একটা আলোচনা

Soumo Mondal: 
সশস্ত্র বাম আন্দোলনের সাথে সাংবিধানিক বাম আন্দোলনের উত্থান বা টিকে থাকার একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জনমত কে মিডল ফিঙ্গার দেখিয়ে ভারতে প্রথম নির্বাচনে কেরালা রাজ্যে জিতে আসা CPI সরকারকে ফেলে দেয় কেন্দ্র। ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারকেও ফেলে দেওয়া হয়। সারা ভারত জুড়ে বহু রাজ্য সরকারকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টানা ৩৪ বছর বামফ্রন্ট টিকে থেকেছে। পুরুলিয়া অস্ত্র বর্ষণ সহ বিভিন্ন সাবোতাজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইমার্জেন্সির পর সংসদীয় বামদের আগের মত ঘাটানো হয়নি। জ্যোতি বসুর আত্মজীবনী "যত দূর মনে পড়ে" সহ বিভিন্ন মানুষের স্মৃতিতে স্বাধীনতার পর CPI /CPIM এর উপর ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বর্ণনা আছে।

এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ভূমি সংস্কার লাগু না হওয়া, বার বার নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়ার ঘটনা গুলো প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে সশস্ত্র বাম আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করেছিলো। তারা মনে করেছিলো সামন্ত মাফিয়ারা রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে, ভারতের পুজিপতিদের স্বার্থ জড়িয়ে আছে ভারতের গণতান্ত্রিক সংস্কারে নয়, বরং সামন্তদের সাথে হাত মেলানোয়। ফলত এই রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করা ন্যায্য, এটাই সময়। এর পরিনতি কী হয়েছিলো আমরা জানি, বাকিটা ইতিহাস।

নকশালপন্থী আন্দোলনের পর ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় সামন্ত মাফিয়ারা কিছুটা দূর্বল হয়। বুর্জোয়ারা নিজেরাও সামন্তদের থেকে নিজেদের অনেকটা মুক্ত করতে পারে। তারা একদিকে সশস্ত্র বামদের উপর ব্যাপক দমন পীড়ন চালায়। অন্যদিকে বেশ কিছু পজিটিভ সংস্কার করে, সশস্ত্র বামেদের সাপ্লাই লাইন আর যৌক্তিক ভিত্তি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, সংসদীয় বামেদের মেনে নিতে বাধ্য হয়। সম্ভ্রান্ত বৃত্তে যাদের ঢুকতে দেওয়া হত না, শ্রেনী সংগ্রামের চাপে সেই বৃত্তে শ্রমিক কৃষক নেতারা ঢুকতে পারে। যুবকরা দেখে অন্য শান্তিপূর্ণ পথ আছে।

এবার সশস্ত্র বাম আন্দোলন যদি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়, তখন অবশ্যই এই সমীকরণ বদলাবে। বদলাতে বাধ্য৷

অনেকে মনে করছেন সশস্ত্র ধারার বিলোপ হলে সংসদীয় বামদের দমন করা কঠিন। কারণ রাষ্ট্রের কাছে যুক্তি থাকবে না। হয় এরা ইতিহাস জানেনা, নয়তো মার্কসবাদ বোঝে না, অতিব সরল মানুষ। নয়তো টিপিক্যাল সংশোধনবাদী। কারণ রাষ্ট্র ব্যাপারটাই হল শাসক শ্রেণীর ডিক্টেটরশিপ। দায় পড়ে যতটা গণতন্ত্র দিতে হয়, ততটাই গণতন্ত্র পাওয়া যায়। এটাই মার্কসবাদ।

এছাড়া আরেকটা আন্তর্জাতিক উদাহরণ আছে। অনেক পন্ডিত ফান্ডা দিয়েছিলো যে সোভিয়েত বা সমাজতান্ত্রিক ক্যাম্পের বা ওয়ারশ প্যাক্টের পতন হল ঠান্ডা যুদ্ধ এবং ন্যাটোর প্রয়োজন ফুরোবে। ফলত পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে। আদতে দেখা গেছে ন্যাটোর বিলোপ দূরের কথা ন্যাটোর আগ্রাসন এবং একতরফা জহ্লাদগিরি বেরেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন নতুন বাহানা খুজে নিয়েছে। সুতরাং বোকা গর্দব হলে হেসে নেওয়া যায়। কিন্তু জ্ঞানপাপীরা বিরক্তিকর।

Saikat Bhattacharya:
কয়েকটা ভুল ধরছি কিছু মনে করো না

1। ভারতীয় পুঁজিপতি অথবা ভারতীয় সামন্ত বলে কিছু হয় না কারণ ভারতীয় বলেই কিছু হয় না।

2। কৃষির জায়গায় শিল্প ও পরিষেবার গুরুত্ব বেড়েছে, অতএব সামন্তদের অর্থের শেয়ার সমগ্র অর্থনীতিতে কমে গেছে, বেড়েছে মূলত মারোয়ারি গুজরাটি পুঁজির গুরুত্ব।

3। সামন্ত মনন নিয়ে শিল্প পরিষেবায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বটে কিন্তু কিন্তু উপার্জিত অর্থ এই সামন্ত মনন এর ব্যবসায়ীরা হয় মারওয়ারী গুজরাতি পুঁজিকে দিয়ে দিয়েছে নয়তো মস্তি করে উড়িয়ে দিয়েছে, ফলে পুঁজির বিকাশ হচ্ছেনা। এই জন্যেই পঞ্চায়েত করে অর্থ কামিয়ে বড় বাজার দখল করতে আসেনা বাঙালি। দখল নেওয়ার ইচ্ছেই হয়না। কারণ পুঁজিবাদি সমাজ আসেনি। শিল্প (খুবই কম) পরিষেবা নির্ভর সমন্ততন্ত্র চলছে বলা উচিত।

Jyotirmoy Chakraborty:
ভারতীয় বলে কিছু হয়না কেনো?

Saikat Bhattacharya:
কারণ গুজরাটি মারওয়ারি পুজির অসম বিকাশ হয়েছে গোটা ভারত জুড়ে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আশি শতাংশ ব্যবসায়ী মাড়োয়ারি ও গুজরাটি পুজির দখলে। বাঙালি পুজিকে আস্তে আস্তে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সাহারার সুব্রত রায়, সারদার সুদীপ্ত সেন, রোজভ্যালির গৌতম কুন্ডু এরকম অজস্র নাম বলা যায়। যেখান থেকে বলে দেওয়া যায় যে ভারত রাষ্ট্র লাগাতার বাঙালি পুজি শেষ করে চলেছে। কারণ ভারত রাষ্ট্র মূলত গুজরাটি ও হিন্দিভাষিরা চালায় এবং তাদের চোখে বাঙালি ও বাংলাভাষীরা কেবলমাত্র উপনিবেশ এবং দাস।

Sreeja Mukherjee:
একদমই ঠিক। যে কারণের জন্য এ রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষকে মহাত্মা গান্ধী চিঠি লিখে একজন অন্তত মাড়োয়ারিতে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেটা না দেওয়ার কারণে মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রফুল্ল ঘোষের সরকার ফেলে দেওয়া হয়

  •  
Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Theoretical General 02-December-2025 by east is rising

China Has Identified How To Jam Starlink In Case of Taiwan War তাইওয়ান আক্রমণকে মাথায় রেখে স্টারলিংকে সম্পূর্ণ অকেজো করার মহড়া চালালো চীন

From Facebook Page of Islam Insight 

After Russia's invasion of Ukraine in 2022, Starlink thwarted efforts to destroy communications on the battlefield. Although Russian jamming was initially partially successful, SpaceX quickly neutralized the jamming through software updates and changes to satellite configurations. Since that incident, concern has arisen among China's military strategists about how to silence adaptive satellite networks like Starlink in the event of a Taiwan conflict.

To find answers to this question, the Beijing Institute of Technology and Zhejiang University jointly conducted the most detailed simulation of Starlink blocking. The research shows that Starlink's low-Earth orbit satellites constantly change their positions and frequencies, making conventional jamming methods practically ineffective. Only a widespread, airborne electronic shield can disrupt Starlink.

In the experiment, they created a virtual "jammer cloud" consisting of high-altitude drones aligned 3 to 6 miles apart, each emitting powerful electronic noise.

A single jammer can disable Starlink connections over a maximum area of 38.5 square kilometers.

Calculations indicate that to cover Taiwan, at least 935 high-power drones would be needed, or in a cost-effective low-power setup, approximately 2,000 drones.

The simulation used Starlink's actual orbital and signal data, and the researchers simulated a full war environment for 12 hours, yielding very good results.

In their words, "If we obtain real radiation and suppression data from Starlink, the jamming strategy can be made even more precise."

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ ধ্বংস করার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয় Starlink। রুশ জ্যামিং প্রথমে আংশিক সফল হলেও SpaceX দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট ও স্যাটেলাইট কনফিগারেশন বদলে জ্যামিংকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। সেই ঘটনার পর থেকেই চীনের সামরিক কৌশলবিদদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় তাইওয়ান সংঘাত হলে Starlink-এর মতো অভিযোজ্য স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে কীভাবে নীরব করা সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে Beijing Institute of Technology ও Zhejiang University যৌথভাবে Starlink ব্লকিংয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত সিমুলেশন চালায়। গবেষণাটি দেখায়, Starlink এর নিম্ন-কক্ষপথ স্যাটেলাইটগুলো প্রতি মুহূর্তে অবস্থান ও ফ্রিকোয়েন্সি বদলায়, ফলে প্রচলিত জ্যামিং পদ্ধতি কার্যত অকার্যকর। কেবলমাত্র বিস্তৃত, আকাশভিত্তিক ইলেকট্রনিক শিল্ড Starlink কে বিপর্যস্ত করতে পারে।

পরীক্ষায় তারা একটি ভার্চুয়াল "জ্যামার ক্লাউড" তৈরি করে ৩ থেকে ৬ মাইল দূরত্বে সারিবদ্ধ উচ্চ-উচ্চতার ড্রোন, প্রতিটি শক্তিশালী ইলেকট্রনিক নয়েজ ছড়িয়ে।

একটি জ্যামার সর্বোচ্চ ৩৮.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে Starlink সংযোগ অকার্যকর করতে পারে।

হিসাব বলছে তাইওয়ান আচ্ছাদনের জন্য অন্তত ৯৩৫টি উচ্চ-ক্ষমতার ড্রোন, বা সাশ্রয়ী নিম্ন-ক্ষমতার ব্যবস্থায় প্রায় ২,০০০ ড্রোন দরকার হবে।

সিমুলেশনে Starlink-এর প্রকৃত কক্ষপথ ও সিগন্যাল ডাটা ব্যবহার করা হয় এবং গবেষকরা ১২ ঘণ্টা ধরে একটি পূর্ণ যুদ্ধ-পরিবেশ অনুকরণ করেন যার ফলাফল অনেক ভালো এসেছে।

তাদের ভাষায় "Starlink এর বাস্তব রেডিয়েশন ও সাপ্রেশন ডাটা হাতে এলে জ্যামিং কৌশল আরও নিখুঁত করা সম্ভব হবে।"

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Technology news General USA vs China 02-December-2025 by east is rising

খাদ্য পণ্য ও তার ফাঁদ

লিখেছেনঃ Tnman Lahiri

 

গবেষণায় বলা হয়, পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ উদ্ভিদ প্রজাতি আছে।

এগুলোর মধ্যে ভক্ষণযোগ্য উদ্ভিদ আছে ২০,০০০–৩০,০০০ রকম!

কিন্তু পুরো মডার্ন দুনিয়া চলছে মাত্র ৪/৫ রকম ফসলের ওপর!

গম, ভুট্টা, সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, ক্যানোলা, পাম, আখ!

এই কয়টাই আধুনিক মানুষ প্রতিদিন খায়, সারাজীবন খাবে!

সস্তার রিফাইন্ড অয়েল আর রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট!

স্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে নয়!

স্টোরেজ, ট্রান্সপোর্ট, প্রসেসিং সহজ বলেই এগুলোকে গ্লোবাল স্ট্যাপল বানানো হয়েছে!

রিফাইন্ড অয়েল মানেই অত্যন্ত বেশি পরিমাণে ওমেগা-৬ য়ে ভরা!

ওমেগা-৬ ওভারলোড!

মানে অতিরিক্ত ওমেগা-৬, আর অতি কম ওমেগা-৩!

ওমেগা-৬ এমন এক ধরনের ফ্যাট যা ডায়েটে অতিরিক্ত থাকলে আপনার শরীরে নীরব, দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে!

রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটও ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে!

জনগণের নিত্যদিনের খাদ্য এখন সাদা আটা, কর্ন ফ্লাওয়ার, রিফাইন্ড চিনি, কর্ন সিরাপের মতো রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট!

এগুলো মেটাবলিক ইনফ্লামেশন তৈরি করে!

সস্তার রিফাইন্ড অয়েল আর রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট!

এসব খেলে শরীরে ননস্টপ লো-গ্রেড ইনফ্লামেশন চলতে থাকে!

খেলাটা শুরু হয় এখান থেকেই!

ইনফ্লামেশনের কারণে মানুষের নানা রকম ক্রনিক রোগ দেয়া দেয়!

এই রোগগুলো এরকম যে, আপনি হুট করে একদিনেই মরবেন না, বরং ধুঁকে ধুঁকে আস্তে ধীরে মরবেন!

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরচেয়েও ইন্টারেস্টিং— আপনি সারাজীবন অসুস্থ রয়ে বাঁচবেন!

ইনফ্লামেশন (প্রদাহ) শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

যখন শরীর আঘাত পায়, সংক্রমিত হয়, বা ক্ষতিকর কোনো উপাদান প্রবেশ করে, তখন ইমিউন সিস্টেম প্রদাহের মাধ্যমে সেই সমস্যা রিকভার করে।

ফলে ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর আসা, ব্যথা অনুভব হওয়া ইত্যাদি হতে থাকে। এই একিউট ইনফ্লামেশন আসলে ভালো। কারণ এটি শরীরের হিলিং প্রসেসেরই অংশ।

কিন্তু বিপদ হয় যখন এই প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়! ক্রনিক ইনফ্লামেশন য়ে পরিণত হয়!

অর্থাৎ, শরীরে যখন এটা প্রতিদিন, কম মাত্রায়, লুকিয়ে লুকিয়ে চলতে থাকে!

এই দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশন অনেক অনেক মারাত্মক রোগের মূল কারণ!

যেমন- হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, পারকিনসন রোগ, আর্থরাইটিস, ফ্যাটি লিভার, স্থূলতা, হরমোনজনিত সমস্যা, বহু রকম ক্যান্সার, অটোইমিউন রোগ ইত্যাদি!

এটা আধুনিক মেডিক্যাল সায়েন্সেই সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য!

যেসব রোগ মানুষের জীবনভর থাকে সেসবের চিকিৎসা মূলত সিম্পটম ভিত্তিক।

এসব রোগ কখনো সম্পূর্ণ আরোগ্য না হয়ে আজীবন মানুষকে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল করে রাখে! এই রোগগুলোর ভিত্তি হলো ক্রনিক ইনফ্লামেশন!

এভাবেই আসলে খেলাটা চলে!

সস্তা ইনফ্লেমেটরি খাদ্য খেয়ে প্রদাহগ্রস্ত জনগণই হচ্ছে ফার্মার বিশাল বাজার!

জনগণ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে, কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের এই যুগে ফুড সিস্টেম শুধুমাত্র এমনসব খাদ্যই তাদের খাওয়াচ্ছে যার থেকে ফার্মা সিস্টেম প্রতিদিন লাভবান হয়!

ফুড সস্তায় ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহ-সৃষ্টিকারী) খাদ্য বাজারে ছাড়ে, সস্তা পেয়ে মানুষ বস্তা ভরে, এই খাদ্য ক্রনিক রোগ বাড়ায়! রোগ বাড়লে ফার্মা লাভবান হয়!

ফুড সিস্টেম ও ফার্মা সিস্টেম আলাদা মনে হলেও বাস্তবে তারা হাতে হাত ধরে চলে!

মানুষের স্বাস্থ্য এই সিস্টেমের কেন্দ্রবিন্দু নয়। আপাতদৃষ্টিতে এটা হলো ব্যবসার মডেল। আরো গভীরভাবে বুঝলে এটা হলো কন্ট্রোলের মডেল!

এটা কোনো কন্সপাইরেসি থিওরি না, এটাই ফ্যাক্ট!

এত এত ফসল থাকতে দুনিয়া মাত্র কয়েকটায় কেন আটকে আছে?

গ্লোবাল বাণিজ্য ও ম্যাসিভ ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিংয়ের উপযোগী না হলে ফুড কখনোই শুধু স্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে কোনো ফসল উৎপাদন করে না।

গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ক্যানোলা, আখ এগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনের পারফেক্ট কাঁচামাল!

যা দিয়ে সস্তা তেল, সস্তা সিরাপ, সস্তা অ্যাডিটিভ, প্যাকেটজাত খাবার, প্রসেসড ফুড ইত্যাদি তৈরি করা যায়!

বেশিরভাগ মানুষ এই সিস্টেমকেই মেনে নিয়েছে। তারা সস্তার খাবারই খাবে এবং ব্রয়লার মুর্গির মত ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটাবে!

কিন্তু যারা সচেতন মানুষ, তাদের খুঁজতে হবে ফুড সিস্টেমের বাইরে থাকা ফসলগুলোকে। যেগুলো উৎপাদনও সহজ, আবার মানুষের জন্য সত্যিকারের পুষ্টিকর!

মিলেটস, সরঘাম, বার্লি, বাকহুইট, ছোলা, মিষ্টি আলু এ সবই ঐতিহাসিকভাবে সুপারফুড ছিল! এগুলো হাজার হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতাকে শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করেছে।

কিন্তু এগুলো বিশ্বের প্রধান ফসল হয়ে উঠতে পারছে না কেন?

কারণ এগুলো প্রসেসিং, রিফাইনিং ও রপ্তানি বাণিজ্য এবং প্রদাহগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রিলিয়ন ডলারের ফুড-ফার্মা সিস্টেমকে সাপোর্ট করবে না!

এই ফসলগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রসেসিংয়ের উপযোগী না। তাই গ্লোবাল সিস্টেম এগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়নি।

অনেক পুষ্টিকর ফসল আজ অবহেলায় পড়ে রয়েছে—

- উচ্চ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ক্যামেলিনা

- খরা সহনশীল মিলেটস

- সরঘাম

- বার্লি

- বাকহুইট

- উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খেসারি, কলাই

- ছোলা

- মিষ্টি আলু

- বিভিন্ন মূলজাতীয় ফসল

এগুলো মাটি, পশুপাখি, মানুষ সবকিছুকেই স্বাস্থ্যবান করে।

এগুলোর সবই আধুনিক চাষাবাদ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রচুর পরিমাণ ফলানো যায়।

বর্তমান যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি, কৃষি জ্ঞান এসব দিয়েই আমরা পৃথিবীতে দ্বিগুণ বেশি খাদ্য উৎপাদন করতে পারি। যেই খাদ্য রোগ বানায় না, বরং আরোগ্য করে। যা হবে পুষ্টি ও শক্তিতে ভরপুর।

এজন্য শুধু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া লাগবে!

আজ হোক বা কাল এই পরিবর্তনের মধ্যে আমাদেরকে আসতেই হবে!

ক্যাপ্টেন গ্রিন

 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

mythical General 02-December-2025 by east is rising

পিলখানা ট্রাজেডিঃ উইকিলিকসের তথ্যঃ হাসিনা,আ.লীগ ও RAW জড়িত

লিখেছেন ঃ Md Nazmul Haqua Babu

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

দুনিয়া কাঁপানো এই আর্মি ম্যাসাকারের নেপথ্যের নায়কদের আড়াল করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে ৮৫০ বিডিআর জওয়ান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। বিশেষ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করবেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদরদপ্তর পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ নিহত হয় ৭৪ জন

২৫ ফেব্রুআরির পিলখানায় নারকীয় সেনা হত্যাযঙ্গের কথা আজও ভুলতে পারেনি জাতি। কি হয়েছিল সেদিন? কারা বা কাদের নির্দেশে এই হত্যাযজ্ঞ সংগঠিত হয়েছিল?? নেপথ্যের নায়কই বা কারা??? উইকিলিকসের তথ্যে সেই গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে পড়েছে।

সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর ১১ হাজার পৃষ্ঠার গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কিছু। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা মাত্র ৮শ পৃষ্ঠা রেখে সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে অনলাইনের কল্যানে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের গোপন কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, কারা পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করেছে। সেটাই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো।

১. RAW: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘R&AW’এর পরিকল্পনায় ও ব্যবস্থাপনায় ”পিলখানা হত্যাকান্ড” ঘটে। এর মূল লক্ষ ছিল- পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার বদলা নেয়া এবং বিডিআর বাহিনী ধংস করে দেয়া। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়। এর আগে পাদুয়ায় নিহত হয় ১৫ বিএসএফ। বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে ঐ যুদ্ধে অংশ নেয় বিডিআর। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিষ্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানান, ”এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।” লক্ষ করুন, ১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বালাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত।

পাদুয়া-রৌমারীর বদলা নেয়ার জন্য বিডিআর বাহিনী ধংস করার পরিকল্পনা করে ভারত। এ লক্ষে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সময়টিকে বেছে নেয়া হয়- যখন হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পর পর নাজুক সময়। অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় পরিকল্পনায় নির্বাচন ছাড়া অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নানা শর্তের মধ্যে একটি গোপন শর্ত থাকতে পারে “বিডিআর ধংস করা।” চুড়ান্ত রিস্ক থাকা স্বত্ত্বেও হাসিনাকে তা মেনে নিতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবীদাওয়ার আড়ালে মুল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপী বরাদ্দ করে ভারত। এর মধ্যে পিলখানায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিলি হয়, যাতে প্রতিটি অফিসারের মাথার বদলে ৪ লক্ষ টাকা ইনাম নির্ধারন করা হয়। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাছাই করা ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়, যারা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের পাঠানো (প্রেমের নিদর্শন) ১ লক্ষ মিষ্টির সাথে বাংলাদেশে ঢুকে। একজন বেসামরিক দর্জি’র কাছ থেকে বিডিআর এর পোশাক বানিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় উপস্থিত থাকে শুটাররা। তাদের দায়িত্ব ছিলো লাল টেপওয়ালা (কর্নেল ও তদুর্ধ) অফিসারদের হত্যা করা। তারা একটি বেডফোর্ড ট্রাক ব্যাবহার করে ৪ নং গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ২৫ তারিখ সকালে। ঘটনার দিন সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কোনো সংবাদ মাধ্যম জানার আগেই ভারতের “NDTV” চ্যানেলে প্রচার করা হয় জেনারেল শাকিল সস্ত্রীক নিহত। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনা অনুসারেই খবর প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম!

পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বা আর্মির পদক্ষেপে শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হলে তাকে নিরাপদে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ৩০ হাজার সৈন্য, প্যারা ট্রুপার ও যুদ্ধবিমান আসামের জোরহাট বিমানবন্দরে তৈরী রেখেছিলো ভারত। বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। ঐসময় প্রণব মুখার্জীর উক্তি মিডিয়ায় আসে এভাবে, “এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি এ কাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।”

পিলখানা ট্রাজেডিঃ উইকিলিকসের তথ্যঃ

২. জেনারেল তারিক সিদ্দিকি : শেখ রেহানার স্বামী এবং পিলখানা গনহত্যার মাস্টারমাইন্ড। ঘটনার পুর্নাঙ্গ পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের মুল হোতা। তারিক সিদ্দিকী মুলত 'র' এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান স্থানীয় সমন্বয়কারী। তারিক সিদ্দিকী একমাত্র ব্যাক্তি, যিনি পিলখানা গনহত্যার প্রতিটি ধাপ ও ঘটনার সাথে জড়িত ও অবগত। শুধুমাত্র তাকে জেরা করলেই পুরো ঘটনার সমস্ত রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব।

৩. শেখ হাসিনা : পিলখানা হত্যাকান্ড সংগঠিতকারী প্রধান দুটি গোষ্ঠী ভারত ও আওয়ামী লীগের মুল সমন্বয়কারী শেখ হাসিনা। সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে সম্ভ্যাব্য সেনা অভুথ্যান প্রতিরোধের মাধ্যমে হাসিনার দির্ঘ্যমেয়াদি অবৈধ শাসন টিকিয়ে রাখা ছিলো পিলখানা গনহত্যার অন্যতম কারন।

গটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে রহস্যজনক কারণে শেখ হাসিনাকে সুধাসদন থেকে খুব তড়িঘরি করে যমুনায় সরিয়ে নেয়া হয়! কেননা পিলখানার ডেঞ্জার এরিয়ার মধ্যে ছিল সুধাসদন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার মেরামত কাজ শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও অজ্ঞাত সিগনালে খুব দ্রুততার সাথে হাসিনাকে সুধাসদন থেকে সরানো হয়েছিল।

২৫শে ফেব্রুয়ারী বেলা ১টার দিকে জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’য় ডেকে আনা হয়। সামান্য আলোচনার পর একটি ওয়েটিং রুমে বসিয়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। এপর রাত ১০টা পর্যন্ত তাদেরকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তারা শুনতে পান পাশের কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চস্বরে হাস্যরসে ব্যস্ত ছিলেন তাপস, নানক, আজম, সাহারা খাতুন সহ কেবিনেট মেম্বাররা!

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিদ্রোহীদের ফলপ্রসু (!) আলোচনার সূত্র ধরে শেখ হাসিনার ভাগ্নে শেখ ফজলে নূর তাপসের বরাতে টিভি স্ক্রলে ঘোষণা প্রচার করা হয়- পিলখানার ৩ কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা করে দিতে জনসাধারনের প্রতি নির্দেশ জারী করা হয়। পরে জানা যায়, এলাকা শূন্য করার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

রাত ১০টার দিকে তিন বাহিনী প্রধান সহ সেনাপ্রধান মইন যমুনা থেকে বের হয়ে এসে প্রেসকে জানান- "Army is subservient to the Government!" জেনারেল মইন পরে মিডিয়াকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহ দমন করতে সেনা অভিযান চালাতে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেননি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী কায়দা করে তিন বাহিনী প্রধানকে তার বাসভবনে ৮ ঘন্টা আটকে রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছিল।

৪. গোয়েন্দা সংস্থা: ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক ঘটনার আগের দিন এটা জানার পর সে এনএসআইকে এই মর্মে অবহিত করে যে, পিলখানায় বিদ্রোহের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগের নেতারা জড়িত। এনএসআই থেকে উক্ত সাংবাদিককে বলা হয় বিষয়টা চেপে যেতে। ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর পিলখানায় যাওয়ার আগের দিন পিলখানা অস্ত্রাগার থেকে ৩টি এসএমজি খোয়া যায়। তখন সেনা অফিসারদের দায়িত্ব দেয়া হয় অস্ত্রাগার পাহারায়। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দাগিরি বহাল থাকে। নূন্যতম কোনো বিচ্যুতি ঘটলে প্রোগ্রাম বাতিল হয়। এত কিছু সত্তেও ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। মূলত: বিদ্রোহের আগাম বার্তা সেনাপ্রধান ম্ইন, ডিজিএফআই প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর (ইনি হাসিনার এক সময়ের প্রেমিক ছিলেন), এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল মুনির, সিজিএস মেজর জেনারেল সিনা জামালী, বিডিআর কমিউনিকেশন ইনচার্জ লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামান, ৪৪ রাইফেল’এর সিও শামস, মুকিম ও সালাম-এর জানা ছিল। কেননা ২৫ তারিখের আগেই দাবী দাওয়ার লিফলেটের কপি ডিজি শাকিল, এনএসআই ও সরকারের কাছে পৌছে। এমনকি মাঠ পর্যায়ের বহু সেক্টর কমান্ডাররা জানত, ২৫ তারিখে একটা ঘটনা ঘটবে। পরিকল্পনামত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ২৪ তারিখে জানিয়ে দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ তারিখের নৈশভোজে যাচ্ছেন না। এমন ঘটনা অতীত কখনও কখনো ঘটেনি!

৫. জেনারেল মইন উ আহমেদ: তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ১/১১র প্রধান কুশীলব। ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে ভারত সফর করে মইন চেয়েছিলেন পূর্ন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতীয় সমর্থন। ভারত রাজী হয়নি, বরং আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার লক্ষে মইনকে কাজ করতে বলে, বিনিময়ে সেফ প্যাসেজ পাবে কুশীলবরা। উপায়ান্তর না দেখে মইন রাজী হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিত ফলাফলের নির্বাচনে ক্ষমতার পালবদল ঘটায়। মইনের বদলে আসেন হাসিনা! ওয়ান ইলেভেনের খলনায়করা যে সব রাজনীতিবিদদের অত্যাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদে প্রবল দাবী ওঠে। তখন সেনাবাহিনীর চাপের মুখে জেনারেল মইন নিজে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে সংসদ অফিসে। এরপর শেখ হাসিনা ধমকে দেন মখা আলমগীর, আবদুল জলিলদের, যাতে করে সেনাবাহিনীর বিচারের দাবী আর না তুলে। হাসিনা এ সময় হুঁশিয়ার করেন, “কিভাবে ক্ষমতায় এসেছি, সেটা কেবল আমিই জানি।” অন্যদিকে ঐ সময়ই ভারত তার প্লানমত এগিয়ে যায় বিডিআর অপারেশনে। মইনকে বলা হয় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে। মইন তার দু’বছরের অপকর্মের স্বাক্ষী আর্মি অফিসারদের আগে থেকেই পোষ্টিং দিয়ে জড়ো করে বিডিআরে। এদের নিধন করা হলে মইনের অপকর্মের সাক্ষী আর পাওয়া যাবে না। ফলে মইনের বিরাট প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ। অন্যদিকে এত সেনা অফিসার নিহত হলে ১/১১ নিয়ে সেনাবাহিনী তথা মইনের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা আর মুখ খুলবে না।

২৫ তারিখের আগে পরিকল্পিতভাবে অনেক চৌকশ অফিসারকে একসাথে বদলি করে পাঠানো হয় বিডিআরে। পিলখানা হত্যাকান্ডের মাত্র ২ মাস আগে গুলজারকে ষ্টান্ড রিলিজ করে বিডিআরে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। নাটকীয় ভাবে আগেরদিন রাতে তার বিডিআরের পোশাক তৈরি করে তাকে দরবারহলে পাঠানো হয়। রাইফেলস সপ্তাহের আগেই কানাঘুসা শুরু হয়- ২৫ তারিখে বিদ্রোহ হবে। তাই অনেক অফিসার নানা অযুহাত দিয়ে ছুটিতে চলে যায়। সেনাপ্রধান মইনের পিলখানা হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল, যার প্রমান মেলে ঘটনার সাথে সাথেই আক্রান্ত ডিজি শাকিল ও অফিসাররা মইনকে ফোনে জানায়। মইন আশ্বাস দেন সেনা পঠাচ্ছি। অথচ তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি, সময় ক্ষেপন করে হত্যার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ম্ইন চলে যায় যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। তেজগাওয়ে এয়ারফোর্স রেডি, আর্মি রেডি সেনিাবাসে। কিন্তু হুকুম আসে না। কিলিং শুরুর আগেই সেনাবাহিনী ও RAB এর কয়েকটি গ্রুপ পিলখানার গেইটে পৌছে গেলেও ভেতরে ঢুকে অপারেশনের অনুমতি দেয়নি হাসিনা ও ম্ইন। ঘটনার ৪ দিন পরে ১ মার্চে হাসিনা সেনাকুঞ্জে গেলে মইন সেনা অফিসারদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে পরেন। এমনকি নিহতদের জানাজার সময় মইনকে চেয়ার তুলে মারতে যায় কেউ কেউ। উল্টো, সেনাকুঞ্জে যে সব সেনা অফিসার বিচার চেয়ে জোর গলায় বক্তৃতা করেছিল, প্রতিবাদ করেছিল- ভিডিও দেখে দেখে এমন প্রায় দু’শ জনকে চাকরীচ্যুত করেছে মইন অনেক অফিসারকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মামলায় কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে।

৬. সজীব ওয়াজেদ জয়: শেখ হাসিনার পুত্র আগে থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের দেড় মাস আগে (১৯ নভেম্বর) হাসিনার উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তার Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শীর্ষক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জোট সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে ৩০% মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢুকানো হয়েছে। এদের নির্মুল করে সেনাবাহিনী পূনর্গঠন করতে হবে। পিলখানায় বিপুল সেনা অফিসার হত্যা করা হলে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করা সহজ হবে, এবং নতুন নিয়োগ করা যাবে- এমন বিবেচনায় জয় ভারতীয় প্রস্তাবটি গ্রহন করেন। পিলখানা হত্যার পরে জয় দুবাই যান এবং সেখানে ঢাকা থেকে আগত হত্যাকারীদের নগদ পুরস্কৃত করেন বলে খবর প্রকাশ।

৭. শেখ ফজলে নূর তাপস: হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে এই তাপস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটনায় তার পিতা নিহত হয়। তাপস ঢাকা-১২র নির্বাচন করতে গিয়ে বিডিআর এলাকায় ৫ হাজার ভোট প্রাপ্তির লক্ষে ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি তোরাব আলী’র মাধ্যমে বিডিআর নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে। তাপসকে নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, বিডিআর সকল সদস্য নৌকায় ভোট দিবে। তার বদলে তাপস আশ্বাস দিয়েছিল বিডিআরের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার ব্যবস্থা করবে। তাপসের বাসায় (স্কাই ষ্টার) বিডিআরের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এমনকি দাবীদাওয়া পুরন না হওয়ায় পিলখানা বিদ্রোহের আগের দিন তাপসকে সম্ভাব্য বিদ্রোহের কথা জানানো হয়। তাপস তাতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাপসও এই ষড়যন্ত্রকে কার্যকর হিসাবে মনে করে। ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফজলে নুর তাপসের ধানমন্ডিস্থ বাসায় ২৪ জন বিডিআর হত্যাকারী চুড়ান্ত শপথ নেয়। তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন পরিকল্পনাকারীদেরকে গোপন আস্তানা ও যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে। বিডিআর বিদ্রোহের পরের দিন বিকালে শেখ তাপসের ঘোষনা প্রচার করা হয়, যাতে করে পিলখানার ৩ মাইল এলাকার অধিবাসীরা দূরে সরে যান। আসলে এর মাধ্যমে খুনীদের নিরাপদে পার করার জন্য সেফ প্যাসেজ তৈরী করা হয়েছিল। তাপসের এহেন কর্মকান্ডের বদলা নিতে তরুন সেনা অফিসাররা পরবর্তীতে তাপসের ওপর হামলা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরে ৫ চৌকস কমান্ডো অফিসার চাকরীচ্যুত হয়ে কারাভোগ করছে। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদন্ত এড়াতে তাপস কিছুদিন গা ঢাকা দেয় বিদেশে।

পিলখানা ট্রাজেডিঃ উইকিলিকসের তথ্যঃ ৩

৮. মীর্জা আজম: যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এই হুইপটি পিলখানার ঘটনাকালে বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেয় কর্নেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং দেহ নষ্ট করে ফেলতে (এর অডিও রেকর্ড আছে), কেননা র‌্যাবের পরিচালক কর্নেল গুলজারের নেতৃত্বে জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে ধরা হয়েছিল ও পরে ফাঁসি দেয়া হয়। শায়খ রহমান ছিল মির্জা আজমের দুলাভাই। আজম এভাবেই দুলাভাই হত্যার বদলা নেয় গুলজারকে হত্যা করে, এমনকি তার লাশও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ২০০৪ সালে নানক-আজমের ব্যবস্থাপনায় শেরাটন হোটেলের সামনে গানপাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারার ঘটনা তদন্ত করে এই গুলজারই নানক-আজমকে সম্পৃক্ত করে। এর প্রতিশোধেই গুলজারে শরীর এমন ভাবে নষ্ট করা হয়, যেনো কেউ চিনতে না পারে। ১৫ দিন পরে ডিএনএ টেষ্ট করে চিহ্নিত করা হয় গুলজারের লাশ।

৯. জাহাঙ্গীর কবির নানক: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। উনি বিডিআরের ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদের ক্লাশমেট। বিডিআর ট্রাজেডির আগে থেকেই তৌহিদ যোগাযোগ রাখত নানকের সঙ্গে। ঘটনার দিন ২০৪ মিনিট কথা বলে তৌহিদ-নানক। ২৫ তারিখ বিকালে পিলখানার বিদ্রোহীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে মিটিং করিয়ে নিরাপদে ফেরত পাঠায় সে। ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষণা করে নানক। কর্নেল গুলজার হত্যায় মীর্জা আজমের সাথে নানক সরাসরি জড়িত। কেননা, র‌্যাবের পরিচালক গুলজারই তদন্ত করে উদঘাটন করে- শেরাটনের সামনে দোতলা বাস জ্বালিয়ে ১১ যাত্রী হত্যা করা হয় নানকের নির্দেশে। ২৫ তারিখে বেঁচে যাওয়া লে: কর্নেল মঞ্জুর এলাহী পালিয়ে ছিল ম্যানহোলে। তার স্বজনরা এসএমএস মারফত খবর পেয়ে নানকের সাহায্য চায়। উদ্ধার করার বদলে ঐ অফিসারটিকে খুঁজে বের করে হত্যা করায় নানক। এটা সেনানিবাসের সবাই জানে। সেনাবাহিনীর তদন্ত পর্ষদ এড়াতে তদন্তের সময় নানক হঠাৎ বুকের ব্যথার অযুহাতে চিকিৎসার কথা বলে অনেকদিন সরে থাকে সিঙ্গাপুরে। এ নিয়ে সেনা অফিসারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরকে চাকরীচ্যুত করে হাসিনা।

১০. সাহারা খাতুনঃ সুপরিকল্পিত বিডিআর ধংসযজ্ঞ সংগঠনের নিমিত্ত ভারতের পরামর্শে হাসিনার কেবিনেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ করা হয় অথর্ব সাহার খাতুনকে। বিদ্রোহের দিন কোনো তৎপরতা ছিলো না সাহারার। বরং সেনা অভিযান ও পিলখানায় র‌্যাব ঢোকার অনুমতি চাইলে সাহারা খাতুন ‘না’ করে দেন। বিকালে বিদ্রোহীদের সাথে করে প্রেস ব্রিফিং করে এই মন্ত্রী। অথচ ডিজি শাকিলের কোনো খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেননি। কারন সে সব জানত। বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার পরে রাতে তিনি পিলখানায় যেতে চাননি। বরং আইজি নূর মোহাম্মদ তার মেয়েকে পিলখানা থেকে উদ্ধারের জন্য একাই অভিযান চালাতে উদ্যত হলে ঠেলায় পরে সাহারা যান পিলখানায়, তাও প্রধানমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে। তিনি বিডিআর অফিসারদের পরিবার পরিজন উদ্ধার না করে কেবল আইজিপি নুর মোহাম্মদের কন্যাকে উদ্ধার করেন। অথচ বাকী পরিবার ঐ রাতের আঁধারে নির্যাতিত হয়। সাহারা খাতুনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টীমের এম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের এম্বুলেন্স পিলখানায় ঢুকে। এরপরে পিলখানার বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের ঐ এম্বুলেন্সে করে পিলখানার বাইরে নিরাপদ যায়গায় সরানো হয়। তখনও অনেক অফিসার আহত হয়ে পিলখানা নানাস্থানে লুকিয়ে ছিলো। কিন্তু সাহারা এদের উদ্ধার করেনি। কর্নেল এমদাদ, কর্নেল রেজা্, আফতাব ও কর্নেল এলাহীকে সাহারা পিলখানা ত্যাগ করার পরে হত্যা করা হয়।

পিলখানা ট্রাজেডিঃ উইকিলিকসের তথ্যঃ 

১১. শেখ সেলিম: শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ ঘটনায় সে ধরা পরেও রহস্যজনকভাবে বেঁচে যায়, কিন্তু তার ভাই শেখ মনি নিহত হয়। সেনাবাহিনীর ওপরে তারও রাগ ছিলো প্রচন্ড। তা ছাড়া ১/১১র পরে সেনারা ধরে নিয়ে যায়ে এই সেলিমকে, এবং ডিজিএফআই সেলে ব্যাপক নির্যাতন করে শেখ হাসিনার অনেক গোপন কথা, চাঁদাবাজি, বাসে আগুণ দেয়া সংক্রান্ত জবানবন্দী আদায় করে। এতে করে সেনাবাহিনীর ঐ সেটআপের উপর তার রাগ ছিল। বিডিআরের ঘটনার আগে বিদ্রোহী দলটি কয়েকদফা মিটিং করে শেখ সেলিমের সাথে। ১৩ ফেব্রুয়ারীতে শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় এ ধরনের একটি মিটিং হয় বলে সেনা তদন্তে প্রমান পাওয়া গেছে।

১২. সোহেল তাজ: স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ সেলিমের বাসায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে সোহেল যোগ দেয়। বিদেশী হত্যাকারীদেরকে নিরাপদে মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন ও আমেরিকায় পৌছানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সোহেল তাজকে। জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রচার করা ঘটনার সময় তাজ আমেরিকায় ছিল। এটি সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। সে সময়ে তাজ ঢাকায়ই ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে কয়েকজন হত্যাকারীসহ তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সে রাতেই তাজ ওসমানী বিমানবন্দর থেকে হত্যাকারীদের সাথে নিয়ে বিদেশের পথে যাত্রা করে। সেই হেলিকপ্টারের একজন পাইলট ছিল লেঃ কর্নেল শহীদ। যাকে পরে হত্যা করা হয়, টাঙ্গাইলে রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সাথে। এছাড়া বিমানের বিজি ফ্লাইট ০৪৯ দু’ঘন্টা বিলম্ব করে চারজন খুনী বিডিআরকে দুবাইতে পার দেয়া হয়। এ খবরটি মানবজমিন ছাপে ৩ মার্চ ২০০৯.

১৩. কর্নেল ফারুক খান: তিনি ছিলেন পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তের লক্ষে গঠিত ৩টি কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে। জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রথমেই তিনি ঘোষণা করেন, পিলখানার ঘটনায় ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত। এটা খাওয়ানোর জন্য সোবহান নামে এক লোককে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। পরে কুলাতে না পেরে সেখান থেকে সরে আসেন। সেনাবাহিনীর তদন্তে অনেক সত্য কথা উঠে আসলেও তা আলোর মুখ দেখেনি এই ফারুক খানের জন্য। ধামাচাপা দেয়া হয় মূল রিপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মূল রিপোর্ট বদল করে গোজামিলের রিপোর্ট তৈরী করান ফারুক খান।

১৪. হাজী সেলিম: লালবাগ এলাকার আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি। বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় তিনি খুনীদের রাজনৈতিক সাপোর্ট দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে হাজী সেলিম বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে, যা ভারতীয় খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঘটনার দিন দুপুরে হাজী সেলিমের লোকেরা বিডিআর ৪ নং গেটে বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল করে। ২৫ তারিখ রাতের আঁধারে পিলখানার বাতি নিভিয়ে দেয়াল টপকে সাধারন পোষাক পরে বিদ্রোহীরা লালবাগ এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায় হাজী সেলিমের সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করে। হাজী সেলিমের সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনগনকে সেখান থেকে সরিয়ে রাখে। একটি বেসকারী টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোর্টে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে, যাতে বলা হয় যে, বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু আওয়ামীলীগের কিছু কর্মীরা তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।

১৫. তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন: আওয়ামীলীগের ৪৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে এ্বই তোরাব আলী বিডিআর বিদ্রোহীদের পরিচয় করিয়ে দেয় এমপি তাপসের সাথে। মূল পরিকল্পনায় তোরাব আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্থানীয় লজিষ্টিক সম্বয় সাধনের জন্য। তার বাড়িতেও বিদ্রোহীদের মিটিং হয়েছে। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রের ডিলার। তার ছেলে সন্ত্রাসী লেদার লিটনের মাধ্যমে বিদ্রোহী বিডিআরদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে। এ সংক্রান্ত খরচাদি আগেই তাকে দেয়া হয়। উক্ত লিটনকে ২ মাস আগে তাপস ও নানক জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে। ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোটযোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয় লেদার লিটন।

১৬. মহিউদ্দিন খান আলমগীর: পিলখানার ঘটনার সময় এই সাবেক আমলা ও জনতার মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মখা মেতে উঠেন বিভৎস উল্লাসে। বার বার ফোন করে খোঁজ নেন বিদ্রোহীদের কাছে, এর অডিও রেকর্ড আছে। এমনকি নিহতদের লাশ গোপন করার জন্য এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুকুমদাতা ছিলেন তিনি। যার বদৌলতে তাকে পরে প্রমোশন দেয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতে।

১৭. হাসানুল হক ইনু: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্ধকার গলির নেতা। তিনি ১৯৭৫ সালে অনেক সেনা অফিসার হত্যা করেছেন কর্নেল তাহের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড থেকে। ১৯৭৫ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশে সংঘটিত সকল সামরিক অভ্যুত্থানে তার যোগসাজস রয়েছে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি তার ঘনিষ্ট বিডিআরদের ফোন করে হত্যায় উৎসাহ যুগিয়েছেন, এবং তাদের পরামর্শ দিয়েছেন কি করে লাশ গোপন করতে হবে।

৮ বছর হয়ে গেছে ৫৭ সেনা অফিসার সহ ৭৪ মানুষ হত্যার। বিডিআর বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সহায়তায় বিজিবি গঠন করা হয়েছে, যারা এখন বিএসএফের সাথে ভাগাভাগি করে ডি্উটি করে! কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে বিচারের প্যারেড করানো হয়েছে। জেল হয়েছে সবার। অন্যদিকে রাঘব বোয়লদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গায়েব করতে ৫৩ জন বিডিআরকে জেলখানার ভেতর পিটিয়ে হত্যা করে শাক্ষ্য, প্রমান মুছে ফেলা হয়েছে। তাপসের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেয়ায় পিলখানা মসজিদের ইমামকে পর্যন্ত গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

২৫ ফেব্রুআরির পিলখানায় নারকিয় সেনা হত্যাযঙ্গের কথা আজও ভুলতে পারেনি জাতি। হাসিনার তৈরি ডাল-ভাত বিদ্রহের আড়ালে কি সুপরিকল্পিত উপায়ে বাংলাদেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় ভারত ও আওয়ামী লীগ।

সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কিছু। কিন্তু শেখ হাসিনা সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে অনলাইনের কল্যানে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের গোপন কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, কারা পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করেছে।

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics General 02-December-2025 by east is rising

হাসিনা চুপ হইয়া গেছে দেখছেন?

তারে পলাইতে হইছে, ক্ষমতা তাসের ঘরের মতো ভাঈংগা গেছে—কিন্তু এত কিছুর পরও তার তেমন কষ্ট হয় নাই।

ক্ষমতা হারাইছে, তবু তার মন ভাঙে নাই। মৃত্যুদণ্ডের রায়ও তার বুকের ভেতর খুব বেশি দাগ কাটতে পারছে বলে মনে হয় নাই। কারণ এইসব জায়গায় সে আদতেই অনুভূতিহীন; তার রাজনীতি ছিল লোভ, ঈর্ষা আর প্রতিশোধ পরায়নতা দিয়া গড়া।

কিন্তু একটা জায়গায় সে পুরাপুরি ভাঈঙ্গা গেছে—খালেদা জিয়ার প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা দেইখ্যা।

খালেদা জিয়া আজকে যেই সম্মান, যেই মর্যাদা, যেই স্বতঃস্ফূর্ত জনমমতা পাইছেন—এইটাই হাসিনার অন্তরে সবচেয়ে বড় আঘাত। এই ভালোবাসা, এই জনশ্রদ্ধা, এই কালেক্টিভ পলিটিক্যাল সেলিব্রেশনের শক্তি—এই জিনিসটাই হাসিনা কোনোদিন পায় নাই, কোনোদিন পাইবেও না।

ক্ষমতা হারানোর তীব্র আঘাতও হাসিনা সামলাইতে পারে; কিন্তু খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের অটল বিশ্বাস—এইটা তার অহংকারের ভিতটাই নড়াইয়া দেয়।

সে বর্বর শক্তি দিয়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে পারে, রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারে, আদালতকে ইচ্ছেমতো চালাইতে পারে—কিন্তু মানুষের হৃদয় কাইড়া নেওয়ার ক্ষমতা তার নাই। সেই কারণে আজকে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষ যেভাবে ভালোবাসায় ভাসাইতেছে—এই দৃশ্যটাই হাসিনার জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয়।

এই পরাজয় রাজনৈতিক না—এইটা তার আত্মার পরাজয়।

তার পুরো ক্ষমতার মসনদ ভাঈঙা পড়লেও সে যতটা ব্যথা পায় নাই, খালেদা জিয়ার এই সম্মান—এইটাই তাকে ভিতরে ভিতরে ছারখার কইরা দিতেছে।

ইতিহাস একটা কথা খুব নির্মমভাবে মনে করায়ে দেয়—শক্তি দিয়া ক্ষমতা বানানো যায়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা দিয়া মর্যাদা বানানো লাগে। এই মর্যাদাই আজ হাসিনার সবচেয়ে বড় শত্রু-আর খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় বিজয়।

খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

ফটো কৃতজ্ঞতা Arch Sheehab / আর্ক শিহাব

Read More

Author: Pinaki Bhattacharya

Theoretical General 02-December-2025 by east is rising

Humanoid robots will take over factory jobs within 5 years & human workers will do creative things only: Xiaomi CEO

From: https://interestingengineering.com/ai-robotics/humanoid-robots-set-to-run-smart-factories?utm_source=facebook,twitter&utm_medium=social&fbclid=IwY2xjawOb4GFleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFqc3VrczlaM2NPNmx0aFVTc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHhcbdUsWslBtE1QR8sQhh1xXEamdATKpdLbd6SOu93iaoNGujqPKrPWsPem6_aem_VlpZiW-RkCJVUBb9W3wd7A

Xiaomi CEO Lei Jun has offered one of his strongest predictions yet about the future of manufacturing, telling Beijing Daily that the next five years will bring a major shift powered by artificial intelligence.

He said this change will not be gradual but rapid, with humanoid robots soon becoming central to how factories operate. These remarks coincide with China’s broader push for smarter, more advanced production systems as companies race to modernize aging industrial models.

Rapid automation is already taking hold

Lei highlighted the electric vehicle plant run by the tech giant as a clear sign of the transformation in progress. Large die-cast car parts usually require slow manual inspection, which often leads to mistakes.

He noted that no single company can build this market alone. Instead, he expects long-term growth to depend on partnerships and shared engineering platforms across the sector.

Robots set to enter Xiaomi’s factories

Looking ahead, he said Xiaomi will introduce humanoid robots across its production lines within five years. These robots will handle tasks now performed by workers, especially repetitive or precision-intensive steps that benefit most from automation.

According to the CEO, “And this is only the first step.” He expects domestic robots for households to become an even larger market. These home systems will require higher performance and face far more complex everyday activities than factory units.

He also said these upgrades free human workers to take on more advanced roles in planning, design, and engineering development. As humanoid robots take over physical labor, employees will shift toward tasks that require creativity and technical decision-making.

This aligns with China’s national roadmap for modernizing manufacturing using AI, robotics, and smart factory systems.

Beijing’s role in the next industrial upgrade

Lei also discussed the importance of Beijing in advancing intelligent manufacturing. He urged the city to avoid older methods that depend on low-cost labor.

Instead, he encouraged investment in next-generation systems that use automation and digital tools to strengthen industrial competitiveness. He said smart production is the key to Beijing securing long-term leadership in modern industry.

The tech firm’s strategy reflects this direction. The company is putting significant resources into AI development, robotics testing, and factory upgrades. Lei said the next five years will be decisive. Humanoid robots, inspection AI, and interconnected factory systems will become core parts of Xiaomi’s production network.

Read More

Author:

Technology news General Socialism Communism Xi Jinping Mao USSR China 02-December-2025 by east is rising

Chinese Can Now Enter Russia Without Visa

Russia has officially opened its borders to Chinese citizens without requiring a visa, following a new order signed by President Vladimir Putin.

The policy allows Chinese tourists, business travellers, artists, academics, and professionals to visit Russia for up to 30 days.

The move is part of a growing diplomatic and economic partnership between the two countries and is expected to boost tourism, trade, and cultural exchange in 2026.

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics General Unipolar vs Multi-polar 02-December-2025 by east is rising

10G Internet Launched In China

China has launched its groundbreaking 10G ultra-fast broadband, delivering speeds 10 times faster than today’s regular gigabit networks. Users can now download a 4K movie in under 20 seconds — something that once felt impossible at home.

In a groundbreaking move for global digital infrastructure, China launched the world's first commercial 10G network in Sunan, Hebei Province. This ambitious project is the result of a collaboration between China Unicom and Huawei, a joint venture aimed at propelling China to the forefront of the international telecommunications landscape.

This next-gen network is already active in major tech hubs like Beijing, Shanghai, Shenzhen, and Hangzhou, supporting everything from AI computing and cloud gaming to smart cities and lightning-fast streaming.

With near-zero lag and the ability to connect thousands of devices at once, China is giving the world a first look at the future of digital connectivity — a shift set to transform how we live, work, and innovate online.

The new network boasts download speeds of up to 9,834 Mbps and upload speeds of approximately 1,008 Mbps, with a low latency of less than 3 milliseconds. These speeds, once almost unimaginable, are no longer just theoretical figures, but a tangible reality promising a radical change in how individuals and organizations use the internet.

What's remarkable is that this phenomenal speed doesn't require major infrastructure changes. The network relies on 50G PON technology, a passive optical network that doubles the data transmission speed of current fiber optics, making it more efficient and less expensive to scale up and deploy. Thus, access to applications that were until recently the preserve of advanced laboratories, such as virtual reality, remote surgery, 8K live streaming, and home and factory automation via the Internet of Things, is rapidly expanding.

To estimate the magnitude of this leap, consider a simple download: downloading a 20GB 4K movie, which previously took 7 to 10 minutes on a 1G network, now takes less than 20 seconds on the new 10G network. The difference isn't just in time, but in philosophy: the philosophy of moving from "waiting" to "instantaneity."

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Technology news General 02-December-2025 by east is rising

AI Studies Now Mandatory For Every Chinese Student

China plans to teach artificial intelligence in every school to build a skilled future workforce. Students will learn basic coding, data skills, and simple machine learning tasks. This move aims to prepare children for a tech driven economy. Researchers at Tsinghua University report that early exposure improves problem solving and digital readiness.

The curriculum expands nationwide as part of a long term strategy to strengthen innovation. Teachers receive new training programs and local labs develop age appropriate tools. Analysts say this shift will influence how fast the next generation adapts to advanced technology.

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

Technology news General Socialism Communism Xi Jinping Mao USSR China 02-December-2025 by east is rising

Russia To Sell Its Yuan Denominated Domestic Bonds

Russia set to sell its first Yuan-denominated domestic bonds, beginning next week.

Russia is the largest economy yet to begin selling yuan-denominated bonds, marking a severe blow to the dollar's power.

Source: Russian Foreign Ministry

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics General Unipolar vs Multi-polar 02-December-2025 by east is rising