তাপস বিশ্বাস
এটি ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলার ম্যাপ।
সেই সময় সিলেট আসামের সাথে যুক্ত ছিল। তাই এই ম্যাপে সিলেটের নাম নেই।
আগে পুরুলিয়ার নাম ছিল মানভূম যা ছিল বিহারের অন্তর্গত। তাই এই ম্যাপে পুরুলিয়ার নাম নেই।
কুমিল্লা একসময় ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। যা আগে ত্রিপুরা জেলা নামে পরিচিত ছিল। আর বাদ বাকি ত্রিপুরা আলাদা তখনো করদ রাজ্য ছিল।
কোচবিহার জেলাটি অতীতে কা'মরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। কা'মরূপের রাজধানী দ্বিধাবিভক্ত হলে কোচবিহার 'কামতা'-র অন্তর্গত।
সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত শাহজাহাননামা গ্রন্থে কোচবিহার নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে মেজর রেনেলের মানচিত্রে কোচবিহার 'বিহার' নামে উল্লিখিত হয়।
১৭৭২ সালে ভুটানের সঙ্গে সং'ঘর্ষের জেরে কোচবিহার-রাজ ধৈর্যেন্দ্র নারায়ণ ও ওয়ারেন হেস্টিংসের মধ্যে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে কোচবিহার ব্রিটিশদের একটি করদ রাজ্যে পরিণত হয়।
১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যটি "কোচ বিহার" নামে পরিচিত হয় এবং এর রাজধানীর নাম হয় "বিহার ফোর্ট"।
উল্লেখ্য, "কোচবিহার" শব্দটির অর্থ "কোচ জাতির বাসস্থান"। কোচবিহার গেজেট অনুযায়ী, মহারাজার আদেশ অনুযায়ী রাজ্যের সর্বশেষ নামকরণ হয় "কোচবিহার।
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
Historical General 29-August-2025 by east is risingবলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে রাজনীতিতে বেশ অনেকটাই পোক্ত হয়ে উঠেছে ভাঙ্গরের বিধায়ক তথা আইএসএফ প্রধান পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী।
সম্প্রতি তিনি “ওয়াকফ সংশোধনী আইন” ও
“এসআইআর” বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের হাতে। সে নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।
আর ঠিক এই আবহেই “আরএসএস - বিজেপি” পুষ্ট একটি টিভি চ্যানেল গত একমাস আগে রেকর্ড করা নৌসাদের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে দেয় তাদের বহুল প্রচারিত চ্যানেলে।
ফলত, রাজ্যবাসী অনেকেরই ধারণা তৈরি হয় আগামী ২০২৬ এর বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপির তুরুপের তাস এবার আর সিপিএম নয়। - তুরুপের তাস হতে চলেছে নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তৈরি মুসলিম জোট “কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম” বা “সিপিএফ।”
মূলত “আইএসএফ”, “ডাব্লিউপিআই” “এসডিপিআই”, “আজাদ সমাজ পার্টি” সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও “আইমাআ”, “আরাফ”, “সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন”, “ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন”, “তৌহিদী জনতা” প্রমুখ সামাজিক সংগঠন একত্রিত হয়ে পুরোপুরি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি মঞ্চ বানিয়ে ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে তারা। বলা যেতে পারে দলিত, আদিবাসী, মতুয়া ও সংখ্যালঘুদের সংগঠন বলে প্রচারিত নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে “আইএসএফ” এই মঞ্চের মুখ্য ভূমিকায় থাকলেও, তারা কোনো মতুয়া, দলিত,আদিবাসী, এমনকি কোনো সংখ্যাগুরু প্রভাবিত সেক্যুলার সংগঠনকে যুক্ত করেনি জোটটিতে। বরং তারা প্রাধান্য দিয়েছে পীরজাদা রুহুল আমিন, পীরজাদা খোবায়েব আমিনদের মতো মুসলিম ধর্ম গুরুদের। একদা নিজেকে “ বিশ্ব নবী” হজরত মহম্মদের বংশোধর বলে দাবী করা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী তো বলেই ফেলেছেন”, আমি আইএসএফ করি। -আইএসএফ বিরোধী যাঁরা, আল্লা তাদের ধ্বংস করে দেবে।
মঞ্চটির প্রথম সারির একজন নেতার কাছ থেকে জানা গেলো, তারা আশা করছে ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে কমপক্ষে ৪০ টা কেন্দ্রে জয়লাভ করবে এই মঞ্চ।
তারমানে, বিজেপি ও তৃণমূলকে ভোট যুদ্ধে পরাজিত করতে আগামী বিধান সভা নির্বাচনে তারা কমপক্ষে ২০০ টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
কিন্তু বিপদ হচ্ছে, মঞ্চটির মূখ্য আহ্বায়ক বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী হিন্দুত্ববাদী টিভি চ্যানেলটির মুসলিম বিরোধী হিন্দুত্ববাদী সাংবাদিক ময়ুখ রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যথেষ্ট জোর দিয়েই বলে বসেছেন,
“পশ্চিমবঙ্গে যতো ক্রিমিনাল আছে, তাদের সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায় ভুক্ত”
-ব্যস, তাই শুনে রাজ্যের হিন্দুত্ববাদীরা তো বেজায় খুশি। কারণ, তাদের মতে নির্ভিক ও সত্যবাদী নওশাদ সিদ্দিকী নাকি মুসলিম সমাজের “ হাটে হাড়ি ভেঙে দিয়েছেন। যা ভোট আবহে সাম্প্রদায়িক বিভাজন করার ক্ষেত্রে বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট অক্সিজেন যোগাবে মনে করছে অনেকেই।
তবে উক্ত সাক্ষাৎকারটি প্রসঙ্গে নওশাদ এর জোট সঙ্গী “আজাদ সমাজ পার্টি” র রাজ্য সেক্রেটারি ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা বলেছেন, -সাক্ষাৎকারটিতে নওশাদ সিদ্দিকী ক্রিমিনাল হিসাবে যে মুসলমানদের কথা বলেছেন, তারা সবাই তৃণমূল পার্টির সঙ্গে যুক্ত।
যাইহোক, পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর মুসলিমদের প্রতি এহেন বচনে তাঁর অন্ধ ভক্তকুল নির্লিপ্ত থাকলেও প্রগতিশীল মুসলিম সমাজে এর কু প্রভাব পড়েছে সাংঘাতিক ভাবে। এ প্রসঙ্গে “জেনারেশন জেড” নামে কলকাতার একটি সংগঠনের পক্ষে সমাজকর্মী
সাকিব হাসান পিয়াদা তথ্য তুলে ধরে বলেন, - ইন্টারনেটে সার্চ করলেই অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ভেসে ওঠে। যেমন মোদীর নামের পাশে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ দেখা যায়, তেমনি নওশাদ সিদ্দিকীর নামেও একাধিক মামলার তালিকা দেখানো হয়। কিন্তু মামলা থাকা মানেই তিনি সন্ত্রাসী নন। সিংহভাগ মুসলিমকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রচার করা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অপপ্রচার।” রাজনীতিতে এসব চলতেই থাকবে। আর এটাই স্বাভাবিক।
তবে আইএসএফ নেতা পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী যে “রাজনীতি” টা যথেষ্ট শিখেছেন, তা প্রমাণ পেয়েছিলাম আমি, গত ২০ আগস্ট কলকাতার ধর্মতলায় তাদের “ওয়াকফ ও এসআইআর” বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধুমধুমার কান্ড দেখে।
রাজ্য সরকারের পুলিশ ওই দিন “মুসলিম জোটের”
নব্বই জন নেতা - কর্মীকে গ্রেফতার করার কারণে ব্যাপক প্রচার করেছিল বিজেপি পুষ্ট কয়েকটি ইলেকট্রনিক্স ও সোশ্যাল মিডিয়া।
ঘটনাটা এমন, কলকাতা হাই কোর্টের কাছে
“কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম” আবেদনের মাধ্যমে ধর্না মঞ্চের অনুমতি নিয়েছিল ১৬,১৭,১৮ আগস্ট, -মোট তিন দিন।
কিন্তু “ধুরন্ধর" রাজনীতিবিদ নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তারা কলকাতার ধর্মতলায় হাজার খানিক লোক জড়ো করেছিল ২০ আগস্ট, - হাইকোর্টের অর্ডারকে অমান্য করেই। তারা জড়ো হয়েছিল, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের পিছনের ছোট্ট একটু জায়গায়। যেখানে ১০০ জন লোকেরও দাঁড়ানোর জায়গা নেই।
বলতে দ্বিধা নেই, রাজ্যবাসী সেদিন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর মুখে বারবার ওয়াকফ ও এসআইআর বিরোধী ধর্না মঞ্চের কথা শুনলেও, বাস্তবে ওই দিন তারা কোনো মঞ্চই বাঁধেনি। এই ধরনের ধর্নার ক্ষেত্রে দু এক দিন আগে থেকে মঞ্চ, মাইক ইত্যাদি প্রস্তুত করাটাই দস্তুর। কিন্তু তারা তা করেননি।
ফলত যা হবার তাই হয়েছে, হাজার খানিক উশৃঙ্খল জনতা যেন দখল নিয়ে নিয়েছিল ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ সংলগ্ন জনবহুল চৌরাস্তা। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের শুরু হয়েছিল ধস্তা ধস্তি। এক দিনের জন্য গ্রেফতারও হয়েছিলেন আন্দোলনকারী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী, ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা, মওলানা মুহম্মদ কামরুজ্জামান, হাকীকুল ইসলাম সহ মুসলিম জোটটির ৯৬ জন সমর্থক ও নেতা।
অবশ্য গ্রেফতারের পরের দিন জেল থেকে বেরিয়েই গলায় ফুলের মালা নিয়ে, হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কামান দেগেছিল নওশাদ সিদ্দিকী। শত খানিক ভক্তদের সামনে তিনি আবার একবার ওয়াকফ আন্দোলনের প্রধান শত্রু হিসাবে দেগে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তথ্য বলছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের এক সভা থেকে বলেছিলেন,
“বাংলায় ওয়াকফ আন্দোলন করা যাবে না। এই আন্দোলন করতে হলে দিল্লিতে গিয়ে করুন।”
ফলত, মুখ্যমন্ত্রীর এই ভয়ংকর কথা রাজ্যের অসংখ্য তৃণমূল পন্থী মুসলিমদেরও মন ভেঙে দিয়েছিল সেদিন। এমনকি সেদিন তিনি কেনো এমন একটি অনৈতিক ও বে আইনি কথা বলেছিলেন, আজ পর্যন্ত তারও কোনো ব্যাখ্যা দেননি । যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে “কালো দাগ” হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে ইতিহাসে বলে অনেকের ধারণা।
অথচ, সেদিন রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছিল, বাম আমলে মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটি ভয়ংকর মিথ্যা কথন। বুদ্ধবাবু বলেছিলেন, রাজ্যের মাদ্রাসা গুলো নাকি সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর। বলতে দ্বিধা নেই সেই ঘটনার পর থেকে রাজ্যের মুসলিম সমাজ একপ্রকার চিরদিনের জন্যই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সিপিএমের দিক থেকে।
কিন্তু ওয়াকফ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের একপ্রকার হুমকির পরেও তথ্য বলছে অন্য কথা।
আজকের তারিখ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের অনুমতিতে প্রায় পঞ্চাশটার ও বেশি জায়গায় ওয়াকফ আন্দোলন হয়েছে নানা আঙ্গিকে। আমি নিজে ও দামাল নেতা দীপক ব্যাপারী এবং বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স এর নেতা রাজীব কান্তি রায় সেই সব সভা গুলির বেশ কয়েকটিতে বক্তব্য রেখেছি হাজার হাজার মানুষের সামনে। এমনকি গত দেড় মাসের মধ্যে হাওড়া ও কলকাতা মেটিয়াবুরুজ বাজারে বহু মানুষের সামনে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে বক্তব্য রেখেছি, মওলানা মুহম্মদ হাসিবুর রহমান পরিচালিত তৌহিদী জনতা নামে একটি সংগঠনের ডাকে। শুধু আমি একা নয়, মুখ্যমন্ত্রী বাধা দেবার পরেও বেশ কয়েকটি মঞ্চে আমি ও মুসলিম প্রসোনাল ল বোর্ডের বাংলার প্রতিনিধি মওলানা কামরুজ্জামান এক সঙ্গে বক্তব্য রেখেছি। গত কয়েকদিন আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল শহরের মুসলিম মহিলাদের নেতৃত্বে ওয়াকফ আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনে বেশ কিছু হিন্দু মহিলাও সামিল হয়েছিলেন।
আগামী সপ্তাহে তৌহিদী জনতার ডাকে কলকাতা নিউটাউনে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে আমি উপস্থিত হচ্ছি। প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই পুলিশ অনুমতি ও পাহারা দুটোই দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীরই নির্দেশে। তবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীর থেকে
“ওয়াকফ বিরোধী” তকমা ঘুচবে না হয়তো কোনো দিনই। - এটাই রাজনীতি।
রাজনীতিতে বুঝি এটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে “ভোট চোর বিজেপি” র বিরুদ্ধে তোলপাড় হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। তথাকথিত এসআইআর এর কারণে ৬৫ লাখের বেশি মানুষের নাাম বাতিল হয়েছে বিহার রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে। বলতে দ্বিধা নেই আসামের এনআরসি ছুট ১৯ লাখ মানুষের মতোই বিহারের ৬৫ লাখ মানুষকে রাষ্ট্রহীন বে নাগরিক করতে চলেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে তোলপাড় গোটা ভারত। তবু এ বিষয়ে তেমন ভাবে মুখ খোলেনি বাংলার আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী। এমনকি, তিনি এবং তাঁর দাদা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী বারবার বলেছেন, মুসলিমদের কোনো ভয় নেই এসআইআরে। তারা বলেছেন, দাদুর কবর স্থান দেখালেই নাকি এসআইআরে নাম উঠে যাবে। অথচ সেই নওশাদ সিদ্দিকীই ওয়াকফ ও এসআইআর বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন গত ২০ আগস্ট, কলকাতার ধর্মতলা থেকে। অবশ্য রাজনীতিতে এ সব হয়েই থাকে। খবর পেলাম, মুসলিম জোটের অন্যতম প্রধান মওলানা কামরুজ্জামান গত ২১ -২২ ডিসেম্বর, আসাম গিয়েছিলেন, অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ডাকে। সে সময়ই নাকি তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেছিলেন। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে,
নওশাদ পরিচালিত এই মুসলিম জোটের প্রথম সারির একাধিক নেতা এখন গোপনে তৃণমূল পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে আগামী বিধান সভা নির্বাচনের টিকিট পাবার জন্য। আমার মতে রাজনীতিতে এ সব হতেই পারে। কিন্তু যেটা হতে পারেনা সেটা হচ্ছে, নিজেদের পরিচিতি ও “সংখ্যালঘুদের নেতা” ইমেজকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সহজ সরল সাধারণ মুসলিম মানুষকে, ভয়াবহ খাদের কিনারায় চোখ বেঁধে দাঁড় করানো। সেটা ক্ষমার অযোগ্য। অপরাধ। জাতির সঙ্গে বেইমানি করা ছাড়া কিছু নয়।
এ প্রসঙ্গে দামাল বাংলা সংগঠনের প্রতিনিধি অধ্যাপক সৈকত ভট্টাচার্য বলেন, ভারতে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন
“মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড” মূলত এলিট মুসলিমদের সংগঠন। লোকসভায় “ওয়াকফ বিল” জমা হবার সময় থেকে তারা চোখে পরার মতো কোনো আন্দোলন করে নি। তাদের আন্দোলন বিলটি আইনে রূপান্তরিত হবার পরে থেকে।
বলতে দ্বিধা নেই, তারা নির্ভরশীল দেশের সুপ্রিম কোর্টের উপর। মনে হচ্ছে বাবরি মসজিদ ইস্যু তাদের শিক্ষা দেয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত এডভোকেট ওমর ফারুক গাজী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ বিষয়ের “ উমিদ” নামে পোর্টালটি চালু হয়েছে এ বছর ৬ জুন। অর্থাৎ তিন মাস হতে চললো। অর্থাৎ মুসলিমদের হাতে সময় আছে আর মাত্র ৩ মাস। বড়ো জোর ৬ মাস। তারপর কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি দখল নেবে প্রশাসনের মাধ্যমে, আইনের মাধ্যমেই।
যদিও সরকারের “উমিদ” নামে পোর্টালটাকে বয়কট করাটা যথেষ্ট যুক্তি সংগত। কিন্তু সে ব্যাপারে রাজ্যের বা দেশের মুসলিম সমাজকে অন্ধকারে রাখাটা সঠিক নয়। মূলত রাজ্যের মুসলমানরা যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও প্রতিবাদে মুখর হয়ে না ওঠে তাই নওশাদ সিদ্দিকীর বাহিনী ওয়াকফের বর্তমান স্ট্যাটাস সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে দিয়েছে পুরোপুরি। এ ঘটনা ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে চলেছে মুসলিম সমাজে। বললেন সমাজকর্মী দীপক ব্যাপারী।
দামাল বাংলা
28/8/2024
Read MoreAuthor: মানিক ফকির
Social Hindu 29-August-2025 by east is risingChinese New Year, also known as Lunar New Year or Spring Festival, is celebrated by millions around the world.
It is an official public holiday in:
China
Taiwan
Hong Kong
Macau
Singapore
Malaysia
Indonesia
Vietnam (Tết)
North Korea (Seollal)
South Korea (Seollal)
Brunei
Philippines (limited regions)
Beyond Asia, many communities worldwide join in with parades, family gatherings, and fireworks — making it one of the largest celebrations on Earth.
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
Social General 29-August-2025 by east is risingSufal Sarkar
মহারাজা কেদারনাথ দেবরায় (১৫৬১-১৬০৩ খ্রি.) ছিলেন বাংলার বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম শক্তিশালী এবং বিখ্যাত শাসক, যিনি মুঘল আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বিক্রমপুরে স্বাধীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি মুঘল-রাজপুত জোটের সৈন্যদলকে চারটি বিধ্বংসী যুদ্ধে পরাজিত করে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে পর্তুগিজ ও আরাকানি মগ জলদস্যুদের দমন করে বাঙালিদের রক্ষা করেছিলেন। তাঁর শাসনাধীন বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মধ্যে ছিল ঢাকা, বিক্রমপুর, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী ও চাঁদপুরের বৃহৎ অংশ।
কেদার রায় বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা যাদব রায়ের মাধ্যমে দেববংশী বঙ্গজ কায়স্থ বংশের উত্তরাধিকার লাভ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ নিম রায় সম্ভবত সেন আমলে বিক্রমপুরের আড়া ফুলবাড়িয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং ভুঁইয়া উপাধি লাভ করেছিলেন। কেদার রায়ের রাজধানী ছিল শ্রীপুর, যা বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার কালীগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। তাঁর রাজত্ব পদ্মা নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ জনপদ জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যার মধ্যে ইদ্রাকপুর, ইদিলপুর, কেদারপুর এবং চাঁদপুর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পদ্মা নদীর ভাঙনে শ্রীপুরসহ তাঁর রাজ্যের অনেক স্মৃতিচিহ্ন বিলীন হয়ে গেছে।
কেদার রায় একজন দক্ষ শাসক ও যোদ্ধা ছিলেন। তিনি একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন এবং পর্তুগিজ নাবিক ডোমিনিঙ্গ কার্ভালোকে এর নেতৃত্বে নিয়োগ করেছিলেন। তাঁর নৌবাহিনী সন্দ্বীপে মগ ও মুঘলদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল। আরাকান রাজা মেংরাজাগির ১৫০ রণতরীর আক্রমণ প্রতিহত করে তিনি ১৪০টি তরী দখল করেন এবং পরবর্তীতে ১০০০ রণতরীর আক্রমণেও মগ বাহিনীকে পরাজিত করেন। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বিরুদ্ধেও তিনি কালিন্দী নদীতে মন্দা রায়ের নেতৃত্বে মুঘল নৌবাহিনীকে পরাজিত করেন, যেখানে মুঘল সৈন্যদের রক্তে নদীর জল রঞ্জিত হয়েছিল।
কেদার রায়ের ঈসা খাঁর সঙ্গে প্রাথমিকভাবে বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা একসঙ্গে আরাকান রাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু ঈসা খাঁর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শত্রুতায় রূপান্তরিত হয় যখন ঈসা খাঁ জোরপূর্বক কেদার রায়ের বিধবা কন্যা স্বর্ণময়ীকে বিয়ে করেন। এই ঘটনায় ক্রুদ্ধ হয়ে কেদার রায় ঈসা খাঁর কলাগাছিয়া দুর্গ আক্রমণ করে ধ্বংস করেন এবং তাঁর রাজধানী পর্যন্ত আক্রমণ চালান।
কেদার রায়ের জীবন ট্র্যাজেডিতে পরিপূর্ণ। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের সঙ্গে চতুর্থ যুদ্ধে ফতেহজঙ্গপুরে তিনি নিহত হন।
কথিত আছে, যুদ্ধের নবম দিনে তিনি কামানের গোলার আঘাতে মূর্ছিত হন এবং পরে বন্দী অবস্থায় মারা যান। আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়, তিনি ধ্যানস্থ অবস্থায় ছিন্নমস্তার পূজা করার সময় গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর মুঘলরা তাঁর রাজ্য লুণ্ঠন করে এবং শ্রীপুর পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়।
কেদার রায়ের স্মৃতি বিক্রমপুরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। তিনি দিগম্বরী দেবীর দীঘি, কেশব মায়ের দীঘি এবং শ্রীপুরে রাজবাড়ির মঠসহ অসংখ্য মন্দির ও দীঘি নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভুবনেশ্বরী মূর্তি এখনও নদীয়ার লাখুরিয়ায় সংরক্ষিত আছে। তবে পদ্মার ভাঙনে তাঁর রাজধানী ও অনেক কীর্তি হারিয়ে গেছে, যার জন্য পদ্মা এই অঞ্চলে ‘কীর্তিনাশা’ নামে পরিচিত।
কেদার রায়ের বীরত্ব ও দেশপ্রেম বাংলার ইতিহাসে অমর। তিনি বারো ভুঁইয়াদের একত্রিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে রেষারেষির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হননি। তবুও তাঁর প্রজাবাৎসল্য, শাসনকৌশল এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তাঁকে বাংলার এক অক্ষয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কিন্তু এসব বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস আমাদের পড়ানো হয় না, আমরা জানিই না ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে । শুধু মুঘল ইতিহাসের কাহিনীই আমাদের জানানো হয়, এখানেই দুঃখ । তাই তোসুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছেন, "বাংলার বারো ভুঁইয়ারা ইতিহাসে উপেক্ষিত হলেও, কেদার রায়ের মতো বীর যোদ্ধারা বাঙালির গর্বের প্রতীক।"
যাইহোক, লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই অবশ্যই একটা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো ।
Author: Saikat Bhattacharya
Historical Hindu 29-August-2025 by east is risingবিচারপতি অমৃতা সিনহা বর্ডার অঞ্চলে বিএসএফ এর অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন, তার থেকে তিনটে বিষয় বেড়িয়ে আসে-
১) কে আক্রান্ত, কেন আক্রান্ত, আক্রমণ আইন মোতাবেক কিনা, এই সমস্ত প্রশ্নের অনুসন্ধান ছাড়াই যদি বিএসএফ কে ক্লিনচিট দেওয়া হয়, তাহলে আক্রান্ত ভারতীয় নাগরিকদের অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়। বিএসএফ দ্বারা আক্রান্ত হলে সে আদালতের কাছে যাবে না তো কার কাছে যাবে? আদালত যদি এইভাবে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেয়, তবে ভারতের বাঙালি নাগরিকদের অন্য অন্য পথে ঠেলে দেওয়া হয়, যা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়।।
২) সরকারি সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশ্ন করা যাবে না, তারা যা করে সেটা ঠিক, এই মনোভাবটা মধ্যযুগীয়, রাজা জমিদারদের আমলের। গণতন্ত্রে এটা চলেনা। গণতন্ত্রে আদালতের কাছে সবাই সমান, কেউ বিচার, প্রশ্ন, তদন্তের এক্তিয়ারের বাইরে নয়। অমৃতা সিনহা যে ভাবে কথা বললেন সেটা আধুনিক রাষ্ট্রে চলে না।
৩) ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলার ভোটার কমাবার জন্য কেন্দ্র যে কর্মসূচি নেবে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হলে, বাংলাদেশী তকমা দিয়ে ভারত কেন্দ্রের মেশিনারি কীরকম আচরণ করবে তার একটা আভাস।
(আপনি যদি মনে করেন বিচারপতির সমালোচনা করা উচিৎ নয়, তবে আপনি ওলা উবেরের টাইম মেশিন ডেকে মধ্যযুগে চলে যান।)
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
mythical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ 29-August-2025 by east is rising
