এই ভয়াবহ রোগটির নাম সিফিলিস (Syphilis)। এটি Treponema pallidum নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ছড়ায়। অ্যান্টিবায়োটিক (বিশেষ করে পেনিসিলিন) আবিষ্কারের আগে এটি ছিল প্রায় নিরাময় অযোগ্য এবং মারাত্মক একটি ব্যাধি। 
সিফিলিসের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে সঠিক চিকিৎসা না হলে, এটি বছরের পর বছর শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং একসময় এর চূড়ান্ত বা তৃতীয় ধাপে (Tertiary Syphilis) পৌঁছায়। এই ধাপে রোগীর শরীরে ভয়াবহ পরিবর্তন আসতে শুরু করে:
১.
শরীরে 'গামা' (Gumma) নামের ভয়াবহ সব ক্ষতের বা টিউমারের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষতগুলো মানুষের নরম টিস্যু, কার্টিলেজ (তরুণাস্থি) এবং অস্থি বা হাড়কে আক্ষরিক অর্থেই গলিয়ে ফেলতে শুরু করে। ছবির প্রথম মানুষটির নাক এভাবেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
২.
মাথার খুলিতে গর্ত হয়ে যাওয়া বা হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার এই অবস্থাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় Caries sicca। জীবাণুর আক্রমণে মাথার খুলির হাড় পর্যন্ত ফুটো হয়ে যেত!
৩.
রোগটি যখন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে (Neurosyphilis), তখন রোগীর স্মৃতিভ্রংশ (Dementia), পক্ষাঘাত (Paralysis) এবং মারাত্মক মানসিক বিকৃতি দেখা দেয়। একসময় রোগী পাগলের মতো আচরণ করতে করতে মৃ/ত্যু/র কোলে ঢলে পড়তো।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন ব্যাপকভাবে পেনিসিলিনের (Penicillin) ব্যবহার শুরু হলো, তখন চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। যে রোগটি শত শত বছর ধরে মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করেছে, পেনিসিলিন নামের একটিমাত্র অ্যান্টিবায়োটিকের ছোঁয়ায় তা পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হয়ে উঠলো!
Author: Saikat Bhattacharya