বাঙালি হিন্দুর নারী পূজারী কালচার ধ্বংসের পথ

02-October-2025 by east is rising 252

দুর্গা পুজো ক্যালকোলিথিক বা তাম্রপ্রস্তর যুগের কালচার। যখন মানুষ সবে কৃষি শিখেছে, নারীর গর্ভের উর্বরতা ও মাটির উর্বরতা মিলিয়ে "মাটি মানে মা" দর্শন গোটা সমাজের বুনিয়াদ। কৃষি মাটি নারী মাতৃত্ব মিলিয়ে একটা বিশেষ মানব সভ্যতার স্তর।

কিন্তু এর পরে যখন কৃষি উৎপাদন বাড়ে, কুটির শিল্প বাড়ে, বাজারজাত দ্রব্য বাড়ে, বাণিজ্য ও নগর বাড়ে। দূরবর্তী যাতায়াত বাড়ে। নগর ও বাণিজ্য ও কৃষি আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে সেনা লাগে। দূরবর্তী যাতায়াত, বাণিজ্য ও যুদ্ধ করতে পুরুষ লাগে। তখন যোদ্ধা পুরুষ দেবতা পুজো শুরু হয়। প্রপার ব্রোঞ্জ যুগ এভাবেই আসে।

তাম্রপ্রস্তর যুগের "মাটি মা নারী" কালচার-এর জায়গায় ব্রোঞ্জ যুগে "যোদ্ধা পুরুষ" কালচার গড়ে ওঠন এরপরে রাষ্ট্র তৈরি হলে ক্ষমতাকে সিস্টেম হিসেবে বুঝতে থাকে মানুষ, শুরু হয় নিরাকার উপাস্য তত্ত্ব।

এদিক থেকে দেখতে গেলে দক্ষিণ এশিয়াতে মুসলমানরা সবচেয়ে এগিয়ে। তারপরে হিন্দি-গুজারাতি-মারাঠি-তামিল হিন্দুরা (রাম কৃষ্ণ গণেশ মুরুজ্ঞান অর্থাৎ কার্ত্তিক- এর মতো পুরুষ দেবতা পুজো করে)। শেষে বাঙালি হিন্দুরা। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে নারী পূজারী কালচার এখনো রয়ে গেছে কিছু ক্ষেত্রে। সেটাই পিছিয়ে দিচ্ছে বাঙালি মুসলমানদের। আফঘানরা পুরোপুরি নিরাকার উপাশনা করে। সেই জন্যেই দক্ষিণ এশিয়াতে তারা শ্রেষ্ঠ। উর্দুদের মধ্যে কিছুটা পুরুষ পুজোর মনন রয়ে গেছে যা খুব ক্ষতিকর নয়। হিন্দি হিন্দুদের মধ্যে কিছুটা নারী পূজারী মনন ছিল। কিন্তু শিল্পায়ণ বানিজ্য বৃদ্ধি, নগরায়ণ হিন্দিদের আরও উগ্র পুরুষ পূজারী করে তুলেছে। "জয় সিয়ারাম" এভাবেই হয়ে গেছে "জয় শ্রী রাম"।

অন্যদিকে নারী পূজারী বাঙালি হিন্দুরা যুদ্ধ করে আদি পুঁজি তৈরি করতে পারেনা, তাই ব্যবসা করতে পারেনা। এরা বর্তমানে হিন্দি হিন্দু পুরুষদের রক্ষিতা যোগানদাতা হয়ে যাচ্ছে। বাঙালি হিন্দু-দের জন্মহারও অস্বাভাবিক রকম কম। ফলে এরা বাঙালি মুসলমান ও হিন্দি হিন্দুদের সাঁড়াশি চাপে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like