Miraz Ak লিখেছেনঃ
পাল সাম্রাজ্যের ক্যাটাফ্র্যাক্ট অশ্বারোহী বাহিনী
পাল সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ক্যাটাফ্র্যাক্ট অশ্বারোহী বাহিনী। এই বাহিনীকে সমকালীন বিভিন্ন রাজ্যের ইতিহাসবিদরা "ভারতের বজ্রঅশ্ব" নামে উল্লেখ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়। ভারী বর্মে সজ্জিত এই অশ্বারোহী বাহিনী পাল সাম্রাজ্যের সীমান্ত রক্ষা, বিদ্রোহ দমন এবং বৃহৎ আক্রমণ পরিচালনার প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো।
ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যে যোদ্ধা এবং ঘোড়া—উভয়ই ভারী ধাতব বর্ম দ্বারা সুরক্ষিত থাকত। যোদ্ধারা ল্যামেলার বর্ম, চেইনমেল, লৌহ নির্মিত হেলমেট, বাহু ও পায়ের রক্ষাকবচ পরিধান করতেন। ঘোড়াগুলোকেও ধাতব মুখোশ, গলার বর্ম এবং শরীর আবৃত বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক আবরণে সজ্জিত করা হতো। ফলে শত্রুপক্ষের তীর ও হালকা অস্ত্র এই বাহিনীর বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর ছিল।
ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনীর প্রধান অস্ত্র ছিল দীর্ঘ বল্লম। আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে তারা ঘনবদ্ধ সারিতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শত্রুর দিকে ধাবিত হতো। এই আঘাতের উদ্দেশ্য ছিল শত্রুর সম্মুখসারিকে ভেঙে দেওয়া। বল্লম ব্যবহারের পর যোদ্ধারা কোষবদ্ধ তলোয়ার বের করে নিকটবর্তী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। প্রত্যেক যোদ্ধার কাছে একটি ছোট খঞ্জরও থাকত, যা শেষ পর্যায়ের আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এই বাহিনীর যুদ্ধকৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রথমে হালকা অশ্বারোহী ও ধনুর্ধর বাহিনী শত্রুকে দুর্বল ও বিশৃঙ্খল করে তুলত। এরপর ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনী ত্রিভুজাকার আক্রমণ বিন্যাসে (Wedge Formation) শত্রুর দুর্বল অংশে প্রচণ্ড আঘাত হানত। এই কৌশলের ফলে শত্রুসেনার সারি দ্রুত ভেঙে পড়ত এবং পরবর্তী পদাতিক বাহিনীর অগ্রযাত্রা সহজ হয়ে যেত।
সামরিক বিবরণ অনুযায়ী, পাল সম্রাটরা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ এবং বহু বছরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্যদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতেন। একজন ক্যাটাফ্র্যাক্ট যোদ্ধাকে ঘোড়সওয়ারি, বল্লম চালনা, তলোয়ার যুদ্ধ এবং দলগত কৌশলে দক্ষ হতে হতো। যুদ্ধের বাইরে তার প্রধান দায়িত্ব ছিল সীমান্ত দুর্গ পাহারা, রাজকীয় অভিযানে অংশগ্রহণ এবং সম্রাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পার্শ্ববর্তী বহু রাজ্যের জন্য এই বাহিনী ছিল এক ভীতিকর সামরিক শক্তি। উল্লেখ করা হয় যে, কোনো রাজ্যের গুপ্তচর যদি জানতে পারত পাল ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনী অভিযানে অংশ নিচ্ছে, তবে সেই রাজ্যের সেনাপতিরা সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করতেন। কারণ ভারী বর্মধারী এই অশ্বারোহীদের সম্মিলিত আক্রমণ প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচিত হতো।
সামরিক ইতিহাসবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাল সাম্রাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ ছিল এই সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী ক্যাটাফ্র্যাক্ট অশ্বারোহী বাহিনী। যদিও এই বাহিনীর অস্তিত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, তবে ইতিহাসে তাদের পাল সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
Facebook Page of Sultanate E Bangala
Author: Saikat Bhattacharya