বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ চীনকে বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে এবং ‘এক চীন নীতি’র প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, CEIZ-এ প্রায় ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক ১ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, বাংলাদেশ–চীন–মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি নিয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে আগামী অক্টোবর মাসে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
সাম্প্রতিক এই উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঢাকা -বেইজিং সম্পর্ক এখন অর্থনীতি ও বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে কূটনৈতিক, কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বার্তা এসেছে সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীনা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি।
রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (CEIZ) অন্তত ৩০টি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের অগ্রগতির বিষয়গুলোও বৈঠকে তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এর মধ্যে রয়েছে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতা।
আরও যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে
বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া
বাংলাদেশে সৌরশক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সহযোগিতা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করা
প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘টু প্লাস টু’ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ
চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে সহযোগিতা
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আশা প্রকাশ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, বিনিয়োগ, শিল্প, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, জ্বালানি, পরিবহন ও কূটনৈতিক সহযোগিতা—বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ সামনে এসেছে। আর ৩০টি চীনা কোম্পানির সম্ভাব্য বিনিয়োগের সঙ্গে প্রায় ১ লাখ কর্মসংস্থানের যে প্রত্যাশা জানানো হয়েছে, তা বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার কী মনে হয়, এই বিনিয়োগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য কোন খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে? কমেন্টে জানাতে পারেন।