নৃসিংহের পূজা করা বীর বৈষ্ণব এখন নেই, ওগুলো পাল সেন যুগে ছিল, এখন যেগুলো আছে সেগুলো হরেকৃষ্ণ করা ম্যাদামারা নিরামিষভোজী হাফ লেডিস বোষ্টম, এগুলোর কাজ একটাই ১৬ মালা হরেকৃষ্ণ জপ করা আর নিরামিষ খেয়ে ধ্বজ্জভঙ্গ নপুংসক হওয়া আর হিন্দুদের নিরামিষভোজী হবার জ্ঞান দেওয়া। ওগুলো থাকার চেয়ে না থাকা ভালো, ওগুলো হিন্দুদের জন্য আরও বিপদজনক। নৃসিংহের পূজা সাধারণ হিন্দুরা তন্ত্রের নিয়মে করুক, হাফ লেডিস বোষ্টমদেরদের প্রয়োজন নেই।
একটা সময়ে, খুব বেশি আগে নয়, উজ্জয়িনী মহাকাল, দেওঘর বৈদ্যনাথ, বিন্ধ্যবাসিনী, কাশী, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের নানা স্থানে পশুঘাত সহ শাক্তাচার বহুল প্রচলিত ছিল, শাক্তাচার বললেও ভুল হবে, শিব নৃসিংহ ভৈরব এদের পূজোতেই পশুবলি হোত। পশুঘাত মানেই বীরাচার বা বামাচার বা কৌলাচার এমন ধারণাটা কিন্তু ইদানীং প্রচার পাচ্ছে। পৌরাণিক বিধিতেও পশুঘাত যুক্ত শক্তিপূজা এবং শিব নৃসিংহ ভৈরব পূজা আগে অধিকাংশ দেশীয় রাজন্যবর্গ করতেন।তাতে আদি শঙ্কাচার্যের সম্প্রদায় শঙ্করমঠ বা স্মার্ত ব্রাহ্মণ সমাজের কোনো আপত্তি ছিল না। তাঁদের ব্যবস্থাপনাতেই হত।
কিন্তু স্বাধীন ভারতে মূলত বৃটিশ পরবর্তী সময়ে হিন্দু ধর্মের একটা আধুনিক সংস্কারের প্রবণতা দেখা
দেয় যেখানে আমিষ মানেই অশুদ্ধ, এমন একটা ধারণা গড়ে তোলা হয়, মূলত মহত্মা গান্ধীর অহিংসবাদী আন্দোলনের পর, তিনিই মূলত হিন্দুধর্মে কিছু অহিংস প্রথা ঢোকান বুদ্ধের পরবর্তী সময়, তার আগ অব্দি পশুঘাতে পূজাই সর্বাধিক প্রচলিত ছিল। জৈন বা গুজরাটি মারবাড়ি বানিয়া শ্রেণীর এই নিরামিষ ভাবধার অহিংস ভাবধারাটাই সামগ্রিক হিন্দু ধর্মের প্রধান বয়ান হয়ে ওঠে যেটা হিন্দুধর্মের ছিল না। গীতা প্রেস ও হিন্দি বলয়ের কথক-গুরুরা এর রূপকার। পুরোনো শাক্তাচার হারিয়ে গেছে প্রায় গোটা উত্তর ভারতে, মিথিলাতেও যেতে বসেছে। শেষ লক্ষ্য এখন বাংলা উড়িয়া ও আসাম। তথাকথিত ভদ্র আধুনিক মানসিকতাও এখন শৌখিন ধর্মকে হেঁসেল থেকে আলাদা করতে চায়। খাওয়াটা সেকুলার ব্যাপার -- রেস্টুরেন্টে মাংসাহার চলতেই পারে কিন্তু ধর্মাচার হবে একেবারে শুদ্ধ, সুন্দর। ধর্মের নামে আদিম রক্তপাত, শব, মুণ্ড - এসব অসভ্য কুপ্রথা, বর্জনীয় -- এই হল আধুনিক রুচি কিন্তু মুশকিল হল যে শুদ্ধাচারী সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলি আদিম পশুঘাতযুক্ত শাক্তাচারকেও কোণঠাসা করতে তৎপর!!!
ওদের অহিংস নিরামিষ তত্ত্ব ধর্মীয় দর্শন পরে হিন্দুধর্মে ঢোকে, এটা হয় মূলত আদিগুরু শঙ্করাচার্যের সময় যখন বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্ম থেকে দলে দলে এসব নিরামিষপন্থীরা হিন্দুধর্মে আসছিলো কারণ শঙ্করাচার্য বৌদ্ধ নিধনে নেমেছিলেন স্থানীয় হিন্দু রাজাদের সংঘবদ্ধ করে, এর প্রভাবে জৈনরাও শঙ্কর প্রবর্তিত অদ্বৈতবাদী সনাতন ধর্মে আসতে থাকে। এর পরেও পুরোপুরি পশু বলি প্রথা বা মাংসাহার ধর্মীয় ভাবে হিন্দুধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয় নি বৃটিশ পিরিয়ডের আগ অব্দি। বৃটিশ পিরিয়ডের শেষ মুহুর্তে গুজ্জু কংগ্রেসী নেতা মহাত্মা গান্ধী এবং মেড়ো জৈন বানিয়া গোষ্ঠি হিন্দুধর্মে অহিংস মতবাদের প্রচার ব্যাপক ভাবে করে ফলে হিন্দুধর্মে বলি প্রথা অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ যায় পূজা গুলোতে, শুধু শাক্তদের মধ্যেই কিছুটা থেকে যায় এটা। হিন্দুধর্মকে নিরামিষকরণ করে ধ্বংসের পেছনে সবচেয়ে বেশি হাত এই জৈন মাড়োয়ারিদের। এদের ধ্বংস করা না গেলে হিন্দুরা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে।
Author: Aranya Saha