হুথি বা আনসারুল্লাহ বলতে অনেকেই মনে করেন, এটা মনে হয় শুধু শিয়া সংগঠন। আনসারুল্লাহর সব যোদ্ধারা শিয়া। তাহলে আপনি একটা মহা ভুলের জগতে আছেন। সত্যি কথা বলতে, এই ব্যাপারে খুব বেশি লেখালেখি হয় না, তাই হয়তো অনেকেই জানেন না।
আনসারুল্লাহর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি একজন সুন্নি মুসলিম। এটিই প্রমাণ করে যে, আনসারুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বে সুন্নিরাও আছে, অনেক কমান্ডারও সুন্নি। এটা শুধু জায়েদি শিয়া সংগঠন নয়, বরং সুন্নিদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদ আছে। যদিও এর শুরু হয়েছিল জায়েদি শিয়াদের হাত ধরে। এখনো প্রধান পরিচালক জায়েদি শিয়া।
এছাড়াও শাফেয়ি সুন্নি এবং সুফিরাও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, এবং এটি একটি “অতিসাম্প্রদায়িক” আন্দোলন হিসেবে গড়ে উঠেছে। জায়েদি মতবাদ নিজেই শাফেয়ি সুন্নি মতবাদের খুব কাছাকাছি, যাকে অনেক সময় “শিয়াদের মধ্যে সুন্নি, এবং সুন্নিদের মধ্যে শিয়া” বলা হয়। মানে নামাজ, কালাম সব কিছু শাফেয়ি সুন্নিদের মতোই।
শাফেয়ি মানে হচ্ছে আমাদের চার মাজহাবের চার ইমামের একজন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ির মাজহাব অনুসরণকারী সুন্নি মুসলিমরা।
এছাড়া, আরো কিছু ইয়েমেনি সুন্নি উপজাতিরাও আনসারুল্লাহর সাথে মিত্রতা করেছে, যদিও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে সুন্নি।
তার মানে আনসারুল্লাহতে শুধু জায়েদি শিয়া যোদ্ধারা নয়, ব্যাপকভাবে সুন্নি যোদ্ধারাও রয়েছে।
আর আনসারুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ইয়েমেনের ৭০% জনগণ রয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই সুন্নি। আর এই জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশ সরাসরি আনসারুল্লাহকে সমর্থন করে। যেকোনো যুদ্ধে বিজয়ী হতে হলে, সেখানকার জনগণের সমর্থন থাকা খুব বেশি জরুরি।
আনসারুল্লাহকে কেবল একটি শিয়া গোষ্ঠী হিসেবে দেখা ভুল। এটি মূলত শিয়া-সুন্নির ঊর্ধ্বে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক আন্দোলন, যার লক্ষ্য সৌদি আরবের ওয়াহাবি মতাদর্শ এবং তাদের মিত্রদের (আমেরিকা—পরোক্ষভাবে ইসরায়েল)-এর বিরোধিতা করা। আর ইয়েমেনে তাদের নিজেদের অধিকার আদায় করা। তাই শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে যারা এই লক্ষ্যে একমত, তারা এতে যোগ দিয়েছে।
বাই দ্য ওয়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইয়েমেনের ক্ষমতা প্রথমে পান জায়েদি শিয়া ইমাম। ১৯৬২-১৯৭০ সালের দিকে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব জায়েদি ইমাম মুহাম্মদ আল-বদরকে সমর্থনও করেছিল। ইমাম ক্ষমতাচ্যুত হলে তিনি সৌদিতেই আশ্রয় নেন।
পরে ভূ-রাজনৈতিক কারণে, সৌদি বিজয়ী শক্তির সাথে হাত মেলায়, এবং তাদের সমর্থন পরিবর্তন করে।
আমার মতে— বর্তমানে আবারো সৌদির উচিত, নিজেদের সমর্থন পরিবর্তন করে আনসারুল্লাহর সাথে আলোচনায় বসা। তাদের শাসন ইয়েমেনের উপর মেনে নেওয়া।
Author: Saikat Bhattacharya