২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে ভারতে বাংলাবাদি আন্দোলন সম্পর্কে আমার বিশ্লেষণ

বাংলাবাদি আন্দোলন শুরু হয়েছে "বাংলা পক্ষ"-এর হাত ধরে মোটামুটি আট বছরের বেশি হয়ে গেল। এরপর আস্তে আস্তে আরো অনেক সংগঠন হয়েছে। আন্দোলন এখনো পর্যন্ত রক্ষণাত্মক রয়ে গেছে। হিন্দিভাষীদের ব্যাপক সংখ্যা বৃদ্ধি পশ্চিমবাংলায় ঘটছে দেখে ভীত হয়ে শহুরে বাঙালি মূলত এর বিরুদ্ধে কিছু রক্ষণাত্মক রাজনীতি শুরু করেছে। রক্ষণাত্মক বলেই এদের মূল কথা হলো হিন্দিভাষী অভিবাসীদের চাকরিতে যথাসম্ভব কম জায়গা দেওয়া। অন্যদিকে যদিও বাঙালি ব্যবসা করতে বলছে বাংলাবাদীরা। কিন্তু নির্মম সত্যিটা হল বাঙালির কাছে আদি পুঁজি অর্থাৎ সিড ক্যাপিটাল নেই। আর সেই জন্য বাঙালি ব্যবসা করে গুজরাটি মারওয়ারী পুঁজির (যা প্রায় ৮০ বছর ধরে বিকাশ লাভ করেছে ভারত রাষ্ট্রের মধ্যে) সাথে পেরে উঠবে না। যদি আদি পুজি অর্থাৎ সিড ক্যাপিটাল সঞ্চয় করতে হয়, তাহলে আগে গুজরাটি মারওয়ারি পুঁজিকে পশ্চিম বাংলার ব্যবসা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে এবং সেটা করতে হবে গায়ের জোরে। এই গায়ের জোরে গুজরাটি মারওয়ারি পুঁজি উচ্ছেদের প্রসঙ্গটা যখন আসবে তখনই বাংলাবাদি আন্দোলন রক্ষণাত্মক থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। 

কিন্তু এখনো পর্যন্ত বাংলাবাদী সংগঠনগুলো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারছে না। এর একটা কারণ হল বাংলাবাদি আন্দোলন এখনো পর্যন্ত মূলত শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। "জাতীয় বাংলা সম্মেলন" চেষ্টা করেছিল এই আন্দোলনকে বাঙালি মধ্যবিত্তের বাইরে নিয়ে যেতে। বিশেষ করে হকারদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু প্রবল রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে পড়ে তারা কয়েক ধাপ এগিয়েও খুব বড় সাফল্য এখনো পর্যন্ত পায়নি। "জেন-জি, পঃ বঙ্গ" এই আন্দোলনে ঢুকেছে মূলত বাঙালি মুসলমানকে বাংলাবাদি আন্দোলনে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরতলীর বাঙালি মুসলমানকে বাংলাবাদি আন্দোলনের অংশ করে তোলায় এই সংগঠনের উদ্দেশ্য। বাঙালি মুসলমানদের এই আন্দোলনের অংশ করে তুলতে পারলেই একমাত্র এই আন্দোলন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারবে। অর্থাৎ গুজরাটি মারোয়ারি পুঁজিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উচ্ছেদ করার আন্দোলন শুরু করতে পারবে। 

২০২৫ সালে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ধরপাকরের নামে ভারতের সমস্ত রাজ্যে (বিজেপি শাসিত হোক বা না হোক) শুরু হয়েছে বাঙালি উচ্ছেদ। বাঙ্গালীদের বাধ্য করা হচ্ছে অন্য রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা না বলতে। অর্থাৎ বাংলা ভাষাকে মারা এবং বাঙালি জাতিকে ভাতে মারার এক সুনিপুণ পরিকল্পনা গুজরাটি মারোয়ারি পুঁজি ও হিন্দিভাষী নিয়ন্ত্রিত ভারত রাষ্ট্র তৈরি করেছে। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করে একদিকে যেমন বাঙালি মুসলমানকে হত্যা করা হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি বাঙালি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাঙালি হিন্দুদেরও অত্যাচার করা হচ্ছে। বাঙালি হিন্দুদের এই অংশটা মূলত নিম্ন বর্ণ এবং বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন জিততে বাঙালি মুসলমান ও পূর্ববঙ্গ থেকে আসা বাঙালি হিন্দু নিম্নবর্নদের মন জিততে উঠে পড়ে লেগেছে। তৃণমূল সবসময় বোঝাতে চাইবে নির্বাচনে বিজেপি-কে হারানোটাই একমাত্র কাজ। তৃণমূল কখনোই বলবে না গুজরাটি মারওয়ারি পুঁজিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উচ্ছেদ করাটাই আসল কাজ। বরং নির্বাচনে জিতে তৃণমূল সরকার এই গুজরাটি মারওয়ারী পুঁজিরই স্বার্থ রক্ষা করে যাবে। এই স্বার্থ রক্ষা করতেই তৃণমূল সিপিএম কংগ্রেস বাঙালিকে হিন্দিভাষী উচ্ছেদের আন্দোলনে নামতে দেবে না। তৃণমূল এই জায়গায় প্রচন্ডভাবে এলার্ট। যদিও তৃণমূলেরই কোন কোন নেতা (বার্নপুর বীরভূমে যেমন ঘটেছে) আঞ্চলিক বাঙালি জনতার চাপে হিন্দিভাষী উচ্ছেদের কিছু অ্যাকশন নিয়েছে। এর থেকে বোঝা যায় বাঙালির মধ্যে হিন্দিভাষীদের ও বহিরাগতদের পাল্টা মার দেওয়ার ইচ্ছে আছে।

পাল্টা মারের ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়েই আস্তে আস্তে করে বাংলা বাদী আন্দোলনকে পশ্চিমবঙ্গের বুক থেকে গুজরাটি মারোয়ারি পুজির উচ্ছেদের আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। আর এর জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্বশাসনের পক্ষে কথা বলা শুরু করতে হবে।

আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বহির রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের যে পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ করতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাবাদী আন্দোলন ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিযায়ী শ্রমিকরা অনেকেই গ্রাম থেকে যায়। আর এভাবেই যে গ্রামের বাঙালিরাও বাংলাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এই নতুন শক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাবাদী আন্দোলনে ঢুকিয়ে নিতে হবে। এদের বোঝাতে হবে যে পশ্চিমবাংলার শহর থেকে যদি গুজরাটি মারওয়ারি ব্যবসায়ী ও হিন্দিভাষী শ্রমিকদের উচ্ছেদ করা যায় তাহলে পশ্চিমবাংলাতেই কাদের জন্য অজস্র চাকরি তৈরি হয়ে যাবে। হিসেবটা এরকম: বাইশ লাখ বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্যে যায় আর দেড় কোটি অন্যান্য রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে কাজ করে। দেড় কোটির মধ্যে বাইশ লাখ উচ্ছেদ করতে পারলেই বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ পশ্চিমবাংলাতেই হয়ে যাবে।

কিন্তু আরো গভীর একটা কথা বুঝতে হবে। হিন্দি গুজরাটি সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে আছে পুঁজি কেন্দ্রীয় সরকার ও তার রাজ্য সরকারের ওপর আইন বানাবার সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং অবশ্যই হিন্দিভাষীদের বাংলাভাষীদের তুলনায় জন্মহার বেশি থাকা। অন্যদিকে বাঙালির পক্ষে পুঁজি নেই, রাজ্য সরকারি আইন সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর হতে পারে না এবং বাঙালির বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুর জন্মহার অত্যন্ত কম। বাঙালির একমাত্র আশার আলো বাঙালি মুসলমান সমাজের খানিকটা বেশি জন্মহার। এবং মনে রাখা দরকার এর কারণ ইসলাম। ইসলামের সামাজিক শিক্ষাই বাঙালি মুসলমানদের জন্মহারকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী রেখেছে। তাই মনে রাখা দরকার বাঙালিবাদী আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ হবে ইসলাম।

Saikat Bhattacharya 
30/7/25
12:30 pm

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical Hindu world order 02-August-2025 by east is rising


A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: touch(): Unable to create file ci_session/ci_sessionff911c03fff690de95febd0a486a00fe975848cc because No such file or directory

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 252

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: ci_session)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: