বাংলায় উচ্চ বর্ণ হিন্দু বনাম আশরাফ মুসলমান

02-October-2025 by east is rising 204

৪৬ এ হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণের প্রধান মুখ কিন্তু কোনো মুসলমান কৃষক নেতা ছিলনা, যেমনটা প্রচার করা হয়। ছিল সোরাবার্ডি পরিবার, বা গোলাম সারওয়ার রা। এরা কিন্তু প্রত্যেকে খাঁটি আশরাফ! এবং, প্রায় কেউই হিন্দু কনভার্ট (হিন্দু নিম্নবর্ন কনভার্ট) নয়। এরা বেশিরভাগই অতীতে ইরান আদি অঞ্চল থেকে আগত।

সোহরাওয়ার্দী পরিবারের মুসলমান সমাজে status সেটাই যেটা হিন্দু সমাজে কুলীন বসু দের status

সোহরাওয়ার্দীদের প্রায় ১৩০০ বছরের সুবিস্তারিত বংশ কুলপঞ্জিকা লিপিবদ্ধ আছে। সোহরাওয়ার্দীদের বংশের নাম আসছে পুরোনো ইরানের Sohraverd নামের একটি শহর থেকে, এমনকি এই বংশ দাবি করে যে তারা আরবের প্রথম Caliph এর bloodline এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। সোহরাওয়ার্দীদের ভারতবর্ষে আগমন হয়, চিস্তি দেরও আগে, এবং এরা ছিল ভারতে আসা প্রথম সুফি পরিবার। সোহরাওয়ার্দী দের কিছু শাখা ইরানে ফেরত চলে যায়, এবং একটি শাখা বসতি স্থাপন করে বাংলার মেদিনীপুর এ। অনেকেই জানেনা কিন্তু, সিরাজদ্দৌলা এর বংশের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ছিল এই সোহরাওয়ার্দী পরিবার।

অর্থাৎ বলা যায়, সোহরাওয়ার্দী দের চোখের সামনেই বাংলায় রাজা নবকৃষ্ণ দেব দের হাতে নবাবী/ মুসল্মান শাসনের অবসান ঘটে, এবং তাদের চোখের সামনেই তারা দেখে, ব্রিটিশ আগমনের পরেই আশরাফ মুসলমান দের Completely Destroy করা হয় politically হিন্দু উচ্চবর্ণ বিশেষত, কায়স্থদের দ্বারা। এই destruction এতটাই intense ছিল যে, পরের ১৫০ বছরে কলকাতার সমাজে কোনো সমৃদ্ধ আশরাফ এর নাম দূরদুরান্তেও খুঁজে পাওয়া যেতনা। বাংলার ধনী মুসলমান সমাজটাকে completely Appropriate (জমি ভেড়ি নারীর লুণ্ঠন) করে শেষ করে দেওয়া হয় হিন্দু উচ্চবর্ণের (বিশেষত কায়স্থ) দ্বারা।

Even তিতুমীরকে represent করা হয়, কোনো কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে। কিন্তু, এই তিতুমীর কিন্তু ছিলেন খাঁটি বিশুদ্ধ সৈয়দ আশরাফ। সেই সৈয়দ তিতুমীর এর সাথে সংঘর্ষ বাঁধছে কার?

রাজা কৃষ্ণদেব রায় নামের এক উচ্চবর্ণের কায়স্থ জমিদারের, যাকে সঙ্গ (ammo, লেঠেল/manpower) প্রদান করছে আরও কিছু দত্তচৌধুরী, নাগচৌধুরী আদি কায়স্থ জমিদার।

আমরা সবাই সত্যজিৎ রায়কে Secular মানসিকতার ব্যক্তি বলে জানি। কিন্তু, এটা কতজন জানে, যে সত্যজিৎ এর প্রপিতামহ মানে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পিতা যুগলকিশোর রায়চৌধুরী, যারা ময়মনসিংহের কায়স্থ জমিদার ছিল নিজেরা, সেই তিনি ১৭৭১ সালে সিন্ধ্য পরগনার মুসলমান জমিদার মহম্মদ খান এর ওপরে প্রায় ৫০০০ লাঠি, শর্কি, বর্শা, তরবারি চালানোয় দক্ষ সৈনিক নিয়ে আক্রমণ চালান এবং, মহম্মদ খান কোনক্রমে প্রাণ হাতে নিয়ে পাটনা পালান। এই ঘটনা পরে ব্রিটিশ Court এ ওঠে, কিন্তু বৈষয়িক বুদ্ধির (Court এ Lobby) জোরে যুগলকিশোর বেরিয়ে যান।

অর্থাৎ, আশরাফদের মনে হিন্দু উচ্চবর্ণের প্রতি যে বিদ্বেষ তৈরি হয়েছিল প্রায় ১৫০ বছর ধরে, সেটাই ফেটে পড়ে ৪০ এর দশকে। হিন্দুরা বহু জায়গাতেই আশরাফ ধনাঢ্যদের eliminate করে দিয়েছিল, যার ফলে বেশিরভাগ জায়গাতেই মুসলমানরা politically significance হারায়। কিন্তু, হিন্দু ধর্মজ্ঞরা কৃষক মুসলমানদের হিন্দু ধর্মে ফেরত আনার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে যে মুহূর্তে ভারতবর্ষে Electoral Setup এলো অর্থাৎ,

১. "যার যত সংখ্যা, তার তত জোর" কালচার এলো।

২. জমিদারিপ্রথা বিরোধী movement হোয়া শুরু হলো।

তখনই, হিন্দুরা হঠাৎ মাত্র ১০-১৫ বছরেই অনেকটাই রাজনৈতিক জমি হারালো। এবং, অতীতে আশরাফ দের সাথে তারা যে অত্যাচার করেছিল, তার ফল এল ৪৬ এর মধ্যে দিয়ে।

দ্রষ্টব্য: কায়স্থদের মধ্যে মুসলমান বিদ্বেষের কারণ মুসলমান বা, ইসলাম নয়। মূলত, মুঘল যুগ তার কারণ। কায়স্থরা ভেবেছিল, আশরাফ কমিউনিটি তাদের জন্য ক্ষতিকর।

সৈকত ভট্টাচার্য 
১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের পরেই এটা বুঝে যাওয়া উচিত ছিল যে জমিদারী আর বেশিদিন স্থায়ী হবে না। দুনিয়া জুড়ে শ্রমিক এবং কৃষকরা ক্রমেই নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে। সোভিয়েট ইউনিয়ন অবশ্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে অব্দি সুপারপাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। এবং অনেকেই মনে করত শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকে থাকবে না। কিন্তু জমিদারদের সবসময়ই এটা মাথায় রাখা উচিত ছিল যে সোভিয়েট ইউনিয়ন টিকে গেলে জমিদারি উচ্ছেদ হবেই। এটা দুর্ভাগ্য যে বাঙালি হিন্দু জমিদাররা যারা ব্রিটিশদের সাথে মিত্রতা করে একসময় লাভবান হয়েছিল তারা বুঝতেই পারেনি যে জমিদারি বিলোপ হতে চলেছে এবং ব্যবসার নেটওয়ার্ক তারা তখনো তৈরি করতে পারেনি।

আজকেও কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে চীনের উত্থান বাঙালি মুসলমানদের ভীষণ শক্তিশালী করে দেবে। চীনের উত্থান না হলে বাঙালি মুসলমানরা হিন্দি হিন্দুদের সামনে কোন প্রতিযোগী হিসেবে টিকতেই পারত না। কিন্তু চীনের উত্থান বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং সমগ্র বাঙালি মুসলমানদের (ভারতে যারা থাকে) প্রচন্ডভাবে শক্তিশালী করে দিয়েছে। এটা মাথায় না রাখলে বাঙালি হিন্দুদের আবারো পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশ ও পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশের পূর্ব অংশ ছেড়ে দিতে হবে।

Author: Animesh


You may also like