২০৪০ কেমন হবে?

অনেকেই বলেছে আমার ভুরাজনীতি নিয়ে ৯০% প্রেডিকশন মিলে যায়।

যারা আমাকে ২০০৮ থেকে চেনে তারা বলে আমার বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও পুরুষবাদ নিয়ে প্রেডিকশনও মিলে গেছে। এনারা অনেকেই আমাকে ২০৪০ নিয়ে প্রেডিক্ট করতে বলেছে।

তবে ঠিকঠাক প্রেডিক্ট করতে পারার একটা কারণ আমি নয়া ধ্রুপদী বাদী অর্থনীতি (যেটা কিনা অর্থনীতির ছাত্রদের সমস্ত ইউনিভার্সিটি গুলো পড়ায়) এবং মার্কসবাদী অর্থনীতি দুটোই খুব ভালোভাবে পড়েছি (যদিও মার্ক্সবাদী অর্থনীতি কোনও বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্সের ইলেকটিভ সাবজেক্ট ছাড়া আলাদা করে পড়ায় না, ফলে নিজেকে আলাদা করে ঠিক মতো করে পড়তে হয়)।

এই জন্য সাধারণ অর্থনীতিবিদের থেকে আমার অর্থনীতি বোঝার ক্ষমতা এবং প্রেডিক্ট করার ক্ষমতা অনেক বেশি। চীনের অর্থনীতিকে বুঝতে এই কারণেই আমার অনেক সুবিধা হয়েছে।

অর্থনীতি ভূগোল ইতিহাস গেম থিওরি এবং সমর বিজ্ঞান ঠিক মতো ব্যবহার করলে ভূরাজনীতি ঠিকঠাক প্রেডিক্ট করা যায়। আমি সমর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গতি বুঝতে শিখেছি ২০১৭ এর পরে।

তবে এখন প্রাচুর্য ও নারী স্বাধীনতার যুগে আমি মনে করি যৌন যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। যদি ভুরাজনীতি এবং আঞ্চলিক রাজনীতিকে ঠিকঠাক প্রেডিক্ট করতে হয়। নারী যৌনতা দেওয়ার মূল্য অত্যন্ত বেশি করে দিয়েছে। আর তা সাধারণ পুরুষকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যৌনতা থেকে বঞ্চিত করছে। এর পরিণতি হবে একদিকে গৃহযুদ্ধ (বিশেষ করে ভারতের মতো অনুন্নত বহু জাতির দেশগুলোতে) এবং অন্য দিকে যৌন রোবট, গর্ভ ধারণের রোবট ও ভার্চুয়াল যৌনতা জনপ্রীয় হতে শুরু করবে উন্নত বিশ্বে।

অর্থনীতির দিক দিয়ে দেখতে গেলে চীনের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সামনে পশ্চিমের পুঁজিবাদী অর্থনীতিগুলো দাঁড়াতেই পারবে না। পশ্চিমের কোন কোন দেশ (যেখানে সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণী অত্যন্ত শক্তিশালী) হয়তো পরিকাঠামো খাতে রাষ্ট্রের গুরুত্ব বাড়িয়ে কিছুটা হলেও চীনের সমাজতন্ত্রকে নকল করার চেষ্টা করবে। রাশিয়া পুরোপুরিভাবে চীনের সমাজতন্ত্র কে ফলো করার চেষ্টা করবে (রাশিয়া পারবে কারণ রুশ সামরিক শক্তি, রুশ ইতিহাস ও রাশিয়ার বিপুল খনিজ সম্পদ সমাজতন্ত্র সমর্থন করবে)। সমাজতান্ত্রিক রাশিযার প্রযুক্তিতে অত্যন্ত উন্নত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে।

একদিকে সমাজতান্ত্রিক চীনে যতদিন যাবে ইনোভেশনের গতি বৃদ্ধি পাবে আবার অন্যদিকে রাশিয়া চীনের ইনোভেশনকে ফুয়েল করবে। ফলে ইনোভেশনের গতি আকাশচুম্বী হবে। এর ফলে উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন মূল্য আরো কমবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খরচ অত্যন্ত কমে যাবে যা বিশ্ব মানবতার জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসু হবে।

কিন্তু নিম্ন ও মধ্য প্রযুক্তির উৎপাদন মূল্য সেভাবে কমবে না। এর কারণ একদিকে চীনের শ্রমিকের মজুরি চীনের উন্নয়নের সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতেই থাকবে আবার অন্যদিকে এমন কোন তৃতীয় বিশ্বের দেশ থাকবে না যেখানে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিকে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা ছাপিয়ে যাবে। তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশই পরিকাঠামোতে বিপুল অলাভজনক বিনিয়োগ করে যোগাযোগ খরচ ও শক্তির খরচ কমাতেও অক্ষম হবে। এর কারণ তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশি সমাজতান্ত্রিক দেশ নয়।

তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে চীনের মতো করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করা সম্ভব? এর উত্তর হলো না। অনুন্নত দেশগুলোতে বিশ্বায়নের কারণে, নারীর শ্রম বাজারে ঢোকার কারণে এবং কৃষি সমাজ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে শ্রমিকের সংখ্যা উৎপাদনের তুলনায় বেশি। আর তাই শ্রমিকের দরকষাকষির ক্ষমতা নেই। ফলে সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণী সেখানে নেই। জমির খিদে সম্পন্ন কৃষক অথবা কৃষি সমাজ নেই। নারী অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে ছাপিয়ে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে যৌন স্বাধীনতাকে যার ফলে ক্ষমতাবান পুরুষের লাভ এবং সাধারণ পুরুষের ক্ষতি। এর ফলে নারী স্বাধীনতা হয়ে গেছে প্রতিক্রিয়াশীল একটা তত্ত্ব। সুতরাং মার্কসবাদী লেনিনবাদী বিপ্লব কিছুতেই আর তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে হওয়া সম্ভব নয়। ছোট দেশ হলে সামরিক বাহিনী কোন কোন ক্ষেত্রে চীনের সমাজতান্ত্রিক মডেল কপি করার চেষ্টা করতে পারে। এবং বৃহৎ পুঁজিপতিদের দাবিয়ে রাখতে পারে। ফলে এরকম দেশ বৃহৎ পুজিপতিদের কন্ট্রোল করে পরিকাঠামো গত অলাভজনক বিনিয়োগ করে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং যোগাযোগের খরচ ও শক্তির খরচ কমাতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যপ্রযুক্তির উৎপাদন মূল্য কমতে পারে। এই ছোট ছোট দেশগুলোর পরিমাণ যত বৃদ্ধি হবে ততই আগামী দিনে নিম্ন ও মধ্যপ্রযুক্তির উৎপাদন মূল্য কমবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। একমাত্র তাহলেই কেবল সুদের হার কম থাকবে এবং তার বেশি বেশি করে ইনোভেটিভ বিনিয়োগ করা যাবে।

বিশ্ব বাজার তৃতীয় বিশ্বে ছোট ছোট রাষ্ট্র সমর্থন করবে। এর জন্য পেটি বুর্জোয়া ও ছোট ব্যক্তি মালিকানা ও তাদের তৈরি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন ধর্ম জাতিসত্ত্বা) সমর্থন নেওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে কমিউনিস্ট অথবা বাম আন্দোলনের নামে যা চলে, সেটা হলো কোন দুর্বল জনগোষ্ঠীকে (কোনো জাতি বা কৃষক বা আদিবাসী) পুঁজির দ্বারা উচ্ছেদের হাত থেকে রক্ষা করার আন্দোলন। এই আন্দোলন তখনই প্রগতিশীল বলা যায় যখন এই আন্দোলনকে জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের আন্দোলনে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়।

জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের আন্দোলন ছোট ছোট রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম। 

Read More

Author: Saikat Bhattacharya

International geopolitics General 22-October-2025 by east is rising