একটা আলোচনা

02-December-2025 by east is rising 126

Soumo Mondal: 
সশস্ত্র বাম আন্দোলনের সাথে সাংবিধানিক বাম আন্দোলনের উত্থান বা টিকে থাকার একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জনমত কে মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে ভারতে প্রথম নির্বাচনে কেরালা রাজ্যে জিতে আসা CPI সরকারকে ফেলে দেয় কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারকেও ফেলে দেওয়া হয়। সারা ভারত জুড়ে বহু রাজ্য সরকারকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টানা ৩৪ বছর বামফ্রন্ট টিকে থেকেছে। পুরুলিয়া অস্ত্র বর্ষণ সহ বিভিন্ন সাবোতাজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইমার্জেন্সির পর সংসদীয় বামদের আগের মত ঘাটানো হয়নি। জ্যোতি বসুর আত্মজীবনী "যত দূর মনে পড়ে" সহ বিভিন্ন মানুষের স্মৃতিতে স্বাধীনতার পর CPI /CPIM এর উপর ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বর্ণনা আছে।

এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ভূমি সংস্কার লাগু না হওয়া, বার বার নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়ার ঘটনা গুলো প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে সশস্ত্র বাম আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিলো। তারা মনে করেছিলো সামন্ত মাফিয়ারা রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে, ভারতের পুজিপতিদের স্বার্থ জড়িয়ে আছে ভারতের গণতান্ত্রিক সংস্কারে নয়, বরং সামন্তদের সাথে হাত মেলানোয়। ফলত এই রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করা ন্যায্য, এটাই সময়। এর পরিনতি কী হয়েছিলো আমরা জানি, বাকিটা ইতিহাস।

নকশালপন্থী আন্দোলনের পর ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় সামন্ত মাফিয়ারা কিছুটা দূর্বল হয়। বুর্জোয়ারা নিজেরাও সামন্তদের থেকে নিজেদের অনেকটা মুক্ত করতে পারে। তারা একদিকে সশস্ত্র বামদের উপর ব্যাপক দমন পীড়ন চালায়। অন্যদিকে বেশ কিছু পজিটিভ সংস্কার করে, সশস্ত্র বামেদের সাপ্লাই লাইন আর যৌক্তিক ভিত্তি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, সংসদীয় বামেদের মেনে নিতে বাধ্য হয়। সম্ভ্রান্ত বৃত্তে যাদের ঢুকতে দেওয়া হত না, শ্রেনী সংগ্রামের চাপে সেই বৃত্তে শ্রমিক কৃষক নেতারা ঢুকতে পারে। যুবকরা দেখে অন্য শান্তিপূর্ণ পথ আছে।

এবার সশস্ত্র বাম আন্দোলন যদি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়, তখন অবশ্যই এই সমীকরণ বদলাবে। বদলাতে বাধ্য৷

অনেকে মনে করছেন সশস্ত্র ধারার বিলোপ হলে সংসদীয় বামদের দমন করা কঠিন। কারণ রাষ্ট্রের কাছে যুক্তি থাকবে না। হয় এরা ইতিহাস জানেনা, নয়তো মার্কসবাদ বোঝে না, অতিব সরল মানুষ। নয়তো টিপিক্যাল সংশোধনবাদী। কারণ রাষ্ট্র ব্যাপারটাই হল শাসক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপ। দায় পড়ে যতটা গণতন্ত্র দিতে হয়, ততটাই গণতন্ত্র পাওয়া যায়। এটাই মার্কসবাদ।

এছাড়া আরেকটা আন্তর্জাতিক উদাহরণ আছে। অনেক পন্ডিত ফান্ডা দিয়েছিলো যে সোভিয়েত বা সমাজতান্ত্রিক ক্যাম্পের বা ওয়ারশ প্যাক্টের পতন হল ঠান্ডা যুদ্ধ এবং ন্যাটোর প্রয়োজন ফুরোবে। ফলত পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে। আদতে দেখা গেছে ন্যাটোর বিলোপ দূরের কথা ন্যাটোর আগ্রাসন এবং একতরফা জহ্লাদগিরি বেরেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন নতুন বাহানা খুজে নিয়েছে। সুতরাং বোকা গর্দব হলে হেসে নেওয়া যায়। কিন্তু জ্ঞানপাপীরা বিরক্তিকর।

Saikat Bhattacharya:
কয়েকটা ভুল ধরছি কিছু মনে করো না

1। ভারতীয় পুঁজিপতি অথবা ভারতীয় সামন্ত বলে কিছু হয় না কারণ ভারতীয় বলেই কিছু হয় না।

2। কৃষির জায়গায় শিল্প ও পরিষেবার গুরুত্ব বেড়েছে, অতএব সামন্তদের অর্থের শেয়ার সমগ্র অর্থনীতিতে কমে গেছে, বেড়েছে মূলত মারোয়ারি গুজরাটি পুঁজির গুরুত্ব।

3। সামন্ত মনন নিয়ে শিল্প পরিষেবায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বটে কিন্তু কিন্তু উপার্জিত অর্থ এই সামন্ত মনন এর ব্যবসায়ীরা হয় মারওয়ারী গুজরাতি পুঁজিকে দিয়ে দিয়েছে নয়তো মস্তি করে উড়িয়ে দিয়েছে, ফলে পুঁজির বিকাশ হচ্ছেনা। এই জন্যেই পঞ্চায়েত করে অর্থ কামিয়ে বড় বাজার দখল করতে আসেনা বাঙালি। দখল নেওয়ার ইচ্ছেই হয়না। কারণ পুঁজিবাদি সমাজ আসেনি। শিল্প (খুবই কম) পরিষেবা নির্ভর সমন্ততন্ত্র চলছে বলা উচিত।

Jyotirmoy Chakraborty:
ভারতীয় বলে কিছু হয়না কেনো?

Saikat Bhattacharya:
কারণ গুজরাটি মারওয়ারি পুজির অসম বিকাশ হয়েছে গোটা ভারত জুড়ে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আশি শতাংশ ব্যবসায়ী মাড়োয়ারি ও গুজরাটি পুজির দখলে। বাঙালি পুজিকে আস্তে আস্তে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সাহারার সুব্রত রায়, সারদার সুদীপ্ত সেন, রোজভ্যালির গৌতম কুন্ডু এরকম অজস্র নাম বলা যায়। যেখান থেকে বলে দেওয়া যায় যে ভারত রাষ্ট্র লাগাতার বাঙালি পুজি শেষ করে চলেছে। কারণ ভারত রাষ্ট্র মূলত গুজরাটি ও হিন্দিভাষিরা চালায় এবং তাদের চোখে বাঙালি ও বাংলাভাষীরা কেবলমাত্র উপনিবেশ এবং দাস।

Sreeja Mukherjee:
একদমই ঠিক। যে কারণের জন্য এ রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষকে মহাত্মা গান্ধী চিঠি লিখে একজন অন্তত মাড়োয়ারিতে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেটা না দেওয়ার কারণে মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রফুল্ল ঘোষের সরকার ফেলে দেওয়া হয়

  •  

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like