এই মেয়ের নাম রোজিনা লাজকানি। সে একজন মডেল, অভিনেত্রী, টিভি সেলিব্রেটি। এবং বর্তমানে সে সিরিয়ার পার্লামেন্ট মেম্বার।
নাহ, জনগণের ভোট পেয়ে সে পার্লামেন্ট মেম্বার নির্বাচিত হয়নি। তাকে নিয়োগ করেছে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা নিজে!
প্রশ্ন হচ্ছে, সাবেক জিহাদি নেতা আহমেদ আল-শারা কেন এরকম একজন বেপর্দা নারীকে নিজে নিয়োগ করতে গেল?
বেপর্দা বলতে কিন্তু শুধু কথার কথা না। এখানে যেই ছবিটা দেখছেন, এটা হচ্ছে তার সবচেয়ে শালীন ছবিগুলোর মধ্যে একটা।
উত্তরটা হচ্ছে, যেটা আমি গত দেড় বছর ধরে বলছি - আহমেদ আল-শারার প্রায়োরিটি হচ্ছে আগে দেশ রিবিল্ড করা। দেশের ঐক্য ধরে রাখা।
এবং সেজন্য সমাজের ধার্মিক-অধার্মিক, লিবারেল-সেক্যুলার সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করা। শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করা এই মুহূর্তে তার প্রায়োরিটি না।
ক্ষমতায় আসার পর আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার যে নতুন পার্লামেন্টারি সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখানে মোট সদস্য সংখ্যা ২১০।
এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসবে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে জটিল একটা সিলেকশন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে। আর এক তৃতীয়াংশ বা ৭০ জনকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করবে।
সাধারণ ধারণা ছিল, প্রেসিডেন্টের নিয়োগ করা এই ৭০ জন হবে তার অত্যন্ত অনুগত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে এই ৭০ জনের মধ্যে ১৫ জন বা ২১ পার্সেন্টই নারী। এবং এদের মধ্যে অনেকেই লিবারেল-সেক্যুলার।
কেন?
কারণ প্রেসিডেন্ট এখানে একটা ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। ইনক্লুসিভ একটা পার্লামেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করেছে।
যেহেতু ১৪০ জনের মধ্যে পুরুষরা এবং রক্ষণশীলরা বেশি নির্বাচিত হয়েছে, তাই প্রেসিডেন্ট নিজে নারীদেরকে এবং লিবারেল-সেক্যুরালদেরকে নিয়োগ করে সেখানে একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে।
সিরিয়ার যে আন্দোলন পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে, সেটাতে পরবর্তীতে ইসলামপন্থীরা প্রধান ভূমিকা পালন করলেও বিদ্রোহের শুরুর দিকে সেক্যুলাররাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। রোজিনাও বাশারের বিরুদ্ধে সোচ্চারদের মধ্যেই একজন ছিল।
তাদেরকে যদি নতুন সিস্টেমে অংশীদার না করা হয়, তাদেরকে এলিয়েনেট করে রাখা হয়, সেটা দেশের ঐক্যের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। সিরিয়া সামনে এগোতে পারবে না।
সেজন্যই নিজে সাবেক জিহাদি হওয়া সত্ত্বেও, জিহাদিরা অসন্তুষ্ট হবে জেনেও আহমেদ আল-শারা দুইদিন পরপরই এই ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
@ মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা