আমরা বিটকয়েনকে জানি এক মুক্ত দুনিয়ার মুদ্রা হিসেবে,যার কোনো ব্যাংক নেই,কোনো মালিক নেই। কিন্তু মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসন একেবারেই ভিন্নকিছু বলছেন।
টাকার কার্লসন এক বক্তব্যে বলেছেন, তিনি বিটকয়েনে এক আনা পয়সাও ইনভেস্ট করবেন না। কেন?
কারণ তাঁর দাবি -এই বিটকয়েন খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তৈরি করেছে!
বিষয়টা খোলসা করা যাক।
বিটকয়েনের জন্মদাতা হিসেবে আমরা একটা নাম জানি -সাতোশি নাকামোতো।কিন্তু আজ পর্যন্ত দুনিয়ার কেউ জানে না এই সাতোশি নাকামোতো আসলে কে? সে কি কোনো মানুষ, নাকি কোনো রোবট, নাকি কোনো দেশের সংস্থা?
কার্লসনের মতে, এই রহস্যময় নামটা আসলে সিআইএ-র একটা ছদ্মনাম।
কার্লসন সতর্ক করেছেন, এটা হলো পর্দার আড়ালের একদল চতুর গ্লোবাল এলিটদের তৈরি করা এক বিশাল ‘ডিজিটাল ফাঁদ’।
তারা এই ক্রিপ্টোর লোভ দেখিয়ে দুনিয়ার সব মানুষকে এক ছাতার নিচে আনবে, আর তারপর যখন খুশি তখন রিমোট টিপে পুরো দুনিয়ার অর্থনীতি আর রাজনীতিকে নিজেদের হাতের পুতুল বানিয়ে নাচাবে।
এই তত্ত্বে ঘি ঢেলেছেন ব্রিটিশ লেখক ডেভিড আইকে আর সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপানো জ্যাকসন হিঙ্কল। তাঁরা বলছেন, এটা কোনো সাধারণ ইনভেস্টমেন্টের জায়গা নয়, এটা খোদ আমেরিকার এক মারাত্মক ‘জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু’।
অনেকে বলতে পারেন, বিটকয়েন তো চলে কোডিং আর ক্রিপ্টোগ্রাফি দিয়ে, এখানে সিআইএ আসবে কোত্থেকে?” এইখানেই লুকিয়ে আছে আসল টেকনিক্যাল টুইস্ট!
বিটকয়েন সিকিউরিটির জন্য যে বিখ্যাত কোড বা অ্যালগরিদম ব্যবহার করে, তার নাম SHA-256.
আর এই কোডটা প্রথম কারা বানিয়েছিল জানেন? মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, যাকে আমরা সংক্ষেপে বলি এনএসএ (NSA)
এখন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন, যে কোড আমেরিকান গোয়েন্দারা নিজেদের জন্য বানিয়েছিল, সেটার ভেতর তারা নিশ্চয়ই এমন কোনো গোপন ‘ব্যাকডোর’ বা ফাঁকফোকর রেখে দিয়েছে, যার চাবি শুধু ওয়াশিংটনের কাছেই আছে।
দুনিয়ার মানুষ ভাবছে তাদের লেনদেন সম্পূর্ণ গোপন,আর ওদিকে ল্যাংলি বা পেন্টাগনে বসে সিআইএ-র এজেন্টরা কফির কাপে চুমুক দিয়ে দেখছে কার ওয়ালেটে কত ক্রিপ্টো ঢুকছে আর বেরোচ্ছে!
দিন দিন দুনিয়া যেভাবে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলার বর্জনের দিকে এগোচ্ছে, তাতে কাগজের ডলার দিয়ে বেশিদিন মোড়লগিরি করা যাবে না।
তাই আমেরিকা এই বিটকয়েনকে ছেড়েছে এক অদৃশ্য চাবুক হিসেবে।
দেখুন কীভাবে এই চাবুক তিন মহাদেশে কাজ করছে:
দক্ষিণ এশিয়া: পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো যেসব দেশের নিজেদের মুদ্রা দুর্বল, সেখানে একটু অর্থনৈতিক ঝামেলা হলেই মানুষ বিটকয়েনের দিকে ঝোঁকে।
আর মানুষ যখনই ক্রিপ্টোর জালে ঢুকবে, মার্কিন গোয়েন্দারা ‘ব্লকচেইন অ্যানালিটিক্স’ দিয়ে খুব সহজে ট্র্যাক করে ফেলবে যে কোন রাজনৈতিক দল বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর কাছে কোথা থেকে টাকা আসছে।
চীন তাদের নিজস্ব ‘ডিজিটাল ইউয়ান’ বানিয়ে ডলারকে টেক্কা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা এই বিটকয়েনকে এমনভাবে প্রমোট করছে যাতে চীনের ডিজিটাল মুদ্রা ডানা মেলার আগেই মার খেয়ে যায়।
তাছাড়া, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা সাইবার ক্রাইম করে যে ক্রিপ্টো চুরি করে, সেটার ওপর নজরদারি রাখারও মোক্ষম হাতিয়ার এটি।
আফ্রিকার দেশগুলোতে এখন হুটহাট করে কিছু এনজিও গিয়ে বিটকয়েনের মহিমা প্রচার করছে। তাত্ত্বিকরা বলছেন, এই এনজিওগুলো আসলে সিআইএ-র মুখোশ।
আফ্রিকা যেন চীন বা রাশিয়ার তৈরি করা ‘ব্রিকস’ সিস্টেমে যোগ না দিয়ে এই ক্রিপ্টোর মায়াজালে আটকে থাকে -সেটাই হলো আসল ভূরাজনৈতিক চাল।
খুব সহজ করে বললে বন্ধু -বিটকয়েনকে বাইরে থেকে দেখতে যতোটাই স্বাধীন, বৈপ্লবিক আর ‘বিকেন্দ্রীভূত’ মনে হয় বা প্রচার করা হয়, ভেতরের রহস্যটা বড়ই অদ্ভুত।
এটি আসলে গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া এক হাই-টেক ট্রোজান হর্স।
Author: Saikat Bhattacharya