সংবাদ মাধ্যমে বলা কোটি টাকার চাকরি আসলে কেন ২৭.৫ লক্ষ টাকার চাকরি? কারণ পারচেসিং পাওয়ার প্যারিটি


ধর সকাল থেকে উঠে তুথ ব্রাশ থেকে শুরু করে গিজারে গরম জলে স্নান করে ভাল কাপড় পরে ব্রেকফাস্ট করে গাড়ি চড়ে পেট্রল খরচ করে অফিসে যাও। সেখানে নিজের ল্যাপ্টপ খুলে কাজ কর এবং টুকটাক খেতেখেতে, তারপরে লাঞ্চ কর এবং আবার কাজ কর এবং কাজ শেষে একটু হালকা খেয়ে আবার গাড়ি করে বাড়ি ফের। বাড়ি ফিরে টিভি মোবাইল দেখ, ইন্টারনেট ব্যবহার কর এবং শেষে ডিনার করে শুতে যাও। ছুটির দিন বেড়াতে যাও হোটেলে থাক, রেস্তরায় খাও। শরীর খারাপ হলে ওষুধ নাও।

এই রোজনামচায় তোমার দৈনন্দিন টুকিটাকির একটা বাস্কেট বানানো হল যেখানে খাবার, ল্যপ্টপ, টিভি, ইন্টারনেট পরিষেবা, কাপড়, গাড়ির খরচ থাকবে।

দেখা যাবে এই বাস্কেটের খরচ ভারতে ২০৬৫ টাকা হলে, মার্কিন দেশে ওই একই বাস্কেটের খরচ দাঁড়াবে ১০০ ডলার।

মানে বাস্কেটটাকে ভিত্তি ধরলে ১০০ ডলার = ২০৬৫ টাকা।

অর্থাৎ ১ ডলার = ২০.৬৫ টাকা।

একে আমরা বলি পারচেচিং পাওয়ার প্যারিটি।

কিন্তু বাজারে মুদ্রার মান ধরলে ১ ডলার = ৭৫ টাকা।

এই দামের হেরফের হয় কারণ মূলত জমির দাম।

জমি যেহেতু constant, তাই জমির দাম বারগেইনিং করে ট্রেডাররা কমাতে পারেনা। মানে যদি কোন পণ্যের দাম ভারতে বেশি হয় আর মার্কিন দেশে কম তাহলে ট্রেডারেরা সেই পণ্য কম দামে মার্কিন দেশ থেকে কিনে বেশি দামে ভারতে বিক্রী করতে যাবে, ফলে পণ্যটির যোগান ভারতে বেড়ে যাবে আর মার্কিন দেশে কমে যাবে আর তাই পণ্যটির দাম আগের চেয়ে কমে যাবে ভারতে আর বেড়ে যাবে মার্কিন দেশে। এই প্রক্রিয়া চলবে যতক্ষণ না দুই দেশেই সমান দাম হয়।

কিন্তু এই প্রক্রিয়া জমির ক্ষেত্রে খাটেনা।

কারণ ভারতে জমির দাম কম হলে আর মারকিনে বেশি হলে, ট্রেডাররা পারবেনা জমি ভারত থেকে এনে মার্কিন দেশে বিক্রী করতে।

আর তাই জমির দাম কখনো মার্কিন দেশ ও ভারতের মধ্যে সমান হবেনা।

অনেক বড়ো এলাকা জুড়ে থাকতে ভারতে যা খরচ হবে অনেক কম এলাকা জুড়ে থাকতে মার্কিন দেশে অনেক বেশি খরচ হবে।

তাই দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করার পণ্য-পরিষেবা নিয়ে যে বাস্কেট হবে তার মান সমান রেখে আমরা বলছি ১ ডলার = ২০.৬৫ টাকা।

কিন্তু জমির ক্ষেত্রে অনেক কম মানের ঘরে থাকলেও মার্কিনবাসীকে অনেক বেশি টাকা দিতে হবে। সেই জন্য মুদ্রার বাজারে ১ ডলার = ৭৫ টাকা হয়ে যায়।

বলা বাহুল্য জমি ছাড়াও প্লাম্বারের কাজ, নাপিতের কাজ, মুচির কাজ, গৃহ কর্মের কাজ, নারসিং-এর কাজ এমন হয় যে সেই পরিষেবা মার্কিন দেশে অনেক নীম্ন মানের হলেও তার দাম বেশি হবে। কারণ চাইলেই প্লেনে করে ভারতে এসে কেউ কম দামী কিন্তু মানে ভাল নাপিতের কাছে চুল কেটে যাবেনা।

এই জন্যে জীবনে মান বুঝতে গেলে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য-পরিষেবার বাস্কেট দিয়ে বুঝতে হবে আর তাই ১ ডলার = ২০.৬৫ টাকা ধরতে হবে।

মুদ্রার বাজারের ১ ডলার = ৭৫ টাকা ধরা মানে হল কম মানের বেশি দামী জিনিস যা মার্কিন দেশে থাকার জন্যে যে কেউ নিতে বাধ্য হবে (যেমন জমির দাম, নাপিতের দাম, মুচির দাম, ইত্যাদি) সেগুলোকেও দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করা। যা মানুষে জীবনের মান সম্পর্কে ও তার সঞ্চয় করার ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল বার্তা দেবে।

১.৫ কোটি টাকার চাকরি বলতে সংবাদ মাধ্যম বোঝাতে চাইছে ২ লক্ষ্য ডলার প্রতি বছর বাজার মূল্যে ১ ডলার = ৭৫ টাকা ধরে। এটা ভুল। আসলে ১.৫ কোটি টাকা নয়, ওটা হবে ১ ডলার = ২০.৬৫ টাকা ধরে ৪১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা প্রতি বছর।

তেমনি ১ কোটি টাকার চাকরি ভুল কথা আসলে ওটা বছরে ২৭ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা হবে।

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like



A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: touch(): Unable to create file ci_session/ci_sessionp81ti3dinmc9jhgttbuq7896f2pk43mv because No such file or directory

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 252

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: ci_session, handler: CI_Session_files_driver::updateTimestamp)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: