গো-মাতা এবং গো-পিতা হত্যা বন্ধ হলো পশ্চিমবঙ্গ।
কিন্তু আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে এটা একা বিজেপি করেনি।
ভারতের পবিত্র সংবিধানের আর্টিকেল 48 -এ গোহত্যা নিষিদ্ধ আছে। এবং রাজ্যের এক্তিয়ার আছে প্রয়োজনমতো আইন প্রণয়ন করার। জাতির জনক গান্ধীজিও গোহত্যার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি গোহত্যাকে মাতৃহতত্যার সমতূল্য মনে করতেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন স্বরাজ পাওয়ার চেয়েও গোহত্যা বন্ধ বেশি জরুরী।
এবং পশ্চিমবঙ্গে এটা প্রথম নয়। এটা ১৯৫০ সালের কংগ্রেস সরকারের করা বিধিমালা। যা মুসলিমদের প্রিয়তমা হিন্দু কংগ্রেস প্রণয়ন করেছিল। এবং মুসলিমদের বন্ধু সিপিয়েম এবং তৃণমূল কখনও প্রত্যাহার করেনি।
মুসলিমদের বুঝতে হবে তারাই এতোদিন বেআইনিভাবে গোমাতা হত্যা করছিল। ভোট ব্যাঙ্কের বিনিময়ে ধূর্ত হিপোক্রিট ফেক সেক্যুলার দলগুলো ছাড় দিত মাত্র।
মুসলিমরা যদি চূড়ান্ত গন্ডমুর্খ, পাগল এবং শয়তান না হয় তাদের এটাও বোঝা উচিত যে গান্ধীর সফ্ট হিন্দু কংগ্রেস এরকমই হিন্দু ভারতবর্ষ তৈরি করতে চেষ্টা করেছিল। এই জন্যই মর্দে আজাদ হযরত আল্লমা ইকবাল,মি জিন্নাহ, হিজ হাইনেস তৃতীয় আগা খান পার্টিশনের মাধ্যমে এক তৃতীয়াংশ মুসলিমদের এ থেকে বের করে দেন। আলহামদুলিল্লাহ।
এবার আমাদের যাদের পুর্ব পুরুষ হিন্দু রাস্ট্র ভারতে থেকে গেছে, সে যে কারণেই হোক, আমাদের উচিত এদেশের আইন সংবিধান মেনে চলা।
কারণ আমাদের পূর্ব পুরুষরা এগুলো জেনেই এখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হিন্দু জাতি পৃথিবীর অন্যতম মহান একটা জাতি। তাদের নিজস্ব জীবনশৈলী এবং প্রথা ও আইন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেই অনুযায়ীই এদেশ চলবে। তারা আমাদের থাকতে দিয়েছে। আমাদের উচিত তাদের আইনকে সম্মান করা। একান্ত সমস্যা হলে দেশত্যাগের চেষ্টা করা। অন্যথায় আইনের প্রকোপে জান ও মালের দারুণ ক্ষতি হবে।আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত রাস্ট্রের বিরুদ্ধে যাওয়া অস্ত্রহীন মাইনরিটির উচিত নয়। এছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধেও অযথা রণমুর্তি হওয়ার কোনো কারণ নেই যেহেতু এগুলো মুসলিমদের প্রাণপ্রিয় "নবীতূল্য" গান্ধীর আইডিয়া। নেহেরু গান্ধীর সংবিধান এই আদর্শের উপর লিখিত। নেহাতই পাশ্চাত্যের চাপে ইন্দিরা গান্ধী "সেক্যুলার" শব্দটি যোগ করেছে পরে।
অবশ্য আইন অনুযায়ী গরু জবাই হউক, কিন্তু একটা গরুর ১৪ বছর বয়সের পর জবাই করার আইনটা কমিয়ে ৩ থেকে ৪ বছর করার আবেদন রইলো! পশ্চিম বঙ্গের Gen-Z ও Gen-Alfa তরফ থেকে!!
The West Bengal Animal Slaughter Control Act - 1950 // পশ্চিমবঙ্গে গরু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত।
পশ্চিমবঙ্গে সব ধরনের গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে আইন অনুযায়ী—
সুস্থ ও কর্মক্ষম গরু জবাই করা যায় না।
জবাই করতে হলে সরকারি অনুমোদিত ভেটেরিনারি সার্টিফিকেট লাগবে।
সাধারণত তখনই অনুমতি মেলে যখন পশু:
১৪ বছরের বেশি বয়সী.
অথবা চাষ/দুধ/প্রজননের অযোগ্য.
অথবা স্থায়ীভাবে অসুস্থ বা অক্ষম।
Calcutta High Court ২০১৮ সালে নির্দেশ দেয়:
প্রকাশ্যে পশু জবাই বন্ধ করতে হবে,
রাজ্য সরকারকে West Bengal Animal Slaughter Control Act কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে ?
Supreme Court of India এক মামলায় বলেছিল—
বকরিদে “সুস্থ গরু” কোরবানি ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক নয়,
তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইনের বাইরে গিয়ে healthy cow জবাইয়ের বিশেষ ছাড় দিতে পারে না।
বিঃদ্রঃ - প্রত্যেক গরু ফার্ম হাউস কিংবা গরু বিক্রেতা দের অনুরোধ আপনারা প্রত্যেকে ব্যাবসার জন্য চালান বিল, লাইসেন্স সহ বিক্রি করবেন! যাতে ক্রেতার প্রশাসনিক হেনস্তা না হতে হয়!