নিঃসন্দেহে জেট ইঞ্জিনকে এই শতাব্দীর আধুনিক ইন্ডাস্ট্রির সেরা শিল্পকর্ম বলা যায়। আর সেই শিল্প-কর্মের মাথার মুকুট হল সিঙ্গেল ক্রিস্টাল টারবাইন ব্লেড টেকনোলজি, যেটা জেট ইঞ্জিনের হাজার হাজার ডিগ্রী উষ্ণতাকে সহ্য করেও গলে না। ফলস্বরূপ একটা যু'দ্ধবিমান ঘণ্টার পর ঘন্টা আকাশে উড়তে পারে।
এই উচ্চ সহনশীল অথচ পাতলা ধাতুর ব্লেড ছাচে ঢালাই করার প্রযুক্তি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং যুগের পর যুগ গবেষণার ফল। আধুনিক দুনিয়ায় মাত্র পাঁচটি দেশের কাছে এই ব্লেড তৈরির প্রযুক্তি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং সর্বশেষ সংযোজন হল চীন।
ইঞ্জিনের এই হট-সেকশনের উপাদান ব্লেডগুলো যত বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে, শক্তি রূপান্তরের দক্ষতা তত বেশি হয়, যার ফলে অধিক থ্রাস্ট, কম জ্বালানি খরচ এবং উন্নত সামগ্রিক কর্মক্ষমতা পাওয়া যায়।
সম্প্রতি চীনের এইসিসি বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ অ্যারোনটিক্যাল ম্যাটেরিয়ালস-এর প্রধান প্রকৌশলী লি জিয়ারং তার দলের সাথে সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় (আইপি) অধিকারসহ একটি সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ব্লেড সুপারঅ্যালয় তৈরি করেছেন, যা আন্তর্জাতিক উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে।এই ব্লেডটি ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত দ্বিতীয় প্রজন্মের সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ব্লেড গুলির চেয়ে উন্নত বা সমতুল্য কর্মক্ষমতা প্রদান করে।” তাছাড়া এর উৎপাদন খরচও কম।
১৯৮০-এর দশক থেকে, এই প্রতিষ্ঠানটি মেধাস্বত্ব অধিকারসহ সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ব্লেড উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং এর পাশাপাশি চীনের প্রথম টারবাইন ব্লেড ও প্রথম সিঙ্গেল ক্রিস্টাল ফাঁপা টারবাইন ব্লেডসহ আরও অনেক কিছু তৈরি করেছে। সিএমজি-র মতে, এই অর্জনগুলো চীনের একাধিক প্রযুক্তিগত শূন্যতা পূরণ করেছে। আর চীনকে পঞ্চম দেশ হিসেবে আধুনিক জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি দিয়েছে।
সংকর ধাতু গলানো ও প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত এই ব্লেড তৈরিতে ১০টিরও বেশি প্রধান মূল প্রক্রিয়া জড়িত। এই মূল প্রক্রিয়াগুলোর প্রত্যেকটি আবার কয়েক ডজন উপ-ধাপে বিভক্ত।
সিএমজি উল্লেখ করেছে যে, চীন স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে সক্ষম মাত্র পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে।
সূত্র:গ্লোবাল টাইমস্।
Author: Saikat Bhattacharya