বিশ বছর আগে, যখন চীন পাতাল রেল তৈরি করছিল, তখন তাদের টানেল বোরিং মেশিনের (TBM) প্রয়োজন হয়েছিল, যার সবগুলোই জার্মানি থেকে আমদানি করা হতো।
জার্মানি থেকে একটি টানেল বোরিং মেশিনের দাম ছিল ৩৫ কোটি RMB—এক পয়সাও কম নয়। কেনার সময় কঠোর শর্তে স্বাক্ষর করতে হতো: যদি মেশিনটি নষ্ট হয়ে যেত, তবে কেবল জার্মান ইঞ্জিনিয়ারদের তা মেরামত করতে দিতে হবে।
চীনে আসার জন্য একজন জার্মান ইঞ্জিনিয়ারের দৈনিক মজুরি ছিল ৩,০০০ ইউরো, যা তখনকার দিনে ৩০,০০০ RMB-এর বেশি ছিল। তাদের ফার্স্ট ক্লাসে ভ্রমণের খরচ দিতে হতো এবং একটি পাঁচতারা হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইটে রাখতে হতো।
মেরামতের সময় কোনো চীনাকে দেখার অনুমতি ছিল না; সবাইকে সেখান থেকে চলে যেতে হতো। কাজ শেষ হলে, তারা সরাসরি বিলটি হস্তান্তর করত—একটি ছোট্ট সিলিং রিং প্রতিস্থাপন করতে ১,০০,০০০ RMB খরচ হতো।
কখনও কখনও একটি ছোটখাটো ত্রুটির কারণে একজন জার্মান ইঞ্জিনিয়ারের আসার জন্য তিন মাস অপেক্ষা করতে হতো, যার ফলে পুরো নির্মাণস্থলের শত শত শ্রমিক অলস বসে থাকত এবং প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ RMB লোকসান হতো।
কিন্তু ২০০৮ সাল নাগাদ, স্বাধীন মেধাস্বত্ব অধিকারসহ চীনের প্রথম টানেল বোরিং মেশিন উৎপাদন শুরু হয়। জার্মানরা তখন এ নিয়ে মোটেও মাথা ঘামায়নি; তারা ভেবেছিল, চীনারা যা-ই তৈরি করুক না কেন, তা নিশ্চয়ই অকেজো হবে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাবে।
শেষ পর্যন্ত, চীনের টানেল বোরিং মেশিনগুলো শুধু যে কার্যকর ছিল তাই নয়, বরং এর দামও প্রতি ইউনিটে সরাসরি ৫০ মিলিয়ন RMB-তে নেমে আসে। এরপর, প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে এবং উৎপাদন বাড়লে, এখন একটি দেশীয় মেশিনের দাম ২০ মিলিয়ন RMB-এর সামান্য বেশি—যা মূল জার্মান মডেলগুলোর দামের মাত্র এক-সতেরো ভাগের এক ভাগ।
টানেল বোরিং মেশিনের বাজারে জার্মানির একচেটিয়া আধিপত্যের ধারণাটি রাতারাতি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। দেখা গেল, জার্মানি, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো হাতেগোনা কয়েকটি দেশই বিশ্বজুড়ে এগুলো তৈরি করতে পারত; তারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকিয়ে আকাশছোঁয়া দাম রাখার জন্য আঁতাত করেছিল।
এখন চীনও এই প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ায়, তাদের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। আজকাল একটি জার্মান টানেল বোরিং মেশিন বিক্রি করতে হলে, তাদের দাম কমিয়ে প্রায় চীনের সমপর্যায়ে আনতে হয়।
আর প্রযুক্তির বাজারে এই ঘটনাই একের পর এক ক্ষেত্রে বারবার ঘটে চলেছে।
চীনারা যখন সফলভাবে এরোপ্লেনের ইঞ্জিন তৈরি করবে তখন পশ্চিমাদের গর্ব, বোইং আর এয়ার বাস কোম্পানিতে রাতারাতি লাল বাত্তি জ্বলবে। এইজন্য তারা বিভিন্ন স্যাংশন দিয়ে চীনকে আটকে রাখতে চায়।
@ Sharifus Salekin Sahan
Author: Saikat Bhattacharya