বিপ্লবের তৃতীয় তরঙ্গ

17-October-2025 by east is rising 328

আমাদের মত অনুন্নত বিশ্বে এই সমস্ত নির্বাচনী কমিউনিস্ট নামধারী দলগুলোর কোন ভবিষ্যৎ নেই। কারণ:

1। ভারতে এখন হিন্দি গুজরাটি বনাম অন্যান্য জাতিসত্তা গুলোর সংগ্রামই আসল সংগ্রাম অর্থাৎ জাতির আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকারের লড়াই এখন প্রথম লড়াই।

2। সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমাদের মত অনুন্নত দেশে অনুপস্থিত আর সেই জন্য সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণীকে কেন্দ্র করে কমিউনিস্ট পার্টি তৈরি করা অসম্ভব।

3। জমির ক্ষুধা সম্পন্ন কৃষক শ্রেণীও বর্তমানে অনুপস্থিত আর তাই কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জবরদস্ত কমিউনিস্ট পার্টি তৈরি হওয়া সম্ভব না।

4। নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পরে যে যৌন স্বাধীনতার চর্চা এসেছে তা অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল এবং তা শাসক শ্রেণীর পুরুষের পক্ষে যায়। এবং সাধারণ পুরুষের কাছে যৌনতাকে আরো বেশি খরচা সাপেক্ষ করে তোলে। ফলে নারী এখন চরম প্রতিক্রিয়াশীল। তাই নারীকে কেন্দ্র করে কমিউনিস্ট পার্টি সম্ভব নয়।

নারীকে শ্রমিক বানালে, জিডিপি বাড়ালে, ভাল। নারী কি স্বাধীন রোজগেরে হয়ে আর স্বামীর কথা শুনবে? না। বরং বসের সাথে শুয়ে প্রমোশন নেবে। আর শ্রম বাজারে শ্রমিক সংখ্যা বাড়িয়ে শ্রমিকের দরকষাকোষীর ক্ষমতা কমাবে (মার্কসের "মজুর শ্রম ও পুঁজি" বইতে বলাও ছিল)। সব শ্রমিকের বউ প্রমোশন বাগাতে বসের সাথেই বেশি থাকবে, শ্রমিক বরের জন্য যৌনতা পাওয়ার খরচ বাড়বে। শ্রমিক পুরুষ দুর্বল থেকে দুর্বলতর হবে।

এটাই হয়েছে। কমিউনিস্ট আন্দোলন শেষ হয়েছে।

দেখা যাক, যৌন রোবট ও গর্ভ ধরনের রোবট এনে চীন সমস্যা মেটাতে পারে কিনা।

1776-1871: উদারবাদী ও ক্লাসিক্যাল মার্কসবাদী (বিপ্লবের প্রথম তরঙ্গ)

1917-1979: মার্কসবাদী লেনিনবাদী (বিপ্লবের দ্বিতীয় তরঙ্গ)

2025-........: নতুন কিছু লাগবে যাকে নাম দিলাম "বিপ্লবের তৃতীয় তরঙ্গ" 

বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে কমিউনিস্ট অথবা বাম আন্দোলনের নামে যা চলে, সেটা হলো কোন দুর্বল জনগোষ্ঠীকে (কোনো জাতি বা কৃষক বা আদিবাসী) পুঁজির দ্বারা উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করার আন্দোলন।

এই আন্দোলন তখনই প্রগতিশীল বলা যায় যখন এই আন্দোলনকে জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের আন্দোলনে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়।

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like