Global Times
The global landscape of Large Language Models (LLM) token requests has witnessed a dramatic one-year reversal:
Chinese models jumped from 17% to 47% to become the world's top origin, while the US share fell from 72% to 33%, marking a fundamental realignment of global AI adoption.
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
Technology news General USA vs China 06-July-2026 by east is risingShafin Rahman
বাংলাদেশ চীনা যুদ্ধবিমান পাবে কিনা, কখন পাবে কিংবা চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর কতটুকু বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে— এ সবকিছুই নির্ভর করছে দুটো বিষয়ের উপর।
১. চীন তাইওয়ানের ব্যাপারে কতটা সিরিয়াস
২. বাংলাদেশ ভারত এবং জাপানকে এমন কোনো কৌশলগত স্থানে এক্সেস দিচ্ছে কিনা যা চীনা স্বার্থের পরিপন্থী।
চীন যদি তাইওয়ানের ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম বাধা এই অঞ্চলে ভারত এবং জাপান। কারণ তাইওয়নকে কেন্দ্র করে চীনা কার্যক্রম শুরু হলে সর্বপ্রথম শ্যাডো বা কাভার্ট রেসিস্ট্যন্স গড়ে তুলবে জাপান, আর সেই রেসিস্ট্যন্সের এক্সিকিউশন হবে ভারতের মাধ্যমে।
জাপান বর্তমানে তাদের ইন্ডিজেনাস টেকনোলজিতে বেশকিছু সফিস্টিকেটেড ওয়েপন তৈরী করতে শুরু করেছে। যেগুলি তারা ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনে রপ্তানিও করতে চায়। তাই চীনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে জাপানের ভৌগলিক সীমারেখার বাইরে তাদের মার্কিন নের্তৃত্বাধীন স্বার্থকে সীমাবদ্ধ করা এবং ভারতকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলা।
এই অঞ্চলে মার্কিন কৌশলটি ছিল: চীনকে একাধিক দিকে মনোযোগ ভাগ করতে বাধ্য করা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উলটো ভারতই হয়তো মনোযোগ বিভক্ত করতে বাধ্য হবে। উত্তরে চীন, পশ্চিমে পাকিস্তান এবং পূর্বে বাংলাদেশ— ভারতের মনোযোগ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে দিতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের নীতি, কৌশল, সামরিক সক্ষমতা এখন আর একীভূত নয়।
এদিকে সর্বশেষ ইন্দো প্যাসিফিক কমান্ড এর নাম পুনরায় ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড'-এ শিফট হওয়ার ফলে ভারত ২০১৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আঞ্চলিক বন্ধু হওয়ার যে সুনাম ও গুরুত্ব কুড়িয়েছিল— তা মুহূর্তেই উবে গেছে। এই ঘটনা ভারতের সক্ষমতাকে বিভক্ত করার চীনা পরিকল্পনার পালে বরং জোর হাওয়া দিয়েছে।
ইন্দো প্যাসিফিক কমান্ড থাকাকালীন এর এরিয়া অফ রেসপনসেবলিটি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে একেবারে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কিন্তু এখন 'ইন্দো' শব্দটি বাদ পড়ে যাওয়ায় এরিয়া অফ রেসপনসেবলিটিও সংকুচিত হয়ে এসেছে।
ভারত যতক্ষণ এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের বিস্তার সাউথ এশিয়া জুড়ে ছিল। কিন্তু এখন এটা শুধুমাত্র সাউথইস্ট এবং ইস্ট এশিয়া কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যার সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ফিলিপাইন।
সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ক চীনা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক “সাউথ চায়না সি স্ট্র্যাটেজিক সিচুয়েশন প্রোবিং ইনিশিয়েটিভ”— (SCSPI) জানাচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্র Enhanced Defense Cooperation Agreement (EDCA) এর আওতায় ফিলিপাইনে নতুনভাবে আরো চারটি সামরিক ঘাটি বৃদ্ধি করেছে, যা দক্ষিণ চীন সাগরের আটটি সরু প্রণালির একটি ‘লুজান প্রণালী’র বেশ নিকটবর্তী। এই লুজন প্রণালীই আবার ফিলিপাইন এবং তাইওয়ানকে যুক্ত করেছে। অর্থাৎ বৃদ্ধিকৃত চারটি সামরিক ঘাটি এখন তাইওয়ানকে রক্ষায় ‘ফরোয়ার্ড বেস' হিসেবে কাজ করবে।
এর আগে ২০১৪ সালে EDCA অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিলিপাইনের পাঁচটি সামরিক ঘাটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এইগুলি হলো: পাম্পাঙ্গার বাসা এয়ারবেস, নুয়েভা এসিজার ফোর্ট এয়ারবেস, ম্যাগসাইসাই এয়ারবেস, পালাওয়ানের আন্তোনিও বাউতিস্তা এয়ারবেস, সেবুর মাকতান-বেনিতো এবুয়েন এয়ারবেস এবং কাগায়ান দে ওরোর লুম্বিয়া এয়ারবেস।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইন এই পরিকল্পনা ঘোষণা করে যে, মার্কিন বাহিনী দ্বারা বিনিয়োগকৃত ও স্থাপিত পূর্বের পাচটি ঘাটির পাশাপাশি তারা আরও চারটি নতুন ঘাটি স্থাপন করবে। এপ্রিলে ফিলিপাইন এই চারটি অতিরিক্ত ঘাটির অবস্থান ঘোষণা করে। সেগুলি হলো: কাগায়ানের ক্যামিলো ওসিয়াস নেভাল বেস ও লাল-লো এয়ারপোর্ট, ইসাবেলার ক্যাম্প মেলচর দেলা ক্রুজ এবং পালাওয়ানের বালাবাক আইসল্যান্ড।
সম্প্রতি সেই ঘাটিগুলির কাজ শেষ হয়েছে এবং ঘাটিগুলিতে অস্ত্র মজুদের কাজও শুরু হয়েছে। যেমন: হিমার্স (HIMARS), টাইফুন (Typhon) এবং এনএমইএসআইএস (NMESIS) ইন্টারসেপ্টরের মতো মিসাইল সিস্টেমগুলি একের পর এক এসে পৌছাচ্ছে এবং বলা হচ্ছে যে ফিলিপাইনে মার্কিন উপস্থিতি এখন একটি স্থায়ী সামরিক উপস্থিতির সমতুল্য।
সুতরাং আমরা বুঝতে পারছি যে, ভারতের হাত ধরে এই অঞ্চলে চীনকে প্রতিরোধের স্বপ্ন আর দেখছেনা যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ভারতকে এখন আর Trustworthy Strategic Partner'ও ভাবছেনা। যুক্তরাষ্ট্র তার মিলিটারি অ্যাসেট সম্পূর্ণ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কেন্দ্রিক করে ফেলতে শুরু করেছে। এমনকি ভারতের অংশীদারত্বে কোয়াড নামক কৌশলগত সংগঠনটিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আর অন্যদিকে চীন জোটনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে একটা টোপ দিয়ে বলতে চাচ্ছে 'Either you have to be one hundred percent with us, or one hundred percent against us. There is no gray zone’
বাংলাদেশ যদি চীনা স্বার্থের জায়গাগুলিতে ভারত এবং জাপানকে এক্সেস না দেয়, দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে— তবে চীন থেকে অনেক কিছুই বের করা আনা সম্ভব হবে।
Read More International geopolitics General world order 06-July-2026 by east is risingগত মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ করেছে। পেন্টাগন দাবি করেছে, এটি কেবল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, অর্থাৎ আগের নামে ফিরে যাওয়া এবং এর আওতাধীন এলাকা একই রয়ে গেছে। কিন্তু ভূ-রাজনীতির প্রাথমিক পাঠই আপনাকে বলে দেবে, নাম কখনোই কেবল নাম নয়। এগুলো হলো এক ধরনের সংকেত, অবস্থান এবং সুসংহত কৌশল। আগামী দিনগুলোতে কূটনীতি এবং সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোথায় নজর দিতে হবে, এগুলো তা-ই বলে দেয়।
২০১৮ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সুপরিকল্পিতভাবে নয়াদিল্লির প্রতি সম্মান জানাতে ‘ইন্দো’ শব্দটি যুক্ত হয়েছিল। এর মাধ্যমে আমেরিকা মূলত বোঝাতে চেয়েছিল—দ্বিমেরু বিশ্বে চীনই হলো প্রধান চ্যালেঞ্জ, ভারত হলো এর অপরিহার্য গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি এবং ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর মূলত একটি অখণ্ড কৌশলগত অঞ্চল।
তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সেসময় উল্লেখ করেছিলেন যে, এই নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ভারতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান যোগসূত্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘বলিউড থেকে হলিউড এবং পেঙ্গুইন থেকে মেরুভল্লুক পর্যন্ত।’ এখানে শেষাংশ দিয়ে মূলত দক্ষিণ মেরু থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা বোঝানো হয়েছে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তা আর নেই। ‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ পড়েছে। এই প্রতীকী বিষয়টি দ্রুতই সবার নজরে পড়েছে। এই নাম পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের এমপি শশী থারুর এক্সে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘কোয়াডের (Quad) কফিনে কি আরও একটি পেরেক ঠোকা হলো?’
তবে এই পদক্ষেপটি দক্ষিণ এশিয়ার জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াশিংটন নীরবে এমন এক যুগের অবসানের ঘোষণা দিচ্ছে, যে যুগে ভারতকে এই অঞ্চলে আমেরিকার অঘোষিত ‘সাবকন্ট্রাক্টর’ বা উপ–ঠিকাদার হিসেবে ধরা হতো। বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এই পরিবর্তনের পথ সুগম করেছে।
বছরের পর বছর ধরে, উপমহাদেশের ক্ষেত্রে আমেরিকার মানসিক মানচিত্রে ভারতের নামই বড় অক্ষরে (বোল্ড ফন্ট) লেখা ছিল। পাকিস্তান ছিল তাদের কাছে একটি মাথাব্যথা। বাংলাদেশ ছিল একটি তৈরি পোশাক কারখানা ও উন্নয়ন প্রকল্পের নাম। নেপাল ছিল হিমালয়ের একটি বাফার ওয়াল বা প্রতিরোধক দেয়াল, যা নিয়ে নয়াদিল্লির সাথে আলোচনার পরই কথা বলা শ্রেয় বলে মনে করা হতো। তাত্ত্বিকভাবে ছোট প্রতিবেশীরা স্বাধীন হলেও, বাস্তবে তাদেরকে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ভাড়াটিয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।
সেই মানচিত্রটি এখন রিয়েল টাইমে নতুন করে আঁকা হচ্ছে। এমন এক নতুন ও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবর্তনশীল দক্ষিণ এশিয়ার উদ্ভব হচ্ছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এবং আরও ঘনিষ্ঠভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং নেপালের সাথে যুক্ত হচ্ছে—ভারতের আঞ্চলিক নীতির গৌণ বা পশ্চাৎ-চিন্তা হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব সামর্থ্য, সম্পদ এবং স্বার্থ নিয়ে গড়ে ওঠা স্বতন্ত্র নিয়ামক হিসেবে। যে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনের মতোই, মাঝখানের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালটাকে সরিয়ে দেওয়াটা দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক।
এই দেশগুলো এখন অবশ্য স্নায়ুযুদ্ধ আমলের মতো মিত্র হয়ে উঠছে না। তারা হয়ে উঠছে আরও আধুনিক এবং বহুমেরু বিশ্বে আমেরিকার জন্য নানা দিক থেকে আরও বেশি কার্যকর কিছু—‘লেনদেনভিত্তিক অংশীদার’ (Transactional partners)। যারা স্বার্থের মিল থাকলে একে অপরকে সহযোগিতা করবে, পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, ভারত বা অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে লেনদেনের স্বাধীনতাও বজায় রাখবে।
কিছু ভারতীয় স্ট্র্যাটেজিস্ট যুক্তি দিয়েছেন, এই ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টি আমেরিকাকে ভারতের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীতেও পরিণত করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন কর্মকর্তারা ক্রমবর্ধমানভাবে ভারতকে কেবল কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছেন না, বরং একটি উদীয়মান বাণিজ্যিক প্রতিযোগী হিসেবেও দেখছেন, যাদের ফার্মাসিউটিক্যালস, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে এগিয়ে যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা একদিন হয়তো মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সোভিয়েত-পরবর্তী আমেরিকার একমেরু আধিপত্যের উচ্ছ্বাসের যুগে চীনের সঙ্গের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে—যাকে বাণিজ্যবাদীরা মার্কিন স্বার্থের বিনিময়ে চীনকে অসমভাবে লাভবান করার যুগ বলে মনে করেন—যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের ক্ষেত্রেও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে নারাজ।
আরও ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, ওয়াশিংটন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতসহ যেকোনো একক শক্তির আধিপত্য বিস্তার রোধ করতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে, এবং তারা সক্রিয়ভাবে একটি বহুত্ববাদী আঞ্চলিক ভারসাম্য তৈরি করছে। আমরা আসলে যা দেখছি তা হলো ভারতের আঞ্চলিক ভেটো ক্ষমতার অবসান। ওয়াশিংটন এখন দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি রাজধানীকে নয়াদিল্লির ব্রাঞ্চ অফিস হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধ করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেইজিংয়ের সাথে বেছে বেছে সম্পর্ক সমন্বয়ের (selective accommodation) পথে হাঁটছে, একটি অনুগত সরকার হারানোর বিষয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণে সমর্থন দিচ্ছে, নেপালের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং মিয়ানমারে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাকে ভারত সরকার তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য জটিলতা সৃষ্টিকারী বলে মনে করে।
এই পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত হলো পাকিস্তান। কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক প্রায় একচেটিয়াভাবে সন্ত্রাসদমন-কেন্দ্রিক একটি অকার্যকর চক্রে আটকে ছিল। কিন্তু ইসলামাবাদ তাদের ‘কূটনৈতিক মাধুর্যের’ (charm offensive) মাধ্যমে সফলভাবে এই সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পাকিস্তানকে উপসাগরীয় পুঁজি, আমেরিকান প্রযুক্তি এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনীতিগুলোর জন্য কৌশলগত খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের মধ্যে একটি কৌশলগত সংযোগ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। রেকডিকের তামা এবং সোনার খনিসহ সম্ভাব্য ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল মজুত নিয়ে পাকিস্তান চীন-নিয়ন্ত্রিত সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে সামরিক-নেতৃত্বাধীন সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তান তাদের জন্য অনুকূল ১৯ শতাংশ শুল্ক সুবিধা আদায় করেছে এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করতে পেরেছে। পাকিস্তান চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি খনিজ সম্পদ, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে পারে।
১৭ কোটি জনসংখ্যা এবং বঙ্গোপসাগরের বুকে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আরও বেশি আকর্ষণীয়। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অস্থিতিশীল মিয়ানমারের কাছাকাছি অবস্থিত এই দেশটি একটি শক্তিশালী উৎপাদন কেন্দ্র। দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটন মূলত উন্নয়ন সহায়তা অথবা ভারতের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের দৃষ্টিকোণ থেকেই একে দেখে এসেছে।
বর্তমানে, আরও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ একদিকে মার্কিন বিনিয়োগ, জ্বালানি চুক্তি এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব অনুসরণ করতে পারে, অন্যদিকে চীনের সরঞ্জাম কেনা ও ভারতের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য মানবিক হস্তক্ষেপে নেতৃত্ব বা সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে (সম্ভাব্যত জাতিসংঘের মাধ্যমে বা মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চাপে), যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান চীন-ভারত-মিয়ানমার ঐক্যকে মোকাবেলা করতে পারে, তার ‘ভারত প্রথম’ (India first) নীতি থেকে সরে আসার পর ঢাকায় প্রভাব পুনর্গঠন করতে পারে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারে।
ভারতের সাথে সম্পর্ককে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে এবং তাকে একটি অনানুষ্ঠানিক ভেটো ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে, ওয়াশিংটন এমন একটি স্তরভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছিল যেখানে ভারত ছিল সবার ওপরে। ওয়াশিংটন চীনের একটি ভারসাম্যকারী শক্তি পাওয়ার জন্য এতটাই উদগ্রীব ছিল যে, তারা মাঝে মাঝে অংশীদারিত্বকে বশ্যতা বা আনুগত্যের সাথে গুলিয়ে ফেলত। প্যাসিফিক কমান্ড নামটি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সেই যুগের স্বাভাবিক সমাপ্তি ঘটেছে।
এর মানে এই নয় যে ভারতকে দরজা দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে—বরং তাকে কেবল অন্যদের সাথে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন এখনও দিল্লির বাজার সক্ষমতা, ব্লু-ওয়াটার নৌবাহিনী (গভীর সমুদ্রে সক্ষম নৌবাহিনী) এবং কোডিং মেধাকে কাজে লাগাতে চায়, তবে আবেগের জায়গা দখল করছে একটি বাস্তবসম্মত, বিষয়ভিত্তিক অংশীদারিত্ব। দক্ষিণ এশিয়া এখন এক সরগরম বাজারে পরিণত হচ্ছে যেখানে রাজধানীগুলো বিষয়ভিত্তিক চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে: বেইজিংকে খুশি রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে খনিজ সম্পদ বিনিময় করছে; আর বাংলাদেশ অন্য কারও দরজা বন্ধ না করেই মার্কিন সম্পৃক্ততা গ্রহণ করছে। এই ঘূর্ণায়মান পরিস্থিতি আমেরিকার বিকল্পগুলো বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ভারতকে তার আঞ্চলিক ভেটোর বদলে প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব দিয়ে বন্ধু জয় করতে বাধ্য করছে।
পেন্টাগন যখন প্যাসিফিক কমান্ড থেকে ‘ইন্দো’ শব্দটি ছেঁটে ফেলেছিল, তখন তারা মূলত বাস্তবে দৃশ্যমান একটি পরিবর্তনের ওপরই সিলমোহর দিয়েছিল: উপমহাদেশটিকে এখন আর ভারতের স্বাক্ষরিত কোনো বিশাল ম্যুরাল বা চিত্রকর্ম মনে হয় না, বরং এটি এখন একটি মোজাইকের মতো। বর্তমান বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তারই থাকে, যে একসাথে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সম্পর্ক দক্ষতার সাথে সামলাতে পারে, আর ভিড়ে ঠাসা এই দাবাবোর্ডে এটাই হলো নতুন খেলা।
©আল জাজিরায় লেখা Nazmus Sakib Nirjhor ভাইয়ের অপিনিয়নটি এআই–এর সহায়তায় অনূদিত
Read MoreAuthor: Saikat Bhattacharya
International geopolitics General world order 06-July-2026 by east is rising