Miraz Ak লিখেছেনঃ
পাল সাম্রাজ্যের ক্যাটাফ্র্যাক্ট অশ্বারোহী বাহিনী
পাল সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ক্যাটাফ্র্যাক্ট অশ্বারোহী বাহিনী। এই বাহিনীকে সমকালীন বিভিন্ন রাজ্যের ইতিহাসবিদরা "ভারতের বজ্রঅশ্ব" নামে উল্লেখ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়। ভারী বর্মে সজ্জিত এই অশ্বারোহী বাহিনী পাল সাম্রাজ্যের সীমান্ত রক্ষা, বিদ্রোহ দমন এবং বৃহৎ আক্রমণ পরিচালনার প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো।
ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল যে যোদ্ধা এবং ঘোড়া—উভয়ই ভারী ধাতব বর্ম দ্বারা সুরক্ষিত থাকত। যোদ্ধারা ল্যামেলার বর্ম, চেইনমেল, লৌহ নির্মিত হেলমেট, বাহু ও পায়ের রক্ষাকবচ পরিধান করতেন। ঘোড়াগুলোকেও ধাতব মুখোশ, গলার বর্ম এবং শরীর আবৃত বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক আবরণে সজ্জিত করা হতো। ফলে শত্রুপক্ষের তীর ও হালকা অস্ত্র এই বাহিনীর বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর ছিল।
ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনীর প্রধান অস্ত্র ছিল দীর্ঘ বল্লম। আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে তারা ঘনবদ্ধ সারিতে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শত্রুর দিকে ধাবিত হতো। এই আঘাতের উদ্দেশ্য ছিল শত্রুর সম্মুখসারিকে ভেঙে দেওয়া। বল্লম ব্যবহারের পর যোদ্ধারা কোষবদ্ধ তলোয়ার বের করে নিকটবর্তী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। প্রত্যেক যোদ্ধার কাছে একটি ছোট খঞ্জরও থাকত, যা শেষ পর্যায়ের আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এই বাহিনীর যুদ্ধকৌশল ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। প্রথমে হালকা অশ্বারোহী ও ধনুর্ধর বাহিনী শত্রুকে দুর্বল ও বিশৃঙ্খল করে তুলত। এরপর ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনী ত্রিভুজাকার আক্রমণ বিন্যাসে (Wedge Formation) শত্রুর দুর্বল অংশে প্রচণ্ড আঘাত হানত। এই কৌশলের ফলে শত্রুসেনার সারি দ্রুত ভেঙে পড়ত এবং পরবর্তী পদাতিক বাহিনীর অগ্রযাত্রা সহজ হয়ে যেত।
সামরিক বিবরণ অনুযায়ী, পাল সম্রাটরা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ এবং বহু বছরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সৈন্যদের এই বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতেন। একজন ক্যাটাফ্র্যাক্ট যোদ্ধাকে ঘোড়সওয়ারি, বল্লম চালনা, তলোয়ার যুদ্ধ এবং দলগত কৌশলে দক্ষ হতে হতো। যুদ্ধের বাইরে তার প্রধান দায়িত্ব ছিল সীমান্ত দুর্গ পাহারা, রাজকীয় অভিযানে অংশগ্রহণ এবং সম্রাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
পার্শ্ববর্তী বহু রাজ্যের জন্য এই বাহিনী ছিল এক ভীতিকর সামরিক শক্তি। উল্লেখ করা হয় যে, কোনো রাজ্যের গুপ্তচর যদি জানতে পারত পাল ক্যাটাফ্র্যাক্ট বাহিনী অভিযানে অংশ নিচ্ছে, তবে সেই রাজ্যের সেনাপতিরা সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়িয়ে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান গ্রহণ করতেন। কারণ ভারী বর্মধারী এই অশ্বারোহীদের সম্মিলিত আক্রমণ প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচিত হতো।
সামরিক ইতিহাসবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাল সাম্রাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ ছিল এই সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী ক্যাটাফ্র্যাক্ট অশ্বারোহী বাহিনী। যদিও এই বাহিনীর অস্তিত্বের ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, তবে ইতিহাসে তাদের পাল সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
Facebook Page of Sultanate E Bangala
Author: Saikat Bhattacharya
Historical Hindu 22-July-2026 by east is risingMiraz Ak লিখেছেনঃ
(Pala Light Infantry / Pala Swordsmen)
পাল সাম্রাজ্যের সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ছিল দুর্গরক্ষক ও হালকা পদাতিক বাহিনী, যাদের আধুনিক ঐতিহাসিক পরিভাষায় কথিতভাবে "The Pala Light Infantry" বা "The Pala Swordsmen" নামে আখ্যায়িত করা হয়। এরা দুর্গ, প্রাসাদ, নগর ও সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি রাজপথের নিরাপত্তা, বনাঞ্চল পাহারা এবং ডাকাত দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
ভারী বর্মধারী সৈন্যদের তুলনায় এদের বর্ম ছিল তুলনামূলক হালকা। সাধারণত তারা একটি তলোয়ার, বর্শা, গোলাকার বা ডিম্বাকৃতি ঢাল এবং কখনও ধনুক-বাণ বহন করত। হালকা সরঞ্জামের কারণে তারা দীর্ঘ দূরত্ব দ্রুত অতিক্রম করতে এবং অল্প সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারত।
যুদ্ধকৌশল
পাল সাম্রাজ্যের এই বাহিনীর প্রধান শক্তি ছিল গতি, শৃঙ্খলা এবং পরিবেশের সদ্ব্যবহার। তারা ঘন বন, পাহাড়ি পথ, নদীর তীর এবং জলাভূমিতে যুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ দক্ষ ছিল। সংকীর্ণ পথ, গিরিপথ কিংবা বনাঞ্চলে তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শত্রুকে চারদিক থেকে আক্রমণ করত। প্রয়োজনে দ্রুত আঘাত হেনে আবার নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কৌশলও তারা প্রয়োগ করত।
দুর্গ রক্ষার সময় এরা প্রবেশদ্বার, প্রাচীর, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো কঠোরভাবে পাহারা দিত। নগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজকীয় দূতদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং বিদ্রোহ বা দস্যুতা দমন করাও তাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মার্শাল প্রশিক্ষণ
পাল বাহিনীর এই সৈন্যদের প্রশিক্ষণে তলোয়ার চালনা, ঢাল ব্যবহার, বর্শা নিক্ষেপ, কুস্তি এবং নিরস্ত্র আত্মরক্ষার কৌশল অন্তর্ভুক্ত ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি সংঘর্ষে টিকে থাকার জন্য তারা শারীরিক শক্তি, ভারসাম্য, দ্রুত পদচারণা এবং হাতাহাতি যুদ্ধের বিশেষ অনুশীলন করত। এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদেরকে বিভিন্ন ভূখণ্ডে দ্রুত অভিযোজিত হতে সাহায্য করত।
সামরিক গুরুত্ব
সীমান্ত অঞ্চলে টহল, দুর্গ প্রতিরক্ষা, বনাঞ্চলে অভিযান এবং আকস্মিক শত্রু আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে এই হালকা পদাতিক বাহিনী পাল সাম্রাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ ছিল। দ্রুত মোতায়েনযোগ্য হওয়ায় তারা প্রায়ই মূল সেনাবাহিনীর আগে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনত এবং প্রয়োজনে ভারী পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীকে সহায়তা করত।
Facebook Page: Sultanate E Bangala
Author: Saikat Bhattacharya
Historical Hindu 22-July-2026 by east is risingফুটবল বিশ্বকাপের জন্মকথা: যেভাবে শুরু হয়েছিল এই উন্মাদনা! 
আজ যে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে পুরো পৃথিবীজুড়ে এত মাতামাতি, তার শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৯৬ বছর আগে, ১৯৩০ সালে।
তখন অলিম্পিকের বাইরে বড় কোনো বৈশ্বিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল না। ফিফার তৎকালীন সভাপতি জুলে রিমে-র একক প্রচেষ্টায় ১৯৩০ সালে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ উরুগুয়েতে বসে ইতিহাসের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের আসর।
প্রথম বিশ্বকাপের মজার কিছু তথ্য:
কোনো বাছাইপর্ব ছিল না! ফিফার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মাত্র ১৩টি দল অংশ নিয়েছিল।
যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় ইউরোপের মাত্র ৪টি দল জাহাজে চড়ে উরুগুয়ে গিয়েছিল।
ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। দুই দলই নিজেদের বল দিয়ে খেলতে চাওয়ায়, প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বল আর দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে খেলা হয়!
আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক উরুগুয়ে।
১৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া সেই টুর্নামেন্ট আজ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হয়েছে।
Sultanate E Bangala
Author: Saikat Bhattacharya
Historical General 22-July-2026 by east is risingএকদিকে রূক্ষ, ধূসর আফ্রিকা। অপরদিকে দৃষ্টিনন্দন ও মনোরম দৃশ্যে সুসজ্জিত ইউরোপের বিস্তৃত ভূখণ্ড। আর, তাদের দু'জনার মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে নর্থ আটলান্টিকের শান্ত জলরাশি। যে জলরাশির শীতল স্রোতরাজি ইউরোপের মাটিকে আফ্রিকা হতে আলাদা করে ফেলেছে।
মহাসমুদ্রের একদম কাছাকাছি অবস্থানে থাকা সাগরের আলোচ্য স্থানটি অত্যন্ত সরু। যার ফলে আফ্রিকা মহাদেশ হতে বাণিজ্য জাহাজ নিয়মিত এখানকার সাগর পাড়ি দেয় ও ইউরোপ তথা স্পেনের বন্দরে উপনীত হয়। সুতরাং, ৭১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, আমাদের আজকের আলোচ্য দিনটিতে যখন উপকূলের ওপ্রান্ত হতে একটি নেভাল ফ্লোটিলা নোঙর তুলে নিলো, তখন সেটিকে স্পেনের পানে অগ্রসরমান দেখেও উপকূলে মোতায়েন স্পেনের সেনাবাহিনী সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ করলো না।
নৌ-বহরটি নোঙর তুললো উপকূলের অপর পাশে, আফ্রিকার বন্দর নগরী সাবতাহ থেকে। আর তাঁর কমাণ্ড গ্রহণ করলেন লিজেণ্ডারি মুর এক্সপিডিশনারি কমাণ্ডার, তারিক বিন জিয়াদ। যাকে কিনা এই অপারেশনে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অর্ডার ইস্যু করেছেন স্বয়ং জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর। সেই ব্যক্তিত্ব, যাঁর কাঁধে স্বয়ং পৃথিবীর দোর্দণ্ডপ্রতাপ পরাশক্তি, খেলাফতে বনু ঊমাইয়ার হৃদয়, দামেশক হতে ইসলামি সশস্ত্র বাহিনীর 'Northern Africa Command' এর নিয়ন্ত্রণভার ন্যস্ত করা হয়েছে।
তাহলে জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর কেন তাঁর কমাণ্ডার, তারিক বিন জিয়াদকে আমাদের আজকের আলোচ্য অপারেশনটিতে প্রেরণ করছেন! তা জানার জন্য চলুন আমরা চলে যাই আরো কিছুদিন পেছনে। এবার আমাদের গন্তব্য হবে টলেঁডো। স্পেন সম্রাটের রাজধানী।
সেকালে স্পেনের অভিজাত পরিবারগুলোয় একটি ঐতিহ্য ছিল। তা হলো, তাদের কিশোর ও তরুণ সন্তানদের তারা স্পেনের রাজপ্রাসাদে প্রেরণ করবেন। যেখান থেকে তারা সাম্রাজ্যের আদব, আইন-কানুন সম্পর্কে ধারণা পাবে, নিজেদের মাঝে পরিচিত হবে।
আজকের দিনে পৃথিবীর নানান দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সন্তানদের লণ্ডনের ইঊনিভার্সিটি বা স্যাণ্ডহার্স্টের মিলিটারি একাডেমিতে প্রেরণের পেছনেও একই চালিকাশক্তি কাজ করে। যাইহোক, স্পেন নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা মহাদেশের উপকূল শহর, সাবতাহর গভর্নর তখন কাউন্ট জুলিয়ান। যিনি নিজেও কিনা এই নিয়মের ব্যতিক্রম ছিলেন না। আর তাঁরই মেয়ে হলেন ফ্লোরিণ্ডা। ইতিহাস যাকে অনিন্দ্য সুন্দর রূপের অধিকারী মর্মে ভূষিত করেছে।
অনুমান করা যায় যে, ফ্লোরিণ্ডার সৌন্দর্যের কথা স্পেনের অভিজাত মহলে আলোচনার বিষয় ছিল। ফলাফল হিসাবে, কোনোভাবে তাঁর প্রশংসা স্পেনের সম্রাট রডরিকের কান পর্যন্ত চলে যায়। সুতরাং, রডরিকের পক্ষ হতে কাউন্ট জুলিয়ানের নিকট বার্তা দেওয়া হয় যে - "তোমার কন্যাকে আমাদের কাছে প্রেরণ করো। যেন ভবিষ্যতে সে তাঁর নিজস্ব গুণাবলির সমান উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান পেতে পারে ও আমাদের রাজকীয় নিয়ম কানুন সম্পর্কে অবগত হতে পারে।"
স্পেনের দরজা বলে পরিচিত ছোট্ট শহর, সাবতাহর গভর্নর হিসাবে বার্তাটি কাউন্ট জুলিয়ানের জন্য সম্মানেরই ছিল। সুতরাং, তিনি সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক ফ্লোরিণ্ডাকে টলেঁডোর পানে পাঠিয়ে দিলেন। যেখানে তখন অবস্থিত ছিল রডরিকের রাজপ্রাসাদ ও স্পেনের রাজধানী।
রডরিক নিজের শিকারকে বাগে পেয়ে গেলো। টলেঁডোতে পৌঁছাবার পর ফ্লোরিণ্ডা রাজধানীর প্রাসাদে অবস্থান করতে শুরু করলে রডরিকের নজর পড়লো তাঁর ওপর। অতঃপর, সুযোগ বুঝে একদিন রডরিক তাঁর ওপর হামলে পড়লো। স্পেনের অভিজাত অঙ্গনে তারকার অবস্থানে থাকা ফ্লোরিণ্ডা খোদ স্পেনের সম্রাটের দ্বারা পাশবিক ধর্ষণের শিকারে পরিণত হলেন!
ক্রমাগত নিপীড়নের শিকার অসহায় মেয়ে তখন রেহাইয়ের আশায় মরিয়া। অথচ, চতুর্দিকে তাকিয়ে তিনি কোনো সাহায্যকারীর দেখা পেলেন না! অতএব, উপায়ন্তর না পেয়ে সুযোগ বুঝে একদিন নিজ বাবার কাছে ফরিয়াদ জানিয়ে পাঠালেন তিনি।
কন্যার মিনতিপূর্ণ চিঠি পড়ার পর তখন কাউন্ট জুলিয়ানের অবস্থা হলো দেখার মতো। কিন্তু, তিনি আর কি করতে পারবেন! তাঁর প্রিয় কন্যা যে স্বয়ং স্পেনের সম্রাটের হাতে বন্দি। কিভাবে কি করবেন তিনি! অতঃপর, অনেক ভাবনার পর জুলিয়ান ও তাঁর স্ত্রী একটি বুদ্ধি বের করলেন।
তাঁরা পরিকল্পনা করলেন যে, রডরিকের দরবারে যাবেন কাউন্ট জুলিয়ান। যেখানে গিয়ে ওকে জানানো হবে যে, ফ্লোরিণ্ডার মা দারুণ অসুস্থ। তাই, তিনি নিজ মেয়েকে একবার দেখতে চেয়েছেন! অতএব, মহামান্য সম্রাট যেন দয়া করে মেয়েটাকে কিছুদিনের জন্য হলেও একটু বাবার হাতে ফেরত দেন!
যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। সুতরাং, টলেঁডোর রাজ দরবারে গিয়ে কাউন্ট জুলিয়ান যখন তার আবেদন ব্যক্ত করলেন, তখন রডরিক স্বাভাবিক কারণেই অনুমতি দিতে বাধ্য হলো। পাশাপাশি, জুলিয়ান ওকে সন্তুষ্ট করতে ওর জন্য অনেক উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। সে দম্ভের সাথে গ্রহণ করলো সেগুলো। অতঃপর জুলিয়ানের নিকট দাবি জানালো - "ফিরে আসবার সময় আমার জন্য আপনার অঞ্চল থেকে একটি বাজপাখিও সাথে আনবেন।"
তখন জুলিয়ান জবাব দিলেন - "মহামান্য সম্রাট! আমি আপনার জন্য এমন বাজ নিয়ে আসব, যা আপনি জীবনেও কোনোদিন দেখেননি!"
অতঃপর কোনোরকমে মেয়েকে নিয়ে তিনি সাবতাহতে ফেরত এলেন। সেখানে মেয়েকে তাঁর মা'য়ের হাতে তুলে দিয়ে সাথে সাথে আফ্রিকার ধূসর প্রান্তর পাড়ি দিয়ে জুলিয়ান রওয়ানা হয়ে গেলেন কায়রোয়ানের পানে।
কায়রোয়ান! টলেঁডোর প্রাসাদ থেকে মেয়েকে বের করিয়ে নিয়ে কাউন্ট জুলিয়ান যে কেমন ভয়ঙ্কর গন্তব্যের পানে রওয়ানা হয়েছেন, জানতে পারলে হয়তো রডরিক সাথে সাথেই মরে যেতো!
সাগরের এপারের শহর কায়রোয়ানের উচ্চারণ সেকালে সাগরের ওপারে, ইউরোপের রাজপ্রাসাদের অভিজাতদের মেরুদণ্ডে শীতল ভয়ের স্রোত নামিয়ে দিতো! কারণ! কারণ হলো, প্রচণ্ড আগ্রাসী মানসিকতার ও ভয়াবহ শক্তির অধিকারী খেলাফতে বনু ঊমাইয়ার নর্দার্ন আফ্রিকা কমাণ্ডের সেনাসদর তখন কায়রোয়ানে অবস্থিত!
যাদের তরফ হতে ইউরোপ তখন যেকোনো সময়ে সাগর পাড়ি দিয়ে বিধ্বংসী হামলা শুরু করে দেওয়ার আশঙ্কা করতো। নর্থ আটলান্টিকের মুখে সরু প্রণালীটির ওপ্রান্ত কোনোদিন কায়রোয়ানের সেনাদলের হাতে চলে গেলে কি ঘটতে পারে, সে কথা চিন্তা করে কুঁকড়ে থাকতো ওরা। কিন্তু, ওরা তখনো জানে না যে, রডরিক যা ঘটিয়েছে, তাতে ওদের বিভীষিকাময় সম্ভাবনা ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে রূঢ় বাস্তবতায়।
কায়রোয়ানের মিলিটারি হেডকোয়ার্টারে পা দিয়ে কাউন্ট জুলিয়ান নর্দার্ন আফ্রিকা মহাদেশীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রক, লিজেণ্ডারি জেনারেল মুসা বিন নুসাঈরের সাথে সাক্ষাতের জন্য বিনীত আবেদন প্রেরণ করলেন!
অনুরোধ রক্ষা করা হলো! মুসা বিন নুসাঈর, কাউন্ট জুলিয়ানের পাশে বসলেন। একজন অসহায় পিতার অনুযোগ, আকুতি, বেদনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন তিনি। সতর্কতার সাথে জানতে পারলেন তাঁর হৃদয়ে জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের অগ্নিশিখার কথাও।
সবশেষে তিনি সকল দিক বিবেচনার পর, তারিক বিন জিয়াদকে একটি অনুসন্ধানী অভিযানের লক্ষ্যে নির্বাচন করলেন। মুসা বিন নুসাঈরের অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত এই মুর সেনানায়ক সেসময় তাঞ্জিয়ারে অবস্থান করছিলেন। কায়রোয়ানের সামরিক সদর হতে তাই একজন বার্তাবাহক রওয়ানা হয়ে গেলো তাঞ্জিয়ার গ্যারিসনের দিকে!
এখন আমরা পুনরায় ফিরে যাব বন্দর নগরী সাবতাহর দিকে। যেখান হতে নোঙর তুলছে কাউন্ট জুলিয়ানের বাজ, কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদের ফ্লোটিলা। কিছুসময় পর যে ফ্লোটিলা তাঁর ৭,০০০ এক্সপিডিশনারি মুসলিম সওয়ারকে বহন করে বজ্রের ন্যায় আছড়ে পড়বে স্পেনের উপকূলে!
যাদের হামলার প্রচণ্ডতায় হতবিহ্বল হয়ে পলায়ন শুরু হবে উপকূলের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত রডরিকের সেনাবাহিনীর মাঝে। যাদের সেনাপতির তরফ হতে সম্রাট রডরিককে বার্তা প্রেরণ করা হবে। যেখানে সে জানাবে - "জনাব! আমাদের ওপর এমন বাহিনী হামলা করেছে, আমরা জানি না তাঁরা কোত্থেকে এলো! মাটি ফুঁড়ে! নাকি আকাশ থেকে!"
উপকূল রক্ষীদের উপরোক্ত বার্তা পেয়ে রডরিক বিশাল বাহিনী জমা করে। যাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,০০০০০ এর কাছাকাছি। রডরিকের বাহিনীর দম্ভ এত বেশি ছিল যে, ওর সেনাবাহিনী নিজেদের পেছনে অনেকগুলি বাহনের ওপর মোটা রশি বহন করছিল। যেগুলো দিয়ে ওরা পরিকল্পনা করেছিল যে, এগুলো ব্যবহার করে কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদের সেনাদের বন্দি করার পর বাঁধা হবে।
ওদিকে রডরিকের বিপরীত শিবিরে থাকা কমাণ্ডার তারিকের সামনে তখন দূঃশ্চিন্তার সকল উপকরণ উপস্থিত। জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর তাঁকে শুধুমাত্র স্পেনের মাটিতে স্পেশাল রিকনাইস্যান্স পরিচালনার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। যে অনুসন্ধানী তৎপরতার ওপর নির্ভর করে কায়রোয়ান হতে ভবিষ্যতকালে হয়তো বড় সামরিক পদক্ষেপ প্রস্তুত করা হবে।
তারিক স্পেনে অবতরণের পর বিগত দিনগুলোতে ঠিক তাই করেছেন। কিন্তু, এখন তাঁর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে খোদ রডরিক! আমাদের জন্য এটি দূঃসংবাদ মনে হচ্ছে আজ। কিন্তু, তারিকের মনে হলো যে, এই তো "মেঘ না চাইতে বৃষ্টি!" কিন্তু, রডরিকের সাথে আবার রয়েছে লক্ষাধিক সেনা। এমন ভীতিকর পর্যায়ের অসম মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ানোর নির্দেশনাও ওদিকে কায়রোয়ান তাঁকে প্রদান করেনি।
আবার, সহযোদ্ধাদের নিরাপদ রেখে পিছু হটাও তাঁর পক্ষে এখানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মাঝে লক্ষাধিক সেনার সুসজ্জিত কাতারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাঁর ৭,০০০ বিশেষায়িত যোদ্ধার সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্র বাহিনীটি কাতারবন্দি হলো। অতঃপর তাঁদের সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে তারিক যে নির্দেশনা প্রদান করলেন, তা আজও লড়াইয়ের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি সেদিন যা বলেছিলেন, তাঁর সারমর্ম ছিল নিম্নরূপ -
"আমার প্রিয় সহযোদ্ধারা! আমরা কোথায় পালাব! পেছনে আমাদের উত্তাল সমুদ্র! আর সামনে আমাদের শত্রুর বাহিনী! আল্লাহ তা'আলার কসম! বীরত্ব আর উদ্যম ব্যতীত আজ এখান হতে আমাদের আর কোনো পরিত্রাণের রাস্তা বাকি নাই!"
রক্তক্ষয়ী অসম যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো! যুদ্ধের একটি স্বাভাবিক নিয়ম হলো, হামলাকারী শক্তিকে প্রতিরক্ষায় আগত শক্তির বিপরীতে ০৩ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে হবে। সেখানে ধারণা করা হয় যে, কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদ ও তাঁর সঙ্গীদের প্রতি ০১ জন যোদ্ধার বিপরীতে রডরিকের সৈনিকদের সংখ্যা ছিল সেদিন কমপক্ষে ১৫ জন।
এমন অবস্থায় টানা ০৩ দিন যুদ্ধ চলমান রইলো। অতঃপর, শেষ দিনের লড়াই আরম্ভ হলে কায়রোয়ানের মুষ্টিমেয় এক্সপিডিশনারির দল রডরিকের বাহিনীর সেনাদের লাইন চিরে ফেললেন! রডরিকের পদাতিকদের কাতার মুসলিম অশ্বারোহীর চাপে লণ্ড-ভণ্ড হয়ে গেলো।
অবস্থা দেখে গত ০৩ দিন যাবৎ এই গুটিকয়েক মানুষের তাণ্ডবের ফলে ইতিমধ্যে হত-বিহ্বল অবস্থায় থাকা স্পেনের সেনাদের এবার গ্রাস করে নিলো ভয়াবহ আতঙ্ক! পালাতে শুরু করলো ওরা! স্বয়ং রডরিক সেদিন নিজে পালাতে গিয়ে সাগরে পড়ে যায়। অতঃপর, ওকে আর কোনোদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি!
কমাণ্ডার তারিক বিন জিয়াদের বার্তাবাহক অতঃপর সুসংবাদ সমেত দ্রুততার সাথে কায়রোয়ানের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। কে জানে, বার্তাবাহক সাবতাহর মাঝ দিয়ে অতিক্রমের কালে ফ্লোরিণ্ডা সেদিন রডরিকের পরিণতি জেনে মুচকি হেসেছিলেন কিনা!
তবে, যাই হোক, তারিক বিন জিয়াদ সেখানে থামলেন না। তাঁর যে ক্ষুদ্র বাহিনী, সেটিও চারটি ভাগ করে ফেললেন তিনি! তারপর শুরু হলো সমগ্র স্পেনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের অভিযান। যার কয়েকদিনের মাঝে রডরিকের রাজধানী টলেঁডো যখন তাঁর সেনাদলের নিয়ন্ত্রণে আসে, তখন টলেঁডোয় অভিযান চালানো বাহিনীতে মাত্র ৭০০ জন যোদ্ধা ছিলেন।
তারিকের এসব কীর্তির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে কিছুদিনের মাঝে তাঁর সাথে এসে যুক্ত হন স্বয়ং জেনারেল মুসা বিন নুসাঈর। কারণ, মুসা আশঙ্কা করছিলেন যে, হয়তো তারিক বিন জিয়াদ এভাবে বেপরোয়া ঝুঁকি নিতে গিয়ে সংখ্যার স্বল্পতার কারণে নিজেকে বিপদের মুখে না ঠেলে দেন। যা সামরিক অধিনায়কদের একটি অন্যতম শঙ্কা ছিল সকল যুগেই। ততদিনে যদিও অধিকাংশ স্পেন আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।
আজ আমরা স্পেন ও মরক্কোর মাঝ দিয়ে যে Strait of Gibraltar এর নাম শুনে থাকি, মানচিত্রে সে নামটির আগমন হয়েছিল আমাদের অবিসংবাদিত বীর সেনানী জেনারেল তারিক বিন জিয়াদের নাম হতে। 'জাবাল আত-তারিক্ব' হতে পরবর্তীতে যে নামটি 'Gibraltar' নামে রূপান্তর হয়।
আল-আন্দালুসের নামে আজকের স্পেন একদা আমাদের ছিল। পুনরায় তাঁকে আমাদের করে নিতে হবে। আর, কথাটি আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া চলবে না।
Sultanate E Bangala
Author: Saikat Bhattacharya
Historical General 22-July-2026 by east is risingAccording to reports, China has introduced strict restrictions on for-profit education for children aged 6 to 15, reinforcing its policy that compulsory education should not be operated primarily for commercial profit.
Under the regulations, private companies and investors are no longer permitted to run core after-school tutoring businesses for compulsory education as profit-making enterprises. Many tutoring firms were required to convert into non-profit organizations, and investment and capital raising in this sector have been heavily restricted.
Chinese authorities have said the objective is to reduce the financial burden on families, ease academic pressure on students, and promote more equal access to education. Officials have argued that compulsory education is a public good and should not become a business driven by profit.
Supporters believe the reforms can help reduce excessive tutoring costs, narrow educational inequalities, and create a healthier learning environment for children. Critics, however, argue that the measures have significantly affected the private education industry, led to job losses, and may limit educational choices for some families.
The policy has attracted global attention as governments around the world continue to debate the balance between public education, private participation, affordability, and educational quality.
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
mythical General Socialism Communism Xi Jinping Mao USSR China 22-July-2026 by east is risingMiraz Ak লিখেছেনঃ
The Pala's heavy infantry অথবা
ধর্মপাল-রক্ষী মহাশূলবাহিনী (Dharmapāla Rakṣī Mahāśūlabāhinī)
প্রথমে আমরা শুনি একটি রণমন্ত্র
"धम्मो नो शरणं, पालो नो स्वामी।
अचलाः वयं शूलधारिणः।
यावत् प्राणो देहे तिष्ठति,
तावत् राजध्वजो न नमति॥"
ধম্মো নো শরণং, পালো নো স্বামী।
অচলাঃ বয়ং শূলধারিণঃ।
যাবৎ প্রাণো দেহে তিষ্ঠতি,
তাবৎ রাজধ্বজো ন নমতি॥"
বাংলা অর্থ
"ধর্মই আমাদের আশ্রয়, পাল সম্রাটই আমাদের প্রভু।
আমরা অচল মহাশূলধারী যোদ্ধা।
যতক্ষণ আমাদের দেহে প্রাণ বিদ্যমান,
ততক্ষণ রাজধ্বজ কখনো নত হবে না।"
এছাড়াও আরো একটি জয়ধ্বনি তারা, গাইতো যুদ্ধের সময়
"অচলা! অচলা!
ধর্মে জয়!
পালে জয়!
মহাশূলে জয়!"
অর্থ
"আমরা অটল! আমরা অবিচল!
ধর্মের জয় হোক!
পাল সম্রাটের জয় হোক!
আমাদের মহাশূলের জয় হোক!"
এবার আমরা মূল প্রেক্ষাপটে আসি আজকের বিষয় যা নিয়ে তা হল মহাশূলবাহিনী পাল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে পদাতিক শক্তিধর বাহিনী তাদের হ্যাবি ইনফিনিট্রি।
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে পূর্ব ভারতের পাল সাম্রাজ্য ছিল উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্য। বিশাল ভূখণ্ড রক্ষা করতে পাল সম্রাটদের নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি ছিল একটি বিশেষ নির্বাচিত ভারী পদাতিক বাহিনী, যাদের রাজদরবারে "ধর্মপাল-রক্ষী মহাশূলবাহিনী" নামে অভিহিত করা হতো।
এই বাহিনীতে যোগ দেওয়া ছিল অসাধারণ সম্মানের বিষয়। শত শত সৈন্যের মধ্য থেকে মাত্র কয়েকজনকে কঠোর শারীরিক সক্ষমতা, আনুগত্য, যুদ্ধদক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই দলে নেওয়া হতো। তারা শুধু সৈনিক ছিল না—তারা ছিল সম্রাটের জীবন্ত দুর্গ।
তাদের পরনে থাকত ভারী লৌহ চেইনমেল বর্ম, তার ওপর লোহার পাতযুক্ত বাহুরক্ষা, মাথায় ব্রোঞ্জ বা লোহার শিরস্ত্রাণ এবং হাতে বিশাল গোলাকার ঢাল। প্রধান অস্ত্র ছিল দীর্ঘ মহাশূল, পাশাপাশি কোমরে থাকত ধারালো খড়্গ। এই ভারী বর্মের কারণে সাধারণ তীর, বল্লম কিংবা তরবারির আঘাত সহজে তাদের ভেদ করতে পারত না।
প্রতিদিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলত তাদের অনুশীলন। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পূর্ণ বর্ম পরে দৌড়াত, পাহাড়ে উঠত, নদী পার হতো এবং দলগত কুচকাওয়াজে অংশ নিত। তাদের শিক্ষা ছিল—একজন সৈন্য নয়, পুরো সারিটাই একটি অস্ত্র। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে একজনও নিজের অবস্থান ছেড়ে যেত না।
যুদ্ধের সময় তারা তৈরি করত এক অটুট ঢাল-প্রাচীর। সামনের সারির সৈন্যরা ঢাল জুড়ে এক অবিচ্ছিন্ন প্রাচীর বানাত, আর পেছনের সারি সেই ফাঁক দিয়ে মহাশূল এগিয়ে শত্রুর অগ্রগতি থামিয়ে দিত। অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণ এই শূলবনের সামনে প্রায়ই ভেঙে পড়ত। শত্রুর তীরের ঝড় তাদের ভারী ঢাল ও বর্মে আটকে যেত, আর তারপর ধীর কিন্তু অবিচল অগ্রযাত্রায় তারা প্রতিপক্ষকে পিছিয়ে দিতে শুরু করত।
পাল সাম্রাজ্যের রাজদরবারে একটি কথা প্রচলিত ছিল—
"যেখানে মহাশূলবাহিনীর ঢাল দাঁড়ায়, সেখানে সম্রাটের পতাকা কখনও নত হয় না।"
তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল সম্রাটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। রাজদরবার, সামরিক শিবির, বিজয়যাত্রা কিংবা যুদ্ধক্ষেত্র—সব জায়গায় তারা সম্রাটকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখত। কোনো শত্রু যদি সেই বলয় ভেদ করার চেষ্টা করত, তবে তাকে প্রথমে এই ভারী পদাতিকদের মুখোমুখি হতে হতো।
প্রতিপক্ষের কাছে এই বাহিনীর সুনাম ছিল ভয়ংকর। বহু সেনাপতি তাদের সম্পর্কে বলত যে, সাধারণ সৈন্যদের মতো এরা আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয় না। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হতো, তাদের শৃঙ্খলা তত দৃঢ় হয়ে উঠত। ভারী বর্মে সজ্জিত সৈন্যদের ধীর অথচ নিরলস অগ্রযাত্রা শত্রুর মনোবল ভেঙে দিত। অনেক সময় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তাদের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের মনে ভীতি সৃষ্টি করত।
পাল সাম্রাজ্যের সামরিক ঐতিহ্যে ধর্মপাল-রক্ষী মহাশূলবাহিনী ছিল সাহস, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার প্রতীক। ইতিহাসের পাতায় বাস্তব হোক বা কিংবদন্তির আলোয়, তাদের নাম এক অদম্য প্রতিরক্ষা-বাহিনীর প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
Sultanate E Bangala
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
Historical Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্রোণাচার 22-July-2026 by east is risingIt frames Moonshot AI’s Kimi K3 as a decisive rupture in the AI industry: an open-weight model from China that supposedly ends the era of closed, subscription-locked frontier models dominated by U.S. companies (OpenAI, Anthropic, Google).
Core Claims in the Video
For years the dominant rule was “build the smartest model, keep the weights closed, and charge for access.”
Kimi K3 (from Beijing-based Moonshot AI) is a competitive frontier-level model released with open weights, enabling anyone to build on it.
This creates an ecosystem advantage analogous to Android or Linux, which will eventually outperform closed systems through broader innovation.
China’s approach treats AI as infrastructure rather than a pure product, fostering rapid competition among domestic firms (DeepSeek, GLM, Minimax, etc.).
Result: the global AI race is permanently altered in favor of open models.
What Kimi K3 Actually Is (as of mid-to-late July 2026)
Kimi K3 is a real release. Moonshot AI launched it around 16 July 2026. Key confirmed details:
Architecture: Sparse Mixture-of-Experts with roughly 2.8 trillion total parameters (16 of 896 experts active per token). New techniques include Kimi Delta Attention and Attention Residuals aimed at long-context efficiency.
Capabilities: 1-million-token context window, native multimodal (text + images/video input), strong emphasis on long-horizon coding and agentic tasks.
Performance: Competitive with current frontier closed models. Independent rankings (e.g., Artificial Analysis Intelligence Index) place it roughly 4th overall—behind Anthropic’s Claude Fable 5 and OpenAI’s GPT-5.6 Sol, but ahead of Claude Opus 4.8 and most other systems. It has ranked #1 on some front-end coding arenas. Vendor benchmarks are stronger; independent ones show it as frontier-adjacent rather than clearly superior.
Openness: Marketed as open-weight. Full weights were promised by 27 July 2026 (so still pending or very recent relative to the video). Until the weights, license, and model card are public and independently verified, it functions as a hosted API/app model. Training data and code remain closed.
Pricing: Significantly higher than earlier Chinese models (~$3 input / $15 output per million tokens, with cheap cache hits). Still cheaper than the very top Western frontier models, but no longer “super-cheap.”
This continues the pattern of Chinese labs releasing strong open-weight models under U.S. chip export restrictions, often partnering with domestic hardware (Huawei is noted in coverage).
Critical Assessment
The video is accurate on the basic facts of the release but inflates the significance and permanence of the shift.
Strengths of the narrative
Open-weight releases at this scale do matter. They lower barriers for researchers, startups, and countries that cannot afford frontier API bills. Ecosystem effects are real (fine-tuning, distillation, specialized agents, local deployment once weights land). Chinese labs have repeatedly shown they can close capability gaps faster than many expected, especially on coding and long-context tasks. Treating AI more like infrastructure can accelerate iteration.
Overstatements and weaknesses
“Broke AI forever” is classic clickbait. This is an important incremental leap in open-model scale and competitiveness, not a permanent rupture. Closed labs still hold advantages in continuous improvement, data quality, safety tuning, and capital for the next generation. Open models have been competitive before; the gap simply narrowed again.
Open-weight is not the same as fully open-source. Weights are delayed relative to the marketing, and the training pipeline stays proprietary. Self-hosting a 2.8T MoE remains extremely expensive and complex for most users even after release.
Benchmark caveats are underplayed. Strong coding results do not automatically translate to superior general intelligence, reliability, or lower hallucination rates. Independent scores are solid but not dominant.
Geopolitical framing is selective. The video leans into a “China exposes greedy closed Western models” story. Reality includes hardware constraints on the Chinese side, different alignment priorities (Chinese models typically embed stronger content controls aligned with domestic policy), and the fact that Western labs also pursue open efforts—just less aggressively at the absolute frontier.
Historical analogies (Android, Linux) are imperfect. AI inference costs, continual pre-training, and safety/alignment create different economics than operating systems or mobile platforms.
Channel and tone
Byte Dynasty produces confident, future-oriented tech explainers with a clear pro-open / pro-China-innovation slant. Comments under the video amplify anti-closed-model and anti-U.S.-capitalism sentiments. The production is slick and persuasive for viewers already sympathetic to the open-source narrative, but it functions more as advocacy than balanced analysis.
Bottom Line
Kimi K3 is a genuine and impressive release that strengthens the open-weight side of the AI competition and puts real pressure on closed providers regarding price and accessibility. It is not, however, a permanent breaking of the industry’s fundamental dynamics. The race remains multi-sided: closed labs iterate rapidly with massive resources, open models democratize access and experimentation, and hardware, data, and policy constraints continue to shape outcomes on both sides. The video captures a real moment of acceleration while packaging it in maximalist language that exceeds the evidence.-based Moonshot AI) is a competitive frontier-level model released with open weights, enabling anyone to build on it.
This creates an ecosystem advantage analogous to Android or Linux, which will eventually outperform closed systems through broader innovation.
China’s approach treats AI as infrastructure rather than a pure product, fostering rapid competition among domestic firms (DeepSeek, GLM, Minimax, etc.).
Result: the global AI race is permanently altered in favor of open models.
What Kimi K3 Actually Is (as of mid-to-late July 2026)
Kimi K3 is a real release. Moonshot AI launched it around 16 July 2026. Key confirmed details:
Architecture: Sparse Mixture-of-Experts with roughly 2.8 trillion total parameters (16 of 896 experts active per token). New techniques include Kimi Delta Attention and Attention Residuals aimed at long-context efficiency.
Capabilities: 1-million-token context window, native multimodal (text + images/video input), strong emphasis on long-horizon coding and agentic tasks.
Performance: Competitive with current frontier closed models. Independent rankings (e.g., Artificial Analysis Intelligence Index) place it roughly 4th overall—behind Anthropic’s Claude Fable 5 and OpenAI’s GPT-5.6 Sol, but ahead of Claude Opus 4.8 and most other systems. It has ranked #1 on some front-end coding arenas. Vendor benchmarks are stronger; independent ones show it as frontier-adjacent rather than clearly superior.
Openness: Marketed as open-weight. Full weights were promised by 27 July 2026 (so still pending or very recent relative to the video). Until the weights, license, and model card are public and independently verified, it functions as a hosted API/app model. Training data and code remain closed.
Pricing: Significantly higher than earlier Chinese models (~$3 input / $15 output per million tokens, with cheap cache hits). Still cheaper than the very top Western frontier models, but no longer “super-cheap.”
This continues the pattern of Chinese labs releasing strong open-weight models under U.S. chip export restrictions, often partnering with domestic hardware (Huawei is noted in coverage).
Critical Assessment
The video is accurate on the basic facts of the release but inflates the significance and permanence of the shift.
Strengths of the narrative
Open-weight releases at this scale do matter. They lower barriers for researchers, startups, and countries that cannot afford frontier API bills. Ecosystem effects are real (fine-tuning, distillation, specialized agents, local deployment once weights land). Chinese labs have repeatedly shown they can close capability gaps faster than many expected, especially on coding and long-context tasks. Treating AI more like infrastructure can accelerate iteration.
Overstatements and weaknesses
“Broke AI forever” is classic clickbait. This is an important incremental leap in open-model scale and competitiveness, not a permanent rupture. Closed labs still hold advantages in continuous improvement, data quality, safety tuning, and capital for the next generation. Open models have been competitive before; the gap simply narrowed again.
Open-weight is not the same as fully open-source. Weights are delayed relative to the marketing, and the training pipeline stays proprietary. Self-hosting a 2.8T MoE remains extremely expensive and complex for most users even after release.
Benchmark caveats are underplayed. Strong coding results do not automatically translate to superior general intelligence, reliability, or lower hallucination rates. Independent scores are solid but not dominant.
Geopolitical framing is selective. The video leans into a “China exposes greedy closed Western models” story. Reality includes hardware constraints on the Chinese side, different alignment priorities (Chinese models typically embed stronger content controls aligned with domestic policy), and the fact that Western labs also pursue open efforts—just less aggressively at the absolute frontier.
Historical analogies (Android, Linux) are imperfect. AI inference costs, continual pre-training, and safety/alignment create different economics than operating systems or mobile platforms.
Channel and tone
Byte Dynasty produces confident, future-oriented tech explainers with a clear pro-open / pro-China-innovation slant. Comments under the video amplify anti-closed-model and anti-U.S.-capitalism sentiments. The production is slick and persuasive for viewers already sympathetic to the open-source narrative, but it functions more as advocacy than balanced analysis.
Bottom Line
Kimi K3 is a genuine and impressive release that strengthens the open-weight side of the AI competition and puts real pressure on closed providers regarding price and accessibility. It is not, however, a permanent breaking of the industry’s fundamental dynamics. The race remains multi-sided: closed labs iterate rapidly with massive resources, open models democratize access and experimentation, and hardware, data, and policy constraints continue to shape outcomes on both sides. The video captures a real moment of acceleration while packaging it in maximalist language that exceeds the evidence.
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
Technology news General USA vs China 22-July-2026 by east is risingএকসময় জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ হিসেবে ভেড়ার মাথার Roast দেওয়া হতো। অধিকাংশ মন্দিরের ও যজ্ঞের প্রসাদ হতো ভেড়া, মহিষ, ঘোড়া জাতীয় প্রাণীর মেধ মাংস সহকারে প্রস্তুত প্রসাদী। অথচ, আজকের দিনে হিন্দুত্ব মানে নিরামিষ খাওয়ার একটা কালচার আছেই। তবে, ষাঁড় ও গরু কখনোই হত্যা করা হতনা।
চরম আমিষবাদী বাঙালিদের বাড়িতেও সপ্তাহে ৩ দিন করে নিরামিষ হয়ই। সোম - বৃহস্পতি - শনি
এই নিরামিষ == হিন্দু ধর্মের উত্থানের পেছনে ৩ টি Factor আছে ~
১. ধর্মীয় Factor - বৌদ্ধ জৈন মতের প্রভাবে বৈদিক ধর্ম দুর্বল হয়। বৈদিক ধর্মের যোদ্ধাভাব ও বেদের মাংস আহারের সংস্কৃতি critically related
বৈদিক যুগের মানুষের খাদ্য আজকের দিনের Peak Carnivorous Diet কেও হার মানাবে। বৌদ্ধ জৈন প্রভাবিত অঞ্চলগুলোতে মাংস মাছ খাওয়া কমে যায়। স্বামী বিবেকানন্দ এই বিষয়টা খুব clearly বলেছেন।
২. Economic Reason - প্রশ্ন হল নিরামিষবাদী বৌদ্ধ জৈন মতকে শাসকশ্রেণী Patronize করেছিল কেন? রাষ্ট্র কোনোকিছুই করেনা, যা তার পুঁজিকে suffer করায়।
মনে রাখুন, মহাজনপদ এর বিকাশ যখন হচ্ছিল ভারতে, তখন Population Density খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য মাংস মাছের যোগান দেওয়া সেযুগের রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। তাই, সেযুগের রাষ্ট্রব্যবস্থা এই বৌদ্ধ জৈন সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব দিয়েছিল লোকজনের মধ্যে নিরামিষবাদী সংস্কৃতির প্রচলন করতে।
কঠিন সত্য মানতে অসুবিধা হতে পারে অনেকের। কিন্তু, এটাই বাস্তব যে, ভারতের নিরামিষ খাওয়ার কালচার এবং Grain focused Diet আসলে আর্থিক দারিদ্র্যের ফলাফল।
৩. রাজনৈতিক প্রভাব - তুর্কি মুঘল আক্রমণের যুগে তুর্কি মুঘলরা গোহত্যা ইত্যাদি করতো হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাসে ইচ্ছাকৃত আঘাত দিতেই। সেটার একটা Counter হিসেবে হিন্দু সমাজে সমস্ত রকমের মাংস পরিত্যাগের একটা Tendency তৈরি হয়। এবং, মাংস জিনিসটা মুসলমানদের সাথে relate হওয়া শুরু হয়। বিশেষত, মুঘল সাম্রাজ্যের Heart land UP বিহারে হিন্দুদের মধ্যে তীব্র নিরামিষ আহার চালু হয়।
Read MoreAuthor: Animesh
Religion Hindu Manuvad Brahmannwad মনুবাদ ব্রাহ্মণ্যবাদ দ্রোণাচার 22-July-2026 by east is rising
