পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা উচ্চ বর্ণ হঠাৎ গরীব হয়ে যাওয়ায় ১৯৫০ এর দশকে শ্রেণি সংগ্রামী হয়ে ওঠে।
তারা ঘটি জোতদারদের (বড় কৃষক) এমন চাবকানি দেয় যে ১৯৮০ এর দশক থেকে গোটা ভারতে জোতদার (ওবিসি) জাতিগুলোর যে উত্থান হয়েছিল, তা পশ্চিম বঙ্গে হয়নি।
১৯৭০ দশকে জমি কেন্দ্রিক উচ্চ বর্ণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে দুর্বল হয়ে গেলেও, শ্রেণি সংগ্রাম ও সরকারী চাকুরে মধ্যবিত্ত হিসেবে উচ্চ বর্ণ তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখে পশ্চিম বঙ্গে।
এদের দেখে ঘটিরাও এদের অনুকরণ শুরু করে।
সিপিএম নকশালদের ভূমি সংস্কার আন্দোলন শেষ করতে "ওপারেশন বর্গা" করল, অর্থাৎ জোতদার দের দুর্বল করল শুধু, শেষ করলনা।
কিন্তু ক্রমেই পশ্চিম বঙ্গের উচ্চ বর্ণের জন্ম হার কমতে শুরু করে। বিশেষ করে শহুরে বাঙাল উচ্চ বর্ণের। রাজ্যের ব্যবসা পুরোটাই দখল করে মাড়োয়াড়ি গুজরাতি পুঁজিপতিরা। বিহারী শ্রমিকেও ভরে যায় রাজ্যের শহর।
দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত হয়ে ওঠার সাথে সাথেই বড় লোক চাটা একটা প্রজন্ম এল বাঙালি উচ্চ বর্ণের ঘরে।
ঘটি জোতদার (ওবিসি)- রাও সিপিএম-এর দখল নিতে আরম্ভ করে এই সময়েই।
ফলাফল সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম।
এবার তোলাবাজ উচ্চ বর্ণ কিছুটা গরীব রিলিফ, কিছুটা নারীবাদ আর মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতা ধরে রাখল।
রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার শেয়ার বৃদ্ধি হতে থাকায় দিল্লি আতঙ্কিত হয়ে ওঠে এই ভেবে যে ভবিষ্যতে পশ্চিম বঙ্গের মুসলিম ও পূর্ব বঙ্গের মুসলিম এক হয়ে "বৃহৎ বাংলা" চাইতে পারে। চীনের উত্থান ব্যপারটাকে আরো ভয়ের করে তোলে।
বিজেপি নামলো ফিল্ডে। নব্য নীম্ন বর্ণ (কোটায় চাকরি বা ব্যবসা করে), মধ্য বর্ণ (কোটায় চাকরি আর ব্যবসা দুইই আছে), কিছু জমিদারী হারানোর শোকে কাতর উচ্চ বর্ণ এবং মেরো গুজ্জু বিহারী ঐক্যবদ্ধ হল। কার বিরুদ্ধে? উচ্চ বর্ণ ও মুসলমানের জোটের বিরুদ্ধে।
গরীব-নারী-মুসলমান-এর কমবোকে ঠিক পথে হারানো ছিল অসম্ভব।
তাই ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এল বিজেপি। এসেই বাঙালি উচ্চ বর্ণকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে।
বাঙালি উচ্চ বর্ণের ঘরে ইয়ং ছেলে মেয়ে খুবই কম, তাই আন্দোলন করতে পারবেনা।
মধ্য ও নীম্ন বর্ণ মুসলিমের জমি ভেরি নারী দখল করতে লালায়িত।
মেরো গুজ্জু বিহারীরা রাজ্যকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে দখল করতে মরিয়া।
মুসলিম মাঠে নামলেই "জিহাদী" তকমা পাবে।
এই অবস্থায় আন্দোলন অসম্ভব রাজ্য-এ।
হিন্দি বলয়ে ইয়ং প্রজন্ম অনেক। ওরা যদি বিজেপিকে কেন্দ্র থেকে সরাতে পারে তাহলে আবার রাজ্যে একটা জোড়াতালি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা যাবে ক্ষণ।
তবে বিজেপিকে সরাতে পারবেনা, কিন্তু ভারতকে চিরতরে অস্থিতিশীল করে ফেলবেই হিন্দি ইয়ং প্রজন্ম।
তারপরে ভারতে ধর্মে বর্ণে ভাষায় চলবে ট্রাইবাল যুদ্ধ।
সেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও, বাঙালি উচ্চ বর্ণের বাম আন্দোলনের স্বপ্ন আর দেখোনা। ওটা শেষ হয়ে গেছে। ওটা ভূত হয়ে গেছে।
Author: Saikat Bhattacharya