বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে রাজনীতিতে বেশ অনেকটাই পোক্ত হয়ে উঠেছে ভাঙ্গরের বিধায়ক তথা আইএসএফ প্রধান পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী।
সম্প্রতি তিনি “ওয়াকফ সংশোধনী আইন” ও
“এসআইআর” বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের হাতে। সে নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি।
আর ঠিক এই আবহেই “আরএসএস - বিজেপি” পুষ্ট একটি টিভি চ্যানেল গত একমাস আগে রেকর্ড করা নৌসাদের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে দেয় তাদের বহুল প্রচারিত চ্যানেলে।
ফলত, রাজ্যবাসী অনেকেরই ধারণা তৈরি হয় আগামী ২০২৬ এর বিধান সভা নির্বাচনে বিজেপির তুরুপের তাস এবার আর সিপিএম নয়। - তুরুপের তাস হতে চলেছে নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তৈরি মুসলিম জোট “কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম” বা “সিপিএফ।”
মূলত “আইএসএফ”, “ডাব্লিউপিআই” “এসডিপিআই”, “আজাদ সমাজ পার্টি” সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও “আইমাআ”, “আরাফ”, “সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন”, “ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন”, “তৌহিদী জনতা” প্রমুখ সামাজিক সংগঠন একত্রিত হয়ে পুরোপুরি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি মঞ্চ বানিয়ে ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে তারা। বলা যেতে পারে দলিত, আদিবাসী, মতুয়া ও সংখ্যালঘুদের সংগঠন বলে প্রচারিত নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে “আইএসএফ” এই মঞ্চের মুখ্য ভূমিকায় থাকলেও, তারা কোনো মতুয়া, দলিত,আদিবাসী, এমনকি কোনো সংখ্যাগুরু প্রভাবিত সেক্যুলার সংগঠনকে যুক্ত করেনি জোটটিতে। বরং তারা প্রাধান্য দিয়েছে পীরজাদা রুহুল আমিন, পীরজাদা খোবায়েব আমিনদের মতো মুসলিম ধর্ম গুরুদের। একদা নিজেকে “ বিশ্ব নবী” হজরত মহম্মদের বংশোধর বলে দাবী করা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী তো বলেই ফেলেছেন”, আমি আইএসএফ করি। -আইএসএফ বিরোধী যাঁরা, আল্লা তাদের ধ্বংস করে দেবে।
মঞ্চটির প্রথম সারির একজন নেতার কাছ থেকে জানা গেলো, তারা আশা করছে ২০২৬ সালের বিধান সভা নির্বাচনে কমপক্ষে ৪০ টা কেন্দ্রে জয়লাভ করবে এই মঞ্চ।
তারমানে, বিজেপি ও তৃণমূলকে ভোট যুদ্ধে পরাজিত করতে আগামী বিধান সভা নির্বাচনে তারা কমপক্ষে ২০০ টি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
কিন্তু বিপদ হচ্ছে, মঞ্চটির মূখ্য আহ্বায়ক বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী হিন্দুত্ববাদী টিভি চ্যানেলটির মুসলিম বিরোধী হিন্দুত্ববাদী সাংবাদিক ময়ুখ রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যথেষ্ট জোর দিয়েই বলে বসেছেন,
“পশ্চিমবঙ্গে যতো ক্রিমিনাল আছে, তাদের সিংহভাগই মুসলিম সম্প্রদায় ভুক্ত”
-ব্যস, তাই শুনে রাজ্যের হিন্দুত্ববাদীরা তো বেজায় খুশি। কারণ, তাদের মতে নির্ভিক ও সত্যবাদী নওশাদ সিদ্দিকী নাকি মুসলিম সমাজের “ হাটে হাড়ি ভেঙে দিয়েছেন। যা ভোট আবহে সাম্প্রদায়িক বিভাজন করার ক্ষেত্রে বিজেপির পক্ষে যথেষ্ট অক্সিজেন যোগাবে মনে করছে অনেকেই।
তবে উক্ত সাক্ষাৎকারটি প্রসঙ্গে নওশাদ এর জোট সঙ্গী “আজাদ সমাজ পার্টি” র রাজ্য সেক্রেটারি ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা বলেছেন, -সাক্ষাৎকারটিতে নওশাদ সিদ্দিকী ক্রিমিনাল হিসাবে যে মুসলমানদের কথা বলেছেন, তারা সবাই তৃণমূল পার্টির সঙ্গে যুক্ত।
যাইহোক, পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর মুসলিমদের প্রতি এহেন বচনে তাঁর অন্ধ ভক্তকুল নির্লিপ্ত থাকলেও প্রগতিশীল মুসলিম সমাজে এর কু প্রভাব পড়েছে সাংঘাতিক ভাবে। এ প্রসঙ্গে “জেনারেশন জেড” নামে কলকাতার একটি সংগঠনের পক্ষে সমাজকর্মী
সাকিব হাসান পিয়াদা তথ্য তুলে ধরে বলেন, - ইন্টারনেটে সার্চ করলেই অনেক সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য ভেসে ওঠে। যেমন মোদীর নামের পাশে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ দেখা যায়, তেমনি নওশাদ সিদ্দিকীর নামেও একাধিক মামলার তালিকা দেখানো হয়। কিন্তু মামলা থাকা মানেই তিনি সন্ত্রাসী নন। সিংহভাগ মুসলিমকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে প্রচার করা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অপপ্রচার।” রাজনীতিতে এসব চলতেই থাকবে। আর এটাই স্বাভাবিক।
তবে আইএসএফ নেতা পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী যে “রাজনীতি” টা যথেষ্ট শিখেছেন, তা প্রমাণ পেয়েছিলাম আমি, গত ২০ আগস্ট কলকাতার ধর্মতলায় তাদের “ওয়াকফ ও এসআইআর” বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধুমধুমার কান্ড দেখে।
রাজ্য সরকারের পুলিশ ওই দিন “মুসলিম জোটের”
নব্বই জন নেতা - কর্মীকে গ্রেফতার করার কারণে ব্যাপক প্রচার করেছিল বিজেপি পুষ্ট কয়েকটি ইলেকট্রনিক্স ও সোশ্যাল মিডিয়া।
ঘটনাটা এমন, কলকাতা হাই কোর্টের কাছে
“কনস্টিটিউশন প্রটেকশন ফোরাম” আবেদনের মাধ্যমে ধর্না মঞ্চের অনুমতি নিয়েছিল ১৬,১৭,১৮ আগস্ট, -মোট তিন দিন।
কিন্তু “ধুরন্ধর" রাজনীতিবিদ নওশাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তারা কলকাতার ধর্মতলায় হাজার খানিক লোক জড়ো করেছিল ২০ আগস্ট, - হাইকোর্টের অর্ডারকে অমান্য করেই। তারা জড়ো হয়েছিল, ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের পিছনের ছোট্ট একটু জায়গায়। যেখানে ১০০ জন লোকেরও দাঁড়ানোর জায়গা নেই।
বলতে দ্বিধা নেই, রাজ্যবাসী সেদিন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর মুখে বারবার ওয়াকফ ও এসআইআর বিরোধী ধর্না মঞ্চের কথা শুনলেও, বাস্তবে ওই দিন তারা কোনো মঞ্চই বাঁধেনি। এই ধরনের ধর্নার ক্ষেত্রে দু এক দিন আগে থেকে মঞ্চ, মাইক ইত্যাদি প্রস্তুত করাটাই দস্তুর। কিন্তু তারা তা করেননি।
ফলত যা হবার তাই হয়েছে, হাজার খানিক উশৃঙ্খল জনতা যেন দখল নিয়ে নিয়েছিল ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদ সংলগ্ন জনবহুল চৌরাস্তা। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের শুরু হয়েছিল ধস্তা ধস্তি। এক দিনের জন্য গ্রেফতারও হয়েছিলেন আন্দোলনকারী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী, ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লা, মওলানা মুহম্মদ কামরুজ্জামান, হাকীকুল ইসলাম সহ মুসলিম জোটটির ৯৬ জন সমর্থক ও নেতা।
অবশ্য গ্রেফতারের পরের দিন জেল থেকে বেরিয়েই গলায় ফুলের মালা নিয়ে, হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কামান দেগেছিল নওশাদ সিদ্দিকী। শত খানিক ভক্তদের সামনে তিনি আবার একবার ওয়াকফ আন্দোলনের প্রধান শত্রু হিসাবে দেগে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তথ্য বলছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের এক সভা থেকে বলেছিলেন,
“বাংলায় ওয়াকফ আন্দোলন করা যাবে না। এই আন্দোলন করতে হলে দিল্লিতে গিয়ে করুন।”
ফলত, মুখ্যমন্ত্রীর এই ভয়ংকর কথা রাজ্যের অসংখ্য তৃণমূল পন্থী মুসলিমদেরও মন ভেঙে দিয়েছিল সেদিন। এমনকি সেদিন তিনি কেনো এমন একটি অনৈতিক ও বে আইনি কথা বলেছিলেন, আজ পর্যন্ত তারও কোনো ব্যাখ্যা দেননি । যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে “কালো দাগ” হিসাবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে ইতিহাসে বলে অনেকের ধারণা।
অথচ, সেদিন রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছিল, বাম আমলে মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটি ভয়ংকর মিথ্যা কথন। বুদ্ধবাবু বলেছিলেন, রাজ্যের মাদ্রাসা গুলো নাকি সন্ত্রাসবাদীদের আঁতুড়ঘর। বলতে দ্বিধা নেই সেই ঘটনার পর থেকে রাজ্যের মুসলিম সমাজ একপ্রকার চিরদিনের জন্যই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সিপিএমের দিক থেকে।
কিন্তু ওয়াকফ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের একপ্রকার হুমকির পরেও তথ্য বলছে অন্য কথা।
আজকের তারিখ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের অনুমতিতে প্রায় পঞ্চাশটার ও বেশি জায়গায় ওয়াকফ আন্দোলন হয়েছে নানা আঙ্গিকে। আমি নিজে ও দামাল নেতা দীপক ব্যাপারী এবং বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স এর নেতা রাজীব কান্তি রায় সেই সব সভা গুলির বেশ কয়েকটিতে বক্তব্য রেখেছি হাজার হাজার মানুষের সামনে। এমনকি গত দেড় মাসের মধ্যে হাওড়া ও কলকাতা মেটিয়াবুরুজ বাজারে বহু মানুষের সামনে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে বক্তব্য রেখেছি, মওলানা মুহম্মদ হাসিবুর রহমান পরিচালিত তৌহিদী জনতা নামে একটি সংগঠনের ডাকে। শুধু আমি একা নয়, মুখ্যমন্ত্রী বাধা দেবার পরেও বেশ কয়েকটি মঞ্চে আমি ও মুসলিম প্রসোনাল ল বোর্ডের বাংলার প্রতিনিধি মওলানা কামরুজ্জামান এক সঙ্গে বক্তব্য রেখেছি। গত কয়েকদিন আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল শহরের মুসলিম মহিলাদের নেতৃত্বে ওয়াকফ আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনে বেশ কিছু হিন্দু মহিলাও সামিল হয়েছিলেন।
আগামী সপ্তাহে তৌহিদী জনতার ডাকে কলকাতা নিউটাউনে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনে আমি উপস্থিত হচ্ছি। প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই পুলিশ অনুমতি ও পাহারা দুটোই দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীরই নির্দেশে। তবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীর থেকে
“ওয়াকফ বিরোধী” তকমা ঘুচবে না হয়তো কোনো দিনই। - এটাই রাজনীতি।
রাজনীতিতে বুঝি এটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে “ভোট চোর বিজেপি” র বিরুদ্ধে তোলপাড় হয়ে উঠেছে গোটা ভারত। তথাকথিত এসআইআর এর কারণে ৬৫ লাখের বেশি মানুষের নাাম বাতিল হয়েছে বিহার রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে। বলতে দ্বিধা নেই আসামের এনআরসি ছুট ১৯ লাখ মানুষের মতোই বিহারের ৬৫ লাখ মানুষকে রাষ্ট্রহীন বে নাগরিক করতে চলেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে তোলপাড় গোটা ভারত। তবু এ বিষয়ে তেমন ভাবে মুখ খোলেনি বাংলার আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী। এমনকি, তিনি এবং তাঁর দাদা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী বারবার বলেছেন, মুসলিমদের কোনো ভয় নেই এসআইআরে। তারা বলেছেন, দাদুর কবর স্থান দেখালেই নাকি এসআইআরে নাম উঠে যাবে। অথচ সেই নওশাদ সিদ্দিকীই ওয়াকফ ও এসআইআর বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন গত ২০ আগস্ট, কলকাতার ধর্মতলা থেকে। অবশ্য রাজনীতিতে এ সব হয়েই থাকে। খবর পেলাম, মুসলিম জোটের অন্যতম প্রধান মওলানা কামরুজ্জামান গত ২১ -২২ ডিসেম্বর, আসাম গিয়েছিলেন, অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের ডাকে। সে সময়ই নাকি তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করেছিলেন। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে,
নওশাদ পরিচালিত এই মুসলিম জোটের প্রথম সারির একাধিক নেতা এখন গোপনে তৃণমূল পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে আগামী বিধান সভা নির্বাচনের টিকিট পাবার জন্য। আমার মতে রাজনীতিতে এ সব হতেই পারে। কিন্তু যেটা হতে পারেনা সেটা হচ্ছে, নিজেদের পরিচিতি ও “সংখ্যালঘুদের নেতা” ইমেজকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি সহজ সরল সাধারণ মুসলিম মানুষকে, ভয়াবহ খাদের কিনারায় চোখ বেঁধে দাঁড় করানো। সেটা ক্ষমার অযোগ্য। অপরাধ। জাতির সঙ্গে বেইমানি করা ছাড়া কিছু নয়।
এ প্রসঙ্গে দামাল বাংলা সংগঠনের প্রতিনিধি অধ্যাপক সৈকত ভট্টাচার্য বলেন, ভারতে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন
“মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড” মূলত এলিট মুসলিমদের সংগঠন। লোকসভায় “ওয়াকফ বিল” জমা হবার সময় থেকে তারা চোখে পরার মতো কোনো আন্দোলন করে নি। তাদের আন্দোলন বিলটি আইনে রূপান্তরিত হবার পরে থেকে।
বলতে দ্বিধা নেই, তারা নির্ভরশীল দেশের সুপ্রিম কোর্টের উপর। মনে হচ্ছে বাবরি মসজিদ ইস্যু তাদের শিক্ষা দেয়নি।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত এডভোকেট ওমর ফারুক গাজী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ বিষয়ের “ উমিদ” নামে পোর্টালটি চালু হয়েছে এ বছর ৬ জুন। অর্থাৎ তিন মাস হতে চললো। অর্থাৎ মুসলিমদের হাতে সময় আছে আর মাত্র ৩ মাস। বড়ো জোর ৬ মাস। তারপর কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি দখল নেবে প্রশাসনের মাধ্যমে, আইনের মাধ্যমেই।
যদিও সরকারের “উমিদ” নামে পোর্টালটাকে বয়কট করাটা যথেষ্ট যুক্তি সংগত। কিন্তু সে ব্যাপারে রাজ্যের বা দেশের মুসলিম সমাজকে অন্ধকারে রাখাটা সঠিক নয়। মূলত রাজ্যের মুসলমানরা যাতে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও প্রতিবাদে মুখর হয়ে না ওঠে তাই নওশাদ সিদ্দিকীর বাহিনী ওয়াকফের বর্তমান স্ট্যাটাস সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রেখে দিয়েছে পুরোপুরি। এ ঘটনা ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনতে চলেছে মুসলিম সমাজে। বললেন সমাজকর্মী দীপক ব্যাপারী।
দামাল বাংলা
28/8/2024
Read MoreAuthor: মানিক ফকির
Social Hindu 29-August-2025 by east is risingঅত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বুঝুন, বৈধ উদ্বাস্তুদের বা শরণার্থীদের জন্য দেশে চালু আছে সি এ এ ২০১৯।
অসচেতনতার কারণে প্রায় সব অবৈধ বিদেশি ই (বাংলাদেশি, পাকিস্থানি ) নিজেকে বৈধ প্রমাণ করতে পারেন নি।
আবার তথাকথিত “ সি এ এ “ তেও আবেদন করেন নি তারা “ দামাল বাংলা “ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনে। ফলত হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের “ বাঙালিদের দাস “ বানানোর প্রকল্প পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
এবার ওরা এনেছে “ সার “ বা “ S I R “ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন। আইনত এটার কাজ হচ্ছে, মৃত ভোটার, একাধিক কেন্দ্রে নাম থাকা ভোটার, এক কথায় ভুয়ো ভোটার গুলো বাতিল করে, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা। যা সারা বছর ধরেই করে থাকে নির্বাচন কমিশন। আর এটা শুরু হয়েছে, ১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম ভোটার তালিকা প্রকাশ হবার পরে থেকেই।
কিন্তু তথাকথিত CAA এর মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে না পেরে ওরা এবার ব্যবহার করছে S I R কে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য। অবৈধদের জন্য নয়।
একজন বিদেশী যদি ভারতে বসবাস করতে চায় পাকাপাকি ভাবে, তাহলে প্রথমেই তাকে ভারতের আইন মেনে, ভারতের নাগরিক হতে হয়। এর পর সংবিধানের ৩২৬ ধারা অনুযায়ী তাদের ভোটাধিকার অর্জন করতে হয়, এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে।
তারমানে S I R এ যে ১১ টি ডকুমেন্ট ও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকাকে এই কাজ সফল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা রাষ্ট্রের একটি কৌশল। যা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীরা করে থাকে। যেমন ভাবে তথাকথিত CAA প্রকাশ করার আগে ও পরে দেশের হিন্দু উদ্বাস্তুদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছিল বিজেপি । এমনকি হিন্দু - মুসলমানদের মধ্যে তীব্র বিভাজন তৈরিতে চূড়ান্ত ভাবে সফল হয়েছিল তারা।
মোট কথা যে মানুষ ভারতের নাগরিক নন, সংবিধানের ৫ থেকে ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে, সেই মানুষের S I R এ চাওয়া ১১ টি ডকুমেন্ট ই ভুয়ো বা জালি। সরকারের অতি উন্নত প্রযুক্তি অতি সহজেই চিহ্নিত করে নিতে পারবে, তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারী অনুপ্রবেশকারী যদি নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট ছাড়া ভারত সরকারের দেওয়া আরো ১০০ টি ডকুমেন্ট জমা দেয়, তাতেও তিনি ধরা পড়ে যাবেন সরকার যদি চায়।
২০০২ সালের ভোটার তালিকার “ মাহাত্ম্য। “
( ক ) বর্তমানে বিজেপি বিধায়ক কবিয়াল অসীম সরকারের হিসাবে “ প্রায় ১ কোটি মতুয়া নমঃশূদ্র ভোটারের নাম বাতিল হতে পারে ২০০২ এর তালিকায় নাম না থাকার কারণে। “
ফলে এই এক কোটি মানুষের সন্তান সন্ততিরাও বে নাগরিক।
( খ ) যে মানুষটি ২০০২ সালে বা তার আগে অবৈধ পথে ভারতে ঢুকেছেন এবং টাকা খরচ করে ভোটার কার্ড কিনে নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, তিনি মনে করছেন, তিনি বুঝি ভারতের নাগরিক। বাস্তব কি তাই!
না, অমরা জানি সরকার ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে ওয়েবসাইটে। সুতরাং নির্বাচন কমিশন ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির পূর্বপুরুষের নাম ১৯৫২ সালের ভোটার তালিকায় আছে কিনা দেখে নিতে পারবে। এক কথায় অনুপ্রবেশকারীদের লুকোচুরি বন্ধ করে,এবারই তাদের সাবার বা নিকেশ করে দিতে চায় দেশের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
# তবে শুধু মাত্র উদ্বাস্তু হিন্দুদের রাষ্ট্রহীন করাটাই বিজেপির একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বিজেপির আরো উদ্দেশ্য হচ্ছে,অসংখ্য প্রকৃত ভারতীয়দের ও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া। তাই আসল রোগটা না ধরে রোগের উপসর্গ সারিয়ে তোলা বা আপাতত সুস্থ করার ভাবনা সঠিক ভাবনা হবে না। আমার মতে S I R বিরোধী আন্দোলনকারী নেতাদেরও ভাবতে হবে গভীর ভাবে। মনে রাখতে হবে S I R একটি সংবিধান অনুসারে আইনি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, দেশের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার, বাংলার বেশির ভাগ জমির দখল নিতে চাইছে, বাংলা ভাষাকে ধ্বংস করতে চাইছে,বাঙালিদের এক বিরাট সংখ্যক মানুষকে “ সস্তা শ্রমিক “ বানাতে চাইছে। সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া কোটি কোটি মানুষদের জায়গায় অবাঙালি গুজরাটি, মারাঠি, মাড়োয়ারিদের ঢুকিয়ে দিতে চাইছে।
ফলত, বলা যেতেই পারে এক ভয়াবহ যুদ্ধে ঢুকে গেছে প্রত্যেকটি বাঙালি।
এই যুদ্ধের দুটি পক্ষ, দেশের মাড়োয়ারি গুজরাটি মারাঠি পুঁজি, সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট পুঁজি একসঙ্গে, বনাম ভারতকে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন করার প্রধান জাতি বাঙালি।
তাই ধনী দরিদ্র ধর্ম বর্ণ সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের লড়াইয়ের ময়দানে নামতেই হবে। কারণ,ধূর্ত হিন্দুত্ববাদী বিজেপি তথাকথিত সি এ এ এর মাধ্যমে কোটি কোটি “ উদ্বাস্তু হিন্দুকে নাগরিকত্বের প্রলোভন দিয়ে খাঁচায় ঢোকাতে অনেকটা বেশী সময় নিয়ে ফেলার ফলে তাদের পিছনে “ দামাল বাংলা “ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত “ ফেউরা লেগে গিয়েছিল। তাই তারা জনগণকে আর ভাবার সময় না দিয়েই তড়িঘড়ি “ S I R “ করে তাদের পরিকল্পনা সফল করতে চাইছে। -চিন্তা নেই, তথাকথিত CAA এর মতোই, “ S R I “ তেও বাঙালি জল ঢেলে দেবে। দেবেই। প্রয়োজনে শুরু হবে আবার স্বাধীনতার লড়াই।
মানিক ফকির
দামাল বাংলা
১৬/৮/২০২৫
9836327536
Read MoreAuthor: মানিক ফকির
mythical General Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্রোণাচার 17-August-2025 by east is risingকম্পিলড টু সিক শেল্টার “ এই একটি শব্দ আজ বহু হিন্দু উদ্বাস্তুকে চিরকালের জন্য বে নাগরিক করে দিচ্ছে। আজকাল রাজ্যের বর্ডার এলাকার বেশ কিছু এলাকায় রীতিমত ক্যাম্প করে করে তথাকথিত সিএএ ২০১৯ এর পোর্টালে আবেদন করাচ্ছেন বিজেপির নেতারা। সঙ্গে বেশ কয়েকজন হিন্দুত্ববাদী উচ্চ শিক্ষিত ও সরকারি আমলাও থাকছেন। বলতে দ্বিধা নেই, যেহেতু এ বিষয়ের রাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিরোধী বলে পরিচিত, রাজ্যের তৃণমূল সরকার ও দামাল বাংলা নামে একটি সংগঠন, এবং এরা বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন নির্লিপ্ত হয়ে আছে, তার ফলে এটারই সুযোগ নিয়ে “ ছেলেধরার দল “ বেরিয়ে পড়েছে “ দেশ ভাগের বলি, “ অখণ্ড ভারতের ভূমি সন্তানদের চিরকালের জন্য রাষ্ট্রহীন বে- নাগরিক করার কাজে। আমরা জানি ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব আইনে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে, আইনটিতে উল্লিখিত তিনটি দেশের ছয়টি ধর্মের মানুষ, যাঁরা পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও ফরেন অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন তারা আর ইললিগ্যাল মাইগ্রেন্ট নন। অর্থাৎ অবৈধ অভিবাসী নন।
ফলত বিজেপি সমর্থকদের ধারণা হয়েছে, যেহেতু ইললিগ্যাল নন কথাটা লেখা আছে, ফলত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হয়ে থাকা মানুষ গুলো লিগ্যাল বা বৈধ হয়ে গেছেন। কিন্তু বিপত্তিটা হচ্ছে, সিএএ ১৯ এর শর্ত নিয়ে। আইনটির মূল শর্ত গুলোর প্রধান দুটি শর্ত হচ্ছে, পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯২০ ও ১৯৪৬ সালের বৈদেশিক আইনে ছাড় পেতে হবে।
বলতে দ্বিধা নেই, এই কথাটি এতদিন বিজেপি কর্মী - সমর্থক ও নেতারা প্রকাশ করতেন না। কিন্তু এখন তারা প্রচার করছেন, খুবই জোরের সঙ্গে। আর এটাই বুঝি তাদের লোক ঠকানোর মূল মন্ত্র। তারা বেশ কয়েকজন উকিল ও তাদের সমাজের প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বলছেন,
২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দেশের সরকার পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও বৈদেশিক আইনে ছাড় দিয়ে দিয়েছে। বলছেন,সেখানে লেখা আছে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট তিনটি দেশের ছয়টি ধর্মের মানুষ যারা ধর্মীয় কারণে বা ধর্মীয় নির্যাতনের ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বা আশ্রয় চাইতে বাধ্য হয়েছে তাদের জন্যই দেশের হিন্দু হৃদয় সম্রাট প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদী সব কিছুতে ছাড় দিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ পাসপোর্ট - ভিসা ছাড়া অবৈধ পথে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতে এলেও তারা নাগরিকত্ব পাবে। অর্থাৎ সিএএ পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন।
আর এ কথাটাই বলছেন উদ্বাস্তু ও দলিত নেতা বিখ্যাত সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস মহাশয়ও। সুতরাং “ দুয়ে দুয়ে চার “ হয়ে গেলো।
মোটকথা আর কোনো সন্দেহের অবকাশই বুঝি রইলনা উদ্বাস্তু হিন্দুদের। বলতে দ্বিধা নেই, আজকের তারিখেও সুকৃতি বাবু দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলছেন ২০১৪ সালের আগে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের অনুপ্রবেশকারী তকমা মোচন হয়ে গেছে। ফলত রাজ্যের উদ্বাস্তু মানুষরা গত কয়েক বছর ধরে নাগরিকত্ব আদায়ের জন্য কোনো আন্দোলনই করেন নি। এমনকি দল বেঁধে তারা বিজেপি সমর্থক হয়ে গেছেন। কারণ, তাদের ধারণা হয়েছিল তারা বুঝিবা বৈধ শরণার্থী হয়ে গেছেন ভারতে। - এবার নিশ্চয় বিজেপি সরকার তাঁদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে।
কিন্তু এই কথা গুলো যে সম্পূর্ণ ভুল, এমনকি সি এ এ ২০১৯ এর মাধ্যমে যারা নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদের নাগরিকত্ব গুলোও যে বাতিল হয়ে যেতে পারে সে কথা আজ মেনে নিলেন সি এ এ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা তাপস কান্তি বিশ্বাস ও। কারণ তিনি সি এ এ বিরোধী হলেও “ দামাল বাংলার ব্যাখ্যার সঙ্গে তার ব্যাখ্যার কিছুটা অমিল ছিল।
আসলে “ ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পাসপোর্ট অ্যাক্টের রুল ও ফরেনার্স অ্যাক্টের অর্ডারে উল্লিখিত একটি ইংরেজি শব্দের ব্যাখ্যা বহু উদ্বাস্তুকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। আর এ কথা গুলো আমরা বারবার বুঝিয়েও বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ও নিখিল ভারত বাঙালি সমন্বয় সমিতির প্রধান ডাক্তার সুবোধ বিশ্বাসকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত করতে পারিনি। অবশ্য এক্ষেত্রে আমি আমার বিশেষ পরিচিত ও বন্ধু এই দুজনকেই পুরোপুরি দোষ দিই কি করে! এর জন্য আসল দায়ী তো ইন্টারনেট ও গুগল।
কারণ ওই যে “ কম্পিল টু সিক শেল্টার “ কথাটা ! বিজেপি নেতা ও বিজেপি পন্থী উদ্বাস্তু নেতারা CAA ক্যাম্পে দাঁড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে কিছু কথা বলার পর বলছেন, আপনারা গুগল সার্চ করে পাসপোর্ট অ্যাক্টটা একবার দেখে নেবেন। সেখানে বলা আছে “ যাঁরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা লাগবে না। এমনকি কাঁটা তার পেরিয়ে পেরিয়ে ভারতে এলেও তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন, এমনকি বহু লোক পাচ্ছেন ও বটে। এই বলে তারা কিছু উদাহরণ দিচ্ছেন, যেমন তারা বলছেন, চুপি চুপি বেশ কয়েকজন তৃণমূল পার্টির বিধায়ক, কয়েকজন উকিল, এমনকি দু একজন জজ সাহেবরাও সি এ এ পোর্টালে আবেদন করছেন। তবে আবেদনকারীদের নাম বলছেন না বিজেপি নেতারা।
নাম বলছেন না, কিন্তু যারা সার্টিফিকেট পাচ্ছেন, তাদের সেই ভুয়ো সার্টিফিকেট গুলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা উদ্বাস্তু হিন্দুদের আকর্ষণ করার জন্য।
বাস্তবে “ seek “ মানে চাওয়া , একথাটা প্রায় সকলেই জানেন। কিন্তু কেউ যখন গুগুলে “ কম্পিল টু সিক শেল্টার “ কথাটার অর্থ জানতে চাইছে, তখনই গুগল বলছে,কথাটির অর্থ হচ্ছে, “ আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছি। “ ব্যস এখানেই বাজিমাত করে দিচ্ছে বিজেপি নেতারা। কিন্তু বাস্তবে “ কম্পিল টু সিক শেল্টার “ কথাটা যখন ব্যক্তিগত কারণে বা ব্যক্তিগত অ্যাপিল বোঝায় সে ক্ষেত্রে অর্থ দাঁড়ায় “ আশ্রয় নিতে বাধ্য হওয়া। “ কিন্তু এই কথাটা যখন ফরমাল ও লিগ্যাল বিষয়ে ব্যবহার হয় তখন সেটির অর্থ দাঁড়াচ্ছে,
“ আশ্রয় চাইতে বাধ্য হওয়া “
ফলে চাওয়া আর নেওয়া, এই দুটো শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে থাকছে বাঙালি সমাজের এক বিরাট অংশের মানুষের জীবন। দামাল বাংলার ব্যাখ্যা হচ্ছে, “ আশ্রয় চাওয়া “ অর্থাৎ “ যাঁরা আশ্রয় চেয়েছেন। “
আর একারণেই গত ২০২৩ এর ১৮ ডিসেম্বর মিনিস্ট্রি অফ হোম এর ওয়েবসাইটে একটি ১১ পাতার ঘোষণা দিয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তবে খুবই সন্তর্পনে। ঘোষণাটি হচ্ছে “ লং টার্ম ভিসা “ পাবার আবেদন। সেটির ৮ থেকে ১১ নম্বর পাতাটি হচ্ছে, সি এ এ ২০১৯ অনুসারেই। সেখানে তথাকথিত CAA১৯ টা বসানো আছে হুবহু।
বাস্তবে “ লং টার্ম ভিসা “ বা এলটিভি পাবার বিষয়টা অনেক আগে থেকেই আছে আমাদের দেশে। LTV পাবার সুযোগের ক্ষেত্রে আগে ছিল পাকিস্থান ও আফগানিস্তানের নাম। পরে সম্ভবত ২০২৩ সালে বাংলাদেশ কথাটাও যুক্ত করা হয়। মোট কথা উদ্বাস্তু হিন্দুদের মধ্যে তারাই সি এ এ তে আবেদনের যোগ্য হবেন যারা LTV নিয়মকানুন এর ৮ নম্বর থেকে ১১ নম্বর ভালো করে বুঝে আবেদন করবেন এবং সরকারের কাছে আশ্রয় চাইবেন তারাই। সরকারের ফরেন রেজিস্ট্রেশন অফিসার এই আবেদন মঞ্জুর করেন আবেদনটি পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে। তারপর তিনি একটি সার্টিফিকেট দেন। বাস্তবে সেই সার্টিফিকেটটি যুক্ত করতে হয় সিএএ আবেদনের সঙ্গে । আর এটাই আমরা দেখতে পাবো তথাকথিত সি এ এ এর একদম শেষের দিকে। সেখানে আবেদনকারীকে স্বীকারোক্তি দিতে হয় এই বলে যে, তিনি অমুক দিন পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও ফরেন অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন। বাস্তবে হয়তো বাংলার কোনো অবৈধ অভিবাসীই ছাড় পাননি। কারণ তারা হয়তো কেউই বিষয়টা জানেন না। ফলত নাগরিকত্ব পাবার লোভে তারা বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ও দলিত নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসদের বিশ্বাস করে সি এ এ পোর্টালে স্বীকারোক্তি করে ফেলছেন “ পাসপোর্ট অ্যাক্ট ও ফরেনার্স অ্যাক্টে ছাড় পেয়েছেন ভেবে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আবেদনকারীর জীবনের পক্ষে ভয়াবহ। এমন কি বাঙালি সমাজের পক্ষেও মারাত্মক!
মানিক ফকির / Manik Mondal
দামাল বাংলা
9836327536
10/10/2025
Read MoreAuthor: মানিক ফকির
Religion Hindu 11-August-2025 by east is rising
