কেন সাম্রাজ্য বিরোধী লড়াই কমিউনিস্টদের হাত থেকে ইসলামপন্থীদের হাতে চলে গেল এটা বুঝতে গেলে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পরের স্টেজ যৌন স্বাধীনতাকে বুঝতে হবে। নারী মূলত হাইপারগ্যামাস। অর্থাৎ নারী সব সময় শ্রেষ্ঠ পুরুষের ঔরসগামী। এইজন্যে নারীর যৌন স্বাধীনতা অনিবার্যভাবে সাধারণ পুরুষের কাছে যৌনতার খরচ অনেক বাড়িয়ে দেয় অন্যদিকে ক্ষমতাবান পুরুষের কাছে যৌনতা অনেক সহজলভ্য করে তোলে। নারীর যৌন স্বাধীনতার এই হাইপারগ্যামাস চরিত্র মূলত একটা প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র এবং এটা বুঝতে কমিউনিস্টরা (চীন ও উত্তর কোরিয়া বাদে) ব্যর্থ হয়েছে বলে রোমের প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছে এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইতে সেভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
এছাড়াও নারীর ঘর ছেড়ে শ্রম বাজারে যাওয়া বিশ্বায়নের মতোই শ্রমিক শ্রেণীর পুঁজির বিরুদ্ধে দরকষাকষির ক্ষমতা অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। মার্কসের বই "মজুর শ্রম পুঁজি" তে নারী শ্রমবাজারের ঢোকার সাথে সাথে যে শ্রমিক শ্রেণীর দরকষাকষির ক্ষমতা কমবে সেটা খুব ভালো মতোই ব্যক্ত করা ছিল।
এছাড়াও পুরনো জমির মালিকানা পিপাসু কৃষক শ্রেণীও সে অর্থে আর নেই। এর কারণ পৃথিবীর সর্বত্রই শিল্প উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্য বস্ত্র বাসস্থান এখন আগের থেকে অনেক বেশি সহজলভ্য হয়েছে এবং মানুষের যাবতীয় লড়াইটা যৌনতার সংগ্রামে মূলত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই যৌনতার সংগ্রামে কনজিউমার প্রোডাক্টগুলো হয়ে গেছে যৌনতার সংগ্রামে জয়ী হবার কতগুলো অস্ত্র। এই নতুন বস্তুগত অবস্থানে পৃথিবীর অধিকাংশ কমিউনিস্টরাই খাপ খাওয়াতে পারেনি
চীন খুব ভালো মতো নারীর হাইপারগেমাস চরিত্র ও যৌন সংগ্রাম থেকে উদ্ভূত কনজিউমারিশমকে খুব ভালোভাবে বুঝেছে এবং সেই ভাবে এগিয়েছে। চীন কেন বিশ্বায়নের যুগে এক নম্বর শক্তি হয়ে উঠল তার অন্যতম কারণ হলো তারা মার্কসবাদকে এই দুই নতুন বস্তুগত অবস্থানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চিন্তা করতে পেরেছে। চীনের সামনে সেই জন্য উদারবাদি পশ্চিম আর অন্যান্য কমিউনিস্টরা কেবি টিকে থাকতে পারেনি।
Author: Saikat Bhattacharya