Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্রোণাচার

বাংলা ভূমির হারিয়ে যাওয়া যোদ্ধা তৃতীয় পর্ব

22-July-2026 by east is rising 2

Miraz Ak লিখেছেনঃ

The Pala's heavy infantry অথবা

ধর্মপাল-রক্ষী মহাশূলবাহিনী (Dharmapāla Rakṣī Mahāśūlabāhinī)

প্রথমে আমরা শুনি একটি রণমন্ত্র

"धम्मो नो शरणं, पालो नो स्वामी।

अचलाः वयं शूलधारिणः।

यावत् प्राणो देहे तिष्ठति,

तावत् राजध्वजो न नमति॥"

ধম্মো নো শরণং, পালো নো স্বামী।

অচলাঃ বয়ং শূলধারিণঃ।

যাবৎ প্রাণো দেহে তিষ্ঠতি,

তাবৎ রাজধ্বজো ন নমতি॥"

বাংলা অর্থ

"ধর্মই আমাদের আশ্রয়, পাল সম্রাটই আমাদের প্রভু।

আমরা অচল মহাশূলধারী যোদ্ধা।

যতক্ষণ আমাদের দেহে প্রাণ বিদ্যমান,

ততক্ষণ রাজধ্বজ কখনো নত হবে না।"

এছাড়াও আরো একটি জয়ধ্বনি তারা, গাইতো যুদ্ধের সময়

"অচলা! অচলা!

ধর্মে জয়!

পালে জয়!

মহাশূলে জয়!"

অর্থ

"আমরা অটল! আমরা অবিচল!

ধর্মের জয় হোক!

পাল সম্রাটের জয় হোক!

আমাদের মহাশূলের জয় হোক!"

এবার আমরা মূল প্রেক্ষাপটে আসি আজকের বিষয় যা নিয়ে তা হল মহাশূলবাহিনী পাল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে পদাতিক শক্তিধর বাহিনী তাদের হ্যাবি ইনফিনিট্রি।

অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে পূর্ব ভারতের পাল সাম্রাজ্য ছিল উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য। বিশাল ভূখণ্ড রক্ষা করতে পাল সম্রাটদের নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি ছিল একটি বিশেষ নির্বাচিত ভারী পদাতিক বাহিনী, যাদের রাজদরবারে "ধর্মপাল-রক্ষী মহাশূলবাহিনী" নামে অভিহিত করা হতো।

এই বাহিনীতে যোগ দেওয়া ছিল অসাধারণ সম্মানের বিষয়। শত শত সৈন্যের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকজনকে কঠোর শারীরিক সক্ষমতা, আনুগত্য, যুদ্ধদক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই দলে নেওয়া হতো। তারা শুধু সৈনিক ছিল না—তারা ছিল সম্রাটের জীবন্ত দুর্গ।

তাদের পরনে থাকত ভারী লৌহ চেইনমেল বর্ম, তার ওপর লোহার পাতযুক্ত বাহুরক্ষা, মাথায় ব্রোঞ্জ বা লোহার শিরস্ত্রাণ এবং হাতে বিশাল গোলাকার ঢাল। প্রধান অস্ত্র ছিল দীর্ঘ মহাশূল, পাশাপাশি কোমরে থাকত ধারালো খড়্গ। এই ভারী বর্মের কারণে সাধারণ তীর, বল্লম কিংবা তরবারির আঘাত সহজে তাদের ভেদ করতে পারত না।

প্রতিদিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলত তাদের অনুশীলন। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পূর্ণ বর্ম পরে দৌড়াত, পাহাড়ে উঠত, নদী পার হতো এবং দলগত কুচকাওয়াজে অংশ নিত। তাদের শিক্ষা ছিল—একজন সৈন্য নয়, পুরো সারিটাই একটি অস্ত্র। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে একজনও নিজের অবস্থান ছেড়ে যেত না।

যুদ্ধের সময় তারা তৈরি করত এক অটুট ঢাল-প্রাচীর। সামনের সারির সৈন্যরা ঢাল জুড়ে এক অবিচ্ছিন্ন প্রাচীর বানাত, আর পেছনের সারি সেই ফাঁক দিয়ে মহাশূল এগিয়ে শত্রুর অগ্রগতি থামিয়ে দিত। অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণ এই শূলবনের সামনে প্রায়ই ভেঙে পড়ত। শত্রুর তীরের ঝড় তাদের ভারী ঢাল ও বর্মে আটকে যেত, আর তারপর ধীর কিন্তু অবিচল অগ্রযাত্রায় তারা প্রতিপক্ষকে পিছিয়ে দিতে শুরু করত।

পাল সাম্রাজ্যের রাজদরবারে একটি কথা প্রচলিত ছিল—

"যেখানে মহাশূলবাহিনীর ঢাল দাঁড়ায়, সেখানে সম্রাটের পতাকা কখনও নত হয় না।"

তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল সম্রাটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। রাজদরবার, সামরিক শিবির, বিজয়যাত্রা কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র—সব জায়গায় তারা সম্রাটকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখত। কোনো শত্রু যদি সেই বলয় ভেদ করার চেষ্টা করত, তবে তাকে প্রথমে এই ভারী পদাতিকদের মুখোমুখি হতে হতো।

প্রতিপক্ষের কাছে এই বাহিনীর সুনাম ছিল ভয়ংকর। বহু সেনাপতি তাদের সম্পর্কে বলত যে, সাধারণ সৈন্যদের মতো এরা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয় না। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হতো, তাদের শৃঙ্খলা তত দৃঢ় হয়ে উঠত। ভারী বর্মে সজ্জিত সৈন্যদের ধীর অথচ নিরলস অগ্রযাত্রা শত্রুর মনোবল ভেঙে দিত। অনেক সময় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তাদের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের মনে ভীতি সৃষ্টি করত।

পাল সাম্রাজ্যের সামরিক ঐতিহ্যে ধর্মপাল-রক্ষী মহাশূলবাহিনী ছিল সাহস, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার প্রতীক। ইতিহাসের পাতায় বাস্তব হোক বা কিংবদন্তির আলোয়, তাদের নাম এক অদম্য প্রতিরক্ষা-বাহিনীর প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

Sultanate E Bangala

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like



A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: touch(): Unable to create file ci_session/ci_session04mqivn38l9ad9ckns3goqdstjbq9mip because No such file or directory

Filename: drivers/Session_files_driver.php

Line Number: 252

Backtrace:

A PHP Error was encountered

Severity: Warning

Message: session_write_close(): Failed to write session data using user defined save handler. (session.save_path: ci_session, handler: CI_Session_files_driver::updateTimestamp)

Filename: Unknown

Line Number: 0

Backtrace: