1। বিরোধী শক্তি ভোট বয়কট না করলে ভোট চুরির কথা সেভাবে বিশ্বাসযোগ্য হবে না। বাংলাদেশে খালেদা জিয়া সবসময় ভোট বয়কট করে গেছে। ফলে বিরোধিহীন ভোট জিতে আওয়ামী কোনো ম্যান্ডেট তৈরি করতে পারেনি। খালেদার মতো দৃঢ় অবস্থানের ধারেকাছেও এখন ভারতের কোনো বিরোধী নেতৃত্ব নেই, রাহুল মমতা তেজস্বী কেউ না।
2। শিখ ও মুসলমান নারী হিন্দু পুরুষের সাথে। এর মানে অনেক গভীর যা বিজেপির ভোট ব্যাংক সুদৃঢ় করে। এর মেটাফরিকাল মানে হলো সংখ্যাগুরু পুরুষ বসের কোথায় চলবে সংখ্যালঘু নারী। অর্থাৎ সংখ্যালঘু পুরুষকে আরো কোণঠাসা করে দেওয়া। বিজয়ী জাতির আগেকার দিনে বিজিত জাতির পুরুষদের মেরে ফেলত আর নারীদের নিয়ে নিত। এটাও সেরকমই কিছুর মেটাফর।
3। বাংলাদেশ বিপ্লব করতে পারেনি, কিন্তু যতটুকু করতে পেরেছে সেটা করতে যে dignity ও honor লাগে তো ভারতের বিরোধীপক্ষ এখনো দেখাতে পারেনি।
4। চীনের উত্থান যে আটকানো অসম্ভব সেটা এখন মার্কিন শাসক শ্রেণী ও জনতা মানতে শুরু করেছে। চীনের হাতে চীনের নিকটবর্তী অংশগুলো যাচ্ছেই। চীন অবশ্যই তার পাশে কোনো শক্তিশালী দেশ দেখতে চাইবেনা। তবে কমিউনিস্ট চীন সুন্দর প্রতিবেশী নিয়ে আপত্তি করবেনা। Small is Beautiful- বুঝলে?
বিহারের ভোটের ফলাফল হল ২০,০০০ ব্যবধানের নীচে জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৪টা আসনে।
১-৯৯৯ ব্যবধানে জয়ঃ ১১ (NDA ৬- IND ৫)
১,০০০-৪,৯৯৯ ব্যবধানে জয়ঃ ২০ (NDA ১৭ - IND ৩)
৫,০০০-১১,৯৯৯ ব্যবধানে জয়ঃ ৪৩ (NDA ৩৬ - IND ৭)
১২,০০০-১৯,৯৯৯ ব্যবধানে জয়ঃ ৫০ (NDA ৪৪ - IND ৬)
সেপ্টেম্বর ৩০-এর মধ্যে ২১ লাখ ও ভোটের পরে ৩ লাখ যোগ করলে ২৪ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ২৪ লাখ ভোটারের একটা বড় অংশ যদি ফেক হতেই পারে। কারণ ২০২৪ লোকসভা ভোটের তুলনায় নতুন ২৪ লাখ এক বছরের মধ্যে কিভাবে যুক্ত হয় তা বোঝা দায়।
২৪ লাখের মধ্যে যদি ২০ লাখ ফেক ভোটার ঢোকানো হয় এবং ১০০টা কম ব্যবধানে কংগ্রেস-আরজেডি জিততে পারে এমন আসনে এই ফেক ভোটার দিয়ে ভোট করানো হয় তাহলে আসন প্রতি গড়ে ২০,০০০ ফেক ভোটার ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। এই ১০০টা আসনেই আসল কারছুপি করেছে নির্বাচন কমিশন।
বিজেপি যেভাবে জেতে:
কলমে Priyabrata Dutta
গত লোকসভা ভোটে বেমাক্কা ভোটদানের হার বেড়ে যাওয়া থেকে শুরু। তখনই ভোট চলাকালীন প্রাক্তন কমিশনার কুরেসী সাহেব জানিয়েছিলেন আক্ষরিক অর্থে এতো মাত্রায় ভোটদানের হার বেড়ে যাওয়ার কোনো জায়গাই নেই। এবং তিনিও জানেননা কিভাবে এতো মাত্রায় ভোটদানের হার বাড়ছে।
আমরা অনেকেই জানি বিকাল পাঁচটার পর কিভাবে ভোটগ্রহণ হয়। যদি বিকাল পাঁচটার পর ভীড় থাকে তবে প্রিসাইডিং অফিসার প্রত্যেককে একটা করে নম্বর দেওয়া ছাপানো স্লিপ দেন। যদি লাইনে ১০০ জন থাকেন তবে শেষতম ব্যক্তিকে ১ নম্বর স্লিপ দেওয়া হয়। কোনো কারনে যদি কেউ ভোট দিতে না পারেন তবে ঐ ১০০ থেকে তা কমতে পারে কিন্তু কোনো কারণে বাড়তে পারে না। এবার প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে একটা নোটবুক থাকে। তাতে ঐ স্লিপের হিসেব লিখে রাখা হয়। কমিশনের ভাষায় একে হ্যান্ডবুক বলে
।ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে হিসেবসহ ঐ নোটবুকও/ হ্যান্ড বুক বাধ্যতামূলক কমিশনে জমা করতে হয়।
গত মহারাষ্ট্র নির্বাচনে ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর ভোটদানের হার ৭% বেড়েছে বলে জানিয়েছিল কমিশন। বিকাল পাঁচটার পর দেড় ঘন্টায় নাকি ৭৬ লক্ষ ভোট পড়েছে বলে জানা গিয়েছিল। তো সেই নিয়ে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস এর ডিরেক্টর বেঙ্কটেশ নায়েক তখনই তথ্য জানার অধিকার আইনে RTI করেন ঐ হ্যান্ডবুকের হিসাব চেয়ে। নভেম্বরে ভোট হয় জানুয়ারি মাঝামাঝি কমিশন বেমালুম জানায় তাদের কাছে ঐ হ্যান্ডবুকের কোনো হিসেব নেই। এই হিসেব যদি না থাকে তবে ভোট গণনা হল কিভাবে??? এরপর আরো বেশ কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু কমিশন নিশ্চুপ। ভোটে পরাজয়ের পর এসব কেউ কানে তোলেনি। এরকম যে হচ্ছে বা হতে পারে এর আগে কোনোদিন শোনা যায়নি। EVM হ্যাক বা ঐ সব নিয়েই বিতর্ক থাকতো এতো দিন। তাই বিষয়টা গুরুত্বও পায়নি। আর গোদি মিডিয়া তো এসব নিয়ে কোনোদিন বলবেও না।
এরপর তো হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে হ্যারিকেনের তান্ডব হল কমিশনের পরিচালনায়। ভোটপর্ব মেটার পর ওখানে ১০-১২% ভোট দানের হার বাড়ে। ভাবা যায়?? তো, ওখানে রানিয়া বিধানসভার পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময় মেনে সোয়া চার লক্ষ টাকা জমা করে জানতে চেয়েছিলেন তার বিধানসভা ক্ষেত্রের EVM এর ভোটের হিসাব। কিন্তু কমিশন তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় EVM থেকে সমস্ত ডেটা মুছে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও এখনো কোনো সুরহা হয় নি। এর পরিপেক্ষিতে এক বিশিষ্ট আইনজীবী মেহমুদ প্রাচা হরিয়ানা ভোটের সিসি টিভি ফুটেজ চেয়ে মামলা করেন হাইকোর্টে। কিন্তু কমিশন ফুটেজ না দিয়ে ততক্ষণাৎ আইনমন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়। আইন মন্ত্রকও বিদ্যুৎগতিতে একটা আইন তৈরী করে জানিয়ে দেয় এই নতুন আইনে সিসি টিভি ফুটেজ দেওয়া যাবে না। বেশ গাল গল্প টাইপের কাহিনী মনে হচ্ছে না?? কিন্তু এগুলো সব এক একটা জলজ্যান্ত ঘটনা।
এরপর দিল্লী বিধানসভা ভোট। ২০২০- ২০২৪ পর্যন্ত এই চার বছরে দিল্লীর ভোটার সংখ্যা বেড়েছিল মোট 4 লক্ষ 16 হাজার 648 টি কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী। কিন্তু তারপরই লোকসভা ভোট থেকে দিল্লী বিধানসভা ভোট এই সাত মাসে কমিশনের ওয়েবসাইট জানাল আরো অতিরিক্ত 3 লক্ষ 99 হাজার 362 ভোটার বেড়েছে। মানে গত চার বছরে 4 লক্ষ আর তার পরে লোকসভা - বিধানসভা এই সাতমাসে আরো 4 লক্ষ। কেজরীর নিজের বিধানসভায় এই সাত মাসে ভোটার কেটে গিয়ে বাদ হল ২০০০০। যেখানে ২০২০- ২০২৪ এই চার বছরে কমেছিল ১৭০০০ জন। অর্থাৎ মোট ভোটার কমলো ৩৭০০০। কেজরী হারল 4199 মতো ভোটে। পাশের মুন্ডকা বিধানসভা আসনে গত চার বছরে 14230 বেড়েছিল। লোকসভা আর বিধানসভার মধ্যবর্তী সাত মাসে নতুন ভোটার যোগ হল 17549 জন। মোট বাড়লো 31791 জন। আপ আগে জিতেছিল 19158 ভোটে। এবার হারল 11000 এর কিছু বেশী ভোটে। মনীষ সিসোদীয়া হারল 675 ভোটে। ষোলো জন আপ প্রার্থী হারে 10000 এর কম ভোটে।
অর্থাৎ জায়গা মতো ভোট কেটে বাদ দাও এবং ভোট জোড়ো। যে ভোটগুলো জোড়া হচ্ছে সেগুলি হিসেব কষে ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর ভোটদানের হার বাড়িয়ে ঢুকিয়ে দাও। EVM এর ভোটের হিসাব সমস্ত নিয়ম মেনে কেউ চাইলে তাকে পরিষ্কার বলে দেবো ওসব ডেটা মুছে দেওয়া হয়েছে। কি লোম ছিড়বি ছেড়। সিসিটিভি ফুটেজ কেউ চাইলে পরিষ্কার বলে দেবো এখন আইন আছে ওসব দিতে আমি বাধ্য নয়,হাইকোর্ট,সুপ্রীম কোর্ট কি লোম ছেঁড়ে সেটা দেখা যাবেক্ষণ।
এহেন নিরপেক্ষ এবং শালগাছের মতো সোজা মেরুদন্ডবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের অধীনে এখন দেশে ভোট হচ্ছে। কদিন পরেই বাংলাতেও হবে। তাই যারা এখনো ২৩০ এর খোয়াবে মেতে আছেন তারা শুধু ঐ খোয়াবে মেতে না থেকে নিজ নিজ অঞ্চলের ভোটার লিষ্ট নিয়ে মাথা ঘামান এখন থেকেই। কারন লড়াইটা আর আগের মতো নেই। লড়াইয়ের ময়দানটাই পুরো পাল্টে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। লড়াই কিন্তু শুরু হয়ে গেছে।
আর এ লড়াই বাঙালীর কাছে ফের একটা স্বাধীনতার লড়াই। এ লড়াইয়ে বাঙালিকে জিততেই হবে।
জয় বাংলা।
Author: Saikat Bhattacharya