৭১১ খ্রীষ্টাব্দঃ স্পেনের উপকূল

22-July-2026 by east is rising 1

একদিকে রূক্ষ, ধূসর আফ্রিকা। অপরদিকে দৃষ্টিনন্দন ও মনোরম দৃশ্যে সুসজ্জিত ইউরোপের বিস্তৃত ভূখণ্ড। আর, তাদের দু'জনার মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে নর্থ আটলান্টিকের শান্ত জলরাশি। যে জলরাশির শীতল স্রোতরাজি ইউরোপের মাটিকে আফ্রিকা হতে আলাদা করে ফেলেছে।

মহাসমুদ্রের একদম কাছাকাছি অবস্থানে থাকা সাগরের আলোচ্য স্থানটি অত্যন্ত সরু। যার ফলে আফ্রিকা মহাদেশ হতে বাণিজ্য জাহাজ নিয়মিত এখানকার সাগর পাড়ি দেয় ও ইউরোপ তথা স্পেনের বন্দরে উপনীত হয়। সুতরাং, ৭১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, আমাদের আজকের আলোচ্য দিনটিতে যখন উপকূলের ওপ্রান্ত হতে একটি নেভাল ফ্লোটিলা নোঙর তুলে নিলো, তখন সেটিকে স্পেনের পানে অগ্রসরমান দেখেও উপকূলে মোতায়েন স্পেনের সেনাবাহিনী সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করলো না।

নৌ-বহরটি নোঙর তুললো উপকূলের অপর পাশে, আফ্রিকার বন্দর নগরী সাবতাহ থেকে। আর তাঁর কমাণ্ড গ্রহণ করলেন লিজেণ্ডারি মুর এক্সপিডিশনারি কমাণ্ডার, তারিক বিন জিয়াদ। যাকে কিনা এই অপারেশনে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অর্ডার ইস্যু করেছেন স্বয়ং জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর। সেই ব্যক্তিত্ব, যাঁর কাঁধে স্বয়ং পৃথিবীর দোর্দণ্ডপ্রতাপ পরাশক্তি, খেলাফতে বনু ঊমাইয়ার হৃদয়, দামেশক হতে ইসলামি সশস্ত্র বাহিনীর 'Northern Africa Command' এর নিয়ন্ত্রণভার ন্যস্ত করা হয়েছে।

তাহলে জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর কেন তাঁর কমাণ্ডার, তারিক বিন জিয়াদকে আমাদের আজকের আলোচ্য অপারেশনটিতে প্রেরণ করছেন! তা জানার জন্য চলুন আমরা চলে যাই আরো কিছুদিন পেছনে। এবার আমাদের গন্তব্য হবে টলেঁডো। স্পেন সম্রাটের রাজধানী।

সেকালে স্পেনের অভিজাত পরিবারগুলোয় একটি ঐতিহ্য ছিল। তা হলো, তাদের কিশোর ও তরুণ সন্তানদের তারা স্পেনের রাজপ্রাসাদে প্রেরণ করবেন। যেখান থেকে তারা সাম্রাজ্যের আদব, আইন-কানুন সম্পর্কে ধারণা পাবে, নিজেদের মাঝে পরিচিত হবে।

আজকের দিনে পৃথিবীর নানান দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সন্তানদের লণ্ডনের ইঊনিভার্সিটি বা স্যাণ্ডহার্স্টের মিলিটারি একাডেমিতে প্রেরণের পেছনেও একই চালিকাশক্তি কাজ করে। যাইহোক, স্পেন নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা মহাদেশের উপকূল শহর, সাবতাহর গভর্নর তখন কাউন্ট জুলিয়ান। যিনি নিজেও কিনা এই নিয়মের ব্যতিক্রম ছিলেন না। আর তাঁরই মেয়ে হলেন ফ্লোরিণ্ডা। ইতিহাস যাকে অনিন্দ্য সুন্দর রূপের অধিকারী মর্মে ভূষিত করেছে।

অনুমান করা যায় যে, ফ্লোরিণ্ডার সৌন্দর্যের কথা স্পেনের অভিজাত মহলে আলোচনার বিষয় ছিল। ফলাফল হিসাবে, কোনোভাবে তাঁর প্রশংসা স্পেনের সম্রাট রডরিকের কান পর্যন্ত চলে যায়। সুতরাং, রডরিকের পক্ষ হতে কাউন্ট জুলিয়ানের নিকট বার্তা দেওয়া হয় যে - "তোমার কন্যাকে আমাদের কাছে প্রেরণ করো। যেন ভবিষ্যতে সে তাঁর নিজস্ব গুণাবলির সমান উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান পেতে পারে ও আমাদের রাজকীয় নিয়ম কানুন সম্পর্কে অবগত হতে পারে।"

স্পেনের দরজা বলে পরিচিত ছোট্ট শহর, সাবতাহর গভর্নর হিসাবে বার্তাটি কাউন্ট জুলিয়ানের জন্য সম্মানেরই ছিল। সুতরাং, তিনি সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক ফ্লোরিণ্ডাকে টলেঁডোর পানে পাঠিয়ে দিলেন। যেখানে তখন অবস্থিত ছিল রডরিকের রাজপ্রাসাদ ও স্পেনের রাজধানী।

রডরিক নিজের শিকারকে বাগে পেয়ে গেলো। টলেঁডোতে পৌঁছাবার পর ফ্লোরিণ্ডা রাজধানীর প্রাসাদে অবস্থান করতে শুরু করলে রডরিকের নজর পড়লো তাঁর ওপর। অতঃপর, সুযোগ বুঝে একদিন রডরিক তাঁর ওপর হামলে পড়লো। স্পেনের অভিজাত অঙ্গনে তারকার অবস্থানে থাকা ফ্লোরিণ্ডা খোদ স্পেনের সম্রাটের দ্বারা পাশবিক ধর্ষণের শিকারে পরিণত হলেন!

ক্রমাগত নিপীড়নের শিকার অসহায় মেয়ে তখন রেহাইয়ের আশায় মরিয়া। অথচ, চতুর্দিকে তাকিয়ে তিনি কোনো সাহায্যকারীর দেখা পেলেন না! অতএব, উপায়ন্তর না পেয়ে সুযোগ বুঝে একদিন নিজ বাবার কাছে ফরিয়াদ জানিয়ে পাঠালেন তিনি।

কন্যার মিনতিপূর্ণ চিঠি পড়ার পর তখন কাউন্ট জুলিয়ানের অবস্থা হলো দেখার মতো। কিন্তু, তিনি আর কি করতে পারবেন! তাঁর প্রিয় কন্যা যে স্বয়ং স্পেনের সম্রাটের হাতে বন্দি। কিভাবে কি করবেন তিনি! অতঃপর, অনেক ভাবনার পর জুলিয়ান ও তাঁর স্ত্রী একটি বুদ্ধি বের করলেন।

তাঁরা পরিকল্পনা করলেন যে, রডরিকের দরবারে যাবেন কাউন্ট জুলিয়ান। যেখানে গিয়ে ওকে জানানো হবে যে, ফ্লোরিণ্ডার মা দারুণ অসুস্থ। তাই, তিনি নিজ মেয়েকে একবার দেখতে চেয়েছেন! অতএব, মহামান্য সম্রাট যেন দয়া করে মেয়েটাকে কিছুদিনের জন্য হলেও একটু বাবার হাতে ফেরত দেন!

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সুতরাং, টলেঁডোর রাজ দরবারে গিয়ে কাউন্ট জুলিয়ান যখন তার আবেদন ব্যক্ত করলেন, তখন রডরিক স্বাভাবিক কারণেই অনুমতি দিতে বাধ্য হলো। পাশাপাশি, জুলিয়ান ওকে সন্তুষ্ট করতে ওর জন্য অনেক উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। সে দম্ভের সাথে গ্রহণ করলো সেগুলো। অতঃপর জুলিয়ানের নিকট দাবি জানালো - "ফিরে আসবার সময় আমার জন্য আপনার অঞ্চল থেকে একটি বাজপাখিও সাথে আনবেন।"

তখন জুলিয়ান জবাব দিলেন - "মহামান্য সম্রাট! আমি আপনার জন্য এমন বাজ নিয়ে আসব, যা আপনি জীবনেও কোনোদিন দেখেননি!"

অতঃপর কোনোরকমে মেয়েকে নিয়ে তিনি সাবতাহতে ফেরত এলেন। সেখানে মেয়েকে তাঁর মা'য়ের হাতে তুলে দিয়ে সাথে সাথে আফ্রিকার ধূসর প্রান্তর পাড়ি দিয়ে জুলিয়ান রওয়ানা হয়ে গেলেন কায়রোয়ানের পানে।

কায়রোয়ান! টলেঁডোর প্রাসাদ থেকে মেয়েকে বের করিয়ে নিয়ে কাউন্ট জুলিয়ান যে কেমন ভয়ঙ্কর গন্তব্যের পানে রওয়ানা হয়েছেন, জানতে পারলে হয়তো রডরিক সাথে সাথেই মরে যেতো!

সাগরের এপারের শহর কায়রোয়ানের উচ্চারণ সেকালে সাগরের ওপারে, ইউরোপের রাজপ্রাসাদের অভিজাতদের মেরুদণ্ডে শীতল ভয়ের স্রোত নামিয়ে দিতো! কারণ! কারণ হলো, প্রচণ্ড আগ্রাসী মানসিকতার ও ভয়াবহ শক্তির অধিকারী খেলাফতে বনু ঊমাইয়ার নর্দার্ন আফ্রিকা কমাণ্ডের সেনাসদর তখন কায়রোয়ানে অবস্থিত!

যাদের তরফ হতে ইউরোপ তখন যেকোনো সময়ে সাগর পাড়ি দিয়ে বিধ্বংসী হামলা শুরু করে দেওয়ার আশঙ্কা করতো। নর্থ আটলান্টিকের মুখে সরু প্রণালীটির ওপ্রান্ত কোনোদিন কায়রোয়ানের সেনাদলের হাতে চলে গেলে কি ঘটতে পারে, সে কথা চিন্তা করে কুঁকড়ে থাকতো ওরা। কিন্তু, ওরা তখনো জানে না যে, রডরিক যা ঘটিয়েছে, তাতে ওদের বিভীষিকাময় সম্ভাবনা ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে রূঢ় বাস্তবতায়।

কায়রোয়ানের মিলিটারি হেডকোয়ার্টারে পা দিয়ে কাউন্ট জুলিয়ান নর্দার্ন আফ্রিকা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রক, লিজেণ্ডারি জেনারেল মুসা বিন নুসাঈরের সাথে সাক্ষাতের জন্য বিনীত আবেদন প্রেরণ করলেন!

অনুরোধ রক্ষা করা হলো! মুসা বিন নুসাঈর, কাউন্ট জুলিয়ানের পাশে বসলেন। একজন অসহায় পিতার অনুযোগ, আকুতি, বেদনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন তিনি। সতর্কতার সাথে জানতে পারলেন তাঁর হৃদয়ে জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের অগ্নিশিখার কথাও।

সবশেষে তিনি সকল দিক বিবেচনার পর, তারিক বিন জিয়াদকে একটি অনুসন্ধানী অভিযানের লক্ষ্যে নির্বাচন করলেন। মুসা বিন নুসাঈরের অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত এই মুর সেনানায়ক সেসময় তাঞ্জিয়ারে অবস্থান করছিলেন। কায়রোয়ানের সামরিক সদর হতে তাই একজন বার্তাবাহক রওয়ানা হয়ে গেলো তাঞ্জিয়ার গ্যারিসনের দিকে!

এখন আমরা পুনরায় ফিরে যাব বন্দর নগরী সাবতাহর দিকে। যেখান হতে নোঙর তুলছে কাউন্ট জুলিয়ানের বাজ, কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদের ফ্লোটিলা। কিছুসময় পর যে ফ্লোটিলা তাঁর ৭,০০০ এক্সপিডিশনারি মুসলিম সওয়ারকে বহন করে বজ্রের ন্যায় আছড়ে পড়বে স্পেনের উপকূলে!

যাদের হামলার প্রচণ্ডতায় হতবিহ্বল হয়ে পলায়ন শুরু হবে উপকূলের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত রডরিকের সেনাবাহিনীর মাঝে। যাদের সেনাপতির তরফ হতে সম্রাট রডরিককে বার্তা প্রেরণ করা হবে। যেখানে সে জানাবে - "জনাব! আমাদের ওপর এমন বাহিনী হামলা করেছে, আমরা জানি না তাঁরা কোত্থেকে এলো! মাটি ফুঁড়ে! নাকি আকাশ থেকে!"

উপকূল রক্ষীদের উপরোক্ত বার্তা পেয়ে রডরিক বিশাল বাহিনী জমা করে। যাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,০০০০০ এর কাছাকাছি। রডরিকের বাহিনীর দম্ভ এত বেশি ছিল যে, ওর সেনাবাহিনী নিজেদের পেছনে অনেকগুলি বাহনের ওপর মোটা রশি বহন করছিল। যেগুলো দিয়ে ওরা পরিকল্পনা করেছিল যে, এগুলো ব্যবহার করে কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদের সেনাদের বন্দি করার পর বাঁধা হবে।

ওদিকে রডরিকের বিপরীত শিবিরে থাকা কমাণ্ডার তারিকের সামনে তখন দূঃশ্চিন্তার সকল উপকরণ উপস্থিত। জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর তাঁকে শুধুমাত্র স্পেনের মাটিতে স্পেশাল রিকনাইস্যান্স পরিচালনার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। যে অনুসন্ধানী তৎপরতার ওপর নির্ভর করে কায়রোয়ান হতে ভবিষ্যতকালে হয়তো বড় সামরিক পদক্ষেপ প্রস্তুত করা হবে।

তারিক স্পেনে অবতরণের পর বিগত দিনগুলোতে ঠিক তাই করেছেন। কিন্তু, এখন তাঁর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে খোদ রডরিক! আমাদের জন্য এটি দূঃসংবাদ মনে হচ্ছে আজ। কিন্তু, তারিকের মনে হলো যে, এই তো "মেঘ না চাইতে বৃষ্টি!" কিন্তু, রডরিকের সাথে আবার রয়েছে লক্ষাধিক সেনা। এমন ভীতিকর পর্যায়ের অসম মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ানোর নির্দেশনাও ওদিকে কায়রোয়ান তাঁকে প্রদান করেনি।

আবার, সহযোদ্ধাদের নিরাপদ রেখে পিছু হটাও তাঁর পক্ষে এখানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মাঝে লক্ষাধিক সেনার সুসজ্জিত কাতারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর ৭,০০০ বিশেষায়িত যোদ্ধার সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্র বাহিনীটি কাতারবন্দি হলো। অতঃপর তাঁদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে তারিক যে নির্দেশনা প্রদান করলেন, তা আজও লড়াইয়ের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি সেদিন যা বলেছিলেন, তাঁর সারমর্ম ছিল নিম্নরূপ -

"আমার প্রিয় সহযোদ্ধারা! আমরা কোথায় পালাব! পেছনে আমাদের উত্তাল সমুদ্র! আর সামনে আমাদের শত্রুর বাহিনী! আল্লাহ তা'আলার কসম! বীরত্ব আর উদ্যম ব্যতীত আজ এখান হতে আমাদের আর কোনো পরিত্রাণের রাস্তা বাকি নাই!"

রক্তক্ষয়ী অসম যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো! যুদ্ধের একটি স্বাভাবিক নিয়ম হলো, হামলাকারী শক্তিকে প্রতিরক্ষায় আগত শক্তির বিপরীতে ০৩ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে হবে। সেখানে ধারণা করা হয় যে, কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদ ও তাঁর সঙ্গীদের প্রতি ০১ জন যোদ্ধার বিপরীতে রডরিকের সৈনিকদের সংখ্যা ছিল সেদিন কমপক্ষে ১৫ জন।

এমন অবস্থায় টানা ০৩ দিন যুদ্ধ চলমান রইলো। অতঃপর, শেষ দিনের লড়াই আরম্ভ হলে কায়রোয়ানের মুষ্টিমেয় এক্সপিডিশনারির দল রডরিকের বাহিনীর সেনাদের লাইন চিরে ফেললেন! রডরিকের পদাতিকদের কাতার মুসলিম অশ্বারোহীর চাপে লণ্ড-ভণ্ড হয়ে গেলো।

অবস্থা দেখে গত ০৩ দিন যাবৎ এই গুটিকয়েক মানুষের তাণ্ডবের ফলে ইতিমধ্যে হত-বিহ্বল অবস্থায় থাকা স্পেনের সেনাদের এবার গ্রাস করে নিলো ভয়াবহ আতঙ্ক! পালাতে শুরু করলো ওরা! স্বয়ং রডরিক সেদিন নিজে পালাতে গিয়ে সাগরে পড়ে যায়। অতঃপর, ওকে আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি!

কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদের বার্তাবাহক অতঃপর সুসংবাদ সমেত দ্রুততার সাথে কায়রোয়ানের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। কে জানে, বার্তাবাহক সাবতাহর মাঝ দিয়ে অতিক্রমের কালে ফ্লোরিণ্ডা সেদিন রডরিকের পরিণতি জেনে মুচকি হেসেছিলেন কিনা!

তবে, যাই হোক, তারিক বিন জিয়াদ সেখানে থামলেন না। তাঁর যে ক্ষুদ্র বাহিনী, সেটিও চারটি ভাগ করে ফেললেন তিনি! তারপর শুরু হলো সমগ্র স্পেনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের অভিযান। যার কয়েকদিনের মাঝে রডরিকের রাজধানী টলেঁডো যখন তাঁর সেনাদলের নিয়ন্ত্রণে আসে, তখন টলেঁডোয় অভিযান চালানো বাহিনীতে মাত্র ৭০০ জন যোদ্ধা ছিলেন।

তারিকের এসব কীর্তির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে কিছুদিনের মাঝে তাঁর সাথে এসে যুক্ত হন স্বয়ং জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর। কারণ, মুসা আশঙ্কা করছিলেন যে, হয়তো তারিক বিন জিয়াদ এভাবে বেপরোয়া ঝুঁকি নিতে গিয়ে সংখ্যার স্বল্পতার কারণে নিজেকে বিপদের মুখে না ঠেলে দেন। যা সামরিক অধিনায়কদের একটি অন্যতম শঙ্কা ছিল সকল যুগেই। ততদিনে যদিও অধিকাংশ স্পেন আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

আজ আমরা স্পেন ও মরক্কোর মাঝ দিয়ে যে Strait of Gibraltar এর নাম শুনে থাকি, মানচিত্রে সে নামটির আগমন হয়েছিল আমাদের অবিসংবাদিত বীর সেনানী জেনারেল তারিক বিন জিয়াদের নাম হতে। 'জাবাল আত-তারিক্ব' হতে পরবর্তীতে যে নামটি 'Gibraltar' নামে রূপান্তর হয়।

আল-আন্দালুসের নামে আজকের স্পেন একদা আমাদের ছিল। পুনরায় তাঁকে আমাদের করে নিতে হবে। আর, কথাটি আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া চলবে না।

Sultanate E Bangala

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like