বাংলার সাম্প্রদায়িক ইতিহাস


(Saikat Bhattacharya's Note: বাঙালি হিন্দু বর্তমানে পঃ বঙ্গের ৫১% বাঙালি হিন্দু, মুসল্মান ৩২% (৩০% বাঙালি ও ২% উরদু), ১৩% হিন্দিভাষী হিন্দু (মাড়োয়াড়ি বিহারী ইউপি গুজারাতি সব ধরে) ও ৪% অন্যান্য (নেপালী, সাঁওতাল ইত্যাদি)। এত কম পপুলেশন শেয়ার নিয়ে মুসল্মান ও হিন্দিভাষি হিন্দুদের সাথে এক সাথে লড়াই করা অসম্ভব।)

Biswanath Lahiri লিখেছেনঃ 

দেশভাগের বাস্তব'কে পেটোয়া রাডনীতির স্বার্থে উপেক্ষা-অবহেলা-তাচ্ছিল্য করার মাধ্যমে বামপন্থা-সেকুলারবাদীতার নামে জেহাদী'দের প্রশ্রয় দেওয়ার খেলা বন্ধ করতে হবে । ভুল্লে চলবেনা তদানীন্তন অবিভক্ত বঙ্গের ডেমোগ্রাফীর দায়ে সুভাষবাবু চিত্তবাবুরা সমুসলিম লীগ রাজনীতি করে অবশিষ্ট ভারতের বিপক্ষে হেঁটে বাঙালীকে পিছনে ঠেলেছিলেন । ১৯৪৬ এর প্রথমে কোলকাতা‌ এবং পরে নোয়াখালীর‌‌ নরমেধ অবিভক্ত বাংলার বাস্তবতা নিয়ে করাল প্রশ্ন তুল্লে একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ উদ্যোগ করেন যাকে কারে পড়ে সমর্থন করে কংগ্রেস‌ ও কম্যুনিস্টরা (পাকিস্তানপন্থী'দের সমর্থক হয়েও নিজেদের পিঠ‌‌ বাঁচাতে) ।‌ কিন্তু দেশভাগের‌ পরবর্তীতে নিজেদের এজেন্ডার স্বার্থে শ্যামাবাবুকে কটুকাটব্য‌‌ করে নীরব করে দেন । তারপর তো তিনি অকালে কাশ্মীরে গিয়ে আগ বাড়িয়ে গলাই দিলেন । বস্তুত‌‌ সুভাষবাবুর উত্তু়ঙ্গ বিরোধিতায় শ্যামাবাবু হিন্দু মহাসভার কোনও সংগঠনই গড়ে তুলতে পারেননি । আর সুভাষবাবু অতো তোষণের কী‌ প্রতিদান পেয়েছিলেন সেটা পাওয়া যাবে মুজিবর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে যেখানে বিদেশের সাহায্য নিয়ে দেশ‌‌ স্বাধীন করার প্রশ্নে তিনি লিখেছেন, 'সুভাষ ফিরলে তো ভারত‌ স্বাধীন হবে‌ আর তাতে পাকিস্তানের কী লাভ‌ হবে'!!!! সুভাষবাবু যে মুসলিম মানস সম্পর্কে অনওয়াকিবহাল ছিলেন তা কিন্তু নয় । চিত্তরঞ্জনের বেঙ্গল প্যাক্ট, যার বিপিন পাল তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর কৃষ্ণনগরের ১৯২৯শের কংগ্রেস অধিবেশনে তিনি নিজেই বাতিল করেন । তখনই জনমত খাড়াখাড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছিলো । তারপর ১৯৩০ শে লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে কংগ্রেস মুসলিম লীগ ছাড়াই পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করতেই পূর্ববঙ্গে চোরাগোপ্তা হিন্দু উচ্ছেদ শুরু হয়ে গিয়েছিলো ।

বস্তুত সুভাষের অন্তর্ধান এবং শ্যামাপ্রসাদ ও ডক্টর মেঘনাদ সাহা'র অকাল‌ মৃত্যু কার্য্যত বাঙালীর রেজ়িস্ট্যান্স শেষ হয়ে যায় । সব হারিয়ে আসা ছিন্নমূলদের মুরুব্বি হয়ে ওঠেন বামপন্থীরা । তাঁরা তাঁদের বিহ্বল রেখে কাটা‌ ঘায়ে নুনের ছিটে(মরীচঝাঁপি)দিয়ে তাঁদের প্রাক‌ পার্টিশান প্রো মুসলিম রাজনীতিরই এজেন্ডা সাধতে থাকেন ভবিষ্যৎ ভোট রাজনীতির জন্য । যেটাকে তাঁদের সাড়ে তিন দশক তোষণ রাজনীতির পর ধরে বেশাতি করে গেছে গত‌ দেড় দশক এ়ই তৃণমূল কংগ্রেস । সেই পাপ থেকে আংশিক মুক্ত হয়েছি আমরা আট দশক পর এই গেলো ভোটে । কিন্তু ভুল্লে চলবেনা যে উত্তরভারতীয় হিন্দুত্ব এবং বাঙালীর উদার হিন্দুয়ানী এক নয় । আর সবকটি সর্বভারতীয় পার্টিই বাংলা ও বাঙালী বিদ্বেষী । এদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করলে এরা বাংলা ও বাঙালীর আরও সর্বনাশ সা়ধন করবে । কাজেই বাম সেক্যুলারদের আড়ে রেখে এবং হিন্দী বেল্টের বশ্যতা মুক্ত হয়ে নতুন বাঙালী পার্টি উঠে আসুক যারা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সৃষ্টির ইতিহাসকে মর্য্যাদা‌‌ দিয়ে দিল্লীর কাছে অযথা বশ্যতা স্বীকার না করে রাজ্য শাসন করবে ।

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like