মক্কা চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন পরবর্তী নিরাপত্তা বেষ্টনী

মক্কা জোট মূলত পোস্ট মার্কিন বা মার্কিন পরবর্তী নিরাপত্তা বেষ্টনঈ। আগে মার্কিন ঘাটিগুলোকে ডিটারেন্ট ভাবা হতো।  অর্থাৎ মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হলে, মার্কিন সেনা লড়াই করতে আসতে বাধ্য আর সেই ভয়ে মার্কিন ঘাঁটি থাকা অঞ্চলে কেউ আঘাত হবেনা। কিন্তু ইরানের মিসাইল ও চীনের স্যাটেলাইট ও রুশ প্রযুক্তির সামনে ডিটারেন্ট ঘাঁটি গুঁড়িয়ে গেছে। মার্কিন হামলা ইরান বা হুতিদের বিরুদ্ধে অকার্যকর হিসেবেই প্রমাণ হয়েছে। অর্থাৎ মার্কিন ঘাঁটি আর ডিটারেন্ট হিসেবে কাজ করবেনা।

এটাই পশ্চিম এশিয়ার পোস্ট মার্কিন বা মার্কিন পরবর্তী রিয়েলিটি যার ফলে মার্কিন পরবর্তী নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মক্কা চুক্তি সেই উদ্যেশ্যে গঠিত। মক্কা চুক্তির লক্ষ্য মার্কিনিদের অবর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখা। তাই এই চুক্তিতে কেবল তারাই থাকবে যারা মার্কিন ক্যাম্প ও চীনা ক্যাম্প দুজনের কাছেই ভরসাযোগ্য। ইরান চীনা ক্যাম্পের আর ইসরায়েল মার্কিন ক্যাম্পের। তাই এরা মক্কা চুক্তিতে থাকবেনা। থাকবে পাকিস্তান তুর্কিয়ে সৌদি এবং এমন সমস্ত দেশ যাদের চীন ও মার্কিন দুই তরফই বিশ্বাস করে বা কম করে চরম অবিশ্বাস করেনা।

মনে রাখা দরকার সমগ্র বিশ্বই চীনকে প্রধান উৎপাদক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্কে প্রধান ক্রেতা ও ব্যাংক মনে করে। তাই অধিকাংশ ছোট দেশই চীন ও মার্কিন উভয়কেই হাতে রাখতে চায়। এখন মার্কিন ঋণ তার উৎপাদনের তুলনায় বেড়ে গেছে বলে তার পক্ষে বিশ্বের ক্রেতা ও ব্যাংক হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। চীনের উৎপাদন এতই বেড়েছে যে সে এবার নিজেই একটা বিশ্বের ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করতে পারে। আর তার সাথে বিশ্ব থেকে ক্রয় করাও বাড়াতে পারে। অর্থাৎ চীনের মুদ্রার প্রচলন বিশ্ব জুড়ে বাড়াতে হবে আর মার্কিন ডলারের প্রচলন কমাতে হবে। এর সলিউশন প্রয়াত হেনরি কিজিনজার সাহেব ২০১৮ সালে বলে গেছেন: চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব ভাগাভাগি করত জে ডি ভ্যান্স ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই বলেন মার্কিন সরকার চীন ও রাশিয়ার সাথে মিলে বিশ্ব নিরাপত্তা দেখবে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা বা ইরান আক্রমণ করেছে চীনের সঙ্গে দর কষাকষিতে সুবিধে নিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলছে পশ্চিম গোলার্ধ আমেরিকার: অর্থাৎ পূর্ব গোলার্ধে আমার শেয়ার কমাতে রাজি।

পশ্চিম এশিয়ায় মক্কা জোট সেরকমই একটা উদ্যোগ যেখানে মার্কিন স্পেস ছাড়ছে কিন্তু চীন এসে দখল নিচ্ছেনা বরং একটা নিউট্রাল শক্তি আসছে। মক্কা চুক্তির কাজ হল এটা দেখা যে ইরান ও অন্যান্যদের যুদ্ধ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, ইরান বা ইসরাইলকে একটা স্থিতাবস্থায় রাখা এবং চীন রাশিয়া ও মার্কিন উভয়ের সাথেই দ্বন্দ্বে না যাওয়া। ইরানকে কূটনীতি দিয়ে বাগে রাখা এবং ইসরাইলকে আবার ইরানি শক্তি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই মক্কা জোট কতটুকু সফল হবে তা পরে বোঝা যাবে কিন্তু এইটুকু পরিস্কার যে মার্কিন আধিপত্য পশ্চিম এশিয়ায় শেষ। 

জাপান পূর্ব এশিয়াতে ফিলিপিন্সকে নিয়ে এরকমই উদ্যোগ নিতে চায় যা চীনের অপছন্দের। কারণ পূর্ব এশিয়া চীনের একদম কাছে, সেখানে নিউট্রাল নিরাপত্তা বেষ্টনী চীনের অপছন্দের। যেমন পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন ক্ষমতা হোক একচেটিয়া এমনটাই স্বপ্ন মার্কিনিদের। পশ্চিম এশিয়া বা আফ্রিকা নিউট্রাল বডির হাতে গেলে মার্কিন চীন কারোরই সমস্যা নেই, বরং লাভ। চীন খুশি মার্কিন স্পেস কমায় আর মার্কিন খুশি চীনের দখলে না যাওয়ায়।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া চীনের দিকেই ঝোঁকা কিন্তু চরম মার্কিন বিরোধীও নয়। দক্ষিণ এশিয়াতেও চীন একচেটিয়া আধিপত্য চায় আর তাই ভারতের লাদাখ কাশ্মীর অরুণাচল ভারতের অংশ বলে মানে না। কাশ্মীর স্বাধীন বা পাকিস্তানের বলে আর লাদাখ ও অরুণাচল চীনের বলে দাবি করে। এছাড়াও ভারতকে ব্রিটিশ রেলপথ দিয়ে জোড়া 38 টা দেশ মনে করে। অর্থাৎ ভারত জাতি রাষ্ট্র ব্রিটিশ নির্মাণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই তাদের দালাল ভারতের শাসক শ্রেণি গুজরাটি হিন্দিদের দক্ষিণ এশিয়ায় শাসক হিসেবে চায়। তাই পশ্চিম এশিয়ার পরে একটা মার্কিন চীন দ্বৈরথ হোতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়াতে। 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics General world order 13-September-2026 by east is rising