বাংলা সালতানাতের যুদ্ধাস্ত্র

12-June-2026 by east is rising 3

বাংলার স্বাধীন সুলতানী আমলের সামরিক শক্তির ভিত্তি ছিল নানা ধরনের দেশীয় ও বিদেশি যুদ্ধাস্ত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাঁশের ধনুক ও তীর, যা বাংলার আর্দ্র আবহাওয়া ও জঙ্গলাকীর্ণ ভূপ্রকৃতিতে অত্যন্ত কার্যকর ছিল। পদাতিক পাইক সৈন্যরা ব্যবহার করত খাঁড়া, কোপ্তা, বর্শা ও ঢাল। খাঁড়ার ভারী ও প্রশস্ত ফলক কাছাকাছি যুদ্ধে শত্রুর ওপর বিধ্বংসী আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। অন্যদিকে অশ্বারোহী যোদ্ধা ও আমীররা পারস্য ও মধ্য এশীয় ঘরানার শমশের তলোয়ার এবং জামধর বা কাটার নামক খঞ্জর বহন করত।

যুদ্ধহস্তীগুলোও ছিল একপ্রকার জীবন্ত অস্ত্র। হাতির পিঠে স্থাপিত হাওদা থেকে তীরন্দাজরা আক্রমণ চালাত, আর হাতিগুলো শত্রুবাহিনীর সারি ভেঙে দিতে ব্যবহৃত হতো। নদীমাতৃক বাংলায় নৌযুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত হতো লোহার বড়শি, কাটারি, কুঠার এবং জাহাজ ধ্বংসের উপযোগী বিভিন্ন অস্ত্র।

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বাংলার সেনাবাহিনীতে বারুদভিত্তিক অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। তুফাঙ্গ, হাতকামান এবং ছোট কামান নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী উভয়ের মধ্যেই প্রচলিত হয়। সৈন্যদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হতো ইস্পাতের শিরস্ত্রাণ, চেইনমেইল এবং লোহার বর্ম। ধনুক-তীর, তলোয়ার, যুদ্ধহস্তী ও কামানের সমন্বয়ই সুলতানী বাংলার সামরিক শক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল।

Taken from Facebook Page of Sultanate AL Bangala

Author: Saikat Bhattacharya


You may also like