পুঁজি মানে এমন অর্থ যা আরও বেশি অর্থ উপার্জনের উদ্যেশ্যে বিনিয়োগ করা হয়।
পুঁজি যখন রাজনীতিকে কন্ট্রোল করে আমরা তখন সেই সিস্টেমকে পুঁজিবাদ বলি।
চীনে কি পুঁজি নিয়ন্ত্রক রাজনীতির?
উত্তর না। যদি হতো চীন তার রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ীদের বেইল আউট করত। চীন কমিউনিস্ট সরকার সরাসরি জানিয়ে দেয় ধনীদের হাউসিং নিয়ে ফাতকাবাজী করতে দেওয়া হবেনা। তাদের সম্পত্তির পরিমাণ কমলে কিছু যায় আসেনা। কারণ জিন্ফিং বলেন "হাউসিং ইস ফর লিভিং, নট স্পেকুলেশন"।
চীনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পুঁজির হাতে নেই বলেই ব্যাংকগুলো সব সরকারি। সেই সরকারি ব্যাংক থেকে করা হয় অজস্র অলাভজনক বা দুর্ঘসূত্রী খরচ তোলা যায় এমন উৎপাদনকারী বিনিয়োগ। যেমন পরিকাঠামো নির্মাণ, নিউ এনার্জিতে বিনিয়োগ, উচ্চ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, ইত্যাদি। এই বিশাল অলাভজনক অথচ উৎপাদনকারী বিনিয়োগ পুঁজিবাদী দেশগুলো করতে পারেনা বলেই তারা বিশ্ব বাজারে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠেনা।
পুঁজিবাদ হলে চীন বিপুল পরিমাণে মুনাফা নেই অথচ উৎপাদনশীল এমন বিনিয়োগগুলো চীন করতে পারত না।
অন্যান্য পুজিবাদী দেশগুলো পারেওনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি ফাটকাবাজিতে ডুবে গেছে। অনুৎপাদক সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসাকে জায়গাই দেয়নি চীন।
চীন অন্যদিকে হাইটেক শিল্পে এতটাই এগিয়ে গেছে যে জার্মান একের পর এক গাড়ির কারখানা ও ভারী মেশিনের কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একে বলা হচ্ছে চায়না শক ২.০। ইউরোপ চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে না উঠে এখন ট্যারিফের পথে হাটছে।
চীনে সাধারণ মানুষের জীবনের মান বর্তমানে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের থেকেও বেটার। চীনকে যুবা মার্কিনীরা সেলিব্রেট করছে চায়নাম্যাক্সিং-এর নামে।
চীনে চিকিৎসা ও ক্লাস ১০ পর্যন্ত লেখাপড়া অত্যন্ত কম খরচের সরকারী ব্যবস্থা। চীনের রাষ্ট্রীয় কম্পানীগুলো দেয় বিপুল সাবসিডাইসড করমসংস্থান। ইউরোপ ও আমেরিকার শ্রমিক তৃতীয় বিশ্ব লুটের ভাগ পেত। চীন সেটা হাইটেক শিল্পে যত ঢুকছে তত কমিয়ে দিচ্ছে।
চীন জিতছে, সমাজতন্ত্র জিতছে। ওয়াল স্ট্রিট ও ইলন মাস্করা বলছে আগামী ১০ বছর পরে শ্রম বলে কিছু থাকবেনা, মানুষ বসে বসেই খাবে। মার্ক্স - এর ভবিষ্যৎ বাণি আজ স্বীকার করে নিচ্ছে বিগ বিস্নেস নিজেও। কমিউনিস্ম পুজিবাদি বিকাশের অনিবার্য পরিণতি।
28.07.2026
SAIKAT BHATTACHARYA
·
খুব সুন্দর ও পরিষ্কার বিশ্লেষণ। আপনার লেখার সঙ্গে পুরোপুরি একমত। কয়েকটি বিষয়ে নিজের মতো করে সমর্থন জানাই:
পুঁজি বনাম পুঁজিবাদের পার্থক্য:
পুঁজি নিজে খারাপ নয়; সমস্যা তখনই হয় যখন পুঁজি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। চীনে ঠিক তার উল্টোটা দেখা যায় — রাষ্ট্র পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে উৎপাদনশীল খাতে নিয়োজিত করে। এটাই মৌলিক পার্থক্য।
বাসস্থান নীতি:
"হাউসিং ইজ ফর লিভিং, নট স্পেকুলেশন" — এই এক বাক্যেই বোঝা যায় চীনের মূলনীতি। পাশ্চাত্যে বাড়ি এখন একটি বিনিয়োগের জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে চীনে এটি মৌলিক চাহিদা হিসেবে দেখা হয়। তাই রিয়েল এস্টেট ধনীদের বেইল আউট না করে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
উৎপাদনশীল বিনিয়োগ:
সরকারি ব্যাংকগুলো যে অলাভজনক কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশের ভিত মজবুত করে এমন খাতে — যেমন পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উচ্চ প্রযুক্তি — বিনিয়োগ করতে পারে, তা কোনো পুঁজিবাদী দেশে সম্ভব নয়। সেখানে শেয়ারহোল্ডারদের তাৎক্ষণিক মুনাফার চাপে সব সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবর্তন:
জার্মান গাড়ির কারখানা বন্ধ হওয়া, ইউরোপের ট্যারিফ নীতি — এসবই প্রমাণ করে চীনের উৎপাদনশীল শক্তি কতটা বেড়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরেই তারা বাণিজ্য বাধার পথ বেছে নিচ্ছে। চায়না শক ২.০ আসলে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সংকট।
জীবনযাত্রার মান:
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর ব্যক্তিগত ঋণের চাপ কম। এটাই সমাজতন্ত্রের প্রকৃত লক্ষ্য — মুনাফা নয়, মানুষ।
ভবিষ্যৎ:
মার্কসের ভবিষ্যৎবাণী আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যখন যন্ত্র শ্রমিকের জায়গা নেবে, তখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কোটি কোটি মানুষের কী হবে? চীনের মডেলই হয়তো ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে — যেখানে উৎপাদনশীলতা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হয়, শুধু ব্যক্তিগত মুনাফায় নয়।
অসাধারণ লেখা। ধন্যবাদ এত সুন্দর বিশ্লেষণের জন্য।
Capital means money that is invested with the aim of making more money.
When capital controls politics, we call that system capitalism.
Does capital control politics in China?
The answer is no. If it did, China would have bailed out its real estate developers. The Chinese communist government directly announced that the rich would not be allowed to splurge on housing. It doesn't matter if their asset value decrease. Because Jinping said, "Housing is for living, not speculation."
Since capital does not have political control over China, all banks are government-owned. Innumerable unprofitable or long gestation productive investments are made from those government-owned banks. Such as infrastructure construction, investment in new energy, investment in high technology, etc. Since capitalist countries cannot make these huge unprofitable yet productive investments, they cannot compete with China in the world market.
If it were capitalism, China would not be able to make such productive investments that are not profitable in huge amounts.
Other capitalist countries cannot. The United States is completely immersed in speculation. China has not given any space to the unproductive business of buying and selling assets.
China, on the other hand, has advanced so much in the high-tech industry that Germany is closing car factories and heavy machinery factories one after another. This is called China Shock 2.0. Europe, unable to compete with China, is now walking on the path of tariffs.
The standard of living of ordinary people in China is currently better than that of ordinary American citizens. Young Americans are celebrating China in the name of Chinamaxing.
In China, healthcare and education up to grade 10 are very low-cost government systems. Chinese state-owned companies provide huge subsidized employment.
Workers in Europe and America used to get a share of the Third World loot. China is reducing it as it enters the high-tech industry.
China is winning, socialism is winning. Wall Street and Elon Musk are saying that in the next 10 years there will be no such thing as labor, people will sit and eat. Today, even big business itself is accepting Marx's prediction. Communism is the inevitable consequence of capitalist development.
28.07.2026
SAIKAT BHATTACHARYA
Author: Saikat Bhattacharya