" কালচার এলো।

২. জমিদারিপ্রথা বিরোধী movement হোয়া শুরু হলো।

তখনই, হিন্দুরা হঠাৎ মাত্র ১০-১৫ বছরেই অনেকটাই রাজনৈতিক জমি হারালো। এবং, অতীতে আশরাফ দের সাথে তারা যে অত্যাচার করেছিল, তার ফল এল ৪৬ এর মধ্যে দিয়ে।

দ্রষ্টব্য: কায়স্থদের মধ্যে মুসলমান বিদ্বেষের কারণ মুসলমান বা, ইসলাম নয়। মূলত, মুঘল যুগ তার কারণ। কায়স্থরা ভেবেছিল, আশরাফ কমিউনিটি তাদের জন্য ক্ষতিকর।

সৈকত ভট্টাচার্য 
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পরেই এটা বুঝে যাওয়া উচিত ছিল যে জমিদারী আর বেশিদিন স্থায়ী হবে না। দুনিয়া জুড়ে শ্রমিক এবং কৃষকরা ক্রমেই নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে। সোভিয়েট ইউনিয়ন অবশ্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে অব্দি সুপারপাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। এবং অনেকেই মনে করত শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকে থাকবে না। কিন্তু জমিদারদের সবসময়ই এটা মাথায় রাখা উচিত ছিল যে সোভিয়েট ইউনিয়ন টিকে গেলে জমিদারি উচ্ছেদ হবেই। এটা দুর্ভাগ্য যে বাঙালি হিন্দু জমিদাররা যারা ব্রিটিশদের সাথে মিত্রতা করে একসময় লাভবান হয়েছিল তারা বুঝতেই পারেনি যে জমিদারি বিলোপ হতে চলেছে এবং ব্যবসার নেটওয়ার্ক তারা তখনো তৈরি করতে পারেনি।

আজকেও কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে চীনের উত্থান বাঙালি মুসলমানদের ভীষণ শক্তিশালী করে দেবে। চীনের উত্থান না হলে বাঙালি মুসলমানরা হিন্দি হিন্দুদের সামনে কোন প্রতিযোগী হিসেবে টিকতেই পারত না। কিন্তু চীনের উত্থান বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং সমগ্র বাঙালি মুসলমানদের (ভারতে যারা থাকে) প্রচন্ডভাবে শক্তিশালী করে দিয়েছে। এটা মাথায় না রাখলে বাঙালি হিন্দুদের আবারো পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশ ও পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশের পূর্ব অংশ ছেড়ে দিতে হবে।

Read More

Author: Animesh

Historical Hindu 02-October-2025 by east is rising

বাঙালি হিন্দুর নারী পূজারী কালচার ধ্বংসের পথ

দুর্গা পুজো ক্যালকোলিথিক বা তাম্রপ্রস্তর যুগের কালচার। যখন মানুষ সবে কৃষি শিখেছে, নারীর গর্ভের উর্বরতা ও মাটির উর্বরতা মিলিয়ে "মাটি মানে মা" দর্শন গোটা সমাজের বুনিয়াদ। কৃষি মাটি নারী মাতৃত্ব মিলিয়ে একটা বিশেষ মানব সভ্যতার স্তর।

কিন্তু এর পরে যখন কৃষি উৎপাদন বাড়ে, কুটির শিল্প বাড়ে, বাজারজাত দ্রব্য বাড়ে, বাণিজ্য ও নগর বাড়ে। দূরবর্তী যাতায়াত বাড়ে। নগর ও বাণিজ্য ও কৃষি আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে সেনা লাগে। দূরবর্তী যাতায়াত, বাণিজ্য ও যুদ্ধ করতে পুরুষ লাগে। তখন যোদ্ধা পুরুষ দেবতা পুজো শুরু হয়। প্রপার ব্রোঞ্জ যুগ এভাবেই আসে।

তাম্রপ্রস্তর যুগের "মাটি মা নারী" কালচার-এর জায়গায় ব্রোঞ্জ যুগে "যোদ্ধা পুরুষ" কালচার গড়ে ওঠন এরপরে রাষ্ট্র তৈরি হলে ক্ষমতাকে সিস্টেম হিসেবে বুঝতে থাকে মানুষ, শুরু হয় নিরাকার উপাস্য তত্ত্ব।

এদিক থেকে দেখতে গেলে দক্ষিণ এশিয়াতে মুসলমানরা সবচেয়ে এগিয়ে। তারপরে হিন্দি-গুজারাতি-মারাঠি-তামিল হিন্দুরা (রাম কৃষ্ণ গণেশ মুরুজ্ঞান অর্থাৎ কার্ত্তিক- এর মতো পুরুষ দেবতা পুজো করে)। শেষে বাঙালি হিন্দুরা। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে নারী পূজারী কালচার এখনো রয়ে গেছে কিছু ক্ষেত্রে। সেটাই পিছিয়ে দিচ্ছে বাঙালি মুসলমানদের। আফঘানরা পুরোপুরি নিরাকার উপাশনা করে। সেই জন্যেই দক্ষিণ এশিয়াতে তারা শ্রেষ্ঠ। উর্দুদের মধ্যে কিছুটা পুরুষ পুজোর মনন রয়ে গেছে যা খুব ক্ষতিকর নয়। হিন্দি হিন্দুদের মধ্যে কিছুটা নারী পূজারী মনন ছিল। কিন্তু শিল্পায়ণ বানিজ্য বৃদ্ধি, নগরায়ণ হিন্দিদের আরও উগ্র পুরুষ পূজারী করে তুলেছে। "জয় সিয়ারাম" এভাবেই হয়ে গেছে "জয় শ্রী রাম"।

অন্যদিকে নারী পূজারী বাঙালি হিন্দুরা যুদ্ধ করে আদি পুঁজি তৈরি করতে পারেনা, তাই ব্যবসা করতে পারেনা। এরা বর্তমানে হিন্দি হিন্দু পুরুষদের রক্ষিতা যোগানদাতা হয়ে যাচ্ছে। বাঙালি হিন্দু-দের জন্মহারও অস্বাভাবিক রকম কম। ফলে এরা বাঙালি মুসলমান ও হিন্দি হিন্দুদের সাঁড়াশি চাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 02-October-2025 by east is rising

৪০ টি বিধায়ক চায় নওশাদের মুসলিম জোট: আনন্দে বিজেপি

বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে রাজনীতিতে বেশ অনেকটাই পোক্ত হয়ে উঠেছে ভাঙ্গরের বিধায়ক তথা আইএসএফ প্রধান পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী।

সম্প্রতি তিনি “ওয়াকফ সংশোধনী আইন” ও

“এসআইআর” বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের হাতে। সে নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।

আর ঠিক এই আবহেই “আরএসএস - বিজেপি” পুষ্ট একটি টিভি চ্যানেল গত একমাস আগে রেকর্ড করা নৌসাদের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে দেয় তাদের বহুল প্রচারিত চ্যানেলে।

ফলত, রাজ্যবাসী অনেকেরই ধারণা তৈরি হয় আগামী ২০২৬ এর বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপির তুরুপের তাস এবার আর সিপিএম নয়। - তুরুপের তাস হতে চলেছে নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তৈরি মুসলিম জোট “কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম” বা “সিপিএফ।”

মূলত “আইএসএফ”, “ডাব্লিউপিআই” “এসডিপিআই”, “আজাদ সমাজ পার্টি” সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও “আইমাআ”, “আরাফ”, “সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন”, “ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন”, “তৌহিদী জনতা” প্রমুখ সামাজিক সংগঠন একত্রিত হয়ে পুরোপুরি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি মঞ্চ বানিয়ে ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে তারা। বলা যেতে পারে দলিত, আদিবাসী, মতুয়া ও সংখ্যালঘুদের সংগঠন বলে প্রচারিত নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে “আইএসএফ” এই মঞ্চের মুখ্য ভূমিকায় থাকলেও, তারা কোনো মতুয়া, দলিত,আদিবাসী, এমনকি কোনো সংখ্যাগুরু প্রভাবিত সেক্যুলার সংগঠনকে যুক্ত করেনি জোটটিতে। বরং তারা প্রাধান্য দিয়েছে পীরজাদা রুহুল আমিন, পীরজাদা খোবায়েব আমিনদের মতো মুসলিম ধর্ম গুরুদের। একদা নিজেকে “ বিশ্ব নবী” হজরত মহম্মদের বংশোধর বলে দাবী করা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী তো বলেই ফেলেছেন”, আমি আইএসএফ করি। -আইএসএফ বিরোধী যাঁরা, আল্লা তাদের ধ্বংস করে দেবে।

মঞ্চটির প্রথম সারির একজন নেতার কাছ থেকে জানা গেলো, তারা আশা করছে ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে কমপক্ষে ৪০ টা কেন্দ্রে জয়লাভ করবে এই মঞ্চ।

তারমানে, বিজেপি ও তৃণমূলকে ভোট যুদ্ধে পরাজিত করতে আগামী বিধান সভা নির্বাচনে তারা কমপক্ষে ২০০ টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

কিন্তু বিপদ হচ্ছে, মঞ্চটির মূখ্য আহ্বায়ক বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী হিন্দুত্ববাদী টিভি চ্যানেলটির মুসলিম বিরোধী হিন্দুত্ববাদী সাংবাদিক ময়ুখ রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যথেষ্ট জোর দিয়েই বলে বসেছেন,

“পশ্চিমবঙ্গে যতো ক্রিমিনাল আছে, তাদের সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায় ভুক্ত”

-ব্যস, তাই শুনে রাজ্যের হিন্দুত্ববাদীরা তো বেজায় খুশি। কারণ, তাদের মতে নির্ভিক ও সত্যবাদী নওশাদ সিদ্দিকী নাকি মুসলিম সমাজের “ হাটে হাড়ি ভেঙে দিয়েছেন। যা ভোট আবহে সাম্প্রদায়িক বিভাজন করার ক্ষেত্রে বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট অক্সিজেন যোগাবে মনে করছে অনেকেই।

তবে উক্ত সাক্ষাৎকারটি প্রসঙ্গে নওশাদ এর জোট সঙ্গী “আজাদ সমাজ পার্টি” র রাজ্য সেক্রেটারি ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা বলেছেন, -সাক্ষাৎকারটিতে নওশাদ সিদ্দিকী ক্রিমিনাল হিসাবে যে মুসলমানদের কথা বলেছেন, তারা সবাই তৃণমূল পার্টির সঙ্গে যুক্ত।

যাইহোক, পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর মুসলিমদের প্রতি এহেন বচনে তাঁর অন্ধ ভক্তকুল নির্লিপ্ত থাকলেও প্রগতিশীল মুসলিম সমাজে এর কু প্রভাব পড়েছে সাংঘাতিক ভাবে। এ প্রসঙ্গে “জেনারেশন জেড” নামে কলকাতার একটি সংগঠনের পক্ষে সমাজকর্মী

সাকিব হাসান পিয়াদা তথ্য তুলে ধরে বলেন, - ইন্টারনেটে সার্চ করলেই অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ভেসে ওঠে। যেমন মোদীর নামের পাশে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ দেখা যায়, তেমনি নওশাদ সিদ্দিকীর নামেও একাধিক মামলার তালিকা দেখানো হয়। কিন্তু মামলা থাকা মানেই তিনি সন্ত্রাসী নন। সিংহভাগ মুসলিমকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রচার করা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অপপ্রচার।” রাজনীতিতে এসব চলতেই থাকবে। আর এটাই স্বাভাবিক।

তবে আইএসএফ নেতা পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী যে “রাজনীতি” টা যথেষ্ট শিখেছেন, তা প্রমাণ পেয়েছিলাম আমি, গত ২০ আগস্ট কলকাতার ধর্মতলায় তাদের “ওয়াকফ ও এসআইআর” বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধুমধুমার কান্ড দেখে।

রাজ্য সরকারের পুলিশ ওই দিন “মুসলিম জোটের”

নব্বই জন নেতা - কর্মীকে গ্রেফতার করার কারণে ব্যাপক প্রচার করেছিল বিজেপি পুষ্ট কয়েকটি ইলেকট্রনিক্স ও সোশ্যাল মিডিয়া।

ঘটনাটা এমন, কলকাতা হাই কোর্টের কাছে

“কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম” আবেদনের মাধ্যমে ধর্না মঞ্চের অনুমতি নিয়েছিল ১৬,১৭,১৮ আগস্ট, -মোট তিন দিন।

কিন্তু “ধুরন্ধর" রাজনীতিবিদ নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তারা কলকাতার ধর্মতলায় হাজার খানিক লোক জড়ো করেছিল ২০ আগস্ট, - হাইকোর্টের অর্ডারকে অমান্য করেই। তারা জড়ো হয়েছিল, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের পিছনের ছোট্ট একটু জায়গায়। যেখানে ১০০ জন লোকেরও দাঁড়ানোর জায়গা নেই।

বলতে দ্বিধা নেই, রাজ্যবাসী সেদিন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর মুখে বারবার ওয়াকফ ও এসআইআর বিরোধী ধর্না মঞ্চের কথা শুনলেও, বাস্তবে ওই দিন তারা কোনো মঞ্চই বাঁধেনি। এই ধরনের ধর্নার ক্ষেত্রে দু এক দিন আগে থেকে মঞ্চ, মাইক ইত্যাদি প্রস্তুত করাটাই দস্তুর। কিন্তু তারা তা করেননি।

ফলত যা হবার তাই হয়েছে, হাজার খানিক উশৃঙ্খল জনতা যেন দখল নিয়ে নিয়েছিল ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ সংলগ্ন জনবহুল চৌরাস্তা। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের শুরু হয়েছিল ধস্তা ধস্তি। এক দিনের জন্য গ্রেফতারও হয়েছিলেন আন্দোলনকারী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী, ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা, মওলানা মুহম্মদ কামরুজ্জামান, হাকীকুল ইসলাম সহ মুসলিম জোটটির ৯৬ জন সমর্থক ও নেতা।

অবশ্য গ্রেফতারের পরের দিন জেল থেকে বেরিয়েই গলায় ফুলের মালা নিয়ে, হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কামান দেগেছিল নওশাদ সিদ্দিকী। শত খানিক ভক্তদের সামনে তিনি আবার একবার ওয়াকফ আন্দোলনের প্রধান শত্রু হিসাবে দেগে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তথ্য বলছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের এক সভা থেকে বলেছিলেন,

“বাংলায় ওয়াকফ আন্দোলন করা যাবে না। এই আন্দোলন করতে হলে দিল্লিতে গিয়ে করুন।”

ফলত, মুখ্যমন্ত্রীর এই ভয়ংকর কথা রাজ্যের অসংখ্য তৃণমূল পন্থী মুসলিমদেরও মন ভেঙে দিয়েছিল সেদিন। এমনকি সেদিন তিনি কেনো এমন একটি অনৈতিক ও বে আইনি কথা বলেছিলেন, আজ পর্যন্ত তারও কোনো ব্যাখ্যা দেননি । যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে “কালো দাগ” হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে ইতিহাসে বলে অনেকের ধারণা।

অথচ, সেদিন রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছিল, বাম আমলে মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটি ভয়ংকর মিথ্যা কথন। বুদ্ধবাবু বলেছিলেন, রাজ্যের মাদ্রাসা গুলো নাকি সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর। বলতে দ্বিধা নেই সেই ঘটনার পর থেকে রাজ্যের মুসলিম সমাজ একপ্রকার চিরদিনের জন্যই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সিপিএমের দিক থেকে।

কিন্তু ওয়াকফ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের একপ্রকার হুমকির পরেও তথ্য বলছে অন্য কথা।

আজকের তারিখ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের অনুমতিতে প্রায় পঞ্চাশটার ও বেশি জায়গায় ওয়াকফ আন্দোলন হয়েছে নানা আঙ্গিকে। আমি নিজে ও দামাল নেতা দীপক ব্যাপারী এবং বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স এর নেতা রাজীব কান্তি রায় সেই সব সভা গুলির বেশ কয়েকটিতে বক্তব্য রেখেছি হাজার হাজার মানুষের সামনে। এমনকি গত দেড় মাসের মধ্যে হাওড়া ও কলকাতা মেটিয়াবুরুজ বাজারে বহু মানুষের সামনে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে বক্তব্য রেখেছি, মওলানা মুহম্মদ হাসিবুর রহমান পরিচালিত তৌহিদী জনতা নামে একটি সংগঠনের ডাকে। শুধু আমি একা নয়, মুখ্যমন্ত্রী বাধা দেবার পরেও বেশ কয়েকটি মঞ্চে আমি ও মুসলিম প্রসোনাল ল বোর্ডের বাংলার প্রতিনিধি মওলানা কামরুজ্জামান এক সঙ্গে বক্তব্য রেখেছি। গত কয়েকদিন আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল শহরের মুসলিম মহিলাদের নেতৃত্বে ওয়াকফ আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনে বেশ কিছু হিন্দু মহিলাও সামিল হয়েছিলেন।

আগামী সপ্তাহে তৌহিদী জনতার ডাকে কলকাতা নিউটাউনে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে আমি উপস্থিত হচ্ছি। প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই পুলিশ অনুমতি ও পাহারা দুটোই দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীরই নির্দেশে। তবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীর থেকে

“ওয়াকফ বিরোধী” তকমা ঘুচবে না হয়তো কোনো দিনই। - এটাই রাজনীতি।

রাজনীতিতে বুঝি এটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে “ভোট চোর বিজেপি” র বিরুদ্ধে তোলপাড় হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। তথাকথিত এসআইআর এর কারণে ৬৫ লাখের বেশি মানুষের নাাম বাতিল হয়েছে বিহার রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে। বলতে দ্বিধা নেই আসামের এনআরসি ছুট ১৯ লাখ মানুষের মতোই বিহারের ৬৫ লাখ মানুষকে রাষ্ট্রহীন বে নাগরিক করতে চলেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে তোলপাড় গোটা ভারত। তবু এ বিষয়ে তেমন ভাবে মুখ খোলেনি বাংলার আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী। এমনকি, তিনি এবং তাঁর দাদা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী বারবার বলেছেন, মুসলিমদের কোনো ভয় নেই এসআইআরে। তারা বলেছেন, দাদুর কবর স্থান দেখালেই নাকি এসআইআরে নাম উঠে যাবে। অথচ সেই নওশাদ সিদ্দিকীই ওয়াকফ ও এসআইআর বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন গত ২০ আগস্ট, কলকাতার ধর্মতলা থেকে। অবশ্য রাজনীতিতে এ সব হয়েই থাকে। খবর পেলাম, মুসলিম জোটের অন্যতম প্রধান মওলানা কামরুজ্জামান গত ২১ -২২ ডিসেম্বর, আসাম গিয়েছিলেন, অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ডাকে। সে সময়ই নাকি তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেছিলেন। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে,

নওশাদ পরিচালিত এই মুসলিম জোটের প্রথম সারির একাধিক নেতা এখন গোপনে তৃণমূল পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে আগামী বিধান সভা নির্বাচনের টিকিট পাবার জন্য। আমার মতে রাজনীতিতে এ সব হতেই পারে। কিন্তু যেটা হতে পারেনা সেটা হচ্ছে, নিজেদের পরিচিতি ও “সংখ্যালঘুদের নেতা” ইমেজকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সহজ সরল সাধারণ মুসলিম মানুষকে, ভয়াবহ খাদের কিনারায় চোখ বেঁধে দাঁড় করানো। সেটা ক্ষমার অযোগ্য। অপরাধ। জাতির সঙ্গে বেইমানি করা ছাড়া কিছু নয়।

এ প্রসঙ্গে দামাল বাংলা সংগঠনের প্রতিনিধি অধ্যাপক সৈকত ভট্টাচার্য বলেন, ভারতে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন

“মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড” মূলত এলিট মুসলিমদের সংগঠন। লোকসভায় “ওয়াকফ বিল” জমা হবার সময় থেকে তারা চোখে পরার মতো কোনো আন্দোলন করে নি। তাদের আন্দোলন বিলটি আইনে রূপান্তরিত হবার পরে থেকে।

বলতে দ্বিধা নেই, তারা নির্ভরশীল দেশের সুপ্রিম কোর্টের উপর। মনে হচ্ছে বাবরি মসজিদ ইস্যু তাদের শিক্ষা দেয়নি।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত এডভোকেট ওমর ফারুক গাজী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ বিষয়ের “ উমিদ” নামে পোর্টালটি চালু হয়েছে এ বছর ৬ জুন। অর্থাৎ তিন মাস হতে চললো। অর্থাৎ মুসলিমদের হাতে সময় আছে আর মাত্র ৩ মাস। বড়ো জোর ৬ মাস। তারপর কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি দখল নেবে প্রশাসনের মাধ্যমে, আইনের মাধ্যমেই।

যদিও সরকারের “উমিদ” নামে পোর্টালটাকে বয়কট করাটা যথেষ্ট যুক্তি সংগত। কিন্তু সে ব্যাপারে রাজ্যের বা দেশের মুসলিম সমাজকে অন্ধকারে রাখাটা সঠিক নয়। মূলত রাজ্যের মুসলমানরা যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও প্রতিবাদে মুখর হয়ে না ওঠে তাই নওশাদ সিদ্দিকীর বাহিনী ওয়াকফের বর্তমান স্ট্যাটাস সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে দিয়েছে পুরোপুরি। এ ঘটনা ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে চলেছে মুসলিম সমাজে। বললেন সমাজকর্মী দীপক ব্যাপারী।

 

দামাল বাংলা

28/8/2024

Read More

Author: মানিক ফকির

Social Hindu 29-August-2025 by east is rising

মহারাজা কেদারনাথ দেবরায় (১৫৬১-১৬০৩ খ্রি.)

Sufal Sarkar
মহারাজা কেদারনাথ দেবরায় (১৫৬১-১৬০৩ খ্রি.) ছিলেন বাংলার বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম শক্তিশালী এবং বিখ্যাত শাসক, যিনি মুঘল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বিক্রমপুরে স্বাধীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মুঘল-রাজপুত জোটের সৈন্যদলকে চারটি বিধ্বংসী যুদ্ধে পরাজিত করে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে পর্তুগিজ ও আরাকানি মগ জলদস্যুদের দমন করে বাঙালিদের রক্ষা করেছিলেন। তাঁর শাসনাধীন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মধ্যে ছিল ঢাকা, বিক্রমপুর, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী ও চাঁদপুরের বৃহৎ অংশ।

কেদার রায় বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা যাদব রায়ের মাধ্যমে দেববংশী বঙ্গজ কায়স্থ বংশের উত্তরাধিকার লাভ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ নিম রায় সম্ভবত সেন আমলে বিক্রমপুরের আড়া ফুলবাড়িয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং ভুঁইয়া উপাধি লাভ করেছিলেন। কেদার রায়ের রাজধানী ছিল শ্রীপুর, যা বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার কালীগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। তাঁর রাজত্ব পদ্মা নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ জনপদ জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যার মধ্যে ইদ্রাকপুর, ইদিলপুর, কেদারপুর এবং চাঁদপুর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পদ্মা নদীর ভাঙনে শ্রীপুরসহ তাঁর রাজ্যের অনেক স্মৃতিচিহ্ন বিলীন হয়ে গেছে।

কেদার রায় একজন দক্ষ শাসক ও যোদ্ধা ছিলেন। তিনি একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন এবং পর্তুগিজ নাবিক ডোমিনিঙ্গ কার্ভালোকে এর নেতৃত্বে নিয়োগ করেছিলেন। তাঁর নৌবাহিনী সন্দ্বীপে মগ ও মুঘলদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল। আরাকান রাজা মেংরাজাগির ১৫০ রণতরীর আক্রমণ প্রতিহত করে তিনি ১৪০টি তরী দখল করেন এবং পরবর্তীতে ১০০০ রণতরীর আক্রমণেও মগ বাহিনীকে পরাজিত করেন। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বিরুদ্ধেও তিনি কালিন্দী নদীতে মন্দা রায়ের নেতৃত্বে মুঘল নৌবাহিনীকে পরাজিত করেন, যেখানে মুঘল সৈন্যদের রক্তে নদীর জল রঞ্জিত হয়েছিল।

কেদার রায়ের ঈসা খাঁর সঙ্গে প্রাথমিকভাবে বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা একসঙ্গে আরাকান রাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু ঈসা খাঁর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শত্রুতায় রূপান্তরিত হয় যখন ঈসা খাঁ জোরপূর্বক কেদার রায়ের বিধবা কন্যা স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করেন। এই ঘটনায় ক্রুদ্ধ হয়ে কেদার রায় ঈসা খাঁর কলাগাছিয়া দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করেন এবং তাঁর রাজধানী পর্যন্ত আক্রমণ চালান।

কেদার রায়ের জীবন ট্র্যাজেডিতে পরিপূর্ণ। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে চতুর্থ যুদ্ধে ফতেহজঙ্গপুরে তিনি নিহত হন।

কথিত আছে, যুদ্ধের নবম দিনে তিনি কামানের গোলার আঘাতে মূর্ছিত হন এবং পরে বন্দী অবস্থায় মারা যান। আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়, তিনি ধ্যানস্থ অবস্থায় ছিন্নমস্তার পূজা করার সময় গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর মুঘলরা তাঁর রাজ্য লুণ্ঠন করে এবং শ্রীপুর পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়।

কেদার রায়ের স্মৃতি বিক্রমপুরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। তিনি দিগম্বরী দেবীর দীঘি, কেশব মায়ের দীঘি এবং শ্রীপুরে রাজবাড়ির মঠসহ অসংখ্য মন্দির ও দীঘি নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভুবনেশ্বরী মূর্তি এখনও নদীয়ার লাখুরিয়ায় সংরক্ষিত আছে। তবে পদ্মার ভাঙনে তাঁর রাজধানী ও অনেক কীর্তি হারিয়ে গেছে, যার জন্য পদ্মা এই অঞ্চলে ‘কীর্তিনাশা’ নামে পরিচিত।

কেদার রায়ের বীরত্ব ও দেশপ্রেম বাংলার ইতিহাসে অমর। তিনি বারো ভুঁইয়াদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে রেষারেষির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হননি। তবুও তাঁর প্রজাবাৎসল্য, শাসনকৌশল এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তাঁকে বাংলার এক অক্ষয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

কিন্তু এসব বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস আমাদের পড়ানো হয় না, আমরা জানিই না ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে । শুধু মুঘল ইতিহাসের কাহিনীই আমাদের জানানো হয়, এখানেই দুঃখ । তাই তোসুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছেন, "বাংলার বারো ভুঁইয়ারা ইতিহাসে উপেক্ষিত হলেও, কেদার রায়ের মতো বীর যোদ্ধারা বাঙালির গর্বের প্রতীক।"

যাইহোক, লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই অবশ্যই একটা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো ।

 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 29-August-2025 by east is rising

বিচারপতি অমৃতা সিনহা বর্ডার অঞ্চলে বিএসএফ এর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন

বিচারপতি অমৃতা সিনহা বর্ডার অঞ্চলে বিএসএফ এর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন, তার থেকে তিনটে বিষয় বেড়িয়ে আসে-

১) কে আক্রান্ত, কেন আক্রান্ত, আক্রমণ আইন মোতাবেক কিনা, এই সমস্ত প্রশ্নের অনুসন্ধান ছাড়াই যদি বিএসএফ কে ক্লিনচিট দেওয়া হয়, তাহলে আক্রান্ত ভারতীয় নাগরিকদের অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়। বিএসএফ দ্বারা আক্রান্ত হলে সে আদালতের কাছে যাবে না তো কার কাছে যাবে? আদালত যদি এইভাবে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়, তবে ভারতের বাঙালি নাগরিকদের অন্য অন্য পথে ঠেলে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়।।

২) সরকারি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশ্ন করা যাবে না, তারা যা করে সেটা ঠিক, এই মনোভাবটা মধ্যযুগীয়, রাজা জমিদারদের আমলের। গণতন্ত্রে এটা চলেনা। গণতন্ত্রে আদালতের কাছে সবাই সমান, কেউ বিচার, প্রশ্ন, তদন্তের এক্তিয়ারের বাইরে নয়। অমৃতা সিনহা যে ভাবে কথা বললেন সেটা আধুনিক রাষ্ট্রে চলে না।

৩) ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলার ভোটার কমাবার জন্য কেন্দ্র যে কর্মসূচি নেবে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলে, বাংলাদেশী তকমা দিয়ে ভারত কেন্দ্রের মেশিনারি কীরকম আচরণ করবে তার একটা আভাস।

(আপনি যদি মনে করেন বিচারপতির সমালোচনা করা উচিৎ নয়, তবে আপনি ওলা উবেরের টাইম মেশিন ডেকে মধ্যযুগে চলে যান।)

Soumo Mondal

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

mythical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 29-August-2025 by east is rising

ভারত ও পঃ বঙ্গে অপরাধীদের তালিকায় মুসলমানদের নাম কি বেশি?

নওসাদ সিদ্দিকী একটা ইসলামবিরোধী চ্যানেলে গিয়ে বলেন যে,—“সমাজে যত ধরনের অনৈতিক অপকর্ম যারা করছে তাদের সিংহভাগ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।”

উনি এমনটা কেন বললেন জানিনা, কিসের ভিত্তিতে বললেন জানিনা, কিন্তু ওনার কথা কতটুকু সঠিক? আসুন ডেটা দেখা যাক।

জেনারেশন-জেড ( Gen-z ) এর পক্ষে থেকে “সাকিব হাসান পিয়াদা” প্রথমেই জানান সিংহভাগ কথার অর্থ কি, সিংহভাগ কথার অর্থ হলো প্রায় সবাই বা সকলেই। সংখ্যার বিচারে ৮০-৯০% বা তারও বেশি হওয়া চায়।

এবং “সাকিব হাসান পিয়াদা” আরো বলেন একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত যে বিচারাধীন কিংবা পুলিশ আটক করেছে কিংবা মামলা হয়েছে মানেই এই নয় যে সে অপরাধী বা কনভিক্টেড। কারণ আইনের দৃষ্টিতে একজন যতক্ষণ দোষী প্রমাণিত না হচ্ছেন ততক্ষণ সে নির্দোষ। শুরু করা যাক—

ভারতজুড়ে মোট জেলবন্দীর সংখ্যা ৫.২২ লক্ষের মতো, তার মধ্যে ৩.৮৪ লক্ষেরও বেশি হিন্দু, ৯৭.৬৫০ জন মুসলিম, ২২.১০০ জন শিখ। অর্থাৎ মুসলমানদের সংখ্যা ১ লক্ষও না।

২০২০ সালে সর্বমোট জেলবন্দীর মধ্যে মুসলিমদের হার ছিল ২০.২%, ২০২১ সালে সেটা ১৮.৭% তে নেমে আসে। এই ১৮.৭%-এর মধ্যে আবার আছে কনভিক্টেড অর্থাৎ যারা দোষী প্রমাণিত, Undertrial বা বিচারাধীন অর্থাৎ যারা দোষী নির্দোষ প্রমাণিত হননি, এরপর আছে detenues বা আটক অর্থাৎ যাদেরকে পুলিশ আটক করে রেখেছে অহেতুক সন্দেহবশত। এদিকে একই সময়ে হিন্দুদের হার ৭২.৮ থেকে ৭৩.৬ এ গিয়ে পৌঁছায়। একইসময়ে সবচেয়ে তীব্রভাবে শতাংশ বেড়েছে শিখদের ৩.৪ থেকে ৪.২-এ।

মোটকথা NCRB ডেটা ২০২১–২২ অনুযায়ী ভারতের মোট দোষী প্রমাণিতদের মধ্যে মুসলমানদের হার ১৫–১৬%, বিচারাধীন তথা Undertrials-এর মধ্যে হার ১৮–১৯%, আটক বা Detenues-এর মধ্যে হার ২৭–৩৫%

আরেকটা তথ্য বলছে দেশে কারাবন্দী দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মুসলমানদের হার ২০২০ সালে ছিলো ১৭.৪% সেটা ২০২১ সালে কমে দাঁড়ায় ১৫.৯%-তে, বিচারাধীন বন্দীদের হার ছিলো ১৯.৫% সেটা কমে হয় ১৮% আর আটক বন্দীদের হার ছিলো ৩০.৭% সেটা নেমে দাঁড়ায় ২৭.৭%

আর একটা রিপোর্ট বলছে, মুসলমানদের মধ্যে দোষীদের তুলনায় বিচারাধীন বন্দীদের সংখ্যা বেশি।

এবার দেখি দলিত ও আদিবাসিদের হার, ভারতীয় কারাগারে দলিতদের ২১.৭ শতাংশেরও বেশি দোষী সাব্যস্ত, ২১ শতাংশ বিচারাধীন এবং ১৮.১৫ শতাংশ আটক। এদিকে ২০১৯ সালের শেষের দিকে ভারতীয় কারাগারে বন্দীদের মধ্যে দণ্ডিত আদিবাসিদের হার ছিলো ১৩.৬ শতাংশ। বিচারাধীন ১০.২%

IndiaSpend-এর ২০২২-এর একটা রিপোর্টে জানা যায় ২০২২ সালে ভারতের মোট বন্দীদের ৭৫.৮% হচ্ছেন Undertrials অর্থাৎ তারা দোষী প্রমাণিত নন, জাস্ট বন্দী।

তাদের মধ্যে হিন্দু ৬৫.২% আর মুসলিম ১৯.৩%

এবার আসি পশ্চিমবঙ্গে:

এনসিআরবি রিপোর্টে দেখা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের অর্থাৎ দোষীদের মধ্যে মুসলমানদের হার ৩৩% এবং বিচারাধীন বন্দীদের মধ্যে ৪৩.৫% ভাই এটা কীভাবে সিংহভাগ হয়?

Convicts অর্থাৎ, সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলিম, ৩৩%

Undertrials তথা বিচারাধীন বন্দীদের মধ্যে মুসলিমের হার প্রায় ৪৩%

Detenues তথা Preventive detention বা বিশেষ আইন অনুযায়ী আটক বন্দীর মধ্যে মুসলিমের হার—প্রায় ৭৮.৫%

কেবল আটকের মধ্যে মুসলমানদের হার বেশি। আর আটক মানেই এই নয় যে সে দোষী অথবা ক্রিমিনাল বা কিছু করেছে। পুলিশ তো যে কাউকে আটক করতে পারে বিশেষ আইন অনুযায়ী।

কারাগারে মুসলিমদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ উপস্থিতির জন্য আইনজীবীরা নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের উপর দোষ চাপিয়েছেন।

ইন্ডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন পরিচালনাকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনাস তানভীর মনে করেন যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে এর অনেক সম্পর্ক রয়েছে। তা ছাড়াও, তানভীর বলেন যে দারিদ্র্য, পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষপাতদুষ্টতা এর জন্য দায়ী কারণ। আইনজীবী এবং মিথ্যা সন্ত্রাস মামলার প্রাক্তন বন্দী আব্দুল ওয়াহিদ শেখও তাই মনে করেন

এবং “দামাল বাংলার” তরফ থেকে লেখক “মানিক ফকির” যাইহোক নওসাদের বক্তব্য নিজস্ব মনগড়া, এর সাথে সত্যতার দূর দূর পর্যন্ত কোন সম্পর্ক নেই। এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দার জন্য এসব বক্তব্য রাখেন, এবং এগুলো হলো সংঘী বয়ান।

____

সুত্র:

১. Muslims 18.7% of prison population, down from 20.2% a year ago.NCRB,The Times of India.

২. Muslims 18.7% of prison population, down from 20.2% a year ago.NCRB,The Times of India

৩. NCRB data shows Muslims, Dalits, Tribal population in prisons disproportionate to their numbers outside

৪. Despite campaign, India saw number of prisoners increase in 2022, Scroll.

৫. India: Data show Muslims disproportionately in jail relative to their population.

৬. Muslims 18.7% of prison population, down from 20.2% a year ago.NCRB,The Times of India

৭. Muslims 18.7% of prison population, down from 20.2% a year ago.NCRB,The Times of India

৮. India: Data show Muslims disproportionately in jail relative to their population.

Read More

Author: Sakib Hasan Piyada

Religion Hindu 25-August-2025 by east is rising

আসল শ্যামাপ্রসাদ

অন্ধ ভক্তের দল বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া এবং মুখে মুখে প্রচার করে চলেছে, ওদের মহান নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী না থাকলে, পশ্চিমবঙ্গ নাকি পাকিস্তানের হয়ে যেত ! কিন্তু বাস্তবতা কি, তারা আদৌ জানে ??

অথচ বঙ্গীয় বিধানসভা নির্বাচনে, তাঁর দল (হিন্দু মহাসভা) 1946 সালে পেয়েছিল 10 শতাংশেরও কম ভোট, আর 1952 সালে তাঁর নতুন তৈরী দল (জনসঙ্ঘ) পেয়েছিল 5,58 শতাংশ ভোট। 1946 সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বাংলা প্রদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন সুরাবর্দি। সুরাবর্দি ও শরত বসু (নেতাজীর দাদা) বাংলা ভাগ চান নি। ওনারা ছিলেন, অখণ্ড বাংলার পক্ষে। কিন্তু ক্ষমতালিপ্সু শ্যামাপ্রসাদ, বৃটিশদের সাথে চক্রান্ত করে বাংলাভাগের পক্ষে রায় দেন! পঃবঃ তৈরীর এমন মহান নজির তৈরী করার পরেও, হিন্দু বাঙালীর কাছে ১৯৫২ সালে তাঁর জনপ্রিয়তা কি ছিল, এই পরিসংখ্যানেই প্রমাণিত। আসলে গোটাটাই ঐতিহাসিক ঢপ ছাড়া আর কিছুই নয়। অশিক্ষিত গোশাবকদের জন্য, নাগপুরের তৈরী সঙ্ঘী টনিক।

* উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি সারা জীবন ব্রিটিশদের দালালি করেগেছেন, এটাই ওনার আসল পরিচয়। বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নাম এবং রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে। উপাচার্য পদে থাকাকালীন, উনি 'ডি লিট' উপাধির জন্য নিজের নাম প্রস্তাব করেন বৃটিশ প্রভুদের কাছে এবং তা অর্জন করেন !!

** কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্রদের নিয়ে তৈরি University Training Corps কুচকাওয়াজ করতো। সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাত্রদের হুকুম করেন, বৃটিশদের পতাকাকে অভিবাদন করতে হবে। ছাত্ররা প্রতিবাদ জানালে, শ্যামাপ্রসাদ তাদেরকে চাবুক মারার আদেশ করেন। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্ররা এবং ধর্মঘট শুরু করে। শ্যামাপ্রসাদ দুজন ছাত্রনেতা ধরিত্রী গাঙ্গুলী ও উমাপদ মজুমদারকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করেন। এর বিরুদ্ধে সমস্ত ছাত্ররা মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ঘেরাও করে এবং ছাত্র আন্দোলনের চাপে, সিন্ডিকেট তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।

*** শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কোনোদিন বৃটিশদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন নি। তিনি সবসময়ই বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের সুবিধার জন্য হিন্দু-মুসলমান বিভেদের চেষ্টা করতেন।

1939 সালে বৃটিশরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরলে, বাংলায় কংগ্রেসের সব নির্বাচিত সদস্য প্রাদেশিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেয়।

কিন্তু ক্ষমতা লোভী শ‍্যামাপ্রসাদ ইস্তফা না দিয়ে, সাভারকারের কথায় কংগ্রেস ত‍্যাগ করে হিন্দু মহাসভাতে যোগ দেয়। এবং পাকিস্তানের প্রস্তাব উত্থাপনকারী, ফজলুল হকের নেতৃত্বে মুসলিম লীগের সাথে 1941 সালে জোট করে, বাংলায় জোট সরকার তৈরি করে এবং উপমুখ‍্যমন্ত্রীসহ অর্থ দফত‍রের দায়িত্ব নেয়। ভারতে ধান্ধাবাজের রাজনীতি আমদানির জনক হচ্ছে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখার্জী। বৃটিশ শাসনে যেমন মুসলিম লীগের সাথে জোট করে বাংলার উপ-মুখ‍্যমন্ত্রী হয়ে ছিলেন, পাকিস্তানের প্রথম সরাস্ট্র মন্ত্রী ফজলুল হকের নেতৃত্বে! তেমনি স্বাধীনতার পরে জহরলাল নেহেরুর মন্ত্রীসভায় তিন বছর মন্ত্রী ছিলেন তিনি !!

**** 1942 সালে শ্যামাপ্রসাদ, RSS-এর সাভারকরের সাথে হাত মিলিয়ে "ভারত ছাড়ো আন্দোলন" বয়কট করেছিলেন এবং এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রচার সংগঠিত করেছিলেন। ভারতীয়দের কাছে আবেদন করেছিলেন - নিজেদের প্রদেশের রক্ষনাবেক্ষনের স্বার্থেই বৃটিশদের বিশ্বাস করা উচিত্। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, "বাংলাতে কিভাবে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা যাবে ?? বাংলাতে শাসনকার্য এমনভাবে চালানো উচিত্, যাতে এই আন্দোলন বাংলাতে শিকর না গাড়তে পারে। আমরা, বিশেষত দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা যেন জনগণকে বলতে পারি, কংগ্রেস যে স্বাধীনতার আন্দোলন করছে - তা ইতিপূর্বেই জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে এসে গেছে" !!

***** জাতীয় কংগ্রেস ছিল একটি Common Platform - যেখানে মুসলিম লিগের মতো RSS, হিন্দু মহাসভার মতো সাম্প্রদায়িক সংগঠনের লোকেরাও সদস্য ছিল। কিন্তু নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বিশ্বাস করতেন, এইসব সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলো বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের দালালি করে, ভারতীয়দের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই উনি কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পরে, এইসব সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সদস্যদের বলেন - "কংগ্রেসের সদস্য থাকতে হলে, কোনো সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা যাবে না।"

নেতাজী জানতেন, সাম্প্রদায়িকতা এক মায়াবী বিষ। এই সাম্প্রদায়িকতার বিষের সম্পর্কে, তিনি জনগণকে সতর্ক করেছিলেন। এই বিষয়ে হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি শ্যামাপ্রসাদের সাথে নেতাজীর বিতর্ক হয়। আলোচনায় কাজ না হওয়ায়, হিন্দু মহাসভার সভাতে নেতাজীর অনুগামীরা হামলা শুরু করে এবং সভা ভন্ডুল করে দেয়। একটি সভায় শ্যামাপ্রসাদ বক্তব্য রাখতে উঠলে নেতাজীর অনুগামীরা ইটবৃষ্টি শুরু করতে, উনি আক্রান্ত ও আহত হন। এরপর 12ই মে 1940 নেতাজী ঝাড়গ্রামের জনসভায় বলেন - "হিন্দু মহাসভা ত্রিশূলধারী সন্ন্যাসীদের কাজে লাগাচ্ছে রাজনীতিতে জায়গা তৈরীর জন্য। হিন্দু ধর্মকে কাজে লাগিয়ে গৈরিক বসনের ভেকধারীদের দিয়ে, এরা ভোট চাইছে। কিন্তু তা করে, এরা শুধু হিন্দু ধর্মের অপমানই করছে না, তাকে অপবিত্রও করছে। সুতরাং, এইরূপ দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক তথা ধর্মদ্রোহী হিন্দু মহাসভা এবং হিন্দুত্ববাদীদের সমাজের থেকে বর্জন করা সকল হিন্দুর কর্তব্য।"

অনেকেই হয়ত ঘটনাগুলোকে কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন ! ঘটনাগুলি তেতো হলেও, চরম সত্যি। এই ঘটনাগুলির সত্যতা যাচাই করার জন্য ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে গিয়ে 14ই মে 1940 -এর আনন্দ বাজার পত্রিকার সংস্করণ দেখে নিতে পারেন। অথবা আপনাদের সঙঘী মহাপ্রভু শ্যামাপ্রসাদের লেখা - "রাষ্ট্র সংগ্রামের এক অধ্যায়", "Leave from the Diary" অথবা "Portrait of a Martyr - Biography of Dr. Shyama Prasad Mukherji by Balraj Madhok" পড়ে দেখতে পারেন। 

লিখেছেন : Krishnendu Shil

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 17-August-2025 by east is rising

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রক বংশগুলো

অনিকেত মিত্র

ইস্ট ইন্ডিয়া কোং আসলে ছিল কিছু শয়তানি পরিবারের লুটতরাজ প্রকল্প। বাইরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ব্যাপারটি পোষাকী ছিল। বহিরাবরণ। অশুভ ভ্যাটিকানি রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন আচারবিধি এবং সংস্কৃতি সুকৌশলে চাপানোটা ছিল আরেক লক্ষ্য (জেস্যুইট মিশনারি মারফৎ)।

নাহলে, লুটপাট করতে অসুবিধে হতো।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কয়েকটি বিভাগ ছিল। এক একটি বংশ/গোষ্ঠী সেই এক একটি বিভাগের মাথায় ছিল:-

১] ভারত এবং চীনের ক্ষেত্রে মূলদায়িত্বে ছিল ইহুদি সাসুন গোষ্ঠী (ডেভিড সাসুন প্রমুখ);

২] সমুদ্রপথের যাবতীয় দিকের মূলদায়িত্বে ছিল ইঞ্চকেপ্‌স্‌ গোষ্ঠী;

৩] আফিম কারবারের উপরে কোম্পানির অন্যতম ভিত গড়ার মূলদায়িত্বে ছিল জার্ডিন গোষ্ঠী এবং ম্যাথেসন গোষ্ঠী (স্কটল্যান্ডের কুখ্যাত মাদক কারবারি ছিল উইলিয়াম জার্ডিন, আফিম চোরাব্যবসায়ী জেমস ম্যাথেসন হংকং থেকে কাজ করতো);

৪] আফ্রিকা মহাদেশের স্বর্ণ ও হীরকের একচেটিয়া খনন, লুন্ঠন ও দখলের মূলদায়িত্বে ছিল হ্রোড্‌স গোষ্ঠী (সেসিল হ্রোড্‌স যাদের অন্যতম) এবং ইহুদি ওপেনহাইমার গোষ্ঠী (ডে বীয়ের্স হীরে কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এর্নেস্ট ওপেনহাইমার);

৫] উত্তর আমেরিকার নিয়ন্ত্রক রকেফেলার গোষ্ঠী (আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিগ ফার্মা মাফিয়াবৃত্তি এবং বিদ্যালয়শিক্ষার নামে কচিবয়স থেকে সিস্টেমের দাসত্ব শেখানোর পথিকৃৎ); এবং

৬] এদের সবার মাথা -- ইউরোপের অনভিষিক্ত রাজারাজড়া (বণিকের মানদণ্ড রাজদণ্ড) -- ইহুদি রথ্‌সচাইল্ড গোষ্ঠী (যারা সিটি অফ্‌ লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, ভিয়েন্না, প্যারিস ও নাপোলি থেকে গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক কারবার নিয়ন্ত্রণ করতো)।

Read More

Author:

Historical Hindu world order 17-August-2025 by east is rising

কেন মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বাংলা ভাগের বিরোধী ছিলেন ?

প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর (পি. আর. ঠাকুর) ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন বাংলার ব্যবস্থাপক পরিষদে হিন্দু মহাসভা, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট ও শিল্পপতি ঘনশ্যাম দাস বিড়লা (জি. ডি. বিড়লা)- দের সমর্থন করে বাংলা ভাগের পক্ষে ভোট প্রদান করেন। ভেবেছিলেন বাংলার পিছিয়ে রাখা তপশিলি সমাজ পূর্ববঙ্গের মুসলীম মৌলবাদী শক্তির অত্যাচারের থেকে রেহাই পাবে এবং সেই সঙ্গে তাদের নাগরিক অধিকারও স্বীকৃত হবে।

এদিকে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বাংলা ভাগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দিল্লী থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান---

১) বাংলা ভাগ সাম্প্রদায়িক সমস্যার কোন সমাধান নয়।

২) বাংলা ভাগ হলে বাংলার তপশিলি সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অধিকতর দুর্বল হয়ে পড়বে। একটি অংশ পূর্ববঙ্গের মুসলীম মৌলবাদীদের অত্যাচারের শিকার হবে, আর অপর অংশটি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু মৌলবাদীদের অত্যাচারের শিকার হবে।

৩) বাংলার তপশিলি সমাজ রাজনৈতিক অস্তিত্বহীনতার দিকে অগ্রসর হবে।

সাম্প্রদায়িক সমস্যাকে জিইয়ে রেখে "জন বিনিময়" (Exchange of Population) না করে ১৫ ই আগস্ট,১৯৪৭ ভারত ভাগ হয়ে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয় --- ভারত ও পাকিস্তান।

২০ শে ডিসেম্বর,১৯৪৯ অধুনা বাংলাদেশের বাগেরহাট মহকুমার কালসিরা গ্রামে পুলিশ কনস্টেবল হত্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ তপশিলি, হিন্দু ও অহিন্দুরা নতুন ভারত ভূখণ্ডে আশ্রয়ের জন্য প্রবেশ করে। এদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার পরিবর্তে ১৯৫০ সালের ৮ই এপ্রিল নেহেরু - লিয়াকত চুক্তি বা দিল্লী চুক্তি স্বাক্ষরিত করে আশ্রয়প্রার্থী তপশিলি, হিন্দু ও অহিন্দুদের পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে যেতে জোর করা হয়। কারণ নতুন ভারতবর্ষে নেহরু ও বিধান রায়েরা দেশ ভাগের বলি এই তপশিলি, হিন্দু ও অহিন্দুদের দায়িত্ব নিতে চাননি। অথচ এরাই দেশ ভাগের সময় গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন যে, আজ যারা স্বাধীন ভারতের অংশীদার হতে পারল না, তারা যখনই ভারতবর্ষে আসবেন তাদেরকে দু - হাত তুলে সাদরে গ্রহণ করা হবে। Displaced Persons (Compensation and Rehabilitation) Act,1954 পাশ করা হলেও, দেশ ভাগের বলি এই ভিটেহারা মানুষগুলির কোনো পুনর্বাসন বা নাগরিকত্বের কোন সমাধান করা হল না। ভিটেহারাদের ন্যায্য দাবিকে নস্যাৎ করতে ২০০৫ সালে এই আইনকে বাতিল করে ভারত সরকার। যৎকিঞ্চিৎ বা করা হল, তাও হিন্দু হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গে ঠাঁই হলো না, ঠাঁই হলো বাংলার বাইরে দণ্ডকারণ্য, মালকানগিরি, গড়চিরোলি, আন্দামান, বেটিয়া প্রভৃতি দুর্গম অনুর্বর শাপদসঙ্কুল অঞ্চলে।

বাংলা ভাগের প্রাক্কালে হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেস প্রমথ রঞ্জন ঠাকুরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তাঁর মানুষদের হিন্দু হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গে পুনর্বাসন ও ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। কিন্তু এরা কিছুই দেয়নি। উপরন্তু এই ভিটেহারা মানুষদের উপর জাতিবাদী কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট শাসকেরা অকথ্য অত্যাচার নামিয়ে আনে। এর প্রতিবাদে প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর কংগ্রেস ত্যাগ করেছিলেন। হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেস প্রমথ রঞ্জন ঠাকুরের সাথে "বিশ্বাসঘাতকতা" (Betray) করেছিল। অপর দিকে মুসলীম লীগও মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। আসলে বহিরাগত আর্য ও বহিরাগত আশরাফরা শুধুমাত্র তাদের শ্রেণি স্বার্থকেই অক্ষুন্ন রাখতে ছিল বদ্ধপরিকর। ভারত ও বাংলাদেশে এই দুই শক্তি আজও তার ব্যতিক্রম নয়।

ঠাকুর হরি - গুরুচাঁদের মানুষদের প্রতি এত বিদ্বেষ ও বঞ্চনা কেন ? কেনই বা তাদের ন্যায্য অধিকার --- ভারতীয় নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও মৌলিক অধিকারকে অস্বীকার করা হচ্ছে ? এর কারণ অনেক গভীরে ---

১) ঠাকুর হরিচাঁদ ১৮৩০ সালে বেদকে প্রত্যাখ্যান করে বৈদিক ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে "সূক্ষ্ম সনাতন ধর্মে"র প্রচার - প্রসার শুরু করেন। ফলে তথাকথিত হিন্দু ধর্ম গাণিতিক সংখ্যায় আরও সংখ্যালঘু হওয়ার দিকে অগ্রসর হয়।

২) তৎকালীন হিন্দু "ভদ্দর লোক" কতৃক তাঁর সমাজের প্রতি অবজ্ঞা ও বঞ্চনার প্রতিবাদ স্বরূপ, তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্ব গান্ধিজি, সুরেন্দ্রনাথ, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, অম্বিকা চরণ প্রমুখের অনুরোধ সত্ত্বেও ঠাকুর গুরুচাঁদ তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫), অসহযোগ (১৯২০), আইন অমান্য (১৯৩০) আন্দোলনে যোগদান করেননি। এমনকি বেঁচে থাকাকালীন জাতিবাদী কোন রাজনৈতিক দলে নাম লেখান নি। যদিও ঠাকুর গুরুচাঁদের চলে যাওয়ার পর, তাঁর নাতি প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর ১৯৩৮ সালে কংগ্রেসে যোগদান করেন।

৩) ১৯২৩ সালে খুলনা কনফারেন্সে ঠাকুর গুরুচাঁদের নির্দেশে ও অনুপ্রেরণায় আইডেন্টিটি পলিটিক্স (Identity Politics) - কে ভিত্তি করে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের নেতৃত্বে ১৯৩৮ সালে গঠিত হয় Independent Scheduled Caste Party। যা বাংলার "কিং মেকার" এ পরিনত হয়। এর ফলে হিন্দু ভদ্দর লোকেরা ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত একক ভাবে বাংলার প্রাদেশিক শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারেনি।

৪) কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গিয়ে অবিভক্ত ভারতের অন্তর্বর্তী সরকারে ১৯৪৬ সালের অক্টোবর মাসে মুসলিম লীগের মনোনীত সদস্য হিসাবে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল আইনমন্ত্রী হন। যা কংগ্রেস মেনে নিতে পারেনি।

৫) তৎকালীন কংগ্রেসের সেকেন্ডম্যান হিন্দুত্বপন্থী নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নিষেধাজ্ঞা ও রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে, মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায় বাবাসাহেব ড: আম্বেডকরকে ১৯৪৬ সালে বাংলা থেকে নির্বাচিত করে ভারতের গণপরিষদে পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ড: আম্বেডকর ভারতের সংবিধান রচনা করে সকল শ্রেণীর নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারকে সুরক্ষিত করেছিলেন

শৌর্য - বীর্যের অধিকারী গঙ্গরিডির এই মতুয়া নম: জাতি (যাদেরকে গ্রীক বীর আলেকজান্ডার পর্য্যন্ত সমীহ করেছিলেন) যে কোন মুহূর্তে ভারতের তথা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। তাই চক্রান্ত করে তাদের নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার, সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারকে হরণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এই দেশের হিন্দুত্ববাদী জাতিবাদী শাসকেরা। বাংলাভাগ না হলে বাংলার তপশিলিদের আজ এই দশা বোধহয় হত না।

কলমে:- কিশোর কুমার বিশ্বাস।

সৌঃ Soumyadip Mahato

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 15-August-2025 by east is rising

CAA তে আবেদন চলছে। পরিণতি কি ? আইন কি বলছে!

কম্পিলড টু সিক শেল্টার “ এই একটি শব্দ আজ বহু হিন্দু উদ্বাস্তুকে চিরকালের জন্য বে নাগরিক করে দিচ্ছে। আজকাল রাজ্যের বর্ডার এলাকার বেশ কিছু এলাকায় রীতিমত ক্যাম্প করে করে তথাকথিত সিএএ ২০১৯ এর পোর্টালে আবেদন করাচ্ছেন বিজেপির নেতারা। সঙ্গে বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী উচ্চ শিক্ষিত ও সরকারি আমলাও থাকছেন। বলতে দ্বিধা নেই, যেহেতু এ বিষয়ের রাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিরোধী বলে পরিচিত, রাজ্যের তৃণমূল সরকার ও দামাল বাংলা নামে একটি সংগঠন, এবং এরা বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন নির্লিপ্ত হয়ে আছে, তার ফলে এটারই সুযোগ নিয়ে “ ছেলেধরার দল “ বেরিয়ে পড়েছে “ দেশ ভাগের বলি, “ অখণ্ড ভারতের ভূমি সন্তানদের চিরকালের জন্য রাষ্ট্রহীন বে- নাগরিক করার কাজে। আমরা জানি ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব আইনে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে, আইনটিতে উল্লিখিত তিনটি দেশের ছয়টি ধর্মের মানুষ, যাঁরা পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও ফরেন অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন তারা আর ইললিগ্যাল মাইগ্রেন্ট নন। অর্থাৎ অবৈধ অভিবাসী নন।

ফলত বিজেপি সমর্থকদের ধারণা হয়েছে, যেহেতু ইললিগ্যাল নন কথাটা লেখা আছে, ফলত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হয়ে থাকা মানুষ গুলো লিগ্যাল বা বৈধ হয়ে গেছেন। কিন্তু বিপত্তিটা হচ্ছে, সিএএ ১৯ এর শর্ত নিয়ে। আইনটির মূল শর্ত গুলোর প্রধান দুটি শর্ত হচ্ছে, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯২০ ও ১৯৪৬ সালের বৈদেশিক আইনে ছাড় পেতে হবে।

বলতে দ্বিধা নেই, এই কথাটি এতদিন বিজেপি কর্মী - সমর্থক ও নেতারা প্রকাশ করতেন না। কিন্তু এখন তারা প্রচার করছেন, খুবই জোরের সঙ্গে। আর এটাই বুঝি তাদের লোক ঠকানোর মূল মন্ত্র। তারা বেশ কয়েকজন উকিল ও তাদের সমাজের প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বলছেন,

২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দেশের সরকার পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও বৈদেশিক আইনে ছাড় দিয়ে দিয়েছে। বলছেন,সেখানে লেখা আছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট তিনটি দেশের ছয়টি ধর্মের মানুষ যারা ধর্মীয় কারণে বা ধর্মীয় নির্যাতনের ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বা আশ্রয় চাইতে বাধ্য হয়েছে তাদের জন্যই দেশের হিন্দু হৃদয় সম্রাট প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদী সব কিছুতে ছাড় দিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ পাসপোর্ট - ভিসা ছাড়া অবৈধ পথে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে এলেও তারা নাগরিকত্ব পাবে। অর্থাৎ সিএএ পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন।

আর এ কথাটাই বলছেন উদ্বাস্তু ও দলিত নেতা বিখ্যাত সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ও। সুতরাং “ দুয়ে দুয়ে চার “ হয়ে গেলো।

মোটকথা আর কোনো সন্দেহের অবকাশই বুঝি রইলনা উদ্বাস্তু হিন্দুদের। বলতে দ্বিধা নেই, আজকের তারিখেও সুকৃতি বাবু দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলছেন ২০১৪ সালের আগে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের অনুপ্রবেশকারী তকমা মোচন হয়ে গেছে। ফলত রাজ্যের উদ্বাস্তু মানুষরা গত কয়েক বছর ধরে নাগরিকত্ব আদায়ের জন্য কোনো আন্দোলনই করেন নি। এমনকি দল বেঁধে তারা বিজেপি সমর্থক হয়ে গেছেন। কারণ, তাদের ধারণা হয়েছিল তারা বুঝিবা বৈধ শরণার্থী হয়ে গেছেন ভারতে। - এবার নিশ্চয় বিজেপি সরকার তাঁদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে।

কিন্তু এই কথা গুলো যে সম্পূর্ণ ভুল, এমনকি সি এ এ ২০১৯ এর মাধ্যমে যারা নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদের নাগরিকত্ব গুলোও যে বাতিল হয়ে যেতে পারে সে কথা আজ মেনে নিলেন সি এ এ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা তাপস কান্তি বিশ্বাস ও। কারণ তিনি সি এ এ বিরোধী হলেও “ দামাল বাংলার ব্যাখ্যার সঙ্গে তার ব্যাখ্যার কিছুটা অমিল ছিল।

আসলে “ ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পাসপোর্ট অ্যাক্টের রুল ও ফরেনার্স অ্যাক্টের অর্ডারে উল্লিখিত একটি ইংরেজি শব্দের ব্যাখ্যা বহু উদ্বাস্তুকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। আর এ কথা গুলো আমরা বারবার বুঝিয়েও বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ও নিখিল ভারত বাঙালি সমন্বয় সমিতির প্রধান ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাসকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত করতে পারিনি। অবশ্য এক্ষেত্রে আমি আমার বিশেষ পরিচিত ও বন্ধু এই দুজনকেই পুরোপুরি দোষ দিই কি করে! এর জন্য আসল দায়ী তো ইন্টারনেট ও গুগল।

কারণ ওই যে “ কম্পিল টু সিক শেল্টার “ কথাটা ! বিজেপি নেতা ও বিজেপি পন্থী উদ্বাস্তু নেতারা CAA ক্যাম্পে দাঁড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলার পর বলছেন, আপনারা গুগল সার্চ করে পাসপোর্ট অ্যাক্টটা একবার দেখে নেবেন। সেখানে বলা আছে “ যাঁরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা লাগবে না। এমনকি কাঁটা তার পেরিয়ে পেরিয়ে ভারতে এলেও তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন, এমনকি বহু লোক পাচ্ছেন ও বটে। এই বলে তারা কিছু উদাহরণ দিচ্ছেন, যেমন তারা বলছেন, চুপি চুপি বেশ কয়েকজন তৃণমূল পার্টির বিধায়ক, কয়েকজন উকিল, এমনকি দু একজন জজ সাহেবরাও সি এ এ পোর্টালে আবেদন করছেন। তবে আবেদনকারীদের নাম বলছেন না বিজেপি নেতারা।

নাম বলছেন না, কিন্তু যারা সার্টিফিকেট পাচ্ছেন, তাদের সেই ভুয়ো সার্টিফিকেট গুলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা উদ্বাস্তু হিন্দুদের আকর্ষণ করার জন্য।

বাস্তবে “ seek “ মানে চাওয়া , একথাটা প্রায় সকলেই জানেন। কিন্তু কেউ যখন গুগুলে “ কম্পিল টু সিক শেল্টার “ কথাটার অর্থ জানতে চাইছে, তখনই গুগল বলছে,কথাটির অর্থ হচ্ছে, “ আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছি। “ ব্যস এখানেই বাজিমাত করে দিচ্ছে বিজেপি নেতারা। কিন্তু বাস্তবে “ কম্পিল টু সিক শেল্টার “ কথাটা যখন ব্যক্তিগত কারণে বা ব্যক্তিগত অ্যাপিল বোঝায় সে ক্ষেত্রে অর্থ দাঁড়ায় “ আশ্রয় নিতে বাধ্য হওয়া। “ কিন্তু এই কথাটা যখন ফরমাল ও লিগ্যাল বিষয়ে ব্যবহার হয় তখন সেটির অর্থ দাঁড়াচ্ছে,

“ আশ্রয় চাইতে বাধ্য হওয়া “

ফলে চাওয়া আর নেওয়া, এই দুটো শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে থাকছে বাঙালি সমাজের এক বিরাট অংশের মানুষের জীবন। দামাল বাংলার ব্যাখ্যা হচ্ছে, “ আশ্রয় চাওয়া “ অর্থাৎ “ যাঁরা আশ্রয় চেয়েছেন। “

আর একারণেই গত ২০২৩ এর ১৮ ডিসেম্বর মিনিস্ট্রি অফ হোম এর ওয়েবসাইটে একটি ১১ পাতার ঘোষণা দিয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তবে খুবই সন্তর্পনে। ঘোষণাটি হচ্ছে “ লং টার্ম ভিসা “ পাবার আবেদন। সেটির ৮ থেকে ১১ নম্বর পাতাটি হচ্ছে, সি এ এ ২০১৯ অনুসারেই। সেখানে তথাকথিত CAA১৯ টা বসানো আছে হুবহু।

বাস্তবে “ লং টার্ম ভিসা “ বা এলটিভি পাবার বিষয়টা অনেক আগে থেকেই আছে আমাদের দেশে। LTV পাবার সুযোগের ক্ষেত্রে আগে ছিল পাকিস্থান ও আফগানিস্তানের নাম। পরে সম্ভবত ২০২৩ সালে বাংলাদেশ কথাটাও যুক্ত করা হয়। মোট কথা উদ্বাস্তু হিন্দুদের মধ্যে তারাই সি এ এ তে আবেদনের যোগ্য হবেন যারা LTV নিয়মকানুন এর ৮ নম্বর থেকে ১১ নম্বর ভালো করে বুঝে আবেদন করবেন এবং সরকারের কাছে আশ্রয় চাইবেন তারাই। সরকারের ফরেন রেজিস্ট্রেশন অফিসার এই আবেদন মঞ্জুর করেন আবেদনটি পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে। তারপর তিনি একটি সার্টিফিকেট দেন। বাস্তবে সেই সার্টিফিকেটটি যুক্ত করতে হয় সিএএ আবেদনের সঙ্গে । আর এটাই আমরা দেখতে পাবো তথাকথিত সি এ এ এর একদম শেষের দিকে। সেখানে আবেদনকারীকে স্বীকারোক্তি দিতে হয় এই বলে যে, তিনি অমুক দিন পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও ফরেন অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন। বাস্তবে হয়তো বাংলার কোনো অবৈধ অভিবাসীই ছাড় পাননি। কারণ তারা হয়তো কেউই বিষয়টা জানেন না। ফলত নাগরিকত্ব পাবার লোভে তারা বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ও দলিত নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসদের বিশ্বাস করে সি এ এ পোর্টালে স্বীকারোক্তি করে ফেলছেন “ পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও ফরেনার্স অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন ভেবে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আবেদনকারীর জীবনের পক্ষে ভয়াবহ। এমন কি বাঙালি সমাজের পক্ষেও মারাত্মক!

মানিক ফকির / Manik Mondal

দামাল বাংলা

9836327536

10/10/2025

Read More

Author: মানিক ফকির

Religion Hindu 11-August-2025 by east is rising

২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে ভারতে বাংলাবাদি আন্দোলন সম্পর্কে আমার বিশ্লেষণ

বাংলাবাদি আন্দোলন শুরু হয়েছে "বাংলা পক্ষ"-এর হাত ধরে মোটামুটি আট বছরের বেশি হয়ে গেল। এরপর আস্তে আস্তে আরো অনেক সংগঠন হয়েছে। আন্দোলন এখনো পর্যন্ত রক্ষণাত্মক রয়ে গেছে। হিন্দিভাষীদের ব্যাপক সংখ্যা বৃদ্ধি পশ্চিমবাংলায় ঘটছে দেখে ভীত হয়ে শহুরে বাঙালি মূলত এর বিরুদ্ধে কিছু রক্ষণাত্মক রাজনীতি শুরু করেছে। রক্ষণাত্মক বলেই এদের মূল কথা হলো হিন্দিভাষী অভিবাসীদের চাকরিতে যথাসম্ভব কম জায়গা দেওয়া। অন্যদিকে যদিও বাঙালি ব্যবসা করতে বলছে বাংলাবাদীরা। কিন্তু নির্মম সত্যিটা হল বাঙালির কাছে আদি পুঁজি অর্থাৎ সিড ক্যাপিটাল নেই। আর সেই জন্য বাঙালি ব্যবসা করে গুজরাটি মারওয়ারী পুঁজির (যা প্রায় ৮০ বছর ধরে বিকাশ লাভ করেছে ভারত রাষ্ট্রের মধ্যে) সাথে পেরে উঠবে না। যদি আদি পুজি অর্থাৎ সিড ক্যাপিটাল সঞ্চয় করতে হয়, তাহলে আগে গুজরাটি মারওয়ারি পুঁজিকে পশ্চিম বাংলার ব্যবসা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে এবং সেটা করতে হবে গায়ের জোরে। এই গায়ের জোরে গুজরাটি মারওয়ারি পুঁজি উচ্ছেদের প্রসঙ্গটা যখন আসবে তখনই বাংলাবাদি আন্দোলন রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। 

কিন্তু এখনো পর্যন্ত বাংলাবাদী সংগঠনগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারছে না। এর একটা কারণ হল বাংলাবাদি আন্দোলন এখনো পর্যন্ত মূলত শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। "জাতীয় বাংলা সম্মেলন" চেষ্টা করেছিল এই আন্দোলনকে বাঙালি মধ্যবিত্তের বাইরে নিয়ে যেতে। বিশেষ করে হকারদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু প্রবল রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে পড়ে তারা কয়েক ধাপ এগিয়েও খুব বড় সাফল্য এখনো পর্যন্ত পায়নি। "জেন-জি, পঃ বঙ্গ" এই আন্দোলনে ঢুকেছে মূলত বাঙালি মুসলমানকে বাংলাবাদি আন্দোলনে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরতলীর বাঙালি মুসলমানকে বাংলাবাদি আন্দোলনের অংশ করে তোলায় এই সংগঠনের উদ্দেশ্য। বাঙালি মুসলমানদের এই আন্দোলনের অংশ করে তুলতে পারলেই একমাত্র এই আন্দোলন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারবে। অর্থাৎ গুজরাটি মারোয়ারি পুঁজিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উচ্ছেদ করার আন্দোলন শুরু করতে পারবে। 

২০২৫ সালে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ধরপাকরের নামে ভারতের সমস্ত রাজ্যে (বিজেপি শাসিত হোক বা না হোক) শুরু হয়েছে বাঙালি উচ্ছেদ। বাঙ্গালীদের বাধ্য করা হচ্ছে অন্য রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা না বলতে। অর্থাৎ বাংলা ভাষাকে মারা এবং বাঙালি জাতিকে ভাতে মারার এক সুনিপুণ পরিকল্পনা গুজরাটি মারোয়ারি পুঁজি ও হিন্দিভাষী নিয়ন্ত্রিত ভারত রাষ্ট্র তৈরি করেছে। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করে একদিকে যেমন বাঙালি মুসলমানকে হত্যা করা হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি বাঙালি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাঙালি হিন্দুদেরও অত্যাচার করা হচ্ছে। বাঙালি হিন্দুদের এই অংশটা মূলত নিম্ন বর্ণ এবং বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন জিততে বাঙালি মুসলমান ও পূর্ববঙ্গ থেকে আসা বাঙালি হিন্দু নিম্নবর্নদের মন জিততে উঠে পড়ে লেগেছে। তৃণমূল সবসময় বোঝাতে চাইবে নির্বাচনে বিজেপি-কে হারানোটাই একমাত্র কাজ। তৃণমূল কখনোই বলবে না গুজরাটি মারওয়ারি পুঁজিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উচ্ছেদ করাটাই আসল কাজ। বরং নির্বাচনে জিতে তৃণমূল সরকার এই গুজরাটি মারওয়ারী পুঁজিরই স্বার্থ রক্ষা করে যাবে। এই স্বার্থ রক্ষা করতেই তৃণমূল সিপিএম কংগ্রেস বাঙালিকে হিন্দিভাষী উচ্ছেদের আন্দোলনে নামতে দেবে না। তৃণমূল এই জায়গায় প্রচন্ডভাবে এলার্ট। যদিও তৃণমূলেরই কোন কোন নেতা (বার্নপুর বীরভূমে যেমন ঘটেছে) আঞ্চলিক বাঙালি জনতার চাপে হিন্দিভাষী উচ্ছেদের কিছু অ্যাকশন নিয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় বাঙালির মধ্যে হিন্দিভাষীদের ও বহিরাগতদের পাল্টা মার দেওয়ার ইচ্ছে আছে।

পাল্টা মারের ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়েই আস্তে আস্তে করে বাংলা বাদী আন্দোলনকে পশ্চিমবঙ্গের বুক থেকে গুজরাটি মারোয়ারি পুজির উচ্ছেদের আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। আর এর জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্বশাসনের পক্ষে কথা বলা শুরু করতে হবে।

আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বহির রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের যে পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ করতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাবাদী আন্দোলন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিযায়ী শ্রমিকরা অনেকেই গ্রাম থেকে যায়। আর এভাবেই যে গ্রামের বাঙালিরাও বাংলাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এই নতুন শক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাবাদী আন্দোলনে ঢুকিয়ে নিতে হবে। এদের বোঝাতে হবে যে পশ্চিমবাংলার শহর থেকে যদি গুজরাটি মারওয়ারি ব্যবসায়ী ও হিন্দিভাষী শ্রমিকদের উচ্ছেদ করা যায় তাহলে পশ্চিমবাংলাতেই কাদের জন্য অজস্র চাকরি তৈরি হয়ে যাবে। হিসেবটা এরকম: বাইশ লাখ বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্যে যায় আর দেড় কোটি অন্যান্য রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে কাজ করে। দেড় কোটির মধ্যে বাইশ লাখ উচ্ছেদ করতে পারলেই বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ পশ্চিমবাংলাতেই হয়ে যাবে।

কিন্তু আরো গভীর একটা কথা বুঝতে হবে। হিন্দি গুজরাটি সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে আছে পুঁজি কেন্দ্রীয় সরকার ও তার রাজ্য সরকারের ওপর আইন বানাবার সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং অবশ্যই হিন্দিভাষীদের বাংলাভাষীদের তুলনায় জন্মহার বেশি থাকা। অন্যদিকে বাঙালির পক্ষে পুঁজি নেই, রাজ্য সরকারি আইন সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর হতে পারে না এবং বাঙালির বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুর জন্মহার অত্যন্ত কম। বাঙালির একমাত্র আশার আলো বাঙালি মুসলমান সমাজের খানিকটা বেশি জন্মহার। এবং মনে রাখা দরকার এর কারণ ইসলাম। ইসলামের সামাজিক শিক্ষাই বাঙালি মুসলমানদের জন্মহারকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী রেখেছে। তাই মনে রাখা দরকার বাঙালিবাদী আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ হবে ইসলাম।

Saikat Bhattacharya 
30/7/25
12:30 pm

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu world order 02-August-2025 by east is rising

বাঙালি জাতির লড়াই বাঙালি মুসলমানকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয় Struggle for Bengali Nation Is Not Possible Without Bengali Muslims

বর্তমান বিশ্বের বাঙালি জনসংখ্যার 68% মুসলিম,

31% হিন্দু,

1% বৌদ্ধ -খ্রীষ্টান উপজাতি ও অন্যান্য।

এই শতকরা হার বুঝেই রাজনীতি করতে হবে।

বাঙালি তকমাটা জনসংখ্যার জোরেই বাঙালি মুসলমান বাঙালি হিন্দু হতে কেড়ে নিতে পেরেছে এই চরম সত্য বাঙালি হিন্দুকে স্বীকার করতেই হবে।

পশ্চিমবঙ্গেও বাঙালি হিন্দু জনগোষ্ঠী কমেছে, বাঙালি মুসলমান বেড়েছে, বেড়েছে বাঙালি বিদ্বেষী অবাঙালিরা।

তাই পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে 50% বাঙালি হিন্দু আর 30% বাঙালি মুসলমানদের একমঞ্চে আসতেই হবে নয়তো এই পশ্চিমবঙ্গে একদিন হিন্দি বনাম উর্দু খেলা হবে।

“68% of the Bengali population in the present world is Muslim,

31% Hindus,

1% Buddhist - Christian tribes and others.

——————-

We have to do politics with understanding.

Bengali Muslims have been able to stitch

Bengali Hindu by the power of Bengali population.

This is true Bengali Hindu must admit.

Bengali Hindu tribes decreased in

West Bengal, Bengali Muslims increased,

And anti-Bengalis increased.

So to maintain the existence of Bengali in West Bengal, 50% Bengali Hindus and 30% Bengali Muslims must come together on one day otherwise there will be :

Hindi vs Urdu game in West Bengal.

Read More

Author: Prosenjit Dey

Theoretical Hindu 29-July-2025 by east is rising

বাঙালি-কে কিভাবে ধাপে ধাপে শেষ করবে গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্য

একশ্রেনীর লোকের বক্তব্য, বাংলার বাইরে যে অসংখ্য প্রতিষ্ঠিত বাঙালি আছে নানা Professor থেকে Corporate এ উচ্চপদে তাদের তো কেউ কিছু বলছেনা।

এধরনের কথা যারা বলে, তাদের কিছু Basic ধারণার সমস্যা আছে। একটা community কে যখন তাড়ানো হয়, তখন শুরুতে তার সবথেকে দুর্বল, আর্থিক জোর নেই যার, সেই তাদেরকে target করা হবে এটাই স্বাভাবিক। এগুলো হচ্ছে - টোকা মেরে দেখা, কমিউনিটি Reaction কেমন আসে। যাদের Reaction দেওয়ার ক্ষমতা আছে, সেই প্রতিষ্ঠিত বাঙালিরা কতটা React করে - সেটা দেখার Process চলছে এখন।

Stage ১: গরীব পরিযায়ী শ্রমিক যাদের কোনো সম্বল নেই এবং, যাদের Majority হবে মুসলমান। Stage ১ চলার সময়, বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে প্রচার করা হবে, যে এটা চললে বাংলাদেশী মুসলমান দের তাড়ানো যাবে, তাই তারা চুপ থাকবে।

Stage ২: পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে যারা দরিদ্র, তাদের cancellation যার বড় সংখ্যা হবে হিন্দু। মতুয়া ভাইদের ক্ষেত্রে বড় scale এ হতে পারে এটা। stage ২ চলার সময়, বাংলার মুসলমানদের মধ্যে প্রচার করা হবে যে, এখানে বাঙালি হিন্দু Population Percentage কমে গিয়ে মুসলমান রা Majority পেতে পারে। তাই, তারা চুপ থাকবে।

Stage ৩: রাজ্যের মধ্যে বড় সংখ্যায় দরিদ্র শ্রেনীর UP বিহারী আনা।

Stage ৪: মধ্যবিত্ত ঘরের পূর্ববঙ্গ এর হিন্দু পরিবারের ভোটাধিকার Cancel করা। এবং, বাংলায় বাঙালি হিন্দু, অবাঙালি এবং মুসলমান দের ১:১:১ এর অনুপাতে নিয়ে আসা। তবে, এই মধ্যবিত্ত ঘরের বাঙাল হিন্দুদের Inmediately detention camp এ stage ৪ এই ঢোকানো হবেনা।

Stage ৫: ঘটি ও জমির মালিক যারা, তাদের কাছ থেকে জমির অধিকার কেড়ে নেওয়া বা, ব্যবসার দখল নেওয়া। ধরা যাক, কুন্ডু/ জানা পদবীর কারোর কোনো কাগজপত্র এর সমস্যা হচ্ছে। তাকে বলা হল, যতদিন তুমি কাগজপত্র যে তোমারই প্রমাণ না দেখাতে পারো, তোমার জমি / ব্যবসা প্রশাসন দ্বারা নির্বাচিত কোনো ব্যক্তি চালাবে। প্রশাসন দ্বারা নির্বাচিত ঐ ব্যক্তি টা হবে বিহারী / গুজরাতি। বামুন কায়েত এই পর্যায়ে আক্রান্ত হবেনা। বাঙালি মধ্যবর্ণ সদগোপ আগুড়ি কৈবর্তমহিষ কর্মকার তিলি - এরা হবে প্রধান আক্রান্ত। যেহেতু ইতোমধ্যেই বাঙালি হিন্দু ভোটাধিকারের দিক থেকে ১/৩ আয়তনে নেমে এসেছে, তাই এরা কোনো কমিউনিটি-ভিত্তিক পাল্টা দিতেও পারবেনা।

Stage ৬: stage ৪ ও ৫ এর repitition কিন্তু, এতদিন যা নিয়ম মেনে হচ্ছিল। সেটাই নিয়ম ছাড়া লাগামহীন ভাবে করা। এবং, বাংলার বাইরে White Collar Layer এ থাকা বাঙালিরাও এবার হয়রানির শিকার হওয়া শুরু হবে। এদের হাতে যদি বাংলার বাইরে কোনো Plot কেনা থাকে, বা এদের Bank accounts থাকে। সেই Asset গুলো Seal করা শুরু হবে।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ব্রাহ্মণ বা, কায়স্থ দের System খুব একটা আঘাত করবেনা। এর কারণ হচ্ছে, এরা এখনও বাঙালি জাতির মুখপত্র বা, Facet

ফলে, এদের গায়ে হাত পড়লে, that'll make a big noise যেটা system চাইবেনা। তবে হ্যাঁ, stage ৬ দীর্ঘদিন continue করলে, তারপর পড়তেই পারে।

Read More

Author: Animesh

Social Hindu 28-July-2025 by east is rising

বাঙালি বনাম হিন্দি গুজারাটি

হিন্দি বলয় ও গুজরাত থেকে মোট সাংসদ বর্তমানের ৪৫% থেকে বেড়ে ডিলিমিটেশনের পরে ৫২% হয়ে যাবে। সেই জন্য কেন্দ্রীয় সরকারে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের বাঙালিদের কোনও গুরুত্ব থাকবে না। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রণ করে হিন্দিভাষী ও গুজরাতিরা বাঙালিকে উচ্ছেদ করার জন্য একের পর এক আইন বানাবে আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছুতেই বাঙালি উচ্ছেদ আটকাতে পারবে না। তাই যদি বাঙালিকে বাঁচতে হয়, পশ্চিমবঙ্গকে এখনই স্বায়ত্তশাসন চাইতে হবে।

একটু বঙ্গভঙ্গের ইতিহাসটা আপনারা ঠিক করুন। প্রথম বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশ করেছিলো ১৮৭৪ সালে, সেই সালে বাংলায় সিলেট এবং গোয়ালপাড়াকে বাংলা থেকে কেটে আসামে দিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। যার খেশারত বাঙালি আসামে আজও দিচ্ছে। এই যে অবৈধ বাংলাদেশীর গল্প আসামে দীর্ঘদিন চলছে তার মূল কারন এই বঙ্গভঙ্গ। বাংলার ভদ্দরলোকেরা সেদিন এই বঙ্গভঙ্গ মেনে নিয়েছিলো নি:শ্বব্দে। এটা একটু ঠিক করুন দয়া করে।

রাজস্থান থেকে বিহার জানে যে তাদের কোন সমুদ্র বন্দর নেই। হিন্দির নামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অহিন্দি অঞ্চলের বন্দর গুলো দখল করতে হবে। সবচেয়ে বেশি বন্দর সম্পন্ন অহিন্দি গুজরাটিদের সঙ্গে লুটের বখরা ভাগ করে সেটা সবচেয়ে ভালোভাবে সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ প্রথম নিকটবর্তী এবং সহজতর (বাঙালি হিন্দু-বাঙালি মুসলমান ৬০%-৪০%) টার্গেট।

গুজরাতি মারওয়ারি পুজি আর হিন্দিভাষী ভোট ব্যাংকের আধিপত্য মূল সমস্যা, ব্রাহ্মণ্যবাদ কোন সমস্যা নয় এখন।

নাগরিক আইন ১৯৫৫ বাংলা তরজমা'টা পড়ুন _ ইংরেজিটা নয় _ ইংরাজি আলাদা, বাংলা আলাদা ||

বাংলায় নাগরিক আইন, ১৯৫৫ ঠিক বলা আছে যে, ১৯৫০ থেকে ১৯৮৭ এর মধ্যে জন্মালেই নাগরিক হবে না, কারণ তার মা কিংবা বাবা ভারতের নাগরিক হলেই কেবল সে নাগরিক_ কিন্তু ইংরাজি citizenship act 1955 - এ মা বা বাবার নাগরিক হওয়া বাধ্যতা মূলক এই কথা লেখা নেই। কিন্তু মনে রাখা দরকার যে বাংলায় নাগরিক আইন ১৯৫৫ এর সাথে সংবিধানের লেখা মিলছে! ইংরেজি citizenship act 1955 এর সাথে মিলছে না! এবার বুঝতে হবে যে ইংরাজি citizenship act 1955 যেহেতু ভারতীয় সংবিধানের সঙ্গে, কন্ট্রাডিক্ট করছে সেই জন্য এই act ভুল। অথবা আসল যে citizenship Act 1955 আছে সেটা এখন ওয়েবসাইটে নেই! আসল citizenship act 1955 এর বাংলা তরজমা ওয়েব সাইটে আছে। যার সাথে সংবিধান মিলে যায়! এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মানিক ফকির @ মন্ডল ( দামাল বাংলা ) আবিষ্কার করেছেন! যদি এটা বাঙালি না বুঝতে পারে তাহলে আগামী দিনে বাঙালির বিশেষ করে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা বাঙালি হিন্দুদের সমূহ সর্বনাশ হতে চলেছে!

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu 25-July-2025 by east is rising

আম্বেদকারই হিন্দুত্ববাদের রক্ষকঃ কারণ ওনার জন্যেই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করলে রিসারভেশন-এর সুবিধে পায়না নীম্ন বর্ণের মানুষ

যদি শিয়া-সুন্নী, ক্যাথলিক-প্রোটেস্টন্ট ডিবেট ধর্মান্ধ এজেন্ডা হয়, তাহলে ব্রাহ্মণবাদ-বহুজানবাদ বিতর্ক কিভাবে লিবারেল এজেন্ডা হয়..? কেনো আম্বেদকর এর বহুজন ও দলিত রাজনীতি এতো লিবারেল এজেন্ডা ভাবে ভারতের তথাকথিত লিবারেল, সেকুলার ও নাস্তিকরা ? তথাকথিত ইন্ডিয়ান লিবারেল, সেকুলার ও নাস্তিকদের এসব চু-তি-য়া-প-না কবে শেষ হবে কে জানে..এদের এসব চু-তি-য়া-প-নার জন্য আজও ৭৪ বছর ধরে casteism এর ভিত্তিতে একটা সমাজ এর লোক শুধুমাত্র caste-based reservation এর একতরফা সুযোগ উপভোগ করছে, অথচ সব ধর্মের লোকের মধ্যে ভারতে জাতপাত বিরাজমান। জরুরী নয় যে তাঁদের ধর্মগ্রন্থ কি বলছে, কিন্তু বাস্তবে সব ধর্মের লোকের মধ্যে ভারতে জাতপাত আছে..আপনি ওয়াকাফ সংস্কার বা তিন তালাকের বেলায় মুখে বলছেন মুসলিম সমাজ এর সংস্কার নেওয়া উচিত.. অবশ্যই নেওয়া উচিত আমি স্বীকার করি। কিন্তু আপনিও নিজেদের ধর্মের একটু সংস্কার করে casteism ছুড়ে ফেলুন.. 5000 বছরের ভিক্টিম কার্ড প্লে করে আর কতো reservation নিবেন..এমনিতে তো ব্রাহ্মণদের ফুট সোলজার হিসাবে কাজ করেন আপনারা আবার casteism এর ভিক্টিম কার্ড প্লে করে reservation-ও নেন আপনারা, এটাই আপনাদের বাস্তবতা... যে ধর্মেই আপনি জন্মেছেন সে ধর্ম আপনার ভালো না লাগলে অন্য ধর্মে গ্রহণ করা, কিংবা ধর্মহীন বা নাস্তিক হওয়ার যখন সুযোগ রয়েছে আপনার কাছে তখন casteism এর ভিক্টিম কার্ড প্লে করে reservation এর আবার প্রয়োজন কেনো..?

Read More

Author: Md. Yousuf Saikh

Social Hindu 25-July-2025 by east is rising

পশ্চীম বঙ্গের স্বায়াত্বশাসন চাই

ভারতের মতো বৃহত্তর বহু অঙ্গরাজ্যভিত্তিক রাষ্ট্রে পররাষ্ট্র বিষয়ক বিষয় ছাড়া সকল বিষয়ে রাজ্যগুলোর স্বায়ত্তশাসন থাকা উচিত তবেই বহুজাতিক বহু রাজ্যর মধ্যে আর পরাধীনতার আর শোষণের বিষয় ফুটে উঠবে না।
অঙ্গ রাজ্যগুলো হতে আদায়কৃত ট্যাক্স সমপরিমাণেই একটা অংশ রেখে সেটা রাজ্যকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
এবার বলি কেন একটা অংশ কেন্দ্র রাখবে?।
কেন্দ্র ঐ অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে রাজ্যেরই জনতার মাধ্যমে সেই রাজ্যের স্থল,জল ও আকাশসীমা রক্ষার সুব্যবস্থা এবং ঐ অঙ্গরাজ্যের রাজ্যিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
আমরা অতীতেও দেখেছি পৃথিবীর বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য পরবর্তীতে এই অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় শাসনের এবং শোষণের চাপে নিজেদের স্বাধীন করে ফেলেছে। এমনকি আজ থেকে পঞ্চপঞ্চাশ বছর আগে এই ঘটনার ফলেই  পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান হতে আলাদা হয়ে গেছে।
অথচো এই পাকিস্তান ইসলামী ভাতৃত্বের আবহেই গড়ে উঠেছিল।
এবার ভারতে এই সমস্যা কখনোই জটিল কখনো হয়নি তার কারণ এখানে বেশিরভাগই বহুজাতিক জাতিগুলোর জনবল খুবই কম।
সবথেকে বড় কথা হলো সুদীর্ঘ এই আটাত্তর বছরেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেশিরভাগ সময়ই নির্বাচিত হয়েছে পূর্বোক্ত সম্রাট আকবরের "হিন্দুস্তান" অঞ্চলের বর্তমান হিন্দি ভূমি হতেই, ভারতের বিভিন্ন জাতি এই নিয়ে কখনোই বিরোধ করেনি তার অন্যতম একটা কারণ ভারতীয় দক্ষিণাংশ ছাড়া তাদের অর্থনৈতিক শক্তি ও ছিল না এবং তাদের জনতাও এই নিয়ে আপত্তি কখনোই তোলে নি।
সবথেকে বড় কথা এই ভারতের শাসনক্ষমতা সবসময় যে পুঁজিপতি সমাজ নিয়ন্ত্রণ করেছে তারা হলো মাড়োয়ারি এবং গুজরাটি।
যেহেতু হিন্দি ভোটব্যাঙ্ক বেশি (45%-2014 সাল অবধি) তাই এই গুজরাটি মাড়োয়ারি সাম্রাজ্যবাদীদের অতি আপন কোন হিন্দিভাষী লিডারকেই তারা একমাত্র চয়েস হিসেবে ঠিক করে এবং নির্বাচিত করে।
উল্লেখ্য এখানে হিন্দি ভোটব্যাঙ্কের মন পেতে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আড়াল করে গুজরাটি মাড়োয়ারি লবি হিন্দিকে ভারতের জাতীয় ভাষা করা হুড়কো সুরসুরি ও দেয়।
এতেই আজো বেশিরভাগই অনুন্নত ও অশিক্ষিত হয়ে থাকা হিন্দি ভোটব্যাঙ্ক খুশি হয়ে যায় এবং গুজরাটি মাড়োয়ারি পুঁজিপতিদের নিজেদের অর্থনৈতিক মসিহ হিসেবে মেনে নেয়।
তারা এটা ভাবে ক্ষমতা তাদের হাতে,আসলে প্রধানমন্ত্রী যে হিন্দিভাষী কিন্তু আদতে এখানে হিন্দিভাষী প্রধানমন্ত্রী কিন্তু শুধুমাত্র একটা পুতুল, দাবার গুটি ঠিক করে ঐ গুজরাটি মাড়োয়ারি পুঁজিপতিদের লবিই।
গুজরাটি মাড়োয়ারি লবিই মূল আজকের ভারতের আসল রাজা।
এবার প্রশ্ন হলো এ নিয়ে আপত্তি করছি কেন?।
এই গুজরাটি মাড়োয়ারি লবি বেশিরভাগই সময় ভারতের বিভিন্ন দখলদার শাসকদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে নিজেদের শাসনক্ষমতা চালিয়েছে এবং অন্যান্য জাতির পুঁজি এবং পুঁজির উৎসগুলো ধ্বংস করেছে।
বৃটিশদের সাথে ও এদের বন্ধুত্ব ছিল বলেই গুজরাট এবং মাড়োয়ারদের ভূমি হতে তেমন কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী আমরা দেখি নি।
হিন্দিভাষী অঞ্চলেও কিছু বিষয় ছাড়া খুব একটা বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন কিন্তু কখনোই হয় নি।
সবথেকে বেশি আন্দোলন হয়েছিল বৃটিশ শাসনের অবিভক্ত বাংলা ও অবিভক্ত পাঞ্জাব ভূমিতেই।
বিষ্ময়কর হলেও সত্যি এই দুই অঞ্চলই 1900 সালের শুরুর দিকেই মুসলিম মেজরিটি হয়ে যায়।
অনেকেরই অভিযোগ যে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে মুসলমানরা কম লড়েছে কেন?।
কথাটা অর্ধসত্য তার কারণ প্রথম বৃটিশ বিরোধী গন আন্দোলনে 1857 সালে যখন সিপাহী বিদ্রোহ হচ্ছে তখন দিল্লির দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ্ জাফরকে মুখ করে মুসলিমরা ভারতকে বৃটিশদের করাল গ্রাস হতে উদ্ধারের জন্য ঝাঁপিয়ে পরলো তখন আবার বৃটিশ চলে গেলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এই ভয়েই বিভিন্ন হিন্দু রাজা ও প্রজারা এই আন্দোলন হতে পিছিয়ে আসে এবং উল্টো বৃটিশদের সহযোগিতা করেছে।
এবার এরপর যখন হিন্দু ও শিখেরা বৃটিশদের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করলো তখন তারা তাদের স্ব ধর্মীয় বিষয় নিয়ে এবং স্বধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিমিত্তেই যে লড়াই করতে নেমেছে এটা মুসলমানদের বুঝতে আর ভুল হয়নি।
তাই তারা আর বৃটিশদের বিরুদ্ধে সেভাবে লড়ে নি,আর যেহেতু বঙ্গ ও পাঞ্জাবে 1872 সালের জনগনাতেই মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় হিন্দু ও শিখ জনগোষ্ঠীর সমান সমান হয়ে যায় বৃটিশ সরকার এটা বুঝতে পারে যে মুসলিমদের যদি পরোক্ষভাবে স্বপক্ষীয় বানানো যায় তবে যে হিন্দু মুসলমান আলাদা মানসিক প্রেক্ষাপট আছে তাকে ব্যবহার করে তারা আরো রাজত্ব করতে পারবে।
তার উপর অর্ধেক এর বেশি জনগোষ্ঠী যদি নিস্প্রভ থাকে তাহলে সেই আন্দোলন কিন্তু সহজ হয় না।
এদিকে মুসলমানদের কাছে টানতেই বৃটিশ সরকার কিন্তু মুসলমানদের রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষেই বঙ্গভঙ্গ করে এবং পাঞ্জাবে ও ধীরে ধীরে মুসলিম নবাব পরিবারগুলোর সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে।
বৃটিশদের মুসলিম লিডারদের সাথে একাত্মতা পোষণ মূলত মুসলিম সমাজকে বৃটিশ বিরোধী হতে দেয়নি তদুপরি যারা 1857 সালে মুসলিম শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভয়ে বৃটিশদের সাথে আর যুদ্ধ করেনি তাই মুসলিম সমাজ ও এদের পক্ষে আর জান দিয়ে সেভাবে লড়েনি।
এদিকে যারা কোনদিনই বৃটিশদের বিরুদ্ধে সেভাবে লড়েনি  উল্টো বৃটিশদের পক্ষে সবসময় দালালি করতে তাদেরই হাতে এই ভারতের শাসনক্ষমতা ছেড়ে যায়।
ভারতের তথাকথিত স্বাধীনতার সাথে এটা বোধহয় সবথেকে বড় প্রহসন।
এবার এককালে এরা পুঁজি যোগার করতে নিজেদের বাড়িঘরের নারীদের বৈধ ও অবৈধভাবে ও তৎকালীন শাসকদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভেট চরিয়েছে এবং তাদের হাতে দেশ যে কোন আবেগ নয় তার উত্তম প্রমাণ হলো স্বাধীনতা উত্তর এদের জাতভাই রাই এদেশের সম্পদ ঋণের মারফতে নিয়ে বিদেশে পাচার করে ঋণখেলাপি হয়ে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে এবং এখনো করছে।
তাই এদের হাতে দেশ থাকা আদৌও মঙ্গলকর নয়।
অন্যদিকে বৃটিশদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার জন্য সবথেকে বেশি লড়েছে বলেই ভারতের শাসনক্ষমতায় বাঙালি ও শিখদের জন্য আবশ্যিক জায়গা থাকা দরকার বলে আমি মনে করি।
এছাড়াও ভারতীয় জনসংখ্যার মাত্র 18% হয়েও সমগ্র ভারতের জাতীয় করের 33% যারা দেয় সেই ভারতীয় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদেরও একইভাবে কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতার ভাগ থাকা দরকার বলে আমি মনে করি।
তার উপর এই হিন্দি ভূমির বেশিরভাগই অংশ হতে দেশোন্নয়নে যতো কর ওরা দেয় তার বহুগুণ তারা আজ স্বাধীনতার আটাত্তর বছর পরেও তারা নিচ্ছে।
এটা তাদের একটা অহিন্দি জাতিদের উপর নিরব শোষণ নয় তো আর কি?।
তারা উৎপাদন ও করবে না অথচো দূর্বলতার আর ভাতৃত্বের ভন্ডামি করে ওদিকে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পরোক্ষভাবে নেবে আবার অর্থ ও নেবে দুটো কি একসাথে আদৌও কোন সুস্থ মানুষ মেনে নিতে পারে?।
আচ্ছা সে আমার ভারতীয় ভাই বলে তো না হয় 78 বছর মেনেছি কিন্তু এখনো মানবো?।
তাহলে তারা আর উন্নয়ণ করবে কবে?।
যে হবার সে এই 78 বছরেই হয়ে যেত,এ তো হওয়ার নয় হারামে বেশি পেলে কে না কম নিতে চাই?।
তাই এখন সমগ্র ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে অন্তত এই অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার রক্ষায় স্বায়ত্তশাসন চাইতে হবেই।

Read More

Author: Prosenjit Dey

International geopolitics Hindu 25-July-2025 by east is rising

গুজারাতি মাড়োয়াড়ি লুট চলছেই

এই কর্পোরেটদের 99.99%ই হলো বড়  গুজরাটি ও মারোয়ারি ব্যবসায়ী।
মাঝারি আকারের গুজরাটি মারোয়ারী ও কিন্তু এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
অবশ্য গর্বিত ভারতীয়রা এই থিওরি দেখে চোখে পট্টি পরে নেবে।
কিন্তু যেদিন দেশ দেউলিয়া হবে সেদিন এরা বুঝবে, সেইদিন আর বেশি দেরি নয়।
অনলাইন মানি সিষ্টেম কে হাতিয়ার করে সকল লিকুয়িড মানি মোটামুটি বাজার হতে 75% তুলে নেওয়া হয়েছে তারপর সেগুলো অনলাইনে দেখালেও আদৌও  কোষাগারে আছে কিনা কেবা দেখতে যাচ্ছে?।
তারপর সেগুলো গুজরাটি বড় বড় লেভেলের ব্যবসায়ীদের ধার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে অবশ্য ধারের কিছু অংশ পদ্মের দলকে দেওয়া হয় কারণ জাতভাই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিনা,বেপার করার জন্য এই গুজরাটিদের সাথে দহরম মহরম আবার মারোয়ারীদের কারণ দুজাতই ব্যাপার করার জন্য ঘরের ...কে বাজারেও বন্ধক রাখে।
তারপর লোনগুলো নিয়ে ফেঁপে ওঠে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময়ও জাতভাইদের কিছু অংশ দেয় তারপর ফুরুত...!
নিরব মোদী,বিজয় মালিয়া.…. অসংখ্য নাম কার কার বলবো ?।
হিন্দুত্ববাদের নামে বাকি সব জাতের হিন্দু এগুলো চোখে দেখেও দেখবে না কারণ আফিম-ধর্মের আফিমের নেশা অদৃশ্য তার ঘোর কাটানো বড় মুশকিল।
সুদীর্ঘকাল ভারতের সেনাবাহিনীতে কোন গুজরাটি রেজিমেন্ট কিন্তু নেই,মারোয়ারিও নেই(রাজপুত আলাদা জাত,ওরা ক্ষত্রিয় বেনিয়া নয়)!!!!!
অবশ্য যারা দেশলুট করে এমনকি আত্মস্বার্থে রাজাকে হঠাতে অতীতে বৃটিশদের ডেকে এনেছিল তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা দেশপ্রেম নামক শব্দের অপমান ছাড়া আর কিছুই নয়।

Read More

Author: Prosenjit Dey

Social Hindu 24-July-2025 by east is rising

দলিত আন্দোলন ও একটি ঐতিহাসিক ভুল

দলিত আন্দোলনের শুরুর দিন থেকেই প্রধান আক্রমণের লক্ষ্য ব্রাহ্মণরা। কিন্তু, ব্রাহ্মণদের শত্রু বানিয়ে দ লিতদের কি কোনো লাভ হয়েছে?

উত্তর না। কারণ, ব্রাহ্মণ যারা অতীব গরীব, এবং আগে আরও মারাত্বক গরীব ছিল, তাদের শত্রু ধরলে সেই শত্রুকে মেরে তার থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার কিছু নেই।

ভিখারি পিটিয়ে যেমন পৌরুষ এর প্রদর্শন হয়না, সেরকমই ভিখারি বামুন ধরে পেটালে কোনো লাভ নেই, কারণ তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার কিছুই নেই। এবং, ঠিক এই কারণেই দ লিত আন্দোলন বাস্তবে দ লিতদের সামান্যতম কোনো উন্নতি করাতে পারেনি, কারণ এই আন্দোলনের লক্ষ্য (শত্রুবোধ) ই ছিল ভুল।

কিন্তু, এই দ লিত আন্দোলনই ব্রিটিশ ভারতের পুরো খেলা ঘুরিয়ে দিত যদি দ লিত আন্দোলনের মুখ্য শত্রু হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যেত রাজপুতদের। যে পরিমাণে ঘৃণা ব্রাহ্মণদের বিরূদ্ধে দ লিত নেতৃত্ব প্রচার করেছে, সেই ঘৃণা যদি ব্রিটিশ ভারতে রাজপুত এবং, তাদের Princely States দের বিরুদ্ধে প্রচার করতো এরা - it would have changed the course of India

Trace back করুন, ১৯৩০ এর দশক - স্বাধীনতা এর পরে ভারতে Princely States দের অবস্থা কি হবে, সেই নিয়ে চিন্তার ভাঁজ চারিদিকে। যদি আম্বেদকর ও দ লিত নেতৃত্ব এই Princely States গুলোর বিরুদ্ধে যেতেন, এবং এই Princely States গুলোর Property *Appropriate* (বলপূর্বক দখল) করার জন্য Move করতেন, তাহলে আজ দ লিত movement এর ইতিহাস অন্য হত। ধরা যাক, একটা আইন পাশ করা হলো যে, ভারতের X Y Z অঞ্চলের Princely States গুলোর দখল সরকার নেবে, এবং যারা already রাজা তাদের একটা কড়িপয়সাও দেওয়া হবেনা। এই আইন মেনে তারা দেশে থাকতে চাইলে, থাকুক নাহলে বেরিয়ে যাক দেশ থেকে।

এদেরকে Narrative এর লড়াইয়ে হারিয়ে দেওয়াও খুব সহজ। মুঘলকালে বিদেশী শত্রুর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক যারা করে, যারা দ লিতদের ওপর অত্যাচার করে, তাদের স্বাধীন ভারতে থাকার অধিকার নেই কোনো।

হ্যাঁ, কেউ কেউ ভাববে, এগুলো করলে প্রাথমিকভাবে রাজপুত সেনা বিদ্রোহ করতো। কিন্তু, সেই তাদেরকেই খুব সহজে হারিয়ে দেওয়াও যেত, যদি দ লিতদের হাতে Arms provide করা যেত, এবং সেটা করবে উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ লবি এবং, পূর্ব ভারতের বাঙালি উচ্চবর্ণ। বলে রাখা ভালো, ১৮৫৭ এর বিদ্রোহের সময়, উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ সৈনিকদের লবি (যেমন মঙ্গল পান্ডে, ঝাঁসির রানী) প্রবল ব্রিটিশ বিরোধীতা করলেও রাজপুত সৈনিকরা পুরোটাই ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল, এবং রাজপুত সৈনিকরা ইংরেজদের হয়ে বহু জায়গায় ব্রাহ্মণদের হত্যা করে। এই সময় থেকেই ব্রাহ্মণ আর রাজপুতদের সম্পর্ক ভীষণ তিক্ত উত্তর ভারতে। আবার, বাংলাতেও ঐতিহাসিক কারণেই, বাঙালি উচ্চবর্ণের সাথে রাজপুতদের মুঘল যুগ থেকেই শত্রুতা চলে আসছে।

যেকোনো জাতির উত্থানের জন্য দরকার Primitive Capital Accumulation, অর্থাৎ কাঁচা টাকা যা সম্ভব শুধুমাত্র কারোর কাছ থেকে বলপূর্বক দখল নিয়ে।

দলিত Uprising এর জন্য যে Primitive Capital এর দরকার ছিল, সেটা তারা অধিগ্রহণ করতে পারতো রাজপুতদের নারী-ভেড়ি-জমির দখল নিয়ে। অথচ, সেটা না করে এরা শত্রু হিসেবে গণ্য করেছিল কিছু ঠাকুরমশাই পাবলিকদের যাদের ৫ কিলোমিটার দূর থেকে দেখলেও চেনা যায় পাক্কা ভিখারি।

ব্রাহ্মণ - এদের হাতে বংশপরম্পরায় অর্থ নেই, তবে এরা ব্রিটিশ আমলে দ্রুত শিক্ষিত হয়েছে এবং, এদের বাঙালি সেকশন এর সাথে সম্পর্ক ভালো ইংরেজদের।

কায়স্থ - এদের অর্থ থাকলেও, উচ্চশিক্ষিত, Government এর সাথে সম্পর্ক ভালো এবং, ICS এ ভালো লবি থাকার দরুন, এদের appropriate করা যাবেনা। আমরা দেখেছি, তিতুমীর সেই চেষ্টা করায়, সেই দত্তচৌধুরী, নাগচৌধুরী জমিদারগণ direct ব্রিটিশ সেনাকে নামিয়ে আনে তিতুমীর এর বিরুদ্ধে।

মধ্যবর্ণ - জাঠ যাদব এদের সংখ্যা অনেক। শিক্ষা না থাকলেও, এদের কৃষিজমি ছিল অনেক। এদের appropriate করা জটিল অপেক্ষাকৃত।

রাজপুত - এরা একেবারেই শিক্ষিত নয়। এমনকি রাজপুত আর দলিতদের শিক্ষার হার সমতুল্য, তাই এরা ব্রিটিশ যুগের নতুন ব্যবস্থায় দ্রুত দুর্বল হচ্ছিল। এমনকি Very Interestingly, রাজপুতদের ৯৫% property এদের একটা খুব ছোট্ট অংশের হাতে সীমাবদ্ধ। কিন্তু, এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আবার ভাড়াটে দরিদ্র সৈনিক। আবার, এদের ইতিহাস বলে, দ লিতদেরই একটা অংশ একটু পয়সা করে অতীতে রাজপুত হয়েছিল।

অর্থাৎ, Primitive Capital Accumulation Target হিসেবে রাজপুতরা একদম Perfect, যেটা দ লিত Leadership বোঝেনি। সমাজতত্ত্বের ও কমিউনিজম এর Nuance গুলো এরা বুঝলে,

১. স্বাধীনতার পূর্বে রাজপুত হওয়া উচিত ছিল এদের প্রধান শত্রু

২. স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক ভারতে গুজরাতি-মাড়োয়ারি-বানিয়া লবি ও মধ্যবর্ণ হওয়া উচিত ছিল এদের প্রধান শত্রু।

দ লিত আন্দোলন যদি ব্রাহ্মণদের টার্গেট করার বদলে এদের যারা Actually পয়সাওয়ালা ও পুঁজির দখল নিয়ে বসেছিল, সেই তাদের টার্গেট করত, আজ The Course of History would have been different

নেতৃত্বকে বুঝতে হত, দেওয়ালে আঘাত মেরে হাতটাই ভাঙ্গে। মারতে সেখানে হয়, যেখানে যুদ্ধ জয় সম্ভব।

দ্রষ্টব্য: পোষ্টকর্তা কোনো জাতি সংঘর্ষে বিশ্বাসী নন। তবে, উক্ত আন্দোলনের ফলাফলহীনতার কারণ ব্যাখ্যা করছেন মাত্র।

সৈকত ভট্টাচার্যের সংযোজনঃ 

আসলে ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী শব্দটা এই জন্যই ভারতে জনপ্রিয় কারণ এই শব্দ প্রয়োগ করলে ভারত রাষ্ট্র কাউকে আঘাত করবে না। Useless বলেই ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী শব্দ টা ভারতীয় রাজনীতিতে এতটা জনপ্রিয়।

অগাস্ট ২০২৪ এ সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়েছে রাজনৈতিক নেতারা যেন দলিত ওবিসিদের যে অংশটা একবার সংরক্ষণের সুবিধা পেয়েছে তাদের পরের জেনারেশন যেন এই সুবিধা আর না পায় সেটা দেখতে। অথচ এই রায়ের সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত রাজনৈতিক নেতারা ঘোষণা করল এক জেনারেশন সংরক্ষণের সুবিধা পেলেও সেই পরিবারের পরের জেনারেশনকে সংরক্ষণ থেকে তারা বঞ্চিত করবে না। সুতরাং বুঝতেই পারা যাচ্ছে যে, দলিত ওবিসিদের মধ্যে যে অর্থবান অংশটা আছে এরাই মূলত সামন্ত রাজপুত ও পুজি প্রতি গুজরাটি মারোয়ারি দের সঙ্গে allied।

Read More

Author: Animesh

Theoretical Hindu 23-July-2025 by east is rising

নাগরিকত্ব ! মানিক -সুকৃতি চুলোচুলি। কে ঠিক , সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস নাকি মানিক ফকির!

এক সময়ের বাংলাদেশি সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস কি প্রথম থেকেই উদ্বাস্তু বিরোধী! রাষ্ট্রের দালাল হিসাবে কাজ করে চলেছেন সফল ভাবে? নাকি তিনিই ঠিক, মানিক ফকির বাস্তবেই চটিচাটা তৃণমূলের দালাল ! এ প্রশ্ন অনেকের।

তাই কলম ধরলাম।

সম্প্রতি তিন তিনটি আলোচনা সভায় মুখোমুখি বক্তা হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। অর্থাৎ আমি মানিক ফকির আর উদ্বাস্তু দলিত নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস।

শেষ মিটিংটা হল বারাসাতে ঐকতান নামে একটি প্রসিদ্ধ সংগঠনের ডাকে, মূলত ওয়াকফ ও নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আলোচনা। বক্তব্যের মাঝেই

সুকৃতি বাবু আমাকে বললেন, এখন যা অবস্থা দেখা যাচ্ছে ২০০৩ সালকেই মনে হচ্ছে, নাগরিকত্বের “ কাট অফ ডেট “ ধরবে সরকার। মানিকদা আপনাকে একটু ভাবতে বলছি। “

আমি বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই বললাম, নাগরিকত্ব আইন বিষয়ে আমি বড্ড নতুন। সুকৃতিদা আন্দোলন করছেন সে - ই ২০০৩ থেকে। তাছাড়া আমি স্বাধীনতাকে খুব আয়েশ করে ভোগ করা পরিবারের মানুষ।

তাই ছিন্নমূল দেশান্তরিত উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা আমি ঠিক কতটা উপলব্ধি করতে পেরেছি তা প্রশ্নের বাইরে নয়। তবে সুকৃতিদা আজীবন তাদের রক্ষার কাজই করে চলেছেন। তিনি আমার গুরুদেবসম। তবে নাগরিকত্বের আইনটা এমন একটা বিষয় যা আজও সব মানুষ সঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারলো না। তাই আন্দোলন ও হলো না। হয়তো এটাই লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরে।

আইনি ব্যাখ্যায় সুকৃতি বাবু আর আমি দুজন দুই মেরুর। অথচ আইনটা একই। সুকৃতি বাবু যা যা বলেন, বিজেপি নেতা অসীম সরকার একই কথা বলেন। তবে একজন প্রচলিত অর্থে পন্ডিত অন্যজন মূর্খ। কবিয়াল অসীম সরকার বলেন, বিজেপি বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালের আগে আসা উদ্বাস্তুদের বৈধ করে দিয়েছে। সুকৃতি বাবু বলেন, এতদিন উদ্বাস্তুরা ছিলেন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আর আজ অনুপ্রবেশকারী তকমা মোচন হয়েছে। হয়েছে সিএএ ২০১৯ দ্বারা। ওরা বৈধ।

কবিয়াল অসীম বলেন, চটিচাটা মানিক ফকির কোটি কোটি টাকা পাচ্ছে, তাই সিএএ বিরোধিতা করছে।

সুকৃতি বাবু বলছেন, আজকের সিএএ আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল। যারা বিরোধিতা করছে, তারা উদ্বাস্তুদের ক্ষতি করে ফেলছে। বিজেপি বিধায়ক অসীম বলেন, - সিএএ উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেবার আইন। আর সুকৃতি বাবু বলেন,- সিএএ তে কিছু উদ্বাস্তু নাগরিকত্ব পাবে। সবাই পাবেন না।

আর আমি মানিক ফকির বা দামাল বাংলার নেতারা যেমন রাজু ঘোষ, দীপক ব্যাপারী, শিখা মন্ডলরা বলেন,

সিএএ হচ্ছে বৈধ শরণার্থী আর অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার আইন। দামাল বাংলা সংগঠন বলে, সিএএ তে তারাই আবেদনের যোগ্য যারা পাসপোর্ট ও ফরেন অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন। মাত্র কয়েক হাজার মানুষ বাদে কোটি কোটি উদ্বাস্তু ছাড় পাবার আবেদন করেন নি। তাই তারা কেও ছাড় পাননি,তাই তারা শরণার্থী নন। আইনের চোখে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। ভারত সরকার তাদেরই দেশ থেকে তাড়াতে পুশব্যাক করছে। এটাই দামাল এর বক্তব্য। তাই তাদের স্লোগান হচ্ছে, আজ পর্যন্ত যারা ভারতে বসবাস করছে তাদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব চাই।

যাইহোক, বারাসতের সভায় বক্তব্য রাখার সময় দর্শকদের উদ্দেশে আমি বললাম, আমার আর সুক্রিতিদার বক্তব্যে বহু ফারাক থাকার কারণে সমাজের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই, আপনারা দয়া করে আমাদের দুজনকে বসে আলোচনা সুযোগ করে দিন। সঠিকটা উঠে আসুক । তারপর সেই সঠিক ব্যাখ্যা নিয়ে আন্দোলন হোক। তা না হলে ভয়াবহ দিন এগিয়ে আসছে। অবশ্য আমার কথার কোন উত্তর সেদিন দেননি মাননীয় সুক্রিতি রঞ্জন বিশ্বাস।

যেহেতু নাগরিকত্ব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন তিনি, তাই স্বাভাবিকভাবে তার কথা বেশিরভাগ মানুষ মানেন। -সংগঠক রাও।

তার কাছে আমি নিতান্তই বালখিল্য।

যাই হোক, সব জায়গায় সুক্রিতিদার নিজস্ব কিছু লোক আছে। তারা বিভিন্ন মিটিং এ গিয়ে বসেন, তারপর সুক্রিতিদা নিজের বক্তব্যটা তুলে ধরে চলে যান এবং আলোচনাগুলো ওখানেই শেষ হয়ে যায় আর এগোয় না। লোকেরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন।

গতকাল ঠাকুরনগরে সাংসদ মমতা বালা ঠাকুরের ডাকা মিটিংয়ে এমনই একটি ঘটনা ঘটলো। দিনের শেষে সেই কনভেনশনের রেজাল্ট হল শূন্য। এমনই অভিযোগ পেলাম কয়েকজনের কাছ থেকে। যদিও দামাল বাংলার অন্যতম নেতা রাজু ঘোষ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সুকৌশলে তাকে বলতে দেওয়া হয়নি। এক কথায় সুক্রিতিপন্থীরা হাইজ্যাক করেছিল আলোচনাটাকে। শেষ পর্যন্ত এই কনভেনশনের রেজাল্ট কিছু হলো না। আমি মাননীয়া মমতাবালা ঠাকুরকে বুঝেছিলাম, নাগরিকত্ব নিয়ে আর বোঝাবুঝির দরকার নেই।

যারা সত্যিটা বুঝেছে তাদের নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেন। মমতা দেবীর সেক্রেটারি বললেন, সুকৃতি বাবুকে কে ডেকেছে জানি না। -তবে মিটিং ফ্লপ।

মঞ্চে মাইক হাতে ছিলেন ডাক্তার সুকেস চৌধুরী। কয়েক বছর আগে তিনি বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের চেয়ারম্যান ছিলেন । এখন সে সুকৃতিদার ডান হাত। নাগরিকত্ব বিষয়ে বহু আলোচনা হয়েছে ওর সঙ্গে আমার। তবু ও বলে আমি নাকি দোষী।

নাগরিকত্ব বিষয়ে প্রায় সব মিটিংয়েই উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সুকৃতি বাবুদের। তিনি নাকি সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট পাওয়া ভারতের বৈধ নাগরিক। তবে মূল আইন থেকে জনগণকে অনেক দূরে সরিয়ে দেওয়াটাই উনার অন্যতম কাজ বলে আমার মনে হয়েছে। তিনি এটা করেন তার মনমোহিনী ইমেজের মাধ্যমে। ব্যক্তি জীবনে তিনি প্রচুর পড়াশোনা করেন।

এবার আসি নাগরিকত্ব বিষয়ে সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস ও দামাল নেতা মানিক ফকিরের ব্যাখ্যার ফারাকের বিষয়ে।

(১) সুকৃতি রঞ্জন:

১৯৫০ থেকে ৮৭ এর ১ জুলাইয়ের মধ্যে যে শিশুই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছে তিনি নাগরিক। শিশুর বাবা-মা অনুপ্রবেশকারী হলেও। তিনি বলেন, উদ্বাস্তুদের জীবনে শেষ পেরেক মেরে দিয়েছে সি এ এ ২০০৩। এই সংশোধনী উদ্বাস্তু সন্তানদের জন্মগত নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, এনআরসি উদ্বাস্তুদের শেষ করে দেবে।

ফলে ১৯৫০ থেকে ৮৭ এর মধ্যে জন্মগ্রহণ করা উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্বের আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়েছে। বেশির ভাগ জন বিজেপি হয়ে গেছে। তারা অনেকেই মনে করেন এনআরসি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা। ভোট এলে এনআরসি ঘুম থেকে ওঠে।

মানিক ফকির:

সংবিধানের দ্বিতীয় পার্টের ৫ ( খ ) অনুসারে উদ্বাস্তু সন্তানরা কোনো দিনই ভারতের নাগরিক নন। যখনই জন্মাক।

(১) তাছাড়া ১৯৫০ সালের আসাম ইমিগ্রেশন এক্সপালশন অ্যাক্ট, ( সারা ভারতে প্রযোজ্য )

(২) ১৯৫১ সালের জেনেভা উদ্বাস্তু সম্মেলন,

(৩) ১৯৫২ লাগু হওয়া ব্রিটিশ আইন ১৯২০ সালের পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৪৬ সালের বৈদেশিক অ্যাক্ট ও মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট, লাগু হবার ফলে আইনত, ভারতে কোনো উদ্বাস্তু ঢুকতে পারেনি।

এমনকি ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন, ১৯৮৬ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, এ গুলো সবই সংবিধান অনুসারেই হয়েছে।

সংবিধানের ৫ ( খ ) তে বলা আছে, সংবিধান প্রকাশের আগে যে সন্তানের পিতা-মাতার মধ্যে যেকোনো একজন ভারতের নাগরিক, সেই সন্তান ভারতের জন্মগত নাগরিক। আর অপরজন! আইন অনুযায়ী ভারতবর্ষে উদ্বাস্তুদের ঢোকার সুযোগ ছিল না।

এছাড়াও এনআরসি ভারতের সংবিধান স্বীকৃত। কারণ, সংবিধান বলে দিয়েছে কারা ভারতের নাগরিক। আরএনআরসি হচ্ছে সেই নাগরিকদের তালিকা।

ফলত, মূল ভয় এনআরসি ছিল না। মূল ভয় ছিল দেশের পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও বৈদেশিক আইন। ১৯৭০,৮০,৯০ ইত্যাদি সালেও বৈদেশিক আইনে বহু মানুষ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে বে নাগরিক হয়েছে ভারতে।

আমাদের আন্দোলন করতে হতো ওই দুটো আইনের বিরুদ্ধে। যদিও ওই আইন দুটো উঠে গিয়ে আরো ভয়ংকর আইন এসেছে দেশে।

আমাদের আন্দোলন করতে হতো সংবিধান সংশোধন করার জন্য। যে কারণে দেশের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দুর্গাপুরে এসে বলে গেলেন, সংবিধান অনুযায়ীই উদ্বাস্তুরা বে নাগরিক, তাদের ভারত ছাড়া করবোই। তাই বাংলা ও বাঙালিদের বাঁচাতে এখনি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আমাদের।

মানিক ফকির

২০/৭/২০২৫

দামাল বাংলা

9836327536

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

mythical Hindu Unipolar vs Multi-polar 21-July-2025 by east is rising

বাঙালির স্ট্যান্ডার্ড নেমে গেছে

আগে একসময় বাঙালিদের standard ছিল ইউরোপ। The Ruler of the collonial World

বাঙালিরা French Italian শিখতো, বাঙ্গালী শিক্ষিত পরিবারের প্রতিটা ছেলে France Germany England এর মাসিক Newspaper আলাদা করে কিনে পড়তো। তারা ইউরোপ এর Internal Battles, Internal Issues নিয়ে পরিচিত থাকতো। থাকতো বলে রাসবিহারী জার্মান সম্রাট (খাইজার) এর সাথে হাত মিলিয়ে ভারতে সৈন্যবিদ্রোহ এর plot রচনা করতে পেরেছিলেন, জাপানের সম্রাটের সাথে একাসনে বসে Asian Nationalism এর Theory বানাতে পেরেছিলেন, ইউরোপ সম্পর্কে বাঙালি জানতো বলেই বিবেকানন্দ শিকাগো যেতে পেরেছিলেন, নিকোলা টেসলা এর সাথে এক Table এ বসে পশ্চিমা বিজ্ঞান ও ভারতীয় দর্শনের তুলনা করেছিলেন দুজনে একে অন্যের সাথে, বাঙালি সেই যুগ চিনত বলেই, নেতাজি সুভাষ বসু হিটলার এর সাথে হাত মিলিয়ে আসতে পেরেছিলেন, আবার কমিউনিষ্ট জগতে নরেন ভট্টাচার্য কমিন্টার্ন এ স্ট্যালিন এর সামনে সমানে সমান দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। This is called Standard, This is called International Relations

বর্তমানে বাঙালির স্ট্যান্ডার্ড কি? UP বিহার হরিয়ানার রাজস্থানের কিছু অতীব অশিক্ষিত Substandard মাল, যারা নিজেরাই ৫০০ বছর মুঘলদের ঢেঁকি পিশেছে। সেযুগের আমেরিকা যে ছিল, আজকের চীন তাই। কিন্তু, সেযুগের বাঙালির মত, আজকের বাঙালি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তিকেন্দ্রে পৌঁছতে ভুলে গেছে।

এখন, বাঙালিরা "মাছ মাংসের বদলে দেশী ঘি রোটি খেয়ে স্বাস্থ্য বেশি ভালো রাখা যায়", "বিহারী রা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা জাতি", "সাউথ ইন্ডিয়ান দের কালচার খুব ভালো" এগুলো নিয়ে আলোচনা করে আর caption এ গুটখা ভাষায় caption দেয়। বাঙালি ছেলেরা ও মেয়েরা পাঞ্জাবি ভাষায় গানকে বেশ hitting মনে করে। বাঙালিরা হিন্দিতে কথা বলে নিজেকে জাতে তুলে দিল মনে করে।

Read More

Author: Animesh

Theoretical Hindu 10-July-2025 by east is rising

বহুজাতিক রাষ্ট্র

"আমাদের বহুজাতিক রাষ্ট্র ভারতে আবার ও ভাষার বিবাদ চরমে উঠে গেছে। অতীতের মতো এবারও ঘটনার সূত্রপাত ঘটা শুরু হয় ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনে, প্রথম প্রথম 2014 এর পর হঠাৎ হিন্দুত্ববাদ চাগার দিয়ে উঠা পশ্চিম বাঙালি হিন্দুরা পশ্চিম‌ বাংআলীরা মার খেয়েছে বলে নিরব সুখ উপলব্ধি করলেও এর পরবর্তীতে তাদের জাতভাই ও তুলসী মালা গলায় থাকার পরেও মার খেয়েছে এটা বুঝে না পারছে হজম করতে আর না পারছে বলতে।

পশ্চিম বাঙালি হিন্দুদের এখন শাঁখের করাত চলছে তার কারণ তারা তাদের বাঙালিত্বের অধিক প্রকাশ করলেই তাদেরকে আরো বেশি "বাংলাদেশি" তকমা দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী হয়ে উঠার পরে পশ্চিম বাংআলীরাও ক্ষেপে আছে।

পশ্চিম বাঙালি শুধু উড়িষ্যায় নয় গুজরাট, মহারাষ্ট্র সব জায়গাতেই শুধুমাত্র বাংলাভাষী বলে বাংলাদেশি হবার মিথ্যা তকমা পাওয়ার সাথে সাথে এদেশের বিএসএফ দ্বারা বাংলাদেশেও পুশব্যাক হয়ে গেছে আবার অবশ্য বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কূটনৈতিক তৎপরতায় অনেকেই স্ব স্ব ভূমিতে অনেকেই ফিরে এসেছে।

দুদিন আগেই কোচবিহারের এক বাসিন্দার কাছে আবার এন আর সির নোটিশ ও এসেছে।

ওদিকে গুজরাটি -মারাঠা, মারাঠা-হিন্দি বিতর্ক ও চাগার দিয়ে উঠেছে।

মারাঠিদের সাথে গুজরাটিদের এই কলহ অবশ্য নতুন নয়।

দেশভাগের পর পর গুজরাটি মারাঠি দাঙ্গার ফলেই বৃহত্তম বোম্বে প্রদেশ ভাগ হয়ে বোম্বে ও গুজরাটে পরিণত হয়ে দুটো ভারতীয় রাষ্ট্রের অঙ্গপ্রদেশ হয়ে আজো ভারত ইউনিয়নে রয়েছে।

গুজরাটিদের সাথে মারাঠাদের এই ভাষাভিত্তিক ঝামেলা যেটা আই ওয়াশ তার প্রকৃত কারণ হচ্ছে ভারতের বানিজ্যিক রাজধানীর অর্থনীতির ধারক ও বাহক ধীরে ধীরে গুজরাটিরা হয়ে গেছে।

অবশ্য কিছু মারোয়ারি ও আছে।

মারোয়ারি-গুজরাটি সমিল্বিত লবিং মূলত অর্থনৈতিক দখলদার হওয়ার পাশাপাশি সংস্কৃতির ও দখল নিতে চায়,ওরা মনে প্রাণে সব জায়গাতেই তাদের নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস, নিরামিষ উপাসনা পদ্ধতির অনুপ্রবেশ ইতিমধ্যেই করিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু তার পরেও যারা তাদের পায়ের তলায় দাসত্ব করে নি তারা প্রতিবাদ তো করবেই।

অবশ্য মারাঠারা বাঙালিদের ও বাংলাদেশি বলে খেদাচ্ছে।

তার কারণ বাঙালি আজ দূর্বল, ধর্ম ও জাতির নামে বিভক্ত।

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না থাকলে এই যুগে সবাই লাথাবে।

ওদিকে দ্রাবিড় ভূমির তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী তো স্বায়ত্তশাসন চাইছেন, নিজেদের হিন্দি হীন মুদ্রা চাইছেন।

ওদের জোর করে হিন্দি বলানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করছে।

ভাষাগত বিবাদ ভারতে আগে হলেও এখন কিন্তু অন্যভাবে হচ্ছে।

একজন ভারতীয়র ভারতের যেকোন প্রান্তে বসবাসের,ধর্ম পালনের যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে সেটা যে খর্ব হচ্ছে তার উত্তম প্রমাণ বাঙালিদের উপর ভারতের বিভিন্ন অবাঙালি রাজ্যের নির্যাতন।

অবশ্য এতোকিছু হবার পরেও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী দু একটা কথা বলা ছাড়াও কিছু বলছেন না কারণ এটা তো বিশ্ববাংলা! ভারতের বাঙালি বিভিন্ন জায়গায় মার খেলেও পশ্চিমবঙ্গে সবার মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়ে আমাদের আতিথেয়তার প্রমাণ তো দিতেই হবে।সেই প্রমাণ দিতে গিয়েই কিন্তু 1947-2025 এর মধ্যেই এরাজ্যের সকল অবাঙালি মারোয়াড়ি-গুজরাটির শতকরা হার 3% থেকে মোটামুটি 15% আমরা করেই ফেলেছি।

ওদিকে আসামে 40% মুসলমানদের উপর ষ্ট্রীমরোলার চলছেই কারণ 51% হয়ে গেলেই অসমীয়াদের রাজত্ব নাকি খতম হয়ে যাবে।

সব থেকে বড় কথা বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই বারবার হিন্দু রাষ্ট্রের যে সপ্ন দেখায় সেটা যে আদতে হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্ক ডমিনেটিং এবং মারোয়াড়ি -গুজরাটি হিন্দু ইকোনমিক লবিং এর রাষ্ট্র হবে এটা ভারত রাষ্ট্রের বেশিরভাগই হঠাৎ বেশি হিন্দু হয়ে যাওয়া ম্লেচ্ছ বাঙালি হিন্দু বুঝতে চাই না।

চাই না বলেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বাঙালি ছাত্রীদের বাংলাদেশি বললেও এদের অন্তর্দহন হয় না, অন্তর্দহন হয় না এতগুলো বাঙালিকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেওয়ার পরেও।

বহুজাতিক ভারত রাষ্ট্রে আমরা বাঙালিরা "জনগন মনো ","ভারত মাতা," এতো বলিদান দিয়েছি আর নেতাজি .... ইত্যাদি পুরানো আবেগ আর বর্তমানের বাস্তবতার ধারেকাছে না থাকা বাঙালি হিন্দু ক্ষয়িষ্ণু এটা সত্য কিন্তু এদের যে ভারত রাষ্ট্রের ভোটব্যাঙ্কের শক্তি কমে গেছে,কমে যাচ্ছে এটা বোঝার বোধদয় এদের নেই।

থাকলে তারা মাঠে নামতো, অবশ্য যাদের টি এফ আর (মোট প্রজনন ক্ষমতা) 1.3 তারা মাঠে নামানোর জন্য ছেলেও বা কোথায় পাবে??????।

ভারতকে বহুজাতিক বলেছি বলে এই লেখা পড়ে 2014 এর পর বিশ্ব হিন্দুত্ববাদের ধারক ও বাহক বনে যাওয়া বাঙালি হিন্দুরা আমার উপর নারাজ হবেন তবে আপনাদের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করতে বলবো আদৌও ভারতের সব হিন্দু এক ও অভিন্ন?????।

আপনি সবাইকে এক ভাবলেও ওরা আপনাদের এক ভেবেছে কখনো,ভাবছে এখনো?????।

নাকি বাংলা বলেন বলে "বাংলাদেশি" ভাবে আপনাকে.…?????।

সবথেকে বড় কথা আপনাদের এই অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হলো কেন সেটা একবার ভেবেছেন । গুজরাটি -মাড়োয়ারি-মুম্বাই-চেন্নাই এর আলাদা আলাদা লবিং কি করে আপনাদের ষ্টেটের শিল্প ওদের ওখানে নিয়ে গেল সেটা নিয়ে আবার পরেই বলবো।

আপাতত সবাই মাঠে নামুন,নইলে ডি-ভোটার হয়ে ডিওটেশন ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য রেডি হোন।"

Read More

Author: Prosenjit Dey

Theoretical Hindu 10-July-2025 by east is rising

হিন্দী' ভারতে কারো মাতৃভাষা ছিল কি ?

যদি কৃত্তিবাস ওঝাকে জিজ্ঞেস করা হত, তিনি কোন ভাষায় রামায়ণ লিখেছেন, তিনি কী উত্তর দিতেন?

তিনি বলতেন, "বঙ্গভাষা" ।

যদি গোস্বামী তুলসীদাসকে জিজ্ঞেস করা হত, তিনি কোন ভাষায় রামায়ণ লিখেছেন, তিনি কী উত্তর দিতেন?

তিনি বলতেন, "অওয়ধী" (अवधी) ভাষা।

অথচ আজকে প্রচার করা হয়, তুলসীদাস ছিলেন হিন্দী কবি।

"হিন্দী" শব্দটা লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, এটা আদি ভারতীয় শব্দ নয়। এটা এদেশে এসেছে তুর্কী-পাঠান-মুঘলদের মাধ্যমে, যাঁরা সিন্ধু নদীকে হিন্দ কিম্বা হিন্দু নদী বলতেন, এবং তার এপারের দেশকে বলতেন হিন্দুস্তান।

প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষে হিন্দী বলে কোনও ভাষাই ছিল না। উত্তর ভারতের ভাষাগুলি ছিল গুরুমুখী, রাজস্থানী, হরিয়ানভী, গুজরাতী, ভীল, কোল, গাহরওয়ালী, অওয়ধী, খড়িবোলী, ভোজপুরী, মগধী, মৈথিলী ইত্যাদি। আর একটু দক্ষিণে ছিল বুন্দেলখন্ডী, রোহিলখন্ডী, ছত্তিসগড়ী ইত্যাদি। ছোটনাগপুর অঞ্চলে ছিল খোরঠা, মানভূমী বাংলা, ইত্যাদি।

এছাড়া ছিল ভারতের আদি বাসিন্দাদের অস্ট্রিক-দ্রাবিড় ভাষাগুলি, যেমন সাঁওতালী, মুন্ডারী, ওরাওঁ, বিরহোড়, হো ইত্যাদি।

উত্তর ভারতের কথ্য ভাষাগুলির সঙ্গে ফারসি ভাষার সঙ্গমে সৃষ্টি হয় উর্দু নামে একটি ভাষা, যেটি মূলতঃ পাঠান এবং মুঘল সৈন্যদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। ওয়র্দ (वर्द) কথাটার মানে হল সৈন্য, যার থেকে ভাষাটির নামকরণ হয়েছে।

ইংরেজরা এসে এখানকার সব অধিবাসীদেরই নামকরণ করল নেটিভ হিন্দু, জাতিধর্মনির্বিশেষে। বলাই বাহুল্য, কথাটা খুব সম্মানজনক অর্থে তারা ব্যবহার করত না। পরাজিত জাতিকে কে-ই বা সম্মান করে? আর সরকারী ভাষা হিসেবে ইংরেজির সঙ্গে রইল ফারসি। কথ্য ভাষা হল উর্দু।

মির্জা গালিব থেকে মুনসী প্রেমচন্দ পর্যন্ত সবাই লিখতেন উর্দুতে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ইংরেজের মাথায় ঢোকে হিন্দু আর মুসলিমরা হল দুটো আলাদা ধর্মের লোক, যাদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে না পারলে আবার অনুরূপ একটি বিদ্রোহের সম্ভাবনা। এই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে জন্ম নিল মুসলিম লীগ এবং তার হিন্দু সংস্করণ, হিন্দু মহাসভা। এবার হিন্দুদের দরকার একটা ভাষা, কারণ উর্দুটা বড্ড মুসলিম ঘেঁষা। রাতারাতি সংস্কৃত অর্থাৎ দেবনাগরী অক্ষরগুলি দিয়ে উর্দু লেখা শুরু হল। একটা জগাখিচুড়ি ভাষার সৃষ্টি করা হল, যার অধিকাংশ শব্দ উর্দু, ব্যাকরণ উর্দু, উচ্চারণও উর্দু। শুধু কিছু সংস্কৃত শব্দ ঢুকিয়ে তাকে হিন্দী ভাষা বলে চালানো হতে লাগল। মাঝখান থেকে উর্দু ভাষার যে মিষ্টতা, সেটা গেল নষ্ট হয়ে।

হিন্দী ভাষা যে আদতে উর্দু ভাষা, তার প্রমাণ এখনও এই ভাষার সর্ব অঙ্গে। প্রথমতঃ, সংস্কৃত বাক্যে কর্তার লিঙ্গ কর্তার গায়ে, কর্মের লিঙ্গ কর্মের গায়ে থাকে।

रामस्य माता। सीताया पिता।

উর্দুতে তার উল্টো। কর্মের লিঙ্গ কর্তার গায়ে চলে আসে। হিন্দীতেও তাই।

राम की माता। सीता का पिता।

এর ফলে ভারতের বেশিরভাগ লোক সঠিকভাবে হিন্দী বলতে পারে না। কারণ বেশিরভাগ ভারতীয় ভাষায় এই লিঙ্গের ঝামেলা নেই।

হিন্দীর "अ“-এর উচ্চারণ উর্দু "अलिफ"-এর মতন। মোটেই দেবনাগরী "अ"-এর মতন নয়। দেবনাগরী মানে সংস্কৃত "अ"-এর সঠিক উচ্চারণ হয় ভোজপুরী, মৈথিলী, মগধী, ওড়িয়া, অসমিয়া এইসব ভাষায়। বাংলা ভাষায কোনো কোনো শব্দে দেবনাগরী "अ"-এর উচ্চারণ হয়, যেমন বল, পথ, সরোবর ইত্যাদি, আবার কোনো কোনো শব্দে তা ও-কারের মতন উচ্চারণ হয়, যেমন মন, বন, গরু ইত্যাদি।

কিন্তু হিন্দীতে अ-এর সবসময় উর্দু अलिफ-এর মতন উচ্চারণ হয়।

সংস্কৃত শব্দের অ-কারান্ত উচ্চারণ ওড়িয়া ভাষায় রয়ে গেছে, বাংলায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে। কিন্তু হিন্দীতে উর্দুর হসন্তযুক্ত উচ্চারণ থেকে যাওয়ার ফলে অদ্ভুত শুনতে লাগে।

যেমন, "भारत" শব্দের উচ্চারণ "ভারত" কিন্তু "भारती" শব্দের উচ্চারণ হল "ভার্তী"। "कमल" শব্দের উচ্চারণ হল "কমল" কিন্তু "कमला" শব্দের উচ্চারণ হল "কম্লা"।

এই জগাখিচুড়ি ভাষাটিকে সরকারী ভাবে চাপিয়ে দেবার ফলে উত্তর ভারতের বেশিরভাগ ভাষা অবলুপ্ত হতে বসেছে। অনেক শিক্ষিত বাঙালি এখন ভোজপুরী, মৈথিলী, খোরঠা ইত্যাদি উত্তর ভারতের মূল ভাষাগুলিকে হিন্দীর উপভাষা বলে মনে করেন।

দুঃখের কথা হল, এমন একটা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, যেটা ভারতের কোনও অঞ্চলের মানুষের মাতৃভাষা নয়। কিন্তু উত্তর ভারতের মানুষের মগজধোলাই করে তাদেরকে নিজেদের মাতৃভাষা ভুলিয়ে দিয়ে হিন্দীকে তাদের মাতৃভাষা বলে চালানো হচ্ছে।

দক্ষিণ ভারতে তামিল এবং তার আনুষঙ্গিক ভাষাগুলি যেমন মালয়ালম, কন্নড়, তেলুগু এগুলি অবশ্য তাদের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে, আর এখনও হিন্দীর আধিপত্য অস্বীকার করে চলেছে।

যারা হিন্দু হিন্দী হিন্দুস্তান বলে লাফাচ্ছে, তারা যদি বুঝত যে এটা আসলে ফারসি ও উর্দু ভাষা, তাহলে বোধহয় লাফাত না। যাই হোক, সেটা তাদের সমস্যা।

আমাদের সমস্যা হল, আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা বাংলা, যার প্রায় হাজার বছরের বেশি সাহিত্যের ইতিহাস আছে, কুক্কুরীপাদ, ভুসকু-র থেকে শুরু করে চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস, কৃত্তিবাস, কাশীরাম দাস, মুকুন্দরাম,সৈয়দ আলাওল,

ভারতচন্দ্র, মাইকেল, বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসাগর,দীনবন্ধু মিত্র, রবীন্দ্রনাথ,নজরুল, ত্রৈলোক্যনাথ, সুকুমার রায়, সৈয়দ মুজতবা আলি, পরশুরাম, শরৎচন্দ্র, প্রেমেন্দ্র মিত্র, তারাশংকর,মানিক, বিভূতিভূষণ,সমরেশ বসু,জীবনানন্দ,লীলা মজুমদার,আশাপূর্ণা, মহাশ্বেতা, উৎপল দত্ত, শম্ভু মিত্র,বিষ্ণু দে, বুদ্ধদেব বসু, শঙ্খ ঘোষ,সুনীল , সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ, শরদিন্দু, শীর্ষেন্দু,সত্যজিৎ প্রমুখ মহামূল্যবান রত্নের সমাবেশে তৈরি এই সমৃদ্ধ ভাষা, পৃথিবীর সাহিত্য জগতে যার বেশি তুলনা পাওয়া যাবে না, সেই ভাষাও এরপর অওয়ধি, মগধী, মৈথিলী, বুন্দেলখন্ডী ভাষার মতন হিন্দীর চাপে অবলুপ্ত হয়ে যাবে কিনা।

যদিও এই এক হাজার বছর ধরে অনেক আঘাত সামলে এই ভাষা এখনও শুধু টিঁকে আছে তাই নয়, অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ী মহলের প্রচন্ড চাপে এই ভাষা যাতে হারিয়ে না যায়, তা দেখা আপনার, আমার, সবার কর্তব্য।

( বি ভা স )

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu world order 07-July-2025 by east is rising

পশ্চীম বঙ্গের ক্ষমতার সমীকরণঃ একটা সহজ বিশ্লেষণ

পশ্চীম বঙ্গ বোধ হয় শেষ ভারতীয় প্রদেশ যেখানে উচ্চ বর্ণ শাসন আজও চলছে। কিন্তু কিভাবে? বহুদলীয় গণতন্ত্রে কম জনসংখ্যা নিয়ে কোনো জাতির পক্ষে শাসন প্রায় অসম্ভব। নির্বাচনী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে আস্তে আস্তে সমস্ত ভারতীয় প্রদেশে ধনী কৃষক জাতিগুলোর রাজনৈতিক আধিপত্য শুরু হয়েছে। তারা নিজেদের পরে অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতি বা ওবিসি হিসেবে ভারতীয় সরকারের দ্বারা নিজেদের নতিভূক্ত করিয়েছে। এই ধনী কৃষক জাতিগুলো বা ওবিসি-রা গ্রাম ভারতে ধনী শ্রেণির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আবার জনসংখ্যায়ও তারা যথেষ্ট। ভোটব্যাঙ্ক ও অর্থ মিলিয়ে গ্রাম দখল করেছে এই ওবিসি-রা, তা সে দক্ষিণ ভারত হোক বা মহারাষ্ট্র বা গুজারাত বা হিন্দি অঞ্চল। পঃ বঙ্গ একমাত্র ব্যতিক্রম কেন?

এর বড়ো কারণ ১৯৪৭-এ বাংলা ভাগের পরে পূঃ বঙ্গের সমস্ত উচ্চ বর্ণ পঃ বঙ্গে চলে আসে এবং এর ফলে পঃ বঙ্গে বাঙালি উচ্চ বর্ণের মোট জনসংখ্যার শেয়ার অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় ৫% বেড়ে যায়। বাঙালি উচ্চ বর্ণ কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে পঃ বাংলার ওবিসি-দের অর্থাৎ গ্রামীন ধনী শ্রেণি-কে অনেকটা দুর্বল রে দিতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে পঃ বঙ্গের দলিত ও মুসলমানেরা মূলত গ্রামের দরিদ্র-দের মূল অংশ ছিল, এরা অধিকাংশই ওবিসি বা কিছু ধনী দলিত ও মুসলমানের জমিতে বর্গাদার ছিল। ফলে উচ্চ বর্ণের নেতৃত্বে ভূমি সংস্কার আন্দোলনে এরা প্রচণ্ডভাবে সাড়া দেয়। বলা যায় জমির জন্যই পঃ বঙ্গের দলিত ও মুসলমানেরা উচ্চ বর্ণ শাসন বজায় রাখে এবং ওবিসি উত্থান আটকে দেয়।

"ওপারেশন বর্গা"-র ফলে যখন গ্রাম পঃ বঙ্গের দলিত ও মুসলমানদের কিছুটা অর্থ হয় তখন আস্তে আস্তে নতুন সমীকরণ দেখা যায়। জমির মালিক ওবিসি বনাম বর্গাদার দলিত-মুসলমান-এর যে সমীকরণ ছিল তা আর রইলনা। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল গ্রাম পঃ বঙ্গের মানুষ জমি ছাড়াও চাইল সরকারী চাকরী, রাজনীতি ও কন্ট্রাক্টরি।

সরকারী চাকরী-কে কেন্দ্র করে পঃ বঙ্গের মুসলমানেরা উচ্চ বর্ণ শাসকদের যখন চেপে ধরে তখন উচ্চ বর্ণ শাসকরা পঃ বঙ্গের রাজ্য সরকারী চাকরীতে ওবিসি-এ হিসেবে মুসলমানদের জায়গা দিয়ে দেয়। এর ফলে পুরনো ওবিসি-দের শুধু নয় দলিতদেরও ক্ষোভ গিয়ে পড়ল মুসলমানের ওপর। মুসলমানদের জনসংখ্যার শেয়ার ১৯৪৭-এ বাংলা ভাগের পরে কমে গেছিল ২৫% থেকে ১৮%। কিন্তু "ওপারেশন বর্গা"-র ফলে আর্থিক দুর্গতি কিছুটা দূর হওয়ায় পঃ বঙ্গের মুসলমানদের জনসংখ্যার শেয়ার ২০১১ সালে বেড়ে হয় ২৯%। আদম সুমারীর ফল বের হয়নি বটে, কিন্তু ইন্টারপোলেশন করলে বলা যায় পঃ বঙ্গে বর্তমানে মুসলমান সংখ্যা প্রায় ৩৩%। মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক-এর শক্তি বৃদ্ধি হওয়ায় পঃ বঙ্গের দলিত ও ওবিসি-রা মুসলমানদের ভোটব্যাঙ্কের নিরিখেও প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করে। শুরু হয় সরকারী চাকরীর সংরক্ষণ ও রাজনীতি-কে কেন্দ্র করে দলিত-ওবিসি বনাম মুসলমানের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব উচ্চ বর্ণ শাসকদের চাপে ফেলে দেয়। কারণ ক্রমেই দলিত-ওবিসি জোট পঃ বঙ্গের উচ্চ বর্ণ শাসকদের মুসলমান তোষণকারী বলে দাবী করে। তারা বিজেপি-র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে যে শহরের বাড়তে থাকা হিন্দিভাষী জনতার সাথে হাত মেলাতে পারলে উচ্চ বর্ণদের হটিয়ে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে।

পঃ বঙ্গের শহরে আরেকটা ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি হচ্ছিল। জমীদারী হারিয়ে যেখানে অধিকাংশ ভারতীয় প্রদেশে উচ্চ বর্ণ রাজনীতি-তে গুরুত্ব হারিয়েছে, সেখানে পঃ বঙ্গে উচ্চ বর্ণ আরও পাকাপাকিভাবে রাজনৈতিকাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। ওবিসি উত্থান আটকে দিলেও বাঙালি উচ্চ বর্ণকে রাজনীতি ধরে রাখতে হয়েছিল ব্যবসায়ে মাড়োয়াড়ি-গুজারাতি আধিপত্য স্বীকার করে। বাঙালি উচ্চ বর্ণ জানত যে দিল্লি মূলত নিয়ন্ত্রণ করে হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্ক ও গুজারাতি মাড়োয়াড়ি পুঁজিপতিরা। দিল্লি কোলকাতার ব্যবসায়ে মাড়োয়াড়ি গুজারাতি আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চাইবে। আর দিল্লির দাবী অস্বীকার করে বাঙালি উচ্চ বর্ণ টিকে থাকতে পারবেনা। তাই বাঙালি উচ্চ বর্ণ রাজনীতিবীদেরা সমস্ত ব্যবসা একে কে মাড়য়াড়ি গুজারাতি-দের হাতে ছেড়ে দেয়। মাড়োয়াড়ি পুঁজিপতিদের অর্থের ওপরেই নির্ভর করতে থাকে বাঙালি উচ্চ বর্ণ রাজনীতিবীদেরা কারণ ব্যবসা হারিয়ে তারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বলা যায় পঃ বঙ্গের আসল শাসক মাড়য়াড়ি গুজারাতি ব্যবসায়ীরাই আর বাঙালি উচ্চ বর্ণ রাজনৈতিক শাসকরা তাদের খেদমত খাটা চাকর মাত্র। মাড়োয়াড়ি গুজারাতি-রা তাদের ব্যবসা সুরক্ষিত রাখতে নির্ভর করতে থাকে আর এক হিন্দি প্রদেশ বিহার থেকে আগত লোকেদের ওপর। আর্থিকভাবে দুর্বল বাঙালি উচ্চ বর্ণরা নারীবাদে গাঁ ভাসায় ও সরকারী চাকরী করে জীবিকা নির্বাহ করতে চায়। ফলে তাদের জন্মহার কমতে থাকে। পঃ বঙ্গের শহরগুলোতে এই সুযোগে হিন্দিভাষিদের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে।

বর্তমানে পঃ বঙ্গের ক্ষমতার সমীকরটা অনেকটা এরকমঃ

প্রথমেই আসবে মাড়োয়াড়ি গুজারাতি ব্যবসায়ী ও তাদের বিহারী শেপাই;

তারপরে আসবে বাঙালি উচ্চ বর্ণ রাজনীতিবীদেরা ও সেলিব্রিটিরা;

শেষে থাকবে মুসলমান (বাঙালি ও উর্দু), দলিত ও ওবিসি জনতা।

মুসলমান ও দলিত-ওবিসি-রা এখন প্রতিযোগিতা করছে সরকারী চাকরী ও রাজনীতি দখল করে কন্ট্রাক্টরি ব্যবসা পেতে। বাঙালি উচ্চ বর্ণ বর্তমানে মূলত মুসলমান ভোটব্যাঙ্ক-এর ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। দলিত ও ওবিসি এবং হিন্দিভাষিদের কিছু অংশকে হরেকরকম সরকারী স্কিম দিয়ে নিজেদের দিকে নিয়ে এনে।

এবার প্রশ্ন সরকারী চাকরী ও রাজনীতি-কে কেন্দ্র করে মুসলমান বনাম দলিত-ওবিসি দ্বন্দ্ব কি বন্ধ করা যায়? উত্তর না। গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে সরকারী চাকরী ও রাজনীতি এখন প্রধান জীবিকা। তাই এই দ্বন্দ্ব বন্ধ হওয়ার নয়। এই দ্বন্দ্ব বন্ধ হতে পারে যদি নতুন কোনও জীবিকা এদের কাছে আসে। এবার প্রশ্ন পঃ বঙ্গের গ্রামের মুসলমান-দলিত-ওবিসি কি শহরের গুজারাতি মাড়োয়াড়ি করপোরেট ব্যবসা দখলে মন দেবে? যদি দেয় তাহলে অবশ্যই তাদের নিজেদের দ্বন্দ্ব ঘোচানো সম্ভব। কিন্তু পঃ বঙ্গের মুসলমান, দলিত ও ওবিসি মূলত পঃ বঙ্গের রাজনীতি দখলের দিকেই মন দিয়েছে। তাদের ব্যবসা দখলে মন নেই। এরই ফল ছিল ২০২১ সালে ওবিসি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে ওবিসি-দলিত ও হিন্দিভাষিরা বিজেপির হয়ে ভোট দিয়েছিল আর বাঙালি উচ্চ বর্ণ কেন্দ্রিক তৃণমূল ভোট পেয়েছিল পঃ বঙ্গের মুসলমানদের এবং নানা স্কিমের জোড়ে ভোট নিয়েছিল দলিত, ওবিসি ও হিন্দিভাষিদের কিছু অংশের। এরপরে ফুরফুরা মাজার-এর পরিবার উচ্চ বর্ণ শাসন শেষ করে দলিত ওবিসি মুসলমান জোট গড়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখতে থাকে। এর ফলে বাঙালি উচ্চ বর্ণ-এর একটা অংশ বিজেপি-তে ঢুকে দলিত ও ওবিসি -দের নেতা হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। বর্তমানে এইভাবেই ওবিসি দিলীপ ঘোষের জায়গায় পঃ বঙ্গের বিজেপির নেতা হয়ে গেছে উচ্চ বর্ণ সুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার। এর থেকে বোঝা যায় বাঙালি উচ্চ বর্ণ-ও তার পোর্টফলিও বাড়াচ্ছে।

এগুলো থেকে স্পষ্ট যে পঃ বঙ্গের গ্রাম দ্রুতই হিন্দি (দলিত-ওবিসি) বনাম মুসলমান দ্বন্দ্বে চলে যাচ্ছে। যতদিন সরকারী চাকরী ও রাজনীতি প্রধান জীবিকা হিসেবে বিবেচ্য থাকবে, ততদিন এই দ্বন্দ্ব চলতে থাকবে এবং এর শেষ পরিণতি হবে দাঙ্গা। কিন্তু যদি একথা বোঝানো যায় যে পঃ বঙ্গের আসল মালিক আসলে মাড়োয়াড়ি গুজারাতি ব্যবসায়ীরা আর বাঙালি উচ্চ বর্ণ শাসকেরা কেবলমাত্র তাদের খেদমত খাটা চাকর তাহলেই কেবল পঃ বঙ্গের মুসলমান দলিত ও ওবিসি এক হতে পারবে।

তাই বলাই যায় ব্রাক্ষণ্যবাদের (বাঙালি উচ্চ বর্ণ) বিরুদ্ধে লড়াই করে পঃ বঙ্গের মুসলমানেরা রাজনীতি দখল করতে চায় আবার রাজনীতি দখল-কে কেন্দ্র করেই পঃ বঙ্গের দলিত-ওবিসি-দের সাথে মুসলমানদের দ্বন্দ্ব। তাই ব্রাক্ষণ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলে এই মুহূর্তে কেবল কিছু মুসলমান ভোট থেকে উচ্চ বর্ণ তৃণমূল শাসকরা বঞ্চিত হবে এবং এর ফলে হিন্দিভাষী-বাঙালি দলিত-ওবিসি বিজেপি জোট জিতে যাবে। এবং বাঙালি উচ্চ বর্ণ এটা বুঝে বিজেপির নেতৃত্ব দখল করতে শুরু করেছে। ফলে পঃ বঙ্গের মুসলমান বেশি ব্রাক্ষণ্যবাদের সঙ্গে লড়তে গেলে দেখা যাবে তৃণমূল পরাজিত হয়ে বিজেপি এল এবং বাঙালি উচ্চ বর্ণ রাজনৈতিক শাসন অক্ষুন্ন রইল অথচ মুসলমানদের সম্পূর্ণ রূপে জমি ভেরী কন্ট্রক্টরি ব্যবসা থেকে ওবিসি-দলিতরা সরিয়ে দিল।

পঃ বঙ্গের মুসলমানদের প্রয়োজন বাঙ্গালিবাদ-কে সামনে রেখে মাড়োয়াড়ি গুজারাতি করপোরেট ব্যবসায়ীক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা। পঃ বঙ্গের বাঙালি হিন্দুদের যেই অংশটা গুজারাতি মাড়য়াড়ি বিহারীদের হটিয়ে শহরের ব্যবসা ও জীবিকা দখল করতে চায় তারা তখন মুসলমানদের সাথে হাত মেলাবে। তখন পঃ বঙ্গের মুসলমানেরা কিছু তো হারাবেই না, উলটে রাজনীতি ও শহরের ব্যবসা দুই-তেই লাভবান হবে।

মোদ্দা কথা হল মূল ক্ষমতার উৎস হল কর্পোরেট ব্যবসার পুঁজি। রাজনৈতিক শাসকেরা কেবল এই কর্পোরেটদের সেবাদাস। তাই মন দিতে হবে করপোরেট পুঁজি দখলে, রাজনীতি তাহলে আপনা আপনি হাতে আসবে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu USA vs Russia 25-May-2025 by east is rising

বিশ্বের ভয়ংকর খুন ও ধর্ষক রক্ষীবাহিনী

ভারতের রক্ষীবাহিনী পৃথিবীর ভয়ংকর খুনে ও ধর্ষক রক্ষীবাহিনী ধর্ষণের অপরাধে এই বাহিনী বহু বার অভিযুক্ত হয়েছে। ধর্ষক এই রক্ষীবাহিনী কি করে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কাজ করে তাহা আমার বোধগম্য নয়। নিম্নে এই রক্ষীবাহিনী কিছু পৈশাচিক কর্মের বিবরণ দেয়া হল :----

১) জুনাগড় ( প্রিন্সলী স্টেট ) :- জুনাগড় মুসলীম শাসক দ্বারা শাসিত ছিল। জুনাগড়ের শেষ শাসক ছিল তৃতীয় মোহাম্মদ। তিনি প্রথমে স্বাধীন ভাবে রাজ্য পরিচালনা করলেও পরে তিনি পাকিস্তানের সাথে একীভূত হতে চান। এটা চরমতম মুসলীম বিদ্বেষী নেহরুকে ক্ষুদ্ধ করে তোলে। জুনাগড়ে বসবাসরত বাভারী এলাকার অমুসলিম দের উসকে দিয়ে বিদ্রোহ করায়। জুনাগড় রক্ষীবাহিনী সেই বিদ্রোহ দমন করে। মুসলীম বিদ্বেষী নেহেরু হিন্দু রক্ষার অজুহাত তুলে ব্রিটিশদের সাহায্যে ১৯৪৭ সেপ্টেম্বর মাসে জুনাগড় দখল করে নেয়। এরপরই শুরু হয় ভারতীয় রক্ষীবাহিনী ও স্থানীয় অমুসলিমদের বর্বরতম গণহত্যা ও ধর্ষণের উৎসব। মাত্র ৮ দিনে ভারতীয় অমুসলিমরা ৩ লাখ মুসলীমকে নৃশংস ভাবে হ★ত্যা করে এবং ১ লক্ষের উপরে মুসলীম নারীদের ধর্ষ*ণ করে। প্রায় ২ লাখ নারীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। যাদের কোনও খোঁজ খবর কেউ আর কোনও দিন পায় নাই। ইতিহাসে এটা জুনাগড় ম্যাসাকার নামে পরিচিত।

২) কাশ্মীর :- ভারত ১৯৪৭ সালে ভারতের ব্রিটিশ অস্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতে কাশ্মির দখল করে নিয়েছিল। আচমকা আক্রমণে কাশ্মীরিরা হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু উপজাতি পাঠানরা তাদের তলোয়ার আর গাদা বন্দুক দিয়ে ভারতীয় অমুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। উপজাতি পাঠানদের পাল্টা আক্রমণে ভারতীয় রক্ষীবাহিনী পিছু হটতে থাকে এবং কাশ্মীরের প্রায় ৪০% এলাকা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। কাশ্মীরে স্থিতি হয়ে ভারতের অমুসলিমরা সেইখানকার স্থানীয় অনেক কাশ্মীরি নারীকে ধর্ষ*ণ ও হত্যার মাধ্যমে তাদের বিজয় উদযাপন করেছিল। 

৩) হায়দ্রাবাদ ( প্রিন্সলী ষ্টেট) :- ৮২৬৯৮ বর্গমাইল আয়তনের স্বাধীন দেশ ছিল হায়দারাবাদ। জাতিসংঘে তার সদস্যপদও ছিল। এটা আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুন ছিল। ভারতের অমুসলিম হিন্দুত্ববাদী ট্রাম্প কার্ড খেলে হায়দারাবাদ দখল করেছিল ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ভারতের অমসুলিমদের সাহায্য করেছিল হায়দ্রাবাদের রক্ষীবাহিনী। এই যুদ্ধটা বল্লভ ভাই প্যাটেল এর তত্ত্বাবধানে হয়েছিল। ইতিহাসে এই ব্যাক্তিকে হায়দ্রাবাদের কসাই বলা হয়ে থাকে। হায়দ্রাবাদ দখল করে মাত্র ৭ দিনে ভারতীয় অমুসলিম সন্ত্রাসীরা ৪ লাখ মানুষকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছিল। ধর্ষ*ণ করেছিল ২ লাখ মুসলীম নারীকে। যাদের বেশীর ভাগের লাশ কিংবা কোনও খোঁজ খবর তাদের পরিবার কখনও জানতে পারে নাই।

৪) কুনান-পুশপারা ধর্ষণ কান্ড :-  পৃথিবীর ইতিহাসে মাত্র ১ রাতে পুরো গ্রামের নারীদের কখনও ধর্ষণ করা হয় নাই। ভারতের  রক্ষীবাহিনী সেই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী একটি রাষ্ট্র। ১৯৯১ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী এই ঘৃণ্যতম ঘটনাটি ঘটিয়েছিল ভারতের অমুসলিমরা। অমুসলিমরা এই গ্রামের পুরুষদের আগের দিন মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে নিকটস্থ থানাতে বাধ্যগত ভাবে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। পরদিন গ্রামের প্রায় ৭০০ পুরুষ থানাতে হাজিরা দিতে গেলে তাদের সবােইকে বন্দী করা হয়। সেই রাতে প্রায় ১ রেজিমেন্ট অমুসলিমরা হায়েনার মত গ্রামের নারীদের ইজ্জতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধর্ষণের উল্লাসে কাশ্মীরের পাহাড় কেঁপে উঠেছিল। গ্রামের সব গুলো ঘরেই এই নারকীয় ধর্ষ*ণ  উৎসব হয়েছিল। মা আর মেয়েকে একই সাথেও ধর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাধা দেয়ার মত কোনও পুরুষ ছিল না তখন। ৮/৯ বছরের মেয়ে শিশুদেরও রেহাই দেয় নাই হিন্দুর বাচ্চারা। প্রায় ৪০০ নারী ও শিশু অমুসলিমদের লালসার শিকার হয়েছিল। ইতিহাসে এই নারকীয় কান্ডকে কুনান-পুশপারা ধর্ষণ কান্ড নামে পরিচিত। রানা আইয়ুব নামক একজন মহিলা সাংবাদিক এই নারকীয় বিভৎসতাকে প্রথম বিশ্ববাসীর সামনে আনেন। কিন্তু ভারতীয় অমুসলিমদের আক্রোশে তাকে দেশ ছাড়তে হয়। 

৫) ইমফল কান্ড :- ১৫ই জুলাই ২০০৪ সাল। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় মনিপুরের ইমফল নামক একটি শহরের খ্রিস্টান উপজাতি নারী মনোরোমার উপর নারকীয় পৈশাচিকতা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারতীয় রক্ষীবাহিনী। প্রায় ১৮ জন সৈনিক ধর্ষ*ণ করে মনোরোমাকে। মনোরমাকে ধর্ষণ শেষে ওর যৌণাঙ্গে পৈশাচিক ভাবে ১৬ বার গুলি করে হত্যা করেছিল ভারতীয় অমুসলিমরা। এরপর তার লাশকে ফেলে রাখে প্রকাশ্যে রাস্তায়। মনোরোমার বিভৎস লাশ দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে উপজাতীয় খ্রিস্টান নারীরা। তারা বিএসএফ ও ভারতীয় সেনাবাহিনী ছাউনী ঘেরাও করে ফেলে। উলংগ হয়ে প্রতিবাদ জানায় বিশ্ব মিডিয়ার সামনে। স্তম্ভিত হয়ে বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষ যাহা প্রত্যক্ষ করে। 

৬) মণিপুরের খ্রিস্টান কুকি নারী :- ২০২৪ সালে ভারতের অমুসলিমরা তাদের রক্ষীবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রকাশ্যে ২ জন খ্রিস্টান কুকি নারীকে উলঙ্গ করে ইমফল শহরে বেইজ্জতি করে। পরে এই নারীদের গণ ধর্ষ*ণ করেছিল ভারতের বিজেপির দল। ভিডিওটি অনলাইনে প্রকাশ হয়ে গেলে পুরো বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

Read More

Author: Sakib Hasan Piyada

Social Hindu 18-May-2025 by east is rising

Morarji Desai Government Killed RAW Agents Who Could Have Ended Pak Nuclear Plan

This is for the younger generation who don’t know the real history of the fake nationalists, the Sangh Parivar, and their repeated failures and sabotage attempts of our national security whenever they had the chance to govern India. They never speak about their role in enabling Pakistan to become a nuclear power, a threat we face even today. Very few from this generation know how close India once came to stopping Pakistan’s nuclear bomb. Not with missiles, but with men in the shadows, forged passports, and hair collected from barbershops!

In the 1970s, as India was facing geopolitical threats on multiple fronts, Prime Minister Indira Gandhi created something unprecedented: RAW (Research and Analysis Wing), India’s answer to the CIA and KGB. At the helm was Rameshwar Nath Kao, the brilliant and enigmatic spymaster who masterminded the creation of Bangladesh and turned RAW into one of the finest intelligence agencies in the region.

After the war, RAW faced a new challenge. Pakistan’s secretive nuclear programme, spearheaded by Dr A.Q. Khan, was in Kahuta, a town so unremarkable it didn’t even appear on maps. But RAW was watching.

Our agents on the ground travelled to various places to track unusual activity. They posed as businessmen dealing in buffaloes, taxi drivers, and more, visiting small towns and collecting hair samples from local barbershops, which were then sent back to India for years. Eventually, they observed unusual activity around Kahuta, along with suspicious findings in hair samples from the area.

Kahuta is a small town barely 30 kilometres from our international border, near Poonch in Jammu and Kashmir. RAW agents began systematically collecting hair samples from barbershops in the vicinity and sending them to India for radiation analysis. The results confirmed exposure to enriched uranium, a clear sign of a nuclear programme. Intelligence reports were mounting. RAW had mapped the site, tracked the scientists, and prepared sabotage plans. They even considered an airstrike. Israel, too, was interested in targeting the plant. MOSSAD partnered with RAW to understand every detail of Pakistan's nuclear programme.

But in 1977, the political winds shifted. Congress lost the election, and a coalition government, which can legitimately be called the first Sangh Parivar government, came to power with Morarji Desai as Prime Minister. A.B. Vajpayee was the External Affairs Minister, L.K. Advani was the I&B Minister, and many other RSS and Jan Sangh biggies called the shots.

Morarji Desai was deeply suspicious of covert operations. He had opposed the establishment of RAW right from his days in the opposition. As PM, he slashed RAW’s budget by two-thirds, sidelined R.N. Kao, and eventually forced the spymaster’s quiet resignation.

Desai’s aversion to espionage crossed into recklessness. He maintained a friendly relationship with Pakistani dictator Zia-ul-Haq, who would call him and even discuss bizarre things like the supposed benefits of drinking urine.

After RAW confirmed the nuclear activity at Kahuta, they sought Desai’s approval for a strike on the facility. But Morarji refused angrily and denied permission. Then, in an act still debated in Indian intelligence circles, Desai personally called General Zia and casually revealed:

“We know about your enrichment facility in Kahuta.”

Just like that, Operation Kahuta was dead.

Pakistan, stunned by the leak, immediately tightened security, moved the entire facility underground, and launched a witch-hunt. Several RAW agents were captured, executed, or vanished. Years of patient espionage were lost in a single phone call.

By 1998, Pakistan had tested its first nuclear bomb. Our carelessness made them a nuclear power.

India lost its chance not due to a lack of intelligence but due to a foolish leader and his trusted Sangh lieutenants in the cabinet who had neither the background nor understanding of national security or intelligence. This is the untold story of the first Sangh Parivar government and why the people never gave them another chance for decades.

Today, as S. Jaishankar has done something eerily similar to what Morarji did, are you really surprised? The Sangh Parivar has always been about grand rhetoric, not any constructive action worth noting in history. The only actions they are known for are treachery and subservience.

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu world order 18-May-2025 by east is rising

রাজপুতরা হয় হুন নয় তো শুদ্র

রাজপুত জাতির ওপর একটি series শুরু করবো ভাবছি। রাজপুত মূলত শুদ্র জাতি। এই শূদ্ররাজপুত দের রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের ইতিহাস নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে।

Early Mediaeval Era তে রাজস্থান ও আজকের পাকিস্তানের রাজস্থান লাগোয়া অঞ্চলে হুন এবং, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় অঞ্চলের গোন্ড উপজাতি গুলোর প্রভাবশালী ব্যক্তি রা একসাথে আসে ও বৈবাহিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া শুরু করে। আজকের ভাষায় একে বলে Lobby বানানো। এই নতুন Lobby টাই নিজেদের নাম দেয় রাজপুত।

সিং , রাঠোর, রাওয়াল, রাওয়াত - এগুলো পদবী গুলো হরিয়ানা তে জাঠ, রাজস্থানে রাজপুত। অর্থাৎ, হরিয়ানার কৃষিজীবী জাঠ ও রাজস্থানের অসিজীবী রাজপুত এক ও অভিন্ন জাতি By roots,

হরিয়ানা তে কৃষিজমি উন্নত হোয়ায় সেখানে যে Community কৃষিকাজ করতো, সেই Community রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজ করতে পারতো না। তাই, তারা রাজস্থানে অস্ত্র আর ভিত্তিতে লুঠপাট কেই নিজেদের মুখ্য জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করে।

আমরা সবাই চম্বলের ডাকাতদের ইতিহাস জানি, কিন্তু অনেকেই আমরা জানিনা যে এই চমবলের ডাকাত রা সকলেই জাতিতে রাজপুত।

কোনো Elite Class জাতি এমন ডাকাতি করে বেড়ায় না। জম্মুর ডোগরা রাজপুত বলে পরিচয় দেয় যারা, তারা ১৮৮০ অব্দি নিজেদের শুধুই dogra বলতো, এবং এরা Dogra Tribe এর অংশ, যারা হরি সিংহ নলওয়া (রাজা রনজিত সিং এর খাত্রি সেনাপতি) এর সৈন্য অভিযান এর পর ক্ষমতায় আসে। কাশ্মীরি পন্ডিতরা আজও dogra দের শুদ্রই ভাবে।

Comment Box এ রইলো, স্কন্দ পূরণ এর অংশ যেখানে রাজপুতকে স্পষ্টত বলা হয়েছে -> শুদ্র যারা অস্ত্র চালনায় নিপুণ।

রাজস্থানের প্রায় প্রতিটা দুর্গ শেষ ৪০০ বছরে তৈরি। অর্থাৎ, Late Mughal and Early Brittish

রাজস্থানের জন্ম কিভাবে, সেবিষয়ে শীঘ্রই লিখবো।

Read More

Author: Animesh

Historical Hindu 16-May-2025 by east is rising

ভারতের মুসলমানদের ওপর ঘটা শেষ ১৫ দিনের হিসেবঃ বিভিন্ন রাজ্য জুড়ে

এটা নরেন্দ্র মোদীর ভারত, যেখানে বিদেশী সন্ত্রাসীদের করা সন্ত্রাসের জবাব সন্ত্রাস দিয়ে দেওয়া হয় দেশের মুসলিমদের বিরুদ্ধে। 

পহেলগাম হামলার পর, মাত্র ১৫ দিনে মুসলিমদের লক্ষ্য করে ১৮৪ 'টি ঘৃণ্য অপরাধের খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে ভারতজুড়ে ৩১৬ জন ভুক্তভোগী আক্রান্ত হয়েছেন (APCR রিপোর্ট)।

আইন ও ঐক্য বজায় রাখার পরিবর্তে, মোদীর শাসন জনতাকে নির্দোষ মুসলিম নাগরিকদের মারধর, হুমকি এবং হত্যা করতে সক্ষম করেছে - কেবল তাদের বিশ্বাসের কারণে।

Read More

Author: Sakib Hasan Piyada

Social Hindu 14-May-2025 by east is rising

দ্রাবিড় ভাষী অঞ্চল

আজকে আপনাদের এমন একটা ভাষা নিয়ে আলোচনা করব যা প্রকৃতপক্ষে দ্রাভিড় ভাষাগোষ্ঠীর হলেও সুদূর বেলুচিস্তানের অন্যতম প্রধান ভাষা।

ব্রাহুই হলো দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর উত্তর দ্রাবিড় শাখার একটি ভাষা। এটি মূলত পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানে প্রচলিত। ভারতের উত্তর পশ্চিমাংশে পাঞ্জাব রাজ্যে বিচ্ছিন্নভাবে ভাষাটি প্রচলিত হলেও পশ্চিমবঙ্গে কেবলমাত্র উত্তর দিনাজপুর জেলায় বসবাসকারী ইরানীয় জনগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে পারসী ছাড়াও এই ভাষার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এটি একটি দ্রাবিড় ভাষা হলেও দ্রাবিড় ভাষাসমূহের পীঠস্থান দক্ষিণ ভারত থেকে ভৌগোলিকভাবে ভাষাটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই ভাষার নিজস্ব কোনো লিপি না থাকায় নাস্তালিক ও ল্যাটিন লিপি ব্যবহার করে ভাষাটিকে লিখিত রূপ দেওয়া হয়। ভাষাটি প্রধানত পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশ এবং তার সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের হিরাট ও হেলমন্দ পার্বত্য এলাকায় প্রচলিত।

ব্রাহুই ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নিকটবর্তী বালুচ ভাষার সাদৃশ্য পাওয়া গেলেও দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর অন্যান্য ভাষায় সেই বৈশিষ্ট্যগুলি অনুপস্থিত। ব্রাহুই ভাষার শব্দভাণ্ডার অনেকাংশেই বালুচ ভাষার দ্বারা প্রভাবিত, অথবা বালুচ ভাষা থেকে সরাসরি ব্রাহুই ভাষায় প্রবেশ করেছে। সাউথওয়ার্থ (২০১২) এর মতে, ব্রাহুই দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর ভাষা নয়, এটি ‘জাগ্রোসিয়ান’ ভাষা পরিবারের একটি ভাষা, যার জন্ম দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়, এবং এটি আর্যদের আগমনের পূর্বে ব্যাপকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাষার কোনো প্রকারের অস্তিত্বের কথা সেভাবে জানা না গেলেও ঝালওয়ানি ও সারওয়ানি নামে দুটি প্রকার (যথাক্রমে দক্ষিণ ও উত্তর) এই ভাষায় বর্তমান। পারসী, বালুচ ও পুস্ত ভাষা ব্রাহুই ভাষার উপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

ব্রাহুই জনজাতির মধ্যে তিনটি বিভাগ দেখা যায়, যাদের মধ্যে ঝালওয়ানি ও সারওয়ানি-এই দুটি বিভাগের জনসংখ্যা অধিক। ব্রাহুই জনজাতির মধ্যে বর্তমানে সর্বমোট ২৭টি উপজাতি রয়েছে। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে ই ট্রাম্প সর্বপ্রথম ব্রাহুই ভাষা ও জনজাতি সম্পর্কে একটি প্রামাণ্য গবেষণার মাধ্যমে ভাষাটিকে কুরুখ ও মালতো ভাষার সঙ্গে একই উপশাখার অন্তর্ভুক্ত করেন। বর্তমানে ব্রাহুই ভাষার শব্দের মাত্র ১৫ শতাংশের উৎপত্তি দ্রাবিড় ভাষাসমূহ থেকে হয়েছে।

ব্রাহুই ভাষার স্বরবর্ণগুলি লং অর্থাৎ দীর্ঘ, শর্ট অর্থাৎ হ্রস্ব, এবং ডিপথং- এই তিনটি শ্রেণির হয়। ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে প্লোসিভ অথবা স্টপ, ন্যাসাল, ফ্রিকেটিভ, ল্যাটারাল, রোটিক ও গ্লাইড- এই প্রকারগুলির অস্তিত্ব রয়েছে। রেট্রোফ্লেক্সন ধর্মটি দেখা গেলেও পার্শ্ববর্তী অন্য ভাষার মতো অ্যাসপিরেশন ধর্মটি লক্ষ্য করা যায় না। নিকটবর্তী বালুচ ভাষার চেয়ে ব্রাহুই ভাষায় ফ্রিকেটিভ ও ন্যাসাল কনসোনেন্ট অর্থাৎ ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা বেশি। ব্রাহুই ভাষায় স্ট্রেস ‘কোয়ান্টিটি-বেসড-প্যাটার্ন’ অনুসরণ করে। সবসময় শব্দের প্রথম দীর্ঘস্বর অথবা ডিপথং এর উপর স্ট্রেস বসে। মূলত পাকিস্তানে ভাষাটি প্রচলিত, ইউনেস্কো ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহুই ভাষাকে পাকিস্তানের ২৭টি বিপন্ন ভাষার মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে এই জনজাতির বেশ কিছু মানুষের মধ্যে দ্বিভাষিক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, এরা ব্রাহুই ও বালুচ- দুইটি ভাষাতেই পারদর্শী।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 14-May-2025 by east is rising

পঃ বঙ্গের অভিনেতারা আর হয়তো বাংলাদেশের বাজারকে কাজে লাগিয়ে বাঁচতে পারবেনাঃ পঃ বঙ্গে এমনিতেও অবস্থা খারাপ পঃ বঙ্গের অভিনেতাদের

পাকিস্তানের সঙ্গে দ্ব*ন্দ্ব নিয়ে উত্তাল ভারতের পরিস্থিতি। অপারেশন সিঁদুরকে সমর্থন ও প্রশংসা জানিয়ে নানা মন্তব্যও করছেন ওপার বাংলার তারকারা। এমন আবহে বাংলাদেশকে স্মৃতিচারণ করে পোস্ট দিয়েছিলেন টালিউড অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা। আর এ নিয়ে নেটিজেনদের খানিক তো*পের মুখে পড়েন তিনি।

টালিউডের প্রথম সারির অভিনেতা অঙ্কুশ। তার দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে একাধিক হিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। শুধু টালিউড নয়, ঢালিউডের নানা অভিনেতা ও প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করেছেন এই নায়ক। শুধু কলকাতাতেই নয়, বাংলাদেশেও প্রচুর অনুরাগী রয়েছে অঙ্কুশের। চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়ার মতো তারকাদের বিপরীতে একাধিক ছবিতে কাজ করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা।

বাংলাদেশে বেশ আপ্যায়ন পেয়েছেন অঙ্কুশ। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের প্রতি অঙ্কুশের বিস্তর ভালোলাগা। সেই কথাই যেন অনুরাগীদের আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন নায়ক।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি ভাগ করে নেন অঙ্কুশ। ছবিটির ক্যাপশনে লেখেন, 'হঠাৎ খুঁজে পেলাম। প্রায় ১১ বছর আগের ছবি । শেষবার বাংলাদেশে গিয়েছিলাম শ্যুটিং করতে। অপেক্ষায় থাকলাম আবার কবে যেতে পারব। কারণ সবথেকে বেশি ভালোবাসা অভিনেতা হিসেবে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যদি কোথাও পেয়ে থাকি সেটা হল বাংলাদেশ।'

অঙ্কুশের এই পোস্ট দেখে বাংলাদেশি ভক্তরা আপ্লুত হলেও গাত্রদাহ শুরু হয় কিছু ভারতীয় নেটিজেনদের। এক ভারতীয় নেটিজেন মন্তব্য ঘরে লিখেছেন, 'আদিখ্যেতা'। তবে সেই পোস্টটি আর অভিনেতার টাইমলাইনে আর দেখা যায়নি। তবে গুগল সার্চ এর কেচ রেকর্ড এ সেই পোস্টের আলামত পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত ৪৫ হাজার প্রতিক্রিয়া ছিল অঙ্কুশের সেই পোস্টে। কী কারণে ডিলিট করলেন, তা নিয়ে অবশ্য নানা সন্দেহের দানা বেঁধেছে নায়কের বাংলাদেশি ভক্তদের।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

mythical Hindu 14-May-2025 by east is rising

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরবর্ত্তিকাল থেকে খ্রীষ্টের জন্মের পূর্বভাগ

অর্থাৎ (৩১০০ পূর্ব্ব থেকে খৃষ্টাব্দ শুরু পর্য্যন্ত)

৩১০০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> যুধিষ্ঠিরের পর পরীক্ষিতের রাজ্যকাল।

৩০০০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> জন্মেজয়ের রাজত্ব-কাল।

১২৮৮ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> ক্ষেমকের রাজ্যকাল ও পাণ্ডব-বংশের পরিসমাপ্তি। হস্তিনাপুরের প্রভাব বিধ্বস্ত।

১১৮২ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> মগধে জরাসন্ধ্য বংশের শেষ নৃপতি রিপুঞ্জয়কে হ ত্যার মাধ্যমে প্রদ্যোৎ-বংশের রাজত্ব আরম্ভ।

৮৬০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> প্রদ্যোৎ বংশীয় পালকের পর পুলক বংশীয় নৃপতি রাজত্ব করেন।

৮৫৬ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> প্রদ্যোৎ বংশীয় বিশাখমূপ মগধের সিংহাসনে আরোহন করেন ও ২৫ মতান্তরে ৫৩ বৎসর রাজত্ব করেন।

৮৩১ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> জনক বা অজক রাজ্যলাভ করেন।

৮০০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> নন্দীবন্ধন বা বর্ত্তিবর্দ্ধন রাজ্য লাভ করেন ও এই সময় হইতেই প্রদ্যোৎ বংশের অবসান হয়।

৭৭৭ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> শিশুনাগ বংশের অভ্যুদয়। মগধ তাঁহার রাজধানী ছিল। এই শিশুনাগ-বংশীয় নৃপতিগণ ৩৬২ বৎসর কাল মগধের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

৬০২ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> বিম্বিসার মগধের সিংহাসনে অধিরোহন করেন। এই সময় রাজা প্রসেনজিৎ কোশল রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। শাক্যগণ কপিলাবস্তু নগরে রাজধানী স্থাপন করিয়াছিলেন।

শাক্যকুলপতি শুদ্ধোদন তখন পরাক্রমশালী হইয়া উঠিয়াছিলেন। বিম্বিসার ৫২ বৎসর রাজত্ব করিয়াছিলেন।

রাজচক্রবর্তী পরীক্ষিতের রাজত্ব-কাল মধ্যেই যখন এবম্বিধ বৈষম্যের ও বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত ঘটিয়াছিল, তখন তাঁহার পরবর্তী প্রায় আড়াই হাজার বৎসবের মধ্যে কি বিকৃতি ঘটিবার সম্ভাবনা, সহজেই অনুমান হইতে পারে। সেই বিকৃতি বশতঃই পরবর্তিকালে হিন্দু-নৃপতিগণের কাহারও আর ভারতে একছত্র প্রভাব স্থায়ী হইতে পাবে নাই। সেই বিকৃতি-বশেই রাজশক্তি বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িয়াছিল, আচার-বিচার ধর্ম্ম-কৰ্ম্ম কলুষিত হইয়া আসিয়াছিল। অধিক কি, নাস্তিক্য মতের উদ্ভাবনা-সেই বিকৃতিরই বিষময় ফল বলিয়া মনে করা যাহতে পাবে। ক্রিয়াভ্রষ্ট, আচারভ্রষ্ট, জ্ঞানভ্রষ্ট হইয়া অনেকেই তখন সংসারে বিষম বিষের প্রবাহ প্রবাহিত করিয়া তুলিয়াছিল।

ভারতে আবার নূতন রাজশক্তির নূতন সাম্রাজ্যাদির অভ্যুদয় ঘটিয়াছিল।

৫৬৩ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> বিম্বিসারের রাজত্বকালে গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব হয়।

৫৫০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> অজাতশত্রু মগধের সিংহাসনে অধিরোহন করেন। অজাতশত্রু গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক বলিয়া প্রসিদ্ধ-সম্পন্ন।

৫২৭ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> অজাতশত্রুর লোকান্তরের পর তৎপুত্র দর্শক মগধের সিংহাসনে আরোহন করেন।

৫১১ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> দর্শকপুত্র উদয়াশ্ব মগধের সিংহাসনে অধিরহণ করেন। অজাতশত্রুর পুত্র উদয়ীভদ্দ পাটলিপুত্র রাজধানীর প্রতিষ্ঠা করেন।

৫০০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> নন্দীবন্ধন রাজ্য প্রাপ্ত হন। তিনি ৪২ বৎসর রাজত্ব করিয়াছিলেন। নন্দীবর্দ্ধনের পর মহানন্দী রাজা হইয়াছিলেন। তাঁহার ৪৩ বৎসর পর শিশুনাগ বংশের অবসান হয়।

৪৯০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> কোশলরাজ বিরোধক এই সময় গৌতমবুদ্ধের স্বজাতিবৃন্দকে ও আত্মীয়গণকে হ ত্যা করিয়া কপিলাবস্তু নগরের ধ্বংস সাধন করেন।

৪৮৫ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> এই সময়ে বা ইহার অব্যবহিত পূর্বে পারস্য হতে দারায়ুস ভারত আক্রমণের জন্য অগ্রসর হইয়াছিলেন।

৪৮০ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> গৌতম বুদ্ধের তিরোভাবের অব্দ বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হয়।

৪১৫ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> মহাপদ্মানন্দী রাজ্য প্রাপ্ত হন।

৩২৫ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> আলেকজাণ্ডারের ভারত অভিযান ও তাঁর মৃ ত্যু।

৩১৫ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> নন্দ বংশের উচ্ছেদ সাধনে কৌটিল্য চাণক্যের দ্বারা মৌর্য্য বংশের প্রতিষ্ঠা হয় ও চন্দ্রগুপ্ত মগধের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।

২৯৬ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> এই সময় চন্দ্রগুপ্ত লোকান্তর গমন করেন। তাঁহার পুত্র বিন্দুসার মগধের সিংহাসনে আরোহন করেন।

২৭৩ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> পিতা বিন্দুসারের মৃ ত্যুর পর অশোক (অশোকবর্দ্ধন) সিংহাসন লাভ করেন।

১৮৫ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> এই হইতে মৌর্য্য বংশের অবসানে মগধে শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল। শুঙ্গবংশীয় পুস্পমিত্র পাটলিপুত্রের সিংহাসনে অধিরোহণ করেন। তাঁহার রাজত্বকালে মেনান্দার কর্ত্তৃক ভারতবর্ষ আক্রমণ হয় (১৫৫-১৫৩ পূর্বখৃষ্টাব্দ)।

১৪৯ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> পুস্পমিত্রের পর তাঁর পুত্র অগ্নিমিত্র সিংহাসনে আরোহণ করেন।

৭৩ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> দশম নৃপতি দেবভূতি হইতে শুঙ্গ বংশের প্রাধান্য বিলুপ্ত হয়।

৫৭ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> রাজচক্রবর্ত্তী বিক্রমাদিত্যের সুপ্রতিষ্ঠার কাল। এই সময় হইতেই বিক্রম সংবতের প্রবর্ত্তনা। বিক্রমাদিত্য ও তাঁহার পুত্র ৯৩ বৎসর রাজত্ব করেন। শ্রেষ্ঠ হিন্দু নৃপতি বলিয়া তাঁহার এতদূর প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল যে, পরবর্ত্তী কালে অন্যান্য রাজন্যবর্গ আপনাদিগকে 'বিক্রমাদিত্য' নামে পরিচিত করিয়া গিয়াছেন।

৪৯ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> এই সময় কণ্ব বংশীয় নারায়ণ মগধের সিংহাসন লাভ করেন।

৩৭ পূর্ব্ব-খৃষ্টাব্দ> কণ্বের পর সুশর্মা মগধের সিংহাসন লাভ করেন। তিনি কণ্ব বংশের শেষ নৃপতি। তাঁহাকে সিংহাসনচ্যুত করিয়া মগধে অন্ধ্র বংশ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। এই অন্ধ্রগণ দ্রাবিড় দেশের আদি-অধিবাসী বলিয়া পরিচিত।

তথ্যঃ পৃথিবীর ইতিহাস পঞ্চম খণ্ড

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 19-April-2025 by east is rising

Bangladesh Must Be Aware Of The Fact That India Can Balkanize

One thing the Bangladeshi political establishment chooses to ignore or refuses to acknowledge (may be due to fear) is that the Indian Union is going through an ongoing disintegration process that will ultimately lead to indepandant Balkanized States.

Why?

Global Oder

*** Global South, although may enjoy Indian cheap labor and vast consumer market, knows very well that India's potential to become another China can significantly reduce their power balance.

Global south's GDP share, manufacturing hubs will dwindle away due to India's rise.

Then there's a risk of global recession, de-dollarisation which would destroy American economic hegemony.

So, it is in their best interest to curve out smaller regional groups for better controll and exploitation.

From Chinese perspective: Two rival economy with humongous polpulation and land area can not coexist side by side. One has to die out in order to thrive the other.

China does not recognize the Radcliffe Line (between India and Pakistan/Bangladesh) or the McMahon Line (between India and China/Tibet).

If India concedes to Chinese philosophy and global order vision and take side against imperial capitalists then India would be welcomed.

But Indian capitalist class is built on western imperialistic ideals, west is their vatican. It is highly unlikely that Indian Oligarchical State Guided Capitalism would allow it to accept Chinese vision.

This is where global south comes into play to ornate Indian Military against China to keep its regional integrity intact. West will repeat Ukrainian formula. (The Ass in The Lion's Skin)

Plethora of internal problems:

*** India is way too big and diverse to have a singular identity, culture, language or Opinion.

Whoever gets the majority in the union will plunder the rest and minority nations voice will get steeper day by day.

e.g. - Hindi heartland feeding economically on Non-Hindi costal regions, Hindi language being imoosed on Non-hindis which results in attrition of many native dialect , veg culture being forced onto Non veg nations.

*** Minority Nation States were unified on gun point, the depiction of its political borders under colonial rule will always set soverign entites at strife with each other.

Instance- Population dynamics in north east has created scenario such as Meitei Hindu vs Kuki , Assamese vs Bangali, Tripura vs Bangali.

On the other hand, 47's border drawing shows muslims majority states were forsaken in a Hindu majority country that led to their misery.

1971's narrative denies Bangali's political and civilizational existance beforehand and claim over land.

*** The rise of Vedic Frontier as modern theologic state. To overcome Indian national insecurity BJP/RSS came up with an idea of a common ememy theory to unite the main land India. They've used hatred as a propellant to facilitate "Rashtriya Ekata" which has now paved a way for a wide scale genocide. India is a now an active volcano.

*** Indian think tank and foreign policy is heavily influenced by Chanakya, who's principles were mediaval success but now would be considered as meanest doctrine to run a modern state. These orthodox principles made India friendless in its neighbours. India can not justly act to its citizens and its surrounding neighbours. It is vile in nature.

যারা ভাড়তের সাথে রিকনসিলেশন করতে চায় তাদের এই পয়েন্ট গুলো মনে রাখা উচিত। ভাড়ত তার নেচারে কখনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। কনফ্লিক্টই সর্বশেষ সমাধান।

এখন কথা হচ্ছে আপনি কতটুক রক্ত দিতে প্রস্তুত!!!

Read More

Author: Zahid Mollah

Theoretical Hindu 06-April-2025 by east is rising

নোয়াখালির দাঙ্গা

আজ লক্ষ্মী পূজা ১৯৪৬ সালে এই দিনে নোয়াখালী বুকে শুরু হয় এক নির্মম হত্যাকাণ্ড।

বিভিন্ন আর্টিকেল ও কিছু বই থেকে এই হত্যাকাণ্ড নিযয়ে একটি ছোট্ট সংস্করণ তৈরি করেছি এই সংস্করণ থেকে এই ঘটনাটির কিছু হত্যাযজ্ঞ ও গান্ধী ষজির স্বেচ্ছাচারিতা অংশটি তুলে ধরছি।

নােয়াখালির দাঙ্গায় চিত্ত দত্তরায়ের আত্মাহুতি :

শায়েস্তানগরের চিত্ত দত্তরায়ের বাড়ি কয়েক হাজার মুসলমানের দ্বারা আক্রান্ত হলে তিনি তাঁর বৃদ্ধ মা ও সন্তানদের নিজের বন্দুকের গুলিতে হত্যা করে নিজেও গুলিতে আত্মহত্যা করেন। গুলি না থাকায় তার স্ত্রী ও একটি শিশু সন্তান রক্ষা পায়।

সুরেন্দ্র কুমার বোসের বাড়ি আক্রমন :

“এমনই একটি দল স্থানীয় জমিদার সুরেন্দ্র কুমার বোসের বাড়ি আক্রমণ করে। তাঁকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। এরপর জনতা সুরেন্দ্রবাবুর কাছারি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে পালিয়ে আসা অনেক হিন্দুনারী ও শিশু ঐ কাছারি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের অনেকেই আগুনে জ্যান্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। যারা কোনোক্রমে এই জতুগৃহ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল, তাদেরও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

রাজেন্দ্রলাল রায়ের বাড়ি আক্রমন-

“অপর একটি দল নোয়াখালির District Bar-এর সভাপতি রাজেন্দ্রলাল রায়ের বাড়ি (করপাড়া গ্রাম) আক্রমণ করে। কিন্তু সেখানে স্থানীয় হিন্দুরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করলে দাঙ্গাকারীরা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাধা পেয়ে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আশেপাশের হিন্দুগ্রামগুলিতে আক্রমণ চালায়। হিন্দুদের দেবস্থানগুলির পবিত্রতা নষ্ট করে। ইতিমধ্যে রাজেন্দ্রলাল রায় বেগমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান এবং দ্রুত পুলিশী নিরাপত্তা দাবী করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ প্রশাসনিক কোন সাহায্যই তিনি পাননি।”

“পরদিন সকাল আটটায় এক বিরাট জনতা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজেন্দ্রলাল রায়ের বাড়ি আক্রমণ করে। কিন্তু রাজেন্দ্রবাবু গুলি চালিয়ে আক্রমণকারীদের হটিয়ে দেন। এভাবে পর পর তিনবার দাঙ্গাকারীরা পিছু হটে যেতে বাধ্য চতুর্থব ↑ সফল হয়। মুসলীম লীগের প্রাক্তন এম. এল. এ. গোলাম সরোয়ারের নির্দেশে আক্রমণকারীরা প্রথমেই রাজেন্দ্রলাল রায়কে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। এরপর তাঁর পরিবারের সবাইকে এবং সবশেষে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের হত্যা করা হয়। ***

(৫০) Amrita Bazar Patrika. 22-10-46

রাজেন্দ্রলাল রায়ের কাটা মাথা একটি রূপার থালায় সাজিয়ে গোলাম সরোয়ারকে উপহার দেওয়া হয়। গোলাম সরোয়ারের নির্দেশে তাঁরই দুই সেনাপতি রাজেন্দ্রলাল রায়ের দুই সুন্দরী মেয়েকে বিজয়ের পুরস্কার হিসাবে গ্রহণ করে।”

রাজেন্দ্রলাল রায় বা সুরেন্দ্র কুমার বোসকে এভাবে হত্যা করার পিছনে মুসলীম লীগ নেতাদের যে পরিকল্পনা ছিল তা সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন

রাজেন্দ্রবাবুর ছোট ভাই অধ্যাপক এম. এল. রায়। ইনি কলকাতার একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন। তিনি জানিয়েছিলেন,

“মুসলমানরা সমস্ত নোয়াখালিকেই ইসলামে রূপান্তরিত করতে চেয়েছিল। তাই ওরা বেছে বেছে এমন লোকদেরই প্রথম আক্রমণ করেছিল যাঁরা ওদের বাধা দিতে পারতেন। আমাদের পরিবারের সকলের মৃত্যুর এটাই একমাত্র কারণ।

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনকভাবে নির্লিপ্ত। পুলিশ কখনোই আক্রান্ত মানুষকে রক্ষা করতে যায়নি, বরং তাদের ‘রক্ষাকর্তা’র ভূমিকা পালন করতে অস্বীকার করেছিল।

সুভাষচন্দ্র বোসের দাদা শরৎচন্দ্র বোস নোয়াখালি ঘুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন,

"No Police help was given to the persons and families attacked though timely appeals for help were made."**

গােপাইবাগের দাসদের বাড়ি :

কয়েক হাজার মুসলমান এই বাড়ি আক্রমণ করে ১৯ জন পুরুষকে নির্মভাবে হত্যা করে। অর্ধমৃত পুরুষদের দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। মহিলাদের ওপর চলে পাশবিক অত্যাচার।

গান্ধীর স্বেচ্ছাচারিতা

নোয়াখালিতে হিন্দুদের এই মুসলমান বর্বরতা থেকে রক্ষা করবার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য গান্ধীজীকে আবেদন জানানো হল। কিন্তু মহাত্মা নোয়াখালি আসতে সম্মত হলেন না। কারণ নোয়াখালি গিয়ে তাঁর 'কর্তব্য' কী হবে 'ঈশ্বর' তাঁকে নির্দেশ দেননি। তাই দাঙ্গ ।পীড়িত মানবাত্মার প্রতি সমবেদনা এবং দুঃখ জানিয়েই তিনি তাঁর কর্তব্য শেষ করলেন।

দিল্লীতে বসে গান্ধীজী যে বিবৃতিটি দিয়েছিলেন তা এখানে তুলে দেওয়া হল : "Ever since I have heard the news of Noakhali, indeed, ever since the blood bath in Calcutta, I have been wandering what my duty is God shall show me the way."**

গান্ধীজী নোয়াখালির হিন্দুদের মুসলমান অত্যাচারের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার এক অসাধারণ 'অহিংস' পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। তিনি হিন্দুদের আহ্বান জানালেন “তারা যেন কখনোই অহসায়ভাবে মৃত্যু বরণ না করে। বরং, তাদের উচিত একটিও শব্দ না করে হত্যাকারীর তরোবারির দিকে মাথা এগিয়ে দেওয়া। তাহলেই দাঙ্গা থেমে যাবে।” ধর্ষিতা বা অপহৃতা মেয়েদের কাছে গান্ধীজী আহ্বান জানালেন, তারা যেন তাদের অত্যাচারীদের বাধা না দেয়। কারণ, “মেয়েদের জানা উচিত কিভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। সুতরাং খুব সাহসের সঙ্গে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে এবং এর জন্য একটুও শোক করা উচিত নয়। কেবলমাত্র তাহলেই তাদের উপর এই অত্যাচার (ধর্ষণ ও অপহরণ) বন্ধ হবে।" (women must know how to die... women (should) face death bravely and without a murmur. Then only would the terrible killing now going on, stop)**

গান্ধীজীর অহিংসার এই উদ্ভট ব্যাখ্যার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন কংগ্রেস সভাপতি আচাৰ্য্য কৃপালনী। তিনি তখন নোয়াখালির দাঙ্গা কবলিত অঞ্চলগুলি পরিদর্শন করছিলেন। তিনি আহ্বান জানালেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি যা দেখেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু এইটুকুই বলতে পারি, কেন্দ্রীয় বা রাজ্যসরকার কিছু করুক বা না করুক, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক বাঙ্গালীর (হিন্দু) আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।” (from what I have seen and heard the day before and yesterday. I am clearly of the opinion that whatever the Government's, provincial or central, may or may not do, every Bengali, male or female, has to defend himself or herself.)**

আচার্য্য কৃপালনী আরও বললেন, “আমি যদিও সম্পূর্ণ অহিংসার বিশ্বাসী, তা সত্ত্বেও রাজেন্দ্রলাল রায়ের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। প্রত্যেক বাঙালীর সামনে আমি রাজেন্দ্রলাল রায় এবং তাঁর পরিবারের কথা উদাহরণ স্বরূপ তুলে ধরতে চাই যাঁরা দুদিন ধরে লড়াই করে আক্রমণকারী উন্মত্ত জনতাকে ঠেকিয়ে রেখেছিলেন। ১

রেফারেন্স

Kripalani: Gandhi-His Life and Thought.

বিনয়ভূষণ ঘোষ : দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও বাঙালী

V. V Nagarkar-Genesis

Amrita Bazar Patrika.(1946)

The Statesman (1946)

Pirzada Foundation of Pakistan

R. C. Majumdar: History of the Freedom Movement. Vol-3

Mcinery Papers. 1976

G. D. Khosla: Stern Reckoning: A Survey of the Events before and following the Partition of India

Bengal Press Advisory Committee Report, 1946 (Oct.)

V. P. Menon Transfer of Power

মূল বই - নোয়াখালী নোয়াখালী

Read More

Author: Animesh

Historical Hindu 30-March-2025 by east is rising

যুক্ত বঙ্গ হলে বাঙালি উচ্চ বর্ণ কিভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারতে

১৯৪৬-৪৭ এর বেঙ্গল division কে বাঙ্গালী হিন্দুদের একটা বড় অংশ একটা সাফল্য মনে করে। Hard কমিউনিস্ট বাঙালি হিন্দুকেও দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গের আলাদা হয়ে যাওয়াকে একটা achievement ভাবতে। কিন্তু, আদৌ কি তাই?

উত্তর দেওয়ার সময় এসেছে।

প্রথমেই একটা Crystal Clarity রাখা দরকার - সেটা হল পশ্চিম পা কিস্তান ও পূর্ব পা কিস্তান এক নয়।

১. বর্তমান পা কিস্তানের পশ্চিমে ইরান, উত্তর আফ গানিস্তান অর্থাৎ, বর্তমান পা কিস্তানের ৩ দিকের ২ দিকই ই সলাম ধর্মাবলম্বী দেশ দ্বারা আবৃত। কিন্তু, পূর্ব পা কিস্তান বা, বর্তমান বাং লাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব ভাগ এবং, যেকোনওদিকে সুদূর সীমান্ত অব্দিও কোনো ই সলাম ধর্মাবলম্বী দেশ অনুপস্থিত। এটা একটা গভীর demographic difference

২. অবিভক্ত বাংলায় হিন্দুরা কোনোভাবেই Minority ছিলনা। ৪৮-৫২ এর Ratio তে, ৪৮ যাদের সংখ্যা তাদেরকে কোনোভাবেই Minority বলা চলেনা।

৩. ১৯৪০ এর দশকে বাংলাভাষী মুস লমানদের হাতে মোটের ওপর অর্থ ছিলনা। তাদের অনেকেই স্বচ্ছল ছিল কিন্তু, উচ্চবিত্ত ছিলনা কেউই। আর্থিকভাবে হিন্দু উচ্চবর্ণের ধারকাছ এও কেউ ছিলনা তারা। শিক্ষায় ও আন্তর্জাতিক Connections একেবারেই ছিলনা তাদের।

৪. ব্রিটিশ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে বাঙালি হিন্দু UC দের সম্পর্ক Way better ছিল যেকোনো মুসম্মান নেতার থেকে।

এগুলো ছিল হিন্দুদের বা, হিন্দু UC দের কিছু sharp edge! তাহলে, এগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করা যেত?

১. বাংলায় উগ্র বাংলাবাদ এর প্রচার, এবং বাংলায় বসবাসকারী পাঠান, ইরানি, পাঞ্জাবি মুস দের eliminate করা।

২. হিন্দুস্থানী UC হিন্দুর বাংলায় প্রয়োজন না থাকলেও, খুব সহজেই হিন্দুস্থানী Non UC হিন্দু এবং, কিছুক্ষেত্রে NE এর লোকদের বাংলায় ঢুকিয়ে ২০-২৫ বছরের মধ্যেই অখণ্ড বাংলায় হিন্দু পপুলেশন ৬০% আশেপাশে করে নেওয়া যেত।

৩. এই পুরো process টাকে continue করানোর জন্য রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক যে Connections প্রয়োজন সেটা হিন্দুদের বা, হিন্দু UC দের ছিল।

৪. হিন্দু UC দের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গে যে Movement টা হচ্ছিল, সেটা অনেকটাই ১৯৮০ এর দশকেই বিহার UP তে যাদব, বা রাজস্থান হরিয়ানাতে জাঠ দের উত্থানের সমতুল্য। দুটোই জমিদার শ্রেনীকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জোতদার (Mid Caste) শ্রেনীর ক্ষমতা দখলের কাহিনী। হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে মূলত Middle Caste জোতদার সম্প্রদায় বিদ্রোহ করেছিল, যারা পূর্বে ই সলাম নিয়েছিল।

এটার একমাত্র এবং, "রামবান" Counter হল, Communism। পূর্ববঙ্গের হিন্দু জমিদার শ্রেণী যদি স্বেচ্ছায় জমিদারি ছেড়ে দিয়ে Communist Movement এ নিজেদের সঁপে দিয়ে, জোতদার মধ্যবর্ণ এর সাথে ভূমিহীন কৃষকদের সফল সংঘর্ষ তৈরি করতে সক্ষম হত তাহলে, তারা বাংলার ক্ষমতা Clean sweep করতো আবার আরেকবার।

**এমনিতেও ব্রিটিশ আমলে যখন ব্যবসার ভিত্তিতে জমিদারি নিলামী শুরু হয়, সেই তখন থেকেই জমিদারির রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস পায়।

৫. এখনও অব্দি, চার নম্বরে বলা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কেবল ও কেবলমাত্র সম্ভব ছিল যদি ভূমিহীন সমাজ এই কাজে হিন্দু উচ্চবর্ণকে সহায়তা করতো। ভূমিহীন সমাজ অর্থাৎ, নমশূদ্র, পো দ আদি সমাজ। ভূমিহীন হিন্দু সমাজ ও ভূমিহীন মুসলমান সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যদি Ground Zero তে ভূমি অধিকার করে থাকা কৃষক সমাজ (যারা ধর্মে মুলমান পূর্ববঙ্গে, ও হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে) এর বিরুদ্ধে গণআন্দোলন করতো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে, তাহলে ইতিহাস অন্যরকম হতো। কিন্তু, এর জন্য দরকার হতো, যোগেন মন্ডলদের সাহায্য, যা পাওয়া যায়নি।

৬. Communist রাষ্ট্র একমাত্র Communism বাদে অন্য কোনো কিছুর সামনে মাথানত করেনা। Hinduism এমনিতেও communist রাষ্ট্রকে challenge করার জায়গায় নেই, কিন্তু ইস ,লামপন্থী faction যদি এহেন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেত, সেক্ষেত্রে Communist রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য থাকতো। USSR বা, Communist China এর সমান শ্রেনীর action সেক্ষেত্রে হত। অর্থাৎ, হিন্দুদের শ্রেষ্ঠ সুরক্ষা Communist রাষ্ট্রেই হত।

Conclusion - উপরিউক্ত তত্ত্ব পুরোটাই একটা Realizable Plausibilistic Theory। যা করলেও করা যেত।

তবে, এই নিয়ে কোনো সংশয় নেই, বর্তমান বাংলাদেশ আজকের পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে গেছে প্রায় সমস্ত parameters এই, যে বাস্তবতাকে অধিকাংশ বাঙালিই মানতে চায়না কারণ, সেটা মেনে নিলে পশ্চিমবঙ্গ যে একটা Failed Project সেটা মেনে নেওয়া হয়।

Read More

Author: Animesh

Historical Hindu 30-March-2025 by east is rising

কায়স্থ জাতি ব্রাহ্মণ অপেক্ষা নিম্নতর এবং রাজপুত অপেক্ষা উচ্চতর জাতি

বাংলায় ব্রাহ্মণ বাদে বাকি কেউ সবর্ণ নয় - কথাটি আদতে পুরোপুরি ভুল নয়।

বাংলায় ব্রাহ্মণ পরবর্তী দুটি উচ্চজাতি হল - কায়স্থ ও বৈদ্য।

Interestingly, বাংলায় এই দুটি জাতির শৈক্ষিক মান ও শাস্ত্রীয় জ্ঞান চিরকাল ব্রাহ্মণদের প্রায় সমকক্ষ। উদাহরণস্বরূপ, বাংলার প্রথম বাংলা মহাভারত রচিত কাশীরাম দেব (কায়স্থ) দ্বারা।

মালাধর বসু এর শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য হোক - মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে আমরা প্রচুর সংখ্যক কায়স্থ ধর্মজ্ঞাতার নাম পাই।

বাসুদেব ঘোষ গোস্বামী, নরোত্তম দত্ত ঠাকুর - এদের কথা বাদই দিলাম। ঈষৎ, পূর্বকালের কালীপ্রসন্ন সিংহ এর, বা রাজশেখর বসু এর মহাভারত হোক, কিংবা ধর্মজগতে ঋষি অরবিন্দ বা, স্বামী যোগানন্দ বা, স্বামী প্রনবানন্দ বা, স্বামী বিবেকানন্দ - এঁরা সকলেই কায়স্থ। আসামের সর্ববৃহৎ ধর্মগুরু শংকরদেব কায়স্থ। বিদ্যতীর্থ (মিত্র) এর মত কায়স্থ ব্যক্তিত্ব সংস্কৃত ও শাস্ত্রীয় টোলের আচার্য পর্যন্ত নিযুক্ত হয়েছেন অতীতে।

উল্লেখজনকভাবে, বাংলায় ব্রাহ্মণদের পরে সবথেকে অধিক সংখ্যক ধর্মশাস্ত্রজ্ঞাতা কিন্তু কায়স্থরাই।

জনসংখ্যা অনুযায়ী কায়স্থদের সংখ্যা ব্রাহ্মণদের সমতুল্য। তাই, বাংলার ধর্মীয় জগতে এত অধিক সংখ্যায় কায়স্থদের উপস্থিতি প্রমাণ করে,

যে কায়স্থ কদাপি *কেবল যোদ্ধা জ ঙ্গী Tribe নয়*,

কায়স্থ জাতির মধ্যে একটা ভীষণ Strong Brahminical Factor আছে।

পূর্বভারতে তো নয়ই, এমনকি সমগ্র উত্তর ভারতে কায়স্থ বাদে অন্য অব্রাহ্মণ কোনো জাতি খুঁজে দেখানো সম্ভব নয়, যারা ধর্মীয় বিষয়ে যুগ যুগ ধরে Involved হয়েছে, বা যারা শিক্ষায় ব্রাহ্মণদের সমকক্ষ।

কোলকাতা Medical College এর First Generation Batch এর মধ্যে ব্রাহ্মণ ছিল ৫ জন, বৈদ্য ছিল ৫ জন, কায়স্থ ছিল ১৫ জন। (পূর্বেই বলেছি, কায়স্থ জনসংখ্যা ব্রাহ্মণদের Comparable, যা জনপ্রতি কায়স্থ পরিবারে শিক্ষার হার উল্লেখজনকভাবে বেশি প্রমাণ করে। )

উক্ত আলোচনায় প্রমাণিত হয়, কায়স্থ জাতির মধ্যে শিক্ষার গুণ বা, "ব্রাহ্মণগুণ" সুপ্রাচীন অতীত থেকেই বিদ্যমান। অথচ, কায়স্থদের সংস্কার হয় ক্ষত্রিয় মতে।

অর্থাৎ, "ব্রাহ্মণ গুণসম্পন্ন ক্ষত্রিয় বা, ব্রাহ্মণতুল্য ক্ষত্রিয়" - কায়স্থ জাতির সামাজিক মান্যতার ব্যাখ্যা সম্ভব কেবলমাত্র এই শব্দের দ্বারা।

মিথিলার বিখ্যাত মৈথিলী ব্রাহ্মণ কবি বিদ্যাপতি এর রচনা এই যুক্তিকে আরও বলিষ্ঠ করে। বিদ্যাপতি লিখছেন - "কায়স্থ জাতি ব্রাহ্মণ অপেক্ষা নিম্নতর এবং রাজপুত অপেক্ষা উচ্চতর জাতি"।

উল্লেখ্য , রাজপুত জাতি ক্ষত্রিয় হলেও, শিক্ষিত নয় বা, ধর্মীয় বিষয়ে কোনো অবদান পাওয়া যায়না এদের। বাঙালি কায়স্থ জাতির সামরিক অবদান ও ধর্মীয় অবদান দুইই পাওয়া যায়। তাই, শুধু ক্ষত্রিয় বলা সম্ভবত কায়স্থ জাতির সামাজিক অবস্থানের কিছুটা ভুল পর্যবেক্ষণ। কায়স্থ জাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যাখ্যা সম্ভব - ব্রহ্মক্ষত্রিয় বা, ব্রাহ্মণ গুণসম্পন্ন ক্ষত্রিয় হিসেবে।

অন্যদিকে বদ্যিদের ক্ষেত্রেও আমরা দেখি, এরাও যথেষ্ট শিক্ষিত জাতি। এবং, ব্রাহ্মণের ন্যায় পূজার অধিকার প্রাপ্ত না হলেও, এঁরা নিজেদের ব্রাহ্মণ ও বৈশ্য মিশ্রণ বলে থাকেন।

অর্থাৎ, কায়স্থ = ব্রাহ্মণ + ক্ষত্রিয়

এবং, বৈদ্য = ব্রাহ্মণ + বৈশ্য

যা প্রমাণ করছে, বাংলার দুটি অব্রাহ্মণ উচ্চবর্ণের দুইজনের মধ্যেই Strong Brahminical Elements আছে। ব্রাহ্মণ কায়স্থ বৈদ্য - তিনটি জাতি জাতিগত ও বৈবাহিকভাবে আলাদা হলেও, এদের মধ্যে ব্রাহ্মণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বাংলায় ব্রাহ্মণ বাদে কোনো সবর্ণ নেই কথাটার মধ্যে তাই খুব একটা ভুল নেই, কারণ এখানে ব্রাহ্মণ বলতে জাতিব্রাহ্মণ বাদেও ব্রাহ্মণ গুণসম্পন্ন অন্য দুই উচ্চজাতিকেও Mean করা হয়েছে।

Read More

Author: Animesh

Social Hindu 05-March-2025 by east is rising

তামিল নাড়ুতে ৫০০০ বছর পুরনো কিছু লৌহ দ্রব্য পাওয়া গেছে, কিন্তু তাকে লৌহ যুগ বলা যায়না কেন?

শুধু লোহার ব্যবহার জানলেই লৌহ যুগ আসেনা।

লৌহ যুগ আনতে হলে তিনটে শর্ত পালন করতে হবেঃ

১) ইতিমধ্যে ব্যবহৃত কৃষি জমিতে লৌহ লাঙ্গল ব্যবহার করে জমির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে,

২) তার পরিণামে বাড়াতে হবে জন্ম হার ও জনসংখ্যা (অর্থাৎ শক্তিশালী পিতৃতন্ত্র আসতে হবে) এবং

৩) এই বর্ধমান জনসংখ্যা লৌহ কুঠার ব্যবহার করে জঙ্গল কেটে আরও বেশি বেশি জমি নিয়ে আনবে কৃষি ও বাণিজ্যের উদ্যেশ্যে ব্যবহার করার জন্যে।

তামিল নাড়ু-তে ১ পাওয়া যায়নি আর ২ হওয়ার কোন নিদর্শন নেই।

শুধু ৩ অর্থাৎ লৌহ কুঠার পাওয়া গেছে।

ফলে লোহার কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার হলেও লৌহ যুগ আনতে পারেনি দ্রাবিড়েরা।

সেটা হিতাইত-রাও (বর্তমান তুর্কি) আনেনি কারণ তারা লোহার জিনিস কেবল উচ্চবিত্ত-দের বিলাস দ্রব্য হিসেবে ব্যবহার করেছে।

লৌহ যুগ নিয়ে আনে মূলত অসিরীয়রা (বর্তমান উত্তর ইরাক)।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 24-January-2025 by east is rising

হিন্দুদের ক্ষতি করছে ভারতীয় হিন্দুদের আইন হিন্দু কোড, মুসলমান নয়

এজন্যই বলি ধর্মের হোতা হবার আগে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার।

2000 সালেও 13 কোটির বেশি মুসলিম ভারতে বসবাসকারী ছিল।

আমার সাথে যেসব মুসলিম ছেলে পড়তো, তাদের অনেকের পরিবার আমি দেখেছি, অনেকেই বিয়ে করেছে তবে ওদের পিতামাতার কোন চারটে বিয়েও নেই আর 8-10 জন সন্তান ও নেই।

বড়জোর 4 জন দেখেছি বেশি।

এবার হিন্দুদের মেয়েরা বাচ্চা নিতে চাইছে না তার কারণ আগে স্বামীজি বের করুক।

সবথেকে বড় কথা এই সব ভেকধারীরা হিন্দু পুরুষ বিদ্বেষী পশ্চিমা মদদপুষ্ট " হিন্দু কোড" বিলের বিপক্ষে বলে না,যে আইনের কারণেই প্রায় 33% হিন্দু পুরুষ ভারতে বিয়েই করছে না কারণ জেনে বুঝে কেউ তো আর গরল পান করতে যাবে কথা।

সবথেকে বড় কথা, অতুল সুভাষের কেইসের পর ভারতে হিন্দু পুরুষ যে আইনিভাবে চরম নির্যাতনের স্বীকার সেটা বার বার উঠে আসছে।

একটা জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার সুপ্রজনন এবং উন্নতির মাধ্যমে, কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমা শিক্ষা গ্রহণ করে বেশিরভাগই হিন্দু নারীপুরুষ বিয়ে করে দেরীতে আর বাচ্চা ও নেয় কম(আসলে হয় ও কম)।

বিশেষ করে হিন্দু মহিলারা আইনি অধিকারে নিজেদের যা খুশি তাই করছে এবং নিজেদের আকর্ষণীয় রাখতে বাচ্চা ও কম নিচ্ছে।

একারণেই বিগত আদমশুমারিতেই হিন্দু জনগোষ্ঠীর শতকরা হার 80 এর নিচে নেমে গেছে।

আরে মুসলমান তো আর হিন্দুদের বাচ্চা হওয়াতে বাঁধা দিচ্ছে না।

সবথেকে বড় কথা আমি তো জানি মুসলিম জনসংখ্যা আছে 25 কোটি, স্বামীজি বলছেন 38 কোটি, অনেকেই আবার 40 কোটিও বলে।

মুসলমানদের মধ্যে যেহেতু বিবাহকে একটা বিশেষ স্থান দেওয়া হয় তখন তারা এগোবেই তার উপর নিজেদের মুসলমান আইন থাকায় তারা পশ্চিমা আইনের স্বীকার হিন্দুদের মতো হয় না।

মুসলমানদের মধ্যে ওতো নারী স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা নেই।

সবথেকে বড় কথা এখন তো হিন্দু পুরুষরাই মনে মনে ইসলামধর্মে যে নারীর পাশাপাশি পুরুষদের ও অধিকার আছে সেটা বলছে।

শুধু তাই নয় বিভিন্ন কারণ না থাকলে অনেকেই ইসলাম নিয়ে নিবে।

স্বামীজিকে বলবো উণি আগে পশ্চিমা মদদপুষ্ট পুরুষ বিদ্বেষী এবং এক চোখা নারী সাপেক্ষিক হিন্দু আইনের বিপক্ষে উনারা লড়ুক, পুরুষদের পক্ষে আইন এনে আইনের সমানাধিকার দিক নয়তো তারা ধর্ম ছাড়বে কারণ সবাই সাধুও হবে না,সবাই অতুল সুভাষ ও হতে চাইবে না।

Read More

Author: Prosenjit Dey

Religion Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 15-January-2025 by east is rising

ভারতে মুসলমান নিধন কেন অবশ্যম্ভাবী?

Mayukh Ranjan Ghosh হিন্দি গুজারাতি সাম্রাজ্যবাদ-এর মূল কথাটা বলে দিয়েছেঃ- 'ঐতিহাসিক ভুল হবে? একেবারেই না। দেশ বুঝে গেছে। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে, বাংলা বিদেশি শক্তির দ্বারা হা ই জ্যা ক হলে তার ফল পড়বে সেভেন সিস্টারে। ফল হবে মারাত্বক মারাত্বক। আঁচ পড়বে ঝাড়খণ্ডে। সেই অমোঘ বাণী সত্যি হবে। বাংলার পাঁচ জেলা, ঝাড়খন্ডের তিন জেলা, উত্তর পূর্বের ৭ টি রাজ্য আমরা ধরে রাখতে পারবো না। গাজা বা pok বানানোর চেষ্টা হবে।'


ভারত বিশেষ করে কাশ্মীর ও পঃ বঙ্গ-আসাম-উঃ পূঃ বিহার জুড়ে মুসলমান উচ্ছ্বেদ কেন আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে করতেই হবে হিন্দি গুজারাতি শাসকদের?

ভারত কি প্রত্যাশা করে আর বৃহৎ ভারতের?

- না।

কেন?

- কারণ দঃ এশিয়াতে মুসলমান জনসংখ্যার শেয়ার ১৯৪১-এ ছিল ২৪% আর ২০২৪-এর শেষে ৩৮%। অর্থাৎ বৃহৎ ভারত তৈরি হলে (ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ নেপাল আফঘানিস্তান এক দেশ হয়ে গেলে) মুসলমান ভোটার শেয়ার ভয়ঙ্কর ভাবে বেড়ে যাবে আর তখন ক্ষমতা আর হিন্দি গুজারাতি-দের হাতে কুক্ষিগত থাকবেনা। তাই হিন্দি গুজারাতি শাসকরা বৃহৎ ভারত গড়ার বিরুদ্ধেই থাকবে, তা মুখে যতোই বৃহৎ ভারত চাই বলুক না কেন।

তাহলে ২০২৪-এ ভারতের হিন্দি গুজারাতি শাসকদের পরিকল্পনা কি?

- ভারতের হিন্দি গুজারাতি শাসকরা বর্তমান ভারত থেকে মুসলমান-দের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

কিভাবে ভারত থেকে মুসলমান-দের বের করে দেওয়া হবে?

- ১। মুসলমান লারীদের মধ্যে লারীবাদ ঢোকাতে হবে যাতে তারা যৌন স্বাধীনতা চায়। আর সংখ্যালঘু দুর্বল জাতির লারী যৌন স্বাধীনতা পেলেই সংখ্যাগুরু ক্ষমতাবান জাতির পুরুষদের প্রতি আকর্ষিত হবে এবং এর ফলে সংখ্যালঘু দুর্বল জাতির পুরুষদের অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে আর সেই সংখ্যালঘু দুর্বল জাতির লারী বেশি সন্তানের জন্ম দিতে অস্বীকার করবে। মুসলমানদের জন্মহার ভারতে হিন্দুদের চেয়েও কমিয়ে দিলে তাদের নিয়ে আর চন্তার কিছু থাকবেনা। মোটামুটি দালাল-বেশ্যার জাতিতে পরিণত হবে তারা। (ভালো করে বুঝতে এই লেখা পড়ুন https://www.eastisrising.in/view-news/174 )।

২। মুসলমান জনসংখ্যা যেখানে অপেক্ষাকৃত বেশি তাদের না না ভাবে "অপরাধী" হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া। যেমন- "বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী" না "জঙ্গী" বা "লারী স্বাধীনতা বিরোধী", ইত্যাদি। এর পরের ধাপ হবে এই উচ্চ জনসংখ্যার অঞ্চলে তথাকথিত দাগিয়ে দেওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো। পঃ বঙ্গ-নীম্ন আসাম-উঃ পূঃ বিহার, পঃ ইউপি, হায়দেরাবাদ সংলগ্ন তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটক অঞ্চল এবং উত্তর কেরালা ও কাশ্মীর উপত্যকা- এই অঞ্চলগুলোতে মুসলমান জনসংখ্যার শেয়ার উচ্চ (২৫% থেকে ৭৫%)।

এদের মধ্যে বাংলাদেশের পাশেই অবস্থিত পঃ বঙ্গ-নীম্ন আসাম-উঃ পূঃ বিহার ও পাকিস্তানের পাশেই অবস্থিত কাশ্মীর উপত্যকা হিন্দি গুজারাত শাসকদের মাথা ব্যথার মূল কারণ। তাই কাশ্মীরি মুসলমান ও বাঙালি মুসলমানদেরই বেশি অত্যাচার সহ্য করতে হচ্ছে আর হবে। এর সঙ্গে বলা যায় যে বাঙালি হিন্দু ও শিখরা যদি যথাক্রমে বাঙালি মুসলমান ও কাশ্মীরি মুসলমানদের সাথে হাত মেলায় তাহলে হিন্দু গুজারাতি শাসকদের সাম্রাজ্য অনিবার্য ভাবেই ভেঙ্গে পড়বে। কাশ্মীরি মুসলমানদের সাথে শিখরা হাত মেলালে পঃ ইউপি-র মুসলমানেরাও তাদের সাথে একত্রিত হতে পারবে। আবার বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান হাত মেলালে উঃ পূঃ বিহার, সিকিম ও উঃ পূঃ রাজ্যগুলোও একত্রেই হাতছাড়া হয়ে যাবে।

তাই হিন্দি গুজারাতি শাসকদের আজ নয় কাল পঃ বঙ্গ, আসাম ও উঃ পূঃ বিহার জুড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাতে হবে। তারা চাইবে রোহিঙ্গাদের মতো তাদের জোড় করে বাংলাদেশে রিফিউজি করে পাঠিয়ে দিতে। হিন্দি গুজারাতি শাসকরা এটা চাইবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। কারণ ২০৩০-এ বাঙালি হিন্দু ও আসামী হিন্দুদের জনসংখ্যার শেয়ার দ্রুত কমে যাবে কারণ এই দুই জাতির মধ্যে বুমার প্রজন্মই (যাদের জন্ম ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৫-এর মধ্যে) সংখ্যায় অধীক এবং তাদের মৃত্যু হবে ২০৩০-এর দশকেই। বলা বাহুল্য এই দুই জাতির জেন এক্স (যাদের জন্ম ১৯৬৬ থেকে ১৯৮০-এর মধ্যে) ২০৩০-এর দশকে ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী হবে এবং কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে বাঙালি ও আসামের মুসলমানেরা হবে তারুণ্যে ভরপুর। তাই হিন্দি গুজারাতি শাসকদের হাতে সময় বেশি নেই।

আসলে হিন্দি গুজারাতি শাসকদের পক্ষে বৃহৎ ভারত গড়া সম্ভব না। আবার কাশ্মীর উপত্যকা ও পঃ বঙ্গ-আসাম-উঃ পূঃ বিহার মুসলমান অধ্যুষিত যত হবে ততই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নিজেদের পরিধি বাড়াতে পারবে এমন আশঙ্কা থেকে যায়। তাই এই অঞ্চলগুলো থেকে মুসলমান উচ্ছ্বেদ না করে উপায় নেই হিন্দি গুজারাতি সাম্রাজ্যের। আর তা করতে হবে আগামী ৫ বছরের মধ্যেই।

মনে রাখা দরকার বিজেপি যেখানে মুসলমানদের উচ্ছ্বেদ করার পক্ষে যুক্তি তৈরি করে, কংগ্রেস, তৃনমূল, বামদের মতো দলগুলো কিন্তু মুসলমান লারীকে লারী স্বাধীনতার স্বাদ দিয়ে মুসলমান ধ্বংসের পরিকল্পনা করে। এদের লক্ষ্য এক, শুধু লক্ষ্যে পৌঁছনোর উপায়টা আলাদা। যেহেতু হিন্দি গুজারাতি শাসকদের দ্রুত বাঙালি মুসলমান উচ্ছ্বেদ ও কাশ্মীরি মুসলমান উচ্ছ্বেদ করতে হবে, তাই আপাতত বিজেপি-কে সামনে রাখা হয়েছে। বিজেপি যখন নিধন চালাবে তখন কংগ্রেস, তৃনমূল, বামদের মতো দলগুলো তখন "জঙ্গী দমন" অভিযানকেই সমর্থন করবে। তাই ভারতের বিশেষ করে পঃ বঙ্গ আসাম ও উঃ পূঃ বিহারের মুসলমানদের আর ভোটের রাজনীতি করা উচিত নয়। এখনই তাদের ব্যবস্থা নিতে হবে নিকট ভনিষ্যতের নিধন যোগ্যের বিরুদ্ধে।

ভারতের মুসলমান-দের নির্দ্বিধায় বলতে হবে তারা "ইউনিফর্ম সিভিল কোড" মানবেননা কারণ তা মুসলমান সমাজে লারীবাদ ঢুকিয়ে মুসলমান সমাজকে দালাল-বেশ্যার জাতিতে পরিণত করবে, আবার একই সাথে বুঝতে হবে এমন দেশে গোলাম হয়েই থাকতে হবে যেখানে ভোটব্যঙ্ক দুর্বল। এর মানে এমন দেশ বানানো দরকার যেখানে ভোটব্যাঙ্ক-এর গুরুত্ব থাকবে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics Hindu feminism 05-January-2025 by east is rising

ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ, পলিটিক্যাল পার্টি , সিভিল সোসাইটি এবং মিলিটারি পারসেপশন পাল্টাতে হবে।

written by Zahid Mollah 
প্রশ্ন করুন ভারত একটা 'দেশ' নাকি 'সাম্রাজ্য'?

১৯৪৭ সালে ভারত কিন্তু কোনো দেশ হিসেবে ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে নাই। সত্যি কথা বলতে ভারত পাকিস্তান কেউই স্বাধীন হয় নাই। এরা উভয়েই ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর চুক্তি বা Transfer of Power এর মাধ্যমে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস পেয়েছিলো।

ভারতের পলিটিক্যাল বাউন্ডারির বাইরে তখনও কাশ্মীর, গোয়া, হায়দ্রাবাদ, সিক্কিমের মতো ৫৬৫ টা স্বাধীন প্রিন্সলি স্টেট্ ছিল যে গুলাকে ভারত মিলিটারি আগ্রাসনের মাধ্যমে দখল করে নিয়ে নিজের ভূমিতে আত্তীকরণ করেছে।

ভারত হচ্ছে Ex British Empire যেটার মালিকানা পরিবর্তন হয়ে এখন Neo Hindi Empire এ পরিণত হয়েছে। এবং এটার মালিকানা হস্তগত হয়েছে গুজরাটি, মাড়োয়ারি (রাজস্থানি) পুঁজিপতি গোষ্ঠীর হাতে।

হিন্দি-গুজরাটি কেন্দ্রিক সেই শাসক গোষ্ঠীর অধীনে প্রায় ১১৬টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী শাসিত হচ্ছে যাদের নিজস্ব ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি রয়েছে এবং এই সকল জাতিগোষ্ঠী কিন্তু পরস্পর বিরোধী এবং সংঘর্ষ প্রবণ ।

এত্ত কিছুর পরেও ভারত তাদেকে একটা ইউনিয়নের অধীনে কিভাবে রাষ্ট্রীয় একক হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে?

এর উত্তরে প্রথমটা হচ্ছে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদ (যেটার ভিত্তি মুসলমান বিদ্বেষ) আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে ভারতের ব্রুটাল মিলিটারি ফোর্স।

হিন্দু জাতীয়তাবাদই ভারতকে বহুধর্মের, বহুভাষিক, বহু সংস্কৃতির দেশ থেকে একটি একক শক্তিশালী থিওলজিক দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। আর এই প্রসেসে মারা পড়বে ভারতের মুসলমানেরা।

ভারতের গুজরাটি মাড়োয়ারি হিন্দি পুঁজিবাদ কেন্দ্রিক শক্তি তাদের মিডিয়া প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা ধর্মের প্রতি ভারতের সামাজিক বুনিয়াদকে যেভাবে বিষাক্ত করে দিয়েছে তাতে ভারতের অমুসলমান সকল জাতিগোষ্ঠী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভারতীয় মুসলমানদের মারবে।

এবং এই গণহত্যা সিস্টেমেটিক্যালি নানান উপজীব্যের আড়ালে হবে, দেখে মনে হবে না যে সেখানে গণহত্যা হচ্ছে।

যেমন বিহারি হিন্দুদের উস্কে দেয়া হচ্ছে বিহারি মুসলমানদের উপর, উত্তরভারতে ভারতীয় বাংলাভাষী মুসলমানদের কে বাংলাদেশী দাগিয়ে উস্কে দেয়া হচ্ছে , নর্থ ইস্টে হিন্দু মেইতেইদের উস্কে দিচ্ছে খ্রিস্টান কুকিদের উপর গণহত্যা করতে।

যখন পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের বাংলাদেশী হিসেবে তকমা দিয়ে মারা শেষ হবে, এর পর ধরা হবে পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালী হিন্দুদের। বাঙ্গালী হিন্দুরা যদি স্বেচ্ছায় হিন্দি গ্রহণ করে এবং তাদের ঘরের মেয়েদের ইউপি, বিহারি, রাজস্থানি বা গুজরাতিদের খাটে তুলে দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মহাভারতে বিলীন হয় তবে তারা রক্ষা পাবে।

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের কোনো রক্ষা নাই সেটা এক প্রকার নিশ্চিত।

গণহত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত এবং হিন্দু মনোবলকে পুরুষোচিত জোশে চাঙ্গা করতে ভারতীয় পুঁজিপতি গোষ্ঠী তাদের ভারতীয় নেটিভ মাতৃতান্ত্রিক ধর্মগুলোকে সরিয়ে দিয়েছে।

আর এইখানেই উত্তর ভারতের হনুমান এবং জয় শ্রী রামের উত্থান হয়েছে।

রাম হনুমান কেন্দ্রিক ধর্মীয় উন্মাদনার মূল লক্ষ্য মুসলমানদের ম্যাসকুলিন যোদ্ধা মনোভাবকে কাউন্টার করতে বৃহত্তর হিন্দু পলিটির মধ্যে সহস্রাধিক বছর ধরে লালিত মাতৃতান্ত্রিক ধর্মীয় চেতনাকে হত্যা করে পুরুষোচিত উগ্র মনোভাবের পুনর্জাগরণ ঘটানো।

তাই বাঙ্গুল্যান্ডের সিভিল সোসাইটি এবং আর্মিকে অনুরোধ করবো আপনারা বৃহত্তর কনফ্লিক্টের জন্য প্রস্তুত হন।

Vedic Frontier এর পুনরুত্থানে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশ-চীন কেন্দ্রিক একটা সিভিলাইজেশনাল কোর স্টেট্ ওয়ার অসম্ভব কিছুই না।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu 12-December-2024 by east is rising

মুঘল রাজপুত alliance

প্রথম প্রশ্ন রাজপুত কারা?

রাজপুত দের দুটি শ্রেণিতে আমরা ভাগ করবো -

১. রাজস্থান অঞ্চলের রাজপুত

২. UP বিহারের ঠাকুর সম্প্রদায়, হিমাচলের খাসি, জম্মুর ডোগড়া

রাজপুত যত Icon এর নাম পাওয়া যায়, তারা প্রত্যেকে প্রথম শ্রেণীর। দ্বিতীয় শ্রেণী এর যে শুধুমাত্র নিজের কোন Icon নেই এবং তারা প্রথম শ্রেণীর Icon Borrow করে কাজ চালায়, তাই নয়; এরা আর্থিকভাবেও অনেকেই বেশি দরিদ্র, এবং Genetics বা চেহারার দিক থেকেও দুই শ্রেণীতে মিল নেই। প্রথম শ্রেণীর রাজপুত দের আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল অনেকেই, এবং চেহারার দিক থেকে ব্রাহ্মণদের সমকক্ষ না হলেও, একেবারে বাজে দেখতে হয়না। Whereas, একটা average ভোজপুরি ঠাকুর এর চেহারা অতীব জঘন্য।

বস্তুতঃ, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৮০ -৯০% আদিতে কেউ Gond, কেউ পাসি ইত্যাদি জাতির অংশ ছিল। মুঘল আমল এর শুরুর দিক থেকে Pre Brittish Era অব্দি, মোটামুটি যেকোনো কাস্ট এর লোক যে একটি পয়সা করতো, কিংবা লোকবল সঞ্চয় করতো (সেটা ডাকাতি করার লোকবল বহুক্ষেত্রে), তারা রাজপুত কাস্ট এর অন্তর্গত হয়ে যেত, এই পদ্ধতির নাম Rajputisation বা, রাজপুতকরণ। আমরা আমাদের পরবর্তী আলোচনায়, রাজস্থান বাদে অন্য অঞ্চলের রাজপুতদের Fake রাজপুত বলে উল্লেখ করবো, Central Politics (দিল্লী) এ এদের প্রভাব অতীব সামান্য হওয়ায় এদের আমরা ধর্তব্যের মধ্যে রাখলাম না।

তবে, Rajputisation এর মজা হল - এই পদ্ধতিতে নতুন রাজপুত হওয়া কোন ব্যক্তি/ পরিবার মূল রাজপুত বা, রাজস্থানি রাজপুতের থেকে বংশ মর্যাদায় নিম্নতর বা, অবিশুদ্ধ বলে পরিচিত হল।

এখান থেকে দেখছি Rajputisation এর দুটো Interesting Effect ~

১. মূল রাজপুত সেনানায়কের সেনায় Manpower Supply দেওয়া এর সমস্যা মিটছে একদিকে, তেমনই একজন Fake রাজপুত নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করার তাগিদে একজন মূল রাজপুতের সেনায় মরতে ও মারতে প্রস্তুত থাকছে।

২. যেকোনো নিম্নজাতির কেউ যে আর্থিকভাবে সক্ষমতা বা, লোকবল বৃদ্ধি করছে, তার Caste Conversion করিয়ে তাকে রাজপুত বানিয়ে দেওয়ায় রাজপুত বাদে দ্বিতীয় কোন কাস্ট এর Military Activity Run করার ক্ষমতা থাকছেনা উত্তর ভারতে।

এখনও অব্দি আমাদের discussion এ এটা প্রমাণ হয়েছে, Rajputisation এর process কতটা Effectively পশ্চিম ভারতীয় মূল রাজপুত দের ক্ষমতাবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আমাদের দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, এই মূল রাজপুত ঠিক কারা?

একটা Conceptual Clarity এখানে আগেভাগে দরকার। সেটা হল - রাজস্থান কিন্তু আর্যধর্মের কেন্দ্র নয়। বাংলাকে যেমন মূল আর্য সংস্কৃতির বলয়ের বাইরে assume করা হতো, রাজস্থানকেও তাই। ১৬ মহাজনপদের একটি জনপদও আজকের রাজস্থানে ছিলনা। তবে, এই মূল রাজপুত কারা?

মূল রাজপুত হল আদতে গুপ্ত আমলের শেষের দিকে ভারতে আক্রমণ করা, ও শেষে পশ্চিম ভারতে settle করা হুন (Hun) দের বংশধর, যারা কালক্রমে এরা হিন্দু ধর্ম (law of the land) গ্রহণ করে।

আমাদের তৃতীয় প্রশ্ন হল, মুঘল রাজপুত সম্পর্ক এর ভিত্তি কী?

১. বাল্যকালে রাজস্থানের রাজপুত পরিমণ্ডলে বড় হওয়ার ফলে, মুঘল সম্রাট আকবর একটা জিনিস বোঝেন - রাজপুতরা মূর্তিপূজক হলেও আদতে এদের হিন্দুধর্মের প্রতি বিশেষ কোনো প্রীতি নেই। এদের উদ্দেশ্য - নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ পশ্চিম ভারতে অক্ষুন্ন রাখা, এবং সর্বোপরি Hun Brotherhood। হিন্দু থাকা আর না থাকাটা সেই প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করছে।

২. আকবর ও মুঘলরা বোঝে, ভারতে সাধারণ হিন্দুদের ধর্মান্তরণ করা কঠিন। তাই, ইসলামের তরবারি হাতে সোজা ঝাঁপিয়ে পড়লে, সম্পূর্ণ ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা সহজ হবেনা। বরং, সহজ উপায় হল - যদি একটা হিন্দু কাস্টকেই নিজেদের Alliance হিসেবে গ্রহণ করা যায়, যারা নামে হিন্দু হলেও হিন্দু ধর্মের প্রতি অন্তরে এদের কোন শ্রদ্ধাভক্তি থাকবেনা;

এই এরা যদি সাধারণ হিন্দুদের গণহত্যা করে, তাহলে তাতে সাধারণ হিন্দুদের এটা মনে হবেনা যে, বিধর্মীরা তাদের ওপর অত্যাচার করছে। তাদের কাছে এটা হবে কোন প্রাত্যহিক রাজনৈতিক ঘটনা।

এবং, Most Importantly, যদি Mainland India তে কেউ লোকবল বৃদ্ধি করে, তাকে Rajputisation এর মাধ্যমে এই মূল রাজপুতরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবে। মূল রাজপুতরা যেহেতু মুঘল সাম্রাজ্যের সাথে Alliance এ থাকছে, তাই এই Rajputisation এর product গুলোও by default মুঘল সম্রাটের প্রতি অনুগত থাকবে, এবং মুঘল সেনার অফুরন্ত Manpower supply অব্যাহত থাকবে।

অর্থাৎ, মুঘল সাম্রাজ্য নিজেদের প্রসারের জন্য ধর্মান্তরকরণ বা, Conversion of Religion এর বদলে Conversion of Caste করার সিদ্ধান্ত নেয়।

৩. Hun দের আসল উদ্দেশ্য ছিল Inner India বা, গাঙ্গেয় অববাহিকাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কারণ, সহস্র বছর ধরে এটিই ছিল সবথেকে prosperous region, যে উদ্দেশ্য তারা সাধন করতে পারেনি গুপ্ত সম্রাটদের হাতে পরাজিত হওয়ায়। মূল রাজপুত দের হৃদয়ে নিজেদের পূর্বপুরুষদের সেই শেষ না করা কাজের সমাপ্তির তীব্র আকাঙ্খা জ্বলমান ছিল।

৪. আর্থিক দৃষ্টিকোণ - মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারলাভ করার প্রধান কারণ ছিল, মুঘলরা খুব সফলভাবে অবিভক্ত ভারতের পুরো উত্তর পশ্চিমকে (পাঠান, রাজপুত) এক ছাতার তলায় আনে। লক্ষ্য করুন, রাজস্থান বা, আফগানিস্তান এর অর্থনীতি সম্পূর্ণ Based On Trade Roots, তাই এই অঞ্চলের Ruling Class (হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে) এর জন্য বাকি ভারতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ছিল Question of Survival,

তাই মুঘল সাম্রাজ্যকে বলা যায়, Peak of North West Imperialism

মুঘল সাম্রাজ্যবাদ যে গাঙ্গেয় অববাহিকাকে কতটা হিংস্রভাবে লুঠ করেছে, সেটার প্রমাণ এই থেকেই পাওয়া যায় যে, রাজস্থানের প্রতিটি দুর্গ ও প্রাসাদের বয়স ৩০০ - ৪০০ বছর, অর্থাৎ প্রতিটি ই মুঘল আমলে নির্মিত। বা, বলা যায়, রাজস্থানের প্রতিটি স্থাপত্য এর খরচা আদতে পূর্ব ভারতকে করা শোষণ থেকে প্রাপ্ত।

Read More

Author: Animesh

Historical Hindu 09-December-2024 by east is rising

ভারত বাংলাদেশকে ভয় পাচ্ছে কিন্তু কেন?

Zahid Mollah 
এর কারণ হচ্ছে বিগত ১৫ বছর শেখ হাসিনার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মডার্নাইজেশনকে দাবিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর নতুন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী দ্রুত বেগে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। হাসিনা ক্ষমতাচুত্য হওয়ার আগেও ও পরে কিছু বিভিন্ন ডিফেন্স পেজ এর সৌর্স সমেত এবং আনুমানিক কানাঘুষার মাধ্যমে মাধ্যমে অর্জিত শপিং লিস্ট দেখা যাক:

Bangladesh Army:

*** Recieved First regiment VT-5 and Rumered to have ordered a second regiment of VT-5 light tank and unknown number of (ARV).

*** Speculative collaboration with Turkiye for MLRS or SRBM.

*** Speculation of Chinese company Vanguard to help build large missile plant in Bangladesh.

*** Bangladesh recieved Huge shipment of Arms and Ammunition from Pakistan shortly after the resignation of Delhi's puppet Hasina.

*** Induction of TRG-230 with 70km range and TRG-300 Kaplan MLRS with a range of 120km, which boosted medium range offensive capabilities.

*** Induction of Independent Army Air Defense Core.

*** Induction of 12 Bayraktar TB-2 and also Army has initiated indegenous UAV program.

*** Induction of Boran 105mm Ultra Light Howitzer from Turkiye.

Air Force:

*** Speculation of 3 squadron of J-10C from China and 12 Rafale Fighter Jet from France. (This might be true even the Air Force chief said they're focusing on MRCA on urgent basis)

*** Operationalized Lalmonirhat Air Base which is within 12km of Chicken Neck

***According to Air Chief, Air Force opting to purchase MRSAM

*** Bangladesh set to sign defence purchase deal with Japan, includes Transfer of Technology (TOT)

*** Bangladesh officially operationalized two high-performance long range radar systems, namely Ground Master 400 (GM400), which have an instrument range exceeding 500km, along with Leonardo RAT-31DL long range air surveillance radar. (which India has objected before because the radar covers huge Indian Airspace)

এইসব মডার্নাইজেশন প্রক্রিয়া বাংলাদেশ আর্মি এবং এয়ার ফোর্সের Qualitative Capability অনেকাংশে বাড়িয়ে দিবে, যেটা ভারতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারে।

বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা যদি সত্যিই দুর্বল হতো হাসিনার পতনের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও বর্ডারে অন্তত একটা ক্লাশ করিয়ে চাপ সৃষ্টি করতো। এতোটুকু অসৎসাহস ভারতের আছে।।

কিন্তু সেটাও পারে নাই কারণ সামরিক বাহিনী আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী

ভারত বাংলাদেশের লং রেঞ্জ অফেন্সিভ ক্যাপাবিলিটিকে ভয় পায়। এদের রিটায়ার্ড (রিটার্ড) জেনারেলদের হাস্যকর পডকাস্ট গুলা দেখলেই বোঝা যায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ভারতের জন্য কতটা অস্বস্তিকর।

আর ড. ইউনুসের আমলেই যদি অফেন্সিভ ডিটারেন্স অর্জন করে ফেলে তাহলে ভারতের কফিনে পেরেক মারার মতো হবে। ভারত সম্ভবত তার ইন্টেলিজেন্স সোর্সের মাধ্যমে জানতে পেরেছে ড. ইউনূসের সরকার কিছু দেশের সাথে হয়তো স্ট্র্যাটেজিক চুক্তি করতে পারে।

সেনাপ্রধান গতকাল তার বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে আধুনিকায়নের কথা ব্যক্ত করেছে। আশা করা যায় বাংলাদেশের সামরিক শক্তি একটা বুস্ট নিবে।

INDIA is passing through GD Bakhsi Phenomena

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Technology news Hindu 06-December-2024 by east is rising

গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়বে শীঘ্রই

মুখে যতোই গ্রেটার ইন্ডিয়ার কথা বলুক, ভারতের ডিপ স্টেট জানে যে গ্রেটার ইন্ডিয়ার স্বপ্ন ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। গ্রেটার ইন্ডিয়া বলতে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার কথা বলা হচ্ছে যা ইন্ডিয়া পাকিস্তান নামে দুই দেশে ভাগ হয় ১৯৪৭ সালে। জিন্নাহ বারবার ফেডেরাল ইন্ডিয়া চাওয়া সত্ত্বেও গান্ধী নেহরু প্যাটেল (গুজারাতি হিন্দি) নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস কেন্দ্রীভূত ভারত-এর পক্ষে ছিল। গান্ধী নেহরু প্যাটেল-দের লক্ষ্য ছিল হিন্দিভাষি হিন্দু অঞ্চলের ভোট যেন ভারত-এ শেষ কথা হয়, তাই হিন্দি ভোট কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে আর কেন্দ্রের কথা রাজ্য মেনে চলবে, আর এইভাবে কেন্দ্রীয় সরকার-এর সাহায্যে সমস্ত ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেবে গুজারাতি রাজস্থানীরা আর কেন্দ্রীয় চাকরী নেবে ইউপি বিহারীরা। গান্ধী নেহরু প্যাটেল-দের এই অভিসন্ধি বুঝেই জিন্নাহ বলেন হয় ফেডেরাল ভারত নয় আলাদা দেশ পাকিস্তান। গান্ধী নেহরু প্যাটেল-দের উদ্যেশ্য ছিল যেভাবেই হোক যতটা পারা যায় ব্রিটিশ ভারতের অংশ কেন্দ্রীভূত শাসনে রেখে দেওয়া আর এই লক্ষ্যে বোকা মুসলমানদের সাহায্য পেতে ধর্ম নিরপেক্ষতার বুলি আউরাতে থাকা। ১৯৪৭-এ পাকিস্তান হওয়ার পরেও নেহরু প্যাটেল-দের ধারণা ছিল পাকিস্তানের জমি ও প্রাচুর্য কম বলে পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে ভেঙ্গে পড়বে আর পুণরায় ভারতের সাথে যুক্ত হোতে বাধ্য হবে। যখান তা হোল না, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন-এর সাথে হাত মিলিয়ে পাকিস্তান ভাঙ্গার ছক কষতে থাকে। ১৯৭১-এ সুযোগ পেয়ে পাকিস্তান ভাঙ্গে ভারত সোভিয়েত-এর সাহায্য নিয়ে। অপেক্ষাকৃত ছোট দুর্বল রাষ্ট্র বাংলাদেশ-কে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ভারত এমন ধারণা ছিল। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আফঘানিস্তানে যুদ্ধ শুরু মূলত পাকিস্তান থেকে পুশ্তুন সংখ্যাধিক্য সম্পন্ন উত্তর পশ্চীম, বালুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশ ভাঙতে। এর উদ্যেশ্য ছিল এক দিকে সোভিয়েত পাবে সিন্ধের ওয়ার্ম ওয়াটার বন্দর আর ভারত দুর্বল ছোট পাকিস্তান ভাঙ্গা রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভাঙ্গা কল্পিত রাষ্ট্র গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র নামে দুটো শব্দ ভারতীয় সংবিধানে পর্যন্ত ঢোকানো হয় ১৯৭৬ সালে। সোভিয়েত ইউনিয়ন-এর প্রভাবেই তা হয়। কিন্তু সোভিয়েত ১৯৮৯ সালে আফঘানিস্তান থেকে বিতারিত হয় এবং ১৯৯১ সালে ভেঙ্গে যায়। এর ফলে হিন্দি গুজারাতি শাসক শ্রেণির একটা অংশ ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র-কে ছুঁড়ে ফেলে হিন্দুত্ববাদ ও ধনতন্ত্র-কে আঁকড়ে ধরে। এভাবেই ক্ষমতায় আসে বিজেপি এবং আরও পরে মোদি। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "ইসলামি সন্ত্রাস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ"-কে কাগে লাগিয়ে হিন্দুত্ববাদ-কে শুধু ভারতেই নয়, মার্কিন মুলুকেও শক্তিশালী করে তোলে। হিন্দুত্ববাদ যায়নবাদ ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ-এর জোট আজ মার্কিন শাসক শ্রেণির একটা অংশের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ট্রাম্প ২০২৫ সালে এই জোট-কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে চলেছে তার মন্ত্রী সভায়। মার্কিন ভারত জুটি স্বপ্ন দেখতে থাকে আফঘানিস্তান-এ ঘাঁটি গড়ে পাকিস্তান-কে ভাঙ্গার আর চীন থেকে শিনসিয়াং প্রদেশকে আলাদা করার কিন্তু ২০২১ সালে ২০ বছর যুদ্ধ করার পরে মার্কিন সেনা পরাজিত হয়ে আফঘানিস্তান ছেড়ে পালায় এবং আফঘানিস্তানে ক্ষমতায় আসে পাকিস্তান ও চীন-এর বন্ধু তালিবান সরকার। এদিকে চীন-এর উত্থান মার্কিন কেন্দ্রিক এক মেরু বিশ্ব ব্যবস্থাও ভেঙ্গে ফেলে। আফঘানিস্তানে পাকিস্তানের সাহায্যে তালিবানের জয়, চীনের অর্থনৈতিক সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের বুঝিয়ে দেয় তারা দঃ এশিয়াতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। শেষে ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট বাংলাদেশে ছাত্র জনতার বিপ্লব হিন্দি গুজারাতিদের বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের স্বপ্নের শলীল সমাধি ঘটায়। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশ ভারতে মুসলমান ছিল ২৪%। তাই তখন গোটা ব্রিটিশ ভারত পেলে অনায়াসেই গুজারাতি হিন্দি-রা নিয়ন্ত্রণ করত গোটা ব্রিটিশ ভারত। কিন্তু আজ ২০২৪-এ ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৩.৫% হয়ে গেছে মুসলমান আর প্রবণতা বলছে ২০৫০-এ তা হবে ৩৮%।

অর্থাৎ গ্রেটার ভারত তৈরি হলে সেখানে মুসলমান ভোট ব্যাঙ্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যাবে আর তখন হিন্দিভাষি হিন্দুদের ভোটের জোড়ে হিন্দি গুজারাতিরা ব্যবসা ও কেন্দ্রীয় সরকারী চাকরী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা। এমনকি বাংলাদেশ দখল করে ১৬ কোটি মুসলমান ও ১৮ কোটি বাংলা ভাষি ভারতে ঢুকিয়ে হিন্দিভাষি হিন্দুদের ভোটের গুরুত্ব কমাতে পারবেনা হিন্দি গুজারাতি শাসক শ্রেণি। বাংলাদেশ-এর ৫ই অগাস্ট, ২০২৪ বিপ্লব বুঝিয়ে দিল ছোট রাষ্ট্র বানিয়ে নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব না। তাই পাকিস্তান বা বাংলাদেশ দখলের স্বপ্ন বা পাকিস্তান ভেঙ্গে ছোট রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের স্বপ্ন ভারতের ডিপ স্টেট আর দেখেনা। যেহেতু পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দখল করে আর লাভ নেই, তাই ভারতের হিন্দি গুজারাতি ডিপ স্টেট মনে করছে গান্ধী নেহরুর ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশের আর দরকার নেই। মোদি যোগী তাই গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের মুখ। ভবিষ্যতে ভারতে বসবাসকারী মুসলমান-দের বিরুদ্ধে জেনোসাইড সংগঠিত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারত এখনো গরীব দেশ। সেখানে জমি ভেরি নারী দখলের লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক। আদি পুঁজি যোগাড় করতে সংখ্যাগুরু জাতি সংখ্যালঘু জাতির বিরুদ্ধে জেনোসাইড করেছে আধুনিকতার সূচনা লগ্ন থেকেই।

তাই হিন্দিভাষী অঞ্চল, গুজারাত, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক-এ অতি ক্ষুদ্র মুসলমান জনসংখ্যার বিরুদ্ধে জেনোসাইড হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। মুসলমান অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকায় হিন্দু সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। হায়দ্রাবাদ, কেরালা, পঃ বঙ্গ ও আসাম- যেখানে একটা ভাল সংখ্যা রয়েছে মুসলমানদের সেখানেও আঘাত হানার পরিকল্পনা করবে গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ। এই অঞ্চলগুলোই দাঙ্গার পক্ষে আদর্শ কারণ এই সব অঞ্চলে মুসলমানরা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। পৃথিবীর নিয়ম হল "হয় বৃদ্ধি, নয় হ্রাস", স্থবিরত্বের কোনও জায়গা নেই হিন্দি গুজারাতি সাম্রাজ্যের (যার পোষাকি নাম ভারত) বৃদ্ধির জায়গা আর নেই। অতএব এই সাম্রাজ্যকে শীঘ্রই সঙ্কুচিত হতে হবে।

হোতেই পারে হিন্দিভাষী অঞ্চল, গুজারাত, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক-এ জেনোসাইড-এর মুখে পড়ে বহু মুসলমান বিদেশে বা কাশ্মীর উপত্যকায় বা কেলায় বা হায়দ্রাবাদে বা পঃ বঙ্গে বা আসামে পালিয়ে যাবে। ফলে ভালো সংখ্যা আছে এমন জায়গায় মুসলমানদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার কম সংখ্যায় মুসলমান আছে এমন অঞ্চল মুসলমান শূন্য হয়ে যেতে পারে। আবার পঃ বঙ্গ ও আসামের মসুলমানদের বাংলাদেশে পুশ করার চেষ্টা করা হোতে পারে (যেমন মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুশ করেছে বাংলাদেশে)। পাকিস্তান শক্তিশালী বলে কাশ্মীর উপত্যকার মানুষকে পুশ করতে পারবেনা। বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থান নিলে পঃ বঙ্গ ও আসামের মুসলমানদেরকেও পুশ করতে ব্যর্থ হবে। সব মিলিয়ে বলা যায় দক্ষিণে হায়দ্রাবাদ ও কেরালা এবং পূর্বে পঃ বঙ্গ ও আসাম আর উত্তরে কাশ্মীর উপত্যকা অঞ্চলে শীঘ্রই বিপুল সংখ্যক মুসলমান-এর জেনোসাইডের মুখে পড়ে আভিবাসী হিসেবে চলে আসার সম্ভাবনা আছে হিন্দিভাষী অঞ্চল, গুজারাত ও মহারাষ্ট্র থেকে। জেনোসাইড দাঙ্গা ও জমি ভেরি নারী দখলের আদি পুঁজি সঞ্চয়-এর আরেকটা রাউণ্ড দেখতে চলেছে ভারত।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu 05-December-2024 by east is rising

ভারতীয় বাঙালি হিন্দুরা বাংলাদেশি বাঙালি মুসলমানদের সহ্য করতে পারেনা ঠিক কোন কারণে?

১) সাধারণ মানুষ-এর প্রবণতা দুর্বল-এর পাশে না থাকা আর ক্ষমতাবানের পা চাটাঃ বাঙালি মুস্লমান-এর চেয়ে যেহেতু হিন্দি গুজারাতিরা বেশি শক্তিশালী আর তাই সাধারণ বাঙালি হিন্দু বাঙালি মুস্লমানদের থেকে বেশি পছন্দ করে হিন্দি গুজারাতিদের।

২) বাঙালি হিন্দুরা বাংলা সালতানাত আমলে (১৩৫৩-১৫৭৫) বাঙালি মুসলমান বলতে উচ্চ কিছু (সুলতান সম্ভ্রান্ত) বুঝত, কিন্তু মোঘল আমল (১৬১১-১৭১৭)-এ বাঙালি হিন্দুদের চোখে উরদু মুসলমান বলতে উচ্চ কিছু (মোঘল গভর্নর সম্ভ্রান্ত) আর বাঙালি মুসলমান বলতে নীচু কিছু (চাষা) বুঝতে থাকে আর ব্রিটিশ আমল-এ (১৭৫৭-১৯৪৭) নিজেদের উচু (জমিদার আধুনিক) ও বাঙালি মুস্লমানদের নীচু (চাষা ধর্মময়) ভাবতে থাকে। নীচু বাঙালি মুস্লমান-দের এক ভাবতে বা নিজেদের থেকে উঁচু ভাবতে তাই কষ্ট হয় বাঙালি হিন্দুদের।

৩) মহাভারত রামায়ণ মূলত হিন্দি গুজারাত কেন্দ্রিক মানে মথুরা দ্বারকা কুরুক্ষত্র অযোধ্যা সবই হিন্দি ও গুজারাত অঞ্চলে। ফলে বাঙালি হিন্দুদের এক ধরণের আদর্শগত আনুগত্য আছে হিন্দি গুজারাত-এর প্রতি। (যদিও ঐতিহ্যগত ভাবে বাঙালি হিন্দুদের কালিকা পূরাণ বা মোঙ্গল কাব্য-এর মতো নিজস্ব ধর্ম গ্রন্থ আছে, কিন্তু পুরুষালি রামায়ণ মহাভারত-এর কাছে রমণি কেন্দ্রিক কালিকা পূরাণ ও মোঘল কাব্য ক্রমেই হেরে গেছে।)

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Social Hindu 04-December-2024 by east is rising

বাঙালি বনাম গুজারাতি-হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ- পর্ব ১

হিন্দি গুজারাতি সাম্রাজ্যবাদ বাংলার (বাংলাদেশ পঃবঙ্গ ত্রিপুরা) ওপর আঘাত বাড়াচ্ছেঃ বাংলাদেশের মেধার অধিকারের আন্দোলন, সুকান্ত মজুমদার-এর পঃ বঙ্গ থেকে উত্তর-এর অংশকে আলাদা করার ডাক, নিশিকান্ত দুবের মালদা ও মুশিরদাবাদ জে্লাকে কেন্দ্রীয় শাসিত করতে বলা, সবই আসলে এক সূত্রে গাঁথা।

হিন্দি গুজারাতি সাম্রাজ্যবাদ জানে বাঙালি জাতি জনসংখ্যার দিক থেকে ৩০-৩৫ কোটি। বাংলার আছে বিশাল সমুদ্র তট যেখান থেকে বাঙালি অনায়াসে বিদেশের সাথে বাণিজ্য চালাতে পারবে এবং বিদেশি মুদ্রা আয় করতে পারবে এবং সেই মুদ্রার বলে স্বাধীন রিসার্ভ ব্যঙ্ক বানাতে পারবে যা স্বাধীন রাষ্ট্রের আধুনিক যুগে সবচেয়ে বড় বুনিয়াদ।

বাঙালি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়ে গেলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হবে আর তা হলে গোটা গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। তাই যেভাবে হোক বাঙালিকে শেষ কর। শেষ করতে এক দিকে বাংলাদেশের সার্বভৌম সরকারকে নিয়ন্ত্রণ কর। আর অন্যদিকে পঃ বঙ্গ-এর রাজ্য সরকারকে নিয়ন্ত্রণ কর। যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পার তো নানাভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেল। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের। কিন্তু পঃ বঙ্গের রাজ্য সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই পঃ বঙ্গের যে অংশটায় বিজেপি জিতেছে অর্থাৎ উত্তরের অংশকসক আলাদা করার দাবি জানাচ্ছে।

এবার প্রশ্ন পঃ বঙ্গ-এর রাজ্য সরকার কিভাবে গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের বিপক্ষে কাজ করছে?

এক, পঃ বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনারজি তিস্তার জলের ভাগ বাংলাদেশকে দিতে রাজি নয় আর এর কারণ হল তিস্তার জলের বেশি ভাগ বাংলাদেশকে দিলে পঃ বঙ্গের উত্তর বঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সেখানকার চাষাবাদে ভয়ঙ্কর পরিণাম নেমে আসবে। গুয়াজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ চায় তিস্তার জল বাংলাদেশকে দিয়ে একদিকে তার পোষা বাংলাদেশ-এর সরকারকে স্থায়িত্ব দিতে আর অন্য দিকে পঃ বঙ্গের উত্তর বঙ্গে ভয়ানক ক্ষরা তৈরি করে সব দোষ পঃ বঙ্গ সরকারের ওপর চাপিয়ে উত্তর বঙ্গকে পঃ বঙ্গ রাজ্য থেকে আলাদা করা। উত্তর বঙ্গ আলাদা রাজ্য হলেই সেখানকার প্রশাসনে বিজেপি গেঁড়ে বসবে এবং আস্তে আস্তে বাংলা ভাষা তুলে দিয়ে হিন্দি চালু করবে। এই পথেই পূর্ব বিহার ও ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে বাংলাকে মুছে দিয়েছে গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ। মমতা তিস্তার জল না দিয়ে একদিকে বর্তমান বাংলাদেশের সরকারকে বিপাকে ফেলছে আর অন্যদিকে উত্তর বঙ্গকে আলাদা হতে আর শুঁকিয়ে মারতে বাঁধা দিচ্ছে।

দুই, পঃ বঙ্গ সরকার-এর প্রধান মমতা ব্যনারজি মুসলমান ভোটের ওপর দাঁড়িয়ে নির্বাচনের পর নির্বাচন জিতছেন আর এর কারন পঃ বঙ্গে এখন ২০২৪ সালে মুসলমানের সংখ্যা ২০১১-এর আদম সুমার সুমারির প্রজেকশন ধরলে দাঁড়ায় ৩০%। এই সংখ্যা আগামী দশ বছরে ৩৮% হতে পারে। বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা অন্য দিকে বর্তমানের ৫৫% থেকে কমে ৪০%-তে নেমে আসতে পারে। হিন্দিভাষী হিন্দুদের সংখ্যা ১১% থেকে ১৭% হবে। এখানে উল্লেখ্য বিষয় হল পঃ বঙ্গে বাঙালি ও উর্দু মুসলমানেরা ভূমি পুত্র আর হিন্দি হিন্দুদের অধিকাংশই অন্য রাজ্য (মূলত রাজস্থান বিহার ইউপি থেকে আগত)। ভুমি পুত্রদের জন্মহার কমবে যদি শিল্পায়ন ও নগরায়ন দ্রুত বাড়ে আর অন্য রাজ্য থেকে আগমনও বৃদ্ধি পাবে যদি শিল্পায়ন ও নগরায়ন দ্রুত বাড়ে। অর্থাৎ পঃ বঙ্গে যদি শিল্পায়ন ও নগরায়ন দ্রুত বাড়ে তবে মুসলমানদের জন্ম হার আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত কমবে আর অন্যদিকে হিন্দিদের আগমনের হার ও তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়বে। তাই গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ চায় পঃ বঙ্গে শিল্পায়ন নগরায়ন দ্রুত হোক। কিন্তু শিল্পপতিদের হাত থেকে চাষিদের জমি বাঁচানোর আন্দলনের বলে ক্ষমতায় আসা মমতা ব্যনারজি শিল্পায়নের পথে যাচ্ছেনইনা। ফলে হিন্দিদের আগমনের গতি মন্থর হচ্ছে আর মুসলমানদের জন্মহার যতটা দ্রুত কমার কথা ২০১১ আদম সুমারির প্রজেকশন অনুযায়ী তার থেকে জন্মহার কমছে অনেক কম গতিতে।

বিজেপি হল গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের উগ্র রূপ আর কংগ্রেস হল তার নম্র রূপের মুখোশ। কংগ্রেস পঃ বঙ্গে শেষ আর বিজেপি গোটা পঃ বঙ্গে জয়ী হতে পারবেনা। লারি পূজারি বাঙালি হিন্দু ক্রমেই জনসংখ্যার দিক দিয়ে ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে আর বাঙালি হিন্দুর ক্ষয়ের সুযোগ বেশি তুলছে মুসলমানেরা। কিন্তু গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ চায় বাঙালি হিন্দুদের ক্ষয়ের মূল লাভ তুলুক হিন্দিরা। মমতার শিল্প করায় অনাগ্রহ ও দান-এর রাজনীতি পঃ বঙ্গে মুসলমানেদের অবস্থান হিন্দিদের তুলনায় শক্ত রাখছে। যদিও মমতার লারি কেন্দ্র করে নানা দান মুসলমান লারিকে ধর্ম বিমুখ করছে আর এর ফলে পঃ বঙ্গের মুসলমানেদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে কিন্তু হিন্দিদের থেকে তারা তুলনামূলক ভাবে সুবিধেজনক বস্থায় থাকছে। বিজেপি বুঝতে পারছে আগামী ১০ বছরে বাঙালি হিন্দু বুমার জেনারেশনটা (১৯৪৫ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে যাদের জন্ম) শেষ হয়ে যাবে আর তা বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যার শেয়ার অনেক কমিয়ে দেবেই। মুসলমানেদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার হিন্দিদের চেয়ে পঃ বঙ্গে বেশি থাকলে (শিল্পায়ন গতি মন্থর বলে), ২০১১ সালের প্রজেকশন ধরে যত ভাবা হচ্ছে তার চেয়েও বেশি হবে মুসলমানেদের সংখ্যার শেয়ার। আমার গণিত বলছে আগামী ১০ বছর পরে পঃ বঙ্গে মুসলমানেদের সংখ্যা ৩৮% নয়, হবে ৪১% আর হিন্দিদের হবে ১৫%।

মজার ব্যপার অসমের লারি পূজারি হিন্দুরাও জনসংখ্যার দিক দিয়ে ক্ষয়িষ্ণু আর আসামের শিল্প সম্ভাবনা ও নগরায়ন সম্ভাবনা ভৌগোলীক কারণে অনেক কম। ফলে সেখানে মুসলমানেদের সংখ্যা ৫০%-এর কাছে পৌঁছে যাবে আগামী ১০ বোছোড় পরেই। আসামের মুখ্যমন্ত্রী একে জীবন মরণ সমস্যা বলেছেন।

গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ জানে যে বাঙালি হিন্দুর আর কোনও অস্তিত্ব থাকবেনা। স্বল্প জন্মহারর ফলে বাঙালি (ও আসামিয়া) হিন্দুদের জনসংখ্যার শেয়ার পড়তেই থাকবে এবং বয়স্কদের সংখ্যা যুবাদের সংখ্যার চেয়ে কম হবে। যার অস্তিত্বই থাকবেনা তার হিন্দুত্ব বা বাঙ্গালিত্ব কোনটাই বহন করার ক্ষমতা থাকবেনা। এর সঙ্গে যোগ করা যায় যে বাঙালি হিন্দুদের একটা বড় অংশ হিন্দি গুজারাতিদের কাছে নতি স্বীকার করে ফেলেছে। নতি স্বীকারের শেষ পর্যায়ে নেমে এসেছে কারণ এখন বাঙালি হিন্দু মেয়েরা হিন্দি গুজারাতি স্বামী পেলে বরতে যায় আর বাঙালি পরিবারগুলোও তাতে শ্লাঘা অনুভব করে। তাই গুজারাতি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ জানে যে বাঙালি হিন্দুরা বাঙ্গালিত্বের জন্য লড়াই করতে পারবেনা। কিন্তু লারি পূজারি বাঙালি হিন্দু হিন্দিদের দালাল হিসেবে পঃ বঙ্গ থেকে মুসলমান হটাতে কতটুকু সাহায্য করতে পারবে? পরের পর্বে আমরা এর উত্তর খুঁজব।

 

 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu 26-July-2024 by east is rising

শেষ লারী পূজারী জাতি কিভাবে ধ্বংস হবে? কেন কিছু বাঙ্গু হেদু হয় হিন্দি ভাষা নিয়ে হিন্দি হেদু হয়ে যাবে নয়তো ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাঙালি মুসলমান হয়ে যাবে ?

শেষ লারী পূজারী জাতি কিভাবে ধ্বংস হবে?

কেন কিছু বাঙ্গু হেদু হয় হিন্দি ভাষা নিয়ে হিন্দি হেদু হয়ে যাবে নয়তো ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাঙালি মুসলমান হয়ে যাবে ?

পশ্চীম বাংলায় বাঙ্গু হেদু ৫৫%, হিন্দি হেদু ১২%, অন্যান্য হেদু যেমন নেপালী ২%।

বাঙ্গু হেদু লারী পূজারী আর তাই জন্মহার অত্যন্ত কম প্রায় ৪০ বছর ধরে।

তাই বলা যায় ৫৫%-এর অন্তত ২৭% আগামী ২০ বছর পরে ৬০ বছরের বেশি হবে।

২৮% অল্প বয়সীদের মধ্যে ৮% ১৫ বছরের নীচে হবে।

১৬-৫৯ বছরের মধ্যে থাকবে ২০%।

এদের ১০% হবে লারী আর ১০% হবে পুরুষ।

১০% লারীদের একটা বড় অংশ (৫%) অন্য জাতির পুরুষের সাথে ভেগে যেতে চাইবে।

আর একটা অংশ বিয়ে না করে বা বিয়ে করে বাচ্চা না দিয়ে কুকুর বিড়াল পুষবে (৩%)।

মাত্র ২% বাঙ্গুই হেদু লারী ঠিকঠাক সংসার করবে।

১০% পুরুষের একটা বড় অংশ (৫%) বিয়ে করার ঝামেলায় যাবে না বা বিয়ে করে ডিভোর্স করতে বাধ্য হবে।

৩% পুরুষ বিদেশে পালাবে আর ২% বাঙ্গু হেদু পুরুষ ঠিকঠাক সংসার করবে।

এই ২% বাঙ্গু হেদু স্বামী-স্ত্রী নিজেদের সন্তানদের আর বাঙ্গু হেদু রাখতে পারবেনা।

শেষে কিছু বাঙ্গু হেদু হয় হিন্দি ভাষা নিয়ে হিন্দি হেদু হয়ে যাবে নয়তো ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাঙালি মুসলমান হয়ে যাবে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Social Hindu 28-June-2024 by east is rising

Buddhist Ashoka's Killing of Ajivikas & Enforcing of Vegetarian Diet

Ashoka killed 18000 Ajivikas of Pundrahvardhana and eradicated the entire Ajivika faith. He also enforced vegetarianism and perscuted whoever did not follow that dictat. This destroyed livelihoods of many classes whose profession was tied to hunting, fisheries and animal byproducts. But he is considered 'The Great'. This is is what called propaganda. Here actions do not matter but affiliation is everything. This is the main peril of monotheistic religions.

Sharamanic faiths emerged in eastern gangetic plains as a reaction to Vedic Religion. Their main objection was Animal sacrifice in rituals and meat-eating, ban on moneylending and interests, restriction of the power of propertied classes and private property in general. It is the Shramanic religions that banned cowslaughter as Cow was an important animal in both agriculture and trade. Yet this crucial history is supressed to hide the true knowledge about how everything came into existence.

When Vedic religion died, their old followers also took on these Shramanic ethos.

Buddhism is one of the pioneer of state-sponsored theocracy, religious persecution and violence. It was from Kushans Buddhism started to become more evolved and humane.

Is it surprising that the narratives of monotheist reactionaries and indian state always converges or there is some deeper links?

Read More

Author: Purandhar Khilji

Historical Hindu 16-June-2024 by east is rising

How Kodavas Defeated Mysore

Kodavas are military caste of Kodagu district of Karnataka.

Kodagu is mountainous country and even today is a well forested.

Kodavas used this mountainous and forested landscape to their advantage - invading armies were lured deep into Kodagu, then relentlessly harassed by guerrilla warfare and then finished off by large scale surprise attacks.

Problems between Kodagu and Muslim rulers of Mysore began as early as 1765.

Hyder Ali of Mysore sent a large force under Fazalulla Khan to conquer Kodagu. Kodavas under Chikka Virappa defeated the force in four major battles and forced them into retreat.

Unfortunately in 1773, a succession dispute in Kodagu was taken advantage by Hyder Ali - Lingaraja, one of the contestants asked for Hyder Ali’s help and he invaded Kodagu with a Mysore army.

This force was thoroughly defeated at Battle of Yedavanad. But Lingaraja being a Kodava himself, persuaded many Kodavas to support his cause and this managed to win over the whole Kodagu without any fight!

Deposed king named Devapparaja and his entire family was murdered by Hyder Ali.

But soon nemesis struck - in 1780, Lingaraja died.

His sons Vira Rajendra and Lingaraja were minors - taking advantage of this situation, Hyder Ali took over the administration of Kodagu directly.

His pretext was that he will rule until princes became adults - though it was clear to all that his aim was annex Kodagu. Both princes were kept in captivity for 8 years (until 1788).

In 1782, a massive revolt broke out in Kodagu as people were angry with Hyder Ali deposing their king.

Kodavas drove out all Mysore forces from their land and became independent (Hyder had died in the meantime).

Now Tipu is the ruler of Mysore - he invades Kodagu in 1784 but was driven out by Kodavas in 1785.

Tipu then sent another army of 15,000 men but were defeated by 4,000 Kodavas at Battle of Ulagulli. Entire Mysore army had flee for their life and their whole baggage was looted by Kodavas.

Then as usual, Tipu used treachery - he promised to make peace with Kodavas and invited them for a peace talk at Talakkaveri.

But Kodava delegation was arrested and their 85,000 followers and their family members were forcibly converted to Islam.

Not content with this, Tipu then ordered his army to kill every single Kodava man they could lay hand on and enslave their women and children.

Terrible atrocities were committed - mass rape, enslavement of women, forcible conversions, destruction of temples, slaughter of cows, wholesale burning of villages, fields and orchards etc.

Kodavas refused to buckle and wage valiant guerrilla warfare from hills and forests.

In 1788, imprisoned VIRA RAJENDRA along with his family escaped from jail (due to help by Pazhassi Raja by some accounts).

Kodavas who were leaderless until then, rallied around this charismatic and energetic 24 year old prince.

He and his men launched a massive campaign that drove out Muslim forces from Mysore and even invaded and sacked Mysore proper itself.

Infuriated Tipu sent a large army under Ghulam Ali to deal with Kodavas - bitter fighting followed. Kodavas fought for every inch of land and Mysore army suffered heavy losses.

Luck also came to help Kodavas as Ghulam Ali and his army was re-directed to Malabar in 1789 to deal with massive revolt by Nayars there.

But Vira Rajendra was determined not to let Mysore army retreat in peace - He and his men launched a massive attack on retreating army of Ghulam Ali and slaughtered a large part of enemy force in Battle of Kodantur.

Another Mysore force sent against him was totally defeated at Battle of Heggala and their entire baggage was looted.

This was followed by Kodavas defeating another Mysore army in Battle of Kushalnagara and seized the Mysore fortress there.

He followed up this victory by defeating Mysore garrison stationed at Beppunad and then seizing several forts and outposts of Mysore army across Kodagu.

In 1790, Tipu sent another large force under Buranuddin into Kodagu - this force too was defeated by Vira Rajendra at Second Battle of Kushalnagara.

His next major victory was occupation of Amara Sulya.

Tipu for the last time, sent a large force under Kader Khan to defeat Vira Rajendra - but Khan was also defeated at Battle of Mullusoge and most important Mysore fort in Kodagu - Mercara was captured.

Rajendra and his troops then invaded Mysore proper once more and pillaged it thoroughly to retaliate the destruction done by Tipu’s troops in Kodagu.

With this, Kodagu was permanently free of Tipu’s threat.

Post Script:

Revengeful Tipu - unable to defeat Rajendra in battle - sent assassins to kill him. But they were caught and executed.

When Tipu faced British threat in Third Anglo-Mysore War, he tried to reconcile with Rajendra and asked his help.

Rajendra told him that he will not help him as he could never forget nor forgive the genocidal cruelty done to his people.

Reference:

Coorg Manual - G. Richter (1870)

Written in Quora by Sagar Meloth

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 27-May-2024 by east is rising

Why Rajasthanis Were Main Allies Of The Mughals

রাজস্থানীরা মোঘলদের পায়ে থাকতে রাজি হয়।

কেন?

রাজস্থান সমুদ্রতটহীন ও কৃষিহীন মরুভূমি। তাই রাজস্থানের বাইরের অঞ্চল দখল করে সেখানকার কৃষি ও বৈদেশিক ব্যবসা থেকে খাজনা তোলার লক্ষ্য তাদের তাকবেই। তাদের সাধ্যে কুলোয়নি কখণো গোটা দক্ষিণ এশিয়া দখল নেওয়ার। তারা উত্তর প্রদেশ অব্ধি এগিয়েছে কিন্তু বারবার দক্ষীনে মারাঠি ও পূর্বে বাঙালি ও পশ্চীমে আরব (সিন্ধু) পাঞ্জাবী কাশ্মিরীদের সাথে পেরে ওঠেনি। যেমন প্রতিহারেরা পাল ও রাষত্রকূট ও আরবদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবে কখনো জয়ী পারেনি।

কিন্তু উজবেক মোঘলরা বাংলা থেকে ডেক্কান সমস্ত সালতানাতকেই পরাজিত করার ক্ষমতা ধরত। তাই রাজস্থানীরা বুঝল মোঘলদের সঙ্গ দিলে উতর প্রদেশ বাংলা ডেক্কান সমস্ত এলাকার খাজনার বখরার ভাগ পাওয়া যাবে। রাজস্থানীরা যা একা পারতনা মোঘলদের সঙ্গী হলে তা পারা যাবে।

তাই রাজস্থানীরা সঙ্গ দেয় মোঘলদের। নিজের ঘরের মা বোন স্ত্রীদের মোঘলদের হারেমে দিয়ে নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ করে মোঘলদের বিশ্বাস অর্জন করে মোঘলদের লিটের বখরা পেয়েছে।

(বঙ্কিম চন্দ্র "দুর্গেশ নন্দিনী" উপন্যাসে আবার মোঘল রাজপুত লটকে বৈধতা দিয়ে গেছেন আর বাঙালি রাজকুমারীকে রাজস্থানি রাজকুমাওরের কাছে সঁপে দিয়েছেন। গল্পে হোলেও বাঙ্গালির হিন্দি চাটা মনন-এর শুরু ওখানেই।)

বাঙ্গালির কি মোঘলদের থেকে বা রাজস্থানীদের থেকে কিছু পাওয়ার ছিল?

সেই সময় কোনও বাঙালি কি মোঘলদের সঙ্গী হয়নি?

বাঙ্গালির কৃষিজমি আর সমুদ্রতট দুইই আছে। তাই বাঙ্গালির থেকে বাইরে থেকে লোক ছিনিয়ে নিতে আসবে খাজনা সেটাই স্বাভাবিক। মোঘলরা ও তাদের অনুচর রাজস্থানীরা বাংলায় আসে বাংলার সুলতানের থেকে খাজনার ভাগ নিতে। সুলতান ও তার সঙ্গী রাজারা স্বাভাবিকভাবেই মোঘল বিরোধী অবস্থান নেয়। আবার দক্ষিণ বাংলার অনেক রাজাই যেমন পঞ্চানন গাঙ্গুলী (সাবর্ণ রায় চৌধুরী) মোঘলদের সঙ্গী হয়।

মোঘলরা জিতলে সাবর্ণরা কি পেতে পারে?

বড় জোড় সুলতানকে যে খাজনা দিতে হবে তার চেয়ে মোঘলদের কম দিতে হবে? মানে বাংলার সামস্তদের আসলে লাভের জায়গা ছিলনা সেরকম মোঘলদের সমর্থন করে। কারণ তাকে খাজনা দিতেই হবে আর সে লুটের বখরা সেভাবে পাবেনা কারণ তার কাছে সমুদ্র ব্যবসা ও কৃষিজমি আছে। রাজস্থানীদের ভারত লুটের ইচ্ছে বেশি। কারণ রাজস্থানে খাজনা নেই। যার খাজনার উৎস নেই তার মধ্যে বাইরের এলাকা দখল করার বাসনা বেশী। মোঘল আর রাজস্থানিদের লক্ষ্য ছিল এক। যাদের কৃষি আছে বা সমুদ্র কৃষি দুইই আছে তাদের মনে হবে মোঘলরা তাদের খাজনা নিচ্ছে। রাজস্থানীদের মনে হবে মোঘলরা তাদের খাজনার ভাগ দিচ্ছে। এটাই তফাত।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 26-May-2024 by east is rising

চৈতন্য মহাপ্রভু চাঁদ কাজীকে কুরআন সম্পর্কে কি বলেছিলেন? ২

সংকীর্তন পার্টি ঘনিয়ে আসায় কাজী ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। কীর্তন আরও জোরে জোরে হয়ে উঠল। হঠাৎ, তার দরজার বাইরে, এবং হরিনামের শক্তিশালী ধ্বনির উপরে, বজ্রের মতো একটি কণ্ঠস্বর বলে উঠল, "কোথায় সেই দুষ্টু ভক্ত চাঁদ কাজী যে আমার সংকীর্তন আন্দোলনকে বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল? আমি পবিত্র ধর্মের সমবেত মন্ত্র প্রচারের জন্য অবতীর্ণ হয়েছি। ভগবান কৃষ্ণের নাম যেখানে আমার ভক্তরা আনন্দের সাথে আমার সংকীর্তন করে, সেই মৃদঙ্গকে ভাঙার সাহস কি করে? দেরি না করে আমার কাছে বদমাশ করো যে তোমার পথে দাঁড়ায়! প্রভুর কথা সিংহের গর্জনের মত শোনাল। সেই সময়, কিছু শ্রদ্ধেয় ও সাধু আত্মা মহাপ্রভুর পায়ে পড়ল এবং তাঁকে করুণাময় হওয়ার জন্য অনুরোধ করল। তারা বলেছেন যে বেদ পরমেশ্বর ভগবানকে সর্বদা স্থির, সুখী এবং ক্রোধমুক্ত বলে বর্ণনা করেছে। এমনকি যখন ব্রহ্মা তার সমস্ত গোয়াল বন্ধু ও বাছুর চুরি করে নিয়েছিলেন, এমনকি ইন্দ্র যখন অত্যধিক বৃষ্টি দিয়ে ব্রজকে আক্রমণ করেছিলেন, তখনও ভগবান সজ্জিত ছিলেন। তারা ভগবানকে অনুরোধ করেছিলেন যে এইভাবে তাঁর নিরপেক্ষতা ত্যাগ করবেন না এবং বৈদিক আদেশগুলিকে ছোট করবেন না। ভগবান চৈতন্য খুশি হলেন, এবং তিনি ব্রাহ্মণ্য সম্প্রদায়ের বেশ কিছু সম্মানিত সদস্যকে চাঁদ কাজীর বাড়িতে পাঠালেন। তারা তাকে এক কোণে পেল, ভয়ে কাঁপছে। শান্ত হওয়ার পর, কাজী মাথা নত করে প্রভুর সামনে উপস্থিত হলেন। কৃষ্ণলীলায় চাঁদ কাজী তাঁর মামা কামস হওয়ায় ভগবান চৈতন্য তাঁকে কাকা বলে সম্বোধন করেছিলেন।

কিছু ভদ্র আনুষ্ঠানিকতা বিনিময়ের পর, ভগবান চৈতন্য তাঁকে বললেন: যাও দুগ্ধা খাও, গাবি তোমারা মাতা। "তুমি গরুর দুধ পান কর, তাই গরু তোমার মা।" (শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত, আদি-লীলা, অধ্যায় 17, শ্লোক 153)
 

যদিও চাঁদ কাজী সম্রাট হুসেন শাহের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক ছিলেন, তবুও তাঁর আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং কোরান থেকে উদ্ভূত দর্শন ছিল অপর্যাপ্ত এবং ঘাটতি। স্বয়ং মুসলিম কাজী উপসংহারে এসেছিলেন: সহজ যবন-শাস্ত্রে অর্দ্ধ ভিকার । 'মাংস ভক্ষণকারীদের ধর্মগ্রন্থের যুক্তি ও তর্ক খুব সঠিক বিচারের উপর ভিত্তি করে নয়।" (শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত, আদি-লীলা, অধ্যায় 17, শ্লোক 171)

চাঁদ কাজী বলেছেন যে মুসলিম গ্রন্থ কোরান অনুসারে গরু হত্যার কোনো উল্লেখ বা কোনো অনুমোদন নেই। তিনি উপসংহারে বলেছিলেন যে যারা এই সিদ্ধান্তগুলিকে অনুমোদিত বলে তারা পবিত্র কোরানের বিরুদ্ধে কথা বলছে। তখন থেকেই চাঁদ কাজী ভক্ত হয়ে ওঠেন এবং তিনি মাংস ভক্ষণ ও কোনো প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকেন । বিশৃঙ্খল হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময়ও, চাঁদ কাজীর বংশধরেরা তাদের পূর্বপুরুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষুণ্ণ রেখেছিল এবং হিন্দুদের সঙ্গে কখনও কোনো বিরোধ হয়নি।

ভগবান চৈতন্য প্রসঙ্গ পাল্টে কাজীকে জিজ্ঞেস করলেন কেন সেই রাতে আগে তিনি শ্রীবাস অঙ্গনে সংকীর্তন বন্ধ করেছিলেন কিন্তু আজ তিনি তা বন্ধ করার চেষ্টা করেননি। কাজী কবরের দিকে তাকিয়ে ভগবানকে বললেন, মৃদঙ্গ ভেঙে ঘরে এসে শুয়ে পড়লেন। সেই রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন যে একজন মানুষের দেহ এবং একটি সিংহের মাথার সাথে একটি হিংস্র ও ভয়ঙ্কর প্রাণী এবং যার ভয়ঙ্কর দাঁত এবং লম্বা নখ ছিল তিনি যদি আবার সংকীর্তন আন্দোলনে বাধা দেন তবে তাকে মৃত্যুর হুমকি দিয়েছেন । তার বুকে বসে ভয়ে গর্জন করে, সে তাকে আঁচড় দেয়। কাজী তখন তার বুক খালি করে, এবং ভক্তরা একটি সিংহের অস্পষ্ট পেরেকের চিহ্ন দেখতে পান। তারা তৎক্ষণাৎ নৃসিংহদেবের কথা মনে পড়ল এবং কাজীর কাহিনী অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে গ্রহণ করল।

 

চাঁদ কাজী তখন অশ্রুসজল চোখে ভগবানের পদ্মের চরণে পড়লেন এবং শপথ ​​করলেন যে, সেই দিন থেকে তিনি বা তাঁর বংশের কেউই এখন বা ভবিষ্যতে সংকীর্তন আন্দোলনে কোনো বাধা দেবেন না। . যদি কাজী বলেন, তার কোনো বংশধর যদি তা করে থাকে, তাহলে সেই বংশধরকে পরিবার থেকে প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং উত্তরাধিকারসূত্রে বঞ্চিত করা হবে। এই কথা শুনে ভগবান চৈতন্য উচ্চারণ করলেন "হরি! হরি!" উত্থান, তিনি উল্লসিত এবং বিজয়ী সংকীর্তন দলের নেতৃত্ব দিয়ে শ্রীধাম মায়াপুরে ফিরে আসেন। ফিরে আসার সময় তিনি তাঁর প্রিয় ভক্ত শ্রীধরের বাড়িতে থামলেন।

চাঁদ কাজী দেহত্যাগ করার পর নবদ্বীপে তাঁর সমাধি স্থাপন করা হয়। তাঁর সমাধির উপরে অবস্থিত এই গাছটি 500 বছরেরও বেশি পুরনো। এই গাছটি আসলে অতীতের এই সব ঘটনার সাক্ষী। ভগবান চৈতন্যের ভক্তরা, নম্রতা অনুভব করে, চাঁদ কাজীর সমাধি প্রদক্ষিণ করেন কারণ তিনি প্রভুর করুণা লাভ করেছিলেন। আপনি যদি গাছের দিকে তাকান তবে আপনি দেখতে পাবেন যে এটি ভিতরে ফাঁপা হলেও এটি সর্বদা সুন্দর ফুল দেয়।

From Aranya Saha 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 22-May-2024 by east is rising

চৈতন্য মহাপ্রভু চাঁদ কাজীকে কুরআন সম্পর্কে কি বলেছিলেন?

প্রভু চৈতন্য মহাপ্রভু পনের শতকের শেষের দিকে, 1486 সালে আবির্ভূত হন। তিনি ভারতের বাংলায় জন্মগ্রহণ করেন, যেটি তখন পাঠান মুসলমানদের দ্বারা শাসিত ছিল । সতেরো বছর বয়সে চৈতন্য মহাপ্রভু তার সংকীর্তন আন্দোলন (ঈশ্বরের নামের সমবেত জপ) শুরু করেন। তিনি নবদ্বীপের সমস্ত নাগরিককে হরে কৃষ্ণ মন্ত্র (স্তব) উচ্চারণ করার জন্য প্রচার করেছিলেন এবং প্রতিটি বাড়িতে তারা নিয়মিত সংকীর্তন করতে শুরু করেছিলেন। এইভাবে যখন সংকীর্তন আন্দোলন শুরু হয়, তখন নবদ্বীপে কেউ "হরি! হরি!" শব্দ ছাড়া অন্য কোনো ধ্বনি শুনতে পায়নি। এবং মৃদঙ্গের (ঢোল) প্রহার এবং হাত করতালের সংঘর্ষ। হরে কৃষ্ণ মন্ত্রের অবিরাম জপ শুনে স্থানীয় মুসলমানরা খুব বিরক্ত হয়ে চাঁদ কাজীর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করে।

নবদ্বীপ সিটি ম্যাজিস্ট্রেট কাজী উপাধি ধারণ করেন। তৎকালীন সিটি ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদ কাজী নামে পরিচিত ছিলেন। জমির মালিকরা জমির উপর কর ধার্য করত, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া কাজীর উপর অর্পিত দায়িত্ব। কাজী এবং জমিদার উভয়েই বাংলার গভর্নরের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন, যিনি সেই সময়ে সুবা-বাঙ্গালা নামে পরিচিত ছিলেন। মাদিয়া, ইসলামপুরা এবং বাগোয়ানা জেলাগুলি হরি হোদা বা কৃষ্ণদাস হোদা নামে পরিচিত তাঁর বংশধরের অধীনে ছিল। কথিত আছে চাঁদ কাজী ছিলেন নবাব হোসেন শাহের আধ্যাত্মিক গুরু ।

এক মতে চাঁদ কাজীর নাম ছিল মাওলানা সিরাজুদ্দীন , অন্য মতে তার নাম ছিল হাবিবর রহমান । চাঁদ কাজীর বংশধররা এখনও মায়াপুরের আশেপাশে বসবাস করছে। লোকেরা এখনও চাঁদ কাজীর সমাধি দেখতে যায়, যা একটি চম্পাকা এবং নিম গাছের নীচে রয়েছে এবং এটি চাঁদ কাজীর সমাধি নামে পরিচিত। চাঁদ কাজী রাগান্বিত হয়ে একদিন সন্ধ্যায় শ্রীবাস পণ্ডিতের বাড়িতে আসেন, এবং একটি আনন্দময় কীর্তন (গান) চলতে দেখেন, তিনি মৃদঙ্গ (ঢোল) ভেঙ্গে এইভাবে বলেছিলেন: "এত দিন ধরে আপনারা সবাই হিন্দু ধর্মের নিয়মনীতি অনুসরণ করেননি। , কিন্তু এখন আপনি খুব উৎসাহের সাথে তাদের অনুসরণ করছেন, আমি কি জানতে পারি আপনি কার শক্তিতে এমন করছেন?"
 

চাঁদ কাজী ছিলেন বাংলায় সম্রাট হোসেন শাহের রাজ্যের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মহাপ্রভুর সময়ে তিনি নবদ্বীপের শাসক এবং প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। জানা গেছে যে তিনি কোরান নামক মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থের ব্যাখ্যা করতেন এবং মুসলিম দেবতা আল্লাহর প্রতি তাঁর ভক্তি সম্রাটকে নির্দেশ দিতেন। তিনি হিন্দু ধর্মের প্রতি সর্বক্ষেত্রে কট্টর ও একনিষ্ঠ অত্যাচারী ছিলেন এবং তিনি বিশেষ করে হরি নাম সংকীর্তনের বিরোধী ছিলেন। কৃষ্ণলীলায় তিনি ছিলেন কংস, আর হোসেন শাহ ছিলেন জরাসন্ধ। একদিন চাঁদ কাজী শ্রীবাস অঙ্গনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি করতালের সুরেলা আওয়াজ এবং মৃদঙ্গের ছন্দময় প্রহার শুনতে পান। শঙ্খের ধ্বনি এবং হরিনাম সংকীর্তনের উচ্ছ্বসিত গান পরিবেশকে আনন্দে ভরিয়ে দিল। ভক্তদের উল্লাস শুনে কাজী তৎক্ষণাৎ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন এবং অন্যদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোরানের নির্দেশ তাঁর মনে আহ্বান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তিনি তা করতে পারেননি। আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি শ্রীবাস অঙ্গন বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং এক ভক্তের কাছ থেকে একটি মৃদঙ্গ কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। তারপর তিনি তার লোকদের নির্দেশ দিলেন, তারা যাকে ধরুক তাকে মারতে। অবশেষে, তিনি আল্টিমেটাম জারি করেন যে কেউ কৃষ্ণের নাম গাইতে ধরলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তাকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হবে। কাজী হিন্দুদের উপর পানি ছিটিয়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার পরিকল্পনা করছিলেন।

পরের দিন ভক্তরা ভগবান চৈতন্যের বাড়িতে গিয়ে সমস্ত ঘটনা জানালেন। প্রভু যখন শুনলেন যে চাঁদ কাজী সংকীর্তন আন্দোলন বন্ধ করার চেষ্টা করছেন, তখন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন। যদিও মহাজাগতিক বিনাশের শেষের দিকে রাগান্বিত শিব তাকায় ভগবান চৈতন্য যেভাবে ক্রুদ্ধ ছিলেন তার তুলনায় মৃদু ছিল। এমন এক দৃষ্টিতে যা নম্র বিদ্যুত এবং বজ্রের মতো কণ্ঠস্বর, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে অবিলম্বে সমস্ত বৈষ্ণবদের একত্রিত করার নির্দেশ দেন। তিনি প্রত্যেককে একটি জ্বলন্ত মশাল আনার নির্দেশ দেন এবং ঘোষণা করেন যে তারা একসাথে পুরানো নবদ্বীপ শহর জুড়ে একটি বিশাল নগর সংকীর্তন করবেন।

 

ভগবান শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নামগুলি গেয়েছিলেন এবং আনন্দে নৃত্য করেছিলেন। এইভাবে তিনি প্রথম জনসাধারণের সংকীর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন ।

সমস্ত বৈষ্ণব একত্রিত হলে ভগবান চৈতন্য তাদের দলে বিভক্ত করেন। অদ্বৈত আচার্য একটি দলের নেতৃত্ব দেন। হরিদাস ঠাকুর আরেকটি দলের নেতৃত্ব দেন এবং শ্রীবাস পণ্ডিত আরেকটি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিটি দলকে চারজন মৃদঙ্গ বাদক, ষোলজন করতাল বাদক, একজন কীর্তনের বিশেষজ্ঞ নেতা এবং একজন উচ্ছ্বসিত নর্তক দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছিল। প্রতিটি দলকে হাজার হাজার ভক্ত অনুসরণ করেছিল, সবাই তিলক দিয়ে সুন্দরভাবে সজ্জিত ছিল এবং প্রত্যেকে তুলসীর মালা দিয়ে মহিমান্বিত হয়েছিল। শঙ্খের জয়ধ্বনি, কিছু গভীর এবং কিছু উঁচু, বাতাসে ভরে উঠল।

ভগবান শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন-লীলা পূর্ববর্তী কোন অবতারে প্রকাশ পায়নি। ভগবান চৈতন্যকে লক্ষাধিক সূর্যের মতো উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। সুগন্ধি মালতি ফুল তাঁর চুলকে সাজায়, এবং পাঁচ জাতের ফুলের একটি সুন্দর ফুলের মালা হাঁটু পর্যন্ত ঝুলেছিল। তার শরীর গলিত সোনার মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল এবং চন্দন কাঠের পেস্ট দিয়ে মাখানো হয়েছিল। একটি মিষ্টি হাসি তার মুখে শোভা পাচ্ছে। ভগবান চৈতন্য, প্রভু নিত্যানন্দকে তাঁর পাশে রেখে, গঙ্গা নদীর তীরে উত্তর দিকে লক্ষ লক্ষ লোককে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছিলেন। প্রথমে তিনি মহাপ্রভু ঘাট নামক তাঁর নিজের স্নানস্থলে গিয়ে উচ্ছ্বসিত নৃত্য করেন। এরপর তিনি মাধাই ঘাট, বড়কোনা ঘাট এবং নাগরিয়া ঘাটে নাচলেন এবং তারপর গঙ্গার তীরে চলে গেলেন। ভগবান চৈতন্য তখন গঙ্গানগর গ্রামের মধ্য দিয়ে নৃত্য করেন এবং তারপর সিমুলিয়াতে যান যেখানে চাঁদ কাজী বাস করতেন। এটি শ্রীলা বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের শ্রী চৈতন্য ভাগবত, মধ্যখণ্ড, 23ম অধ্যায়ে (298 নম্বর শ্লোক দিয়ে শুরু) শাব্দিকভাবে পড়া যেতে পারে।

কাজী যখন উত্তাল হৈচৈ শুনতে পেলেন, তখন তিনি তার গুপ্তচরদের পাঠালেন গোলমালের কারণ অনুসন্ধানের জন্য। গুপ্তচররা মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বিশাল নগর সংকীর্তন দলকে দেখে এবং হরে কৃষ্ণ কীর্তনের গর্জন শুনতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে পালিয়ে যায়। তারা কাজীর কাছে পৌঁছে তাকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিল। তারপর তারা যা দেখেছিল তা জানিয়েছিল।
From Aranya Saha 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 22-May-2024 by east is rising

নবদ্বীপে নৃসিংহ মাহাত্ম্য

নবদ্বীপের চাঁদকাজী পুরো নদীয়ায় হিন্দুদের কীর্তন গানের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

কিন্ত স্বপ্নে সে ভগবান উগ্র নৃসিংহের বিকট মূর্তি দেখলো।

সেই রাত্রে এক সিংহ মহাভয়ঙ্কর।

নরদেহ সিংহমুখ গর্জয়ে বিস্তর।।

শয়নে আমার উপর লাফ দিয়া চড়ি।

অট্ট অট্ট হাসে করে দন্ত কড়মড়ি॥

মোর বুকে নখ দিয়া ঘোরস্বরে বলে।

ফাড়িমু তোমার বুক মৃদঙ্গ বদলে॥

মোর কীর্তন মানা করিস করিমু তোর ক্ষয়।

আঁখি মুদি কাঁপি আমি পাঞা বড় ভয়।।

ঐছে যদি পুনঃ কর তবে না সহিমু।

সবংশে তোমারে মারি যবন নাশিমু॥

এত কহি সিংহ গেল আমার হৈল ভয়।

এই দেখ নখচিহ্ন আমার হৃদয়॥

এত বলি কাজী নিজ–বুক দেখাইল।

শুনি দেখি সর্বলোক আশ্চর্য মানিল॥

জয় শ্রী নৃসিংহ                                         </span>
                                        <a class= Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 22-May-2024 by east is rising

শঙ্করাচার্যের কীর্তি

মাত্র ৩২ বছরের আয়ুতে...

★ ভারতবর্ষকে ৩ বার খালি পায়ে প্রদক্ষিণ করে,

★ তৎকালীন ভারতবর্ষে বিদ্যমান মোট ৭২ টি বিরোধী ও নাস্তিক্য মতবাদকে তর্কে পরাজিত করে,

★ মহাভারত থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে আলাদা গ্রন্থ হিসেবে তুলে ধরে,

★ ১১ টি প্রধাণ উপনিষদের ভাষ্য করে,

★ বেদব্যাস রচিত মহান ব্রহ্মসূত্রের শ্রেষ্ঠ ভাষ্য রচনা করে,

★ ১৫১ টি শাস্ত্রীয়, জ্ঞানমূলক ও ভক্তিপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করে,

★ দেবদেবীদের নিয়ে বহু ভক্তিপূর্ণ স্তোত্র রচনা করে,

★ ভারতের ৪ প্রান্তে ৪ মঠ স্থাপন করে,

★ সেই ৪ মঠে নিজের ৪ প্রধাণ শিষ্যকে দায়িত্ব দিয়ে,

★ ৪ মঠে ৪ বেদের চর্চা ও ৪ মহাবাক্যের চর্চার নীতি স্থাপন করে,

★ দশনামী সন্ন্যাসী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করে...

পুনরায় সনাতন ধর্মকে উজ্জীবিতকারী জগৎগুরু ভগবান আদি শঙ্করাচার্যের আবির্ভাব তিথিতে উনার শ্রীচরণে জানাই কোটি-কোটি প্রণাম

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 15-May-2024 by east is rising

Brahmins According To British

"Brahmins are mostly 5'8" tall, with good physique, given to very good personal hygiene, who shave daily and are extremely reliable, making them very good soldiers". This was the note circulated to all unit commanders in India by the British Indian Military Intelligence Branch in the 1897.

In the 19th century the British Indian Military Intelligence Branch issued special handbooks to its unit commanders. These handbooks were called “Caste Handbooks for the Indian Army”. All unit commanders were supposed to read them closely and use the insights they offered in managing their troops.

This is what the military handbooks compiled by the Intelligence Branch said:

India was divided into three caste groups. Brahmins, who studied; Kshatriyas who ruled; Vaishyas who produced wealth. Do notice that there is no mention of untouchables or of shudras.

This is what the note on Brahmins said (given below is an complete excerpt from chapter 1 of the Intelligence Branch Handbook on Brahmans):

“Endowed with subtle minds, trained to the utmost keenness, and intellectually far in advance of any other caste, the Brahmans were peculiarly fitted for the business of political administration. They were largely employed in civil capacities, not only by Hindu Princes, but also by the Mughal Emperors, who recognized their ability and fitness for positions of trust. The chief adviser of the Emperor Akbar in matters of revenue, finance, and currency, was the Raja Todar Mai, a Brahman of the greatest ability and integrity.

Throughout the centuries of Muhammadan dominion the Brahmans never relinquished their ascendancy over the rest of the Hindu world. As their numbers increased, however, it became impossible for the whole caste to devote itself exclusively to religious functions. In the Doaba and on the banks of the Ganges and Jumna, where the principal shrines were situated, Brahmans became very numerous. Many compelled to resort to agriculture as a means of livelihood, and as they collected in villages and acquired land, the unsettled state of the country compelled them to take measures for the defence of their rights against the encroachments of their warlike neighbours.

There thus arose a class of Brahmans who, while retaining the privileges of a Levite caste, were in all essentials an agricultural people, of naturally pacific tendencies, but ready and able to defend themselves whenever occasion required. War, pestilence, and famine, often compelled the younger member of these communities to seek employment at a distance from their homes, and, as their religion debarred them from the acceptance of menial offices, they naturally resorted to military service as the only form of employment which could be accepted without loss of caste.

The general anarchy which followed the breaking up of the Mughal Empire compelled most of the European settlers in India to entertain corps of native irregulars for the defence of their posts and factories. The idea of giving discipline to these levies originated with the French, but other nations, and the native princes, were not slow to follow their example, and by the middle of the 18th century the Madras and Bombay settlements of the English East India Company possessed a considerable force of wellU trained topasses «topasses were Portuguese half-castes and native Christians, enlisted by the East India Company, and so called because they wore topis or hats. They were armed and dressed exactly like Europeans» and sepoys, armed and equipped like Europeans.

After the recapture of Calcutta in 1757 it was decided to form a similar force for service in Bengal, and early in that year Clive raised the

1st Regiment of Bengal Native as the Lal Pultun, because it was the first native corps to be dressed in red.

Nearly all the warlike races of Northern India were represented in the new corps, for, owing to the Muhammadan conquest of Bengal, the province was overrun by bands of military adventurers from Oudh, the Punjab and even from beyond the Indus. It was from men of this stamp that Clive selected his recruits, and in the corps raised about this time in Calcutta were to be found Pathans, Rohillas, Jats, Rajputs, and Brahmans.

The majority of the men were Musulmans, but as most of our early campaigns were directed against Muhammadan princes, it was considered expedient to gradually replace them by Hindus. It thus came about that the ranks of the Bengal regiments were filled almost entirely by Brahmans and Rajputs from Behar, Oudh, and the Doab, until our military service became practically the monopoly of these classes. Other reasons tended to encourage the enlistment of high caste Hindus. They were more docile and easily disciplined, they were quicker to learn their drill; and their natural cleanliness, fine phusicque and soldierly bearing, made them more popular with their European officers than the truculent Muhammadans from the north, to whom pipeclay and discipline were abhorrent.

No historical notice of the Brahmans would be complete without some reference to their military services. It is, however, impossible to separate the deeds of our Brahman sepoys from those of their comrades of other classess, for as the Hindustani portion of the army was not organized on the class system until 1893, for its achievements could not be allotted to any particular caste without obvious injustice to the others.

Brahmans have served in our ranks from Plassey to the present day. They have taken part in almost every campaign undertaken by the Indian armies. Under Forde they defeated the French at Condore. Under Cornwallis they assisted at the capture of Seringapatam. Under Lake they took part in the Mahratta wars, including the siege of Bharatpupr. As volunteers, Brahmans took part in the conquest of Java, also in the Nepal campaign, and in the expeditions to Burma and China. Brahman sepoys shared in the victories and disasters of the first Afghan War, including the defence of Jelalabad. In the Sikh wars, Brahmans and other Hindustanis helped us to win the Punjab, and even the Great Revolt of 1857 furnishes many instances of their personal devotion and fidelity. In Sir Hugh Rose’s brilliant campaign in Central india, nothing could surpass the gallantry and loyalty of certain regiments of the Hyuderabad Contingent, which was largely composed of Brahmans, Rajputs, and other classes recruited from the North-West Provinces. ….

Since the Mutiny, Brahmans have taken part in the Afghan War, in the expedition to Egypt, in the conquest of Burma, and in numerous expeditions on the north-west and north-east frontiers of India. At the storming of Minhla, the Brahman sepoys of the 11th Bengal Infantry were the first to enter the fort, and on the conclusion of the war two Brahman native officers of this regiment were awarded the order of merit, for valiant and distinguyished conduct whilst holding independent commands. In the same campaign a detachment of the 4th Bengal Infantry, undera a Brahman. Subadar, made a forced march of 65 miles in 36 hours, stormed Kendat, and thereby saved a number of European officials from a cruel and untimely death. With such an excellent record in the past, it may be confidently predicted that the new organisation into class regiments will enable our Brahman sepoys to add yet further to their military reputation, and place them on an equality with the most warlike of the races now serving under the British colours.

Pic. Painting from 1900 of an Indian sepoy in the employ of the British Indian Army.

Collected from Facebook Page "India History"

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 02-May-2024 by east is rising

From Democratic Socialism to Electoral Democracy to Hindutva with Vote Bank Politics: Changing Sources of Legitimacy of Indian State

Through electoral democracy, hindi votebank rules via numerical superiority. That creates hindi domination. Central government is be all end all in india so hindi belt runs indian government and exploits coastal non-hindi productive nations. Along with hindi belt, internal northeast, punjab, coastal odisha also joins this exploitation. Punjab and northeasten states bargain more freebies via threat of cessation, they actually do not seek to separate.

Hindi domination creates Gujarati, Rajasthani, Haryanvi, Sindhi etc baniya monopoly in economy. Only baniyas are allowed to own capital and state policies are made it such way. Baniya hegemony is maintained through hindi domination.

Through votebank reservation and other freebies of reserved castes and tribes established via exploitation of general castes.

Whoever forms votebanks gains their share according to bargaining power.

Upto 90s india maintained baniya hegemony through license raj and hindi domination through anti-colonial sentiments. India played the 'Democratic Socialist' card to gain blank cheques from USSR and maintaining their exploitative structure.

After 90s, this changed into 'West has democracy, west is best, so democracy is best.' But after USA hegemony is weakened, India needs new justifications for legitimacy. Then tgis new Indian nationalism and hindutva emerged. Rise of China has threatened Indian ruling class so much that they have decided that the heterogenity is a threat. So they seeks to homogenise india as soon as possible. This was always goal of indian ruling class but they did it in slow-poisoning manner so that nobody can understand what was happening. But indian ruling class has decided that this process was too slow and time is running out. So they have entered into direct and quick mode. This has also revealed the reality of indian state.

In slow-poisoning mode, indian polktics had several compradors and lackey beneficiaries like leftists, caste lobbies, postmodernist lobbies, religious minority lobbies etc. They often acted as diversion, controlled opposition and agents of state itself. But indian state has reached a material condition where they does not require any lackeys anymore. They are in a direct mode now so its over for compradors. But the more indian state is trying to homogenise, the more internal contradictions are getting significant. This will play crucial role in future.

With China's rise, all indian state constructs are slowly falling apart and also creations of anglo hegemony is getting irrelevant. This will also play another crucial factor.

Read More

Author: Purandhar Khilji

Theoretical Hindu 30-March-2024 by east is rising

আজ কেন ঐতিহাসিক দিন?

রাম মন্দির নির্মাণ বুঝিয়ে দিল এখন ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভারতের বাম ও সংখ্যালঘু অংশ ভারতীয় সাংবিধানিক পরিকাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে আর কোনও লড়াই চালাতে পারবেনা। হয় বাম ও সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক পরিকাঠামোরই বিরুদ্ধে যেতে হবে অথবা চুপচাপ হিন্দু রাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। আমার ধারণা অধিকাংশ বাম ও সংখ্যালঘু মানুষই এই হিন্দু রাষ্ট্রকে মেনে নিতে বাধ্য হবে বা ভয়ে মেনে নেওয়ার ভনিতা করতে বাধ্য হবে। কারণ সাধারণ মানুষ কোনও দিনই রাষ্ট্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়তে পারেনা বা লড়াই করার দায় নেয়না। ফলে হিন্দু রাষ্ট্র বিরোধিতা ঠিক্টহাক করতে গেলে ভারতীয় সাংবিধানিক পরিকাঠামোর বাইরে গিয়ে লড়াই করা ছাড়া আর উপায় রইলনা। এর একটা সুবিধে হল ঢপবাজ স্বার্থ লোটা হিন্দু বিরোধী অংশটা শেষ হয়ে যাবে। আর সেকুলার উদারবাদী ভারতের স্বপ্ন দেখানো যাবেনা।

রাম মন্দির নির্মাণকে প্রায় উৎসব হিসেবে মেনে নিয়েছে গ্রাম পশ্চীম বঙ্গ। কোথাও দীক্ষা গুরু নিরামিষ খাবার আদেশ দিয়েছেন রাম মন্দির নির্মাণের দিন, আবার কোথাও এক সন্যাসি গ্রামে গ্রামে ঘরে ঘরে চারটে চাল দিয়ে বলেছে খিচুরি পায়েস করে খেতে। আর মোড়ে মোড়ে রামের মূর্তি বানিয়ে গাম চালিয়ে গেরুয়া ঝাণ্ডা তুলে নাচানাচি তো আছেই। গ্রাম পশ্চীম বঙ্গের হিন্দুরা বলছে দারুণ কারণ মুসলিমরা না কি এই সব দেখে "চুপসে" গেছে। এই "চুপসে যেতে" দেখেই সাধারণ মানুষ এবার বিজেপি-কে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবে। ২০২৪-এ বড়ো জয় নিয়ে এসে "ডিলিমিটেশন ২০২৬" করে সাংবিধানিকভাবেই হিন্দি-গুজারাতি-দের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে কারণ সংসদের দুই কক্ষের সাংসদ-দের ৫২% আসবে হিন্দি প্রদেশগুলো আর গুজারাত থেকে। দুর্ভাগ্যের বিষয় লারী পূজারী পাপাচারী জাতিটা পাশের বাড়ির লোককে "চুপসে যেতে" দেখেই আনন্দে মসগুল আসল ক্ষমতাবান অর্থাৎ গুজারাতি-হিন্দিদের হাতে সব চলে যাচ্ছে তা বোঝার ক্ষমতা এদের নেই।

ভারত রাষ্ট্র সবসময় গুজারাতি-হিন্দিদের অধিকারে থেকেছে। গুজারাতি ও রাজস্থানীদের (হিন্দিদের একটা অংশ) পুঁজি আর হিন্দিভাষিদের ভোটব্যঙ্ক সবসবয় ভারতের বাকিদের থেকে বেশি শক্তিশালী থেকে গেছে। জন্মহারে বাকিদের পিছিয়ে পড়া গুজারাতি-হিন্দিদের ক্ষমতাকে আরও স্থায়িত্ব দিয়েছে ও শক্তি যুগিয়েছে। ফলে আজ আর সমাজতান্ত্রিক বা সেকুলার সাঁঝার প্রয়োজন নেই গুজারাতি হিন্দি অক্ষের। আজ তারা খোলাখুলিভাবে নিজেদের আগ্রাষণ চালাবে। একে আটকাবার শ্রেণিবাদী, ভীমবাদী নারীবাদী বা সংখ্যালঘুদের নেই। দক্ষিণ ভারতে তামিল-তেলেগু-মালোয়ালী-কণ্ণড়-টুলু দ্রাবিড়ীয় অক্ষের কাছ থেকে গুজারাতি-হিন্দি অক্ষ একটা প্রতিরোধ অবশ্যই পাবে। শিখ, কাশ্মীরি, উত্তরপূর্বের ও মধ্য ভারতের কিছু উপজাতিও কিছুটা লড়াই দেবে।

তবে আরও দুটো জায়গা থেকে গুজারাতি-হিন্দি অক্ষ ঝামেলায় পড়বে। এক, গুজারাতি ব্যবসায়ী ও হিন্দি রাজনীতিবীদদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে মোদী পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে অমিত শাহ বনাম যোগী হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। দুই, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি। চীনের উত্থান ভারতের ক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়াতে কমিয়ে ফেলেছে এবং চীন ভারতের জমিও আস্তে আস্তে গ্রাস করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে আটকাতে ভারতকে বলির পাঁঠা বানাতে চাইছে। গুজারাতি-হিন্দি চরিত্র ঝুঁকি প্রবণ বা দুঃসাহসী চরিত্রের নয় আর তাই মার্কিন কথায় তারা সরাসরি চীনের সঙ্গে ঝামেলায় যেতে চায়না।চীন অন্যদিকে জানে যে ভারত-কে শেষ করে দিলেই মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল খতম। তাই চীনও ভারতের আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীন দুর্বলতাগুলো ভালভাবে বুঝে নিচ্ছে। গুজারাতি-হিন্দি অক্ষের এক ভাষ এক ধর্মের ভারত চীনের কাছে ভাবী হুমকি। নিজের পাশে একটা সমান ক্ষমতাধর দেশ কোনও দেশই চায়না। ভারত আজ সত্যি এক ঐতিহাসিক দিন দেখল।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 22-January-2024 by east is rising

বাম আমল বাঙালির ধ্বংসের কারণ নয়, বরং বাঙালির ধ্বংসের ফলাফল

আজকাল একটা হিড়িক উঠেছে - বাঙালির কোনো একটা অক্ষমতার বা, ক্ষতিকর দিক উঠলেই,

"আরে এর কারণ ৩৪ বছরের বাম শাসন" - এই oneliner

অন্য কিছু বলার আগে একটা সহজ প্রশ্ন ,

সুচেতা কৃপালিনী এর জন্ম যখন, তখন বাম ভাবধারা ছিল ?

উত্তর - না।

জানা না থাকলে জেনে নিন, এই সুচেতার পৈতৃক পদবী কিন্তু মজুমদার।

সুচেতা মজুমদার - যার বাঙালি পিতা

এই পর্যায়েও কিন্তু সেরকম উল্লেখ কোনো বাঙালি পুরুষ পাওয়া যাবেনা, যে হিন্দি মেয়েকে বিয়ে করেছে।

আরেকটু পিছিয়ে গিয়ে আরো একটা উদাহরণ দিই,

ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি - প্রসিদ্ধ নাম !

তাই তো?

এই ফিরিঙ্গি কালীবাড়ির ইতিহাস কি?

এক বাঙালি বিধবা সৌদামিনী আর একজন পর্তুগিজ পুরুষের প্রেম সম্বন্ধ এর কাহিনী হল এই ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি।

একটু feel করার চেষ্টা করুন scenario টা -

দেশ আপনার, সেই দেশের নারীর ওপর প্রথম অধিকারও সেই দেশের ভূমিপুত্র পুরুষের,

সেই দেশে শুধু যে একজন বিজাতীয় বিধর্মী পুরুষ আসছে তাই নয়, সে বিজাতীয় পুরুষের সাথে আপনার দেশীয় নারীদের সম্পর্ককে incentivise করছে যে architecture (মন্দির) সেখানে লোক দলে দলে ভক্তি ভাব নিয়ে পুজো দিতে যাচ্ছে।

তাই, যারা সবকিছুর root cause হিসেবে বাম আমলের নাম নেয়, they're nothing else than cheap political stooge

বাম আমলের বহু আগে ১৮৭০ থেকেই কোলকাতার বদলে বোম্বেকে incentivise করা শুরু করে ব্রিটিশ সরকার,

১৯৪০ এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝেই কলকাতা থেকে আর্মেনিয়ান , ফ্রেঞ্চ, পর্তুগিজ রা একে একে নিজের ব্যবসা তুলে দিচ্ছিল,

আর তুলে দেওয়ার আগে সেই ব্যবসা দিয়ে যাচ্ছিল নিজেদের প্রিয় মারওয়ারি, বানিয়া ব্যবসায়ীদের হাতে

এখনও, কিন্তু বাম আমল আসা আরো ৩০ বছর বাকি!

তাই, বাম আমলের অনেক আগে থেকেই বাঙালি মৃত্যুশয্যা রচিত হয়ে গেছিল,

বাম আমল বাঙালির ধ্বংসের কারণ নয়, বরং বাঙালির ধ্বংসের ফলাফল।

Read More

Author: Animesh

Historical Hindu 16-November-2023 by east is rising

হিন্দি ভারতের কোনো দেশজ ভাষা নয়, মাটির ভাষা নয়

Aniket Mitra লিখেছেন ফেসবুকে 

বাস্তব:-

হিন্দি ভারতের কোনো দেশজ ভাষা নয়, মাটির ভাষা নয়। তাই হিন্দিতে কোনো লোকসংস্কৃতি নেই। কিন্তু ভারতের বাকি ভাষাগুলির আছে।

হিন্দিতে কোনো ধ্রুপদী সঙ্গীত, শিল্প, সাহিত্য ইত্যাদির সৃষ্টি ও রচনা নেই। কিন্তু ভারতের বাকি ভাষাগুলিতে (অধিকাংশতেই) আছে।

পেছনের ইতিহাস:-

ব্রিটিশ হানাদারদের লুটতরাজ ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে গঠিত এই অর্বাচীনতম খিচুড়ি ভাষা, হিন্দিভাষা। ব্রিটিশদের উদ্যোগেই হিন্দির যাত্রারম্ভ। ব্রিটিশ আগমন তো দূর, ব্রিটিশ উদ্যোগের আগে অবধি হিন্দি নামক কোনো ভাষার অস্তিত্ব ছিলোনা ভূভারতে!

"ভারতীয়দের ভাষা" নামক একটি মিথ্যা তকমা এঁটে ইংরেজির বদলে অন্য ভাষার মাধ্যমে একই কাজ সুসম্পন্ন করার নীলনকশার প্রথম ধাপ হিন্দি নামক কৃত্রিম একটি ভাষার নির্মাণ। ভারতীয়দের বোকাও বানানো গেল, ব্রিটিশদের কাজকম্ম অব্যাহত থাকলো।

এরপরের ধাপে ব্রিটিশ দালাল গুজরাটি-পারসি-মাড়োয়াড়ি বানিয়া গোষ্ঠীর অর্থপুষ্ট দিল্লী থেকে চালিত ও নিয়ন্ত্রিত ভারতীয় ভূরাজনীতির প্রবর্তন। তারপরে মাঠে নামানো হলো বলিউডকে, বিনোদনের মাধ্যমে মগজধোলাই করার জন্য -- একপ্রকার social engineering।

হিন্দি ভাষার পূর্বসূরীর জন্ম বহিরাগত হানাদার মোঘলদের সেনাছাউনি এবং হারেমে। সুলতানদের দরবারি ভাষা আরবি মিশ্রিত ফারসির সাথে দিল্লী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের খড়িবলি ভাষার মেলবন্ধনে প্রচলিত একটি ততোধিক মিশ্র ভাষা তৈরী হয় যার পোষাকি নাম জুবান-ই-ওর্দু। এর আক্ষরিক অর্থ, সেনাছাউনির ভাষা। তার থেকেই উর্দু। মোঘলরা যেহেতু সরকারি কাজের মাধ্যম হিসেবে এই ভাষাটাকে বেছে নিয়েছিল, তার ফলে প্রচুর প্রচুর আরবি ফার্সি তুর্কি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটে। সে ভাষার লিপি ছিল পারস্য-আরবি লিপি বা নাস্তালিক লিপি।

এই জুবান-ই-ওর্দু মধ্য এশিয়াতে জুবান-ই-হিন্দভি বা হিন্দুস্তানি নামে প্রচলিত ছিলো। তাই ব্রিটিশরাও এই নামটাই তুলে নিয়ে এই ভাষাকে 'হিন্দুস্তানি' নামে ডাকতো।

সেই জুবান-ই-উর্দু ওরফে জুবান-ই-হিন্দভি ওরফে হিন্দুস্তানি ভাষা থেকে ১৮০০-র শুরুর দিকে স্কটিশ ভাষাবিদ জন বর্থউইক গিলক্রিস্টের তত্ত্বাবধানে মাড়োয়াড়ি বানিয়া তাঁবেদার ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্র, গুজরাটি ব্রাহ্মণ তাঁবেদার লাল্লু লাল এবং আরো ২-১ জন কর্তৃক কলিকাতার বুকে ভারতের সর্বপ্রথম ফ্রীমেসনস্‌ লজ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে উর্দুর থেকে কিছু ফারসি আরবি সরিয়ে তার জায়গায় সংস্কৃত গুঁজে এবং বাংলার শব্দভাণ্ডার থেকেও কিছু ধার করা শব্দ গুঁজে দিয়ে একটি বকচ্ছপ ভাষা নির্মিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় 'হিন্দি'।

পূর্বতন নাস্তালিক লিপিটা উর্দুর জন্যেই বরাদ্দ রেখে পশ্চিমী নাগরী লিপিতে হিন্দির প্রমিতকরণ করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ক্রিয়াকলাপ সেপাই বিদ্রোহের (ব্রিটিশ প্রভুকে ভাল্লাগছেনা তাই মোঘল প্রভুতে প্রত্যাবর্তনের নামে যে হইহট্টগোল, সেটাই 'সেপাই বিদ্রোহ') আরো আগে। একটু তলিয়ে ভাবলেই হিসেব মিলবে।

আপাতবৈপরীত্য ও দ্বান্দিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে একটু একটু করে ঘেঁটে দেওয়ার কারসাজি।

বিশ্বাস না হলে উর্দু এবং হিন্দির ব্যাকরণ, ভাষার ব্যবহার, গঠন, লিঙ্গের ব্যবহার ও নিয়মবিধি ঘাঁটলেই উভয় ভাষার অভিন্নতা প্রকট হবে।

কার্যত, হিন্দি হচ্ছে লিপ্যন্তরিত উর্দু।

ব্রিটিশ তাঁবেদার ভারতেন্দু হরিশচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ব্রিটিশদের থেকে এই বাংলার বুকে জমিদারি পায় এবং তাঁবেদার লাল্লু লাল তৎকালীন মুর্শিদাবাদের নবাবের সেবায় রত ছিল। বাংলার বুকে মাড়োয়াড়ি জমিদারদের বংশধর ভারতেন্দু হরিশ্চন্দ্র ব্রিটিশ আমলে বাংলার নগজাগরণ প্রত্যক্ষে করে। সেটা দেখাদেখি তার নিদান ছিল -- "বঙ্গভাষার অক্ষয় রত্নভাণ্ডারের সহায়তায় হিন্দি ভাষায় উন্নতিবিধান।" এদেরকেই ব্রিটিশরা বেছে নেয় হিন্দি নির্মাণপ্রকল্পে সাহায্যের জন্য।

এবারে আসা যাক, হিন্দুস্তানি ভাষায় বৈদগ্ধ্য অর্জনকারী স্কটিশ ভাষাবিদ John Borthwick Gilchrist সাহেবের ব্যাপারে। এই গিলক্রিস্ট সাহেব ছিল অধুনা ব্যবহৃত হিন্দি ভাষার জনক, হিন্দুস্তানি ভাষার সর্বপ্রথম অভিধানপ্রণেতা এবং বৈয়াকরণ। তার রচিত শব্দকোষ পারস্য-আরবি বা নাস্তালিক লিপি, নাগরী লিপি এবং রোমান লিপিতে প্রকাশিত হয়। সাহেব আবার নিজের কাজের অর্থযোগানের চাহিদা মেটাতে আফিম এবং নীল চাষও করাতেন; সেসব চাষের কালো ইতিহাস অনেকেই জানে!

এই "মহানুভব" সাহেবের রচিত কিছু গ্রন্থাদি নিম্নরূপ:-

১. A Dictionary: English and Hindoostanee

২. Dialogues, English and Hindoostanee, calculated to promote the colloquial intercourse of Europeans, on the most useful and familiar subjects, with the natives of India, upon their arrival in that country

৩. A Grammar of the Hindoostanee Language

৪. The Hindee-Arabic Mirror; or improved Arabic practical tables of such Arabic words which are intimately connected with a due knowledge of the Hindoostanee language

৫. The Hindee-Roman Orthoepigraphical Ultimatum

৬. Dialogues, English and Hindoostanee; for illustrating the grammatical principles of the Strangers' East Indian Guide, and to promote the colloquial intercourse of Europeans on the most indispensable and familiar subjects with the Natives of India immediately upon their arrival in Hindoostan

গিলক্রিস্ট সাহেবের গ্রন্থগুলি এটাই প্রমাণ করে যে, ইংরেজদের অপশাসন, লুন্ঠন ও শোষণের সুবিধার্থে হিন্দুস্তানি তথা হিন্দি-উর্দুর যথাসম্ভব ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়াস হয়েছে গোটা উত্তরভারত জুড়ে। যার ফলে উত্তরভারতের বিভিন্ন জাতীয় ভাষাগুলি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইংরেজরা ইংরেজি এবং হিন্দুস্তানির মধ্যে কিছু মিল খুঁজে পেয়েছিল। এও সত্যি যে আরবি এবং হিন্দিরও একটি সংযোগ আছে... উর্দুর গর্ভজাত ভাষা বলে কথা!!

ফরাসি ভাষাবিদ Jules Bloch, যিনি একটি ভাষার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের আঙ্গিকে সেই ভাষার গবেষণা করতেন, তিনিও লাল্লু লালের গ্রন্থ 'প্রেম সাগর' নিয়ে প্রণিধানযোগ্য উক্তি করেছেন যার নিম্নরূপ --

"Lallu Lal, under the inspiration of Dr. Gilchrist, changed all that by writing the famous Prem Sagar, whose prose portions are on the whole Urdu, from which Persian words have been throughout replaced by Indo-Aryan words… The new dialect gave a lingua franca to the Hindus."

প্রেমসাগর-কে হিন্দিতে সৃষ্টি ভেবে হিন্দির গর্বে গর্বীয়ান কল্পজগৎনিবাসীদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়তে পারে!

A History of Hindi Literature নামক গ্রন্থে লেখক K.B. Jindal বলছেন -- "Hindi as we know it today is the product of the nineteenth century."

ওদেরই লোক হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছে!

মান্য বা প্রমিত হিন্দি বা তথাকথিত খাঁটি হিন্দি সম্পর্কে প্রখ্যাত আইরিশ ভাষাবিদ George Abraham Grierson বলছেন -- "an artificial dialect the mother tongue of no native-born Indian, a newly invented speech, that wonderful hybrid known to Europeans as Hindi and invented by them."

এই গ্রিয়ার্সন সাহেবের নামেই হিন্দির জন্য একটি সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়, Dr. George Grierson Award... ভিনরাষ্ট্রে হিন্দি ভাষা প্রচার ও উন্নয়নের জন্য ভারতের হিন্দি অধিদপ্তর থেকে প্রদান করা হয়। কিন্তু কালের কি অমোঘ পরিহাস: বহু আগেই গ্রিয়ার্সন সাহেব হিন্দির কাছা খুলে সেটার অর্বাচীনতা ও বকচ্ছপ প্রকৃতির স্বরূপ জানিয়ে দিয়ে গেছেন!! যার নামে পুরস্কার বিতরণ করে নিজের চুরি ঢাকবে ভেবেছিল সেই কবে বলে দিয়ে গেছে "ছিঁচকে চোর!"

মোদ্দাকথা হলো গিয়ে উলেখযোগ্য ভাষাবিদগণ এবং হিন্দি ভাষার ঐতিহাসিকগণ এই সিদ্ধান্তে একমত যে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে একটি ছয়-আঁশলা সংকর বকচ্ছপ ভাষার উদ্ভাবন ও নির্মাণ করা হয় ব্রিটিশদের দ্বারা। এই ভাষা না তো ভারতের কোনো জাতির দেশীয় ভাষা আর নাই এখানকার কোনো ভূমিসন্তানদের মাতৃভাষা।

হস্তান্তরিত ভারতে কংগ্রেসী আমলে মধ্যপ্রদেশের বেওহর রাজেন্দ্র সিনহা, উত্তরপ্রদেশের হাজারিপ্রসাদ দ্বিবেদী, মহারাষ্ট্রের বালকৃষ্ণ কালেল্কার, উত্তরপ্রদেশের মৈথিলীশরণ গুপ্তা এবং মধ্যপ্রদেশের নামী ব্যাংকিং পরিবারের শেঠ গোবিন্দ দাস (অবাঙ্গালী) প্রমুখ সংসদবভবন এবং ভারত জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় হিন্দিকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। সমাবেশ বসায়, চাপ সৃষ্টি করে।

এতো অনুনয়বিনয়, তর্কবিতর্ক আর দালালির পরে অবশেষে ১৪ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ সাধারণাব্দে বেওহর রাজেন্দ্র সিনহার জন্মদিবসকেই 'হিন্দি দিবস' হিসেবে গ্রহণ করা হলো এবং হিন্দিকে ভারতের একটি দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে সকলের উপরে চাপানোর পথ প্রশস্ত করা হলো।

উপসংহার:-

ক) ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশ ও সাম্রাজ্যবাদ ছিল বলেই সর্বত্র হিন্দির এত রমরমা। ইংরেজির সাথে হিন্দি মেলানো যেতো বলেই ইংরেজরা এই ভাষাটার প্রসার, প্রচার ও প্রমোশান করেছিল।

খ) হিন্দি ভারতের নিজস্ব ভাষা নয়, ভারতের কোনো জাতি কিংবা জনগোষ্ঠীর ভাষা নয়। হিন্দির উৎসে আরবি, ফারসি, তুর্কি, ইংরেজির ছাপ বেশী। বলতে গেলে হিন্দির আগাপাশতলা অ-ভারতীয় অথচ হিন্দি দিয়ে ভারতের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ভাষাগুলিকে গেলানো হচ্ছে। উত্তর, পূর্ব ও মধ্যভারতের ভাষাসমূহ ব্রজ, অওধি, ডোগরি, পাহাড়ি, হরিয়ানভি, রাজস্থানি, মেওয়ারি, গাঢ়ওয়ালি, বুন্দেলখন্ডি, বাঘেলখন্ডি, ভোজপুরি, মগধি, অঙ্গিকা, মৈথিলীর মতন ভাষাগুলি হিন্দির কবলে গিয়ে আজ মুমূর্ষু।

গ) ১৯৪৭ পরবর্তী ভারতে হিন্দি আগ্রাসন, সম্প্রসারণ ও সাম্রাজ্যবাদ আসলে প্রাক্তন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের নামান্তর। অভিন্ন চরিত্র, অভিন্ন অভিসন্ধি। প্রভুদের কাজ তাদের ছেড়ে যাওয়া ভৃত্যেরাই করে চলেছে কারণ ভৃত্যেরা সেইরক্মই দাসখত দিয়েছিল। আজকে ভারতের যেসকল সরকার হিন্দি ও উর্দুর পেছনে অঢেল, অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় অর্থব্যয় করছে, তারা আসলে প্রভুদের আজ্ঞাপালন করছে। চাটুকার প্রবৃত্তি।

ঘ) ভারতের সংবিধানে যেই ধারায় শুধুমাত্র ইংরেজি ও হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিশেষভাবে হিন্দির প্রসারের নিদান দেওয়া হয়েছে, এইসব আসলে কাদের আদেশে করা হয়েছে আশা করি তা অনুমানে কষ্ট হবেনা!

ঙ) তথাকথিত "স্বাধীন" ভারতে আজও যারা "হিন্দি-হিন্দুস্তানি" বলে সপ্তম সুরে চেঁচিয়ে ক্যাওড়ামি করে, তারা আসলে নির্দিষ্ট সুরের তালে নাচছে?!!

চ) যে কাজ ইংরেজরা শুরু করেছিল, সেটা ক্ষমতা হস্তান্তরের পরে কংগ্রেস করেছে। কংগ্রেসের পর আজকে আরএসএস-চালিত বিজেপি করছে। ভারতের কিছু প্রাদেশিক সরকারও দোসর হিসেবে কাজ করছে। সব্বার সুঁতো যেন এক জায়গা থেকেই টানা হচ্ছে! আর জনগণ, থুড়ি, ভেড়াগণ যেন সংশোধনাতীত। জানবেনা, ভাববেনা, বুঝবেনা, শিখবেনা, শোধরাবেনা, জাগবেনা।

উপলব্ধি:-

এখনো আমাদের আগের ২-৩ প্রজন্ম মোটের উপরে হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা মনে করার ভুলটা করে থাকে। সে তাদেরকে সংবিধানের ধারা বলে দিলেও তাদের গেঁতোমি যায়না -- এটাই হলো cognitive dissonance। বহুদিন ধরে মিথ্যের পুনরাবৃত্তি হতে হতে সেটা সত্যের ভেক ধরেছে যে সত্যি জানলে অস্বস্তি হয়।

আজকাল নাগরী লিপির দোহাই দিয়ে হিন্দিকে এখন সংস্কৃতের আধুনিক রূপ ভাবানো হচ্ছে। "দেবনাগরী" শব্দখানি বিশেষ উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, যাতে সাধারণ মানুষের অবচেতনে একটা অগাধ ভক্তিভাব জন্মে -- এটাকে বলে psychological operation।

হিন্দির ভিত এতোই দুর্বল যে নানান মিথ্যে ও কপটতার আবরণে ঢেকে রাখতে হয়। এই আবরণ সরিয়ে দিলেই হিন্দি ধপাস হয়ে যাবে, চুরমার হয়ে যাবে।

হিন্দি ভাষার পত্তন, প্রসার এবং গ্রহণ যেহেতু স্বাভাবিকভাবে হয়নি সেহেতু ছলে-বলে-কৌশলে আগ্রাসন একমাত্র উপায়।

১৪ই সেপ্টেম্বর মিথ্যাচারের দিবস

১৪ই সেপ্টেম্বর বিভিন্ন জাতির দেশজ ভাষা গিলে খাওয়ার দিবস

১৪ই সেপ্টেম্বর নবরূপে পুরোনো সাম্রাজ্যবাদের দিবস

১৪ই সেপ্টেম্বর আদ্যোপান্ত একটি অভারতীয় ভাষিক-সাংস্কৃতিক একাধিপত্যের দিবস

১৪ই সেপ্টেম্বর একটি কালো দিবস

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 17-September-2023 by east is rising

ভবিষ্যতে এই পুরুষবিদ্বেষী আইনগুলোর কারণে হিন্দু পুরুষ এরপর বিদ্রোহী হয়ে না কালাপাহাড় হয়ে উঠে

Prosenjit Dey

ভবিষ্যতে এই পুরুষবিদ্বেষী আইনগুলোর কারণে হিন্দু পুরুষ এরপর বিদ্রোহী হয়ে না কালাপাহাড় হয়ে উঠে

হিন্দুত্বের সাথে হিন্দু আইনের কোন সম্পর্ক নেই,হিন্দু আইনগুলো তৈরি হয়েছে কলোনিয়াল পশ্চিমা আইনের অনুকরণে....

সবথেকে হাস্যকর কথা হলো যে আম্বেদকরকে ভারতের সংবিধান প্রণেতা হিসেবে ভারতবাসী জানে এটা চরম মিথ্যা।তার প্রমাণ হলো- আম্বেদকর যে আইনগুলো হিন্দু আইন হিসেবে তথাকথিত স্বাধীন ভারতের জন্য বলবৎ করেন সেগুলোর প্রত্যকটাই তিনি বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের সংবিধান হতে নিয়েছিলেন।

আজকাল হিন্দুত্ববাদীদের চরম আদর্শ হলো এই আম্বেদকর কিন্তু এই আম্বেদকর হিন্দু ধর্ম বিরোধী কম ছিলেন ন আর শেষ বয়সে গিয়ে বৌদ্ধ ও হয়ে গিয়েছিল।

চরম নারীবাদী এই নিম্ন মস্তিষ্কের ধুরন্ধর আম্বেদকর দেশ ভাগের পক্ষে ছিল।

দেশভাগের প্রক্কালে তিনি সবর্ণ হিন্দুদের বিশ্বাস অর্জনে হিন্দুত্বের কথা বলে ভবিষ্যত ভারতবর্ষের জন্য অহিতকর পশ্চিমা আইনগুলো প্রণয়ন করেন।

হিন্দুদের সবথেকে বড় সমস্যা হলো তারা তাদের পক্ষে কেউ একটু বেশি বললেই তাকে ভগবান বানিয়ে দেয়,তার মূর্তি বানিয়ে পূজা করে।

আম্বেদকর ও তেমনই একজন,যে আম্বেদকর সংরক্ষণ করে হিন্দুদের এতো ক্ষতি করলো, পশ্চিমা আইন বলবৎ করে এতো ক্ষতি করলো তাকেই হিন্দুরা পূজা করে।

তথাকথিত হিন্দুরাষ্ট্রের সপ্নে মশগুল থাকা ছাগলগুলো এগুলো বুঝবে না।

নিজের বাপকে তারা অস্বীকার করে বা না মেনে অপরের বাপকে বাপ ডাকে বা মানে তাদের মতোই অবস্থা হিন্দুর!

নিজ ধর্মীয় গ্রন্থের আলোকে তাদের কোন আইন নেই, তাদের সব আইন পশ্চিমা বৃটিশদের অনুকরণে তৈরি!

যে জাতি পরানুকরণ করে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়,হিন্দুর ভবিষ্যত তমসায় ঘেরা।

ভবিষ্যতে এই পুরুষবিদ্বেষী আইনগুলোর কারণে হিন্দু পুরুষ বাধ্য হবে হিন্দু ধর্ম ছাড়তে এরপর বিদ্রোহী হয়ে না কালাপাহাড় হয়ে উঠে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 08-August-2023 by east is rising

Migrants in Indian Subcontinent

People who migrated INTO Indian subcontinent to create India:

1. Stone Age Africans 40,000+ years

2. Neolithic Iranian farmers 7,000+ years

3. Steppe Pastoralists (Arya) 3,500+ years

4. Tibeto-Burmese, Austroasiatic 3,000+ years

5. Yavanas, Sakas, Pahalavas, Kushan, Hun, Gujar 2000 years

6. Turks, Afghans, Mongols, Arabs, Persians, Africans <1000 years

7. Europeans <500 years

This is based on archeology, history & genetic research.

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 12-May-2023 by east is rising

'The Kerala Story' - মুখোশ উন্মোচন

সাকিব হাসান, কলকাতা:

From ‘In the Name of Love-Melancholy of God's Own Country’ to 'The Kerala Story' : Sudipto Sen's movie or 'Sanghthing'
বর্তমানে মিডিয়ার একাংশ "The Kerala Story" ফিল্মের জন্য যেভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে সেই ফিল্ম নির্মানের পিছনে কারা রয়েছেন সেটা জানলে ফিল্ম নির্মানের উদ্দেশ্য সহজেই বোঝা যাবে। এই ফিল্মও সেই রকম যেরকম লিবার্টি অফ আর্টের নামে মিথ্যার পাহাড় তৈরি করে কাশ্মীর নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল। "The Kerala Story" -এর প্রযোজক, পরিচালকেরাও সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ, ফ্যাসিস্ট নেতা ও কর্মীদের সমর্থন পাবেন। 'The Kerala Story' ছবির পটকথা লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী ছবিটি ওমান চান্ডির বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে (সেই বয়ান তৎকালীন বিধানসভার কার্যক্রমে রেকর্ড করা হয়েছে)। সেই বক্তব্যকে সঙ্ঘী মানসিকতার একটি দল মনগড়া করে গঠন করা হয়েছে। যা একেবারেই মিথ্যা।

তবে সত্য কি? আসল সত্য হলো- '25 জুন, 2012' -এ কেরালার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ওমান চান্ডি বিধানসভায় বলেছিলেন যে 2006 থেকে (2012 সাল পর্যন্ত) রাজ্যে মোট 2,667 জন মেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ওমান চান্ডি তার বিবৃতিতে একেবারেই বলেননি যে, কেরালায় প্রতি বছর 2,667 জন মেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি যে হিসেব পেশ করেছিলেন সেটা মোট প্রায় সাড়ে ছয় বছরের ছিল। অর্থাৎ, কেরালায় সাড়ে ছয় বছরে 2,667 মেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। একটি বিষয় উল্লেখ্য যে ওমান চান্ডি ISIS -এ যোগদানকারী মহিলাদের বিষয়ে কিছু বলেননি। সহজ কথায়, কেরালার 32,000 মেয়ে কখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি, না কেরালার কোনো ধর্মান্তরিত মুসলিম মেয়ে কখনও ISIS -এ যোগ দিয়েছেন। "The Kerala Story" -এর প্রযোজক হলেন 'বিপুল অমৃতলাল শাহ', যিনি একজন কট্টর গুজরাটি এবং নতুন ভারত কুমারের (পুরানো কানাডা কুমার) অংশীদার, যার সাথে তিনি প্রায় ছয়টি চলচ্চিত্র করেছেন। এবং 'The Kerala Story' -এর পরিচালক হলেন 'সুদীপ্ত সেন'। 'The Kerala Story' -এর পূর্বে পরিচালক সুদীপ্ত সেন ‘In the Name of Love-Melancholy of God’s Own Country’ শিরোনামের একটি ফিল্ম নির্মান করেছিলেন। 2018 সালে এই ফিল্মের স্ক্রিনিং তিনি JNU তে‌ করছিলেন। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় এবং তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয়। সেই সময়েও সুদীপ্ত সেন কেরল ও ম্যাঙ্গালোর থেকে হিন্দু মেয়েদের কথিত ধর্মান্তর, ইসলামিক জিহাদ, ISIS, কথিত ইসলামিকরণ নিয়ে একই সঙ্ঘী সুর তুলেছিলেন। আর 'In The Name of Love' ফিল্ম নির্মানের পিছনে তৎকালীন কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দনের একটি বক্তব্যের অজুহাত দিয়েছিলেন, যেটা মিথ্যা ছিল। তখন এই সংখ্যা বলা হয়েছিল ১৭ হাজার, এখন ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সংখ্যাও‌ ইনি ইচ্ছা মতো বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আমরা সবাই জানি কেন এই ধরনের ফিল্ম নির্মান করা হয়। যেহেতু সমাজের একটা বড় অংশ এতে সন্তুষ্ট, তাই এই ধরনের ফিল্ম তৈরি করা হচ্ছে। যাতে করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উগরে সংখ্যাগুরু সমাজের মানুষের মন জয় করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিংস্মাত্মক মানসিকতা নির্মাণ করা যায়। আর এর ফলে BJP অর্থাৎ 'ভারত জ্বালাও পার্টি' ভোটে তার লাভ তুলতে পারে।

Read More

Author: তাহা আলী খান

Social Hindu 11-May-2023 by east is rising

বাঙালির মাতৃ পুজোর বাড়বাড়ন্ত আসলে তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতারই প্রতিক

দুর্গাকে আমরা মা বলে ডাকি। দুর্গা পুজো আসলে মাতৃ পুজো। মানুষ যখন কৃষি শেখে তখন জমির উর্বরতা ও নারীর সন্তান ধারণের ক্ষমতাকে এক সূত্রে গাঁথতে থাকে। তখন থেকেই "মাটি মানে মা" তত্ত্ব সমাজে প্রসারলাভ করে। কৃষির প্রসার বাড়লে, খাদ্যোতপাদন বাড়ে, ফলে আরও বেশি জনসংখ্যা ধারণ করা সম্ভব হয়, এবং এই বর্ধমান জনসংখ্যা ব্যবহার করে আরও বেশি অঞ্চল কৃষির আওতায় আনা যায়। তাই কৃষি সমাজে মাতৃ পুজোর প্রসার বাড়তেই থাকে।

এছাড়াও কৃষি আরম্ভ হওয়ার আগে সমাজে নারী ও পুরুষ উভয়েই বহুগামী ছিল। তাই কে বাবা তা জানা যেতনা আর তাই সন্তান মাতৃ পরিচয়ে পরিচিত হোত। তাই আদি মাতাকে পুজো করাও রেওয়াজ ছিল কৃষির বিকাশের আগে থেকেই।

তবে কালের নিয়মে যখন গবাদি পশু চারণ শুরু হয়, ছোট হস্তশিল্প আস, পণ্যের সংখ্যা বাড়ে, বাণিজ্য শুরু হয়, নগর গড়ে ওঠে, সেই নগরকে ও বাণিজ্যকে রক্ষা করতে দস্যুদের সাথে যুদ্ধ করতে হয় তখন পুরুষের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। যোদ্ধা পুরুষ ও ব্যবসায়ী পুরুষকে বাদ দিয়ে আর সমাজ ভাবতেই পারতনা। তখন পুরুষ পুজো শুরু হয়। শেষে রাষ্ট্র গড়ে উঠলে নিরাকার দেবতা ধারনা আসে। কিন্তু সেই নিরাকার দেবতাকেও পুরুষ হিসেবেই ধারণা দেওয়া হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে। রাষ্ট্র খাজনা বাড়াতে যুদ্ধ ও ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং তাই রাষ্ট্রের সাহায্যে যোদ্ধা-ব্যবসায়ী পুরুষের পুজো বিস্তারলাভ করে।

পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গাতেই সমাজের বিকাশ হয়েছে এবং সভ্যতা কৃষি ছাড়িয়ে সমাজ গবাদি পশু চারণ, ছোট হস্তশিল্প, ব্যবসা, নগর-এর পথে এগোতে থাকে। ফলে মাতৃ পুজো ছাপিয়ে সর্বত্রই যোদ্ধা-ব্যবসায়ী পুরুষের পুজো বিস্তারলাভ করে। তবু নানাভাবে কৃষি সমাজে মাতৃ পুজো টিকে থেকেছে। গ্রাম বাংলাতেও মাতৃ পুজো সেভাবেই টিকেছিল। রাষ্ট্র নিজের ব্যবসা এবং যুদ্ধের স্বার্থে পুরুষ পুজো প্রচার করলেও কৃষি সমাজের বিশাল একটা অংশ জুড়ে মাতৃ পুজোর প্রভাব রয়ে যায়।

বাংলাতে সেভাবেই মাতৃ পুজো টিকে ছিল। কিন্তু প্রথমে মোঘল এবং পরে ব্রিটিশ আঘাতে যখন বাংলা তার স্বাধীন রাষ্ট্র হারায় তখন বাঙালিকে ব্যবসা করতে, যুদ্ধ করতে, যোদ্ধা-ব্যবসায়ী পুরুষ পুজো করতে- বলার কেউ থাকলনা। তখন সমাজের প্রান্তরে টিকে থাকা মাতৃ পুজো সমাজের একমাত্র আরাধ্য হয়ে ওঠে। বাঙালি প্রথমে যুদ্ধ ভোলে, তারপরে ব্যবসা ভোলে। এখন সরকারী চাকরীর জন্য ধর্না দিয়ে বসে আছে। সমাজের বিকাশ থেকে শিক্ষা নিলেই বোঝা যায় বাঙালির মাতৃ পুজোর বাড়বাড়ন্ত আসলে তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতারই প্রতিক।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 20-October-2022 by east is rising

অষ্টাদশ পুরাণের নামগুলি

অষ্টাদশ পুরাণের নামগুলি হল -১) ব্রহ্ম, ২)পদ্ম, ৩) বিষ্ণু, ৪) শিব, ৫) ভাগবত, ৬) নারদীয়, ৭) মার্কন্ডেয়,৮) অগ্নি, ৯) ভবিষ্য, ১০) ব্রহ্মবৈবর্ত, ১১) লিঙ্গ, ১২) বরাহ, ১৩) স্কন্দ, ১৪) বামন,১৫) কূর্ম, ১৬) মৎস্য, ১৭) গরুড় এবং ১৮) ব্রহ্মান্ড।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 13-October-2022 by east is rising

হুদুড় দুর্গা নামে ছিল এক অনার্য বীর

মহিষাসুর কোনও অশুভ শক্তির প্রতীক নন। তিনি শহিদ। আর্য সভ্যতার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে ‘খুন’ হন হুদুড় দুর্গা নামে অনার্য বীর। 

প্রাচীন কালে এই জনপদের নাম ছিল “বোঙ্গাদিশম” এবং যার মহান সম্রাট ছিলেন এই বোঙ্গাসুর বা মহিষাসুর। হুদুড় (বজ্রের ধ্বনিকে হুদুড় বলা হয়) বা বজ্রের মত ছিল তাঁর প্রভাব ও প্রতাপ। তাই তাঁর আর এক নাম হুদুড় দুর্গা। আনন্দস্রোতের বিপরীতে এ এক আশ্চর্য শোকগাথা৷ আকাশে-বাতাসে যখন শারদীয়ার আনন্দ, তখন এই ভারতীয় মানচিত্রেরই আর এক দিকে পালিত হয় দাসাই, যা আসলে শোক-উৎসব৷ মহিষাসুরকে অন্যায় ভাবে খুন করা হয়েছিল, এমনটাই দৃঢ় বিশ্বাস উপজাতির মানুষদের। তাই দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে একাংশ উপজাতির ঘরে আলোও জ্বলে না৷

পুরুলিয়ার ভালাগোড়া গ্রামে বহু বছর ধরে হুদুড় দুর্গার পুজোর প্রচলন৷ ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের তৎকালীন সম্পাদক জিতেন্দ্র যাদব ছবি এঁকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এই পুজোয়।

মুখে মুখে প্রচলিত উপজাতিদের গানে বারবার ফিরে আসে জনগোষ্ঠীর পুরোনো ইতিহাস৷ চাঁইচম্পা বা চম্পা ছিল তাদের বাসভূমি৷ সেই আদিম জীবনে মেঘ ঘনায় আর্যদের দখলদারি শুরু হলে৷ প্রচলিত বিশ্বাস, হুদুড় দুর্গার সঙ্গে বাহুবলে এঁটে উঠতে না -পেরে অন্য কৌশল নেয় দখলদারেরা৷ রমণীর সঙ্গে লড়াইয়ে নীতিগত আপত্তি ছিল হুদুড় দুর্গার৷

তাই ছলনা করে এক আর্য নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় তাঁর৷ সেই নারীর হাতেই শেষপর্যন্ত মৃত্যু হয় এই অসীম বলশালী উপজাতি নেতার৷ হুদুড় দুর্গা বধ হওয়ার পর খেরোয়ালদের(উপজাতি) নেতৃত্ব দেওয়ার আর কেউ ছিল না৷ ধর্মগুরুদের পরামর্শে তারা সরস্বতী নদীতে স্নান করে মহিলাদের পোশাক পরে নাচতে নাচতে পূর্ব দিকে পালাতে থাকে৷ এই নাচই ‘দাসাই’ নাচ নামে প্রচলিত৷ আশ্বিন মাসও উপজাতিদের কাছে এক অর্থে দাসাই৷ দাসাইয়ের অর্থ অসহায়৷ নেতাহীন খেরোয়ালরা সেসময় যথার্থই অসহায় হয়ে পড়েছিল৷ দাসাই নাচের গানেও সেই হা -হুতাশ আছে৷ তাতে বলা হয়, ‘দুর্গা অন্যায় সমরে মহিষাসুরকে বধ করেছেন৷ হে বীর, তোমার পরিণামে আমরা দুঃখিত৷ তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ৷ আমাদের প্রণাম নাও …৷’

নবমীর দিন রঙিন পোশাক পরে, মাথায় ময়ূরের পালক গুঁজে, বাজনার তালে তালে নাচ -গান করেন সাঁওতালরা৷ সেদিন স্মৃতিতর্পণের পর হুদুড় দুর্গা তথা মহিষাসুরের উদ্দেশ্যে ছাতা উত্তোলনের অনুষ্ঠান চলে৷ যা পরিচিত ‘ছাতা ধরা’ উৎসব নামে৷ বীর বন্দনার এই পালা ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছে আদিবাসী সমাজে৷ এই পুজোর প্রসারও ঘটছে ক্রমশ৷ দেশে এখন প্রায় ১৫০টি এলাকায় হুদুড় দুর্গার পুজো প্রচলিত আছে৷ হুদুড় দুর্গা পূজাকে নিজেদের সমগ্র জাতি চেতনার অহংকার হিসেবে দেখেন সাঁওতাল জনজাতির অনেকেই। এ যেন অনেকটা সরাসরি হিন্দু দেবতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রান্তমানুষের বীরগাথা, শোষিতের জয়গান।

ইতিহাসবিদরা এমনও বলেন, গ্রামীণ কৃষিপ্রধান সভ্যতার বাহক অনার্য জাতির কাছে মহিষরূপী মহিষাসুর চিরকালই খুব আপন। আজও ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত উপজাতির (মূলত সাঁওতাল, মুন্ডা প্রভৃতি জাতি) পুরুষেরা সেরেঞ বা ভুয়াং হাতে ‘দাসাই নাচ’-এর ‍মাধ্যমে নিজেদের আত্মরক্ষার একটা প্রয়াস করেন। মহিষাসুরের শোকগাথার মাধ্যমেই তাঁরা প্রমাণ করতে চান মানুষ হিসেবে তাঁরা আজও কতটা বঞ্চনা আর অবহেলার শিকার। দুর্গাপূজার পনেরো দিন পরেই আদিম আদিবাসীদের দ্বারা পালিত বাঁদনা পরবে গৃহপালিত পশু হিসেবে মহিষের পুজো করা হয়।

রাঁচি থেকে ৯০ কিলোমিটার এগলে গুমলা শহর। তারই কিছু দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা ঝাড়খণ্ডের ঘাগরা, চৈনপুর, বিষণপুর। দুর্গাপুজো এলেই ঝাড়খণ্ডের অসুর জাতি অধ্যুষিত এই তিন গ্রাম ডুবে যায় শ্মশানের নৈঃশব্দে। ঘরে ঘরে জানলা-দরজা বন্ধ থাকে পুজোর চার দিন। যাতে আলোর রোশনাই তো দূর, ঢাকের আওয়াজটুকুও যেন ভুল করে ঢুকে না পড়ে! ‘পূর্বপুরুষ মহিষাসুরের হত্যার উৎসবে কেন সামিল হব আমরা,’ বেশ ঝাঁঝিয়েই উত্তর আসে প্রান্তজনদের কাছ থেকে। আগে তো নবরাত্রি উৎসবের টানা ন’দিনই গ্রামগুলিতে শোকপালন হত। সাদা থান পরে থাকতেন সকলে। মেয়েরা সাদা শাড়ি পরতেন। এখন সময় পাল্টেছে। সাদা কাপড় পরা বা শোকগাথা পাঠ হয় না। তবে দুর্গাপুজোর সঙ্গে এখনও সম্পর্কহীন এই প্রান্তজনেরা।

শুধু মহিষাসুর বধ নয়, পুজোর পরে ঝাড়খণ্ডের বিষণপুরের অসুর সম্প্রদায় দশেরায় রাবণ বধও মেনে নিতে পারেন না। রামলীলা উৎসবে গিয়ে রাবণের মূর্তি জ্বালানোর বিরোধিতা করেন আপামর সবাই। মহিষাসুর এবং রাবণই এই এলাকার অধিবাসীদের আত্মার আত্মীয়। আরাধ্য দেবতা। দুর্গাপুজোকে তারা কার্যত ‘গণ-বয়কট’ করেছে। পুরাণ ঘেঁটে অসুর জনজাতির আসল রহস্য, আর্য-অনার্য তত্ত্বের হাল-হকিকত বোঝার চেষ্টা করে চলেছেন ইতিহাসবিদ, গবেষকরা। বাংলা ও ঝাড়খণ্ড জুড়ে অসুর জাতি অধ্যুষিত-গ্রামগুলির এই সংস্কারের আসল কারণ কিন্তু আজও রহস্যে ঘেরা। বছর বছর আশ্বিনের শারদপ্রাতে বিষাদের মেঘ জমে অসুরদের ঘরে ঘরে।

আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস বা নষ্ট করার প্রচেষ্টা উচ্চবর্ণকুল চালিয়ে আসছে সেই প্রাচীন কাল থেকে। তবু কোনও ধর্মবিরোধী তীব্র লড়াই ছিল না এতদিন। অন্যায় শোষণের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা বহুবার গর্জে উঠলেও হিন্দু ধর্মকে আঘাত করেনি কখনও। বরং উপজাতিকুল হিন্দু ধর্মকে সবসময় মর্যাদা দিয়ে এসেছে। পুরুলিয়ার ছৌ-নাচে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গার কাহিনী পরিবেশিত হয়।

আদিবাসীদের আদি পুরুষ হুদুড়দুর্গা তথা মহান রাজা মহিষাসুর বিদেশি আর্য রমণীর দ্বারা অন্যায়ভাবে নিধনের ফলে ভারতের আদিবাসী খেরওয়ালগণ দেশের শাসন ক্ষমতা হারিয়েছিল। সারা দেশে গ্রাস করেছিল বৈদিক সংস্কৃতি। বৈদিক সংস্কৃতির সেই প্রবলতার সামনে সারা ভারতের মূলনিবাসীরা দলিত -অন্ত্যজ- নীচ ইত্যাদি আখ্যা যে লাভ করেছিল তার প্রমাণ আজও মেলে।

বাংলা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তীসগড় অন্ধ্রপ্রদেশের যেসব অঞ্চলে ভারতের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার, সেই সব অঞ্চলের জঙ্গল ও পাহাড়ে লক্ষ লক্ষ আদিবাসী হাজার হাজার বছর ধরে পুরুষানুক্রমে বসবাস করে আসছেন। সেসব অঞ্চলে এখন অনেক আইনি ও বেআইনি খনি। সংবিধানের পঞ্চম তফসিলকে মানা হয়নি। নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস করে জঙ্গল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে তাঁর ভূমিসন্তানদের। বাধ্য করা হয়েছে মহাজনের কাছে জীবন বিকিয়ে দিতে। পাশাপাশি চলেছে জল- জঙ্গল- খনিজ সম্পদ লুঠতরাজ। নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁরা উগ্র-বামপন্থী মাওবাদী রাজনীতির কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। অতএব আখ্যা মিলেছে রাষ্ট্রদ্রোহীর!

দেশের অগ্রগতির নামে মৌ চুক্তিতে আদিবাসীদের দেবতা পাহাড়গুলিকে বেচে দেওয়া হল কর্পোরেট সংস্থার কাছে। কারণ এই পাহাড়গুলি থেকে বক্সাইট পাওয়া যায়। ডিনামাইট ফাটিয়ে আসলে তখন আর খনিজ উত্তোলন হচ্ছে না, বামিয়ান বুদ্ধের মতই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার বছরের অস্ট্রিক দেবতাকে।তাঁদের আরাধ্য মারাংবুরুকে চোখের সামনে টুকরো টুকরো হতে দেখছেন আদিবাসীরা। আজ হুদুড় দুর্গার মতই অসহায় মূলবাসীরা। কর্পোরেট সংস্থার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে আগামীতেও হয়ত শহিদ হবেন অনার্য বীরেরা। রচিত হবে নতুন পুরাণ।

@অভিমন্যু মাহাত
ফেসবুক থেকে নেওয়া 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Religion Hindu 03-October-2022 by east is rising

দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলে হিন্দুত্ববাদ, মুসলিম লীগ নয়

দ্বিজাতি তত্ত্বের জন্য স্যেকুলারপন্থীরা জিন্নাহ আর মুসলিম লীগকে দায়ী করে। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগেই হিন্দু জাতির ধারণার উদ্ভব হয়। হিন্দু শব্দটা জাতি শব্দের সমার্থক হিসেবেও ব্যবহৃত হতে থাকে। এই হিন্দুত্বের ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন সাভারকার। তিনি “হিন্দু” শব্দকে ডিফাইন করেন এভাবে “He who considers India as both his Fatherland and Holyland” এর মানে “ভারতকে পবিত্রভুমি এবং পিতৃভূমি হিসেবে যারা বিবেচনা করে তারাই হিন্দু জাতি”। Koenraad তার Decolonizing the Hindu mind বইয়ে বলেছেন এই সংজ্ঞা সকল আব্রাহামিক ধর্ম যেমন মুসলমান, খ্রিষ্টান, ইহুদীদের হিন্দু জাতিসত্বার বাইরে ঠেলে দিল। ধরে নেয়া হল তাঁরা বিদেশী। এই হিন্দু জাতি গঠনের বাইরে যাদের রাখা হল তাদেরকে তো সাভারকারই আলাদা আরেকটা জাতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেন। হিন্দু জাতির ধারণা প্রতিষ্ঠা করার ফলেই ভারতে তার পাল্টা একাধিক জাতির ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার অনুকুল পরিবেশ গড়ে উঠলো।

এই হিন্দুত্বের জাতিকল্পনাই এক মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার জন্ম দিয়েছে। হিন্দু ধর্ম আর জাতি যদি অভিন্ন হয় তাহলে নেপাল বলে তো কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকতে পারেনা। নেপাল, যা হিন্দুপ্রধান একটা দেশ যা ভারত নয় সে তো কোনভাবেই নিজেকে হিন্দু পরিচয় দেয়ার জন্য ভারতকে পিতৃভূমি আর হোলি ল্যান্ড ভাবতে পারেনা। ভারতের সাথে হিন্দু প্রধান নেপালের সমস্যার একটা ঐতিহাসিক সুত্র এখানেও থাকতে পারে। তবে যেখানে হিন্দুরা সংখ্যালঘু সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য অন্য সম্প্রদায়ের সাথে মিলে রাষ্ট্র গঠন এই হিন্দুত্বের সংজ্ঞার জন্য মানসিকভাবে কার্যত খুব জটিল হয়ে যায়। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে তাঁদের পলিটিক্যাল এজেন্ট হিসেবে ভারত রাষ্ট্র একটা সম্ভাবনা হয়ে বিরাজ করতে থাকে।

হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের মুল বক্তব্য ছিলো; পৃথিবীতে হিন্দু জাতি বলে বহু প্রাচীন গরিমায় দীপ্ত এক মহান স্বতন্ত্র জাতি আছে। হিন্দু জাতির ধর্ম স্বতন্ত্র, ভাষাও স্বতন্ত্র। হিন্দু জাতি সম্পর্কিত এই ভাবনাই হিন্দুত্বের জন্ম দেয়, যার পলিটিক্যাল এক্সপ্রেশন ছিলো দ্বিজাতি তত্ত্ব, আর সেটাই হয়ে দাড়ায় ভারতভাগের কারণ। এই হিন্দু জাতীয়তাবাদই ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ব্যাকবোন।

এদিকে আমরা যদি দেখি মুসলমানদের আলীগড় আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আহমেদ এমনকি ১৮৮৩ সালেও বলেছেন ধর্মাধর্ম নির্বিশেষে ভারতবর্ষে বসবাসরত সকলেই “একটি জাতি”। এমনকি এর অনেক পরেও ছিলো জিন্নার মুখে ঐক্যের সুর। ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে এক সর্বদলীয় সন্মেলনে বলেন, We are all sons of this land. We have to live together…. Belive me, there is no progress for India until the Musolmans and Hindus are united. আমরা সকলেই এই মাটির সন্তান। আমাদের একসাথেই বাঁচতে হবে…। বিশ্বাস করুন ভারতের কোন অগ্রগতি হবেনা যদি হিন্দু আর মুসলমানেরা ঐক্যবদ্ধ না হয়।

১৯৩৭ সালে আহমেদাবাদে হিন্দু মহাসভার ১৯ তম অধিবেশনে সাভারকার বলেন, “There are two antagonistic nations living side by side in India”, India cannot be assumed today to be a unitarian and homogenous nation. On the contrary, there are two nations in the main: the Hindus and the Muslims, in India…. several infantile politicians commit the serious mistake in supposing that India is already welded into a harmonious nation, or that it could be welded thus for the mere wish to do so”

“দুটি পরস্পরবিরোধী জাতি ভারতে পাশাপাশি বাস করে এসেছে, ভারতকে কখনোই একশিলা সমসত্ব জাতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবেনা। বরং উল্টোভাবে ভারতে প্রধানত দুইটি জাতি; হিন্দু এবং মুসলমান…। কিছু বালকসুলভ রাজনীতিবিদেরা এই মারাত্মক ভ্রান্ত ধারণা পোষন করে যে, ভারত এরমধ্যেই একটি সুসমসত্ব একটি জাতি হিসেবে তৈরি হয়েছে বা তৈরি করা যেতে পারে।”

এই সভার প্রায় সতেরো বছের আগেই এসেন্সিয়ালস অফ হিন্দুত্ব নামে সাভারকারের একটা পুস্তকে দ্বিজাতি তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়। এবং হিন্দুদেরকে একটি জাতি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এই সভার তিন বছর পরে লাহোর অধিবেশনে অল ইণ্ডিয়া মুসলিম লীগের সভার জিন্নাহও সাভারকার উত্থাপিত হিন্দু মহাসভার দ্বিজাতি তত্ত্ব গ্রহণ করে।

ঘটনার পরম্পরা বিবেচনা করলে পাকিস্তান সৃষ্টির পিছনে দ্বিতীয় অবদান ভারতীয় মুসলমানদের। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রথম ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে দেন সাভারকার তার হিন্দু জাতির তত্ত্ব দিয়ে।

নেহেরু তার অটোবায়োগ্রাফিতেও লিখেছেন “Socially speaking, the revival of Indian Nationalism in 1907 was definitely reactionary” সামাজিকভাবে বলতে গেলে ১৯০৭ সালে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পুনরুত্থান অবশ্যই প্রতিক্রিয়াশীল ছিলো।

হিন্দু মহাসভার হিন্দুত্বের চর্চাই মুসলিম লীগের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করে। রমেশচন্দ্র মজুমদার যিনি কোনভাবেই মুসলমান প্রেমী ছিলেন না, তিনিও স্ট্রাগল ফর ফ্রীডম বইয়ে লিখেছেন, The outburst of Hindu Mohasova served to strengthen the power and influence of Muslim League. “হিন্দু মহসভার বিস্ফোরণই মুসলিম লীগের ক্ষমতা ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিলো।”

দ্বিজাতি তত্ত্বের জনক জিন্নাহ নয়; হিন্দুত্ববাদী সাভারকার। অথচ কি আশ্চর্য ভারত এবং বাংলাদেশের স্যেকুলারেরা এই দ্বিজাতি তত্ত্বের জন্ম দেয়ার জন্য জিন্নাহ আর মুসলিম লীগকেই তুলোধোনা করে সবসময়।

Read More

Author: Pinaki Bhattacharya

Historical Hindu 12-September-2022 by east is rising

বাঙালি হিন্দুদের কোন ধারণাই নেই যে কিভাবে একটা জাতির সামাজিক পরিকাঠামো বানাতে হয়

যে পরিকাঠামোটাই বোঝেনা তার কাছে মজবুত পরিকাঠামো আশা করা ভুল।

১। প্রথমে একটা শক্তিশালী সংসার থাকতে হবে যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠিকঠাক হতে থাকবে।

২। তারপরে নিজেকে আত্মরক্ষা করতে পারার মতো একটা বাহিনী দরকার।

৩। তারপরে এলাকা বৃদ্ধি করার জন্য সম্প্রসারণবাদী মানসিকতা ও বাহিনী দরকার।

৪। তারপরে নিজেদের দখলে থাকা অঞ্চলে নিজেদের মতো করে ব্যবসা করার বুনিয়াদ বানানো দরকার।

৫। তারপরে অন্য কোন নিরপেক্ষ অঞ্চলে গিয়ে দরকষাকষি করে ব্যবসা করার পরিকাঠামো দরকার।

৬। সব শেষে শক্তিশালী সংস্কৃতি থাকা দরকার যা অন্য জাতিগুলোর কাছে উক্ত জাতি সম্পর্কে ভয়কে ভক্তিতে পরিণত করবে।

বাঙালি মুসলমান সহ বহু তৃতীয় বিশ্বের জাতি আধুনিক যুগে এখনো পর্যন্ত কেবল মাত্র দ্বিতীয় স্তর অবধি যেতে পেরেছে।

একমাত্র মার্কিন জাতিই ষষ্ট স্তরে আছে। হলিউড থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম থেকে শুরু করে অভিবাসী হওয়ার হাতছানিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ভক্তিভাব পৃথিবী জুড়ে বহু মানুষের মধ্যেই আছে।

চীন রাশিয়া পঞ্চম স্তরে আছে আর চীনের পঞ্চম স্তরের বুনিয়াদ রাশিয়ার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই চীন আস্তে আস্তে ষষ্ট স্তরে উন্নীত হচ্ছে। চীনের দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বল্প মূল্যের উন্নত মানের পণ্য, সস্তা ঋণ, দ্রুত প্রযুক্তির উন্নয়ন, উন্নত পরিকাঠামো এবং বিশাল বাজার ক্রমেই চীন সম্পর্কেও বিশ্বের মানুষের মনে ভক্তিভাব জাগাচ্ছে।

ইউরোপ ব্রিটেন ও জাপান চতুর্থ স্তর অবধি যেতে পেরেছে আর পঞ্চম স্তরে যেতে ব্যর্থ হয়েছে কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বা রাশিয়ার সাথে বা চীনের সাথে স্বাধীনভাবে দরকষাকষি করার ক্ষমতা তাদের নেই। এমনকি মার্কিন ও চীন রাশীয়ার বৈরিতার সুযোগ নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলো, ইরান, উত্তর কোরিয়া অধিকাংশ আরব দুনিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও চতুর্থ স্তরে আছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ মার্কিন ও চীন রাশীয়ার বৈরিতার সুযোগ ভাল মতো নিচ্ছে আর কেউ নিতে পারছেনা।

তুর্কিয়ে চতুর্থ স্তর থেকে পঞ্চম স্তরে উন্নীত হচ্ছে আস্তে আস্তে।

ভারতের নিয়ন্ত্রক জাতিগুলোও (হিন্দি ও গুজারাতি) চতুর্থ স্তরে আছে। তামিল তেলেগু ও শিখরা রয়েছে দ্বিতীয় স্তরে।

বাঙালি হিন্দুদের দ্বিতীয় স্তরটাই নেই। মানে নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারার মতো বাহিনীই নেই। অথচ ষষ্ট স্তরের সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে এরা অধিকাংশ সময়টা অতিবাহিত করে। এরা বুঝতেই পারেনা যে এদের সাংস্কৃতিক ও গবেষণামূলক কাজের কোন ফলই এরা পাবেনা। কারণ সংস্কৃতি ও গবেষণাকে ক্ষমতায় রূপান্তর করতে গেলে একটা জাতির দরকার যুদ্ধ করার ও ব্যবসা করার পরিকাঠমো ও মানসিকতা। বাঙালি হিন্দুদের যুদ্ধ করার ও ব্যবসা করার পরিকাঠমো ও মানসিকতা কোনটাই নেই। উপরন্তু সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে যুদ্ধ করাকে খারাপ বলে চিহ্নিত করে। ফলে এরা যোদ্ধা পুরুষের পুজো করেনা। নারীর হাতে অস্ত্র দিয়ে, নারীর পায়ে পুরুষকে রেখে তারা যোদ্ধা পুরুষকে ব্যঙ্গ করে। যুদ্ধ করতে পারেনা বলে ব্যবসা করতেও ব্যর্থ হয় আবার বিপদে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেনা।

এমনকি প্রথম স্তরেও অর্থাৎ সংসার এবং জন্মহারেও বাঙালি মুসলমান ও হিন্দিদের সাথে বাঙালি হিন্দুরা পাল্লা দিতে পারছেনা। তবে এই সঙ্কট প্রায় সমস্ত জাতির জীবনেই ঘনিয়ে এসেছে আর তাই আলাদা করে এই স্তর নিয়ে এখানে বলা হলনা।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu 09-September-2022 by east is rising

বাঙালী হিন্দুর পতনের কারণ 5

গত পর্বে পরিলক্ষিত হয়েছিল যে বাঙালী হিন্দু আদতে একটি গোলাম জাতি। এই পর্বে এই বিষয়ে বিশদে আলোচনা করব।

বাঙালী হিন্দুর অফিসিয়াল ইতিহাস শুরু হয় ঊনবিংশ শতকে। এটি বাঙালী নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ঊনবিংশ শতকের কতগুলো অতিসাধারণ ব্যাক্তিকে নিয়ে বাঙালী হিন্দু রীতিমত ধর্মীয় কাল্ট বানিয়ে ফেলেছে এবং তাদের নিয়ে কিছু শুনলেই একদম খড়গহস্ত হয়ে ওঠে (যদিও প্রকৃত শত্রু দেখিলে আবার গর্তে ঢোকে)। এই সময়েই নাকী ‘নবজাগরণ’ ও বাঙালী হিন্দুর গব্বের সময়। যদিও 1870 পর্যন্ত কিছু বাঙালী পুঁজিপতির বিকাশ হয়েছিল তবে তা 1870 এরপরে থেকে পিছু হঠতে শুরু করে। আর সব থেকে বড় কথা এইসময়ে বাঙালী হিন্দু ছিল ঔপনিবেশিক শাসনে পরাধীন। নিতান্ত আহাম্মক জাতি না হলে ঔপনিবেশিক পরাধীনতার সময়কে ভালো বলে কোন মুখ্খে। অথচ বাঙালী হিন্দুর ন্যারেটিভটাই হল এমন, আগে আমাদের কোন অস্তিত্ব ছিলনা, শুধু সতীদাহ আর বাল্যবিবাহ হত, নারীরা খুব অত্যাচারিত হত, আমরা পড়াশুনা করতে জানতামনা ইত্যাদি ইত্যাদি। রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ এসে আমাদের উদ্ধার করে দিয়েছেন। আদতে ব্রিটিশ আমলে ঔপনিবেশিক শাসন পরিচালনার জন্যে প্রচুর বাবু-কেরানীর দরকার ছিল। সেটি তৈরী করতেই ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যাবস্থা প্রচার করা হয়েছিল। আর মোগলদের হাতে বাংলার সার্বভৌমত্ব চলে যাবার পরে অনেক অবক্ষয় ঘটেছিল বাংলার, তাই সেগুলির প্রভাব ব্রিটিশ আগমনের সময়েও ছিল। সতীদাহরোধ ও বিধবাবিবাহ চালুর খুব সহজ কারণ দিয়ে দেওয়া যেত জন্মহার বাড়িয়ে ডেমোগ্রাফি শক্তিশালী করার। কিন্তু সেটা না করে হল উল্টো, যেহেতু বাঙালীর মস্তিষ্কে যুক্তিবুদ্ধির বিকাশ হয়নি এবং মূলত আবেগে চলেতাই তার নারী পুজাই শেষ কথা বলল। এবং সে তার নারী পুজাকেই তত্ব বানিয়ে নারীবাদী হয়ে উঠল যার প্রভাবে ধীরে ধীরে ডেমোগ্রাফিকালি দূর্বল হতে শুরু করল। এছাড়াও যেহেতু ঊনবিংশ শতক থেকেই বাঙালীর ভূমিকা ছিল মূলত বাধ্য চাকর হিসাবে, ফলে গোলামিও বাঙালীর মজ্জাতে ঢুকে গেল। এছাডাও বাঙালী স্বভাবতই নিশ্চিত জীবন চায় এবং স্থিতাবস্থা চায়। ফলত পরাধীনতায় সুরক্ষিত থাকাকেই তারা বেছে নিল। এইভাবে বাঙালী ধীরে ধীরে মেরুদণ্ড খুইয়ে নতমস্তক ক্রীতদাসে পরিণতহল। সমসাময়িক বাঙালীর তথাকথিত আইকনদের রচনাতেও বাঙালীর গোলাম হওয়াকেই মোক্ষ বলেছেন। ‘সুবোধবালক’ হওয়া থেকে ‘ভারতের মহামিলনের তীর্থে’ বিলীন হওয়ার মাধ্যমে বাঙালী হিন্দু একটি আপাদমস্তক গোলাম জাতি তৈরী হল। বাংলা সাহিত্যে ও বিজাতীয়দের নায়ক ও বাঙালী শাসকদের খলনায়ক বানিয়ে হীনমন্যতা ঢুকিয়ে দেওয়া হল।

অথচ বাঙালী হিন্দু যখন রাজনৈতিক ধাক্কা খেল, দেশভাগে বিপর্যস্ত হল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিহার সবেতেই কচুকাটা হল তখন কিন্তু এই কবিতা, গদ্য, সাহিত্যের ঝুড়ি ঝুড়ি জ্ঞান তাদের বাঁচাতে আসেনি। বাঙালী হিন্দু যে শশাঙ্ক, দেবপালদের বিস্মৃত করে দিয়েছিল তার মাসুল দিতে হল।

বর্তমানেও বাঙালী হিন্দু একটি গোলাম গোষ্ঠী এবং এটাই আশা করে যে রাষ্ট্র তাদের ঢেলে ঢেলে চাকরি দেবে এবং স্থিতাবস্থা বজায় রেখে নিশ্চিন্তে মধ্যবিত্তের জীবন কাটাবে। এর ফলে ভৃত্য হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

বাঙালী হিন্দুর নেতা ও সেই হয় যে আরামে নিরাপদে বসে ফাঁকায় বুলি ঝাড়বে এবং অন্যদের বিনামূল্যে গাড্ডাতে ফেলবে। বিপদ আসলে সেই নেতাই চম্পট দেয়।

এর কারণ বাঙালি হিন্দু মেরুদণ্ডযুক্ত পুরুষকে সহ্য করতে পারেনা। ফলে ভেড়ুয়া ও ধান্দাবাজরাই দখল নেবে এবং নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যাক্তিস্বার্থ গোছাবে।

ভারতের সকল জাতিই ইতিহাস সচেতন কেবল বাঙালী বাদে। এর ফলে বাঙালী অন্য জাতির কাছে ভ্যালিডেশন খোজে ও তাদের সাথে একাত্ম হতে চায়। কিন্তু ছিন্নমূল চাকরদেরকে পাত্তা দেবে।

যে নিজেকে সম্মান করে না, যার মেরুদণ্ড সোজা নয়, যে টিকে থাকার জন্যে পরনির্ভর, যে সর্বদাই অপরকে তুষ্ট করাকে মোক্ষ ভাবে তার কপালে তো ভোগান্তি আছেই।

Read More

Author: Purandhar Khilji

Historical Hindu 19-August-2022 by east is rising

আম্রপালী

আম্রপালী ছিলেন এমন একজন অনিন্দ্য সুন্দরী ; প্রায় ২,৫০০ বছর আগে রাষ্ট্র যাকে বানিয়েছিল নগরবধূ বা পতিতা-
স্বাদের দিক থেকে অনেকের কাছেই 'আম্রপালী' আম খুবই প্রিয় । আকারে ছোট কিন্তু মিষ্টির দিক থেকে যেন সকল আমকে পিছনে ফেলে দিয়েছে 'আম্রপালী' । কিন্তু এই আমটার নামকরণ কোথা থেকে হল জানেন ?
আম্রপালী জন্মেছিলেন আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগে ভারতে । তিনি ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী । তার রুপে পাগল ছিল পুরো পৃথিবী আর এই রুপই তার জন্য কাল হয়ে ওঠে । যার কারণে তিনি ছিলেন ইতিহাসের এমন একজন নারী, যাকে রাষ্ট্রীয় আদেশে পতিতা বানানো হয়েছিল !
আম্রপালী বাস করতেন বৈশালী শহরে । বৈশালী ছিল প্রাচীন ভারতের গণতান্ত্রিক একটি শহর, যেটি বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের অর্ন্তগত ।
মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালীকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান । তার আসল বাবা-মা কে ইতিহাস ঘেঁটেও তা জানা যায়নি । যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালী । সংস্কৃতে আম্র মানে আম এবং পল্লব হল পাতা । অর্থাৎ, আমগাছের নবীন পাতা ।
কিন্তু শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আম্রপালীকে নিয়ে হইচই পড়ে যায় । তার রুপে চারপাশের সব মানুষ পাগল হয়ে যান । দেশ-বিদেশের রাজপুত্রসহ রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে যান । নানা জায়গায় থেকে তাকে নিয়ে দ্বন্দ, ঝগড়া আর বিবাদের খবরও আসতে থাকে । সবাই তাকে একনজর দেখতে চান, বিয়ে করতে চান । এ নিয়ে আম্রপালীর মা-বাবা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন । তারা তখন বৈশালীতে সকল গণমান্য ব্যক্তিকে এর একটি সমাধান করার জন্য বলেন । কারণ, সবাই আম্রপালীকে বিয়ে করতে চান । তখন বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে বৈঠকে বসে নানা আলোচনার পর যে সিদ্ধান্ত নেন তা হল, আম্রপালীকে কেউ বিয়ে করতে পারবেন না । কারণ তার রুপ । সে একা কারো হতে পারে না । আম্রপালী হবে সবার । সে হবে একজন নগরবধু, মানে সোজা বাংলায় পতিতা ।
এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত । ইতিহাসে এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে পতিতা বানানো হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল ! আম্রপালী সে সভায় পাঁচটি শর্ত রাখেন-
(১) নগরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় তার ঘর হবে ।
(২) তার মুল্য হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা ।
(৩) একবারে মাত্র একজন তার গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন ।
(৪ ) শক্র বা কোন অপরাধীর সন্ধানে প্রয়োজনে সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার তার গৃহে প্রবেশ করা যাবে ।
(৫) তার গৃহে কে এলেন আর কে গেলেন- এ নিয়ে কোন অনুসন্ধান করা যাবে না ।
সবাই তার এসব শর্ত মেনে নেন । এভাবে দিনে দিনে আম্রপালী বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন । তার রুপের কথাও দেশ-বিদেশে আরও বেশী করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে ।
প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার । শোনা যায়, তার স্ত্রীর সংখ্যা নাকি ৫০০ ছিল ! নর্তকীদের নাচের এক অনুষ্ঠানে তিনি এক নর্তকীর নাচ দেখে বলেছিলেন, এ নর্তকী বিশ্বসেরা ।
তখন তার একজন সভাসদ বলেন- মহারাজ, এই নর্তকী আম্রপালীর নখের যোগ্য নয় !
বিম্বিসারের এই কথাটি নজর এড়ায়নি । তিনি তার সেই সভাসদের থেকে আম্রপালী সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে তাকে কাছে পাবার বাসনা করেন ।
কিন্তু তার সভাসদ বলেন, সেটা সম্ভব নয় । কারণ, তাহলে আমাদের যুদ্ধ করে বৈশালী রাজ্য জয় করতে হবে আর আম্রপালীর দেখা পাওয়াও এত সহজ নয় । দেশ-বিদেশের বহু রাজাসহ রাজপুত্ররা আম্রপালীর প্রাসাদের সামনে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন । কিন্তু মন না চাইলে তিনি কাউকে দেখা দেন না ।
এত কথা শুনে বিম্বিসারের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল । তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে গিয়ে আম্রপালীকে দেখে আসবেন । কি এমন আছে সেই নারীর মাঝে, যার জন্য পুরো পৃথিবী পাগল হয়ে আছে !
তারপর বহু চড়াই উৎরাই শেষে তার আম্রপালীর সাথে দেখা করার সুযোগ আসে । আম্রপালীর প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে । কিন্তু দেখা করতে গিয়ে রাজা চমকে উঠেন, এত কোন নারী নয় ; যেন সাক্ষাৎ পরী ! এ কোনভাবেই মানুষ হতে পারেন না । এত রুপ মানুষের কিভাবে হতে পারে !
কিন্তু অবাক রাজার জন্য আরও অবাক কিছু অপেক্ষা করছিল । কারণ, আম্রপালী প্রথম দেখাতেই তাকে মগধ রাজ্যের রাজা বলে চিনে ফেলেন এবং জানান- তিনি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বহু আগে থেকেই ।
এই কথা শুনে রাজার বিস্ময়ের সীমা থাকে না ।
রাজা সাথে সাথে তাকে তার রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন । কিন্তু আম্রপালী জানান, তার রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবেন না । উল্টো বহু মানুষের জীবন যাবে । রক্তপাত হবে । তাই রাজাকে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেন ।
কিন্তু বিম্বিসার বৈশালী আক্রমন করে আম্রপালীকে পেতে চান । ওদিকে আম্রপালী তার নিজের রাজ্যের কোন ক্ষতি চান না । তাই তিনি রাজাকে তার নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠান এবং বৈশালীতে কোন আক্রমণ হলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ।
এদিকে বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুও আম্রপালীর প্রেমে মগ্ন ছিলেন । তিনি বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন এবং আম্রপালীকে পাওয়ার জন্য বৈশালী রাজ্য আক্রমণ করে বসেন । কিন্তু দখল করতে সক্ষম হননি এবং খুব বাজেভাবে আহত হন । পরবর্তীতে আম্রপালীর সেবায় সুস্থ হয়ে গোপনে তার নিজের রাজ্যে ফেরত যান । সেদিনও আম্রপালী অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন ।
এত নাটকীয়তার পর শেষের দিকে এসে কি হল ? গৌতম বুদ্ধর সময়কাল তখন । গৌতম বুদ্ধ তার কয়েকশ সঙ্গী নিয়ে বৈশালী রাজ্যে এলেন । একদিন বৈশালী রাজ্যের রাবান্দা থেকে এক বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর মনে ধরে গেল । তিনি ভাবলেন, দেশ-বিদেশের রাজারা আমার পায়ের কাছে এসে বসে থাকেন আর এত সামান্য একজন মানুষ । তিনি সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস তার কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করলেন । সবাই ভাবলেন, বুদ্ধ কখনই রাজি হবেন না । কারণ, একজন সন্ন্যাসী এমন একজন পতিতার কাছে থাকবেন ; এটা হতেই পারে না । কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাকে রাখতে রাজি হলেন এবং এটাও বললেন, আমি শ্রমণের (তরুণ সে সন্ন্যাসীর নাম ছিল) চোখে কোন কামনা-বাসনা দেখছি না । সে চার মাস থাকলেও নিষ্পাপ হয়েই ফিরে আসবে- এটা আমি নিশ্চিত !
চার মাস শেষ হল । গৌতম বুদ্ধ তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে যাবেন । তরুণ শ্রমণের কোন খবর নেই । তবে কি আম্রপালীর রুপের কাছেই হেরে গেলেন শ্রমণ ? সেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তরুণ শ্রমণ ফিরে আসেন । তার পিছনে পিছনে আসেন একজন নারী । সেই নারীই ছিলেন আম্রপালী । আম্রপালী তখন বুদ্ধকে বলেন, তরুণ শ্রমণকে প্রলুব্ধ করতে কোনও চেষ্টা বাকি রাখেননি তিনি । কিন্তু এই প্রথম কোন পুরুষকে বশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী । তাই আজ সর্বস্ব ত্যাগ করে বুদ্ধের চরণে আশ্রয় চান তিনি ।
পরে সব কিছু দান করে বাকী জীবন গৌতম বুদ্ধের চরণেই কাটিয়ে দেন ইতিহাস বিখ্যাত সেই রমণী আম্রপালী আর এই আম্রপালী নামেই ১৯৭৮ সালে ভারতের আম গবেষকরা 'দশোহরি' ও 'নিলাম'- এই দু'টি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে এক নতুন জাতের আম উদ্ভাবন করেন এবং নাম রাখেন 'আম্রপালী' ।
Collected From Facebook by Anonymous Writer 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 17-August-2022 by east is rising

বাঙালী হিন্দুর পতনের কারণ 4

বাঙালী হিন্দুর সঠিক বিকাশ হয়নি সে নিয়ে গত পর্বেই আলোচনা করছি।এই পর্বে আরো গভীরে যাব এবং দেখব কীভাবে বাঙালী হিন্দুর কয়েকটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠেছে।

বাঙালী হিন্দু হল কূপমণ্ডুক গোষ্ঠী। ছোট্ট সংসার, পাড়া, অফিস-কাছাড়ি এই নিয়েই তার জীবন।তার ফলে এর বাহিরে সে দুনিয়া দেখতে পারেনা। এছাড়া সে সর্বদাই তার এই ক্ষুদ্রজগতে কূপমণ্ডুকের ন্যায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং একেই দুনিয়া হিসাবে মানে। এই ক্ষুদ্র জগতের বাইরে সম্পর্ক গড়তেও সে অনিচ্ছুক। তাই বৃহৎ জগত কেউ ওয়াকিবহল থাকেনা।ফলত তার জীবনের কোন পরিবর্তন হয়না। কূপমণ্ডুক হবার কারণে অত্যন্ত সংকীর্ণমনা ও আত্মকেন্দ্রিকও হয়, ফলত এরা নিজেদের দল বাড়াতে তো পারেইনা উল্টে খেয়োখেয়ি করে আরো ছোট হয়।যদি যে কোন বাঙালী সংগঠনকে পর্যবেক্ষণ করা যায় তাহলে দেখা যাবে যে তারা ক্রমাগত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ছোট ছোট দল তৈরী হচ্ছে।বাঙালী হিন্দু জুড়ে বড় হতে পারেনা, ভেঙ্গে ছোট হতে জানে। এর কারণ হিসাবে বাঙালী হিন্দুর উত্তরাধিকার ব্যাবস্থাও দায়ী, পৈতৃক সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ক্রমাগত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হতে হতে শেষে কিছুই থাকেনা।যেহেতু তারা কূপমণ্ডুক ও জগত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে তাই এগুলিকে অবলীলায় স্বাভাবিক হিসাবে মেনে নেয়।

যেহেতু তারা কুয়োর জগতে পড়ে থাকে তাই নিজেদের বর্তমান অবস্থা কী, কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক, কীভাবে অবস্থার উন্নতি করে যায়, দুনিয়াটা কি সেই বিষয়ে কোন বোধই গড়ে ওঠেনা।

এছাড়াও কূপমণ্ডুকতার কারণে তারা কূটনৈতিক, রাজনৈতিক জোট বা মিত্রতা গড়তে পারেনা। কে শত্রু ও কে বন্ধু এই বোধ আসেনা। কার সঙ্গে লড়া উচিত কার সঙ্গে নয়, এই বোধ না থাকার কারণে দিনের শেষে বাঙালী হিন্দু একা হয়ে যায়। আবেগে ভেসে অনেকে অগ্নিযুগের বিপ্লবী থেকে নক্সাল হতে যায় এবং দিনের শেষে তার পরিণাম আরো ভয়ঙ্কর হয়।

বাঙালী হিন্দু সংগঠিতই হতে পারেনা, তো একা লড়ে কিছু আদায় করা তো দূর, ভোগান্তি ছাড়া কিছু আসেনা।এরা কারুর সাথে সখ্যতা তৈরী না করে সবার সাথেই বৈরীতা তৈরী করে ফেলে এবং সকলের চক্ষুশূল হয়।বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে এটাই বোঝা যায় যে বাঙালী হিন্দুর কোন মিত্রই নেই এবং যেই সুযোগ পায় সে এসে অবলীলায় সর্বনাশ করে যায়।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাঙালী হিন্দুর পরিচয়হীনতা। কোন বাঙালী হিন্দুই জানেনা সে নিজে কে? কেউ বলবে আমি বিশ্বমানব, কেউ আগে মানবতাবাদী, কেউ হয় ভারতীয়, কেউ বিশ্বহিন্দু, কেউ রাবীন্দ্রীক বাঙালী, ইত্যাদি।অর্থাৎ বাঙালী হিন্দু নিজেই জানেনা তার পরিচয়। অথচ শত্রুর কাছে সে বাঙালী বা বাঙালী হিন্দু হিসেবেই চিহ্নিত হয় ও আক্রমণের শিকার হয়। পরিচয় না গড়ে ওঠারও মূল কারণ হল কূপমণ্ডুকতা এবং ঐতিহাসিক বিকাশ না হওয়া।ফলত নিজের ক্ষুদ্র জীবনের নাগপাশেই আবদ্ধ হয়ে থাকে ও বৃহৎ দৃশ্যটি দেখতে অক্ষম।

নানা ভাবে ও রাষ্ট্রীয় মদতে বাঙালী হিন্দুর মধ্যে চাকুরীজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণী উলু বনে শেয়াল রাজা হয়ে উঠেছে।এই শ্রেণীর সহযোগীতাতে বাকী বাঙালী বিশেষত পুঁজিপতি, উৎপাদক, সংগঠক শ্রেণীদের শেষ করে দেওয়া হয়েছে।বাঙালী গরীবদেরকেও তুষ্ট করে তাদের উচ্চাকাঙ্খাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।তাছাড়া বাঙালী হিন্দুর অন্তর্নিহিত ঈর্ষা ও উলু বনে শেয়াল রাজা থাকার বাসনা সমস্ত সম্ভাবনাময় বাঙালীকে ধ্বংস করে দিয়েছে।ফলে আপৎকালে বাঙালীর রক্ষাকর্তার কোন উদয় হয়নি। যেহেতু এরা কূপমণ্ডুক ও তাই অকারণেই হাম্বড়া। এরা মধ্যবিত্ত জীবনটাকেই স্বর্গসুখ ভাবে।

আবার এই চাকরীজীবী শ্রেণী তো সম্পূর্ণরূপে পরনির্ভর। ফলে এরা টিকে থাকার জন্যে রাষ্ট্রের উপরেই নির্ভর।ফলত এরা রাষ্ট্রের বাধ্য ক্রীতদাস।ভারত রাষ্ট্র বাঙালীর নয় সেই বোধটাও বিকাশ হয়নি কারণ ইহাদের কাছে সরকারী চাকুরে বা আইটি কুলি হওয়ার মতো মোক্ষ আর নেই।ফলত বাঙালী হিন্দুই ভারত রাষ্ট্রের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য দেখায় যদিও ভারত রাষ্ট্র প্রথম থেকেই বাঙালী হিন্দুর পেছনে আছোলা বাঁশ দিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে তা নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করা আছে। ভারতের বাকী জাতিরা রাষ্ট্রের সাথে দরকষাকষি করে নিজেদেরটা বাগিয়ে নেয় কিন্তু বাঙালী হিন্দুর সেই মুরোদ নেই। এতেও বাঙালী হিন্দুর পশ্চাদপদতা বোঝা যায়।

জয়ন্ত ভাণ্ডারী বা প্রবীণ সাহনি ভারতের শাসক জাতিরই ব্যাক্তি। একজন পশ্চিম ভারতীয় জৈন ও অপরজন পাঞ্জাবী হিন্দু। কিন্তু তা সত্বেও এরা ভারতকে তুলোধোনা করতে পিছপা হয়না।অথচ বাঙালী হিন্দু রাষ্ট্রের থেকে কিছু পায় তো নিই বরঞ্চ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।তাতেও বাঙালী হিন্দুই ভারত রাষ্ট্রের প্রতি শর্তহীনভাবে সিজদা করে চলেছে এবং আজকেও কোন বাঙালী জয়ন্ত ভাণ্ডারীর হদিশ পেলামনা।

উপসংহার হিসেবে এটাই বলতে হয় যে মোটের উপর বাঙালী হিন্দু একটি পশ্চাৎপদ গোলাম জাতি এবং আদৌ স্বশাসনের যোগ্যতা যে নেই তাও বলা যায়।এই অবস্থার দ্রুত বদল হতে হবে নয় বাঙালী হিন্দুর ঠাঁই যাদুঘরেও হবেনা।অথচ মরণকালেও বোধোদয় হয়নি এবং মুষ্টিমেয় কিছু দূরদর্শী বাঙালী হিন্দু যারাই অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে তারাই প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে স্বজাতির থেকে। তা সত্বেও তাদের শুভকামনা জানিয়ে আমার লেখা শেষ করলাম।

Read More

Author: Purandhar Khilji

Historical Hindu 17-August-2022 by east is rising

'লর্ড মেকলের' বাঙালি (মূলত বাঙালি হিন্দু) সম্পর্কে বিশ্লেষণ

"বাঙ্গালীদের শারীরিক গঠন মেয়েলি ভঙ্গুর বলা চলে এরা বাষ্পস্নানে অভ্যস্থ নির্জনতা প্রিয় দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অশক্ত, চলাফেরা নিস্তেজ নির্জীব যুগের পর যুগ তারা বিদেশী শাসকদের দ্বারা পদদলিত হয়েছে ক্ষীণ দেহ বলে এরা সাহস রাখে না, স্বাতন্ত্র্যবোধ এদের নেই এবং এরা কখনো সত্যবাদী হয় না এদের মন দেহ অভিন্ন এরা পুরুষোচিত প্রতিরোধে অপারগ, দুর্বল দেহের জন্য অসহায়বোধ করে কিন্তু এদের নমনীয়তা চাতুর্য প্রশংসা নিন্দা উভয়ই প্রাপ্য বস্তুত ভিন্ন জলবায়ুর লোকেরা এদের যেমন ভক্তি করে, তেমনি ঘৃণা করে একটা দূর্বল জাতির আত্মরক্ষার্থে যেসব কৌশল প্রয়োজনে অবলম্বন করতে হয় তার সবগুলি এদের জানা আছে জুভেনালের সময় আওনীয়দের  কিংবা মধ্যযুগে ইহুদিদেরও এত কৌশল জানা ছিলো না মহিষের কাছে সিং-এর যে মূল্য, বাঘের কাছে থাবার যে গুরুত্ব, মৌমাছির যেমন হুল, পুরনো গ্রীক কবিতা অনুসারে নারীর জন্য সৌন্দর্য যা, বাঙালির কাছে প্রতারনা সেরকম মূল্যবান এরা লম্বা- লম্বা প্রতিজ্ঞা করে, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার সুন্দর অজুহাত দেখায়, প্রতারনা, মিথ্যা হলফ, জালিয়াতি এসব তারা আত্মরক্ষার্থে কিংবা অন্যের ক্ষতি করার জন্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করে না গাঙ্গেয় নিম্নাঞ্চলের লোকদের স্বভাবই এরকম বঙ্গে কয়েক মিলিয়ন বাঙালি বাস করে অথচ এদের একজনও কোম্পানির সেনা বিভাগে নাম লেখায়নি কিন্তু সুদের ব্যবসা, পোদ্দারি এবং মোক্তারিতে প্রতিযোগিতায় কোন জাতি এদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না আবার বাঙ্গালীরা নমনীয় চরিত্রের হলেও এদের মতো নির্দয় অদম্য শত্রু অন্য কোন জাতির মধ্যে দেখা যায় না এরা মানুষের প্রতি করুণাশীল হতে জানে না স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ক্লান্তিহীনভাবে লেগে থাকতে জানে এবং বিপদের আশঙ্কা দেখা না দিলে ক্ষান্ত হয় না"

এরকম আরও গুন বচন পড়তে চাইলে আগ্রহীরা দেখতে পারেন-

Memories of the life of Warren Hastings, first Governor-General of Bengal By Lord Macle, London: 1841.

লেখক মনে করে মেকলে সাহেব ঠিকই বলেছেন মূলত বাঙালি হিন্দু সম্পর্কে। বাঙালি মুসলমানদের ধরলে চরিত্র অনেকটাই আলাদা হবে যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে মিলেও যাবে। কিন্তু লেখক মনে করে বাঙালি হিন্দুদের যে ভাল গুণগুলো মেকলে তুলে ধরেছে যেমন ব্যবসা করার ক্ষমতা বা কোন বিষয় বিপদ না থাকলে লেগে থাকার ক্ষমতা তা উনবিংশ শতকের মধ্যভাগের বাঙালি হিন্দুদের জন্যেই প্রযোজ্য। উনবিংশ শতকের শেষভাগের,  বিংশ শতাব্দীর, এবং বিশেষ করে বর্তমান সময়ের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে  ব্যবসা করার ক্ষমতা বা কোন বিষয় লেগে থাকার ক্ষমতা একেবারেই নেই। উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি হিন্দু নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং গায়ের জোড় ও সাহসের কমতি চাতুর্য দিয়ে ও ধৈর্য দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করত।

লেখক মনে করে বঙ্কিম চন্দ্রের লেখনীর সময় থেকে মানে ১৮৬৬ সাল থেকে বাঙালি হিন্দু নিজেদের দুর্বলতাকে রাজপুত ও মারাঠা সাহসিকতার গল্প (অধিকাংশেই যা ছিল মিথ্যা) দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করেছে। এভাবেই বাঙালি হিন্দু রাজপুত ও মারাঠাদের (যারা অতীতে বাঙালি হিন্দুদের লুট করতে আসত এবং শত্রু বলে অভিহিত হত) নিজেদের আরাধ্য বানিয়েছে এবং হিন্দু জাতিয়তা ও ভারতীয় জাতিয়তার দিকে গাঁ ভাসিয়েছে। গিতা পড়ে বম্ব বেঁধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সাথে লড়াই করতে গেছে। আসলে মনে মনে নিজেকে হীন মনে করে সেই হীনতাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে গেছে। সাম্রাজ্যের সাথে লড়ে স্বাধীন রাষ্ট্র বানাবার অর্থ কি তা বাঙালি হিন্দু বোঝেনি আর তাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্য যখন শেষ হল বাঙালি হিন্দুরা তখন উদ্বাস্তু হল আর হিন্দিভাষীদের গোলামে পরিণত হল। 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 06-August-2022 by east is rising

বাঙালী হিন্দুর পতনের কারণ 2

বাঙালী হিন্দু ধুনাযুগে তিন বার বড় ধাক্কা খায়- 1870, 1910-1920 ও 1945-47 । সে সব নিয়ে আগের পর্বেই কথা হয়েছে। এইপর্বে  1947 পরবর্তীকাল বিশ্লেষণ করা হবে

1870  থেকেই বাংলার বিভিন্ন অংশকে কেটে ছেঁটে অন্যপ্রদেশে দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। দেশভাগ হবার পরেও তাবলবৎ থাকে। 1956 এর ভাষিক রাজ্য পুনর্গঠনের সময়ে শুধুমাত্র মানভূমভাষা আন্দোলনের কারণে পুরুলিয়া পায়, বাকি অংশটি বিহারেই থাকে। সেই সব অঞ্চলে ধীরে বাংলা নিশ্চিহ্ন হয়আসামের বরাকে ভাষা আন্দোলের মাধ্যমে বাংলা থাকলেও গোয়ালপাড়া অঞ্চল থেকে পুরোপুরি বাংলা নিশ্চিহ্ন হয়। তাছাডা আসামে বঙ্গাল খেদা, মেঘালয়ে, ত্রিপুরাতে বাঙালী গণহত্যা, বিহারে, উড়িষ্যাতে বাঙালী বিরোধী আন্দোলন হয়ফলে পশ্চিম বঙ্গের বাইরে ভূমিপূত্র বাঙালী কোনঠাসা হয় ও ভারতীয় বাঙালী বিশাল এলাকা হারায়খোদ পশ্চিম বঙ্গেই নেপালের সাথে উন্মুক্ত সীমান্তের দরুণ দার্জিলিং পর্বতে বাঙালীর এথনিক ক্লিনজিং হয় এবং বর্তমানে সেই ধারা অব্যাহতএছাড়া উত্তর বঙ্গ থেকে রাঢ় বাংলা থেকে ত্রিপুরা সকল জায়গতাতেই বাঙালী বহিরাগত ও উপজাতি ভূমিপুত্রের জিগির তুলে ক্রমাগত বাঙালী উপরে নির্যাতন হয়

দেশভাগের ফলে নিঃস্ব বাঙালী উদ্বাস্তু বৈষম্যের শিকার হয়পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্বাস্তুদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি বৈষম্যমূলক নীতি নেওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানের হিন্দু ও শিখ ভারতে এসে ফুলেফেঁপে ওঠেকিন্তু  পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী উদ্বাস্তুদের (অবাঙালীদের ক্ষেত্রে উল্টো নীতি নিয়েছিলবহিরাগত দাগিয়ে জাতিগত বৈষম্য, হিংসার স্বীকার হয়

উপরন্তু খোদ পশ্চিম বঙ্গেই বাঙালীকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানানো হয়। আদতেই এই আধা রুটির টুকরোর মত ভিক্ষা দেওয়ার জন্যই কোন বাঙালী হিন্দু হোমল্যাণ্ড হিসেবে তৈরী হয়নি। এটি মূলত মারোয়ারীদের স্বার্থেই বানানো হয়েছে। ব্রিটিশদের ফেলে যাওয়া বেনামী সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে মারোয়ারীরা দখল করেএছাড়া রাষ্ট্রীয় মদতেই বাঙালী পুঁজি ধ্বংস হয়। নক্সাল দমনের নামে তরুণ বাঙালীদের হত্যা করে শেষ মেরুদণ্ডটিও ভাঙেএরপর বামেদের হাত ধরে মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্রমালিক এই দুটি দালাল বাঙালী শ্রেণীর হাত ধরে সম্পূর্ণ রূপে কফিনে শেষ পেরেক পোঁতে। সকল রাজ্য তাহার নিজের জাতির জন্যেই সুরক্ষিত কিন্তু পশ্চিম বঙ্গ হয় মুক্তঞ্চলফলে চুড়ান্তভাবে একপাক্ষিক সম্পর্কে আটকা পড়ে বাঙালী

এইভাবে ধীরে ধীরে বাঙালী হিন্দুর অন্তরায় ঘনিয়ে আসে

এত কিছুর পরেও বাঙালী হিন্দু কিচ্ছু করতে পারলনা কেন?  দক্ষিণীদের মতো নিজেদের আখের গোছালোনা কেন? উত্তর জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করতে হবেসেখানে বাঙালী হিন্দুর সম্পূর্ণ পোস্টমর্টেম হবে এবং কীভাবে বাঙালী মুসলমান এই সংকট আটকালো সেটাও তারপরের পর্বে বিশ্লেষণ হবে

Read More

Author: Purandhar Khilji

Historical Hindu 14-June-2022 by east is rising

বাঙালী হিন্দুর পতনের কারণ 3- ময়নাতদন্ত

বাঙালী হিন্দু বিশ্বের সব থেকে পশ্চাৎপদ জাতগুলির মধ্যে পড়ে। বাঙালী হিন্দুর বিবর্তন তাম্রযুগ অবধিsubsistence farming , ঘরোয়া সংসারকেন্দ্রিক জীবন, পাড়া গাঁই জগৎ এইভাবেই বাঙালী হিন্দু গড়ে উঠেছে। ফলেনগর সভ্যতা, কৌমচেতনা, সমষ্টিগঠন, বাণিজ্য, শিল্প, রাষ্ট্রচেতনা এসবের বিকাশ হয়নিএছাড়াও নারী পুজারী হবার কারণে পৌরুষের বিকাশ ঘটেনি। ফলেসাহস, সততা, শক্তি, বিজয়, সম্প্রসারণ, প্রাচুর্য, মূল্যবোধ, সামাজিককাঠামো, ন্যায়বোধ এসব পুরো ভিনজগতের ধারণাএগুলি সমস্ত ভারতীয়দের জন্যে প্রযোজ্য হলেও বাঙালী হিন্দু আরো পেছনের সারিতে কারণ এরা দল বানাতেই পারেনা। বাকী ভারতীয়দের মতো দল বানিয়ে রাষ্ট্রের থেকে কিছু আদায় করতে পারেনা, পয়সা কড়ি করতে জানেনা বরং যেটা করে তা হল নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি, হিংসা হিংসিযদু বংশকে শেষ করতে বহিঃশত্রু লাগেনা

বাঙালী হিন্দুই বোধহয় একমাত্র জাতি যেখানে মধ্যবিত্তকে এলিট বলে দেওয়া হয়কারণ এদের কাছে ওটাই বিশাল পাওনা। তাছাড়া ঈর্ষাতে তাহার জুড়ি মেলা ভারএই জাতির পুরুষদের চরিত্রও পুরো নারীদের মতো (ইহা যদিও সকল ভারতীয়র জন্যেই প্রযোজ্য, কিন্তু বাঙালী হিন্দুর ক্ষেত্রে তা অন্যমাত্রা ধারণ করে)। এর জন্যে বাঙালী হিন্দুর মধ্যে কোন আকাঙ্খাই নেই। খাদ্য, বাসস্থান, সংসার হলেই তার যথেষ্ট এবং মূলত একটা ঘোরের জগতে দিবাসপ্ন দেখে বাকিটা কাটায়তার ফলে ক্রমাগত তার পশ্চাৎদেশে একটার পর একটা আছোলা বাঁশ ঢুকলেও সে কোনরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুজলেই যথেষ্ট মনে করে। ফলে ক্ষমতা, অর্থ, শক্তি, সুখ সব কিছু থেকেই তারা বঞ্চিতআর নিজেদের মধ্যেই মারামারি করা এদের জন্মজাত। ফলে এদের বিনাশ আটকানো সম্ভব হয়নি

একটা বাজারি কথা খুব প্রচলিত যে কলকাতার এলিটরা না কী জেলাকে বঞ্চনা করছে!!!! এই বোকাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই এলিট কারা তখন তারা অঙ্গুলি দেখাবে শহরতলিতে থাকা মধ্যবিত্তের দিকেঅথচ কলকাতার এলিট আদতে তো গুজরাটী, মারোয়ারীরা। বাঙালী কে কীভাবে এলিট বলবো?এটা যাদের চোখে পড়েনা তারা বোকা ছাড়া আর কি? কলকাতাতে এসে দুনিয়ার লোক ফুলেফেঁপে ওঠে অথচ এই জেলা থেকে আসা বাঙালিরা বঞ্চিতহয়। কলকাতা তো দুরহস্ত, এখন হুগলী শিল্পাঞ্চল, হাওড়া, শিলিগুড়ি, খড়গপুর, আসানশোল, দূর্গাপূর সব বাঙালীর হাতছাড়া। অর্থাৎ এরা শহরাঞ্চল দখলে রাখতে অপটু কারণ নগর সভ্যতাতে এরা পৌঁছয়নিউল্টে পূর্ব পুরুষের সম্পত্তি সব মায়ের ভোগে পাঠিয়েছে। পারিবারিক বিবাদ, পড়শীর বিবাদ, শরীকী বিবাদ করে সব সম্পত্তি খুইয়েছে, পৈত্রিক সম্পত্তি বেচে খেয়ে উড়িয়েছে

এই একটা উদাহরণ দিয়েই বোঝা যায় যে এদের বিকাশ কতটা নিম্নে যে এরা কিছুই ধরে রাখতে অপারগ

আবার পেছনে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপকরা, পেছনে লাগা, কাঠি করার মতো অসভ্য জংলীপনা ও এদের সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে

এবার দেখা যাক এদের নারীপূজার উন্মাদনা। বাঙালী হিন্দু নারী নামেই পাগল, দিগ্বিদিকশূণ্যহতদরিদ্র জাতি হয়েও এরা মেয়েদের জন্য টাঁকশাল উন্মুক্ত করে দেবে। ফলে ছেলেগুলোকে ছোটবেলা থেকে গবাদীপশু বানাতে লাগেবাল্যকাল থেকেই এরা মেয়েদের শিক্ষা দেয় যে তুমি আলালের ঘরের দুলালী, তাই আজীবন মাগনাতে অন্যের অর্থে ফুটানী করবে। আর ছেলেদের শিক্ষা দেয় যে একদম মেরুদণ্ডহীন ক্লীবলিঙ্গ হয়ে অন্যের খ্যাঁটনের যোগান দেবে, তোমার মানুষ হিসাবে কোন জীবন থাকবেনা এবং এর জন্যে তোমাকে সারা জীবন ইঁদুরদৌড় করে যেতে হবেফলে এদের মেয়েগুলিকে একদিকে সাপের পাঁচপা দেখে আর ছেলেগুলির জীবন বলেই কিছু থাকেনা, পুরোপুরী নারীসুলভ, স্তাবক, ভীরু, অসামাজিক, কাঠিবাজ, হিংসুটে, কুচুটেপ্রকৃতির। এর ফলে এরা কোন সমষ্টিই বানাতে পারেনা

এদের বৃদ্ধগুলি আরেক বিষ। এদের মানসিকতা হল এদের পরবর্তী প্রজন্মহল এদের বৃদ্ধবয়সের পেনসন, সন্তানদের মুখ্য ফাংশন ইহল তাদের অপদার্থ অবসর জীবন কাটানোর যোগান দেওয়াফলে এরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যূপকাষ্ঠে বলি দেয় নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে

তবে এই জনগোষ্ঠীর সকলেই নিজেকে বিশাল কিছু মনে করে।

উপরিউক্ত সমস্ত কিছুই মাত্র একটি সারাংশ। পুরো বলতে গেলে শতগিলগামেশের চেয়েও বড় উপাখ্যান হবে

তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, এই জনগোষ্ঠীর পক্ষে কিছু করা তো দুর হস্ত, টিকে থাকাও দুষ্করকারণ বাকি সবকিছুর মতো এরা ডেমোগ্রাফিও হারিয়ে ফেলেছে। তবে এই অর্বাচীনদের মতে জনসংখ্যাও বোঝা। 
তবে নে, এবার ঠেলা বোঝ

Read More

Author: Purandhar Khilji

Historical Hindu 14-June-2022 by east is rising

বাঙালি হিন্দুর পতন হল কেন?

বাঙালি হিন্দু ১৮৭০ থেকে ইলবারট বিলকে কেন্দ্র করে ক্রমেই ব্রিটিশদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। চীন ও বাংলা অষ্টাদশ শতকে ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিল্পোন্নত অঞ্চল এবং সবচেয়ে বড় বাজার। কিন্তু ১৮৪০ এর পরে ব্রিটেন ও পশ্চীম ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়ে উঠতে শুরু করে সবচেয়ে বেশি শিল্পোন্নত অঞ্চল এবং সবচেয়ে বড় বাজার। ফলে পূর্ব দিকের কোলকাতার থেকে পশ্চীম দিকের মুম্বাই-এর গুরুত্ত্ব বাড়তে শুরু করে। কারণ চীন ও বাংলার সাথে যখন প্রধান বাণিজ্য তখন কোলকাতাই গুরুত্বপূর্ণ আর পশ্চীমের সাথে যখন প্রধান বাণিজ্য তখন মুম্বাই সুরাট ইত্যাদির গুরুত্ব বেড়ে যাবে। ১৮৭০ থেকে এটাই হচ্ছিল আর তাই বাঙালি হিন্দুর ব্রিটিশদের প্রধান বন্ধু হিসেবে থাকাটা অসম্ভব হচ্ছিল। তাই বাঙালি হিন্দু ও ব্রিটিশ দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়।

প্রথমে দ্বন্দ্বের জন্য বাঙালি হিন্দু বাংলা জাতিয়বাদের দিকে যায়। ১৮৮০-এর আদম সুমারী থেকে বোঝা যেতে থাকে যে বাংলা আস্তে আস্তে মুসলমান প্রধান অঞ্চল হয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশরা ১৮৫৭ শিপাই বিদ্রোহ থেকে শিক্ষা নেয় যে মোঘল ও ব্রাক্ষণ জোট ভাঙতে হবে কারণ ব্রিটিশ শিপাইদের ব্রাক্ষণ অংশ বিদ্রোহ করে কিন্তু রাজপুত অংশ ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকে। তাই হিন্দি অঞ্চলে রাজপুতদের ক্ষমতা বাড়াতে ও হিন্দু-মুসলমান দূরত্ব বাড়াতে হিন্দিকে উর্দুর থেকে পৃথক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ব্রিটিশরা ১৮৬৭ সালে আর সেন্ট্রাল প্রভিন্স (বর্তমান ইউপি) হিন্দিকে সরকারী ভাষা বানায় ১৮৮১ সালে। এইভাবে একটা বিশাল অঞ্চলকে হিন্দিভাষি বানিয়ে ফেলল ব্রিটিশরা।

ব্রিটিশরা বাঙালি হিন্দুদের বাঙালি জাতিয়তাবাদকে ভাঙতে হিন্দি ভাষা ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা দুতোকেই ব্যবহার করে। ১৯০৫-এ রিসলে সাহেব বলেন, "United Bengal is a power, once divided it will fall into different ways"। অর্থাৎ বাঙালি জাতিয়তাবাদকে ভাঙো। কার্জন বঙ্গ ভঙ্গ করতে চাইল এমনভাবে জাতে পূর্ব দিকে মুসলমানরা সংখ্যাগুরু হয়ে আর পশ্চীমে হিন্দিভাষিরা সংখ্যাগুরু হয়। এভাবে বাঙালি হিন্দুকে শক্তিহীন করে ফেলা সম্ভব। এই চাপের মুখে বাঙালি হিন্দু বলল বাঙালিকে এক রাখতে হবে। অর্থাৎ বাঙালি হিন্দু মুখে বলল যে তারা বাঙালি মুসলমানকে বেশি আপন মনে করে। কিন্তু কাজে এই মিলনের পক্ষে কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলনা। শশঙ্ক ও ইলিয়াস শাহ-কে এক সূত্রে গাঁথতে হত। সিস্তানী, তুর্কি, পাঠানদের বিদেশি বলে যে তকমা বঙ্কিম চন্দ্ররা দিয়েছিল তা ভাঙতে হত। কিন্তু বাঙালি হিন্দু সেরকম কিছুই করতে পারলনা। উলটে এক দিকে চিত্তরঞ্জন দাশ বাংলার মুসলমানদের সাথে কোন আদর্শগত জোট না করে স্রেফ রাজনৈতিক জোট চালাতে লাগলেন আর রবীন্দ্রনাথ ভারতের মহামানবের সাগরতীর প্রচার শুরু করলেন।

বাঙালি হিন্দু এটা মেনে নিতে পারছিলনা যে বাংলাতে মুসলমান সংখ্যা ৫০%-এর ওপরে আর তাই বাংলা কখনোই আর উনবিংশ শতকের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা বাঙালি হিন্দু। তাই সে ১৯৩০-এর দশকে ভারতীয় জাতিয়তাবাদকে আঁকড়ে ধরছিল। কিন্তু ভারতকে হাতে রাখতে সে বাঙালি মুসলমানকে বাঙ্গালিত্বের মোড়কে সাঝাতে চাইছিল। এদিকে ১৯৩০-এর দশকে ফজলুল হকের সময় থেকেই কৃষক প্রজা পার্টি বানিয়ে বাঙালি মুসলমান দেখিয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাতে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের বেশি পছন্দের। এর মানে হল বাঙালি হিন্দু চাইছিল বাঙালি মুসলমান যেন তার সংখ্যা দিয়ে ভারতে বাঙালির সংখ্যা ও ক্ষমতা বাড়ায় আর বাঙালি মুসলমান চাইছিল স্বাধীন বাংলায় সংখ্যাগুরু হিসেবে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং বাঙালি হিন্দু যেন সেই কাজে বাঙালি মুসলমানকে বাঙ্গালিত্বের নামে সমর্থন করে। বাঙালি হিন্দু যা করতে পারত তা হল খুব শক্তিশালী সংখ্যালঘু হিসেবে স্বাধীন বাংলায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানে নিজেদের দাবিদাওয়া দরকষাকষির মধ্য দিয়ে সংখ্যাগুরু বাঙালি মুসলমানদের কাছ থেকে আদায় করা। সেটা না করে বাঙালি মুসলমানদের ওপর নিজেদের তৈরি উনবিংশ শতকের বাঙ্গালিত্ব চাপাতে গেল আর ভেবে গেল বাঙালি মুসলমানের সমর্থন নিয়ে ভারতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

এরকম ভুল ভাবনা সফল হয়নি স্বাভাবিকভাবেই। বাঙালি হিন্দু পশ্চীম বঙ্গ নামে ভারতের মধ্যে ৮% জনসংখ্যার দুর্বল একটা রাজ্য তৈরি করল। ৪৭%-এর হিন্দিভাষি বা ৫২%-এর হিন্দি-গুজারাতি জোটের সামনে এই ৮% খুবই দুর্বল। এই ৮% বাঙ্গালির মধ্যে আবার ৩০% বাঙালি মুসলমান, ৩ঁঁ% উর্দুভাষি মুসলমান, ৮% হিন্দিভাষি ও ২% নেপালী। বাঙালি হিন্দু ৫৭%-এর বেশি নয় পশ্চীম বঙ্গে। আসাম, ত্রিপুরা ও ঝারখণ্ডে বসবাসরত বাঙালির মধ্যে সেরকম কোন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারেনি। ১৯৪৭-এর ধাক্কা বাঙালিকে ভেঙেচুড়ে দিয়েছে। শুধু পাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশ নামে একটা রাষ্ট্র তৈরি করতে পেরেছে বাঙালি মুসলমানেরা। বাকিটা একদম এলোমেলো হয়ে আছে। ইতিহাস এই এলোমেলো অয়ে যাওয়া জাতিকে খুব শিঘ্র একটা সুযোগ দিতে চলেছে। দেখা যাক.........।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Historical Hindu 11-June-2022 by east is rising

দ্রোণাচার্য ও কিছু প্রশ্ন

যদিহাস্তি তদন্যত্র, যন্নেহাস্তি ন তৎ ক্বচিৎ’। (‘মহাভারত’, ১/৫৬/৩৩)

অর্থাৎ যা ‘মহাভারত’-এ আছে তা ভারতে আছে, আর যা ‘মহাভারত’-এ নেই তা ভারতেও নেই। এই একটি উ‘ক্তিই ভারতভূমির সাথে গ্রন্থটির নিবিড় ও অকৃত্রিম আত্মীয়তাকে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট করে। বিষয়ের গুরুত্বে ও আয়তনে মহান ‘মহাভারত’ ভারতবর্ষের পৌরাণিক চিন্তাধারার এক উজ্জ্বল দলিল। একে ‘কাব্য’,‘মহাকাব্য’,‘ইতিহাস’, ‘আখ্যান’, ‘উপাখ্যান’, ‘ধর্মশাস্ত্র’, ‘মোক্ষশাস্ত্র’ ইত্যাদি যাই বলা হোক না কেন, গ্রন্থটি আসলে আমাদের পূর্বপুরুষদের চিন্তাধারা ও মানসিকতাকে ব্যক্ত করছে। যেকোনো সাহিত্যগত উপাদানের একটি অন্যতম উদ্দেশ্যই বোধ করি তাই। আসলে সাহিত্যিক উপাদানগুলি বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনার মাধ্যমে সমসাময়িক সমাজ ও সামাজিক মানসিকতাকে পরোক্ষে লিপিবদ্ধ করে রাখে। সময়ে সময়ে গবেষকগণ সেই সূত্র ধরে নতুন নতুন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে ইতিহাসকে আরও পুষ্ট করেন। ‘মহাভারত’-ও তেমনই এক মূল্যবান উপাদান যা বহু বিচিত্র তথ্য তালাশের জাদুকাঠি।

আলোচনার শুরুতে ‘মহাভারত’ গ্রন্থটি সম্পর্কে প্রাথমিক একটা ধারণা করে নেওয়া প্রয়োজন। লোকবিশ্বাস অনুসারে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস এই সুবৃহৎ গ্রন্থের রচয়িতা এবং বর্ণিত কাহিনির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তবে ১৮টি পর্ব ও লক্ষাধিক শ্লোকসমন্বিত যে ‘মহাভারত’ বর্তমানে প্রচলিত আছে তার মূল শ্লোকসংখ্যা বিষয়ে মতান্তর আছে। কখনও একে ‘অষ্টৌ শ্লোকশতানি অষ্টৌ শ্লোকসহস্রাণি’ অর্থাৎ ৮,৮০০ শ্লোকের বলা হয়েছে। কখনও ‘চতুর্বিংশতিসাহস্রী সংহিতা’ অর্থাৎ ২৪,০০০ শ্লোকসমন্বিত বলা হয়েছে। আবার কখনও মহাভারতের শ্লোকসংখ্যা ‘শতসাহস্রী সংহিতা’ অর্থাৎ ১,০০০০০। এই তথ্যের ভিত্তিতে বহু গবেষক মহাভারত রচনাক্রমকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন। আবার ‘আদি পর্ব’-এর সাক্ষ্য অনুসারে ‘মহাভারত’-এর কাহিনি তিন বার তিন জন পৃথক ব্যক্তির দ্বারা বিবৃত হয়েছে। তাহলে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে সহজ করে সাজিয়ে নিয়ে বলতে পারি—

১) প্রথম স্তরঃ শ্লোকসংখ্যা ৮,৮০০। বক্তা ব্যাস আর শ্রোতা ব্যাসের শিষ্য বৈশম্পায়ন। এটি ‘জয়’ নামে খ্যাত।

২) দ্বিতীয় স্তরঃ শ্লোকসংখ্যা ২৪,০০০। বক্তা বৈশম্পায়ন, শ্রোতা জনমেজয়। ‘ভারত’ নামে খ্যাত।

৩) তৃতীয় স্তরঃ শ্লোকসংখ্যা ১,০০০০০। বক্তা সৌতি, শ্রোতা শৌনকাদি ঋষিগণ। এটিই আসলে লোকবিশ্রুত ‘মহাভারত’।

প্রবন্ধের মূল বিষয়ের আলোচনার স্বার্থে ‘মহাভারত’-এর রচনাকাল সম্পর্কে ধারণা আবশ্যক। প্রাচীন ভারতের যেকোনো ব্যক্তি বা দলিলের কালনির্ণয় কঠিনতম অংশ। তথ্যের অভাবে তুলনাত্মক জটিল অঙ্কের সিঁড়ি বেয়ে আনুমানিক সময়ে পৌঁছোতে হয়। ‘মহাভারত’-ও ব্যতিক্রম নয়। আশ্বলায়নের ‘গৃহ্যসূত্র’ সম্ভবত প্রাচীনতম দলিল যেখানে ‘মহাভারত’-এর উল্লেখ পাই এবং এর সময় আনুমানিক ৫ম খ্রিস্টপূর্বাব্দ। অপরদিকে ৪৪৫ খ্রিস্টাব্দের গুপ্তযুগীয় অভিলেখ সম্ভবত প্রথম দলিল যাতে লক্ষশ্লোকযুক্ত ‘মহাভারত’-এর উল্লেখ রয়েছে। অধিক জটিল আলোচনায় প্রবেশ না করে বলতে পারি, ৫ম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত একটি সুদীর্ঘ সময় ধরে এই কালজয়ী গ্রন্থ একটু একটু করে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ের বহু কবিপ্রতিভার স্পর্শে ধন্য ‘মহাভারত’ নামক সিন্ধুর বুকে লুক্কায়িত রয়েছে মূল্যবান বহু অপ্রিয় সত্য।

ভারতে ‘মহাভারত’-এর একাধিক সংস্করণ প্রচলিত আছে। তাদের পর্ব ও শ্লোকসংখ্যা বিভিন্ন। আবার বাংলা ভাষার বিখ্যাত সংস্করণগুলির মধ্যেও পাঠান্তর ও ব্যতিক্রম প্রচুর। শুধু তাই নয়, সংস্করণগুলির মধ্যে পর্বাধ্যায়সংখ্যা, তাদের বিন্যাস বা শ্লোক সংখ্যাগত পার্থক্যও অনেক। এই সকল পাঠান্তর ও ব্যত্যয় গবেষণার বিভিন্ন শাখার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু এসব জটিলতা আলোচ্য বিষয়ের জন্য জরুরি নয়। অত্যন্ত পরিচিত ও প্রচলিত কাহিনিনির্ভর এই আলোচনা।

এইবার আসা যাক প্রবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয়ে অর্থাৎ ‘ব্রাহ্মণ’ দ্রোণাচার্য চরিত্রের বিশ্লেষণে। দ্রোণের অন্যান্য পরিচয় ছেড়ে সচেতনভাবে তাঁকে ‘ব্রাহ্মণ’ বিশেষণে বিশেষায়িত করা কেন? কারণ দ্রোণ চরিত্রের যত বিড়ম্বনা ঠিক ওখান থেকেই শুরু হয়। কীভাবে? তা ক্রমশ প্রকাশ্য। ঋষি ভরদ্বাজের পুত্র দ্রোণ প্রথমে পিতার কাছে অস্ত্র শিক্ষা করেন।তারপর মহর্ষি অগ্নিবেশ্যের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র শিক্ষায় পারদর্শী হন। পিতার আদেশে কৃপাচার্যের ভগিনী কৃপীকে বিবাহ করেন। অশ্বত্থামা নামে তাঁদের এক অতি তেজস্বী পুত্র সন্তান জন্মায়।পিতার মৃত্যুর পর দ্রোণ শ্রেষ্ঠ অস্ত্রজ্ঞ পরশুরামের কাছে বহু বিচিত্র ও অসাধারণ অস্ত্রের প্রয়োগ ও প্রত্যাহার শিক্ষা করে হয়ে উঠলেন অন্যতম যুগশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা।এই পর্যন্ত দ্রোণের জীবন নিয়ে কারও কোন প্রশ্ন ছিলনা। প্রশ্ন থাকার কথাও নয়। কারণ এক সাধারণ ব্রাহ্মণ সন্তান আর পাঁচটা সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারের মতোই জীবন অতিবাহিত করছেন।পিতার নির্দেশে অল্পকেশী সাধারণ কন্যাকে বিয়ে, সন্তান। আর ব্রাহ্মণের যা কাজ, মানে এই গুরু ওই গুরুর কাছে নতুন নতুন শিক্ষা গ্রহণ করে বেড়ানো।কিন্তু দ্রোণ তো অস্ত্রশিক্ষা করছিলেন? তাতে কী! তিনি তো শিখছিলেন, তার প্রয়োগ  তো করেননি। তাই এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল।বিড়ম্বনা শুরু হল দ্রোণ যখন দ্রোণাচার্য হলেন অর্থাৎ রাজার বেতন ভোগী অস্ত্রবিদ্যার শিক্ষক হলেন। ব্রাহ্মণ হয়ে অস্ত্রজীবী! সমালোচনা ক্রমশ অসম হতে লাগল। বনে-জঙ্গলে যৎসামান্য ছাউনির তলায় বসে, ক্ষুধাকে অস্বীকার করে, ইহলোক ও পরলোকের গূঢ়তত্ত্ব চর্বিত চর্বণ না করে এই ব্রাহ্মণ কী না রাজগৃহে থেকে, ভালো ভোজন করে, রাজপুত্রদের অস্ত্রশিক্ষা দেওয়ার সাহস দেখায়! অনিবার্য সমালোচনা; ব্রাহ্মণ মানেই ক্ষমতালোভী ও সুযোগ সন্ধানী। একলব্যের প্রসঙ্গ এলে তো আর কথাই নেই। সকলে সমস্বরে দ্রোণাচার্যের মুণ্ডচ্ছেদনে ব্রতী হন। এত নিষ্ঠুরতা ও জাতিবিদ্বেষ ব্রাহ্মণ ছাড়া আর কোনো প্রাণীর মধ্যেই নেই। দ্রোণাচার্য গুরুকুলের কলঙ্ক— এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেউ বিন্দুমাত্র সময় ব্যয় করেন না। তাছাড়া অন্যায় যুদ্ধে দ্রোণাচার্যের সেনাপতিত্বে যেভাবে নির্বিচারে অভিমন্যুকে হত্যা করা হয়েছে তাতে দ্রোণাচার্য চরিত্রের নির্মম পাশবিকরূপ স্পষ্ট। এইরকম শত শত অভিযোগ ও সমালোচনার শরে দ্রোণাচার্য আহত ও পীড়িত। নিঃসন্দেহে কিছু ঘটনার আকস্মিকতা হৃদয়কে সহস্রছিন্ন করে। কিন্তু সমালোচনা তো ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার, কোমলতা-কাঠিন্য উভয়ের সামঞ্জস্যতার অপেক্ষা রাখে। চরম নিষ্ঠুরতার মধ্যে কোনো পরম প্রিয়ের আঘাত বীজ হিসেবে লুকিয়ে রয়েছে কি না তার অনুসন্ধানই বিশ্লেষণকে নিটোল করে। প্রবন্ধটি এইধরনের কিছু প্রবণতা অন্বেষণের একটি প্রয়াস।

মনে রাখতে হবে, যে সুদীর্ঘ সময়কে আমরা ‘মহাভারত’ সংকলনের সময় হিসেবে নির্দেশ করেছি সেই সময়ের সমাজ ব্যবস্থাপনায় ‘কৌটিলীয়-অর্থশাস্ত্র’ ও ‘মনুস্মৃতি’ এই দুই গ্রন্থের প্রভাব ছিল বিস্তর। এই দুই গ্রন্থের সাক্ষ্য অনুযায়ী সমাজ পরিচালনার ভিত্তি ছিল ‘বর্ণাশ্রম-ব্যবস্থা’। এদের মধ্যে ‘বর্ণ-ব্যবস্থা’-র ওপর বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। চার ‘বর্ণ’ হল—‘ব্রাহ্মণ’, ‘ক্ষত্রিয়’, ‘বৈশ্য’ ও ‘শূদ্র’। এদের কাজও নির্দিষ্ট। ব্রাহ্মণের কাজ— অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন, যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ হল সমাজের সুশিক্ষিত অংশ। ক্ষত্রিয়ের কাজ— অধ্যয়ন, যজন, দান ও অস্ত্রজীবী হওয়া বা প্রজাপালন করা। সহজ কথায় ক্ষত্রিয়রা হল সমাজের ক্ষমতাবান অংশ। বৈশ্যদের কাজ— অধ্যয়ন, যজন, দান, কৃষি, পশুপালন, বাণিজ্য, ঋণদান। অর্থাৎ বৈশ্যরা হল সমাজের বিত্তবান অংশ। শূদ্রদের কাজ— বাকি তিন বর্ণের সেবা করা। সহজ করে বললে যুদ্ধ, কৃষি, পশুপালন, শিল্প প্রভৃতি ক্ষেত্রে যে বিপুল পেশিশক্তি প্রয়োজন তার যোগান দেয় শূদ্ররা। অর্থাৎ শূদ্ররা হল সমাজের শ্রমজীবী অংশ। এই প্রবন্ধে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রের পরিবর্তে যথাক্রমে শিক্ষিত, ক্ষমতাবান, বিত্তবান ও শ্রমজীবী/পেশিশক্তি শব্দগুলি সচেতনভাবে বার বার ব্যবহৃত হবে। যাইহোক, এই বর্ণ-ব্যবস্থার মধ্যেই পরস্পরকে লড়িয়ে দেওয়ার যথেষ্ট উপাদান ছিল। পাঠকগণ চিন্তা করে দেখুন, ব্রাহ্মণ অর্থাৎ যারা সমাজের সবচেয়ে শিক্ষিত অংশ তাদের সামান্য জীবিকাটুকু নির্দিষ্ট হল না। শিক্ষিতদের হাতে না থাকল উপার্জনের ক্ষমতা, না থাকল প্রশাসনিক ক্ষমতা। অপর দিকে ক্ষত্রিয় অর্থাৎ যাদের হাতে শাসনক্ষমতা তাদের হাতে অর্থকরী ক্ষেত্রগুলির (কৃষি, পশুপালন, শিল্প, বাণিজ্য ইত্যাদি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা শিক্ষিতদের মতো সামাজিক খ্যাতি কোনোটাই রইল না। আবার বৈশ্যরা অর্থাৎ যাদের হাতে বিপুল অর্থ তাদের কাছে প্রশাসনকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবার ক্ষমতাও নেই এবং শিক্ষিতের মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠাও নেই। শূদ্ররা অর্থাৎ যাদের পেশির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতাবানরা বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকছে, যাদের শ্রম ও দক্ষতার ওপর ভর করে বিত্তবানরা তাদের শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার করে আরও বিত্তশালী হচ্ছে তাদের হাতে প্রায় কিছুই নেই। শিক্ষার অধিকার নেই, জমির অধিকার নেই, আর্থিক, সামাজিক বা প্রশাসনিক নিরাপত্তাও নেই। ফলে এই চার বর্ণের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ছিল খুব স্বাভাবিক। কিন্তু যুগ যুগ ধরে কী সুচারু ও সুচতুর কৌশলে এই প্রতিযোগিতাকে করে তোলা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক। তাই লড়াইটা হয়ে উঠল শুধু ব্রাহ্মণ আর শূদ্রের। অথচ এই দুই ‘বর্ণ’-ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শাস্ত্রসমূহের ব্যাখ্যা এমনভাবে হতে লাগল যেন ব্রাহ্মণই কেবল শূদ্রকে অস্পৃশ্য মনে করে কিন্তু ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যদের গৃহে তাদের অবাধ বিচরণ। কিছু আজব নিয়ম-কানুনকে হাতিয়ার করে শিক্ষিত ব্রাহ্মণরা দারিদ্র আর জীবিকাহীনতার হতাশা শূদ্র-অত্যাচারের মাধ্যমে চরিতার্থ করতে লাগল। অপরদিকে, বিত্তবান বা ক্ষমতাবান কোনো প্রভুর অধীনস্ত শূদ্ররা মনিবের অত্যাচার জীবিকার খাতিরে মানতে বাধ্য হলেও হতদরিদ্র, অশৌখিন ব্রাহ্মণদের অযথা লাঞ্ছনা সহ্য করতে বা পারিশ্রমিকহীন সেবা প্রদান করতে ইচ্ছুক ছিল না। অগত্যা নিজেদের সমস্যা ও বঞ্চনার প্রতিকারের পরিবর্তে এই দুই বর্ণের মধ্যে পারস্পরিক বৈরিতা বাড়তে লাগল। সমাজের ক্ষমতাবান বা বিত্তশালীরা এই দ্বন্দ্বের অখণ্ড ফল ভোগ করে গেল।‘বর্ণ-ব্যবস্থা’-য় চার ‘বর্ণ’-এর উল্লেখের ক্রমের মধ্যেও যেন এই ষড়যন্ত্রের আভাস আছে। লক্ষ্য করুন, এই ক্রমে ব্রাহ্মণের সঙ্গে তার পরের পরের ‘বর্ণ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ ও হৃদ্যতা ক্রমশ কমছে। ব্রাহ্মণের সাথে (অবশ্যই মুষ্টিমেয় কিছু ব্রাহ্মণ) ক্ষত্রিয়ের যে সম্পর্ক, বৈশ্যের সাথে তা অনেকটাই দুর্বল। আবার বৈশ্যের সাথে ব্রাহ্মণের যে দুর্বল যোগাযোগ তা শূদ্রের কাছে গিয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ কায়দা করে শিক্ষিতদের অর্থবল ও লোকবল থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। সমাজের এই সবকটি মানসিকতা ক্ষমতা ও অর্থের অলিন্দে থাকা একটা শ্রেণির গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল। আর দ্রোণাচার্য তার একটি শিকার।

দ্রোণের প্রথম অপরাধ তিনি ব্রাহ্মণোচিত বৃত্তির পরিবর্তে ক্ষাত্রধর্মকে বৃত্তি করেছেন। অনিবার্যভাবে দ্রোণাচার্যের সাথে শাস্ত্রঅবমাননাকারী, ক্ষমতালোভী ইত্যাদি বিশেষণ সেঁটে দেওয়া হল। আমি আর একটু তলিয়ে ভাবতে চাই। দ্রোণাচার্য যে শুধু মহান অস্ত্রজ্ঞ ছিলেন তাই নয় বেদ, বেদাঙ্গ, মনুর নীতিশাস্ত্রাদিতেও দ্রোণ নিষ্ণাত। এই ধরনের বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তি যেকোনো দেশের অমূল্য সম্পদ। কিন্তু ভাগ্যের কী নিষ্ঠুর পরিহাস! পূর্বে দ্রোণ ছিলেন পাঞ্চালদেশের অধিবাসী। একদিন তাঁর পুত্র অশ্বত্থামা ধনিপুত্রদের দুধ খেতে দেখে বাবা দ্রোণের কাছে এসে কাঁদতে লাগল। বালককে দুধ খাওয়ানোর আশায় উচ্চশিক্ষিত দ্রোণ ধর্মসঙ্গত উপায়ে পয়স্বিনী গাভী সংগ্রহের চেষ্টা করলেন এবং ব্যর্থ হলেন। দান যদি ব্রাহ্মণের উপার্জনের সাধন হয় তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে দান অপরের ইচ্ছাধীন। যখন যেটা প্রয়োজন তখন সেই বস্তুই লোকে দান করবে এমন কাকতালীয় ঘটনা তো আর বার বার ঘটবে না। ইতিমধ্যে ধনিপুত্ররা শিক্ষিত অথচ উপার্জনহীন ব্রাহ্মণ দ্রোণের পুত্রের সাথে আর একটু তামাশা করল। অশ্বত্থামাকে তারা পিটুলি (চাল বাটা) গোলা জল খেতে দিল। তা খেয়েই দ্রোণের পুত্র আহ্লাদে আটখানা। অর্থাৎ বালক অশ্বত্থামা শিশু বয়সেও কোনোদিন দুধের আস্বাদ পায়নি। সেই কারণে বালক অশ্বত্থামা পিটুলি গোলা জলকেই দুধ বলে পান করে আনন্দ পাচ্ছে। ধিক সেই যোগ্যতাকে যে যোগ্যতায় একজন পিতা তার সন্তানের জন্য একটু দুধ জোটাতে পারে না। ধিক সেই সামাজিক ব্যবস্থাপনাকে যে ব্যবস্থাপনায় দরিদ্রদের সামান্য সামাজিক সম্মান ও অধিকারটুকু নিশ্চিত হয় না। অগাধ যোগ্যতাসম্পন্ন দ্রোণের জীবনে এর থেকে বেশি হতাশাজনক এবং অপমানের আর কী হতে পারে?একদিকে শিক্ষিত দ্রোণের দারিদ্রের হৃদয়বিদারক ছবি; উল্টোদিকে ব্রাহ্মণের দারিদ্রে বিত্তবানদের বিদ্রুপ— বহু প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বিপরীত কথা বলছে। এখানেই ঘটনার শেষ নয়। বিত্তবানেদের লাঞ্ছনায় পীড়িত পিতা দ্রোণের এবার এক ক্ষমাতাবানের কথা মাথায় এল। তিনি দ্রোণের বাল্যসখা, সহপাঠী এবং অধুনা পাঞ্চালরাজ দ্রুপদ।প্রতিকারের আশায় ছুটলেন দ্রুপদের কাছে। কিন্তু কেবলমাত্র বন্ধু সম্বোধনের অপরাধে ক্ষমতাবান দ্রুপদ দরিদ্র দ্রোণকে অকথ্য অপমান করলেন এবং কেবলমাত্র এক রাত্রির উপযুক্ত ভোজন দিতে ইচ্ছা করলেন। যে প্রশাসন দ্রোণের মতো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির উপার্জনের উপায় করতে পারেনা সে প্রশাসন কী জনকল্যাণ করবে? আদৌ সে প্রশাসকের ক্ষমতায় থাকা উচিত? না কি শিক্ষিতরা দিন গুজরানের জন্য ক্ষমতাশালী ও বিত্তশালীদের দোরে দোরে ঘুরবে— এটাই অভিপ্রায়? ঠিক এখানেই দ্রোণ ষড়যন্ত্রীদের একহাত নিয়েছেন। শিক্ষিত মানেই মেধা আর ক্ষুধাকে একসাথে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে—সমাজের এই অযৌক্তিক আবদারের বিরুদ্ধে দ্রোণ সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন হস্তিনাপুরে যোগ্যপদে চাকরি নিয়ে। মেধাকে তিনি ক্ষুধা নিবারণের হাতিয়ার করতে শেখালেন।

এইবার কেউ কেউ ঝাঁঝিয়ে প্রশ্ন করবেন দ্রোণের জীবনে এইটুকুই না হয় কষ্ট। এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তো প্রশ্নাতীত ক্ষমতা ভোগ করেছেন? আমি আবারও উল্টো কথা বলব। হস্তিনাপুরের রাজসভায় দ্রোণাচার্য কেবলমাত্র একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীর উপযুক্ত সম্মান পেতেন যা তাঁর যোগ্যতাবলে পাওয়া। কিন্তু প্রশ্নাতীত ক্ষমতার অধিকারী তিনি ছিলেন না। কারণ তিনি রাজা নন। রাজা তো রাজাই। ‘মনুসংহিতা’ বলছে— ইন্দ্র, বায়ু, যম, সূর্য, অগ্নি, বরুণ, চন্দ্র ও কুবের— এই সকল দেবতার সারভূত অংশ নিয়ে পরমেশ্বর রাজাকে সৃষ্টি করেছেন (৭/৪)। সিদ্ধান্ত এই— ‘বালোঽপি নাবমন্তব্যো মনুষ্য ইতি ভূমিপঃ/ মহতী দেবতা হ্যেষা নররূপেণ তিষ্ঠতি//’ (৭/৮) অর্থাৎ রাজা নাবালক হলেও (বলা ভালো রাজপদের অনুপযুক্ত হলেও) তাঁকে সাধারণ মানুষ ভেবে অবজ্ঞা কোরো না; আসলে রাজা হলেন প্রকৃতপক্ষে একজন দেবতা যিনি মানুষের রূপে এই পৃথিবীতে অবস্থান করেন। অতএব রাজাই ঈশ্বর, রাজকর্মচারীরা নন। আবার মন্ত্রীদের সাথে পর্যালোচনা করলেও তাদের সিদ্ধান্তই যে রাজাকে মেনে চলতে হবে তাও নয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত রাজাই নিতেন। এক্ষেত্রে ‘মনুসংহিতা’-র সাক্ষ্য— ‘সমস্তানাঞ্চ কার্যেষু বিদধ্যাদ্‌ হিতমাত্মনঃ’ (৭/৫৭)। অর্থাৎ পৃথক পৃথক ভাবে বা মিলিত ভাবে মন্ত্রীদের অভিপ্রায় অবগত হয়ে রাজা নিজে যেটি হিতকর বলে মনে করবেন সেইরকম করবেন। অতএব যারা এই ধারণা পোষণ করেন যে শাসনযন্ত্রে ব্রাহ্মণরাই সর্বোচ্চ স্থানে থাকতেন এবং ব্রাহ্মণদের কথা মতো রাজারা চলতেন, তাদের বলি হিসেবটা এক আর একে দুইয়ের মতো অতটা সহজ ছিল না। যদি তাই হত তাহলে দ্রোণ, কৃপদের পরামর্শ রাজা ধৃতরাষ্ট্র বা যুবরাজ দুর্যোধন মেনে নিতেন আর কুরক্ষেত্রের যুদ্ধই হত না। পদে পদে এঁরা ধৃতরাষ্ট্রকে অন্যায় থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শিক্ষিতদের উপদেশ মোটেই ক্ষমতাশালীদের অভিপ্রেত ছিল না। ভেবে দেখুন, শাস্ত্রকারেরা ব্রাহ্মণ। কিন্তু তাঁদেরই শাস্ত্রীয় পরামর্শে ক্ষত্রিয়রা সমাজের শাসন পরিকাঠামোর সর্বেসর্বা। ব্রাহ্মণের পরামর্শ ক্ষত্রিয় শুনতেও পারে আবার নাও পারে। নিজেদের রাজা করবার এমন সুযোগ ব্রাহ্মণ শাস্ত্রকারেরা কেন হাতছাড়া করলেন? তাহলে কি মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষিত মানুষকে নিমিত্ত করে সমাজের ক্ষমতালোভীরা নিজেদের অভিসন্ধিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে? কোনো রাজার পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুমোদন ছাড়া কি কোনো নীতিশাস্ত্র রচিত বা অনুমোদিত হতে পারে? প্রশ্ন থাকছেই।

এবার আসি দ্রোণ-একলব্যের প্রসঙ্গে।দ্রোণ একলব্যের কাহিনিকে বিশ্লেষণ করে ব্রাহ্মণের জাতিবিদ্বেষ বা গুরু-শিষ্য সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্পর্ককে কলুষিত করবার তত্ত্ব যেমন খাড়া করা যায় তেমনি এগুলির অতিরিক্ত কিছু সিদ্ধান্তেও উপনীত হওয়া যায়। ভেবে দেখুন, দ্রোণাচার্য একলব্যের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ গুরুদক্ষিণা হিসেবে নিয়ে কার স্বার্থ রক্ষা করলেন? এক ক্ষমতাশালী পরিবারের ও এক ক্ষমতার উত্তরাধিকারী বালক অর্জুনের। দ্রোণাচার্য নিজে কী পেলেন? কলঙ্ক আর সমালোচনা। আবার একলব্যের নীচুজাতির কারণে সমাজের তৈরি করা নিয়মের ইন্দ্রজালে আবদ্ধ হয়ে দ্রোণ তাঁকে সরাসরি শিক্ষাদানেও আপত্তি করলেন। ব্রাহ্মণের জাতিবিদ্বেষ তত্ত্ব আরও সুদৃঢ় হল। কিন্তু একলব্যের পরবর্তী জীবন সম্পর্কে যেসব ধারণা প্রচলিত রয়েছে সেগুলি বিশ্লেষণ করলে আশ্চর্য হতে হয়। ‘হরিবংশ’ (মহাভারতের ১৮টি পর্বের অতিরিক্ত অংশ) অনুসারে এই নীচুজাতির একলব্য জরাসন্ধের হয়ে যুদ্ধ করেছেন যখন কংশবধের প্রতিশোধ নিতে জরাসন্ধ মথুরা আক্রমণ করেন। ‘ভাগবত পুরাণ’ (মথুরা সংস্করণ) অনুসারে জরাসন্ধের বাহিনীর যোদ্ধা একলব্যকে কৃষ্ণ হত্যা করেন কারণ তিনি জানতেন একলব্যের মতো যোদ্ধা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডবদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারেন। আবার এমন কাহিনিও প্রচলিত আছে যে, রাজপুত্র দুর্যোধন একলব্যকে হস্তিনাপুরের সমস্ত বনের রাজা ঘোষণা করেছিলেন। অর্থাৎ একলব্য কেবলমাত্র নীচজাতি হওয়ার কারণে যে সমাজব্যবস্থা ব্রাহ্মণ দ্রোণাচার্যকে তাঁকে তাঁর ছাত্ররূপে গ্রহণ করতে দিল না, সেই সমাজের ক্ষমতাবানরা কিন্তু দ্বিধাহীনভাবে তাঁর যুদ্ধের প্রতিভাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে গেল। সমাজের সকল স্তরের মানুষ বিনাপ্রশ্নে এই ষড়যন্ত্রকে মেনেও নিল! তখন তাদের জাত-কুল-মান সব হয়ে গেল গৌণ! না; একলব্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কর্ণের ক্ষেত্রেও সে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। সূতপুত্র হওয়ার অপরাধে দ্রোণ তাকে প্রত্যাখ্যান করলেও হস্তিনাপুরের শাসকরা সময় মতো তাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে। লক্ষ্যণীয়, এতে দ্রোণাচার্যের মতো ব্রাহ্মণদের সাথেই কেবল একলব্য বা কর্ণদের মতো নীচুতলার মানুষগুলোর দূরত্ব বাড়ে। আর ক্ষমতাবানেদের প্রতি বাড়ে আনুগত্য। অথচ কোন জাদুবলে জানি না, ধৃষ্টদ্যুম্নকে দ্রোণ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন না। তাঁকেই হত্যা করবার ইচ্ছায় তাঁরই তত্ত্বাবধানে ধৃষ্টদ্যুম্নকে পাঠানো হল আর তিনি তাকে এড়িয়ে যেতে পারলেন না! ধৃষ্টদ্যুম্ন ক্ষমতাশালীর পুত্র বলেই কি দ্রোণ জানতে জানতে বিষ পান করলেন? উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারী হয়েও দ্রোণ যদি এইভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন তবে সমাজের বাকি শিক্ষিতদের দশা কীরূপ ছিল? সমস্ত সম্ভাবনারই পক্ষপাতহীন অনুসন্ধান প্রয়োজন।

এবার আসা যাক অভিমন্যুবধ প্রসঙ্গে। যারা দ্রোণের সেনাপতিত্বে অন্যায় যুদ্ধের তত্ত্ব কপচে বেড়ান তাদের বলি মহাভারতে অন্যায় যুদ্ধের বর্ণনা সঠিক ভাবে করলে একটি উপন্যাস হয়ে যাবে। শুধু দ্রোণকে দোষ দিলে আপনার পক্ষপাতদুষ্ট মানসিকতাই স্পষ্ট হয়। আর একটি বাস্তব কথা ভাবুন, আপনি যুদ্ধের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা আশা করেন কী করে? সমস্ত নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা যখন শেষ হয়ে যায় তখনই তো যুদ্ধের মতো নৃশংসতা নেমে আসে। অতএব নিয়ম মাফিক যুদ্ধের আশা করা মূঢ়তার নামান্তর। তবে অভিমন্যুবধের আগের কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করলে ক্ষমতালোভীদের যেকোনো কিছুর বিনিময়ে ক্ষমতা প্রাপ্তির এক জঘন্য প্রচেষ্টা ধরা পড়ে। ত্রয়োদশ দিনের যুদ্ধ শুরুর পূর্বেই দুর্যোধন সেনাপতি দ্রোণকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে লাগলেন। কারণ কৌরবদের পরিকল্পনা অনুসারে এখনও দ্রোণ যুধিষ্ঠিরকে বন্দি করতে সমর্থ হননি। দ্রোণের প্রচেষ্টার ত্রুটি ছিল না। তা সত্ত্বেও দুর্যোধনের ক্রুর বাক্যবাণে মর্মাহত দ্রোণ প্রতিজ্ঞা করলেন যে আজকের যুদ্ধে পাণ্ডবদের একজন ‘মহারথ’-কে (যিনি বহু রথীর অধিনায়ক) হত্যা করবেন। একেবারে একজন বীর যোদ্ধাসুলভ দ্রোণের এই আচরণ। পরিকল্পনা হল আজ দ্রোণ এমন এক ব্যূহ রচনা করবেন যা কয়েকজন মাত্র ভেদ করতে পারেন। কিছু যোদ্ধা অর্জুনকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে ব্যূহ থেকে দূরে রাখবে। হলও তাই। দ্রোণ চক্রব্যূহ রচনা করলেন এবং যথা স্থানে উপযুক্ত যোদ্ধাদের স্থাপন করলেন। সংশপ্তকগণ অর্জুনকে যুদ্ধে ব্যস্ত রাখলেন। বেগতিক দেখে যুধিষ্ঠির ভাবলেন এই বুঝি গুরু দ্রোণাচার্য তাঁকে বন্দি করলেন। ধরা পড়ার ভয়ে আকুল হয়ে তিনি অভিমন্যুকে আদেশ করলেন চক্রব্যূহ ভেদ করতে। অভিমন্যু ভীষণ স্পষ্ট করে জানালেন তিনি চক্রব্যূহে প্রবেশের কৌশল জানলেও তার থেকে বেরিয়ে আসার পদ্ধতি তাঁর জানা নেই। কিন্তু যুধিষ্ঠির বন্দি হতে নারাজ। বন্দি হলে যুদ্ধও শেষ হবে। রাজ্য জয়ের সকল আশা ব্যর্থ হবে। তা তিনি হতে দিতে পারেন না। অতএব যে ব্যূহ সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, যে ব্যূহ মহাযোদ্ধা দ্রোণ রচনা করেছেন, সেই ব্যূহে তরুণ ভ্রাতুষ্পুত্রকে অবলীলায় নিক্ষেপ করলেন। যিনি নিজেকে নিজে রক্ষা করতে পারেন না তাঁর পরামর্শ মতো স্থির হল অভিমন্যু ব্যূহ ভেদ করে রাস্তা করে দেবেন আর বাকি যোদ্ধারা সেই পথে ব্যূহে প্রবেশ করে অভিমন্যুকে রক্ষা করবেন। দ্রোণের মতো যোদ্ধার সাথে যুদ্ধ করা কী এতই সহজ! কৃষ্ণের বুদ্ধিতে আর ভাইয়েদের শক্তিতে বলীয়ান যুধিষ্ঠিরের কী এমন যুদ্ধশাস্ত্রগত মেধা আছে যে দ্রোণাচার্যের তৈরি ব্যূহ ভেদ করবেন? যা ফল হওয়ার তাই হল। অভিমন্যুর তৈরি করা পথে পাণ্ডব যোদ্ধারা প্রবেশ করতে পারলেন না আর অভিমন্যুও প্রাণ থাকতে ব্যূহের বাইরে বেরোতে পারলেন না। কেউ আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আগুনকে দগ্ধ করার দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন কি? কিন্তু হ্যাঁ এই অভিমন্যুর জ্যেষ্ঠতাত কয়েকদিন পরেই রাজা হয়েছিলেন। আর দ্রোণ আজও কলঙ্কের ভাগিদার।

দ্রোণাচার্যের জীবনের বিভিন্ন ছোটো ছোটো ঘটনা বার বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শিক্ষিতদের স্থান ক্ষমতাবানদের পদতলে। সমাজের ক্ষমতাশালীরা তাদের স্বার্থে যেমন খুশি তাদের মেধা বা স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করতে পারে। কারণ শিক্ষিতরা দিনের শেষে বেতনভোগী কর্মচারী। রাজশেখর বসুর ‘মহাভারত’-এর সারানুবাদ থেকে জানা যায় কৌরবগণ কপট উপায়ে জয় করা ইন্দ্রপ্রস্থের দায়িত্ব দ্রোণকে দিয়েছিল। বিষয়টি তলিয়ে দেখলে অবাক হতে হয়। পঞ্চপাণ্ডবের সুযোগ্য নেতৃত্বে ইন্দ্রপ্রস্থ স্বপ্নের রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। সুখ সমৃদ্ধিতে পূর্ণ রাজ্যের প্রজারা ভালোই ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে তাদের রাজার সাথে কপটতা করে তাদের বনবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হল। তাদের রাজরাণীর অপমানের কথাও তারা নিশ্চয়ই জানত। এমন অবস্থায় ইন্দ্রপ্রস্থে প্রজাবিপ্লব বা প্রজাবিক্ষোভ কি খুব স্বাভাবিক নয়? এমতাবস্থায় ইন্দ্রপ্রস্থে দরকার ছিল এক সুদক্ষ প্রশাসকের। রাজা ধৃতরাষ্ট্র নিজে অন্ধ। তিনি নিজে সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল। অতএব তার দ্বারা এই দায়িত্ব পালন কোনো উপায়েই সম্ভব ছিল না। দুর্যোধন নামেই নিজের মস্তক ধারণ করেন। মামা শকুনি আর বন্ধু কর্ণের বুদ্ধি ছাড়া তিনি এক পা চলতে পারেন না। অতএব এই দুর্যোগ ঠেকানো তাঁর কর্ম নয়। সুতরাং বিকল্পের সন্ধান। দ্রোণ সেক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ। কারণ তিনি বুদ্ধিমান এবং বীর। পরিস্থিতি অনুসারে তিনি আলোচনা ও যুদ্ধ দুই বিষয়েই সমান পারদর্শী। তাছাড়া তিনি শিক্ষিত তাই সমাজে তাঁর একটা বিশেষ ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। অগত্যা প্রভুদের পাপের বোঝা বেতনভোগী কর্মচারীকেই নিতে হল। অনেকেই বলতে পারেন এই যুক্তি কল্পনা মাত্র।তাদের কাছে একটাই জিজ্ঞাসা; ঠিক কী কারণে এত কুমন্ত্রণা ও কপটতার পর প্রাপ্ত ইন্দ্রপ্রস্থ দুর্যোধন ভোগ করলেন না? কুটিল তর্কের খাতিরেও কেউ নিশ্চয়ই দুর্যোধনকে ত্যাগী, বিষয়ে নির্লিপ্ত বা ভোগে উদাসীন বলবেন না!  

দ্রোণ আজীবন তাঁর আশ্রয়দাতাদের হিতার্থে কাজ করে গেলেন। তাঁর সমস্ত শিক্ষা উজাড় করে দিয়েছেন রাজপুত্রদের। শ্রেষ্ঠ ছাত্র অর্জুনের প্রতি তাঁর স্নেহ কখনও কখনও পুত্র অশ্বত্থামাকেও অতিক্রম করে গেছে। ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনকে প্রতিটি অন্যায়ের পূর্বে সাধ্যমতো সতর্ক করবার সমস্ত প্রয়াস করেছেন। অন্যায় যুদ্ধ জেনেও কেবলমাত্র প্রভুদের প্রতি আনুগত্যবশত প্রাণপ্রিয় পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে সপুত্র যুদ্ধ করেছেন ও প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু এই আনুগত্য ক্ষমতাবান আশ্রয়দাতারা স্বীকার করল কোথায়?‘উদ্‌যোগপর্ব’-এ দৌত্য কর্ম শেষে সঞ্জয় যখন কৌরব সভায় পাণ্ডবদের মনোভাব স্পষ্ট করছেন তখন আসন্ন জয় পরাজয়ের চিন্তায় দোদুল্যমান রাজা ধৃতরাষ্ট্রের মনে হয়েছে দ্রোণ তাঁর দেওয়া দানের প্রতিদান হিসেবে দুর্যোধনের পক্ষে যুদ্ধ করলেও জয়লাভ করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যেহেতু দ্রোণ স্থবির ও অর্জুনের গুরু।ভাইয়ের ভাগ্য বিড়ম্বনাকে হাতিয়ার করে নিজের প্রতিবন্ধকতাকে অস্বীকার করে সিংহাসন আঁকড়ে থাকা ছাড়া ধৃতরাষ্ট্রের অবদান কী? তিনি কোন যোগ্যতাবলে দ্রোণাচার্যের মূল্যায়ন করেন? অন্নদাতা বলেই কি তাঁর এই দম্ভ? অথচ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ১৮ দিনের মধ্যে ৫ দিন (১১-১৫ নং দিন দ্রোণের মৃত্যু পর্যন্ত) এই বৃদ্ধের নেতৃত্বেই কৌরবরা যুদ্ধ করেছে। কৌরবদের জন্যই এই বৃদ্ধ প্রাণ দিয়েছেন। আর দুর্যোধনের কথা নাই বা বললাম। একদা অস্ত্রগুরু যে বর্তমানে তাঁর বেতনভুক্ত কর্মচারী তা তিনি পদে পদে দ্রোণকে বুঝিয়েছেন। দ্রোণের জীবদ্দশায় কোনো অস্ত্রের আঘাত হয়তো তাঁকে এতটা আঘাত করেনি যতটা আঘাত করেছে দুর্যোধনের বাক্যবাণ। শিক্ষিত কর্মচারীর মনিব যদি বুদ্ধিহীন ও ক্ষমতার গর্বে অন্ধ হয় তবে সেই কর্মচারীর অবস্থা বর্ণনার চেষ্টা না করাই ভালো।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকে কেউ ধর্মযুদ্ধ হিসেবে দেখেন তো কেউ দেখেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র হিসেবে। আমার ধারণা খানিক ভিন্ন। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিল কারা? পাণ্ডবপক্ষে এক ব্রাহ্মণ দ্রোণের শিষ্য ধৃষ্টদ্যুম্ন। কৌরবপক্ষে ব্রাহ্মণ পরশুরামের শিষ্য ভীষ্ম (১-১০ দিন), ব্রাহ্মণ দ্রোণ (১১-১৫ দিন), ব্রাহ্মণ পরশুরামের শিষ্য কর্ণ (১৬-১৭ দিন), শল্যের পর আরও এক ব্রাহ্মণ অশ্বত্থামা (১৮ নং দিন দুর্যোধনের পরাজয়ের পর)। যুদ্ধে ধ্বংস হল কারা? ব্রাহ্মণগুরুদের অসামান্য যোদ্ধা শিষ্যরা এবং সেনাবাহিনীতে চাকরিরত সহস্র সহস্র সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এই যুদ্ধ সমাজকে কতটা আঘাত করল? মানুষ দেখল যুদ্ধের নামে বিপুল আর্থিক সম্পদ, মানবসম্পদ, পশুসম্পদের অপচয়। সমাজ বুঝল ক্ষমতাশালী হতে গেলে স্নেহ, মায়া, মমতার বা শ্রদ্ধার সকল সম্পর্ককে প্রথমে হত্যা করতে হয়। স্বজন হারানো, বন্ধু হারানো, গুরু হারানো, শিষ্য হারানো, পিতা হারানো, পুত্র হারানো এই যুদ্ধ থেকে লাভবান হল কারা? কেবলমাত্র ক্ষমতাশালীরা। একদল ক্ষমতাবান যুদ্ধে পরাজিত হলেও তাদের যুদ্ধ করবার বহুদিনের বাসনা চরিতার্থ হল। আর এক দল এই যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করল। যে শিক্ষিত ও শ্রমজীবীরা প্রাণ দিল তারা কী পেল? আবার এক নতুন প্রভু? এত প্রাণ নিজেদের জন্য দিতে পারলে তো নতুন প্রভুর বদলে স্বাধীনতা পাওয়া যেত! তাহলে শুধুমাত্র প্রভু পরিবর্তনের খেলায় কেন এত আত্মাহূতি? এই মানসিকতা সত্যিই অবাক করে।

যদি ৫ম খ্রিস্টপূর্বাব্দকে মহাভারতের মূল কাহিনির সময় কাল ধরে নিই তাহলে দ্রোণ আসলে সেই সময় থেকেই বিকশিত হতে চাওয়া এক প্রবণতার বীজ। দ্রোণ তৎকালীন শিক্ষিত সমাজের অন্তর্নিহিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দ্রোণ মেধাকে ক্ষুধা জয়ের অস্ত্র করেছেন। শিক্ষিত হলেই বিত্তশালী আর ক্ষমতাশালীদের পারিশ্রমিকহীন শিক্ষা প্রদান করতে হবে— সমাজের এই প্রচলিত ধারণার মূলে দ্রোণাচার্য আঘাত করেছেন। আপন যোগ্যতার বলে বলীয়ান হয়ে ক্ষমতাবানেদের থেকে রাজকীয় সম্মান ছিনিয়ে নিয়েছেন। দ্রুপদের মতো ক্ষমতাবানকে পদানত করে শিক্ষিতদের বার্তা দিয়েছেন। এরপরেও বলতে হয় কোথাও যেন প্রতিবাদের ভাষা অসম্পূর্ণ থেকে গেল। প্রশ্ন থেকে গেল অনেক। যে দ্রুপদকে বৃদ্ধ দ্রোণ কুরুক্ষেত্রের মাঠে পরাজিত করতে পারেন সেই দ্রোণের যৌবনে তাঁকে হারাতে কেন ক্ষমতাবান পরিবার থেকে আসা শিষ্যদের প্রয়োজন হল? পাঞ্চাল জয় করেও কেন দ্রুপদকে অর্ধেক রাজ্য ফিরিয়ে দিলেন? কেন একলব্য বা কর্ণকে শিষ্যরূপে গ্রহণ করে মেধাশক্তি ও পেশিশক্তির মধ্যে কৃত্রিম দূরত্ব তৈরির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারলেন না? যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেন দ্রোণ বেতনভোগী কর্মচারীর ভাবমূর্তি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারলেন না? এইরকম বহু প্রশ্ন আসলে এক অনুচ্চারিত, অনালোচিত রহস্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। তবে দ্রোণ যে সমাজের ক্ষমতাশালীদের ত্রাস হয়ে উঠেছিলেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাইতো যুধিষ্ঠিরকে হাতজোড় করে দ্রোণের কাছে তারই মৃত্যুর উপায় জানতে হয়। ধর্মযুদ্ধের নামে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁকে হত্যা করতে হয়। চুলের মুঠি ধরে মুণ্ডু কেটে ক্ষমতাবানেদের দ্রোণের মৃত্যুতে উল্লাস বুঝিয়ে দেয় এই শিক্ষিত লোকটি তাদের কতটা চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে এই প্রসঙ্গে আর একটি কথা না বললেই নয়। শুধুমাত্র ক্ষত্রিয়দের বাহুবলে দ্রোণকে জয় করা অসম্ভব ছিল। রাজশেখর বসুর অনুবাদ অনুসারে (দ্রোণপর্ব, দ্রোণবধপর্বাধ্যায়) পঞ্চদশদিনের যুদ্ধে ভীমের মুখে অশ্বত্থামার মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদে প্ররোচিত না হয়ে দ্রোণ যখন ভয়ঙ্কর যুদ্ধ করছেন তখন বিশ্বামিত্র, গৌতম, ভরদ্বাজ, বশিষ্ঠ প্রমুখ মহর্ষিগণ দ্রোণের নিকট উপস্থিত হলেন (সূক্ষ্মদেহে) এবং জানালেন যে দ্রোণ যেহেতু অধর্মযুদ্ধ করছেন তাই তাঁর মৃত্যু আসন্ন। এইধরনের নেতিবাচক প্ররোচনা একজন যোদ্ধার মানসিক দুর্বলতার জন্য যথেষ্ট। মজার বিষয় হল, এইভাবে দ্রোণের উৎসাহহানি করছেন কিছু ব্রাহ্মণ! তবে কি বিপ্লব করতে চাওয়া শিক্ষিতদের বিরুদ্ধে রক্ষণশীল শিক্ষিতদের লড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতাশালীদের ক্ষমতায় টিকে থাকার গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন দ্রোণাচার্য?যাইহোক না কেন দ্রোণকে যদি এই বিপ্লবের বীজ ধরি তবে অবশ্যই পুষ্যমিত্র সুঙ্গ তার প্রথম পরিণতি এবং পরবর্তী সময়ে কাণ্‌ব, সাতবাহনরা সেই পরিণতির প্রবহমান ধারা। ১৮৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এমনই এক ব্রাহ্মণ সেনাপতি পুষ্যমিত্র সুঙ্গ মৌর্য বংশের শেষ শাসক বৃহদ্রথকে ক্ষমতাচ্যুত করে মগধের সিংহাসনে বসেন। কিংবদন্তির যদি কিছুমাত্রও সত্যি হয় তবে কৌটিল্য নামে এক ব্রাহ্মণের মেধাশক্তিতে ভর করে নীচুতলার প্রতিনিধি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আবার পুষ্যমিত্র নামে এক ব্রাহ্মণের নেতৃত্বে ক্ষমতাবান মৌর্যরা পদানত হল। আসলে শিক্ষিত নেতা আর প্রচুর পেশিশক্তির মিলনের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে যুগান্তকারী বিপ্লবের আগুন। সেই আগুন যেকোনো বিত্তশালীর অর্থের শক্তি বা যেকোনো ক্ষমতাশালীর প্রতিরোধ শক্তিকে নিমেষে গ্রাস করতে পারে। তাই ষড়যন্ত্রীরা যুগ যুগ ধরে কখনও মেধার পক্ষ নিয়ে আবার কখনও পেশির পক্ষ নিয়ে মেধা আর পেশিকে পরস্পরের শত্রু করে রেখেছে। তাই কখনও পেশিশক্তি একত্রিত হলেও নেতার শিক্ষার অভাবে আন্দোলন উদ্দেশ্য হারায়। আবার কখনও নেতা শিক্ষিত হলেও পেশিশক্তি তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। পক্ষপাতহীন সামগ্রিক প্রচেষ্টাই এর সমাধান করতে পারে। নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে, আমাদের এই সঙ্কীর্ণ মানসিকতা কাদের সুবিধা করছে?

 

*****

Read More

Author: Sovon Lal Misra

Religion Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্রোণাচার 16-August-2021 by east is rising

‘মনুবাদ’-এর ভালো-মন্দঃ ‘মনুসংহিতা’-র আলোকে

সমসাময়িক কালে ‘মনুবাদ’ শব্দটি প্রায়শই বিতর্কেরকেন্দ্রবিন্দুতে এসে পড়ছে। একদল ‘মনুবাদ’-এর ‘সব ভালো’ গোছের যুক্তিজাল বিস্তারে সদা সচেষ্ট। আর অপর দলটি স্বাভাবিকভাবেই বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে ‘সব খারাপে’র রোজনামচা আওড়াতে আওড়াতে গাজোয়ারি করেই চলেছেন। একবিংশশতকের যুক্তি ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনায় অতিপক্ষপাত বা বিকট বিরোধিতার আসলে কোনো ভিত্তি নেই। ‘মনুবাদ’ হল প্রকৃতপক্ষে মনুর সমাজদর্শন বা মনু প্রণীত জীবন ও সমাজনীতি। মজার বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একজন নীতিপ্রণেতার নাম খুঁজে পাওয়া বোধ করি সবচেয়ে কঠিনতম কাজ হবে যাঁর প্রণীত নীতি একশ শতাংশ সমাদৃত হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও আর্থিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে সকলের পক্ষে হিতকর ‘সুনীতি’ আজও সোনার পাথরবাটির মতোই অলীক। অতএব, ‘মনুবাদ’ বা মনুর নীতিরও কিছু ইতিবাচক ও কিছু নেতিবাচক দিক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং এটাও কাম্য যে, যখনই ‘মনুবাদ’ সমালোচিত হবে তখনই ভালো-মন্দ মিলিয়ে তার পুরোটা সমালোচিত হবে। কেবলমাত্র ধর্মীয়, দলীয় বা ব্যক্তিস্বার্থে এর ওপর শুধুই নেতি বা শুধুই ইতির বিজ্ঞাপন সেঁটে দেওয়া একেবারেই কাম্য নয়।

‘মনুবাদ’ বুঝতে গেলে মনুর সাথে পরিচিত হওয়া সর্বাগ্রে প্রয়োজন। ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রের ইতিহাসে ধর্মশাস্ত্রকার মনু একটি সর্বপণ্ডিতগ্রাহ্য ও সমাদৃত নাম। তবে মনু ভারতীয় পরম্পরার বহু প্রাচীন ব্যক্তিত্ব। বৈদিকসাহিত্যে মনুর বারংবার স্বপ্রতিভ উপস্থিতি তাঁর প্রতিষ্ঠা, আভিজাত্য ও জনপ্রিয়তাকে সুনির্দিষ্ট করে।বেদে মনু হলেন ‘আদি মানব’ (ঋগ্বেদ ৩/৩৪/৪, ৩/৫৭/৪) অতএব তিনিই ‘আদি পিতা’ (ঋগ্বেদ ১/৮০/২৬, ১/৯৬/২) অর্থাৎ প্রজাবান মনুর লোকবল ছিল সুপ্রচুর। কখনও কখনও তিনি যজ্ঞকর্তা (ঋগ্বেদ ১/৩৬/১০, ৮/৩০/২, ১০/৩৬/১০, ১০/৬৫/১৪ ইত্যাদি) অর্থাৎ মনুর আর্থিক প্রাচুর্যও ছিল অতুলনীয় কারণ যজ্ঞকর্ম ছিল একটি অত্যন্ত ব্যয়বহূল অনুষ্ঠান। আবার ঋগ্বেদের সর্বানুক্রমণী অনুসারে মনু পাঁচটি সূক্তের ঋষি। সুতরাং মনু শ্রেষ্ঠ শিক্ষিতদের একজন। এখন যার কাছে লোকবল, অর্থ এবং বুদ্ধি থাকবে সেই প্রতিপক্ষহীন একাধিপতি হওয়ার প্রয়াস করবে। অগত্যা ঋগ্বেদে (৫/৪৫/৬) মনুই শত্রুবিজেতা যোদ্ধা এবং কৃতযুগের রাজা। এইরূপ শত্রুদলন, বলশালী এবং শিক্ষিত রাজার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকাটাই বিধেয়। তাই তৈত্তিরীয় সংহিতা, ছান্দোগ্য ব্রাহ্মণ ও তাণ্ড্যমহাব্রাহ্মণে মনুর বচন কে ঔষধের ন্যায় কল্যাণকর বলা হয়েছে। এইভাবে বৈদিকসাহিত্যে উল্লিখিত মনুর গুণাবলিকে বাস্তবিক ভঙ্গিমায় সাজিয়ে নিয়ে বিশ্লেষণ করলে ব্যক্তি মনুর মধ্যে শাশ্বত মানবদর্শনের এক সুস্পষ্ট ও সরল চিত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তবে বর্তমানে প্রাপ্ত ‘মনুসংহিতা’ কোন মনু কর্তৃক প্রণীত তা অদ্যাবধি বিতর্কের বিষয়। ‘মনুসংহিতা’-য় (১/৬১-৬৩) সাত জন মনুর উল্লেখ আছে। এঁরা হলেন- স্বায়ম্ভুব, স্বারোচিষ, ঔত্তমি, তামস, রৈবত, চাক্ষুষ ও বৈবস্বত। যদিও শাস্ত্রপরম্পরা আরও সাত জন মনুর কথা বলে। এই সাত জন হলেন- সাবর্ণি, দক্ষসাবর্ণি, ব্রহ্মসাবর্ণি, ধর্মসাবর্ণি, রুদ্রসাবর্ণি, দেবসাবর্ণি ও ইন্দ্রসাবর্ণি। প্রত্যেক মনুর সময়কালকে ‘মন্বন্তর’বলে। অতএব মোট চোদ্দো জন মনুর মধ্যে কোন মনুর সময়ে এই মহৎ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল তা নিশ্চিত করা খুব কঠিন। এই চোদ্দো জন ছাড়াও ‘যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা’-র টীকাকার অপরার্ক ও বিজ্ঞানেশ্বর ‘বৃদ্ধমনু’ এবং ‘বৃহন্মনু’ কর্তৃক রচিত শ্লোকের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আবার ‘মনুসংহিতা’-র ভাষ্যকার মেধাতিথি ও টীকাকার গোবিন্দরাজ মনুর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, মনু এমন একজন পুরুষ যিনি বিভিন্ন বেদশাখা অধ্যয়ন ও জ্ঞান করেছিলেন, বেদবিহিত সকল কর্মের অনুষ্ঠান করতেন। যদিও একদল পণ্ডিত শাস্ত্রীয় কয়েকটি প্রমাণের ওপর নির্ভর করে স্বায়ম্ভুব মনুকেই প্রাচীনতম মনু ও ‘মনুসংহিতা’-র রচয়িতা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও তা মেনে নেওয়া কঠিন। কারণ এই সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই অনুমান নির্ভর। বৈদিক মনুকেও এর রচয়িতা মেনে নেওয়া কঠিন যেহেতু এই দুই সাহিত্যের কালের ব্যবধান বিস্তর। এককথায়, মনু কোনো ব্যক্তি নাম না গোত্র নাম তা নির্ণয় যেমন কঠিন ‘মনুসংহিতা’-র গ্রন্থ কর্তৃত্ব নির্ণয়ও ততটাই কষ্টসাধ্য।

বর্তমানে প্রাপ্ত ‘মনুসংহিতা’ নামক যে গ্রন্থটির ওপর ভিত্তি করে মনু বা তাঁর নীতি সমালোচিত হয়, সেটি ১২টি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং ২৬৮৫ শ্লোক সমন্বিততবে গ্রন্থটির উৎস বিষয়ে বিভিন্ন কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ‘মহাভারত’ অনুসারে (শান্তিপর্ব, ৩৩৬/৩৮-৪৬) পুরুষোত্তম স্বয়ং ভগবান লোকহিতার্থে ধর্মবিষয়ক এক লক্ষ শ্লোক রচনা করেন যা মনু কর্তৃক প্রজাগণের মধ্যে প্রচারিত হয়েছিল। উশনা ও বৃহস্পতি মনুর নিকটে ধর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান করেন এবং নিজ নিজ গ্রন্থ রচনা করেন। ‘নারদস্মৃতি’আবার বলছেন, মানবসমাজের কল্যাণার্থে মনু ২৪টি প্রকরণে এক লক্ষ শ্লোকে এক সুবৃহৎ ধর্মশাস্ত্র রচনা করে নারদকে দান করেন। নারদ বারো হাজার শ্লোকে তার সংক্ষেপ করে মার্কণ্ডেয়কে শিক্ষা দেন। মার্কণ্ডেয় আবার আট হাজার শ্লোকে তার সংক্ষেপ করে ভৃগুপুত্র সুমতিকে শিক্ষা দেন। সুমতি সেই শাস্ত্রকে মাত্র চার হাজার শ্লোকে সংক্ষেপ করে উপস্থাপিত করেন। বর্ণিত এই কাহিনিগুলির সত্যাসত্য এখানে বিচার্য নয়। লক্ষ্যণীয় হল,  পরম্পরাক্রমে বিষয়সংক্ষেপের মারাত্মক প্রবণতা। আর সংক্ষেপের মানসিকতায় কোনো শাস্ত্র পুনঃ পুনঃ সম্পাদিত হলে মূল বক্তব্যবিষয় থেকে বা মূলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তার বিচ্যূতি যে কতটা স্বাভাবিক তা ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। এখানে আরও একটি বিষয় অবশ্য উল্লেখ্য, ‘মনুসংহিতা’-তেই বলা হয়েছে যে সৃষ্টির আদিতে ব্রহ্মা ধর্মবিষয়ক এই শাস্ত্র প্রস্তুত করে মনুকে যথাবিধি অধ্যয়ন করিয়েছিলেন। অধিগতশাস্ত্র মনু মরীচি প্রমুখ মুনিগণকে সেই শাস্ত্র অধ্যয়ন করান। তন্মধ্যে ভৃগুকে মনু মহর্ষিগণের সমীপে এই শাস্ত্র আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যানের নির্দেশ দেন। মনু কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে ভৃগু যা উপস্থাপিত করেন তাই হল ‘মনুসংহিতা’। অর্থাৎ আমাদের হাতে যে ‘মনুসংহিতা’ রয়েছে তা স্বয়ং মনুর দ্বারা উচ্চারিত, কথিত বা লিখিত নয়। আর একজনের মতামত যখন অপর একজনের দ্বারা ব্যাখ্যাত হয় তখন মূল বক্তার বক্তব্য বিকৃতঅথবাসুগঠিতহতেই পারে। আবার ব্যাখ্যাতার নিজের বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের দ্বারাও তা প্রভাবিত হতে পারে। এককথায়, মূল বক্তার প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণে সমালোচকগণের বিচারভ্রান্তি খুবই স্বাভাবিক। অতএব, ভৃগু প্রোক্ত এই ‘মনুসংহিতা’-র নিরিখে যখনই ‘মনুবাদ’ সমালোচিত হবে তখনই উক্ত অতিবাস্তব বিষয়টির দিকে নজর রাখতে হবে।

আলোচ্য ‘মনুসংহিতা’-য় পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তও নেহাত কম নয়। যেমন- ৩/১২-১৩ শ্লোকে ‘অনুলোম বিবাহ’-কে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দ্বিজাতিগণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য) অর্থাৎ উচ্চবর্ণের পুরুষের সাথে নীচবর্ণের কন্যার বিবাহকে স্বীকৃতি দেওয়া হল। কিন্তু এর ঠিক পরেই ৩/১৪-১৫ শ্লোকে পূর্ব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলা হল যে ইতিহাস বিপৎকালেও দ্বিজাতি কর্তৃক নীচবর্ণের স্ত্রী গ্রহণের উপদেশ দেয় না। ‘অনুলোম বিবাহ’-এর ফলে দ্বিজাতি শূদ্রত্ব প্রাপ্ত হয় বা বংশগৌরব হারিয়ে ফেলে। এখন প্রথম সিদ্ধান্তটিকে হাতিয়ার করে একদল মনুকে আধুনিক ও উদার প্রমাণে ব্যস্ত। দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটিকে প্রাধান্য দিয়ে আরেক দল মনুর কট্টর বিরোধিতা করছেন। দুটোই স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্ববিরোধিতা আবারও বেশ কয়েকটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্নরেখে গেল। বর্তমান ‘মনুসংহিতা’ কি আদৌ পুরোটা মনুর মতামত বা সেটি কি আদৌ আদ্যোপান্ত ভৃগু প্রোক্ত? না কীসময়ে সময়ে সুযোগসন্ধানী সুবিধাভোগীরা নিজেদের স্বার্থ মতো মূল গ্রন্থটিকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজনের মাধ্যমে আজকের চেহারা দিয়েছে? না কী মনু তাঁর প্রথম সিদ্ধান্তের দ্বারা তৎকালীন সমাজের প্রচলিত ধ্যানধারণার মূলে কুঠারাঘাত করতে চেয়েও কোনো বিশেষ শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে নিজ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন? এই সবই গভীর ও গম্ভীর গবেষণার বিষয়। তাই সমালোচকগণের উচিত রাগদ্বেষাদিবর্জিত নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে সমসাময়িক ইতিহাসের ভিত্তিভূমিতে দাঁড়িয়ে ‘মনুসংহিতা’ নামক গ্রন্থটির বা ‘মনুবাদ’ নামক নীতিটির বিচার বিমর্শ করা। তা না হলে গ্রন্থটির বা নীতিটির সঠিক তত্ত্বনিষ্ঠ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।

ভারতীয় ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো রচনা, ঘটনা বা ব্যক্তির সময় নির্ধারণ অত্যন্ত দুরূহ কারণ আমাদের পূর্বপুরুষগণের ইতিহাসের প্রতি অনীহা এবং আত্মশ্লাঘাদোষদুষ্ট হওয়ার অযথা ভীতি। ‘মনুসংহিতা’-ও তার ব্যতিক্রম নয়। অগত্যা অন্যান্য শাস্ত্রে উল্লিখিত মনু ও ‘মনুসংহিতা’ বিষয়ক তথ্যগুলির পৌর্বাপর্য বিচার করে এবং এই গ্রন্থে পরিবেষিত (মনুসংহিতা, ১০/৪৪) পৌণ্ড্রক, উড্র, দ্রাবিড়, কাম্বোজ, যবন, শাক, পারদ, পহ্লব, চীন, কিরাত, দরদ ও খশ- এই জাতিগুলির ইতিহাস বিচার করে পণ্ডিতগণ ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দ এই সুদীর্ঘ সময়কে এর রচনাকাল হিসেবে নির্দেশ করেছেন। আধুনিক গবেষকগণ অবশ্য এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে গ্রন্থটিকে আরও আধুনিক রচনা বলে সিদ্ধান্ত করে ০-২০০ খ্রিস্টাব্দ সময়কে এর রচনাকাল হিসেবে নির্দেশ করেছেন

এখন নির্বাচিত কয়েকটি বিষয়ে ‘মনুসংহিতা’-তে উপদিষ্ট নির্দেশিকাগুলির তুল্যমূল্য আলোচনা করা যাক। মনু সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়ে চলেছেন যে দুটি নীতির জন্য তাদের মধ্যে একটি হল ব্রাহ্মণতোষণ। ব্রাহ্মণ্যস্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখার নির্লজ্জ প্রয়াস ‘মনুসংহিতা’-তে সুপ্রচুর। মনু গুণ ও কর্মের নিরিখে যেকোনো বর্ণের শ্রেষ্ঠত্ব ও নিকৃষ্টত্বর কথা বললেও ব্রাহ্মণকে জন্ম মাত্রই শ্রেষ্ঠ বলেছেন (মনুসংহিতা, ১/৯৯)। ব্রাহ্মণ যদি অপরের অর্থ গ্রহণ করেন, অন্যের অন্ন ভোজন করেন, পরের বসন পরিধানও করেন তাতেও তাঁর কোনো অন্যায় হয় না যেহেতু এই জগতে যত ধনসম্পত্তি আছে তা সবই ব্রাহ্মণের নিজ ধনের তুল্য (মনুসংহিতা, ১/১০০-১০১)। আসলে যারা লোভী ও পরশ্রীকাতর ব্রাহ্মণ তাদের স্বার্থ ও সামাজিক অবস্থান সুরক্ষিত করা হল। 

২/১৩৫ শ্লোকে বলা হয়েছে, একশবছর বয়স্ক একজন ক্ষত্রিয় দশবছর বয়স্ক একজন ব্রাহ্মণের প্রতিও পিতার মতো আচরণ করবে। অতএব বাকি বৈশ্য ও শূদ্রের কথা বলাই বাহুল্য। এতে করে ব্রাহ্মণের প্রতি বাকি তিন বর্ণের আনুগত্য যেমন প্রতিষ্ঠিত হল তেমনি শাসনযন্ত্রের যারা নিয়ন্ত্রক সেই ক্ষত্রিয়দের বদান্যতাও আদায় করা গেল

রাজতান্ত্রিক শাসন পরিকাঠামোতে যুদ্ধবিগ্রহ নিতান্তই স্বাভাবিক ব্যাপার। সুতরাং তৎসম্পর্কিত বিচার পরামর্শ ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সঠিক মন্ত্রণার দ্বারা স্থিরিকৃত যুদ্ধ বা সন্ধিনীতির ওপর নির্ভর করে সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও বিস্তার। এক্ষেত্রেও মনু ব্রাহ্মণের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছেন। সন্ধি-বিগ্রহাদির বিষয়ে রাজা অন্যান্য মন্ত্রীগণের অভিপ্রায় জানার পর সবশেষে বিশিষ্ট ধার্মিক বিদ্বান ব্রাহ্মণের সঙ্গেই তিনি গোপনে মন্ত্রণা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন (মনুসংহিতা, ৭/৫৭-৫৯)। বিচার ব্যবস্থাতেও ব্রাহ্মণের প্রায় একই রকম প্রাধান্য লক্ষণীয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের পরিচালন ক্ষমতা ঘুরপথে কিছু ব্রাহ্মণের করায়ত্ত ছিল।

ব্রাহ্মণ কোনো গুপ্তধন লাভ করলে পুরোটাই তার নিজের হত। কিন্তু রাজাও যদি গুপ্তধন পান তবে তার অর্ধেক ব্রাহ্মণের প্রাপ্তি ছিল (মনুসংহিতা, ৮/৩৭-৩৮)। ব্রাহ্মণের আর্থিক স্বাধীনতার একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

শাস্তির ক্ষেত্রেও আজব বৈষম্য। মনু ব্রাহ্মণের জন্য যতটা সম্ভব লঘু দণ্ডের বিধান দিয়েছেন। তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের কোনো বিধান নেই। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনাই ব্রাহ্মণদের প্রধান ও একমাত্র কাজ। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ সমাজের সবচেয়ে শিক্ষিত শ্রেণি। আর সমাজের শিক্ষিতরাই পথপ্রদর্শক হন। উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির মতাদর্শ ও জীবনদর্শন সমাজের একটি বৃহত্তর অংশে প্রভাব ফেলে। যেকোনো সময়ের জন্য একথা প্রাসঙ্গিক। অথচ মনু এই শ্রেণিটির জন্যই পাইয়ে দেওয়ার নীতি প্রণয়ন করেছেন। একজন সামাজিক নীতিনির্ধারকের কাছে এইরকম বিশেষ একটি শ্রেণির তোষণ ও পোষণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অতএব ‘মনুবাদ’-এর সমালোচনা কাঙ্ক্ষিত। এই প্রসঙ্গে অধিককথন নিষ্প্রয়োজন। সাম্প্রতিককালে ‘মনুবাদ’ আর ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’-এর উৎকট বিরোধিতার দৌলতে প্রায় সকলেই এই বিষয়ে অল্পবিস্তর অবহিত আছেন।

এবার আসি মুদ্রার অন্য পিঠের গল্পে। আচ্ছা কোনো একজন তথাকথিত ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’ বিরোধী বলতে পারেন, ভারতবর্ষের গল্পসাহিত্যেও ব্রাহ্মণরাই কেন দরিদ্র আর লোভী হয়? গল্পে গোরুও গাছে উঠতে পারে কিন্তু ব্রাহ্মণের অভাব কখনও ঘোঁচে না। চাল কলার প্রত্যাশা তার থেকেই যায়। এর কারণ হল ব্রাহ্মণের বৃত্তির অভাব। মনু ব্রাহ্মণের কাজ নির্দেশ করেছেন- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা, যজন, যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ (মনুসংহিতা, ১/৮৮)‘মনুসংহিতা’-রও কমপক্ষে ২০০ বছর আগে কৌটিল্যও ব্রাহ্মণদের প্রায় একই কাজ নির্দেশ করেছেন(কৌটিলীয় অর্থশাস্ত্র, ১/৩/১)। অর্থাৎ সভ্যতার সূচনালগ্নের কিছুটা পর থেকেই ব্রাহ্মণদের আয়ের উৎস হল অধ্যাপনা ও যাজন। তবে সকল ব্রাহ্মণ অধ্যাপনা করবার মতো বিদ্বান হতেন না। ফলে রাজার পুত্রদের পড়ানোর মতো লোভনীয় পদ ব্রাহ্মণ মাত্রই পেতেন না। আবার রাজপরিবার বা শাসনযন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত মুষ্টিমেয় ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়গণ কর্তৃক প্রণীত নিয়মের বেড়াজালে পড়ে শূদ্ররা অর্থাৎ সমাজের বেশিরভাগ মানুষ শিক্ষালাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এরফলে ছাত্র সংখ্যাও ছিল সীমিত। অতএব অধ্যাপনা সকল ব্রাহ্মণের বৃত্তি হতে পারেনি। আরও মজার ব্যাপার হল, যে অধ্যাপক বেতন নিয়ে অধ্যাপনা করতেন তিনি নিন্দিত ও নিকৃষ্ট বলে বর্ণিত হয়েছেন (মনুসংহিতা, ৩/১৫৬)হাতে রইল যাজন। প্রাসঙ্গিক কারণেই যজ্ঞপদ্ধতি ও আড়ম্বর বাড়তে থাকে এবং ছলে-বলে-কৌশলে সকল স্তরের মানুষের ওপর যজ্ঞ করবার বিধান চাপিয়ে দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু এতেও সমাজের সকল ব্রাহ্মণের জীবিকা সুনিশ্চিত হয়নি। কারণ পৌরোহিত্য করবার মতো শাস্ত্রজ্ঞান বা গ্রহণযোগ্যতা সকল ব্রাহ্মণের ছিলনা। অগত্যা বিকল্প বৃত্তির সন্ধান। পড়ে রয়েছে প্রতিগ্রহ অর্থাৎ অন্যে দান করলে তার গ্রহণ। কিন্তু দান মানুষের ইচ্ছাধীন। আবার শাস্ত্রনির্দিষ্ট জীবিকার অন্য পথও আর নেই। স্বাভাবিকভাবেই ব্রাহ্মণকে দান যে কতটা পুণ্যের তার প্রচার শুরু হল। সুনির্দিষ্ট জীবিকার অভাবে আপামর ব্রাহ্মণের ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করবার এই সকল অন্যায় আবদারে নাজেহাল সমাজের কাছে ব্রাহ্মণমাত্রেরই ভাবমূর্তি নষ্ট হতে থাকে।

অথচ বাকি তিন বর্ণের সুনির্দিষ্ট জীবিকা ছিল। ক্ষত্রিয়গণের হাতে ছিল রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ও ঐশ্বর্য। বৈশ্যগণের কৃষি, পশুপালন ও বাণিজ্য ছিল ভীষণ অর্থকরী জীবিকা।‘মনুসংহিতা’ রচনার সময়ে কৃষিই ছিল আর্থ-সামাজিক ভিত্তি। আবার ঐ সময়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক আদানপ্রদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। অর্থাৎ মনুর ব্যবস্থিত বৃত্তির সুবাদে বৈশ্যরা ছিল স্বচ্ছল। শূদ্রদের প্রতি মনুর দৃষ্টিভঙ্গি বেশ বিতর্কিত। তাহলেও তাদের জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থাপনাতে মনু কোনো কার্পণ্য করেননি। দ্বিজাতি সেবার পাশাপাশি শূদ্রদের কারুকর্ম ও শিল্পকর্মের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (মনুসংহিতা, ১০/১০০)। সমসাময়িক ইতিহাস বহুপ্রকার নতুন নতুন শিল্পকর্মের কথা বলে। যেমন- ‘বসকার’ (বাঁশের কারিগর), ‘কোনাচিক’ (কঞ্চির কারিগর), ‘মালাকার’ (মালা গাঁথা ও বাগানের পরিচর্যা করা), ‘সোবাসক’ বা ‘গধিক’ (সুগন্ধী প্রস্তুতকারক), ‘দন্তকার’ (গজদন্তশিল্পী), ‘সুবর্ণকার’ (স্বর্ণশিল্পী), ‘মণিকার’ (মূল্যবান পাথর দিয়ে অলংকার প্রস্তুতকারক), ‘রঙ্গকার’ (কাপড় রঙ করবার কারিগর) ইত্যাদি। অর্থাৎ ঐ সময়ে শূদ্রদেরও বহু জীবিকা ছিল। শুধু তাই নয়, ভৃত্যরূপ শূদ্রের ভালোভাবে দিনযাপনের জন্য তার কর্মনৈপুণ্য ও পরিবারের সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে বেতন ব্যবস্থার কথাও মনু বলেছেন (মনুসংহিতা, ১০/১২৪)।

কিন্তু অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত ব্রাহ্মণের জীবিকার উপায় মনু স্পষ্ট করেননি। বৃত্তির অভাবে সিংহভাগ ব্রাহ্মণ বর্ণব্যবস্থার গণ্ডিকে অতিক্রম করতে চেয়েছেন। তাঁদের ক্ষুন্নিবারণের প্রচেষ্টাও সমালোচিত হয়েছে। বর্ণব্যবস্থার বিপরীতে গিয়ে যাঁরা অন্যান্য কাজকে জীবিকা করেছেন মনু তাঁদের সরাসরি নিন্দা করে তাঁদেরকে নিকৃষ্ট শ্রেণির বলেছেন (মনুসংহিতা, ৩/১৫০-১৬৬)। যেমন- ‘স্তেন’ অর্থাৎ যে ব্রাহ্মণ চোর। তাহলে জীবিকার তাড়নায় ব্রাহ্মণেরা চৌর্যবৃত্তিও গ্রহণ করেছিল। ‘নাস্তিকবৃত্তি’- পরলোক ইত্যাদি আস্তিক সিদ্ধান্ত মানতেন না এমন ব্রাহ্মণ। অর্থাৎ সকল ব্রাহ্মণ ধর্মান্ধ বা গোঁড়া ছিলেননা‘অনধীয়ান’- যিনি বেদাধ্যয়ন করেননি বা অধ্যয়ন করলেও তা আয়ত্ত করতে পারেননিতাহলে সব ব্রাহ্মণ বেদ পড়তেন এ ধারণা ভুলকারণ বেদ পড়লেই অধ্যাপনার মতো যোগ্যতা অর্জন সবার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। যে ব্রাহ্মণ বহুলোকের হয়ে যাজন করে সেও নিন্দিতযে যাজন বেশকিছু ব্রাহ্মণের অন্নের ব্যবস্থা করছিল তাতেও বাধা পড়ল। অর্থাৎ অনেকের পৌরোহিত্য করে বেশি উপার্জনের পথও সম্ভবত বন্ধ ছিল‘চিকিৎসক’- যে ব্রাহ্মণ বৈদ্য বা ওষুধবিক্রয়কারী। চিকিৎসা সকলের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিষয় হলেও, সমাজের তাতে উপকার হলেও যেহেতু একজন ব্রাহ্মণ সেখানে উপার্জনের চেষ্টা করছে কেবল সেই কারণেই তারা শাস্ত্রকার কর্তৃক সমালোচিত। ‘মাংসবিক্রয়ী’- যে ব্রাহ্মণেরা মাংস বিক্রয় করেন। সহজেই অনুমেয় সেই ব্রাহ্মণেরা সমাজে কিরকম বিদ্রুপের সম্মুখীন হতেন। ‘বিপণন’- যে ব্রাহ্মণ নিষিদ্ধ পণ্য দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করতেন। অর্থাৎ জীবিকার অভাব অনেক ব্রাহ্মণকেই গর্হিত কর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করত।‘পশুপাল’- যে ব্রাহ্মণ জীবিকার কারণে বিভিন্ন পশুপালন করতেন। ‘গণাভ্যন্তর’- যে ব্রাহ্মণ মঠাদিতে প্রদত্ত জনসাধারণের অর্থে জীবনধারণ করে। তাহলে কি মন্দিরে দান বাবদ প্রাপ্ত অর্থের অধিকারও সাধারণ ব্রাহ্মণগণের ছিলনা? যদি তা সত্যি হয় তাহলে ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’-এর নামে গুটিকয়েক ক্ষমতাভোগকারী ব্রাহ্মণের জন্য জীবনসংগ্রামে লড়াই করে যাওয়া অধিকাংশ ব্রাহ্মণের ভাবমূর্তির অপব্যাখ্যা হচ্ছে।‘কুশীলব’- অভিনয়ের মাধ্যমে উপার্জন। কিছুদিন আগে পর্যন্তও এই জীবিকা সমাজে সমালোচিত হত। অতএব সেই সময়ের ব্রাহ্মণগণ কী  পরিমাণ নিরুপায় ছিলেন তা বুঝতে অধিক বেগ পেতে হয় না। ‘বৃষলীপতি’- যে ব্রাহ্মণ শূদ্রা নারীকে বিবাহ করেছেন। ব্রাহ্মণবিরোধীরা যতই অস্পৃশ্যতার গল্প শোনান না কেন, উল্টো ছবিও যে ছিল তা অস্বীকার করতে পারবেন না। সাধারণ ব্রাহ্মণদের মধ্যে শূদ্রা বিবাহের উদারতা ও সাহস ছিল। ‘শূদ্রশিষ্যো গুরুশ্চৈব’- যিনি শূদ্রের কাছে অধ্যয়ন করেন এবং শূদ্রকে অধ্যয়ন করান। বিষয়টি বেশ চিত্তাকর্ষক। তাহলে শূদ্র মাত্রই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন না। অনেকে অধ্যাপনার মতো ব্যুৎপত্তিও লাভ করতেন। আর সব শিক্ষিত ব্রাহ্মণই শূদ্রবিরোধী ছিলেন না। নতুবা শূদ্রকে অধ্যয়ন করাতেন না। তাহলে কি শূদ্র জাগরণের বীজ ব্রাহ্মণগণের হাতেই বপিত হয়েছে? ‘সোমবিক্রয়ী’- ঔষধের জন্য বা যাগের জন্য যে ব্রাহ্মণ সোমলতা বিক্রয় করেন। তাহলে শুধু শূদ্র কেন, ক্ষমতা বা অর্থহীন ব্রাহ্মণেরও সোমপানের অধিকার ছিলনা। ‘তৈলিক”- তেলি। আসলে নির্দিষ্ট সুনিশ্চিত উপার্জনের উপায়ের অভাবে ব্রাহ্মণরা যুগে যুগে জর্জরিত। বিচিত্র জীবিকাতেও যথেষ্ট আয়ের অভাবেই ব্রাহ্মণ দরিদ্র। আর চাওয়া পাওয়ার সাংসারিক জালে আবদ্ধ দরিদ্র ব্রাহ্মণ স্বাভাবিক নিয়মেই লোভী। সেই লোভ পূরণের বাসনায় ব্রাহ্মণ কখনও ধূর্ত আবার কখনও কপট।

‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’-এর বিরোধীগণ বলবেন এগুলি কয়েকটি ব্যতিক্রম মাত্র। ব্যতিক্রমকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে যা প্রমাণের চেষ্টা চলছে তা নিরেট মিথ্যা। এঁনাদের এঁদের পরিচিত ভাষাতেই উত্তর দিতে চাইছি। বর্তমানে গণতন্ত্রের সুবাদে এবং সুসংবদ্ধ সংবিধানের আশীর্বাদে সকল জাতির স্বার্থ বেশ সুরক্ষিত। তবুও মাঝেমধ্যেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাংবিধানিক নিয়ম লঙ্ঘন করে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া কোনো জাতির মানুষের ওপর যে কারণেই হিংসা করুক না কেন তা জাতিবিদ্বেষ হিসেবেই বিবেচিত হয়। কখনোই সেটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বিচার করা হয় না। দুর্বৃত্ত যে জাতিরই হোক না কেন অবশ্যম্ভাবীরূপে ব্রাহ্মণ সমালোচিত হন। কিন্তু কোনো ব্রাহ্মণ যখন অন্য জাতিতে বিবাহ করছেন, অন্য জাতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করছেন, তাদের বাড়িতে অন্ন গ্রহণ করছেন, অধ্যাপনা বা পৌরহিত্য ছাড়া অন্য কাজ করছেন তখন কেন তাঁরা প্রশংসিত হচ্ছেন না? অথচ আজকের সমাজে এটাই নিত্যদিন ঘটে চলেছে। আজকের ব্যতিক্রমী ঘটনার ওপর ভিত্তি করে যদি ব্রাহ্মণ সমালোচিত হতে পারেন তবেমনুরসময়েরঐ ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্য তাঁদের প্রশংসাতে দোষ হবে কেন?  বাস্তব চিত্র আরও কঠিন। যদি কোনো ব্রাহ্মণ অন্য জাতিতে বিবাহ করেন তবে কোন যাদুমন্ত্রে জানিনা অন্য জাতির লোকেরাই তাঁদের কোনো রকম পৌরোহিত্যকর্মে ঐ ব্রাহ্মণকে আর আমন্ত্রণ করেন না। তখনও কিন্তু কোনো বিরোধীই উচ্চবাচ্য করেন না। তাহলে কি কেবলমাত্র বিরোধিতার জন্যই ব্রাহ্মণ বিরোধিতা চলছে? ভেবে দেখবার সময় হয়েছে।  

এতো গেল সামাজিক পরিস্থিতি ও মানসিকতার কথাসমসাময়িক ইতিহাসের দিকে নজর দেওয়া যাক। ১৮৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ মৌর্যবংশের শেষ শাসক বৃহদ্রথকে ক্ষমতাচ্যূত করে মগধের সিংহাসনে বসেনবিভিন্ন তথ্যসূত্রে পুষ্যমিত্র ব্রাহ্মণ হিসেবেই বর্ণিতসুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত আয় সহায়ক বৃত্তির অভাবই ব্রাহ্মণ পুষ্যমিত্রকে ক্ষাত্রবৃত্তি গ্রহণে বাধ্য করেছিল কীনা সে প্রশ্ন আবারও রইলযাই হোক না কেন, পূর্বে আলোচিত সিদ্ধান্ত অনুসারে পুষ্যমিত্র শুঙ্গের সিংহাসনে আরোহণের সময়েই আসলেমনুসংহিতারচনা শুরু হয়েছিলআবার পৌরাণিক সাক্ষ্য মেনে নিলে দশজন শুঙ্গ শাসক মোট একশ বারো বছর ক্ষমতায় ছিলেনঅর্থাৎ প্রায় ৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত শুঙ্গদের শাসন স্থায়ী ছিলসুদীর্ঘ এই ব্রাহ্মণ বংশীয় শাসনের আবহের চিত কোনো সামাজিক নীতিনির্ধারক গ্রন্থে ব্রাহ্মণদের সামাজিক স্বার্থ বিশেষভাবে সুরক্ষিত হবে-

এটাই স্বাভাবিককারণ প্রাচীন ভারতের প্রায় কোনো রচনাই রাজশক্তির প্রভাবকে অতিক্রম করতে পারেনি

লক্ষ্য করলে আরও দেখা যাবে, ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ৫০০ বছরে ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তর অংশে কোনো বড় রাজশক্তি দীর্ঘকাল শাসন করতে পারেনিএই সময়ে যে বিভিন্ন শক্তি ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজত্ব করছিল তাদের মধ্যে গ্রিক, শক, ইউয়ে-ঝি ইত্যাদির মতো মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়া থেকে আগত গোষ্ঠীগুলিও ছিলতলিয়ে দেখলে দেখা যাবে শুধু বৈদেশিক শক্তি কেন, অন্যান্য শাসক শক্তিগুলির বেশির ভাগই তথাকথিত বৈদিক পরম্পরার প্রতি আকর্ষিত হননি বা সেসম্পর্কে উদাসীন ছিলেনহয়তো তাঁরা বৈদিক বিশ্বাসের বিরোধিতা করেননিকিন্তু রাজশক্তির আগ্রহের বিষয়না হওয়ায় তার প্রচারও প্রসার মন্দীভূত হতে থাকেবৌদ্ধ বা জৈনরা যে ধরণের রাজানুকূল্য পেতে থাকেন, বেদপন্থীরা তা থেকে বঞ্চিত হতে থাকেনএরও আগে অর্থাৎ মৌর্যযুগেও বৈদিকেতর ধর্মই রাজপৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছেফলে আলোচ্য যুগে হয়তো বৈদিক পরম্পরার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের একটা প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিলসেই কারণেই হয়তো দীর্ঘ মৌর্যযুগেও যার অস্তিত্ব বিরল সেই অশ্বমেধ যজ্ঞের মতো রাজনৈতিক গুরুত্বযুক্ত অথচ বৈদিক যজ্ঞের উল্লেখ শুঙ্গদের আমল থেকেই দেখতে পাইপুষ্যমিত্র শুঙ্গের ষষ্ঠ অধস্তন পুরুষ যিনি অযোধ্যা অঞ্চলের শাসক সেই ধনদেব জানিয়েছেন যে পুষ্যমিত্র দুটি অশ্বমেধ যজ্ঞকারীবৈদিক ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাসকে সমাজে আবার একবার প্রতিষ্ঠিত করবার প্রচেষ্টা খুব সম্ভবত শুরু হয়েছিলবোধকরি এইরকম আবহে এবং উদ্দেশ্যেমনুসংহিতা’-র মতো স্মৃতি গ্রন্থের আত্মপ্রকাশফলতসেখানেবর্ণব্যবস্থায় ব্রাহ্মণের সর্বোচ্চ স্থান ভীষণ স্বাভাবিক।বৈদিকব্যবস্থাপনাকে অলঙ্ঘ্য ও অবশ্যপালনীয় করবার প্রয়াস স্বরূপ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গৃহীত নীতিগুলি ক্রমশ জটিল, সম্প্রদায়স্বার্থনির্ভর, পক্ষপাতদুষ্ট ও অমানবিক হয়েছে।

অপর যে কারণের জন্য মনু বারেবারে সমালোচিত হচ্ছেন সেটি হল নারী জাতির প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতবে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে মনুর নারীদের জন্য গৃহীত নীতিগুলিতে বিতর্কের অবকাশ থেকে যায়নারীবাদীরা অবশ্য আলোচ্য বিষয়ে প্রায় প্রতিনিয়তই বিচার, বিমর্শ, তর্জমা করেই চলেছেনতবুও কয়েকটি বিষয় এখানে আলোচিত হবে

মনুতাঁরমনুসংহিতাগ্রন্থে সমাজের প্রত্যেকের অধিকার সুনিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব পালনে প্রয়াসী হয়েছেনআবার সৃষ্টির শুরু থেকেই পুরুষ ও নারী- এই দুটিই সমাজের একমাত্র এবং অকৃত্রিম এককঅথচ নারী-পুরুষের সমন্বয়ে সৃষ্ট সমাজের নীতি নির্ধারণে মনু নারীর স্বাতন্ত্র্য হরণের কথা বললেনঅস্বতন্ত্রাঃস্ত্রিয়ঃকার্যাঃ…’ (মনুসংহিতা, /) অর্থাৎ দিনে বা রাতে, ধর্মাচরণে বা আন্যান্য বিষয়ে নারীকে স্বাতন্ত্র্য প্রদান পুরুষের অনুচিত ‘…নস্ত্রীস্বাতন্ত্র্যমর্হতি’ (মনুসংহিতা, /)–স্ত্রীরা স্বাধীনতা পাওয়ার যোগ্য নয়কুমারী অবস্থায় পিতা, যৌবনে স্বামী এবং বৃদ্ধাবস্থায় পুত্র স্ত্রীজাতিকে রক্ষা করবে ‘…নভজেৎ স্ত্রী স্বতন্ত্রতাম্‌’ (মনুসংহিতা, ৫/১৪৮) এখানেও নারীর স্বাধীনতা হরণেরই নির্দেশ। অথচ বিগত কয়েক শতাব্দীর পৃথিবীর ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখা যাবে, যে দেশের নারীশক্তির স্বার্থক অগ্রগতি যত বেশি সে দেশের বিকাশের হারও ততটাই উঁচুর দিকে। একজন নীতিপ্রণেতা কী করে লিঙ্গবৈষম্যের বীজ বপন করতে পারেন! সমাজে শুধু পুরুষের উন্নতি হলে বা কেবলমাত্র পুরুষের অস্তিত্ব বজায় থাকলে আদৌ সমাজ বা সভ্যতার অস্তিত্ব থাকবে তো! তাই মনুর এই ধরনের বক্তব্যগুলি বিস্ময়কর।

মনুর মতে বিবাহ ও সন্তান উৎপাদনই নারীদের মূল কর্ম। বিবাহ ও গর্ভধারণের মধ্যেই নারীত্বের স্বার্থকতা। যেহেতু গর্ভধারণের জন্যই নারীর সৃষ্টি (মনুসংহিতা, ৯/৯৬)। কেবলমাত্র সন্তান উৎপাদনের জন্য ‘নিয়োগপ্রথা’-র মতো ঘৃণ্য ব্যবস্থাতেও মনুর সম্মতি লক্ষ্যণীয়। কোনো ব্যক্তি অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তার স্ত্রী গুরুজনদের দ্বারা নিযুক্ত হয়ে সগোত্রীয় কোনো পুরুষের দ্বারা পুত্র উৎপাদন করবে (মনুসংহিতা, ৯/১৯০)। উল্লেখ্য, শুধু সন্তান নয় বরং পুত্র সন্তান উৎপাদনেই বার বার জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মনু বাল্যবিবাহকে অনুমোদন দিয়েছেন (মনুসংহিতা, ৯/৯৪)। নারী মাত্রই স্খলিত ও দূষিত চরিত্র তা প্রমাণে বহুবার প্রয়াস করেছেন। স্ত্রীলোকেরা পুরুষ মাত্রই আসক্ত হয় এবং সেক্ষেত্রে পুরুষের বয়স বা রূপ কোনোটাই বিবেচ্য হয় না। নারীগণ ‘পুংশ্চলী’ অর্থাৎ দৃষ্টিপথে আগত যেকোনো পুরষের সাথে সম্ভোগের চিন্তায় এদের চিত্ত এতটাই চঞ্চল হয় যে স্বামীর প্রতিও বিরূপ হয়ে ওঠে (মনুসংহিতা, ৯/১৪-১৫)। এমনকি মা, বোন বা কন্যার সাথেও নির্জন গৃহে পুরুষকে বাস না করবার বিধান দেন (মনুসংহিতা, ২/২১৫)। নারীরা স্বভাবতই পুরুষের মনকে কামের দ্বারা কলুষিত করে (মনুসংহিতা, ২/২১৩)। নারীজাতির এহেন নীচ ভাবমূর্তি চিত্রণ একেবারেই কাম্য নয়। নারীর আবেদনে যে পুরুষেরা আকৃষ্ট হচ্ছে তারাও সমান দোষীএক হাতে তালি আজ পর্যন্ত বাজেনি। অতএব মনুর কঠোরতম সমালোচনা ভবিতব্য।

কিন্তু এর থেকে এটা প্রমাণিত হয় না যে মনু নারীবিদ্বেষী। মনুপ্রণীত সকল নীতি নারীর স্বার্থবিরোধী ছিল না। এর বহু প্রমাণ রয়েছে যেগুলি সচেতন বা অচেতন ভাবেই অনালোচিত। যেমন- ৯/১৩০ শ্লোকে মনু পুত্র ও কন্যাকে সমান বলেছেন। পুত্র আর নিজের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। আর কন্যা পুত্রের সমান। অর্থাৎ পুত্র ও কন্যার মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বীজ এখানেই লুকিয়ে রয়েছে।

মনু ব্যভিচার দোষদুষ্ট নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শাস্তির বিধান দিয়েছেন। কোনো নারী পরপুরুষের সাথে মিলিত হলে তাকে বহুলোকের সামনে কুকুরকে দিয়ে খাওয়ানোর কথা বলেছেন। আর যে পুরুষটির সাথে মিলিত হয়েছিল তাকে তপ্ত লোহার শয্যায় শুইয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর কাঠ নিক্ষেপ করতে হবে যতক্ষণ না সে ভস্মিভূত হচ্ছে (মনুসংহিতা, ৮/৩৭১-৩৭২)। অতএব পুরুষরা কিন্তু শাস্তির বাইরে ছিল না।

এছাড়া মনু বহু উক্তিতে নারীর প্রতি সুউচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। তাঁর মতে যে বংশে নারী সমাদৃত হন সেখানে দেবতারাও প্রসন্ন হন। যেখানে নারীর সমাদর নেই সেখানে সকল ধার্মিক ক্রিয়া নিস্ফল। গৃহের সকল নারীর সুখে শ্রীবৃদ্ধি, অন্যথা শ্রীহানি (মনুসংহিতা, ৩/৫৬-৫৭)। গৃহে শ্রী ও স্ত্রী উভয়ের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই (মনুসংহিতা, ৯/২৬)। মা, দিদি বা বোন- প্রত্যেকের প্রতি মাতৃবৎ আচরণই বিধেয় (মনুসংহিতা, ২/১৩৩)। এসবই নারীজাতির প্রতি তাঁর অগাধ সম্মানের নিদর্শন।

মনু নারীর স্বাতন্ত্র্য হরণের যে সকল বিধান দিয়েছেন তা সম্ভবত পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভাবে ভাবিত হয়ে। কারণ ‘মনুসংহিতা’ যে সময়ের রচনা তখন সমাজজীবনের ভিত্তি ছিল পরিবার। আর পরিবারগুলি ছিল যৌথ ও পিতৃতান্ত্রিক। যদিও দাক্ষিণাত্যে দীর্ঘদিন সন্তানের নামকরণের সাথে মাতৃপরিচয় যুক্ত করার রীতি ছিল। সাতবাহন শাসকগণ এর সর্বজনবিদিত উদাহরণ। যাইহোক না কেন, পিতৃতান্ত্রিক পুরুষশাসিত সমাজ কখনোই নারীস্বাধীনতা বা নারী অগ্রগতি চায়নি। ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব হারানোর ভয় পুরুষজাতির মনে জাঁকিয়ে বসেছিল। মনুর নারী স্বাতন্ত্র্য খর্বের প্রয়াস পুরুষের সেই ভয়ের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

মনুর বদনাম যে তিনি নারীদের কেবল সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে দেখেছেন। যদি সমসাময়িক ইতিহাসের দিকে তাকাই তবে মনুর এই বদনামও বেশ কিছুটা লাঘব হতে পারে। ‘মনুসংহিতার’ রচনাকাল হিসেবে যে ৪০০ বছর কে নির্দেশ করা হয়েছে সে সময়ের আর্থ সামাজিক ভিত্তি ছিল কৃষি। এই সময়ে কৃষির উন্নতি ও প্রসার ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে কৃষি দীর্ঘকাল উত্তর ভারত ও গাঙ্গেয় অঞ্চলের প্রধান বৃত্তি ছিল তা ক্রমশ দাক্ষিণাত্য ও দক্ষিণ ভারতে প্রসারিত হয়। নতুন নতুন কৃষি উপকরণ ব্যবহারের নিদর্শন সুস্পষ্ট। তক্ষশিলা থেকে লাঙল, কোদাল, দা, মাটি কোপানোর যন্ত্র, কুঠার, কুড়াল ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলি অধিকাংশই লৌহ নির্মিত। সাঁচী থেকে লাঙলের ফলা পাওয়া গেছে। ফলে কৃষিকর্ম অনেক উন্নত ও সহজ হচ্ছিল। পতিত জমিকে কর্ষণ করে নতুন চাষযোগ্য জমি তৈরির প্রবণতা ক্রমশই বাড়ছিল। শুধু তাই নয় জমি ও জলবায়ুর বৈচিত্র অনুসারে ফসলেও বৈচিত্র দেখা যায়। যেমন- ‘শালি’, ‘কুমুদভণ্ডিকা’ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ধান, আখ, বিশেষ করে দাক্ষিণাত্যের কালো মাটিতে উৎপন্ন তুলো, গোলমরিচ ইত্যাদি। কৃষির উন্নতির ফলে কৃষিজাত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বাড়তে থাকে। তুলো থেকে তৈরি কাপড় (বিশেষ করে ‘মসলিন’), গোলমরিচ প্রভৃতির চাহিদা বিদেশের বাজারে ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আরও বেশি জমি চাষের জন্য, পতিত জমিকে চাষযোগ্য করার জন্য, ভিন্ন রকম ফসল চাষের জন্য বা কৃষিজাত পণ্যগুলিকে সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছোনোর জন্য প্রচুর লোকবলের চাহিদা বাড়তে থাকে। পরিবারগুলি সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজন অনুভব করে। দুর্ভাগ্যক্রমে নারীরাই সন্তানধারণ করতে পারেন, পুরুষরা নয়। অতএব জনসংখ্যা বৃদ্ধিরূপ সভ্যতা ও যুগের চাহিদার বিপুল প্রত্যাশার চাপ নারীজাতির ওপর এসে পড়ে। আর পুত্রসন্তানের চাহিদা কেন? কারণ কৃষির বা বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত কাজগুলি এতটাই শ্রমসাধ্য যে তা একজন পুরুষের পক্ষে যতটা সহজ একজন নারীর পক্ষে ততটা নয়। ফলত সন্তানধারণ, পতিসেবা ও গৃহকর্ম নারীর জন্য কর্তব্য। কারণ যুগের চাহিদাকে অস্বীকার করা মনুর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

সুতরাং সব শেষে আবারও উল্লেখ্য যে, দোষ-গুণ মিলিয়ে মনু বা ‘মনুবাদ’। মনু প্রণীত নীতির প্রতি ইতি বা নেতিবাচক একগুঁয়েমি অনভিপ্রেত। সমসাময়িক ইতিহাস, যুগের চাহিদা এবং সর্বোপরি মনু চরিত্রটিকে বাদ দিয়ে ‘মনুবাদ’-কে বাদের খাতায় ফেলে দেওয়া মানে মূর্খের স্বর্গে বাস করা। মনুর নীতির মধ্যে যদি বিন্দু মাত্র নীতিগত সফলতা না থাকত তাহলে ভারতীয় আইন ব্যবস্থায় তার কোনো প্রভাব থাকত না। বছর বছর ধরে বিভিন্ন রাজশক্তি ‘মনুসংহিতা’ প্রদর্শিত পথে শাসন পরিচালনা করে সফল হতেন না। আমরা আধুনিক। অতএব বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রাচীনের সার গ্রহণ ও অসার বর্জন করে বর্তমানকে আরও নির্ভুল ও নির্ভেজাল করতে হবে। এতেই আধুনিকতার মঙ্গল।

 

 

 

*****

 

 

 

 

 

 

Read More

Author: Sovon Lal Misra

Religion Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 14-July-2021 by east is rising