একজন কমিউনিস্ট-এর কাছে কেন ইসলাম ধর্ম হিন্দু ধর্মের চেয়ে বেশি প্রিয় হবেই?

01-November-2026 by east is rising 3

একজন কমিউনিস্ট-এর কাছে কেন ইসলাম ধর্ম হিন্দু ধর্মের চেয়ে বেশি প্রিয় হবেই?

কারণটা হলো হিন্দু কোনো ধর্মই নয়। যদি শ্রুতি স্মৃতি মানত তাহলে কাস্ট হায়ারার্কি মেনে চলত। কিন্তু পালন করে সরকারি চাকরিতে কোটা। কারণ সবাই জানে যে কোটা না দিলে সব SC -রাই ক্রিশ্চান বা মুসলিম হয়ে যাবে। কোটা তুলে দিলেই যেখানে ধর্মের অস্তিত্ব থাকবেনা সেটা কেমন ধর্ম?

অন্যদিকে ইসলাম কোরআন হাদিস মেনে চলে। যার সঙ্গে পুঁজিবাদ ও পশ্চিমের অজস্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। তাই ইসলাম পুঁজিবাদ ও পশ্চিম উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে অনেক সময়েই কার্যকর ভূমিকা রাখে (যেমন ইরান আফগানিস্তান ইয়েমেন লেবানন প্যালেস্তাইন)।

তাই পশ্চিম ও পুঁজির চোখে ইসলাম আর কমিউনিজম শত্রু। নিপীড়িতদের ও দুর্বলের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কমিউনিজমের পরেই ইসলামের স্থান। এই স্থান অর্জিত। প্যালেস্তাইনে ৩ টে কমিউনিস্ট ও ২ টো ইসলামিস্ট সংগঠন (যার মধ্যে হামাস একটা) লড়াই করছে জোট বেঁধে।

ইরানের ইসলামিক সরকার টিকে আছে কারণ প্রধান বিরোধী কমিউনিস্ট টুডে দল যারা ইসলামী সরকার বিরোধী হলেও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইতে এক কাট্টা। পুতিনকেও টিকিয়ে রেখেছে প্রধান বিরোধী দল কমিউনিস্ট পার্টিই।

হিন্দু ধর্মের কোনো সংগঠন নেই যা দুর্বলের পাশে দাঁড়ায়। মোদি (তেলী ওবিসি জোতদার) সাহ (বানিয়া) দের নেতৃত্বে একটা নরপিশাচের দল হয়ে উঠেছে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদ। এরা কেবল প্যালেস্টাইনের শিশু মরলেই আনন্দ পায় তাই নয়, এরা বাংলার গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করেও মজা পায়।

দরিদ্র ব্রাহ্মণ বিদ্বেষী, মুসলিম বিদ্বেষী আর শ্বেতাঙ্গ পশ্চিম চাটা যত সব বাদামী চামড়ার জমিদার জোতদার পুঁজিপতিদের ঢপ-এর আইডেন্টিটি হলো হিন্দু।

তাই ইসলামের স্থান অনেক অনেক উঁচুতে।

আর হিন্দুত্ববাদী দের স্থান নাজিদেরও অনেক নিচে।
 

দক্ষিণ এশিয়াতে হিন্দু মৌলবাদ ও ইসলাম মৌলবাদ কে এক চোখে দেখা ভুল কেন?

সমস্যা হলো ইসলাম এর সঙ্গে পশ্চিম ও উপনিবেশবাদের যে ঐতিহাসিক সংগ্রাম আছে (ক্রুসেডের সময় থেকে) তা হিন্দু বা বৈদিক বা সনাতন ধর্মের সাথে পশ্চিম ও উপনিবেশবাদের নেই। আসলে ভিক্টোরিয়ান আইনের ওপর দাঁড়ানো হিন্দু আইডেন্টিটি পশ্চিমকে তার ভূরাজনৈতিক মিত্র হিসেবে দেখে।

ইসলামের সঙ্গে পুঁজির যেমন দ্বন্দ্ব আছে তেমন স্মৃতি বা বেদের সাথেও থাকার কথা। কিন্তু ব্রিটিশ পুঁজি স্মৃতি ও বেদকে বাতিল করে ভিক্টোরিয়ান আইনের ওপর যে হিন্দু আইডেন্টিটি কায়েম করেছে তার সঙ্গে পুঁজির কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

দক্ষিণ এশিয়াতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ হিন্দু মুৎসুদ্দীদেরই মূল এজেন্ট হিসেবে দেখে, মুসলিম মুৎসুদ্দিদের দ্বিতীয় সারির এজেন্ট হিসেবে দেখে।

মোট কথা ইসলামের সাথে পশ্চিমের ভূরাজনৈতিক ও পুঁজিবাদের সাথে আদর্শগত যে বিরোধ আছে তেমন কোনো বিরোধ বর্তমান হিন্দু আইডেন্টিটির (যা কিনা ভিক্টোরিয়ান আইনের ওপর দাঁড়িয়ে, স্মৃতি বা বেদের ওপর নয়) সাথে পশ্চিম বা পুঁজিবাদের নেই।

আর দক্ষিণ এশিয়াতে পশ্চিম হিন্দু মুৎসুদ্দীদের প্রধান দালাল বানিয়েছে আর তাই মুসলিমরা দক্ষিণ এশিয়াতে নিষ্পেষিত বেশি, হিন্দুদের তুলনায়।

 

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like